📘 জান্নাতি জীবন > 📄 প্রথম দলিল

📄 প্রথম দলিল


এবার ব্যাপারটি আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য কয়েকটি দলিল পেশ করব। এরপর আমাদের জীবনের হিসাব নেব। আল্লাহ তাআলা কুরআনে একটি সূরা নাযিল করেছেন। সূরাটির নাম হলো সূরা ইউসুফ। এখন তো অনেকেই ইউসুফ-জুলেখা নামের ফিল্ম বের করেছে। আল্লাহ মাফ করুক। এতে ঈমানের খতরা আছে। নবির অবয়ব দেখতে গিয়ে দুনিয়ার বড় বড় লম্পটকে দেখছে মানুষ। নায়করা লম্পট না? তাদের চরিত্র ঠিক আছে? নায়িকার চরিত্র ঠিক আছে? ফিল্ম দেখার কারণে আপনার দিলে এখন নবির নাম শুনলে ওই লম্পটের চেহারা দিলে ভেসে আসে। আসে কি না? নবিরা দুনিয়ার সবচেয়ে বড় মাসুম, আর এই নবির নামে সিনেমা দেখার কারণে দিলের ভেতরে দুনিয়ার লম্পটের ছবি আসছে। তো, ঈমান ঝুঁকিতে পড়ার শঙ্কা আছে কি না? আমরা আমাদের অজান্তে নেক নিয়তে ইউসুফ-জুলেখা দেখে ঈমানকে অনেক বড় করছি, নাকি ছোট করছি? এখন ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর নাম শুনলেই একজন নায়কের কল্পনা দিলের ভেতর আসে। আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন। এটা এমনি এমনি বললাম।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে সূরা নাযিল করেছেন। সূরার নাম ইউসুফ। আল্লাহ তাআলা এ সূরায় বর্ণিত ইউসুফ আলাইহিস সালামের গল্পের ব্যাপারে একটা কথা বলেছেন। অন্য কারও গল্পের ব্যাপারে এই কথা বলেননি আল্লাহ। আল্লাহ তাআলা বলেন,
نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ الْقَصَصِ بِمَا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ هَذَا الْقُرْآنَ وَإِن كُنتَ مِن قَبْلِهِ لَمِنَ الْغَافِلِينَ
'আমি তোমার নিকট সুন্দরতম কাহিনি বর্ণনা করছি, এ কুরআন আমার ওহি হিসেবে তোমার কাছে প্রেরণ করার মাধ্যমে। যদিও তুমি এর পূর্বে অনবহিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।[৪]
আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মহব্বত করে বলছেন, 'আমি তোমার কাছে আমার সবচেয়ে প্রিয় গল্প শোনাচ্ছি। সবচেয়ে সুন্দর গল্প শোনাচ্ছি।' আল্লাহ তাআলা ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর বালেগ হওয়ার পরের ঘটনা শুনিয়েছেন। তিনি বলেছেন,
وَرَا وَدَتْهُ الَّتِي هُوَ فِي بَيْتِهَا عَن نَّفْسِهِ وَغَلَقَتِ الْأَبْوَابَ وَقَالَتْ هَيْتَ لَكَ قَالَ مَعَاذَ اللَّهِ إِنَّهُ رَبِّي أَحْسَنَ مَثْوَايَ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الظَّالِمُونَ
'আর যে মহিলার ঘরে সে ছিল, সে তাকে কুপ্ররোচনা দিলো এবং দরজাগুলো বন্ধ করে দিলো, আর বলল, “এসো”। সে (ইউসুফ) বলল, "আল্লাহর আশ্রয় (চাই)। নিশ্চয়ই তিনি আমার রব, তিনি আমার থাকার সুন্দর ব্যবস্থা করেছেন। নিশ্চয়ই জালিমগণ সফল হয় না।”[৫]
এই লম্বা-চওড়া ঘটনা আল্লাহ বয়ান করছেন যে, ইউসুফ বালেগ হয়েছেন। এই সুন্দর ঘটনা স্বয়ং আল্লাহ তাআলা শোনাচ্ছেন। ইউসুফ আলাইহিস সালাম যাদের ঘরে ছিলেন, ওই ঘরের রমণী একদিন ইউসুফ আলাইহিস সালাম- কে নিজের কাছে ডাকছে। মনে রাখবেন, এই ঘটনা শোনাচ্ছেন আল্লাহ। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ঘটনাটা আল্লাহ শোনাচ্ছেন। ওখানে তখন ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর সামনে শুধু এই রমণীই আছে, আর কেউ নেই। এই সময় সে ইউসুফ আলাইহিস সালাম-কে আকর্ষণ করার চেষ্টা করল।
