📄 জান্নাতের সুসংবাদ লাভের যোগ্য যারা
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أَنْ لَهُمْ aj malaia ja a 9 PII PII, OMAR SO جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْفَارِ সংবাদ দাও, তাদের জন্য রয়েছে এমন জান্নাত, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত হয়।
আল্লাহ তা'আলা আরো ইরশাদ করেন, أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهُ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ • يَحْزَنُونَ জেনে রাখ! আল্লাহর বন্ধুদের কোন ভয় নেই, তারা কোন দুঃখিতও হবে না। • الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ যারা ঈমান ও তাকওয়া لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخرة لَا تَبْدِيلَ لِكَلِمَاتِ الله | PC 1977 ,A GAN ACCE HAI ART O TRAITO ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ . আল্লাহর বাণীর কোন পরিবর্তন নেই, এটাই মহা সাফল্য।
আল্লাহ তা'আলা অন্যত্র ইরশাদ করেন, إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبَّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنتُمْ تُوعَدُونَ . বলে আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অতঃপর অবিচল থাকে, তাদের নিকট অবতীর্ণ হয় ফিরিশতা এবং বলে, তোমরা ভীত হইও না, চিন্তিত হইও না এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার জন্য আনন্দিত হও।
فَبَشِّرْ عِبَادِ الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ أولئك الَّذِينَ هَدَاهُمُ اللَّهُ وَأولئك هُمْ أُولُو الْأَلْبَابِ আমার বান্দাদেরকে, যারা মনোযোগ সহকারে কথা শুনে এবং তার মধ্যে যা উত্তম তা গ্রহণ করে। তাদেরকে আল্লাহ সৎপথে পরিচালিত করেন এবং তারাই বোধশক্তিসম্পন্ন।
আল্লাহ তা'আলা অন্যত্র ইরশাদ করেন, الَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا في سبيل الله بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ أَعْظَمُ دَرَجَةً عِنْدَ اللهِ وَأُولئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ আনে, হিজরত করে, সম্পদ ও জীবন দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে, তারা আল্লাহর নিকট মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ। আর তারাই সফলকাম। يُبَشِّرُهُمْ رَبُّهُمْ بِرَحْمَةٍ مِنْهُ وَرِضْوَانِ وَجَنَّاتٍ لَهُمْ فِيهَا نَعِيمٌ مُقِيمٌ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌ তাদের প্রতিপালক তাদেরকে সুসংবাদ দিচ্ছেন, স্বীয় দয়া ও সন্তোষের এবং জান্নাতের, যেখানে আছে তাদের জন্য স্থায়ী সুখ-শান্তি। সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট আছে মহা পুরস্কার।
আল্লাহ তা'আলা অন্যত্র ইরশাদ করেন, وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ في رَوْضَاتِ الْجَنَّاتِ لَهُمْ مَا يَشَاءُونَ عِنْدَ رَبِّهِمْ ذَلِكَ هُوَ الْفَضْلُ الْكَبِيرُ আনে ও সৎকর্ম করে, তারা থাকবে জান্নাতের মনোরম স্থানে। তারা যা কিছুই চাবে, তাদের প্রতিপালকের নিকট তাই পাবে। এটাই তো মহা অনুগ্রহ। ذلك الذي يُبَشِّرُ اللَّهُ عِبَادَهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَات আল্লাহ দেন তাঁর বান্দাদেরকে, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে।
আল্লাহ তা'আলা অন্যত্র ইরশাদ করেন, إِنَّمَا تُنْذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَخَشِيَ الرَّحْمَنَ بالْغَيْبِ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَأَجْرِ كَرِيمِ তুমি কেবল তাকেই সতর্ক করতে পার, যে উপদেশ মেনে চলে এবং না দেখে দয়াময় আল্লাহকে ভয় করে। অতএব তাকে তুমি মহা পুরস্কার ও ক্ষমার সংবাদ দাও।
আল্লাহ তা'আলা অন্যত্র ইরশাদ করেন, يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِيُّ إِنَّآ أَرْسَلْنَٰكَ شَٰهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا • হে নবী! আমি তো তোমাকে বানিয়েছি সাক্ষী এবং সুসংবাদ দাতা এবং সতর্ককারী হিসেবে।
وداعيا إلى الله بإذنه وسراجا منيرا অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী হিসেবে এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে। وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ بِأَنَّ لَهُمْ مِنَ اللَّهِ فَضْلًا كَبِيرًا তাদের জন্য আল্লাহর নিকট রয়েছে মহা অনুগ্রহ।
আল্লাহ তা'আলা অন্যত্র ইরশাদ করেন, وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ তাদেরকে কখনো মৃত মনে করো না; বরং তারা জীবিত। তাদের প্রতিপালকের নিকট হতে তারা রিযকপ্রাপ্ত।
فَرِحِينَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَيَسْتَبْشِرُونَ بِالَّذِينَ لَمْ يَلْحَقُوا بِهِمْ مِنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَاهُمْ يَحْزَنُونَ
আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে যা দিয়েছেন, তাতে তারা আনন্দিত আর তাদের পেছনে যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি, তাদের জন্য আনন্দ প্রকাশ করে, এই জন্য, তাদের কোন ভয় নেই, আর তারা দুঃখিতও হবে না।
يَسْتَبْشِرُونَ بِنِعْمَةٍ مِنَ اللَّهِ وَفَضْلٍ وَأَنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُؤْمِنِينَ আল্লাহর নিয়ামত ও অনুগ্রহের জন্য তারা আনন্দ প্রকাশ করে এবং এটা এ কারণে, আল্লাহ মু'মিনদের শ্রমফল নষ্ট করেন না।
আল্লাহ তা'আলা আরো ইরশাদ করেন, إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَاهِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ فَاسْتَبْشِرُوا بَيْعَكُمُ الَّذِي بَايَعْتُمْ بِهِ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ .
