📄 আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করা
জাতির বিজয়ের জন্য জরুরি বিজয়দাতা আল্লাহর শরণাপন্ন হওয়া। যেহেতু যাবতীয় সাফল্য ও বিজয় তাঁরই নিকট থেকে আসে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
[وَمَا النَّصْرُ إِلا مِنْ عِندِ اللهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ] (১২৬) সورة آل عمران، الأنفাল ১০
অর্থাৎ, সাহায্য শুধু পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাময় আল্লাহর নিকট থেকেই আসে। (আলে ইমরানঃ ১২৬, আনফালঃ ১০)
সুতরাং বিজয় লাভের আশা করার আগে তার যে শর্তাবলী আছে, তার মধ্যে একটি হল আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া, আল্লাহর নিকট যাবতীয় পাপাচরণ থেকে তওবা করা, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করা, শির্ক ও বিদআত বর্জন করা, হারাম খাদ্য ভক্ষণ না করা, তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করা ইত্যাদি। মহান আল্লাহ বলেছেন,
[يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَنصُرُوا اللهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ] (৭) سورة محمد
অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! যদি তোমরা আল্লাহর (দ্বীনের) সাহায্য কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করবেন, এবং তোমাদের পা দৃঢ়-প্রতিষ্ঠিত রাখবেন। (মুহাম্মাদঃ ৭)
[وَلَيَنصُرَنَّ اللَّهُ مَن يَنصُرُهُ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ] (৪০) سورة الحج
অর্থাৎ, আল্লাহ নিশ্চয়ই তাকে সাহায্য করেন যে তাঁকে (তাঁর ধর্মকে) সাহায্য করে। আল্লাহ নিশ্চয়ই মহাশক্তিমান, চরম পরাক্রমশালী। (হাজ্জঃ ৪০)
আল্লাহর সাহায্য করার অর্থ, আল্লাহর দ্বীনের সাহায্য করা। কারণ, তিনি উপায়-উপকরণ অনুযায়ী তাঁর দ্বীনের সাহায্য তাঁর মু'মিন বান্দাদের দ্বারাই করেন। এই মু'মিন বান্দারা আল্লাহর দ্বীনের সংরক্ষণ ও তার দাওয়াত-তবলীগের কাজ করেন তাই তিনি তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। অর্থাৎ, তাঁদেরকে কাফেরদের উপর জয়যুক্ত করেন। যেমন, সাহাবায়ে কিরাম ও প্রাথমিক শতাব্দীগুলির মুসলিমদের উজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে; তাঁরা দ্বীনের (খাদেম) হয়ে গিয়েছিলেন, ফলে আল্লাহও তাঁদের (সহায়) হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁরা দ্বীনকে বিজয়ী করলে, আল্লাহও তাঁদেরকে পৃথিবীতে জয়যুক্ত করেছিলেন। (আহসানুল বায়ান)
যারা আল্লাহর দ্বীনের জন্য সংগ্রাম করে, তারা আল্লাহর সেনা। যারা আল্লাহর জন্য কাজ করে, তারা আল্লাহর পার্টি, আল্লাহর দল। আর আল্লাহর সেনা ও দল কোনদিন পরাজিত হয় না। ---এ ওয়াদা আল্লাহর,
[وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ] (১৭৩) سورة الصافات
অর্থাৎ, নিঃসন্দেহে আমার বাহিনীই বিজয়ী হবে। (স্বাফফাতঃ ১৭৩)
[وَمَن يَتَوَلَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آمَنُواْ فَإِنَّ حِزْبَ اللهُ هُمُ الْغَالِبُونَ] (৫৬) سورة المائدة
অর্থাৎ, যে কেউ আল্লাহ তাঁর রসূল এবং বিশ্বাসীদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে, (সে হবে আল্লাহর দলভুক্ত।) নিশ্চয় আল্লাহর দলই বিজয়ী হবে। (মাইদাহঃ ৫৬)
[لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ أُوْلَئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ الْإِيمَانَ وَأَيَّدَهُم بِرُوحٍ مِّنْهُ وَيُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ أُوْلَئِكَ حِزْبُ اللَّهُ أَلَا إِنَّ حِزْبَ اللهِ هُمُ الْمُفْلِحُونَ] (২২) سورة المجادلة
অর্থাৎ, তুমি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী এমন কোন সম্প্রদায় পাবে না, যারা ভালবাসে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচারীদেরকে; হোক না এই বিরুদ্ধাচারীরা তাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা অথবা তাদের জাতি-গোত্র। তাদের অন্তরে আল্লাহ ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন তাঁর পক্ষ হতে রূহ (জ্যোতি ও বিজয়) দ্বারা। তিনি তাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে; যার নিম্নদেশে নদীমালা প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। আল্লাহ তাদের প্রতি প্রসন্ন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রেখো যে, আল্লাহর দলই সফলকাম। (মুজাদালাহঃ ২২)
আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অবাধ্য হলে জাতির প্রতাপ বিনষ্ট হয়। পাপীকে কে ভালবাসে? অপরাধীকে কে সম্মানী দেখতে চায়? দুষ্কৃতীকে কে শ্রদ্ধা করে? আর আনুগত্য করলে সৃষ্টি তাকে ভালবাসে। মানুষ তাকে সম্মানী দেখতে চায়। বিশ্ববাসী তাকে শ্রদ্ধা করে। মহান আল্লাহ তার জন্য পরকালের শান্তির নিবাস প্রস্তুত রাখেন। আর ইহকালেও সম্মানজনক রুযী দান করেন। তিনি বলেছেন,
[وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُواْ وَتقَواْ لَفَتَحْنَا عَلَيْهِم بَرَكَاتٍ مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَلَكِن كَذَّبُوا فَأَخَذْنَاهُم بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ] (৯৬) سورة الأعراف
অর্থাৎ, যদি জনপদের অধিবাসীবৃন্দ বিশ্বাস করত ও সাবধান হত, তাহলে তাদের জন্য আমি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর কল্যাণ-দ্বার উন্মুক্ত ক'রে দিতাম। কিন্তু তারা মিথ্যা মনে করল। ফলে তাদের কৃতকর্মের জন্য আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম। (আ'রাফঃ ৯৬)
[وَلَوْ أَنَّهُمْ أَقَامُوا التَّوْرَاةَ وَالإِنجِيلَ وَمَا أُنزِلَ إِلَيهِم مِّن رَّبِّهِمْ لَأَكَلُوا مِن فَوْقِهِمْ وَمِن تَحْتِ أَرْجُلِهِم مِّنْهُمْ أُمَّةٌ মُّقْتَصِدَةٌ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ سَاء مَا يَعْمَلُونَ] (৬৬) سورة المائدة
অর্থাৎ, যদি তারা তওরাত, ইঞ্জীল ও যা তাদের প্রতিপালকের নিকট হতে তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতে প্রতিষ্ঠিত থাকত, তাহলে তারা তাদের উপর দিক (আকাশ) ও পায়ের নিচের দিক (পৃথিবী) হতে খাদ্য লাভ করত। তাদের মধ্যে এক দল রয়েছে যারা মধ্যপন্থী, কিন্তু তাদের অধিকাংশ যা করে, তা নিকৃষ্ট! (মাইদাহঃ ৬৬)
জাতি যদি ধৈর্য অবলম্বন করে, তাহলে আল্লাহ তার সাথে আছেন, (বাক্বারাহঃ ১৫৩, আনফালঃ ৪৬) সে বিজয়ী হবে। জাতি যদি পরহেযগার হয়, তাহলে আল্লাহ তার সাথে আছেন, (বাক্বারাহঃ ১৯৪, তাওবাহঃ ৩৬, ১২৩) সে বিজয়ী হবে। জাতি যদি মু'মিন হয়, তাহলে আল্লাহ তার সাথে আছেন, (আনফালঃ ১৯) সে বিজয়ী হবে। জাতি যদি সদাচারী ও আল্লাহর জন্য আন্তরিক হয়, তাহলে আল্লাহ তার সাথে আছেন, (নাহলঃ ১২৮, আনকাবুত ৬৯) সে বিজয়ী হবে। আল্লাহর দুনিয়ায় আল্লাহর দল অবশ্যই বিজয়ী হবে। যদি দলের নেতা শর্তানুযায়ী নেতৃত্ব প্রদান করে তবে। তিনি বলেন,