ইউসুফ আলাইহিস সালাম তখন সবেমাত্র বালেগ। তো, ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর মধ্যে আকর্ষণ আছে, নাকি নেই? আছে। আর ওই রমণী এমন জায়গায় ডাকছে, যে জায়গা আল্লাহ ছাড়া আর তৃতীয় কেউ দেখছে না। এই সময় ইউসুফ আলাইহিস সালাম একটা শব্দ বলেছেন, "মাআযাল্লাহ”-হে আল্লাহ! আপনি আমাকে বাঁচান। আমি নিজে বাঁচার ক্ষমতা রাখি না, আমারও তো আকর্ষণ আছে। কিন্তু আমি আপনাকে ভয় করি, আমি এ অবস্থা থেকে বাঁচতে চাই। আল্লাহ বলেন যে-হে ইউসুফ! তোমার ঘটনা আমার সবচেয়ে পছন্দ হয়েছে। কিয়ামত পর্যন্ত কোনো যুবক যদি গুনাহের আহ্বান পাওয়ার পর আমার ভয়ে এইভাবে নিজেকে বাঁচিয়ে নেয়, তাহলে সেটাও আমার কাছে সবচেয়ে সেরা গল্প হবে। আমি ইউসুফকে যেভাবে অমর করে রেখেছি, ওই যুবককেও আমি অমর করে রাখব।
সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ তাআলা তাঁর সবচেয়ে প্রিয় গল্প রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শোনাচ্ছেন। এজন্যে শোনাচ্ছেন, তিনি যেন তাঁর উম্মতকে শোনান। তিনি এই উম্মতের কাছে ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর মতো আদর্শ চান। গুনাহ করার সব সুযোগ ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর সামনে ছিল; কিন্তু আল্লাহর ভয়ে সব আকর্ষণকে বাদ দিয়ে ইউসুফ আলাইহিস সালাম বলছেন, 'মাযাআল্লাহ-হে আল্লাহ! আপনি আমাকে বাঁচান।'
এই-যে আল্লাহ তাআলা তাঁর সেরা গল্প শুনিয়েছেন, এখানে কি ইউসুফ আলাইহিস সালামের এক হাজার বছর নামাজ পড়ার কথা আছে? দুই হাজার বছর? ইউসুফ আলাইহিস সালাম সারাদিন-সারারাত রোজা রাখতেন-এই গল্প শোনানো হয়েছে? কোটি কোটি টাকা যাকাত দিয়েছেন, এইটা শোনানো হয়েছে?
না। আল্লাহ তাঁর পূতপবিত্র চরিত্রের ঘটনা বয়ান করেছেন। এখন যার আকল আছে, সে নিজেকে ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর চরিত্রের ওপর উঠাবে। কার ওপর উঠাবে? ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর চরিত্রের ওপর। ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর গুনাহের অফুরন্ত সুযোগ ছিল, কিন্তু আল্লাহর ভয়ে তিনি নিজেকে গুনাহ থেকে ফিরিয়ে রেখেছেন। এই গল্প আল্লাহর কাছে 'আহসানুল কাসাস' হয়ে গেছে।
বড় নামাজি, কিন্তু গুনাহ থেকে মুক্ত না; বড় রোজাদার, কিন্তু গুনাহে জড়িত; বড় দানবীর, কিন্তু গুনাহযুক্ত জীবন তার; এই জীবনের দাম আল্লাহর কাছে বেশি? না। যে ব্যক্তি হালাল-হারাম বেছে চলে-হোক তার আমল অল্প-তার দাম আল্লাহর কাছে বেশি। যে ব্যক্তি গুনাহমুক্ত জীবন গড়েছে, তার আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়।
সমাজ থেকে এটা হারিয়ে গেছে যে, গুনাহমুক্ত জীবন গড়তে হবে। ঈমান আনার পরে গুনাহ করার যে আর সুযোগ নেই-এই কথা সমাজের মানুষ ভুলেই গেছে। সবাই বলছে নামাজ পড়ো, রোজা রাখো, হজ করো, যাকাত দাও। কিন্তু আসল কথা হলো ঈমান আনার পরে সর্বপ্রথম তোমার জিম্মাদারি ছিল, তুমি এই ওয়াদা করো যে, 'আমি আল্লাহর হুকুমের বাইরে চলব না। আমার জীবনকে নবিদের জীবনের মতো বানাব।' নবিরা তো গুনাহমুক্ত জীবন গড়ে মাসুম হয়েছে। তুমি যদি গুনাহ করেও ফেলো, তবে তাওবা করে নিজেকে ক্ষমাপ্রাপ্ত বান্দা বানিয়ে আল্লাহর কাছে চলে যাও।
তাহলে, আমার জীবন যদি নবির সাথে মেলাতে চাই, তাহলে কোন পয়েন্টে সবচেয়ে বেশি মেলাতে হবে? গুনাহমুক্ত জীবন। যদি আমার জীবন আবু বকরের জীবনের মতো করতে চাই, তাহলে কোন পয়েন্টে তাঁকে সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করতে হবে? গুনাহমুক্ত জীবন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সামনে যে সুন্দর গল্পটা শুনিয়েছেন, ওই গল্পের ভেতর আল্লাহ কী উপস্থাপন করেছেন? গুনাহের সুযোগ ছিল, কিন্তু ইউসুফ আলাইহিস সালাম নিজেকে গুনাহ থেকে ফিরিয়ে রেখেছেন।

