📄 কেমন হবে প্রিয় প্রভুর দর্শন?
ইমাম শাফেঈ রহ. স্বীয় মুসনাদে স্ব-সনদে হযরত আনাস রা. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, হযরত জিবরীল আ. নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট রেখা টানা এক শুভ্র সীসা নিয়ে এলেন। قال النبي صلى الله عليه وسلم ما هذه قال الجمعة فضلت بها انت وأمتك؟ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, এটি কী? উত্তরে জিবারীল আ. বললেন, এ হল জুমার দিন। এর মাধ্যমে আপনাকে ও আপনার উম্মতকে অন্যদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করা হয়েছে। فالناس لكم فيها تبع اليهود والنصارى ইয়াহুদী ও খৃস্টানরা এতে তোমাদের অনুগামী। ولكم فيها خير এতে তোমাদের জন্য কল্যাণ ও মঙ্গল নিহিত রয়েছে। وهوفيها ساعة لا يوافقها مؤمن يدع الله بخير الا استجيب له সে দিনে এমন একটি বরকতময় ক্ষণ রয়েছে, সে মুহুর্তে কোন মু'মিন কোন দু'আ করলে আল্লাহ তা'আলা তা কবুল করে নেন।
ফিরিশতাদের কাছে এদিন হল ইয়াওমুল মাযীদ (অতিরিক্ত নিআমত লাভের দিবস)। قال النبي صلى الله عليه وسلم يا جبريل وما يوم المزيد রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে জিবরীল! ইয়াওমুল মাযীদ আবার কি? তিনি বললেন, আপনার প্রভু জান্নাতুল ফিরদাউসে একটি উপত্যকা তৈরী করেছেন, যেখানে মিশকের টিলা হতে মিশকের বাতাস প্রবাহিত করা হয় فاذا كان يوم الجمعة أنزل الله تبارك وتعالى ماشاء من الملائكة যখন জুম'আর দিন আসবে, তখন আল্লাহ তা'আলা যে পরিমাণ ইচ্ছা সে পরিমাণ ফিরিশতা প্রেরণ করবেন।
وحولها منابر من نور عليها مقاعد النبيين তাঁর পার্শ্বে নূরের মিম্বর থাকবে, যার উপর নবীগণ উপবিষ্ট থাকবেন। وحف تلك المنابر بمنابر من ذهب مكللة بالياقوت والزبرجد সে মিম্বরগুলো পোখরাজ ও পদ্মরাগ মণির প্রলেপ বিশিষ্ট স্বর্ণের عليها الشهداء والصديقون মিম্বর দ্বারা বেষ্টিত থাকবে তার উপর শহীদগণ ও সত্যবাদীগণ থাকবেন। فجلسوا من ورائهم على تلك الكتب তাঁরা নবীগণের পেছনে টিলার উপরে বসবেন। فيقول الله تبارك وتعالى: أنا ربكم قد صدقتكم وعدي فسلوني أعطكم তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আমি তোমাদের প্রভু। তোমরা আমার সাথে কৃত ওয়াদা বাস্তবায়ন করেছ। সুতরাং তোমরা আমার নিকট প্রার্থনা কর, আমি তোমাদের দান করব। فيقولون ربنا نسئلك رضوانك তারা বলবে, হে প্রভু! আমরা আপনার সন্তুষ্টি প্রার্থনা করি। فيقول: قدرضيت عنكم ولكم على ما تمنيتم আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আমি তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট। অতিরিক্ত হিসাবে তোমরা যা চাবে তাই পাবে ولدي مزيد এবং আমার নিকট অতিরিক্ত আরো পাওয়া রয়েছে।। فهم يحبرون يوم الجمعة لما يعطيهم فيه ربهم من الخير একারণে তারা জুমআর দিনকে পছন্দ করবে। কেননা, সে দিনই আল্লাহ তা'আলা কল্যাণ প্রদান করেন। وهو اليوم الذي استوى فيه ربكم على العرش এই দিনই আল্লাহ তা'আলা আরশে উপবেশন করেছেন (তাঁর শান মোতাবেক)। وفيه خلق آدم علیه السلام এই দিনই হযরত আদম আ. কে সৃষ্টি করেছেন। وفيه تقوم الساعة এই দিনেই কিয়ামত তথা মহাপ্রলয় সংঘটিত হবে।
আবূ নাঈম স্ব-সনদে হযরত আবূ বারযাহ আসলামী রা. হতে বর্ণনা করেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ان أهل الجنة ليغدون في حلة ويروحون في الأخرى জান্নাতীরা সকালে এক জোড়া কাপড় পরিধান করবে আর সন্ধ্যায় এক জোড়া কাপড় পরিধান করবে। كغدو أحدكم ورواحه إلى ملوك من ملكوك الدنيا যেমনিভাবে তোমরা সকাল-সন্ধ্যায় দুনিয়ার বাদশাহদের নিকট গিয়ে থাক। كذالك يغدون ويروحون الى زيارة ربهم عز وجل তেমনিভাবে ফিরিশতারা সকাল-সন্ধ্যা তোমাদের প্রভুর দর্শনে যাবে। وذالك لهم بمقادير ومعالم يعلمون تلك الساعة التي يأتون فيها ربهم عز وجل وذلك لهم بمقادير ومعالم يعلمون تلك الساعة التي يأتون فيها ربهم عز وجল তারা নির্দিষ্ট সময়ের ভেতর বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্বীয় প্রভুর নিকট উপস্থিত হবে।
আবূ নাঈম স্ব-সনদে হযরত আলী রা. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, যখন জান্নাতীরা জান্নাতে বসবাস করবে তখন একজন ফিরিশতা এসে বলবে, আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তখন তারা একত্রিত হলে আল্লাহ তা'আলা হযরত দাউদ আ. কে সুউচ্চ কণ্ঠে তাসবীহ এবং তাহলীল পড়ার নির্দেশ দিবেন। অতঃপর মায়েদাতুল খুলদ বিছানো হবে। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মায়েদাতুল খুলদ কি? নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা হল জান্নাতের একটি প্রশস্ত আঙ্গিনা, যা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যবর্তী দূরত্ব পরিমাণ প্রশস্ত। সেখানে তারা পানাহার করবে ও পোশাক পরিধান করবে। তখন তারা বলবে, আল্লাহ তা'আলার দীদার ব্যতীত সকল নিআমতই অর্জিত হল। তখন আল্লাহ তা'আলা তাঁর বড়ত্বের পর্দা উঠিয়ে জান্নাতীদের সামনে আবির্ভূত হলে তারা সিজদায় লুটে পড়বে। তখন তাদেরকে বলা হবে, তোমরা ইবাদতের জগতে নও, পুরস্কারপ্রাপ্তির জগতে চলে এসেছ।