[الَّذِينَ إِن مَّكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ المُنكَرِ وَاللَّهُ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ] (৪১) سورة الحج
অর্থাৎ, আমি তাদেরকে পৃথিবীতে (রাজ) ক্ষমতা দান করলে তারা নামায কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং সৎ কাজের আদেশ দেয় ও অসৎকার্য হতে নিষেধ করে। আর সকল কর্মের পরিণাম আল্লাহর আয়ত্তে। (হাজ্জঃ ৪১)
📄 কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ
আক্বীদা, আহকাম ও দাওয়াত-পদ্ধতিতে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর অনুসরণ করলে জাতি মহাসাফল্যের স্বপ্ন দেখতে পারে। যেহেতু এই মঙ্গলময় অনুসরণেই রয়েছে জাতির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও জাতির গৌরবময় বিজয়।
জাতির ব্যক্তি-জীবনে, পরিবার-জীবনে, সমাজ-জীবনে ও রাষ্ট্রীয়-জীবনে কিতাব ও সহীহ সুন্নাহর দিগ্দর্শনই পারে শুভ উত্থানের সন্ধান দিতে। মহান আল্লাহ বলেন, [وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ لَعَلَكُمْ تُرْحَمُونَ] (আলে ইমরান: ১৩২) অর্থাৎ, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর, যাতে তোমরা কৃপালাভ করতে পার। (আলে ইমরানঃ ১৩২)
[قُلْ إِنْ كُنتُم تُحِبُّونَ اللهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللهَ وَيَغْفِرْ لকُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ] অর্থাৎ, বল, ' তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর। ফলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।' (ঐঃ ৩১)
[قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ فَإِن تَوَلَّوا فَإِنَّمَا عَلَيْهِ مَا حُمِّلَ وَعَلَيْكُم مَّا حُمِّلْتُمْ وَإِن تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ] (৫৪) সورة النور
অর্থাৎ, বল, 'আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রসূলের আনুগত্য কর।' অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তার উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য সে দায়ী এবং তোমাদের উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরা দায়ী। তোমরা তার আনুগত্য করলে সৎপথ পাবে। আর রসূলের দায়িত্ব তো কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া। (নূরঃ ৫৪)
ইবনে আব্বাস প্রমুখাৎ বর্ণিত, বিদায়ী হজ্জে আল্লাহর রসূল লোকেদের মাঝে খোতবা (ভাষণ) দিলেন। তাতে তিনি বললেন, “শয়তান এ বিষয়ে নিরাশ হয়ে গেছে যে, তোমাদের এই মাটিতে তার উপাসনা হবে। কিন্তু এতদ্ব্যতীত তোমরা যে সমস্ত কর্মসমূহকে অবজ্ঞা কর তাতে তার আনুগত্য করা হবে- এ নিয়ে সে সন্তুষ্ট। সুতরাং তোমরা সতর্ক থেকো! অবশ্যই আমি তোমাদের মাঝে এমন জিনিস ছেড়ে যাচ্ছি; যদি তা দৃঢ়তার সাথে ধারণ করে থাকো, তবে কখনই তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না; আর তা হল, আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ (কুরআন ও হাদীস)” (হাকেম, সহীহ তারগীব ৩৬নং)