নিশ্চয়ই আল্লাহ মু'মিনদের নিকট হতে তাদের জীবন ও সম্পদ ক্রয় করে নিয়েছেন, তাদের জন্য জান্নাত আছে এর বিনিময়ে। তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, নিধন করে ও নিহত হয়। তাওরাত ইঞ্জিল ও কুরআনে এ সম্পর্কে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি রয়েছে। নিজ প্রতিজ্ঞা পালনে আল্লাহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কে আছে? তোমরা যে সওদা করেছ, সে সওদার জন্য আনন্দিত হও এবং এটাই তো মহা সাফল্য।
আল্লাহ তা'আলা আরো ইরশাদ করেন, وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ 0 ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা অবশ্যই পরীক্ষা করব। তুমি শুভ সংবাদ দাও ধৈর্যশীলদেরকে।
الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ 0 যারা তাদের উপর বিপদ আপতিত হলে বলে, আমরা তো আল্লাহরই এবং নিশ্চিতভাবে তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী। أولئك عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأولئك هُمُ الْمُهْتَدُونَ 10 এরাই তারা, যাদের প্রতি তাদের প্রতিপালকের নিকট হতে বিশেষ অনুগ্রহ ও রহমত বর্ষিত হয় আর এরাই সৎপথে পরিচালিত।
আল্লাহ তা'আলা আরো ইরশাদ করেন, وَأُخْرَى تُحِبُّونَهَا نَصْرٌ مِنَ اللَّهِ وَفَتْحٌ قَرِيبٌ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ 0 এবং তিনি দান করেন তোমাদের ব্যক্তিগত আরো একটি অনুগ্রহ। আল্লাহর সাহায্য ও আসন্ন বিজয়, মু'মিনদেরকে সুসংবাদ দাও।
জান্নাত সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন, أعدت للْمُتَّقِينَ জান্নাত মুত্তাকী তথা খোদাভীরুদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
أُعدَّتْ لِلَّذِينَ آمَنُوا بِالله وَرُسُله আল্লাহ ত'আলা অন্যত্র ইরশাদ করেন, সে সকল লোকের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে।
আল্লাহ তা'আলা আরো ইরশাদ করেন, قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ অবশ্যই সফলকাম হয়েছে মু'মিনরা। الذين هم فى صلاتهم خاشعون যারা বিনয়ী-নম্র নিজেদের নামাযে। والذين هم عن اللغو معرضون যারা অসার কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকে। والذين هم للزكاة فعلون যারা যাকাত দানে সক্রিয়। والذين هم لفروجهم حافظون যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। إلا على أزواجهم أو ما ملكت أيمانهم فإنهم غير ملومين নিজেদের পত্নী অথবা অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত। এতে তারা নিন্দনীয় হবে না। فمن ابتغى وراء ذلك فأولئك هم العادون এবং কেউ তাদেরকে ব্যতীত অন্যকে কামনা করলে তারা হবে সীমা লঙ্ঘনকারী। والذين هم لأماناتهم وعهدهم راعون এবং যারা নিজেদের আমানত এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। والذين هم على صلواتهم يحافظون এবং যারা নিজেদের সালাতে যত্নবান থাকে। أولئك هم الوارثون তারাই হবে উত্তরাধিকারী। الذين يرثون الفردوس هم فيها خالدون যারা অধিকারী হবে ফিরদাউসের, তারা তাতে স্থায়ী হবে। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْقَانِتِينَ وَالْقَانِتَاتِ وَالصَّادِقِينَ وَالصَّادِقَاتِ وَالصَّابِرِينَ وَالصَّابِرَاتِ وَالْخَاشِعِينَ وَالْخَاشِعَاتِ وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقَاتِ وَالصَّائِمِينَ وَالصَّائِمَاتِ وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَافِظَاتِ وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا
অবশ্যই আত্মসমর্পণকারী পুরুষ এবং আত্মসমর্পণকারী নারী, মু'মিন পুরুষ ও মু'মিন নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ ও বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, সাওম পালনকারী পুরুষ ও সাওম পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হিফাযতকারী পুরুষ ও যৌনাঙ্গ হিফাযতকারী নারী, আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ এবং অধিক স্মরণকারী নারী, তাদের জন্য আল্লাহ তা'আলা রেখেছেন ক্ষমা ও মহা প্রতিদান।
আল্লাহ তা'আলা অন্যত্র ইরশাদ করেন, التَّائِبُونَ الْعَابِدُونَ الْحَامِدُونَ السَّائِحُونَ الرَّاكِعُونَ السَّاجِدُونَ الْآمِرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّاهُونَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَالْحَافِظُونَ لِحُدُودِ اللهِ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ তারা তাওবাকারী, ইবাদতকারী, আল্লাহর প্রশংসাকারী, সিয়াম পালনকারী, রুকুকারী, সিজদাকারী, সৎকর্মের নির্দেশদাতা, অসৎকার্যে নিষেধকারী ও আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা সংরক্ষণকারী। মু'মিনদেরকে তুমি সুসংবাদ দাও।
আল্লাহ তা'আলা আরো ইরশাদ করেন, تِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي نُورِثُ مِنْ عِبَادِنَا مَنْ كَانَ تَقِيًّا এই সে জান্নাত, যার অধিকারী করব আমার বান্দাদের মধ্যে মুত্তাকীদেরকে।
আল্লাহ তা'আলা অন্যত্র ইরশাদ করেন, وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةِ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضِ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ ক্ষমার দিকে এবং সে জান্নাতের দিকে, যার বিস্তৃতি আসমান ও যমীনের ন্যায়, যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে মুত্তাকীদের জন্য। الَّذِينَ يُنْفِقُونَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ ও অসচ্ছল অবস্থায় ব্যয় করে এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল। আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদেরকে ভালোবাসেন। الَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ এবং যারা কোন অশ্লীল কার্য করে ফেললে অথবা নিজেদের প্রতি যুলুম করলে আল্লাহ্ তা'আলাকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের কারণে ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ্ ব্যতীত কে পাপ ক্ষমা করবে? তারা যা করে ফেলে, জেনেশুনে তারই পুনরাবৃত্তি করে না। أُولَٰئِكَ جَزَاؤُهُم مَّغْفِرَةٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَجَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ وَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ যাদের পুরস্কার তাদের প্রতিপালকের ক্ষমা এবং জান্নাত, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত হয়, সেখানে তারা স্থায়ী হবে আর সৎকর্মশীলদের পুরস্কার কত উত্তম হয়।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَىٰ تِجَارَةٍ تُنجِيكُم مِّنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ হে মু'মিনরা! আমি কি তোমাদেরকে এমন এক বাণিজ্যের সংবাদ দিব, যা তোমাদেরকে রক্ষা করবে মর্মন্তুদ শাস্তি হতে? تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ তা এই যে, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর বিশ্বাস করবে এবং তোমাদের ধন-সম্পদ দ্বারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা জানতে! يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ۚ ذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ আল্লাহ্ তোমাদের পাপ ক্ষমা করে দিবেন এবং তোমাদেরকে দাখিল করাবেন জান্নাতে, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত আর স্থায়ী জান্নাতের উত্তম বাসগৃহে। এটাই মহা সাফল্য। وَأُخْرَىٰ تُحِبُّونَهَا ۖ نَصْرٌ مِّنَ اللَّهِ وَفَتْحٌ قَرِيبٌ ۖ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ আরো একটি অনুগ্রহ, আল্লাহর সাহায্য ও আসন্ন বিজয়, মু'মিনদেরকে সুসংবাদ দাও।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো ইরশাদ করেন, وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ আর যে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হতে ভয় করে, তার জন্য রয়েছে দু'টি উদ্যান।
