📘 জান্নাতি জীবন > 📄 ১০. হেয় প্রতিপন্ন করা

📄 ১০. হেয় প্রতিপন্ন করা


অপপ্রচারে প্রভাবিত হয়ে মানুষ তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে শুরু করে। ছোট করে, নীচু করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ
'একজন মানুষ খারাপ হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে (তার কথা- কাজের মাধ্যমে) অপর ভাইকে হেয় প্রতিপন্ন করবে।' [৪২]
হেয় করাই তার খারাপ মানুষ হবার জন্য যথেষ্ট।
অপপ্রচারের কারণে অবস্থা এমন হয়ে যায় যে, দুনিয়ার সবচেয়ে কট্টর, কাফির, মুনাফিক, নাস্তিকরাও এতটা হেয়-বস্তু হয় না, যতটা একজন নেককার বান্দা আমাদের কাছে হেয় বা অপমানের বস্তুতে রূপান্তরিত হয়।

টিকাঃ
[৪২] মুসলিম,: ২৫৬৪

📘 জান্নাতি জীবন > 📄 ১১. বৈশ্বিক অপরাধ

📄 ১১. বৈশ্বিক অপরাধ


একটা সময় ছিল, মানুষ এক-দুইজন অথবা পরিবারের মাঝে মানুষের বদনাম ছড়াত। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া এবং মিডিয়ার কারণে এ ধরনের বড় বড় গুনাহ এখন আর এক-দুইজনের ভেতর সীমাবদ্ধ নেই। এটাকে মিডিয়ার বরকত বলব, নাকি আজাব বলব, আপনারা জানেন। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পুরো আন্তর্জাতিক অঙ্গনকে গুনাহ দ্বারা নাপাক করে দিয়েছে এই মিডিয়া। সাংবাদিকতার বিষয়টা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, মুসলিমদের দোষত্রুটি খুঁজে খুঁজে বের করতে হবে।
এভাবে পুরো বিশ্ব এক কাতারে গীবত-পরনিন্দায় লিপ্ত হচ্ছে, তিরস্কারে লিপ্ত হচ্ছে। একজন আরেকজনকে হেয় প্রতিপন্ন করছে, একজন আরেকজনকে দোষারোপ করছে। নানাভাবে আঘাত করছে। বিভিন্ন নামে তাকে ডাকছে। সুতরাং আপনি চিন্তা করুন! একটা হলো দুই-তিনজনের ভেতরে গুনাহ করা। আরেকটা হলো সারা বিশ্বকে একই গুনাহের ভেতর জমা করা। একই তালে সারা বিশ্বকে গীবতের ভেতর জড়ানো।
পুরো দুনিয়া ধ্বংস হবে এরকম গুনাহের কারণে, যেই গুনাহে সারা দুনিয়াবাসী লিপ্ত! এখন মিডিয়ার কারণে আমাদের জন্য এমন সুযোগ তৈরি হয়ে গেছে যে, আমাদের ওপর কিয়ামত হতে পারে। এখন গীবত আর পরিবারের ভেতর নয়, একটা অঞ্চলের ভেতর নয়; গীবত এখন দেশের সীমানা পার হয়ে বিশ্বের সীমানায় প্রবেশ করেছে। আমিও তাদের একজন হয়ে গীবত করছি, সম্পর্ক নষ্ট করছি, বিদ্বেষ ছড়াচ্ছি, মন্দ নামে ডাকছি, তিরস্কার করছি। এইভাবে সারা বিশ্ব এক কাতারে এসে এতগুলো বড় বড় গুনাহের ভেতর জড়াচ্ছে। আমিও নিজেকে এর একজন সদস্য হিসেবে নাম লিখিয়েছি।