আবূ নাঈম স্ব-সনদে ইদরীস হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে ফাতিমা রা.-এর সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি আমাকে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতে তৃবা নামক একটি গাছ থাকবে। কোন উন্নত জাতের ঘোড়া একশত বছর তার ছায়ায় ভ্রমণ করলেও তার পরিধি অতিক্রম করতে সক্ষম হবে না। তার পাতা সবুজ কাপড়ের ন্যায় হবে। তার ফুল হবে হলুদ রং-এর সুষমাময় হবে। তার ফুলের আবরণ হবে সূক্ষ্ম ও পুরু রেশমের। তার ফল হবে কাপড়ের জোড়া। তা থেকে নির্গত আঠা হবে আদা ও মধু। তার পাথর কণা হবে লাল পদ্মরাগ মণি ও সবুজ পাথর। তার মাটি হবে কস্তুরির। আর ঘাস হবে যাফরানের। তার শিকড় হতে সালসাবীল ঝর্ণা ও খাঁটি শরাবের নহর প্রবাহিত হবে। তার ছায়া জান্নাতীদের মজলিসকে পূর্ণ বেষ্টন করে রাখবে। সেখানে তারা মিলে মিশে বসবে। সে অবস্থায়ই তারা একদিন গল্প করতে থাকবে তখন তাদের নিকট একজন ফিরিশতা আসবেন। তিনি ইয়াকৃত দ্বারা সৃষ্ট একটি অশ্ব নিয়ে আসবেন। তাতে তখন রূহ দেওয়া হবে। স্বর্ণের শিকলের লাগাম পরানো হবে। তার মুখমণ্ডল হবে প্রদীপসম উজ্জ্বল ও সুদর্শন। তার কেশ হবে লাল রেশমের। পশম হবে শুভ্র রেশমের। তা উভয় রং মিশ্রিত হবে, দর্শকরা তেমন আর দেখেনি। তার উপর হাওদা থাকবে। যার কাঠ হবে মুক্তা ও পদ্মরাগ মনির, যাতে মনি মুক্তা বসানো থাকবে এবং প্রবাল থাকবে। তার গদি হবে লাল স্বর্ণের ও উন্নত লাল কাপড়ের গদি থাকবে।
তখন সে ফিরিশতা সে উন্নত ঘোড়া জান্নাতীদের নিকট নিয়ে বসাবে এবং তাদেরকে বলবে, তোমাদের প্রভু সালাম দিচ্ছেন। অচিরেই তোমরা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে এবং তাঁর দর্শন লাভ করবে। তিনি তোমাদেরকে সালাম করবেন ও তোমরা তাঁর জবাব দিবে আর তাঁর সাথে কথা বলবে, তিনিও তোমাদের সাথে কথা বলবেন। তোমাদেরকে তাঁর উদারতা ও দয়াগুণে অতিরিক্ত প্রদান করবেন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত দয়ালু এবং অতি কৃপাময়।
অতঃপর তারা আরোহীতে আরোহণ করবে এবং সারিবদ্ধভাবে চলতে থাকবে। তাদের সব কিছুই সমান থাকবে। কোন কিছু উঁচু-নিচু হবে না। কোন উষ্ট্রীর কান অপর উষ্ট্রীর নিকটবর্তী হবে না। কোন উষ্ট্রী অপর উষ্ট্রীর নিকটে নিকটে চলবে না। তারা জান্নাতে যে কোন গাছের নিকট দিয়েই অতিক্রম করবে সে গাছ তাদেরকে তার ফল উপহার দিবে এবং তাদের পথ মুক্ত করে দিবে। যেন তাদের সারি ভঙ্গ না হয় বা কেউ তার সাথী হতে বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে। যখন তারা আল্লাহ তা'আলার সামনে উপস্থিত হবে, তখন তিনি স্বীয় পবিত্র সত্তার আত্ম প্রকাশ করবেন। তখন তারা বলবে, হে আমাদের প্রভু! আপনি শান্তির আধার। শান্তি আপনার পক্ষ হতেই অবতারিত হয়। বড়ত্ব ও মহত্ত্ব একমাত্র আপনারই জন্য। তখন আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে বলবেন, অবশ্যই আমি শান্তির আধার, শান্তি আমার পক্ষ হতেই অবতারিত হয়। বড়ত্ব ও মহত্বের অধিকারী একমাত্র আমিই। আমি আমার সে বান্দাদের স্বাগতম জানাচ্ছি, যারা আমার আদেশ যথাযথ মান্য করেছে এবং আমার সাথে কৃত অঙ্গীকার রক্ষণাবেক্ষণ করেছে ও না দেখেই আমাকে ভয় করেছে। আর সর্বাবস্থায়ই আমাকে ভয় করেছে। তখন তারা বলবে। আপনার ইযযত বুযুর্গী ও বড়ত্ব-মহত্ত্বের কসম, আমরা আপনার যথাযোগ্য মর্যাদা ও মূল্যায়ন করতে পারিনি। আপনার পূর্ণ হক আদায় করতে পারিনি। সুতরাং আপনি আমাদেরকে আপনার সামনে সিজদা করার অনুমতি দিন।
আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে বলবেন, আমি তোমাদের থেকে ইবাদতের কষ্ট লাঘব করে দিয়েছি। তোমাদের শরীরকে বিশ্রাম ও শান্তি দিয়েছি। দীর্ঘকাল তোমরা আমার সন্তুষ্টির নিমিত্তে তোমাদের শরীরকে ক্লান্ত-শ্রান্ত করেছ ও আমার সামনে মাথা অবনত করেছ। এখন তোমরা আমার সন্তুষ্টি, দয়া ও মহত্ত্বের স্থলে আছে। সুতরাং তোমরা আমার নিকট যা প্রার্থনা করার কর। যা আকংখা করার আকাংখা কর। তোমাদেরকে তোমাদের প্রত্যাশা ও আকাংখা অপেক্ষা অধিক দান করব।
আমি তোমাদেরকে তোমাদের আমল অনুযায়ী প্রতিদান প্রদান করব না; বরং আমার বড়ত্ব-মহত্ত্ব, ক্ষমতা-কুদরত ও মহান শান মোতাবেক প্রতিদান প্রদান করব।