টিকাঃ
[৪] সূরা ইউসুফ, ১২: ৩।
[৫] সূরা ইউসুফ, ১২: ২৩।

📘 জান্নাতি জীবন > 📄 দ্বিতীয় দলিল

📄 দ্বিতীয় দলিল


এই ব্যাপারে আরেকটা দলিল দেবো। আরও অনেক দলিল আছে, শুধু বোঝার জন্য আরেকটা দিচ্ছি। কিয়ামতের ময়দানে সবাই যখন জমা হবে, তো কারও নাক দিয়ে মগজ টপকিয়ে টপকিয়ে পড়তে থাকবে। কেউ হাটু পরিমাণ ঘামের মধ্যে চলতে থাকবে, দাঁড়িয়ে থাকবে। কেউ কোমর পরিমাণ, কেউ গলা পরিমাণ। কেউ হাবুডুবু খেতে থাকবে। ওই সময় আল্লাহ রব্বুল ইযযাত সাত শ্রেণীর লোককে আরশের নিচে জায়গা দেবেন।
আল্লাহ তাআলা নবিদেরকে আরশের নিচে ছায়া দেবেন। নবিদের সাথে আরও সাত শ্রেণীর লোককে আরশের নিচে ছায়া দেবেন। এরা কারা?
এর মধ্যে আল্লাহ প্রথম জনের নাম বয়ান করছেন 'ইমামুন আদিলুন'।
একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে শোনাচ্ছেন, সবার আগে যে ছায়া পাবে, সে হলো ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ।[৬] অনেক বড় নামাজি বাদশাহর কথা বলা হয়নি। বেশি বেশি নফল রোজা রাখে, এমন বাদশাহ না। কারও ওপর জুলুম করেনি, অন্যায় করেনি, পাপ করেনি—এমন বাদশাহকে আল্লাহ আরশের নিচে ছায়া দেবেন। কারণ সে গুনাহমুক্ত জীবন গড়েছে। বাদশাহ হয়েও গুনাহমুক্ত জীবন গড়ার কারণে আল্লাহ আরশের নিচে ছায়া দেবেন। সুবহানআল্লাহ! আরেকজন হলো, নিজেকে গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে যে যুবক। এই যুবককে দেখতে সুন্দরী, আকর্ষণ আছে এবং সম্ভ্রান্ত- এমন নারী কাছে পাবার জন্যে ডেকেছে। নিভৃতে নিজের কাছে ডেকেছে। ওই যুবক তখন আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে সে ডাক প্রত্যাখ্যান করেছে। সে যুবক থাকবে আরশের ছায়ার নিচে। কারণ, সে গুনাহমুক্ত জীবন গঠন করেছিল। সম্ভ্রান্ত, রূপবতী নারী ডাকার পরেও সে বলছে, 'আমি তো আল্লাহকে ভয় করি।' এই যুবক নিজেকে গুনাহ থেকে ফিরিয়ে নিয়েছে। তাহলে আমি-আপনি যদি এই ধারণা করে বসে থাকি নামাজ, রোজা, হজ, যাকাতও করব, আবার গুনাহও করব—তবে এই জীবন নবির সাথে মিলবে না। আর নবির জীবনের সাথে আপনার জীবন না মেলার কারণে আপনি আল্লাহর আরশের ছায়ায় জায়গা পাবেন না। আপনার জীবন ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর সাথে মিলেনি; আপনার জীবন, যারা আরশের নিচে ছায়া পাবে—তাদের সাথে মিলেনি। কেননা আপনি ভুল ধারণা নিয়ে বসে ছিলেন।

