📘 জান্নাতি জীবন > 📄 তৃতীয় স্তরের আলোচনা

📄 তৃতীয় স্তরের আলোচনা


এখন কোনো নারী ঘর থেকে সব শর্ত পালন করে বের হওয়ার পরেও চলার পথে অবশ্যই তাকে নজর হেফাজত করে চলতে হবে। যেভাবে প্রত্যেক পুরুষকে নজর হেফাজত করে চলতে হয়—এমনকি বোরকাওয়ালি থেকেও নজর হেফাজত করে চলতে হয়। এরপরে পবিত্র কুরআনের আয়াতগুলো লক্ষ করুন।
১. قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ
'মুমিন পুরুষদেরকে বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য শুদ্ধতর। তারা যা-কিছু করে, আল্লাহ সে সম্পর্কে পরিপূর্ণ অবগত।[৭১]
২. وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا ۖ وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ ۖ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُولِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَىٰ عَوْرَاتِ النِّسَاءِ ۖ وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ ۚ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
'এবং মুমিন নারীদেরকে বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং নিজেদের ভূষণ অন্যদের কাছে প্রকাশ না করে; যা আপনা-আপনিই প্রকাশ পায়, তা ছাড়া। এবং তারা যেন তাদের ওড়নার আঁচল নিজ বক্ষদেশে নামিয়ে দেয় এবং নিজেদের ভূষণ যেন স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাতিজা, ভাগিনেয়, আপন নারীগণ, যারা নিজ মালিকানাধীন, যৌনকামনা নেই এমন পুরুষ খিদমতগার এবং নারীদের গোপনীয় অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া আর কারও সামনে প্রকাশ না করে। মুসলিম নারীদের উচিত ভূমিতে এভাবে পদক্ষেপ না করা, যাতে তাদের গুপ্তসাজ জানা হয়ে যায়। হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর কাছে তাওবা করো, যাতে তোমরা সফলতা অর্জন করতে পারো।[৭২]
অতএব, আমরা বুঝতে পারলাম যে, পর্দা কোনো বোরকার নাম নয়; বরং পর্দা একটি জীবনব্যবস্থার নাম। এটি শরীয়তের এত বড় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজ বিধান-যা মান্য করা নারী-পুরুষ উভয়েরই কর্তব্য। এই ফারায়েজের সাথে আমাদের মা-বোনদের সব ধরনের ইজ্জত লুক্কায়িত। সেইসাথে পুরুষদের জন্য সকল ফিতনা থেকে মাহফুয থাকাও এর ওপর নির্ভর করে।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে বোঝার তাওফীক দান করুন। আল্লাহর শান অনুযায়ী পর্দার আজমত রক্ষা করে চলার তাওফীক দান করুন। আমিন।
ইতিপূর্বে আমরা পর্দার যে আলোচনা করেছি-সেটা যদি কোনো মুসলিম পুরুষ অথবা রমণী পূর্ণভাবে আদায় করে, তাহলে সে জান্নাতের কত কাছাকাছি চলে যাবে। সেটা প্রত্যেক মুমিন পুরুষ ও রমণী সহজে উপলব্ধি করতে পারবে। এক কথায়, পর্দা বাঁচলে ঈমান-আমল বেঁচে যাবে। তাই পরবর্তী পর্বে আমরা আরেকটু বিস্তারিতভাবে পর্দার সাথে ঈমানের গভীর যোগসূত্র আর বেপর্দার সাথে নাফরমানির সম্পর্ক ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করব। পাশাপাশি পর্দার বিধান লঙ্ঘন করার তথা বেপর্দা হওয়ার গুনাহগুলোকে ফুটিয়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ।

টিকাঃ
[৭১] সূরা আন নূর, ২৪: ৩১।
[৭২] সূরা আন নূর, ২৪: ৩১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00