তখন জান্নাতীরা ধারাবাহিকভাবে আশা আকাংখা ব্যক্ত করতে থাকবে। এমনকি সর্বাপেক্ষা কম আশা-আকাংখা ব্যক্তকারী এ জগৎ সৃষ্টির সূচনা লগ্ন হতে কিয়ামত পর্যন্ত সৃষ্ট সকল বস্তুর প্রত্যাশা করবে। আল্লাহ তা'আলা তাকে বলবেন, তুমিতো অত্যন্ত নগণ্য আকাংখা ব্যক্ত করলে, তুমি তোমার হক হতে স্বল্প পরিমাণেই সন্তুষ্ট হয়ে গেলে? সুতরাং তুমি যা প্রার্থনা করলে এবং যা প্রত্যাশা করেছ, তা আমি তোমাকে দান করলাম এবং তোমার সন্তানদের তোমার সাথে মিলন ঘটিয়ে দিলাম। আর তোমাদের আকাংখার স্বল্পতা দূর করে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলাম।
যাহহাক রহ. আল্লাহ তা'আলার বাণী, يَوْمَ نَحْشُرُ الْمُتَّقِينَ إِلَى الرَّحْمَنِ وَفْدًا (যেদিন দয়াময়ের নিকট সম্মানিত মুত্তাকীদের মেহমানরূপে সমবেত করব) এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন, তাদের হাওদা বিশিষ্ট উন্নত অশ্বের উপর আরোহণ করিয়ে সমবেত করা হবে।
📄 জান্নাতে বৃষ্টিপাত
জান্নাতে অবস্থিত বিপনিবিতান সংক্রান্ত হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে, আল্লাহ তা'আলার দীদারের দিন জান্নাতীদেরকে এক খণ্ড মেঘমালা বেষ্টন করে নিবে এবং তাদের উপর এমন সুগন্ধিময় বৃষ্টি বর্ষিত হবে, যে সুগন্ধি ইতোপূর্বে তারা লাভ করেনি।
বাকিয়াহ ইবনে ওয়ালীদ রহ. স্ব-সনদে কাসীর ইবনে মুররাহ রহ. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, জান্নাতীদের অতিরিক্ত প্রাপ্তিতে এও রয়েছে, জান্নাতীদের নিকট একটি মেঘ অতিক্রম কালে তাদেরকে বলবে, তোমরা আমার নিকট যে বস্তুর বর্ষণ কামনা করবে, আমি সে বস্তুই বর্ষণ করব। তখন তারা যে বস্তুর বর্ষণ কামনা করবে, সে বস্তুই তাদের উপর বর্ষিত হবে।
ইবনে আবিদ দুনিয়া স্ব-সনদে সফী আল ইয়ামেনি রহ. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, আবদুল আযীয ইবনে মারওয়ান হতে জান্নাতীদের প্রতিনিধি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, জান্নাতীরা প্রতি বৃহস্পতিবার আল্লাহ তা'আলার মেহমান হয়ে যাবে। তখন তাদের জন্য বিছানা বিছানো হবে। তারা প্রত্যেকে সে আসনকে স্বীয় আসন অপেক্ষা বেশি চিনবে। সকলে স্ব স্ব আসনে বসলে আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আপ্যায়ন করাও আমার বান্দাদেরকে, আমার আদরের সৃষ্টিকে, আমার প্রতিবেশীদেরকে, আমার কাছে আগত প্রতিনিধিদেরকে। তখন তারা আপ্যায়িত হবেন। আল্লাহ বলবেন, তাদেরকে পান করাও। তখন বিভিন্ন প্রকার মোহর আঁটা পাত্রে তাদের জন্য পানীয় আনা হবে। তারা তা হতে পান করবে। তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, হে আমার বান্দা! হে আমার মাখলুক, আমার প্রতিবেশী, আমার অতিথি, তোমরা পানাহার তো করলে এখন ফল খেয়ে নাও। তখন অবনত ফলবান বৃক্ষ তাদের নিকট এসে উপস্থিত হবে। তারা তা থেকে ইচ্ছানুযায়ী খাবে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে লক্ষ্য করে বলবেন, হে আমার মেহমান! তোমরা পানাহার করলে এবং ফল খেলে, এবার পোশাক পরে নাও। তখন তাদের সামনে লাল, সবুজ, হলুদ, বিভিন্ন রংয়ের ফল উপস্থিত হবে। সেগুলো হতে শুধু মাত্র জোড়া জোড়া কাপড় উৎপন্ন হবে, সেগুলো তাদের সামনে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
আল্লাহ তা'আলা তখন তাদেরকে বলবেন, হে আমার বান্দা, হে আমার খাস মাখলুক, আমার প্রতিবেশী, আমার মেহমান, তোমরা পানাহার করলে, ফল খেলে এবং পোশাকও পরিধান করলে, এখন সুগন্ধি নাও। তখন তাদের উপর বারিরাশির ন্যায় সুগন্ধি ছড়ানো হবে।
আল্লাহ তা'আলা তখন তাদেরকে লক্ষ্য করে বলবেন, হে আমার বান্দা, হে আমার খাস মাখলুক, হে আমার প্রতিবেশী, আমার মেহমান, তোমরা পানাহার করলে, ফল খেলে এবং সুগন্ধিও নিলে, এখন আমি আমার বড়ত্বের পর্দা দূর করে তোমাদের সামনে দৃশ্যমান হব। তোমরা আমার দর্শন লাভ করবে।
আল্লাহ তা'আলা দৃশ্যমান হলে তারা আল্লাহ তা'আলার প্রতি দৃষ্টিপাত করলে তাদের মুখমণ্ডল সজীব হয়ে উঠবে। তখন তাদেরকে বলা হবে, তোমরা সকলে স্বীয় গন্তব্যে ফিরে যাও। তারা সেখান থেকে ফিরে গেলে তাদের স্ত্রীরা তাদেরকে বলবে, আমাদের নিকট হতে প্রস্থানের কালে তোমাদের চেহারা এক প্রকৃতির ছিল; কিন্তু প্রত্যাবর্তনের পর অন্য প্রকৃতির মনে হচ্ছে। তখন তারা বলবে, আল্লাহ তা'আলা আমাদের সামনে দৃশ্যমান হওয়ায় আমরা তাঁর দর্শন লাভ করার ফলে আমাদের চেহারা সজীব হয়ে উঠেছে।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. স্ব-সনদে শুফাই ইবনে মাতি'আসহাবী রা. হতে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