টিকাঃ
[৬] মিশকাতুল মাসাবীহ, ৭০১।

📘 জান্নাতি জীবন > 📄 ইবাদতের উদ্দেশ্য

📄 ইবাদতের উদ্দেশ্য


আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে নামাজের পরিচয় দিচ্ছেন,
اتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ وَأَقِمِ الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ
'তোমার প্রতি যে কিতাব ওহি করা হয়েছে, তা থেকে তিলাওয়াত করো এবং নামাজ কায়েম করো। নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও মন্দকাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর স্মরণই তো সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন—যা তোমরা করো।'[৭]
দেখুন, নামাজের ভেতর আল্লাহ শেখাচ্ছেন যে, গুনাহমুক্ত জীবন গড়ো। আল্লাহ বলছেন—আমার কাছে ওটা নামাজই না, যে নামাজের নামাজিরা গুনাহ ছাড়তে পারেনি। যে নামাজ তোমাকে গুনাহ থেকে ফেরায় না, ওই নামাজ নামাজই না।
তাহলে নামাজের উদ্দেশ্য কিন্তু গুনাহমুক্ত জীবন গড়া। নামাজ আর রোজা মানে হলো আল্লাহর এমন ভয় দিলে পয়দা করা, যে ভয়ে আপনি নিভৃতে গুনাহ থেকে বাঁচবেন। এজন্যই রোজাকে ফরজ করা হয়েছে। এবার বুঝেছেন, কেন রোজা ফরজ হলো?
বলুন তো, নামাজ কেন ফরজ? গুনাহ করার জন্য, নাকি গুনাহকে ছাড়ার জন্য? রোজা কেন ফরজ? আল্লাহ নিজে বলছেন-তোমার দিলে এমন ভয় পয়দা করো, যে ভয় দ্বারা তুমি গুনাহের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নিজেকে ফিরিয়ে রাখবে। এই জন্য আমি রোজাকে ফরজ করেছি।
তাহলে আমরা যে রোজা রাখি, এ রোজার উদ্দেশ্য ঠিক করেছি কি? আমার রোজা যদি আমাকে গুনাহ থেকে না ফিরায়, তাহলে আমার রোজার কী অবস্থা? যাকাতের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলছেন,
خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ إِنَّ صَلُوتَكَ سَكَن لَّهُمْ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
'তাদের সম্পদ থেকে সাদাকা (যাকাত) নাও। এর মাধ্যমে তাদেরকে তুমি পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবে। আর তাদের জন্য দুআ করো, নিশ্চয়ই তোমার দুআ তাদের জন্য প্রশান্তিকর। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।[৮]
আল্লাহ বলছেন-তুমি যাকাত দাও। যাকাত দিয়ে তাদেরকে পবিত্র করো। তাদের জীবনকে গুনাহ থেকে পবিত্র করো। তাদের মালকে পবিত্র করো। তাহলে যাকাতের উদ্দেশ্য কি গুনাহমুক্ত জীবন গড়া, নাকি গুনাহযুক্ত জীবন? এখন আসি হজের কথায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
مَنْ حَجَّ لِلَّهِ فَلَمْ يَرْفُتْ، وَلَمْ يَفْسُقُ، رَجَعَ كَيَوْمٍ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ
'যে ব্যক্তি রাফাছ ও ফিসক থেকে বিরত থেকে আল্লাহর উদ্দেশে হজ করল, সে এমন নবজাতক শিশু-যাকে তার মা এ মুহূর্তেই প্রসব করেছে, তার ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে ফিরবে।[৯]
তাহলে হজের মাকসাদ কি গুনাহমুক্ত জীবন গড়া, নাকি গুনাহযুক্ত জীবন?
আমি যে নামাজ পড়ছি, এই নামাজ যদি গুনাহমুক্ত জীবন না গড়তে পারে, যাকাত দ্বারা যদি আমার জীবন গুনাহ থেকে পবিত্র না হয়, হজ দ্বারা যদি আমি নিষ্পাপ না হই, তবে আমার নামাজ, হজ, যাকাত—কোনোটাই আল্লাহর কাছে মাকবুল না। তাহলে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হওয়ার আমল কী? গুনাহমুক্ত জীবন গড়া।