আল্লাহ তা'আলা আরো ইরশাদ করেন, وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْس عن الْهَوَى পক্ষান্তরে যে স্বীয় প্রতিপালকের সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى তবে জান্নাতই হবে তার আবাস।
এ বিষয়ে অনেক আয়াত কুরআনে কারীমে রয়েছে, যার ভিত্তি হল তিনটি বিষয়ের উপর। এক, ঈমান, দুই. তাকওয়া, তিন, সুন্নাত মত চলে নিজের যাবতীয় আমলকে এক মাত্র আল্লাহর জন্যই করা। যারা এ তিনটি বিষয়ের পাবন্দী করবে, তারাই কেবল এ সুসংবাদের উপযুক্ত। এছাড়া অন্য কেউ এ সুসংবাদের উপযুক্ত নয়। কেননা, কুরআন ও হাদীসে এ সংক্রান্ত যত সুসংবাদ রয়েছে, এ তিনটি বিষয়ের উপরই তার ভিত্তি। এ ক্ষেত্রে দু'টি মূলনীতি রয়েছে। এক. আল্লাহ তা'আলার আনুগত্যে নিষ্ঠা সৃষ্টি। দুই. মাখলুকের সাথে সদ্ব্যবহার করা। আবার এ দু'টি বিষয়ও একটি বিষয়ের মাঝে নিহিত। তা হল, সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর পসন্দের আনুকূল্য রক্ষা করা। আর এটা একমাত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জাহেরী ও বাতেনী তাবেদারীর মাধ্যমেই পাওয়া যায়।
যে কোনো আমল এ মূলনীতির বিশদ বিবরণ ক্ষেত্রে তার মধ্যে সত্তরের অধিক স্তর রয়েছে। তন্মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর হল لا إله إلا الله আল্লাহ তা'আলার একাত্ববাদের স্বীকৃতি। আর সর্বনিম্ন স্তর হল, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো। এ দু'য়ের মাঝেই রয়েছে বাকী সব স্তর, অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনীত সকল বিষয়ে তাঁকে সত্যায়ন করা এবং তাঁর নির্দেশিত সকল বিষয়ে তাঁর অনুসরণ করা, চাই সেটা ওয়াজিব হোক বা মুস্তাহাব হোক। যেমন আল্লাহ তা'আলার নাম, সিফাত, কর্ম ইত্যাদির উপর কোন প্রকার বিকৃতি ও পরিবর্তন-পরিবর্ধন ব্যতীত, কোন অবস্থার সাথে বিশেষিত করা ব্যতীত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে অবহিত করেছেন, হুবহু সেভাবে ঈমান আনা।
ইমাম শাফেঈ রহ. বলেন, সকল প্রশংসা সে সত্তার, যিনি ঐ গুণাবলীতে গুণান্বিত, যা তিনি স্বয়ং বর্ণনা করেছেন এবং যা মানুষের বর্ণনা হতেও অনেক ঊর্ধ্বে। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী আল্লাহুম (لك الحمد كالذي تقول وخيرا مما نقول) (অর্থঃ হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা আপনারই জন্য সেরূপে, যেরূপে স্বয়ং আপনি বলেছেন এবং আমরা আপনার যেরূপ গুণগান করি, তা হতে উত্তম।) এর অনুকরণে এটা বলেছেন।
যেসব বিষয়ের উপর ঈমান আনা অত্যাবশ্যক
এ গ্রন্থের শুরুতে আমি এ ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সে সব মত ও আকীদা উল্লেখ করেছি, যাতে সকলের ঐকমত্য রয়েছে। সকল উলামা, হাদীসবেত্তাগণ, ফুকাহা, মুফাস্সির সকলেরই এতে সমমত রয়েছে। সুতরাং যে এর বিপরীত মত পোষণ করবে, সে বিদ'আতী।
গ্রন্থকার বলেন, যে সকল বুযুর্গানে দীন হতে ইলম অর্জন করেছি, তাদের সকলের মত হল, ঈমান মুখের স্বীকারোক্তি, অন্তরের বিশ্বাস ও সুন্নাত মোতাবেক তা কার্যক্ষেত্রে বস্তবায়ন করার নাম। ঈমান হ্রাস পায় ও বৃদ্ধি পায়। কারো কারো মতে মূল ঈমানই হ্রাস পায় ও বৃদ্ধি পায়। আর কারো মতে মূল ঈমানে হ্রাস ও বৃদ্ধি ঘটে না। কারণ, ঈমান হল অন্তরের বিশ্বাসের নাম। হ্যাঁ, ঈমানের পর্যায় ও বিস্তারিত ক্ষেত্রে তার হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটতে পারে। যে এমত পোষণ করে, ঈমান শুধুমাত্র মুখের স্বীকৃতির নাম, আমলের কোন দখল নেই, সে মুরজিয়াদের অন্তর্ভূক্ত। এমনিভাবে যে মনে করে, ঈমান শুধুমাত্র মুখে স্বীকৃতির নাম আর আমল হল আহকামে শরঈ, সেও মুরজিয়াদের অন্তর্ভুক্ত। আর যে মনে করে, ঈমানে বৃদ্ধি তো ঘটে, কিন্তু হ্রাস পায় না, সেও মুরজিয়াদের মতই মত পেশ করল। এমনিভাবে যে মনে করে, তার ঈমান হযরত জিবরীল আ. ও অন্য ফিরিশতাদের ঈমানের ন্যায়, সেও মুরজিয়াদের মতো মত পোষণ করল। এমনিভাবে যে মনে করে, মারিফাত অন্তরের বিষয় যদিও মুখে না থাকে, তবে সেও মুরজিয়াদের অন্তর্ভুক্ত। ভাল-মন্দ, কম-বেশি বাহ্যিক-অভ্যন্তরীন, মিষ্ট- তিক্ত, পসন্দনীয়-অপসন্দনীয়, নেকী-বদী, আদি-অন্ত সব কিছুই আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকেই।
বান্দার উপর তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। বান্দাদের উপর তাঁর লিপিবদ্ধ ভাগ্যলিপিই চূড়ান্তভাবে ঘটিতব্য। কারো পক্ষে আল্লাহর ইচ্ছা লংঘন করার ন্যূনতম সামর্থ নেই। প্রত্যেকের ক্ষেত্রে তাই ঘটবে, যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রত্যেকের ভাগ্যে তাই ঘটবে যা তার জন্য লিপিবদ্ধ আছে। এক্ষেত্রে আল্লাহ তা'আলার সিদ্ধান্তই পূর্ণ ইনসাফের উপর প্রতিষ্ঠিত।
মন্দ কাজসমূহ যেমন: চুরি, ব্যভিচার, মদ্যপান, অন্যায়, হত্যা, হারাম মাল ভক্ষণ, শিরক, এ যাবতীয় গুনাহ তাঁরই ফায়সালা মোতাবেক হয়ে থাকে।
এ ব্যাপারে কোন মানুষই আল্লাহ তা'আলার উপর কোন অভিযোগ আরোপ করতে পারে না; বরং মাখলুখের উপর তাঁর পূর্ণ দলীল প্রমাণ রয়েছে, يُسْأَلُونَ (২১) (আল্লাহর) কার্যবলী সম্পর্কে কোন কৈফিয়ত দিতে হয় না, কিন্তু তাদের (মাখলুকের) কার্যবলী সম্পর্কে কৈফিয়ত দিতে হয়।
আল্লাহ তা'আলা পূর্ব হতেই জানেন, মাখলুককে স্বাধীনতা দিলে সে এ কাজ করবে, সে হিসাবে তিনি তা লিখে রেখেছেন। সুতরাং আল্লাহ তা'আলা ইবলীস ও তৎপরবর্তী কিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল নাফরমানদের নাফরমানী সম্পর্কে অবগত। বান্দাদের ব্যাপারেও জানেন এবং সে জন্যই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আর অনাগত বান্দাদের ব্যাপারেও জানেন এবং সে জন্যই তিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং প্রত্যেক ব্যক্তি তেমনি আমল করে থাকে, যে জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তার তাকদীর লিখিত পথেই চলে। কেউ আল্লাহ তা'আলার নির্ধারিত ও কর্তৃত্ব বহির্ভূত হতে পারবে না। তিনি যা ইচ্ছা, তা-ই করেন।
যে ব্যক্তি এ আকীদা পোষণ করে, আল্লাহ তা'আলা বান্দার জন্য কল্যাণ ও মঙ্গল চান, কিন্তু বান্দা নাফরমানী ও অহংকারী করে এর বিপরীত আমল করে থাকে। তাহলে এ আকীদা পোষণকারী আল্লাহর ইচ্ছা অপেক্ষা বান্দার ইচ্ছাকে অধিক কার্যকর মনে করল। আল্লাহ তা'আলার উপর এর চেয়ে বড় অপবাদ আর কি হতে পারে?