ان من نعيم أهل الجنة انهم يتزاوَرُون على المطايا والنجب জান্নাতীদের লাভকৃত নিআমতসমূহে এও রয়েছে, তারা উন্নত জাতের ঘোড়া ও সাওয়ারীর উপর আরোহণ করে পরস্পর সাক্ষাৎ করবে। واهم يؤتون في الجنة بخيل مسرجة ملجمة لا تروث ولا تبول তাদেরকে জান্নাতে হাওদা ও লাগাম বিশিষ্ট এমন ঘোড়া প্রদান করা হবে, যা মলমূত্র ত্যাগ করবে না। يركبونها حتى ينتهوا حيث شاء الله তারা তাতে আরোহণ করে আল্লাহ তা'আলা যেখানে ইচ্ছা করেন, সেখানে যাবে। : فيأتيهم مثل السحابة فيها ما لا عين رأت ولا أذن سمعت তখন তাদের নিকট এমন এক মেঘখণ্ড আসবে, যাতে এমন বস্তু রয়েছে, যা কোন চোখ দেখেনি, কোনো কান কখনো শুনেনি। তারা সে মেঘমালাকে বৃষ্টি বর্ষণ করতে বলবে, তখন সে মেঘমালা হতে মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষিত হবে। যা প্রত্যাশা অপেক্ষা অধিক হবে।
অতঃপর আল্লাহ তা'আলা এমন এক বায়ু প্রবাহিত করবেন, যাতে কোন প্রকার কষ্টদায়ক বস্তু থাকবে না। সে বায়ু কস্তুরির টিলা হতে কস্তুরি কণা উড়িয়ে এনে তাদের ডানে-বামে ছড়িয়ে দিবে। তারা সে কস্তুরি কণা তাদের ঘোড়ার কপালে সিথিতে ও তাদের মাথায় মেখে নিবে। তাদের প্রত্যেকের মাথায়, কাঁধে ঢেউ তোলা অনিন্দ্য সুন্দর বাবরী চুল শোভা পাবে। সে কস্তুরি তাদের চুলগুলো ঘোড়ার সর্বাঙ্গে ও তাদের দেহের বিভিন্ন অঙ্গের উপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সুগন্ধি বিলাবে। অতঃপর তারা সম্মুখে অগ্রসর হবে এবং আল্লাহ তা'আলা যেখানে ইচ্ছা সে পর্যন্ত যাবে। তখন তাদের মধ্য হতে প্রত্যেককে একেকজন রমণী এসে ডেকে বলবে, হে আল্লাহর বান্দা! আমাদের প্রতি তোমার কি কোন আগ্রহ নেই? সে ব্যক্তি বলবে, কে তুমি? কে তুমি? উত্তরে সে বলবে, আমি তোমার স্ত্রী, তোমার প্রেয়সী। সে ব্যক্তি বলবে, আমারতো তোমার ঠিকানা জানাই ছিল না। সে মহিলা তখন বলবে, কেন? তোমার কি জানা নেই, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أعين جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ কোনো ব্যক্তি জানে না, তাদের নয়ন প্রীতিকর কী লুকায়িত রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ৩৯১।
জান্নাতীদের উপর সুগন্ধ বৃষ্টি
আল্লাহ তা'আলা মেঘমালা ও বৃষ্টিকে এই পৃথিবীতে তাঁর রহমতের মাধ্যম ও জীবন ধারণের উপকরণ হিসাবে নির্ধারিত করেছেন। সেই বৃষ্টিকে पुनरुत्थানের পর মানব জাতির পুন:জীবনের মাধ্যম নির্ধারণ করেছেন। আরশের তলদেশ হতে চল্লিশ দিন যাবৎ মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ার পর মানুষ কবরদেশ থেকে তেমনিভাবে উঠতে থাকবে, যেমনিভাবে উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়। কিয়ামত দিবসে তারা উঠতে থাকবে, এমতাবস্থায় তাদের উপর হালকা বৃষ্টি বর্ষিত হতে থাকবে, তা যেন মুষলধারে বৃষ্টির শেষাংশ।
জান্নাতে তাদের জন্য একখণ্ড মেঘ থাকবে, যা তাদের আকাংখা মোতাবেক সুগন্ধি ও অন্যান্য বস্তুর বারি বর্ষণ করবে। এমনিভাবে জাহান্নামীদের উপর আযাবের বারিবর্ষণের জন্য একখণ্ড মেঘ থাকবে। যেমনিভাবে আ'দ জাতি এবং শুআয়ব আ.-এর কওমের উপর বর্ষণ করেছিলেন। যা তাদেরকে ধ্বংস করে ফেলেছে। সুতরাং রহমত এবং আযাব উভয় ক্ষেত্রেই এই মেঘমালার অবদান সে সত্তার বরকতময় সৃষ্টি।
টিকাঃ
৩৯১. সূরা সাজদা, আয়াত: ১৭
📄 প্রত্যেক জান্নাতীই হবে বাদশাহ
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, وَإِذَا رَأَيْتَ ثُمَّ رَأَيْتَ نَعِيمًا وَمُلْكًا كَبِيرًا তুমি যখন সেখানে তাকাবে দেখতে পাবে ভোগ বিলাসের উপকরণ এবং বিশাল রাজ্য।
ইবনে আবী নুজায়হ রহ. মুজাহিদ রহ. হতে وَمُلْكًا كَبِيرًا এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন وَمُلْكًا كَبِيرًا اى ملكا عظيما (অর্থাৎ মহান রাজত্ব) এবং তিনি উল্লেখ করেন, ফিরিশতারা যখনই তাদের নিকট আসবে তখনই অনুমতি নিয়ে আসবে।
হযরত কা'ব রহ. এ আয়াতের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন, আল্লাহ তা'আলা ফিরিশতাদেরকে জান্নাতবাসীদের নিকট প্রেরণ করলে তারা তাদের অনুমতিক্রমে তাদের নিকট যাবে।
কোন কোন মুফাস্সির বলেন, কোন ফিরিশতা বা কোন পরিচায়কই অনুমতি ব্যতীত তাদের নিকট আসবে না।
হাকাম ইবনে আবান রহ. ইকরিমা রা. সূত্রে হযরত ইবনে আব্বাস রা. হতে وَإِذَا رَأَيْتَ ثُمَّ رَأَيْتَ نَعِيمًا وَمُلْكًا كَبِيرًا আয়াতের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন, তিনি জান্নাতবাসীদের স্তর বিন্যাসের পর উক্ত আয়াত তিলাওয়াত করেন।