টিকাঃ
[৭] সূরা আল-আনকাবুত, ২৯: ৪৫।
[৮] সূরা আত-তাওবা, ৯: ১০৩।
[৯] বুখারি, ১৫২১; মুসলিম, ১৮২০।

📘 জান্নাতি জীবন > 📄 কী পরিমাণ গুনাহ ছাড়তে হবে

📄 কী পরিমাণ গুনাহ ছাড়তে হবে


এখন প্রশ্ন হলো, কী পরিমাণ গুনাহ থেকে মুক্ত জীবন গড়লে আমি মোটামুটি জান্নাতে যেতে পারব?
আমরা তো অনেকে অনেক গুনাহ থেকে মুক্ত। কেউ যিনা করেনি, কেউ মদ খায়নি, কেউ গালি দেয়নি, কেউ গাঁজা খায়নি, কেউ চাঁদাবাজি করেনি, অনেকে আবার টিভিও দেখেনি। অনেকে অনেক গুনাহ থেকেই মুক্ত আছে। তাহলে কয়টা গুনাহ থেকে মুক্ত হলে আমি আল্লাহর কাছে জান্নাতের আশা করতে পারি? আর কয়টা গুনাহ যুক্ত হলে কোনো সমস্যা নেই? এটা জানার বিষয়। প্রথম আমি বুঝেছি যে, আমার জীবন গুনাহমুক্ত হওয়া দরকার। এখন বুঝতে হবে, আমায় কয়টি গুনাহ ছাড়তে হবে?
কুরআন-হাদীস আমাদেরকে এই কথা বলে যে, একটা কবীরা গুনাহ করার পর কেউ যদি তাওবা ছাড়া দুনিয়া থেকে চলে যায়, বা তার তাওবা যদি কবুল না হয়, তবে তাকে জাহান্নামে যাওয়া লাগতে পারে। কয়টা কবীরা গুনাহ? একটা। একটা কবীরা গুনাহও যদি করে আর সেটা থেকে সে যদি তাওবা না করে মারা যায়, তবে সে জান্নাত পাবে না। গুনাহ আর জান্নাত একসাথে জমা হতে পারে না।
আমরা যখনই রাস্তায় বেড়িয়েছি, তখনই যত নাজায়েজ জায়গা আছে, তাকাচ্ছি। ঘরে গিয়ে টিভি দেখছি, স্মার্টফোন দেখছি, এভাবে কানকে গান শুনে নাপাক করছি, দিল নাপাক করছি, সব নাপাক করে দিচ্ছি। তাহলে এখন কয়টা গুনাহ থেকে মুক্ত হতে হবে আমাদেরকে?
বোঝার জন্য একটা ঘটনা বলি। ইবলিস কত হাজার বছর ইবাদত করেছে? এক-দুই বছর? নাকি হাজার হাজার বছর? হাজার হাজার বছর ইবাদত করেছে। ইবলিস আল্লাহর কয়টা হুকুম মানেনি? মাত্র একটা হুকুম মানেনি। আল্লাহ বলেছেন, 'আদমকে সিজদা করো।' সব ফেরেশতারা সিজদা করেছেন। কিন্তু ইবলিস করেনি। ইবলিসকে যদি বলা হতো—'আল্লাহকে সিজদা করো', তাহলে সে করত না? অবশ্যই করত। সে আদমকে সিজদা করেনি। কারণ, তার কাছ এটা পছন্দ হয়নি। সে ভাবছিল—আমি তো হাজার হাজার বছর আল্লাহর ইবাদত করেছি, এত এত বছর জান্নাতে থেকেছি, আল্লাহ আমাকে বানিয়েছেন আগুন দিয়ে, আর এই আদমকে মাটি থেকে বানিয়েছেন। আগুনের স্বভাব ওপরের দিকে ওঠা। মাটির স্বভাব নিচের দিকে যাওয়া। আমি তাকে সিজদা করব কেন?
তখন আল্লাহ বললেন—তুই জান্নাত থেকে বের হয়ে যা।
এখন বলুন তো, কয়টা গুনাহ করেছিল ইবলিস? মাত্র একটা। সে হাজার হাজার বছর পর্যন্ত ইবাদত করেছে। অথচ একটা গুনাহের কারণে আল্লাহ তাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছেন, অভিশপ্ত করেছেন। এখন হিসাব মিলিয়ে দেখুন। জিন্দেগিতে একটাও গুনাহ নেই—এমন কতজন আছেন? আজকে বনী আদম হাজারও গুনাহ করছে, যেমন মন চায় জীবন গড়ছে, যেমনভাবে মন চায় তার জীবনকে সাজাচ্ছে, যেখান