যে ব্যক্তি মনে করে, ব্যভিচার আল্লাহ তা'আলার তাকদীর অনুযায়ী হয় না, তাহলে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, মহিলা ব্যভিচার দ্বারা গর্ভ ধারণ করল ও সন্তান জন্ম দিল, তাহলে কি এটা আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা অনুযায়ী হয়নি? এটা কি আল্লাহ তা'আলার জানা ছিল না, এ সন্তান এভাবেই সৃষ্টি হবে? যদি সে বলে, আল্লাহর জানা ছিল না, তাহলে সে আল্লাহর সাথে অন্য সৃষ্টিকর্তাকে মেনে নিল, যা সরাসরি শিরক।
যে ব্যক্তি মনে করে, চুরি করা, মদ্যপান, হারাম মাল ভক্ষণ এটা আল্লাহ তা'আলার ফায়সালা অনুযায়ী হয় না। তাহলে এ কথা বিশ্বাসকারী মনে কর, বান্দা আল্লাহর রিযিক ব্যতীত অন্য কারো রিযিক গ্রহণে সক্ষম। এটা সম্পূর্ণ অগ্নিপুঁজকদের আকীদা। এটা মোটেও ঠিক নয়; বরং সে নিজের রিযিকই ভক্ষণ করল। এটা ছিল তার তাকদীর।
যে ব্যক্তি মনে করে, হত্যা আল্লাহ তা'আলার ফায়সালা অনুযায়ী হয় না, তাহলে সে যেন এটাই বিশ্বাস করল, নিহত ব্যক্তি তার মৃত্যুর নির্দিষ্ট সময়ে মৃত্যুবরণ করেনি। এরচেয়ে স্পষ্টতর কুফরী আকীদা আর কি হতে পারে? বরং নিহত ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার ফায়সালা মোতাবেক-ই মৃত্যু বরণ করেছে। এটাই মাখলুকের প্রতি তাঁর ইনসাফ আর এটাই তার ভাগ্যলিপি ছিল, যা তিনি মাখলুকের ব্যপারে পূর্ব থেকেই জানেন এবং এটাই লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। সুতরাং সঠিক কথা হল, তিনি যা ইচ্ছা করেন তা-ই করে থাকেন।
আমরা কোনো আহলে কেবলার ক্ষেত্রে তার গুনাহের কারনে তাকে জাহান্নামী বলি না। যদি না তার সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট হাদীস এসে থাকে। তদ্রূপ আমরা কাউকে তার জীবনের নেক আমলের কারনে তাকে জান্নাতী বলি না। হ্যাঁ, যদি কারো ব্যাপারে কোনো হাদীসে এ ধরণের সুসংবাদ থাকে, তবে তার কথা ভিন্ন।
এ ধরা পৃষ্ঠে যতক্ষণ পর্যন্ত দু'জন লোকও অবশিষ্ট থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত খলীফা কুরায়শদের থেকেই হবে। তাদের সাথে এ ব্যাপারে বিরোধ করা কারো জন্য উচিত নয়। আমাদের জন্য তাদের বিরোধিতা করা কোনভাবেই উচিত নয়। আমাদের জন্য তাদের খিলাফতের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তাদের ব্যতীত অন্যদের খিলাফতের স্বীকৃতি দেওয়া আমাদের জন্য কোনভাবেই উচিত নয়।
জিহাদ সৎ বা গুনাহগার তার নেতৃত্বে সর্বদা চলতে থাকবে। কোন যালিমের যুলুম, ইনসাফকারীর ইনসাফ তা বাতিল করতে পারবে না। জুমু'আ ও দু'ঈদের নামায বাদশাহর তত্ত্বাবধানেই সম্পাদিত হবে, যদিও সে ইনসাফগার এবং খোদাভীরু না হয়। (অর্থাৎ যেখানে মুসলিম শাসক রয়েছে, চাই সে নেককার হোক বা ফাসিক হোক, সে-ই জুমু'আ আর দু'ঈদের নামায পড়াবে, যদি সে তার যোগ্য হয়। যেখানে মুসলিম বাদশাহ না থাকে, সেখানে মুসলমানদের ধর্মীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কমিটি যাকে নির্ধারণ করবে, সে-ই জুমু'আ ও ঈদের নামায পড়াবে। যদি কেউ বলে, যেখানে মুসলিম শাসক নেই, সেখানে জুমু'আ ও ঈদের নামায ঠিক হবে না। তাহলে তার কথা পরিত্যাজ্য।)
সাদকা, উশর, খিরাজ, মালে ফাই ও গনীমতের মাল বাদশাহর নিকট একত্রিত করা হবে, চাই সে ন্যায়পরায়ণ হোক বা যালিম হোক। আল্লাহ যাকে রাজত্ব দান করেন বাদশাহ নিযুক্ত হয়, তার আনুগত্য ওয়াজিব। তার আনুগত্য প্রত্যাহার করা উচিত নয়। যদি সে শরীআতের খিলাফ কোন হুকুম না দেয়। আর যদি সে শরীআতের খিলাফ কোন হুকুম দেয়, তবে সেক্ষেত্রে তার আনুগত্য জায়েয নেই, কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, لا طاعة لمخلوق في معصية الخالق অর্থাৎ নাফরমানীর ক্ষেত্রে বান্দার অনুগত্য করা যাবে না। তার বায়আত ভঙ্গ করা যাবে না। যদি কেউ তা করে, তাহলে সে বিদআতী, বিরুদ্ধবাদী ও জামাতচ্যুত প্রতিপন্ন হবে।
আর ফেতনা থেকে বেঁচে থাকা শাশ্বত সুন্নাত ও অবশ্যপালনীয় কর্তব্য। যদি তুমি ফেতনার সম্মুখীন হও, তাহলে নিজেকে দীনের কাছে সমর্পণ করে দিবে। নিজ হাত বা কথার মাধ্যমে ফেতনার সহযোগিতা করা যাবে না। নিজের যবান, হাত ও রসনাকে সংযত রাখতে হবে।
দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে, এতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই। সে দাজ্জাল সকল মিথ্যাবাদী অপেক্ষা জঘন্য ও সেরা মিথ্যাবাদী। কবরের আযাব সত্য। কবরে বান্দাকে তার দীন, রব ও জান্নাত-দোযখের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হবে। মুনকার-নাকীর (কবরে প্রশ্নকারী ফিরিশতা) সত্য। এরা উভয়েই কবরে মহা পরীক্ষা। আমরা আল্লাহ তা'আলার নিকট সে সময়ের দৃঢ়তা প্রার্থনা করি। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাউযে কাওছার সত্য। এটা হল সে হাউয, যাতে উম্মতে মুহাম্মদী আসবে আর সেখানে পাত্র থাকবে, যার দ্বারা তারা তার পানি পান করবে। পুলসিরাত সত্য। যা জাহান্নামের উপর স্থাপিত। মানুষ তা অতিক্রম করবে। জান্নাত তার পরে অবস্থিত। মীযান সত্য। যার দ্বারা নেক আমল ও বদ আমল আল্লাহ তা'আলা তার ইচ্ছা অনুযায়ী মাপবেন। শিংগায় ফুৎকার দেওয়া সত্য। ইসরাফিল আ. তাতে ফুৎকার দিবেন। তখন সকল সৃষ্টি ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি তাতে ফুৎকার দিলে পুনরায় জীবিত হবে এবং হিসাব-নিকাশের জন্য। মোকাদ্দমার ফায়সালার জন্য, প্রতিদান ও শাস্তির জন্য, জান্নাত-জাহান্নামের জন্য আল্লাহ তা'আলার নিকট উপস্থিত হবে।
লাওহে মাহফুয সত্য। যা হতে পূর্ব নির্ধারিত তাকদীর অনুযায়ী বান্দার আমল তাদের প্রতি স্থানান্তরিত হয়। কলম সত্য। যার দ্বারা আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক বস্তুর তাকদীর লিপিবদ্ধ করেছেন। কুরআন কারীমে তার আলোচনা করেছেন।
কিয়ামত দিবসের শাফাআত সত্য। কিয়ামতের দিন একদল অন্যদলের জন্য সুপারিশ করবে। তখন তারা জাহান্নামে গিয়ে কিছু লোককে বের করে নিয়ে আসবে। তারা জাহান্নামে প্রবেশের পর আল্লাহর নির্ধারিত সময় পরিমাণ সেখানে অবস্থানের পর তাদেরকে বের করে নিয়ে আসা হবে। আর কিছু লোক সেখানে স্থায়ীভাবে থাকবে, তারা হল মুশরিক, আল্লাহকে অবিশ্বাসী কাফির। মৃত্যুকে কিয়ামত দিবসে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী স্থলে এনে যবাহ করা হবে।