ইবনে আবিল হাওয়ারী রহ. বলেন, আমি আবূ সুলায়মান রহ. কে উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, তাদের বিশাল রাজত্ব থাকবে। আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে কোন দূত তাদের নিকট উপহার নিয়ে এলে তাদের অনুমতি ব্যতীত তাদের নিকট আসবে না। দূত এসে প্রহরীকে বলবে, আল্লাহ তা'আলার বন্ধুর নিকট অনুমতি নাও, আমি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করব। অন্যথায় আমি তার নিকট যেতে সক্ষম হব না। তখন সে প্রহরী অন্য প্রহরীকে জানাবে। তার বাসভবন থেকে দারুস সালামের দিকে একটি ফটক রয়েছে। যা দ্বারা সে যখন ইচ্ছা তখনি কোন অনুমতি ব্যতীত আল্লাহর নিকট যেতে পারবে। সুতরাং বিশাল রাজত্বের কারণেই ফিরিশতারা অনুমতি ব্যতীত তার নিকট যেতে পারবে না।
ইবনে আবিদ দুনিয়া রহ.স্ব-সনদে হযরত আনাস রা. হতে মারফু হাদীস বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إن أسفل أهل الجنة اجمعين درجة من يقوم على رأسه عشرة آلاف خادم সর্বনিম্ন স্তরের জান্নাতীর জন্য কমপক্ষে দশজন সেবক সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।
মুহাম্মদ ইবনে ইবাদ ইবনে মূসা রহ. স্ব-সনদে হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, জান্নাতীদের মধ্যে কেউ দুরবস্থায় থাকবে না, বরং সর্বনিম্ন স্তরের জান্নাতী ব্যক্তির সেবার জন্য প্রত্যহ সকাল-সন্ধ্যায় সহস্র খাদেম সর্বাবস্থায় প্রস্তুত থাকবে। তাদের প্রত্যেকের নিকট এমন বিরল বস্তু থাকবে, যা অন্যদের নিকট থাকবে না।
মুহাম্মদ ইবনে ইবাদ রহ. স্ব-সনদে হুমাইদ ইবনে হিলাল রহ. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, প্রত্যেক জান্নাতী ব্যক্তির সেবায় সহস্র সেবক নিয়োজিত থাকবে। প্রত্যেক সেবকের ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্ব থাকবে।
হারুন ইবনে সুফিয়ান রহ. স্ব-সনদে হযরত আবু আব্দুর রহমান আল হাবালী রহ. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, জান্নাতে সর্বাগ্রে প্রবেশকারীকে মুক্তা সদৃশ সত্তর হাজার সেবক অভ্যর্থনা জানাবে।
হারুন ইবনে সুফিয়ান রহ. স্ব-সনদে হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণনা করেন। জান্নাতে কেউ দুরবস্থায় থাকবে না। (অর্থাৎ এমন হবে না যে, কেউ এমন দৈন্য দশায় থাকবে যাকে অন্যরা তুচ্ছ জ্ঞান করবে বা যে নিজেকে অন্যদের তুলনায় অধ: অবস্থায় দেখবে।) বরং সর্বনিম্ন স্তরের হবে ঐ ব্যক্তি, যার সেবার জন্য সকাল-সন্ধ্যায় দশ হাজার সেবক উপস্থিত থাকবে, যা অন্য জনের নিকট থাকবে না।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. স্ব-সনদে হযরত আবূ আব্দুর রহমান আল মুআফিরী রহ. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, প্রত্যেক জান্নাতবাসীর সেবায় দু'সারি কিশোর থাকবে। যাদের সারির শেষ প্রান্ত তার দৃষ্টিসীমা বহির্ভূত হবে। সে যখন হাটবে, সকলেই তার পিছু পিছু হাটবে।
আবূ খায়ছামা রহ. স্ব-সনদে আবূ সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণনা করেন। ان أدنى أهل الجنة منزلة لمن أذن مؤذنا فاذن له যিনি সর্বনিম্ন স্তরের জান্নাতী ব্যক্তি তার জন্য আশি হাজার খাদেম সেবক থাকবে। وتنصب واثنتان وسبعون زوجة এবং বাহাত্তর জন স্ত্রী থাকবে। له قبة من لؤلؤ وياقوت وزبرجد كما بين الجابية وصنعاء তার জন্য জাবিয়াহ ও সানআর (দু'টি স্থান) মধ্যবর্তী দূরত্বসম মুক্তা, পদ্মরাগমণি ও পোখরাজ দ্বারা নির্মিত গম্বুজ থাকবে।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. স্ব-সনদে হযরত আবূ উমামা রা. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, মু'মিন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশের পর আসনে হেলান দিয়ে থাকবে। তার নিকট দু'সারি সেবক থাকবে। দু'সারির দু'পার্শ্বে দু'দরযা থাকবে। তখন আল্লাহ তা'আলার নিকট হতে আগত ফিরিশতা অনুমতি প্রার্থনা করবে। দরযার নিকটবর্তী সেবক তখন উঠে দেখবে, ফিরিশতা অনুমতি প্রার্থনা করছে। ঐ সেবক তখন তার সামনের সেবককে তা জানাবে। এভাবে ধারাক্রমে মু'মিন ব্যক্তি পর্যন্ত এ সংবাদ পৌঁছলে সে তার নিকটবর্তী সেবককে বলবে, তাকে অনুমতি দাও। এরপর ঐ সেবক তার নিকটবর্তী জনকে বলবে, এভাবে ধারাক্রমে দরযায় নিকটবর্তী সেবকের নিকট এ সংবাদ পৌঁছলে সে ফিরিশতার জন্য দ্বার উন্মুক্ত করে দবে। তখন ফিরিশতা ভিতরে প্রবেশ করে সালাম দিবে এবং পুনরায় ফিরে যাবে।
ইবনে আবিদ দুনিয়া রহ. স্ব-সনদে যাহহাক ইবনে মুযাহিম রহ. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, আল্লাহর বন্ধু মু'মিন ব্যক্তি স্বীয় বাসস্থানে অবস্থান কালে আল্লাহর নিকট হতে ফিরিশতা এসে প্রহরীকে বলবে, আল্লাহর বন্ধুর নিকট আল্লাহর দূতের জন্য অনুমতি প্রার্থনা কর। প্রহরী তার নিকট এসে বলবে, হে আল্লাহর বন্ধু! আল্লাহর দূত আপনার সাক্ষাতের অনুমতি প্রার্থনা করছে, তাকে অনুমতি প্রদান করুন। ফিরিশতা তার নিকট প্রবেশ করে তাকে উপঢৌকন দিয়ে বলবে, হে আল্লাহর বন্ধু! তোমার প্রভু তোমার প্রতি সালাম পাঠিয়েছেন এবং এ উপঢৌকন হতে খাওয়ার জন্য বলেছেন। তখন সে তা থেকে খাবে, এই এক খাবারের ভেতর সে জান্নাতের হরেক রকম ফলের স্বাদ অনুভব করবে।