জাতি কুরআন ও সুন্নাহর আলোক থেকে বহু দূরে সরে গিয়ে শির্ক ও বিদআতের আবর্জনায় অবস্থান করছে। আর আবর্জনায় থেকে কোনদিন উন্নত পরিবেশ গড়া যায় না। নোংরা আবর্জনায় বাস ক'রে কখনো বাগানের ফুল ফোটানো যায় না।
📄 উলামার সাহচর্য
মুসলিম জাতির মেরুদন্ড তার উলামা সম্প্রদায়; যদিও কাফেররা তাদেরকে 'মোল্লা' বলে জানে। অবশ্য সমাজে 'কাঠমোল্লা'ও যে আছে তা কেউ অস্বীকার করে না।
সুতরাং উলামা বলতে উদ্দেশ্য হক্কানী বা রব্বানী উলামা, যাঁদের আনুগত্য করা জাতির উপর ফরয। তাঁরা এবং মুসলিম রাষ্ট্রনেতারাই আল-কুরআনে উল্লিখিত 'উলুল আম্র'। মহান আল্লাহ বলেন, [يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي শَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً] অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস কর, তাহলে তোমরা আল্লাহর অনুগত হও, রসূল ও তোমাদের নেতৃবর্গ (ও উলামা)দের অনুগত হও। আর যদি কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটে, তাহলে সে বিষয়কে আল্লাহ ও রসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও। এটিই হল উত্তম এবং পরিণামে প্রকৃষ্টতর। (নিসাঃ ৫৯)
সুতরাং রাষ্ট্রনেতা ও উলামা উভয়ই উম্মাহর অভিভাবক ও তত্ত্বাবধায়ক। জাতির আমানত গচ্ছিত আছে তাঁদেরই হাতে। জাতির গতিশীল গাড়ির নিয়ন্ত্রণভার আছে তাঁদের হাতে।
রব্বানী উলামার উচিত, সেই গুরুভার বহন করার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা। মহান আল্লাহ বলেন, [وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنَنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ] (১৮৭) آل عمران
অর্থাৎ, (স্মরণ কর) যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, আল্লাহ তাদের নিকট প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন যে, তোমরা তা (কিতাব) স্পষ্টভাবে মানুষের কাছে প্রকাশ করবে এবং তা গোপন করবে না। (আলে ইমরানঃ ১৮৭)
আর জাতির উচিত, তাঁদের সেই নিয়ন্ত্রণ মান্য ক'রে চলা। যেহেতু মহান আল্লাহ তাঁর ও তাঁর রসূলের আনুগত্যের পর তাঁদের আনুগত্য করা ফরয করেছেন।
জাতির যে কোন কাজে তাঁদের পরামর্শ গ্রহণ করা রাজা-প্রজা সকলের ক্ষেত্রে জরুরী। যেমন সাধারণ প্রজার জন্য জরুরী রাষ্ট্রনেতা ও উলামার দিক-নির্দেশনার বাইরে কোন কাজ না করা। রব্বানী উলামা ছেড়ে বেআমল উলামার চক্রান্তে পড়ে রাজনৈতিক কোন সিদ্ধান্ত না নেওয়া। যে কোনও বিষয় তাঁদের প্রতি রুজু না ক'রে নিজেদের মধ্যে তা প্রচার না করা এবং সাধারণ মানুষের মনে উৎসাহ বা উত্তেজনা সৃষ্টি না করা। মহান আল্লাহ বলেন,
[وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِّنَ الأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنبِطُونَهُ مِنْهُمْ وَلَوْلا فَضْلُ اللهُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لَا تَّبَعْتُمُ الشَّيْطَانَ إِلَّا قليلاً] (৮৩) سورة النساء
অর্থাৎ, আর যখন শান্তি অথবা ভয়ের কোন সংবাদ তাদের নিকট আসে, তখন তারা তা রটিয়ে বেড়ায়। কিন্তু যদি তারা তা রসূল কিংবা তাদের মধ্যে দায়িত্বশীলদের গোচরে আনত, তাহলে তাদের মধ্যে তত্ত্বানুসন্ধানীগণ তার যথার্থতা উপলব্ধি করতে পারত। আর তোমাদের প্রতি যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত, তাহলে তোমাদের কিছু লোক ছাড়া সকলে শয়তানের অনুসরণ করত। (নিসাঃ ৮৩)