জান্নাত ও তন্মধ্যকার সকল বস্তু সৃষ্টি করা হয়েছে এবং জাহান্নাম ও তন্মধ্যকার সকল বস্তু সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা জান্নাত ও জাহান্নام উভয়টা সৃষ্টি করেছেন ও সেগুলোর জন্য মাখলুকও সৃষ্টি করেছেন। সেগুলো ও সেগুলোতে অবস্থিত বস্তুসমূহ ধ্বংসশীল নয়। সুতরাং যদি কোন বিদ'আতী ব্যক্তি সেগুলো ধ্বংস হওয়ার ব্যাপারে আল্লাহর বাণী كُلُّ شَيْء هَالِكَ إِلَّا وَجْهَهُ সকল বস্তুই ধ্বংস হবে, একমাত্র তোমার প্রভু ব্যতীত) দ্বারা দলীল পেশ করে, তবে তাকে বলা হবে, এদ্বারা উদ্দেশ্য হল, যে সকল বস্তু ধ্বংস হওয়ার ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলার সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ হয়েছে, কেবলমাত্র সেগুলোই ধ্বংস হবে। আর জান্নাত ও জাহান্নام আল্লাহ তা'আলা স্থায়িত্বের জন্য সৃষ্টি করেছেন, ধ্বংস হওয়ার জন্য নয়। তাছাড়া সেগুলো হল আখিরাতের বস্তু, পার্থিব জগতের নয়। জান্নাতের হুররাও কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময় মৃত্যুবরণ করবে না। তারা কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। কেননা, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে স্থায়িত্বের জন্য সৃষ্টি করেছেন, ধ্বংসের জন্য নয়। তাদের ভাগ্যলিপিতে মৃত্যু লিপিবদ্ধ করা হয়নি। সুতরাং যে এর বিপরীত মত পোষণ করবে, সে বিদ'আতী এবং সত্যপথ বিচ্যুত।
আল্লাহ তা'আলা সাত আকাশ ও সাত যমীন স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। সর্বাপেক্ষা উপরের যমীন ও সর্বাপেক্ষা নিচের আকাশের মধ্যে পাঁচশত বছরের দূরত্ব রয়েছে। আর প্রত্যেক আকাশ হতে অপর আকাশের মধ্যে পাঁচশত বছরের দূরত্ব রয়েছে। সপ্তম আকাশের উপর পানি। পানির উপর আল্লাহ তা'আলার আরশ। আর আল্লাহ তা'আলা আরশে অধিষ্ঠিত। কুরসী হল তাঁর পায়ের স্থলে। আকাশে, যমীনে ও তার মধ্যবর্তী স্থলে, সমুদ্রের তলদেশে যা কিছু আছে, সবই তিনি জানেন। প্রতিটি বৃক্ষ, তরুলতা, বীজ উৎপন্ন হওয়ার স্থল, পতিত পাতা, সকল বাণীর সংখ্যা, বালুকারাশি, মাটি-কংকর, বৃহৎ পাহাড়-পর্বত থেকে শুরু করে ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র সকল বিষয়ই তাঁর নখদর্পণে। বান্দার আমল, তার ফলাফল, তাদের কথা-বার্তা, শ্বাস-প্রশ্বাস সব কিছুই তিনি জানেন। কোন বস্তুই তাঁর নিকট গোপন নয়। তিনি সপ্তম আকাশের উপর আরশে অধিষ্ঠিত। (তাঁর শান মোতাবেক) তাঁর সামনে অগ্নি, জ্যোতি ও অন্ধকার সহ তার জ্ঞাত অনেক বস্তুরাশি দিয়ে আড়াল সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে। সুতরাং যদি কোন বিদ'আতী ব্যক্তি এ আকীদার বিপরীত আকীদার উপর আল্লাহ তা'আলার এ বাণীর দ্বারা দলীল পেশ করে, যাতে রয়েছে وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ আমি তার গ্রীবাস্থিত ধমনী অপেক্ষাও নিকটতর।
مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ وَلَا خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ وَلَا أَدْنَى مِنْ ذَلِكَ وَلَا أَكْثَرَ إِلَّا هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا গোপন পরামর্শ হয় না, যাতে তিনি চতুর্থজন হিসাবে তিনি উপস্থিত থাকেন না, পাঁচ ব্যক্তির মাঝেও হয় না, যাতে তিনি ষষ্ঠ ব্যক্তি হিসাবে উপস্থিত থাকেন না। তারা এতদপেক্ষা কম হোক বা বেশী হোক, তিনিতো তাদের সঙ্গেই আছেন, তারা যেখানে থাকুক না কেন।
এ জাতীয় মুতাশাবিহ আয়াত দ্বারা দলীল পেশ করে, তাহলে তাদের জবাবে বলা হবে, এটা হল আল্লাহ তা'আলার ইলম হিসাবে, অর্থাৎ তিনি সপ্ত আকাশে আরশের উপর অধিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও সব কিছুই জানেন। মাখলুকের সকল কিছুই তাঁর কাছে সুস্পষ্ট। কোন স্থানই তাঁর ইলম বহির্ভূত নয়।
তিনি নিরাকার, সর্বদ্রষ্টা, সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞাতা। তিনি দানশীল, কৃপণ নন। তিনি সহনশীল, তাড়াহুড়াকারী নন। তিনি সংরক্ষক, তাঁর কখনো বিস্মৃতি ঘটে না। তিনি সকলের কাছেই, কখনো উদাসীন নন। তিনি কথা বলেন ও দেখেন, হাসেন, সন্তুষ্ট হন, কোন বস্তু পসন্দ করেন আবার কোন বস্তু অপসন্দ করেন। তিনি ক্রোধান্বিত হন, দয়া করেন, তাঁর সদৃশ কেউ নেই। তিনি প্রতি রাতের শেষাংশে সর্বনিম্নের আকাশে অবতরণ করেন। বান্দার অন্তর আল্লাহ তা'আলার দু'আংগুলের মাঝে। তিনি তাকে যেভাবে ইচ্ছা পরিবর্তন করেন।
তিনি হযরত আদম আ. কে তাঁর আকৃতিতে (তাঁর সর্বাপেক্ষা পসন্দনীয় আকৃতিতে) সৃষ্টি করেছেন। কিয়ামত দিবসে আসমান-যমীন তাঁর মুষ্টিতে থাকবে। তিনি তাঁর পা জাহান্নামে রাখলে তা সংকুচিত হয়ে যাবে, তিনি তাঁর পবিত্র হাত দ্বারা জাহান্নام থেকে কিছু লোককে বের করে আনবেন। জান্নাতীরা তাঁর দর্শন লাভ করবে। তিনি তাদেরকে সম্মাননা প্রদান করবেন ও তাদের সামনে দৃশ্যমান হবেন। বান্দাকে তাঁর সামনে কিয়ামত দিবসে উপস্থিত করানো হবে। তখন তিনি স্বয়ং তাদের হিসাব নিবেন। তাঁর কাজে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
কুরআন আল্লাহ তা'আলার কালাম। এটা তাঁরই কথা। কুরআন মাখলুক নয়। যে ব্যক্তি কুরআনকে মাখলুক মনে করবে, সে জাহমিয়্যাহ ফিরকার অনুসারী হয়ে কাফির প্রতিপন্ন হবে। যে কুরআনকে আল্লাহর বাণী স্বীকার করবে, কিন্তু মাখলুক না হওয়ার স্বীকারোক্তি দেবে না, সে আগেরজন থেকেও জঘন্য। যে বলবে, কুরআন তো আল্লাহর বাণী। কিন্তু আমাদের উচ্চারিত শব্দ ও তিলাওয়াত মাখলুক, সেও জাহমী হয়ে যাবে। আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা আ.-এর সাথে কথোপকথন করেছেন, নিজ হাতে তাকে তাওরাত কিতাব দান করেছেন। (কুরআন কারীমে এটার উল্লেখ রয়েছে) আদি হতে অন্ত পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা বক্তা।
স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ হতেই হয়ে থাকে। স্বপ্ন সত্য। সুতরাং কেউ স্বপ্ন দেখলে সে যেন সন্দেহাতীতভাবে কোন প্রকার রদবদল ব্যতীত সত্যাসত্য কোন আলিমের নিকট বর্ণনা করে। আলিম কোন রদবদল ছাড়াই তার ব্যাখ্যা করলে তা সত্য স্বপ্ন। আর নবীগণের স্বপ্নতো ওহী। সুতরাং কোন জাহেল, যে স্বপ্ন সম্পর্কে বিদ্রূপ করে ও স্বপ্নকে কিছুই মনে করে না। আর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ان رؤيا المؤمن كلام মু'মিন ব্যক্তির স্বপ্ন হল বান্দার সথে রবের কথাবার্তা। তিনি এও বলেছেন, ان رؤيا من الله স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ হতেই হয়ে থাকে।