যাহ্হাক রহ. বলেন, আল্লাহ তা'আলার বাণী وَأُتُوا به مُتَشَابِهًا এর মাঝে সেই ঘটনারই দৃশ্যায়ন করে।
সহীহ মুসলিমে হযরত মুগীরা ইবনে শু'বা রা. হতে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, سأل موسى ربه : ما أدنى أهل الجنة منزلة মূসা আ. আল্লাহ তা'আলার নিকট সর্বনিম্ন স্তরের জান্নাতী সম্পর্কে जिज्ञासा করলেন।
فيقال له قال هو رجل يجيئ بعد ما ادخل أهل الجنة الجنة আল্লাহ তা'আলা বলেন, জান্নাতীদের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের হল ঐ ব্যক্তি, যে সকল জান্নাতী জান্নাতে প্রবেশের পর জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাকে বলা হবে, জান্নাতে প্রবেশ কর। فيقول اي رب كيف وقد نزل الناس منازلهم واخذوا أخذاتهم সে ব্যক্তি বলবে, হে প্রভু! আমি কিভাবে প্রবেশ করব, সকলে তো স্ব স্ব অবস্থান নিয়ে নিয়েছে। যা নেওয়ার তা নিয়ে নিয়েছে।
فيقال له : اترضى ان يكون لك مثل ملك من ملوك الدنيا তখন তাকে বলা হবে, তুমি কি চাও? তোমাকে সমগ্র পৃথিবী পরিমাণ রাজত্ব দান করা হোক? فيقول : رضيت ربي সে বলবে, আমি এতে সন্তুষ্ট হে প্রভু! : فيقول له لك ذلك ومثله ومثله ومثله ومثله আল্লাহ তা'আলা তাকে বলবেন, তোমার জন্য অনুরূপসহ আরো চারগুণ রয়েছে। فيقول الخامس : رضيت ربي পঞ্চমবার বলবে, আমি এতে সন্তুষ্ট হে প্রভু!
فيقول : هذا لك وعشرة أمثاله ولك ما اشتهت نفسك ولذت عينيك আল্লাহ তা'আলা তখন তাকে বলবেন, তোমার জন্য তাই থাকল। সাথে অতিরিক্ত হিসাবে এর দশগুণ এবং তোমার মন যা চায় ও তোমার আঁখিদ্বয়ের যা শোভা তাই তুমি পাবে। فيقول : رضيت ربي সে তখন বলবে, আমি সন্তুষ্ট হে প্রভু!
ইমাম বাযযার রহ. স্ব-সনদে স্বীয় মুসনাদে হযরত আবূ সাঈদ রা. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, আল্লাহ তাআলা জান্নাত এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন, একটি ইট স্বর্ণের আরেকটি রৌপ্যের। এভাবে আল্লাহ তা'আলা জান্নাত সৃষ্টি করেছেন। তাতে স্বীয় হাত মোবারক দিয়ে গাছ লাগিয়েছেন (তাঁর শান মোতাবেক) এবং জান্নাতকে বললেন, আমার সাথে কথা বল। তখন জান্নাত বলে উঠল قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ নিশ্চয়ই ঈমানদারগণ সফলকাম।
অতঃপর ফিরিশতা তাতে প্রবেশ করে বলল, তোমার সৌভাগ্য, তুমি বাদশাহদের গন্তব্য স্থল। (পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে, প্রত্যেক জান্নাতীই বাদশাহ হবে।) জান্নাতীদের শিরে মুকুট পরানো হবে। যেরূপ মুকুট বাদশাহরা মাথায় পরিধান করে থাকে।
টিকাঃ
৩৯২. সূরা দাহর, আয়াত: ২০
📄 জান্নাত কল্পনার চেয়েও অনিন্দ্য সুন্দর
জান্নাত অবশ্যই মানব কল্পনার ঊর্ধ্বে। তার সৌন্দর্য বর্ণনাতীত। সেই সৌন্দর্যের কল্পনা মানব চিন্তাশক্তির বহু উপরে। জান্নাতের একটি খড়কুটা রাখার পরিমাণ স্থান লাভ করাও দুনিয়া ও তন্মধ্যকার সকল বস্তু অপেক্ষা উত্তম।
تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা হতে দূরে থাকে, তারা তাদের প্রতিপালককে ডাকে আশায় ও আশংকা। আর আমি তাদেরকে যে রিযক দান করেছি তা হতে তারা ব্যয় করে।
فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ কেউই জানে না তাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর কী লুকায়িত রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ৩৯৪।
এবার চিন্তা করে দেখুন, গভীর রাতে চুপে চুপে নামায পড়ার বিনিময়ে আল্লাহ তা'আলা এমন বস্তু লুক্কায়িত রেখেছেন, যা কেউ জানে না। রাতের বেলা যে কষ্ট-ক্লেশ ও ভয়কে ডিঙ্গিয়ে সে শয্যা ত্যাগ করেছে, তার প্রতিদান প্রদান করা হবে এমন বস্তু দ্বারা যা তার চক্ষুর জন্য শীতলদায়ক হবে।
সহীহায়নে৩৯৫ বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, اعدت لعبادي الصالحين ما لاعين رأت ولا أذن سمعت ولا خطر على قلب بشر আমি আমার সৎকর্মশীল বান্দাদের জন্য এমন বস্তু তৈরী করে রেখেছি, যা কোন চক্ষু অবলোকন করেনি, কোন কর্ণ শ্রবণ করেনি, এমনকি কোন মানব হৃদয়ে তার কোন চিন্তাও উদিত হয়নি। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম فَلاَ تَعْلَمُ نَفْسٌ আয়াতটি পাঠ করেন।
বুখারীর একটি সনদে আছে, হযরত আবূ হুরায়রা রা. বলেছেন, যদি তোমরা দলীল চাও, তবে فَلاَ تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنْ আয়াতটি পাঠ করতে পার।