তাহলে মূল আলোচনায় যাওয়া যাক। মূল আলোচনা হলো, আলিম ও নেককার শাসকদের অধীনে থাকলে সত্যিকার অর্থে আমাদের জন্য দ্বীন-ঈমান নিয়ে টিকে থাকা সহজ। যদি আমরা উলামাদের অধীন হয়ে বেঁচে থাকি, তাহলে আমাদের ঈমান বাঁচবে। কিন্তু তখন অপপ্রচারের বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এ ব্যাপারে আমরা সতর্ক না হলে, শয়তান অপপ্রচারের ফাঁদে ফেলে আমাদেরকে তাঁদের থেকে সরিয়ে নেবে। একটা সময় আমরা দ্বীন থেকেই সরে যাব। অথচ সেটা অনুভবও করতে পারব না। অতএব আমরা বুঝতে পারলাম যে, অপপ্রচারের মাধ্যমে আলিম-উলামাদের থেকে আমাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। আমাদেরকে ঈমানি খতরার ভেতর ফেলে দেওয়া হয়।
এবার বলুন : এই অপপ্রচারের দ্বারা কতগুলো কবীরা গুনাহের সূত্রপাত ঘটিয়েছে শয়তান? এগারোটি। আমরা এখানে তা আলোচনা করলাম।
কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে বলবেন,
وَامْتَازُوا الْيَوْمَ أَيُّهَا الْمُجْرِمُونَ
'অপরাধীরা আজকে আলাদা হয়ে যাও।[৪৩]
একটা অপরাধ করলেই যদি মুমিনদের থেকে সেদিন আলাদা হয়ে যেতে হয়, তাহলে এগারোটা অপরাধ নিয়মিত করলে আমার কী দশা হবে?
ভাবুন তো, সারা বিশ্বের আনাচে-কানাচে যারা অপরাধ করেছে, আমি লাইক-কমেন্ট-শেয়ার করে তাদের সাথে সহমত পোষণ করেছি! তাহলে কিয়ামতের দিন আমার ঠিকানা কোন কাতারে হবে? কোন কাতারে আমাকে দাঁড়াতে হবে? আল্লাহ আমাদেরকে বোঝার তাওফীক দান করুন। আমিন।
সম্ভবত আমাদের মনে আছে, আমাদের এই বইয়ের নাম হলো জান্নাতি জীবন; আর বইটির উদ্দেশ্য হলো এমন জীবন গড়া-যা আমাকে পৌঁছে দেবে জান্নাতে। সে লক্ষ্যে আমরা প্রথমে গুনাহমুক্ত জীবন গড়া ও এর তাৎপর্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এরপরে দ্বীন-ঈমানের সাথে জুড়ে থাকার জন্য উলামাদের প্রসঙ্গ আলোচনা করেছি। এরপরে আলোচনা করেছি, ঈমান-আমল নষ্ট হওয়ার বড় একটা দিক নিয়ে।
এবার আমরা আলোচনা করব এমন একটা অপরাধের ব্যাপারে-যার মাঝে আমরা কোনো না কোনোভাবে জড়িত হয়েই যাই; কিন্তু ভেবেও দেখি না, এই এক অপরাধের মাঝে আরও কত অপরাধ লুকিয়ে রয়েছে! এভাবে জান্নাত থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে ফেলি।
না, আমরা জান্নাত থেকে নিজেদেরকে দূরে সরাতে পারি না। জান্নাত আমাদের চাই। জান্নাত হারাতে হয়-এমন কোনো অপরাধে আমরা কোনোভাবেই জড়াব না। এই থাকবে আমাদের প্রতিজ্ঞা। আর এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে সামনের আলোচনা আমাদেরকে মনোযোগের সাথে শুনতে হবে।