এটা হল কিছু দুর্বল ও দ্রুততাপ্রিয় মুসলিমের স্বভাব। তাদের সংশোধনের উদ্দেশ্যে উক্ত আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে। শান্তির খবর বলতে মুসলিমদের সফলতা এবং শত্রু-ধ্বংসের ও পরাজয়ের খবরকে বুঝানো হয়েছে। (যা শুনে শান্তি ও স্বস্তির ঝড় বয়ে যায় এবং যার ফলে প্রয়োজনাতীত স্বনির্ভরশীলতার সৃষ্টি হয়; যা ক্ষতির কারণও হতে পারে।) আর ভয়ের সংবাদ বলতে মুসলিমদের পরাজয় এবং তাদের হত্যা ও ধ্বংসের খবরকে বুঝানো হয়েছে। (যাতে মুসলিমদের মাঝে দুঃখ, বেদনা ও আফসোস ছড়িয়ে পড়ে এবং তাদের মনোবল দমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।) তাই তাদেরকে বলা হচ্ছে যে, এই ধরনের খবর শুনে; তাতে তা শান্তির (জয়ের) হোক অথবা ভয়ের (পরাজয়ের) হোক তা সাধারণের মাঝে প্রচার না ক'রে রসূল-এর নিকট পৌঁছে দাও কিংবা জ্ঞানী ও তত্ত্বানুসন্ধানীদের কাছে পৌঁছে দাও; যাতে তাঁরা দেখেন যে খবর সঠিক, না বেঠিক? যদি সঠিক হয়, তাহলে তখন এ খবর মুসলিমদের জানা লাভদায়ক, নাকি না জানা আরো বেশী লাভদায়ক? এই নীতি সাধারণ অবস্থাতেও বড় গুরুত্বপূর্ণ এবং অতীব লাভদায়ক, বিশেষ ক'রে যুদ্ধের সময় এর গুরুত্ব ও উপকারিতা আরো বেশী। (আহসানুল বায়ান)
রব্বানী উলামাগণ যা ফায়সালা দেন, তাতে তাঁদের ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তাঁরা সওয়াব থেকে বঞ্চিত নন। যেহেতু আল্লাহর রসূল বলেছেন, “বিচারক যদি সুবিচারের প্রয়াস রেখে বিচার করে অতঃপর তা সঠিক হয়, তবে তার জন্য রয়েছে দুটি সওয়াব। আর সুবিচারের প্রয়াস রেখে যদি বিচারে ভুল করেও বসে, তবে তার জন্যও রয়েছে একটি সওয়াব।” (বুখারী ৭৩৫২ নং, মুসলিম ১৭১৬ নং)
কিন্তু বড় দুঃখের হলেও সত্য কথা যে, অনেক উলামা আছেন, যাঁদের অনুসরণ উম্মাহকে ভ্রষ্ট ক'রে ছাড়ে। যাঁরা মুফতী বনে ফতোয়া দেন অথবা মুফতীর ফতোয়ার মুকাবেলা করার জন্য মুফতী সেজে উল্টা ফতোয়া দেন এবং খুঁড়িয়ে বড় হয়ে অপরকে অপবাদ দিয়ে ছোট করেন অথবা যাঁরা নিজ বুযুর্গদের ফতোয়া নকল ক'রে ফায়সালা দেন এবং সহীহ হাদীসের তোয়াক্কা করেন না অথবা সহীহ-যয়ীফের তমীয করেন না অথবা যাঁরা আদর্শচ্যুত উলামা হয়েও রাজনৈতিক পদের প্রভাবে অথবা তথাকথিত 'রূহানী' মর্যাদার প্রভাবে বিনা ইল্মে ফতোয়া জারী করেন, তাঁদের ফতোয়া মানতে গিয়ে জাতি ফিতনার শিকার হয়। সুতরাং আল্লাহই উম্মাহর হিফাযত করুন।
মুদ্দাকথা, যে জাতির নেতা আদর্শ নয় অথবা উলামা আদর্শ নয় অথবা যে জাতি মুসলিম নেতৃত্ব মানে না অথবা রব্বানী উলামার কদর জানে না, সে জাতির পতন কি অতি সহজ নয়?
📄 ইস্তিগফার ও দুআ
জয়-পরাজয় যখন আল্লাহর হাতে, তখন তাঁর কাছে নিজেদের ত্রুটির কথা স্বীকার ক'রে পরাজয় থেকে আশ্রয় প্রার্থনা চাওয়া আমাদের কর্তব্য। দুআ বলতে শুধু দুআ চাওয়াই নয়; বরং কাকুতি-মিনতি সহকারে চাওয়া, নাছোড়বান্দা হয়ে চাওয়া, সকাতরে প্রার্থনা করা। যেহেতু পতন ও পরাজয় এক প্রকার আযাব, সুতরাং তা রোধ করতে অতিরিক্ত মিনতির সাথে আবেদন পেশ করতে হবে। যেমন ইউনুস (আ.)-এর সম্প্রদায় করেছিল। মহান আল্লাহ তাদের ব্যাপারে বলেছেন,
[فَلَوْلا كَانَتْ قَرْيَةٌ آمَنَتْ فَنَفَعَهَا إِيمَانُهَا إِلَّا قَوْمَ يُونُسَ لَمَّا آمَنُوا كَشَفْنَا عَنْهُمْ عَذَابَ الخِزْيِ فِي الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَمَتَّعْنَاهُمْ إِلَى حِينٍ] (৯৮) سورة يونس