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সকল সাহাবা কিরামের আলোচনা উত্তমভাবে করতে হবে। তাদের পরস্পরে যে লড়াই ও বিরোধ হয়েছে, সেগুলোর আলোচনা হতে বিরত থাকতে হবে। সুতরাং যে সাহাবা কিরামকে বা তন্মধ্য হতে কাউকে মন্দ বলল, অথবা তাদের শানে গোস্তাখী করল বা তাদের প্রতি বিদ্রূপ করল বা কোন দোষ-ত্রুটি প্রকাশে সচেষ্ট হল, সে বিদ'আতী, রাফেযী ও ভ্রষ্ট। আল্লাহ তা'আলা তার কোন দান-সাদকা গ্রহণ করবেন না। বরং সাহাবায়ে কিরামকে মহব্বত করা সুন্নাত। তাদের জন্য দুআ করা আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভের মাধ্যম। তাদের অনুসরণ নৈকট্য লাভের মাধ্যম। তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারা পরম সৌভাগ্যের বিষয়। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পরে উম্মতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন, হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রা. অতঃপর হযরত উমর রা. অতঃপর হযরত উছমান রা. অতঃপর হযরত আলী রা.। কেউ কেউ এ স্তর বর্ণনার ক্ষেত্রে হযরত উসমান পর্যন্ত এসে বিরত রয়েছেন। (অর্থাৎ শুধু তিন জনের নাম ধারাক্রমে উল্লেখ করেছে। কিন্তু সঠিক কথা, হযরত উছমানের পরই হল হযরত আলী রা.-এর মর্যাদা) তারা হলেন, খোলাফায়ে রাশেদীন। তাঁরা হিদায়েত প্রাপ্ত। এ চার জনের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সকল সাহাবা অন্য সকল মানুষ (নবীগণ ব্যতীত) অপেক্ষা উত্তম। কারো জন্যই তাদের মন্দ উল্লেখ করা ও আলোচনা করা জাইয নেই। তাদের প্রতি বিদ্রূপ করাও কারো জন্য জায়েয নয়। যে ব্যক্তি এমন করবে, তাকে শাস্তি প্রদান করা তখনকার মুসলিম শাসকের উপর অত্যাবশ্যক হয়ে পড়ে। বাদশাহর জন্য এ ধরনের ব্যক্তিকে ক্ষমা করাও জায়েয নয়; বরং তাকে শাস্তি প্রদান করা ও তাওবা করানো শাসকের জন্য অত্যাবশ্যক। যদি সে তাওবা করে, তাহলে তার তাওবা গ্রহণ করা হবে আর যদি তাওবা না করে, তাহলে তাকে পুনরায় শান্তি প্রদান করা, তাকে কারাগারের অন্ধ কুঠরীতে বন্দী করে রাখতে হবে। যতক্ষণ না সে মরে যায় বা তাওবা না করে। আমাদের উচিত, আরবদের অধিকার, মর্যাদা, উত্তমতা ও ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামী হওয়ার বিষয়টির স্বীকৃতি প্রদান করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাদীসের কারণে তাদেরকে মহব্বত করা উচিৎ। কেননা তাদের মুহাব্বত করা ঈমানের পরিচায়ক আর তাদের প্রতি বিদ্বেষ করা নিফাকের পরিচায়ক।
যে হালাল পন্থায় ব্যবসা উপার্জনকে হারাম মনে করে, সে মূর্খ এবং অবশ্যই ভ্রান্ত; বরং যে সকল উপার্জনের মাধ্যম হালাল, সেগুলোকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হালাল বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সুতরাং ব্যক্তির জন্য উচিত, স্বীয় পরিবার-পরিজনের জন্য আল্লাহর ফযল তথা জীবিকা অন্বেষণ করা। সুতরাং কেউ যদি জীবিকা উপার্জনকে নাজায়েয মনে করে তা পরিহার করে, তবে সে সত্যপথ বিচ্যুত হয়ে পড়ল। আল্লাহর কিতাব, নবী হতে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হাদীস, নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের হতে এমন সব তথ্য ও তত্ত্ব, যা পরস্পরে সমর্থক এবং যার মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কিরাম রা., তাবেঈন, তাবে তাবেঈন ও পরবর্তী যুগের অনুসারীয় দীনদার, চরম সত্যবাদী বিদআত পরিপন্থী মহান ইমামদের কাছে পৌছে যায়। উক্ত বিষয়াবলীর সমন্বিত নামই হল দীন।
এতক্ষণ যা বর্ণনা করলাম, এটাই হল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের চিরন্তন আকীদা ও বিশ্বাস। এ আকীদা আমরা তাদের কাছ থেকে শিখেছি, যাদের কাছ থেকে আমরা ইলম পেয়েছি, কুরআন-হাদীস পেয়েছি। যারা সবার কাছেই সমাদৃত ইমাম। যারা চির অনুসরণীয় ও চির বরণীয়। যাদের সত্তার উপর মিথ্যা, বিদআত, সংমিশ্রণ ও কপটতার সামান্যতম আঁচড়ও পড়েনি। তারা উক্ত আকীদাগুলো তাদের পূর্বসূরীদের কাছ থেকে জেনে আমাদের জানিয়েছেন। এ আকীদাগুলো আমরা ইমাম হরব রহ. রচিত المسائل المشهورة গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করলাম। তিনি হলেন ইমাম আহমদ, হযরত ইসহাক, হযরত সাঈদ বিন মানসূর ও আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়রের শিষ্য ও তাদের সমস্তরের আলিম।
টিকাঃ
৪৮৪. সূরা বাকারা, আয়াত: ২৫
৪৮৫. সূরা ইউনুস, আয়াত : ৬২-৬৪
৪৮৬. সূরা হামীম, আয়াত: ৩০
৪৮৭. সূরা যুমার, আয়াত: ১৭-১৮
৪৮৮. সূরা তাওবা, আয়াত: ২০-২২
৪৮৯. সূরা শুরা আয়াত ১১-১৩
৪৯০. সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ১১
৪৯১. সূরা আহযাব, আয়াত: ৪৫-৪৭
৪৯২. সূরা আল ইমরান, আয়াত: ১৬৯-১৭১
৪৯৩. সূরা তাওবা আয়াত: ১১১
৪৯৪. সূরা বাকারা, আয়াত: ১৫৫-১৫৭
৪৯৫. সুরা সাফ, আয়াত: ১৩
৪৯৬. সূরা হাদীদ, আয়াত: ২১
৪৯৭. সূরা মু'মিনূন, আয়াত: ১-১১
৪৯৮. সূরা আহযাব, আয়াত: ৩৫
৪৯৯. সূরা তাওবা, আয়াত: ১১২
৫০০. সূরা মারয়াম, আয়াত: ৬৩
৫০১. সুরা আল ইমরান, আয়াত: ১৩৩-৩৬
৫০২. সূরা সাফফ, আয়াত: ১০-১৩
৫০৩. সূরা আর রহমান, আয়াত: ৪৬
৫০৪. সূরা নাযি'আত, আয়াত: ৪০
৫০৫. সূরা ক্বাফ, আয়াত: ১৬
৫০৬. সূরা মুজাদালাহ, আয়াত: ৭
📄 জান্নাতের বর্ণনামূলক কবিতার অনুবাদ
• যোগ্যতা ব্যতিরেকে কেউ জান্নাত পাবে; একথা আত্মসম্মানবোধ পরিপন্থী। আর আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির ব্যাপারে সর্বাধিক অবহিত।
• যদি আমাদের জন্য জান্নাতকে অপ্রিয় বিষয়াবলী দিয়ে বেষ্টন করে রাখা হয় এবং আত্মার জন্য কষ্টদায়ক ও পীড়াবাহক এমন বস্তু দিয়ে তা আচ্ছাদিত করে রাখা হয়।
• হায় আল্লাহ! জান্নাতের অভ্যন্তরে কত যে উৎসবের আয়োজন রয়েছে। আরো রয়েছে রংবেরংয়ের সুস্বাদু নিআমত।
• শপথ প্রভুর! জীবনের সত্যিকার শীতলতা জান্নাতী তাঁবু, বাগিচার ভেতর। যে পুষ্পদামে সমুদ্রের বিশালিতা হেসে উঠে।
• আল্লাহর কসম! তার প্রান্তর ভালবাসার প্রতিনিধিদের জন্য অতিরিক্ত প্রাপ্তির অঙ্গীকার, যদি তুমি তাদের একজন হয়ে থাক।
• এই প্রান্তরে সেই প্রেমাস্পদের ভালবাসা আন্দোলিত হয়; যে ভালবাসাকে মনে করে সংগ্রাম করে বিজয় করা উপহার।
• আল্লাহর শপথ! প্রেমিকের সত্যিকার উৎসব তখুনি হবে যখন উপর থেকে আল্লাহ তাদেরকে সম্মোধন করে সালাম পেশ করবেন।
• আল্লাহর শপথ! কত চোখ সরাসরি আল্লাহকে দেখবে, কোনো মেঘ তাকে আচ্ছাদন করতে পারবে না। কোনো চোখ এতে বিরক্ত হবে না।
• হায় সেই দৃষ্টি! যা চেহারাকে ঔজ্জ্বল্যে ভরে দেবে এরপরেও কি মোহাচ্ছন্ন প্রেমাস্পদ প্রবোধ খুঁজবে?