থেকে মন চায় খাচ্ছে, যেখানে মন চায় ব্যয় করছে। হাজার হাজার দিন ধরে গান নিয়ে ব্যস্ত, টিভি নিয়ে ব্যস্ত, সব ধরনের অবৈধ কাজ নিয়ে ব্যস্ত, নেশা নিয়ে ব্যস্ত, চাঁদা নিতে ব্যস্ত। আল্লাহর কোনো খবর তার নেই, আল্লাহর কথা সে মনে রাখে না। একটা গুনাহের অপরাধে আল্লাহ তাআলা ইবলিসকে বের করে দিয়েছেন। সে বনী আদমকে সিজদা করেনি। আর এই বনী আদম হাজার হাজার বার গুনাহ করছে। বনী আদমের জিন্দেগি শয়তানের চাইতেও বড় বড় গুনাহে ভরে যাচ্ছে। তাহলে গুনাহমুক্ত যে জীবন গড়তে হবে, সেখানে কি দুয়েকটা গুনাহ বাদ দিলেই যথেষ্ট হয়ে যাবে? নাকি সব গুনাহ বাদ দিতে হবে?
সব গুনাহ।
দুই-একটা গুনাহ করার অনুমতি আছে নাকি?
না, একটা গুনাহ করারও অনুমতি নেই।
এবার অন্য আরেকটি বিষয় ভাবুন। আল্লাহ তাআলা প্রথমে আদম আলাইহিস সালাম আর হাওয়া আলাইহিস সালামকে জান্নাতে রেখেছিলেন। ইবলিস তাঁদেরকে প্ররোচনা দিয়ে নিষিদ্ধ গাছের ফল খাইয়েছে। কারণ, ওর ইচ্ছা ছিল যে, আদম-হাওয়াকে জান্নাত থেকে বের করবে। সে তাঁদেরকে গিয়ে বলল— অবশ্যই আমি সবচেয়ে বেশি কল্যাণকামী। আমার কথা না মানলে পস্তাতে হবে। কিন্তু যদি আমার কথা মানো, তবে আজীবন জান্নাতে থাকতে পারবে, আল্লাহর কাছে থাকতে পারবে। বিশ্বাস করো, আমি তোমাদের ভালো চাই।
অমনি আদম ও হাওয়া দিলে দিলে ভেবেছেন—যাক, একটু খেয়ে দেখি। এতে যদি সারাজীবন আল্লাহর কাছাকাছি থাকা যায়, তবে তো বেশ ভালোই হবে।
আদমের নিয়ত খুবই ভালো ছিল। আল্লাহর কাছে জান্নাতে থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। নিয়ত ভালো ছিল; কিন্তু যার ওয়াজ দ্বারা তিনি প্রভাবিত হয়েছিলেন, সেই ওয়ায়েজ ভালো লোক ছিল না। এজন্যই ঝামেলা হয়ে গেছে।
আদম আলাইহিস সালাম একটা ভুল করেছেন, ভুল বুঝেছেন। তিনি আল্লাহর কাছাকাছি থাকার জন্যে অল্প একটু ফল খেয়েছেন। এইক্ষেত্রে তিনি কয়টা হুকুম মানেননি? মাত্র একটা। এক ভুলেই জান্নাত থেকে দুনিয়ায় আসতে হয়েছে। আদম আলাইহিস সালাম দুনিয়াতে এসেছেন, দুনিয়ায় এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বারবার বলেছেন,
رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
'হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের প্রতি অন্যায় করে ফেলেছি, যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন আর দয়া না করেন, তাহলে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।[১০]
আল্লাহকে ডাকতে ডাকতে, কাঁদতে কাঁদতে দুনিয়ার জমিন ভিজিয়ে ফেলেছেন আদম আলাইহিস সালাম। তিনি শুধু বলছিলেন—হে আল্লাহ! আমি নিজের ওপর জুলুম করেছি। আমি বুঝিনি যে, আমাকে এইভাবে জান্নাত ছাড়তে হবে। আমি নিজের অপরাধকে স্বীকার করছি। যদি আপনি মাফ না করেন, তাহলে আমার জীবনও ইবলিসের মতো বরবাদ হয়ে যাবে। আল্লাহ আমাকে মাফ করুন, আমাকে আবার জান্নাত দিন। তখন আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَتَلَقَّى آدَمُ مِن رَّبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