সহীহ মুসলিমে হযরত সাহল ইবনে সা'দ আস সাইদী রা. হতে বর্ণিত রয়েছে। তিনি বলেন, আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। যে মজলিসে তিনি জান্নাত প্রসঙ্গে আলোচনা করছিলেন। আলোচনার শেষাংশে তিনি বলেন, জান্নাতে এমন সব বস্তু থাকবে যা কোন চক্ষু কখনো অবলোকন করেনি, কোন কর্ণ কখনো শ্রবণ করেনি, যার কোন চিন্তা কোন মানব হৃদয়ে উদিত হয়নি। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম فَلاَ تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرة أعين আয়াতটি পাঠ করেন।
সহীহায়নে৩৯৬ হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لقاب قوس أحدكم في الجنة خير مما طلعت عليه الشمس أو تغرب জান্নাতে একটি ধনুক রাখার পরিমাণ স্থান লাভ করা ঐ পৃথিবী যার উপর সূর্যের উদয় অস্ত ঘটে তা থেকে অনেক উত্তম।
পূর্বে হযরত আবূ উমামাহ-এর মারফু হাদীস অতিক্রান্ত হয়েছে ৩৯৭। তাতে রয়েছে, তোমাদের মধ্যে কি জান্নাতের কোন প্রত্যাশী নেই? জান্নাত তো এমন স্থান, যাতে কোন বিপদের শংকা নেই। هي ورب الكعبة نور يتلألأ وريحانة تهتز وقصر مشيد ونهر مطرد وثمرة نضيجة وزوجة حسناء جميلة কাবার প্রভুর শপথ! জান্নাতে রয়েছে প্রদীপ্ত জ্যোতি, সুরভি বিচ্ছুরণকারী ফুল, সুরম্য মযবৃত অট্টালিকা, প্রবহমান নদী, পাকা ফল ও সুন্দর রূপসী স্ত্রী। وحلل كثيرة ومقام في ابد في دار سليمة وفاكهة وخضرة وحبرة ونعمة ومحلة عالية بهية এবং অসংখ্য বস্ত্রসম্ভার, চিরস্থায়ী নিবাস, শান্তিময় ও নিরাপদ আবাস, ফল, সবুজ-শ্যামল নকশী চাদর, নিআমতরাজি, সুরম্য- সুউচ্চ প্রাসাদ সমূহ। জান্নাত আল্লাহর মহান সৃষ্টি। জান্নাতের জন্য মর্যাদার বিষয় হল, তা পেতে হলে এক মাত্র আল্লাহর কাছেই হাত পাততে হয়। যদি জান্নাতের এ সম্মান ও মর্যাদার খেয়াল না করাও হয়, তার পরও জান্নাতের নিজস্ব সৌন্দর্য ও সুশোভিত সাজসজ্জা তার শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট হবে।
যেমন সুনানে আবূ দাউদে হযরত জাবির রা. হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لا يسئل بوجه الله الا الجنة আল্লাহ তা'আলার জাতের ওসীলায় একমাত্র জান্নাতই প্রার্থনা করা চাই বা যায়।
মু'জামে তাবারানীতে হযরত ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لماخلق الله جنة عدن خلق فيها ما لا عين رأت ولا أذن سمعت ولا خطر على قلب بشر আল্লাহ তা'আলা যখন 'আদন' জান্নাত সৃষ্টি করেছেন, তখন তাতে এমন বস্তু রেখেছেন যা কোন চক্ষু কখনো প্রত্যক্ষ করেনি, কোন কর্ণ কখনো শ্রবণ করেনি এবং যার চিন্তা কখনো কোন মানব হৃদয়ে উদিত হয়নি। ثم قال لها تكلمني অতঃপর আল্লাহ তাকে বললেন, আমার সাথে কথা বল, فقالت قد افلح المؤمنون তখন জান্নাত বলে উঠল, নিশ্চয়ই মু'মিনগণ সফলকাম।
সহীহ বুখারীতে হযরত সাহল ইবনে সা'দ রা. হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, জান্নাতে একটি ধনুক রাখার পরিমাণ স্থান লাভ করা দুনিয়া ও তন্মধ্যকার সকল বস্তু হতে উত্তম। ইমাম আহমদ রহ. স্ব-সনদে হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لقيد سوط أحدكم من الجنة خير مما بين السماء والأرض তোমাদের মধ্যে কেউ জান্নাতে ধনুক রাখার সমপরিমাণ স্থান লাভ করাটাও দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যকার সকল বস্তু হতে উত্তম।
ইমাম তিরমিযী র. স্ব-সনদে হযরত সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা. হতে বর্ণনা করেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "লো আন মা ফি الْجَنَّةِ بَدَا لَتَزَخْرَفَتْ لَهٗ مَا بَيْنَ خَوَافِقِ السَّمٰوٰتِ وَ الْأَرْضِ জান্নাতে যদি নখ অপেক্ষাও কমপরিমাণ বস্ত্র প্রকাশ পেত, তবে ভূ-মণ্ডল ও নভোমণ্ডলের মধ্যবর্তী সকল বস্তু আলোকিত হয়ে পড়ত। وَلَو اَنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ اَطَلَعَ فَبَدَا اَسَاوِرُهٗ لَطَمَسَ ضَوْءُ الشَّمْسِ كَمَا تَطْمِسُ الْكَوَاكِب যদি কোন জান্নাতী ব্যক্তি দুনিয়ার দিকে উঁকি মেরে দেখত আর তার কনকণের কিয়দংশ প্রকাশ পেত, তবে সূর্যের আলো তেমনি বিবর্ণ হয়ে যেত যেমনিভাবে সূর্যের কারণে নক্ষত্রের আলো বিবর্ণ ও অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে হযরত আনাস বিন মালিক রা. হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস রা. হতে হাদীস বর্ণিত রয়েছে।
পক্ষান্তরে কত মর্যাদাবান ও মহিমান্বিত সে স্থান, যেখানে আল্লাহ তা'আলা তার হাত মুবারকে গাছ রোপণ করেছেন এবং যা তার বন্ধুদের অবস্থানস্থল হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তাঁর রহমত, দয়া, করুণা ও সন্তুষ্টি দ্বারা পূর্ণ করে দিয়েছেন। তাঁর গুণাগুণ ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনায় বলেন, তা লাভ করা অত্যন্ত কল্যাণ ও সৌভাগ্যের বিষয়। তাঁর রাজত্ব হল বিশাল রাজত্ব। সকল প্রকার কল্যাণ ও মঙ্গল তাতে গচ্ছিত রাখা হয়েছে এবং সকল প্রকার দোষ-ত্রুটি ও বিপদ-আপদ হতে তাকে পবিত্র রাখা হয়েছে।