• সৌন্দর্য আল্লাহর! কতো কল্যাণ যখন হেসে ওঠে তখন তার ছটায় প্রভাতের স্নিগ্ধ আলো ছড়িয়ে পড়ে।
• সে কী দৃষ্টির প্রশান্তি যখন সে আসবে; সে কী শ্রবণের সুখ; যখন সে বলবে।
• কোমল ডালের ভাঁজগুলো যখন নমনীয় হয় প্রভাতদ্বয়ের ত্রিকোণের বাঁকে; যখন সে হেসে ওঠে।
• যদি তুমি তার প্রেমে রক্তাক্ত হৃদয়ের অধিকারী হয়ে থাক, তাহলে তা না পেয়ে কখনো তা লাঘব হতে পারে না।
• বিশেষ করে মিলনকালে তার সেই চুম্বনদৃশ্য; যখন গলার নীচ দিয়ে তোমার হাত জড়িয়ে থাকবে।
• তাকে দেখবে, যখন তার অবয়বের সৌন্দর্য তাকে ফুটিয়ে তুলবে,। মিলনের পূর্বেই সেই সুখময় অনুভূতি তোমাকে শিহরিত করবে।
• সেই নূরানী চেহারার উদয় থেকে চোখ এতটাই বিস্মৃত হবে,তার বৈচিত্রময় শীষগুলো অস্তিত্বের জানান দেবে।
• আঙ্গুরের গুচ্ছ, বাগানের আপেল ও মনোহরী ডালের উপর থোকা থোকা আনার।
• রাঙ্গা গণ্ডদেশ সুশোভিত গোলাপ ঠোঁটের উপর আলতো ছোঁয়ানো মদ্য রস।
• সৌন্দর্যের সব ধারা এক মোহনায় মিলিত হচ্ছে; সে কি আশ্চর্য! আবার সেই মোহনা হতে ভাগ হচ্ছে।
• সৌন্দর্যের বিক্ষিপ্ত অংশসমূহ সেখানে একীভূত হয়; যার সম্মিলিত রূপে প্রবোধের অনুভূতি দূর করে দেয়।
• যার দৃষ্টি জান্নাতে; সেতো রহমানের যিকির করবেই। নিরবচ্ছিন্নভাবে। সে তাসবীহ জপে যাবে।
• পার্থিব পেরেশানী যদি পঙ্গপালের মতো তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে জান্নাতের অপার্থিব সুখানুভূতি তার পক্ষ নিয়ে প্রতিরোধ করে তাড়িয়ে দেবে।
• সে চির সুন্দরীদের পানিপ্রার্থী যদি আগ্রহী হয়ে থাকো, এখন মোহর সংগ্রহের সময়; একাজই প্রণিধানযোগ্য।
• যখন যৌবনসুধা সেই সুন্দরীদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবাহিত হবে, নিশ্চিত যেন এ সুধারস কভু ফুরিয়ে যাবে না।
• ভালোবাসার সাথে প্রতারণাকারী দুনিয়ার নারীদের থেকে মুখ ফিরিয়ে গ্রহণ করো তাদেরকে।
• তুমি যেমনই হও না কেন, তোমার জন্য ঐ অনিন্দ্য সুন্দরী অপ্সরীরা জান্নাতে আদনে অনন্তকাল পর্যন্ত অবিবাহিত কুমারী থেকে যাবে।
• পৃথিবীর দিনগুলোতে তুমি রোযা রাখ। কেননা, হতে পারে আগামীর দিনগুলোতে তুমি ঈদুল ফিতরের মহা উল্লাসে উচ্ছ্বসিত থাকবে। যেদিন অন্যরা অনাহারে থাকবে।
• পৃথিবীর অতৃপ্ত জীবনে তুষ্ট না হয়ে সামনে এগিয়ে যাও। কেননা, যে সামনে অগ্রসর হয় না, সে জীবনের সত্যিকার স্বাদগুলো আস্বাদনের সুযোগ পায় না।
• গোটা পৃথিবী যদি তোমার জন্য সংকীর্ণ হয়ে যায় এবং সেখানে যদি তোমার জন্য পরিচয় দেওয়ার মত কোন নিবাসও না থেকে থাকে।
• তাহলে এসো সেই জান্নাতে আদনে। সেখানে তোমাকে সুস্বাগতম। যা আমাদের শ্রেষ্ঠতম নিবাস। সেখানে রয়েছে বিশাল প্রাসাদ ও উদ্যানোস্থিত বিশাল মুক্তার তাঁবু।
• কিন্তু আমরা তো এখনো শত্রুদের হাতে বন্দী। আমরা কি মুক্ত হয়ে আমাদের মাতৃভূমিতে ফেরার সুযোগ পাব বলে তোমার কি মনে হয়?
• তারা মনে করে, কোন মুসাফির যখন অনেক দূরে চলে যায়, তখন তার মাতৃভূমির খুব কম লোকই তার সাথে সাক্ষাত করতে আসে। সে চরম ধ্বংসের সম্মুখীন হয়।
• শত্রুরা যখন আমাদেরকে শাসন করছে তাহলে আমাদের চেয়ে বড় অসহায় মুসাফির কে আছে আর?
• এসো সে বিপণিবিতান ও বাণিজ্যকেন্দ্রে। যেখানে প্রেমাস্পদেরা পরস্পরে সাক্ষাত করবে, মিলিত হবে স্বজনদের সাথে।
• এখান থেকে যা মনে চায় বিনামূল্যে নিয়ে নাও। এখানে কোন ক্রেতা-বিক্রেতা ক্ষতির সম্মুখীন হবে না। সবাই নিরাপদে ফিরবে।
• এসো সেই ইয়াওমুল মাযীদে, যেদিন দর্শন মিলবে উভয় জাহানের মহান প্রভুর। এদিন তো বিশেষ দিন।
• এসো সেই প্রান্তরে, যার থেকে কস্তুরির মৃদুমন্দ বায়ু প্রবাহিত হয়। যার ঘাসের ডগাগুলো কস্তুরির ঢিবি হতেও বড় মনে হবে।
• সেখানে রয়েছে এমন নূরের মিম্বর, যা গঠন করা হচ্ছে নিখাদ রৌপ্য ও নিষ্কলুষ স্বর্ণের সংমিশ্রণে যা কখনো ভেঙ্গে পড়বে না।
• আরো রয়েছে, কস্তুরির ঢিবি যা হবে মিম্বরের অধিকারী জান্নাতীদের হাতে নিম্নস্তরের জান্নাত লাভকারীর আসন।
• তারা যখন এই মনোমুগ্ধকর জীবন, মহা উল্লাস ও অবিচ্ছিন্য ধারায় বহমান রিযকে আকণ্ঠ নিমজ্জিত থাকবে।
• তখন সহসা উপর থেকে জান্নাতের দিগদিগন্ত আলোকিত করে প্রচণ্ড আলোর তীব্র বিচ্ছুরণ তাদের উপর নিপতিত হবে।
• আসমান-যমীনের অধিপতি তাদের সামনে প্রকাশ্যে দৃশ্যমান হবেন। তিনি আরশের উপর থেকে সহাস্য কথপোকথন করবেন।
• সালাম নিবেদন করবেন। প্রত্যেকেই সেই সালাম পেশকালে নিজ কানে সালামের শব্দগুলো সুস্পষ্ট শুনতে পাবে।
• বলবেন, চাও আমার কাছে যা মন চায়, আমার কাছে তোমরা যা-ই চাইবে আমি দয়াপরবশ হয়ে তখনই তা দান করবো।
• তখন প্রত্যেকেই সমস্বরে বলবে, আমরা চাই আপনার সন্তুষ্টি। আপনিই তো সেই সত্তা যার কাছে তাবৎ সৌন্দর্য, দয়া, অনুগ্রহ ও অনুকম্পা।
• আল্লাহ তাদের প্রার্থনা মনযূর করবেন। প্রত্যেকে তা প্রত্যক্ষ করবে। কতই না পবিত্র মহান ও সম্মানিত সেই সত্তা।
• কাজেই নগদ তুচ্ছ ও ক্ষুদ্র মূল্যে এত বিশাল পণ্যের বিক্রয়কারী! তুমি কি এসব বৃত্তান্ত জানো না? জেনে রাখ, অচিরেই তুমি জানবে।
• যদি তুমি না জেনে থাক, তাহলে তা বিপদই বটে। কিন্তু যদি জেনে থাক, তাহলে তা নির্ঘাত বিশাল মুসীবত ও মহা আপদ।
وَصَلَّى الله تعالى عَلى خَيْر خَلْقه محمد وعلى آله وأصحابه وأتباعه إلى يوم الدين .