'অতঃপর আদম তার রবের পক্ষ থেকে কিছু বাণী পেল, ফলে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করলেন। নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী, অতি দয়ালু।[১১]
অর্থাৎ, আল্লাহ বলছেন—ও আমার বান্দারা, আদমের মতো অনিচ্ছাকৃত ভুল করার পরে, আমার কাছে আদমের মতো তাওবা করো। তাহলে আদমকে আমি যেভাবে জান্নাতের ওয়াদা করেছি, তোমাদেরকেও জান্নাতের ওয়াদা করব। কিন্তু গুনাহ নিয়ে তুমি আমার কাছে আসতে পারবে না। গুনাহমুক্ত জীবন নিয়ে যদি তুমি আমার কাছে আসতে চাও, তাহলে আদম যেভাবে দুআ করেছিল, সেভাবে আমাকে ডাকো। আমি আদমকে কাছে ডেকে নিয়েছি, অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা করে দিয়েছি। তোমাকেও দেবো। তবে গুনাহ বাকি রাখতে পারবে না। কারণ, জান্নাত আর গুনাহ কোনোদিন একসাথে জমা হতে পারে না। তাই আল্লাহ আদম আলাইহিস সালামকে তাঁর অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য জান্নাত থেকে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
পূতপবিত্র জীবন যারা গড়ছে, যাদের জীবনে একটাও কবীরা গুনাহ নেই, তারাই শুধু জান্নাতে আসতে পারবে; এ ছাড়া আর কেউ পারবে না। ও যুবক, তুমি কি এই ধোঁকায় বসে আছো যে, তুমি প্রেম করবে, টিভি-সিনেমা দেখবে, স্মার্টফোনে অশ্লীল কাজ করবে, হোলির অনুষ্ঠানে যোগ দেবে, বিবাহে গান-বাজনা চালাবে, আবার নিজেকে জান্নাতিও দাবি করবে? রবের কসম! এই দাবি অবাস্তব। শয়তান একটি মাত্র গুনাহের কারণে জান্নাত ছেড়েছে। আর তুমি হাজারও গুনাহ নিয়ে জান্নাতের স্বপ্ন দেখছো? এটা তো অনেক বড় ধোঁকা। এর চেয়ে বড় ধোঁকা আছে আর?
জান্নাতে যাবে কারা?
যারা কবীরা গুনাহকে ছেড়েছে। হ্যাঁ, সগীরা গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দেবেন, কিন্তু কবীরা গুনাহ না ছাড়লে, দুনিয়া থেকে মাফ করিয়ে না-নিলে, জান্নাত দেবেন না। আগে জাহান্নame জ্বলেপুড়ে গুনাহ মাফ হবে, এরপর জান্নাত।
ওয়াজ আমরা অনেক শুনি। কিন্তু ওয়াজ শোনার পরে গুনাহ তো ছাড়ি না। ঘরে বিবি পর্দা করে না, সন্তান দ্বীনি শিক্ষা জানে না, নামাজ জানে না, রোজা জানে না; আর আমি নিজেকে জান্নাতি দাবি করছি! আমার জানাযা এই অবস্থায় হচ্ছে যে, আমার বিবি পর্দা জানে না, আমার মেয়ে পর্দা জানে না। আজীবন আমি টিভি দেখেছি, আমাকে কবর দেওয়ার পরে আমার পরিবার এখন টিভি দেখবে! আর আমি জান্নাতের আশা নিয়ে বসে আছি! আর হুজুর ডেকে দুআ করাচ্ছি, 'অমুক ভাইকে জান্নাতে পাঠিয়ে দাও।' অথচ এই হুজুরেরও জান্নাত নিশ্চিত কি না, জানা নেই। সে আবার কিভাবে আপনাকে জান্নাত দেবে, বলুন?