অর্থাৎ, সুতরাং কোন জনপদ বিশ্বাস করল না কেন, যাদের বিশ্বাস উপকারী হতো; ইউনুসের সম্প্রদায়ের ব্যাপারটি স্বতন্ত্র, যখন তারা বিশ্বাস করল, তখন আমি তাদের থেকে পার্থিব জীবনে অপমানজনক শাস্তি বিদূরিত করে দিলাম এবং এক নির্ধারিত কাল পর্যন্ত তাদেরকে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দান করলাম। (ইউনুসঃ ৯৮)
অর্থাৎ আমি যে জনপদগুলিকে ধ্বংস করেছি, তার মধ্য থেকে কোন একটি জনপদবাসীও কেনই বা এমন হলো না যে, এমন সময়ে ঈমান নিয়ে আসত, যে সময়ে ঈমান আনলে তাদের জন্য ফলপ্রসূ হত! তবে ইউনুস (আ.)-এর সম্প্রদায়ের ব্যাপারটি স্বতন্ত্র। যখন তারা ঈমান আনল, তখন আল্লাহ তাআলা তাদের উপর থেকে আযাব রহিত ক'রে দিলেন। সংক্ষিপ্ত ঘটনা হল এই যে, যখন ইউনুস দেখলেন যে, তাঁর দাওয়াত ও তবলীগে তাঁর সম্প্রদায় প্রভাবিত হচ্ছে না, তখন তিনি নিজ সম্প্রদায়কে জানিয়ে দিলেন যে, অমুক দিন তোমাদের উপর আল্লাহর আযাব আসবে এবং তিনি নিজে সেখান থেকে বেরিয়ে পড়লেন। যখন মেঘের মত তাদের উপর আযাবের লক্ষণাদি দেখা দিল, তখন তারা শিশু, নারী এমনকি জীবজন্তু সমেত এক মাঠে সমবেত হল এবং আল্লাহর দরবারে কাকুতি-মিনতির সাথে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করতে আরম্ভ করল। আল্লাহ তাআলা তাদের তওবা কবুল ক'রে তাদের উপর থেকে আযাব রহিত ক'রে দিলেন। (আহসানুল বায়ান)
বলা বাহুল্য, কাকুতি-মিনতি বড় উপকারী জিনিস। আর তার জন্যই বিপদকালে কুনূত বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। কুনুতে নাযেলায় পাঁচ-ওয়াক্তের নামাযের শেষ রাকআতে রুকু থেকে উঠার পর দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে মুসলিমদের জন্য দুআ ও শত্রুদের জন্য বদ্দুআ করতে হয়। আল্লাহর আযাব যখন আসে, তখন কাকুতি-মিনতির সাথে প্রার্থনা ক'রে তা দূর করতে হয়। কোন এক আযাবের সময় হাসান বাসরী (রঃ) বললেন, 'হে ইরাকবাসী! আল্লাহর আযাবকে তোমরা তোমাদের হাত-পা দ্বারা দূর করো না। বরং আল্লাহর কাছে তওবা দ্বারা দূর কর। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন, [فَلَوْلَا إِذْ جَاءَهُمْ بَأْسُنَا تَضَرَّعُوا] (৪৩) سورة الأنعام অর্থাৎ, সুতরাং আমার শাস্তি যখন তাদের উপর আপতিত হল, তখন তারা বিনীত হয়ে প্রার্থনা করল না কেন? (আনআমঃ ৪৩)
সুতরাং তোমরা আল্লাহর নিকট বিনীত হয়ে প্রার্থনা কর এবং তওবা কর, তাহলে তিনি তোমাদের আযাব দূর ক'রে দেবেন এবং অবস্থার পরিবর্তন ঘটাবেন। (আসবাবু ইনহিয়ারিল উমাম ১৭ পৃঃ) জাতির যা দুরবস্থা, তাতে পতন তার ভাগ্য হওয়ারই কথা। নিজের অবস্থার পরিবর্তন না ঘটিয়ে আল্লাহর কাছে পরিবর্তন চাওয়া বড় লজ্জার ব্যাপার। পরন্তু মহান আল্লাহ বলেছেন, [إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِقَوْمٍ سُوءًا فَلَا مَرَدَّ لَهُ وَمَا لَهُم مِّن دُونِهِ مِن وَّالٍ] (১১) سورة الرعد অর্থাৎ, নিশ্চয় আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না; যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে। আর কোন সম্প্রদায়ের সম্পর্কে যদি আল্লাহ অশুভ কিছু ইচ্ছা করেন, তাহলে তা রদ করবার কেউ নেই এবং তিনি ছাড়া তাদের কোন অভিভাবক নেই। (রা'দঃ ১১)