📄 পাঠকের পাতা
*ভূমিকা:*
আপনি একজন বিশেষজ্ঞ ডেটা এক্সট্র্যাকশন এবং ফরম্যাটিং সিস্টেম। আপনার প্রধান কাজ হলো একটি টেক্সট ডকুমেন্ট ({document}) থেকে নির্দিষ্ট অধ্যায়ের ({chapter_list}) বিষয়বস্তু নিষ্কাশন করা, সেগুলোকে সতর্কতার সাথে পরিষ্কার করা, সংশ্লিষ্ট ফুটনোট সঠিকভাবে যুক্ত করা এবং সবশেষে একটি সুনির্দিষ্ট JSON ফরম্যাটে আউটপুট দেওয়া।
*নির্দেশনাবলী:*
আপনাকে {chapter_list}-এর প্রতিটি আইটেমের জন্য নিচের ধাপগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে:
*ধাপ ১: অধ্যায় চিহ্নিতকরণ ও নিষ্কাশন*
- {chapter_list}-এর প্রতিটি title ব্যবহার করে {document}-এর ভেতর থেকে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়টি খুঁজে বের করুন।
- প্রতিটি অধ্যায়ের শিরোনামের নিচ থেকে শুরু করে পরবর্তী অধ্যায়ের শিরোনামের আগ পর্যন্ত সম্পূর্ণ এবং হুবহু টেক্সট নিষ্কাশন করুন।
*ধাপ ২: পরিষ্করণ এবং বিন্যাস*
- *রেফারেন্স অপসারণ:* টেক্সটের মধ্যে থাকা সকল প্রকার পৃষ্ঠা নম্বর (যেমন: '৩০৩', '৩০৪') এবং ফাইল রেফারেন্স (যেমন: Text from সীরাতুন নবী সঃ ১ম খণ্ড_303.jpg) সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলুন।
- *বানান ও ব্যাকরণ:* নিষ্কাশিত টেক্সটের মধ্যে থাকা বাংলা, আরবি বা ইংরেজি ভাষার সুস্পষ্ট বানান বা ব্যাকরণগত ত্রুটি (typos) থাকলে তা সংশোধন করুন।
- *প্যারাগ্রাফ পুনর্গঠন:* প্যারাগ্রাফের মাঝখানে থাকা অনাকাঙ্ক্ষিত লাইন ব্রেকগুলো একত্রিত করে স্বাভাবিক ও পূর্ণাঙ্গ প্যারাগ্রাফ তৈরি করুন। তবে যেখানে সত্যিকারের প্যারাগ্রাফ শেষ হয়েছে, সেই প্যারাগ্রাফ ব্রেক (\n) অবশ্যই বজায় রাখবেন।
*ধাপ ৩: ফুটনোট/টিকা ব্যবস্থাপনা (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)*
- *শনাক্তকরণ:* ডকুমেন্টের প্রতিটি টেক্সট ব্লকের (যেমন: Text from ..._303.jpg) নিচে থাকা সংখ্যাযুক্ত বা চিহ্নিত টিকা/ফুটনোটগুলো চিহ্নিত করুন।
- *সঠিক সংযুক্তি:* *অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:* একটি ফুটনোট শুধুমাত্র সেই অধ্যায়ের সাথে যুক্ত হবে, যে অধ্যায়ের মূল টেক্সট ঐ একই টেক্সট ব্লক থেকে নিষ্কাশন করা হয়েছে। অন্য কোনো পৃষ্ঠার ফুটনোট ভুল করে অন্য অধ্যায়ে যোগ করবেন না।
- *ফরম্যাটিং:* অধ্যায়ের মূল টেক্সট শেষ হওয়ার পর, একটি নতুন লাইনে **টিকাঃ** শব্দটি লিখে, তার নিচে ঐ অধ্যায়ের সাথে সম্পর্কিত সকল ফুটনোট পর্যায়ক্রমে যুক্ত করুন।
*ধাপ ৪: JSON আউটপুট তৈরি*
- উপরের ধাপগুলো সম্পন্ন করার পর, প্রতিটি অধ্যায়ের জন্য {chapter_list} থেকে প্রাপ্ত node_id এবং title ব্যবহার করে একটি JSON অবজেক্ট তৈরি করুন।
- *চূড়ান্ত নির্দেশ:* আউটপুট হিসেবে শুধুমাত্র এবং শুধুমাত্র একটি পূর্ণাঙ্গ JSON অ্যারে ([]) প্রদান করুন। কোনো প্রকার ভূমিকা, ব্যাখ্যা বা অতিরিক্ত মন্তব্য (যেমন: "এখানে আউটপুট দেওয়া হলো:") যোগ করবেন না।
---
### উদাহরণসহ প্রম্পটের ব্যবহার
*ইনপুট:*
{document}
--- START OF FILE dda.txt ---
Text from সীরাতুন নবী সঃ ১ম খণ্ড_303.jpg
উমর (রা)-এর ইসলাম গ্রহণের কারণ
ইবন ইসহাক বলেন : আমি যতদূর জানতে পেরেছি , উমর ( রা ) -এর ইসলাম গ্রহণের কারণ ছিল নিম্নরূপ :
উমরের বোন ফাতিমা বিনত খাত্তাব ও তাঁর স্বামী সাঈদ ইবন যায়দ... ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। ... খাব্বাব ইব্ন আরাত গোপনে ফাতিমা বিন্ত খাত্তাব ( রা ) -এর কাছে যাতায়াত করতেন এবং তাঁকে তিনি কুরআন পড়াতেন.¹
১. বনূ তামীম বংশোদ্ভূত এ সাহাবী জাহিলী যুগে তরবারি তৈরির পেশায় নিয়োজিত ছিলেন...
--- END OF FILE dda.txt ---
{chapter_list}
json
[
{
"node_id": 2644,
"title": "উমর (রা)-এর ইসলাম গ্রহণের কারণ"
}
]
*এই ইনপুট ব্যবহার করে উপরের উন্নত প্রম্পটটি দিলে যে আউটপুটটি পাওয়া যাবে:*
json
[
{
"node_id": 2644,
"Title": "উমর (রা)-এর ইসলাম গ্রহণের কারণ",
"content": "ইবন ইসহাক বলেন : আমি যতদূর জানতে পেরেছি , উমর ( রা ) -এর ইসলাম গ্রহণের কারণ ছিল নিম্নরূপ :\nউমরের বোন ফাতিমা বিনত খাত্তাব ও তাঁর স্বামী সাঈদ ইবন যায়দ ইবন আমর ইবন নুফায়ল ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন । কিন্তু তাঁরা তাঁদের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারটি উমরের কাছ থেকে গোপন রেখেছিলেন । মক্কার আর এক ব্যক্তি নাঈম ইবন আবদুল্লাহ্ নাহহামও একইভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন । উমরের স্বগোত্রীয় অর্থাৎ বনূ আদী ইবন কা'বের অন্তর্ভুক্ত এ ব্যক্তি নিজ গোত্রের অত্যাচারের ভয়ে নিজের ইসলাম গ্রহণের কথা প্রকাশ করেন নি । খাব্বাব ইব্ন আরাত গোপনে ফাতিমা বিন্ত খাত্তাব ( রা ) -এর কাছে যাতায়াত করতেন এবং তাঁকে তিনি কুরআন পড়াতেন ।
টিকাঃ\n১. বনূ তামীম বংশোদ্ভূত এ সাহাবী জাহিলী যুগে তরবারি তৈরির পেশায় নিয়োজিত ছিলেন..."
}
]
chapter_list
node_id title
2643 উমর (রা)-এর ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে উম্মে বিন্ত আবদুল্লাহ্ আবূ হাসামার বর্ণনা
2644 উমর (রা)-এর ইসলাম গ্রহণের কারণ16590 পূর্ণিমার চাঁদ সদৃশ্যা হাস্যেজ্জ্বল অবয়বে মহান আল্লাহর দর্শন
16591 মহান প্রভুর অভিবাদন ও কথোপকথন
16592 চিরস্থায়ী জান্নাত
16593 সর্বশেষ যে ব্যক্তি জান্নাতে যাবে