📘 জান্নাতি জীবন 📄 আদর্শ মা

📄 আদর্শ মা


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করেছেন, 'তুমি যে বিয়ে করেছো, এই নারীর কী কী গুণ রয়েছে?'
তিনি উত্তর দিলেন, 'চারটা গুণ আছে তার মধ্যে। প্রথম হলো, সে আমার অধীনস্থ বোনদেরকে আদব শিক্ষা দেয়। দ্বিতীয়ত, তাদেরকে দ্বীন ইসলাম শিক্ষা দেয়। তৃতীয়ত, তাদেরকে পরিপাটি হওয়ার শিক্ষা দেয়-কিভাবে গোছগাছ হয়ে জীবনযাপন করা যায় তা শেখায়। চতুর্থত, তাদের ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ-ক্ষমতা রাখে, শরীয়তের বাইরে চলার কোনো সুযোগ দেয় না। একজন মা যেভাবে তার মেয়ের ওপর কর্তৃত্ব রাখে, ঠিক তেমনই সে আমার ছোট বোনদের ওপর পুরোপুরি কর্তৃত্ব রাখে। [৮৪]
এই গুণগুলোই হলো মা হওয়ার জন্য উপযুক্ত। মা তো সে-ই হওয়ার উপযুক্ত, যে তার সন্তানকে শরীয়ত শিক্ষা দিতে পারে। পর্দা-পুশিদা শিক্ষা দিতে পারে। বাবা তো সে-ই, যে তার মেয়েদেরকে পর্দার বিধানের ওপর বড় করে তোলে। পর্দার ব্যাপারে যে তার পরিবারের লোকদেরকে একচুল পরিমাণও ছাড়া দেয় না।
আল্লাহ আমাদেরকে বোঝার তাওফীক দান করুন।
আমরা উল্লেখযোগ্য গুনাহের দিকগুলো আলোচনা করলাম। আমরা আশাবাদী, একজন মানুষ যদি তার জবানকে সংরক্ষণ করে, নারীর ফিতনা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলে, পর্দাকে তার স্তর-সহ মেনে চলে, তাহলে সে অনেকটাই বেঁচে যাবে। তারপরেও বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা গুনাহের পাহাড় বহন করে চলছি। দিন দিন গুণাহের পরিমাণ বাড়ছেই। তাই আমাদের সত্যিকারের সফলতা পেতে হলে, জান্নাতের বিষয়টি আরও নিশ্চিত করতে হলে, অবশ্যই তাওবার বিষয়ে আমাদেরকে সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। এজন্য আমরা তাওবার খুঁটিনাটি দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ। এ জন্য পরবর্তী পর্ব থেকে শুরু হবে তাওবার পাঠ। একমাত্র তাওবা-ই দিতে পারে আমাদের সকল গুনাহ থেকে মুক্তির আশ্বাস। পারে আমাদের জীবনকে নবিদের জীবনের সাথে মেলাতে।

টিকাঃ
[৮৪] বুখারি: ১৯০১; মুসলিম: ৭১৫

ফন্ট সাইজ
15px
17px