তাই কোনো গুনাহ বাকি থাকুক—এটা মুমিন কল্পনা করতে পারে না। একটা কবীরা গুনাহও যদি হয়ে থাকে, তবে তাওবা করতে হবে। এই মজলিস থেকেই তাওবা করতে হবে। সে তার মায়ের হক নষ্ট করেছে, বোনের হক নষ্ট করছে, স্বামীর হক নষ্ট করছে, স্ত্রীর হক নষ্ট করছে—সবাইকে তাওবা করতে হবে। যে ব্যক্তি সন্তানকে দ্বীন শেখায়নি, ঘরে টিভির ব্যবস্থা করেছে, সন্তানের হাতে টাচস্ক্রীন মোবাইল তুলে দিয়েছে, সন্তান মোবাইলে আজেবাজে জিনিস দেখছে, সন্তানের জীবন পুরো বরবাদ হয়ে গেছে, তার ছেলে অন্য মেয়ের সাথে ফ্রি মিক্সিং করে, তার মেয়ে অন্য ছেলের সাথে ফ্রি মিক্সিং করে, অথচ বাবা হয়ে সে কোনো আপত্তি করে না; আবার সে আশা করছে জান্নাতে ঢুকে যাবে!
ইবলিসকে মাত্র একটা গুনাহের কারণে জান্নাত ছাড়তে হয়েছে, আর আমি প্রত্যেক দিন হাজার হাজার গুনাহ করে কিভাবে জান্নাতের আশা করি? আল্লাহ আপনি আমাদেরকে সহিহ বুঝ দান করুন।
তাহলে, আল্লাহর কাছে প্রিয় হওয়ার, নবিওয়ালা জিন্দেগি পাওয়ার সবচেয়ে বড় আমল কী?
গুনাহমুক্ত জীবন। শুধু নামাজ না। নামাজের সাথে গুনাহমুক্ত জীবন। শুধু রোজা না, রোজার সাথে গুনাহমুক্ত জীবন। নামাজের আসল উদ্দেশ্য গুনাহ থেকে বাঁচা, রোজার আসল উদ্দেশ্য গুনাহ থেকে বাঁচা, যাকাতের আসল উদ্দেশ্য গুনাহ থেকে বাঁচা, হজের আসল উদ্দেশ্য গুনাহ থেকে বাঁচা। আর আজকাল লোকেরা নামাজও পড়ে, আবার গুনাহও করে। নামাজ পড়ে, আবার পূজায়ও অংশগ্রহণ করে। নামাজ পড়ে, আবার সিনেমাও দেখে। নামাজও পড়ে, আবার গান-বাজনাও শুনে। নামাজও পড়ে, আবার বেপর্দায়ও চলে। বলেন তো, আমার এই নামাজ আল্লাহর কাছে কবুলযোগ্য নামাজ? আমার এই রোজা আল্লাহর কাছে কবুলযোগ্য রোজা? আমার এই যাকাত আল্লাহর কাছে মাকবুল? আমার এই হজ আল্লাহর কাছে মাকবুল?
সুতরাং, ওয়াদা করুন: 'হে আল্লাহ, আমরা একটা গুনাহ নিয়েও কবরে যেতে চাই না। আজ থেকে আমরা গুনাহমুক্ত জীবন গড়ব। ও আল্লাহ, আপনি আমাদেরকে গুনাহমুক্ত জীবন গড়ার তাওফীক দান করুন। আমাদেরকে বেপর্দা থেকে বাঁচান। আমাদের চোখ ও কানকে হেফাজত করুন। আমাদের দিলকে হেফাজত করুন। আমাদের হারাম খাবার থেকে হেফাজত করুন। আমাদের সন্তানদেরকে দ্বীনের ফরজ পরিমাণ জ্ঞান শেখার তাওফীক দান করুন। ও আল্লাহ, আমাদের বিবিদেরকে যেন পর্দায় রাখতে পারি, সেই তাওফীক দান করুন। আমাদের মেয়েদেরকে যেন সাচ্চা নামাজি হিসেবে গড়তে পারি, সেই তাওফীক দান করুন। আমাদের জীবনকে নবিদের সাথে মিলিয়ে দিন। ইবলিসের সাথে মেলাবেন না। হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে তাওফীক দান করুন।' আমিন।

টিকাঃ
[১০] সূরা আল-আরাফ, ৭: ২৩।
[১১] সূরা আল-বাকারা, ২: ৩৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00