জাতির যা দুরবস্থা, তাতে রহম পাওয়ার যোগ্য নয়। একদা বাসরাবাসীরা বৃষ্টি প্রার্থনা করল। অতঃপর ফিরে এসে বলতে লাগল, 'আশ্চর্য আল্লাহর কসম! বৃষ্টি প্রার্থনা করলাম অথচ বৃষ্টি হল না!' তা শুনে মালেক বিন দীনার বললেন, 'সুবহানাল্লাহ! তোমরা বৃষ্টি হওয়াতে দেরি হচ্ছে ভাবছ। আমি তো আকাশ থেকে পাথর বর্ষণে দেরি হচ্ছে ভাবছি!' (ঐ, আল-ইকুদুল ফারীদ ২/১২)
তা এ তো মালেক বিন দীনারের যুগের কথা। আমাদের আধুনিক বিশ্বের কথা কী? অনাবৃষ্টির সময় যদিও অনেকে হাত তুলে বৃষ্টি প্রার্থনা করে, বৃষ্টি নামলে মাথায় ছাতা দিয়ে বৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করে, কিন্তু বাড়ির ছাদে ছাদে যে ছাতা লাগানো আছে, সে ছাতায় বৃষ্টি নামতে বারণ করারই কথা। যে ডিস দিয়ে সারা বিশ্বের বিষকে বেডরুমে বসে পান করা হয়, সে বিষে নীল হওয়া দেহ যে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে, তার নিশ্চয়তা কোথায়?
বৃষ্টি না হলেও চাষীরা ক্যানেলের পানি দিয়ে চাষ করতে পারে, ফসল ফলাতে পারে। কিন্তু শত শত চ্যানেলের মাধ্যমে যে পানি মুসলিমদের মন ও মগজের জমিকে সিঞ্চিত করছে, তাতে কোন্ ফসল ফলবে; বিজয়ের, না পরাজয়ের?
তবুও আমরা ইস্তিগফার করতে থাকব। ইনশাআল্লাহ বিজয় আসবে এবং পরাজয় দূর হবে। পতন-গহ্বর থেকে উত্থান লাভ করব। মহান আল্লাহর ওয়াদা,
[وَمَا كَانَ اللهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ]
অর্থাৎ, আল্লাহ এরূপ নন যে, তুমি তাদের মধ্যে থাকা অবস্থায় তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন এবং তিনি এরূপ নন যে, তাদের ক্ষমা প্রার্থনা করা অবস্থায় তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন। (আনফালঃ ৩৩)
[وَيَا قَوْمِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُواْ إِلَيْهِ يُرْسِلِ السَّمَاءِ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا وَيَزِدْكُمْ قُوَّةً إِلَى قُوَّتِكُمْ وَلَا تَتَوَلَّوْا مُجْرِمِينَ] (৫২) سورة هود
অর্থাৎ, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা (তোমাদের পাপের জন্য) তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন কর; তিনি তোমাদের উপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের শক্তি আরো বৃদ্ধি করবেন। আর তোমরা অপরাধী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না।' (হ্রদঃ ৫২)
আর মুসা (আ.)-এর মতো বলব,
[رَبِّ لَوْ شِئْتَ أَهْلَكْتَهُم مّিন قَبْلُ وَإِيَّايَ أَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ السُّفَهَاءُ مِنَّا إِنْ هِيَ إِلَّا فِتْنَتُكَ تُضِلُّ بِهَا مَن تَشَاء وَتَهْدِي مَن تَشَاء أَنتَ وَلِيُّنَا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الْغَافِرِينَ] (১৫৫) سورة الأعراف
অর্থাৎ, 'হে আমার প্রতিপালক! তুমি ইচ্ছা করলে পূর্বেই তো এদেরকে এবং আমাকেও ধ্বংস করতে পারতে। আমাদের মধ্যে যারা নির্বোধ তাদের কর্মদোষে কি তুমি আমাদেরকে ধ্বংস করবে? এতো শুধু তোমার পরীক্ষা, যা দিয়ে তুমি যাকে ইচ্ছা বিপথগামী কর এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত কর। তুমিই তো আমাদের অভিভাবক। সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা কর ও আমাদের প্রতি দয়া কর এবং তুমিই সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষমাশীল। (আ'রাফঃ ১৫৫)