টিকাঃ
[৪৩] সূরা ইয়াসিন, ৩৬: ৫৯।

📘 জান্নাতি জীবন > 📄 ১২. যে গুনাহ দিচ্ছে খুলে অর্ধশত গুনাহের দ্বার

📄 ১২. যে গুনাহ দিচ্ছে খুলে অর্ধশত গুনাহের দ্বার


এখন আমরা যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব, সেটা যুগের সবচেয়ে ব্যাপক এবং ভয়াবহ একটি ফিতনা। শুধু এই ফিতনার মাঝে যে সমস্ত অপরাধ জড়িয়ে রয়েছে তার একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা যদি দিই, তাহলেই এর ভয়াবহতা বুঝতে আর বাকি থাকবে না। আমরা একটু ধৈর্য সহকারে এই ফিতনার মাঝে লুক্কায়িত অপরাধের তালিকাটা মনোযোগ দিয়ে দেখি। এরপর ফয়সালা নিজেরাই করতে পারবেন। যেহেতু এ বিষয়টি আমাদের সবার জানা আছে। আমরা যারা প্রাপ্তবয়স্ক, তারা সবাই এ বিষয়টি অনুধাবন করতে সক্ষম। আমাদের বর্তমান প্রজম্মের প্রায় অধিকাংশ এ বিষয়ের সাথে অভ্যস্ত ও পরিচিত। যে বিষয়টি আমাদের সবার নাকের ডগায় ঘটতে থাকে। বলুন তো, সে ভয়াবহ ফিতনার নাম কী?

📘 জান্নাতি জীবন > 📄 ১৩. মানুষ যে নামে তাকে চেনে

📄 ১৩. মানুষ যে নামে তাকে চেনে


বর্তমানে ক্লাস টু থেকে নিয়ে সবাই এটাকে 'প্রেম' বা 'ভালোবাসা' নামে চেনে।
কিন্তু আমি আসলে কী নাম দেবো এই বিষয়ের, তা খুঁজে পাচ্ছি না। তবুও একটা নাম মোটামুটি আমার মনে ধরেছে। সেটা হলো 'অবৈধ সম্পর্ক'। অন্য অনেক নাম আমি খুঁজেছি। কিন্তু পাইনি। গভীর রাত পর্যন্ত জেগে খুঁজেছি। আসলে কী নাম হতে পারে এ অপকর্মের। সবশেষে আপাতত এটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, তাকে 'অবৈধ সম্পর্ক' বলেই অভিহিত করি।
অবশ্য মানুষের মাঝে এর বিভিন্ন নাম রয়েছে। কেউ এর নাম 'ভালোবাসা' দিয়েছে। আবার অনেকে 'প্রেম'। অনেকে আবার এটাকে ইংরেজিতে 'অ্যাফেয়ার' নামেও ডাকে। অথচ এ অপকর্মের সাথে 'ভালোবাসা'-এর মতো পবিত্র একটা বিষয়ের কী সম্পর্ক থাকতে পারে-তা আমার জানা নেই। কারণ মানুষের মাঝে সম্পর্কের দাম আল্লাহ তাআলার কাছে অনেক। সেই সম্পর্ক যদি এমন হয়-যা মানুষকে তার খালিক থেকে সরিয়ে দেয়, তাহলে সেটাকে 'ভালোবাসা' বা অন্য কোনো সম্পর্কের নাম কিভাবে দেওয়া যায়! এটাকে তো অবৈধ সম্পর্ক বলতেও আমার ভালো লাগে না। এটা আবার সম্পর্ক হয় কী করে! এটা তো আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক নষ্ট করে। কিন্তু তারপরও যেহেতু সমাজের মানুষকে আমার এই কথা বোঝাতে হবে, এজন্য আমি এটার একটা নাম বাধ্য হয়েই দিয়েছি 'অবৈধ সম্পর্ক'। যাক, নাম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার দরকার নেই। এর সাথে আমরা সবাই পরিচিত। আমাদের এমন কোনো এলাকা নেই, এমন কোনো অঞ্চল নেই, এমন কোনো জেলা নেই, এমন কোনো জায়গা নেই-যেখানে এই সম্পর্কের ব্যাপারে মানুষ জানে না, ধারণা রাখে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00