যদি তুমি তার মাটি সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, তার মাটি হবে কস্তুরির ও যাফ্রানের।
যদি তার ছাদ সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে রাখ, তার ছাদ হল আল্লাহর আরশ।
যদি তার বিছানা সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, তার বিছানা হল সুবাস ছড়ানো কস্তুরি।
যদি তার পার্থক্যণা সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, তা হল মুক্তা।
যদি তার অট্টালিকা সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, তার একটি ইট হবে স্বর্ণের, আরেকটি ইট হবে রৌপ্যের।
যদি তার গাছ সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, তার প্রত্যেকটি গাছের কাণ্ড হবে স্বর্ণ ও রৌপ্যের, কাঠের নয়।
যদি তার ফল সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, তার ফল হবে মটকার ন্যায় বৃহদাকারের ও পনীর অপেক্ষা অধিক কোমল এবং অমৃত অপেক্ষা অধিক মিষ্ট।
যদি তার পাতা সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, তা সবচেয়ে সুক্ষ্ম কাপড়ের জোড়া হতেও অত্যাধিক সুন্দর।
যদি তার নহর সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, তাতে এমন দুধের নহর রয়েছে, যার স্বাদ কখনো বিকৃত হবে না। এমন খাঁটি শরাবের নহর রয়েছে, যা পানে পানকারী পরিতৃপ্ত হয় ও স্বচ্ছ অমৃতের নহর রয়েছে।
যদি তার খাদ্য সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, তা হবে জান্নাতীদের নিজস্ব পসন্দকৃত ফল ও তাদের রুচিসম্মত পাখির গোশত।
যদি তার পানীয় সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, তার পানীয় হবে অমৃত সুধা, আদ্রক ও কপূরের।
যদি তার বাসন পত্র সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, তা হবে আরশির ন্যায় স্বচ্ছ স্বর্ণ-রৌপ্যের।
যদি তার দরযার প্রশস্ততা সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, তার দরযার দু'কপাটের মধ্যে চল্লিশ বছরের দূরত্বসম ব্যবধান থাকবে। তবে এমন একদিন আসবে, যেদিন প্রচণ্ড ভীড়ের দরুন তাকে রুদ্ধ দ্বারের ন্যায় মনে হবে।
যদি প্রবাহিত মৃদু সমীরণের ফলে বৃক্ষের পল্লব হতে সৃষ্ট সুর সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, তা হবে সুমিষ্ট সুরেলা আওয়ায, যা শ্রোতাদের বিমুগ্ধ ও আবিষ্ট করবে।
যদি তার গাছের ছায়া সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, সেখানে এমন এক গাছ রয়েছে, যার ছায়ায় দ্রুতগামী আরোহী একশত বছরে ভ্রমণ করেও তা অতিক্রম করতে সক্ষম হবে না।
যদি তার প্রশস্ততা সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, তার সর্বনিম্ন স্তরের ব্যক্তির লাভকৃত স্থানের পরিধি এ পরিমাণ হবে যে, তার রাজত্ব, সিংহাসন, প্রাসাদ ও উদ্যানে দ্রুতগামী আরোহী দু'হাজার বছর ভ্রমন করেও তা অতিক্রম করতে সক্ষম হবে না।
যদি তার তাঁবু ও গম্বুজ সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে রাখ, তার তাঁবু হবে ষাট মাইল দীর্ঘ ফাঁপা একটি মুক্তা দ্বারা নির্মিত।
যদি তার প্রাসাদ ও অট্টালিকা সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, তার প্রাসাদ হবে স্তর স্তর করে নির্মিত। যার পাদদেশে নদী প্রবহমান।
যদি তার উচ্চতা সম্পর্কে জানতে চাও, তাহলে আকাশের প্রান্তে উদিত বা অস্তমিত নক্ষত্রের প্রতি দৃষ্টি দাও, যা দৃষ্টিসীমার বহু ঊর্ধ্বে।
যদি তার অধিবাসীদের পোশাক সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, তা হবে রেশম ও স্বর্ণ দ্বারা তৈরী।
যদি তার বিছানা সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, তার বিছানার চাদর হবে পুরু রেশমের, যা উঁচু স্থানে বিছানো থাকবে।
যদি তার খাট সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, তার খাট হবে রাজকীয় খাট, তার উপর স্বর্ণের বোতাম বিশিষ্ট মশারি থাকবে। যাতে কোন ছিদ্র থাকবে না।
যদি তার অধিবাসীদের চেহারা এবং সৌন্দর্য সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, তাদের মুখমণ্ডল হবে পূর্ণিমার রাতের চাঁদের মত।
যদি তাদের বয়স সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, তারা হবে ৩৩ বছরের তরুণ এবং তাদের অবয়ব হবে আদি পিতা হযরত আদম আ.-এর অবয়বের ন্যায়।
যদি তার সংগীত সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, সেখানে হুরে-ঈন সংগীত গাবে। ফিরিশতা ও আম্বিয়ায়ে কিরামের সুর আরো সুমিষ্ট হবে আর আল্লাহ তা'আলা জান্নাতীদেরকে যে সম্বোধন করবেন, তা পূর্বেও সবকিছু অপেক্ষাও অধিক সুমিষ্ট হবে।
যদি তুমি তাদের বাহন সম্পর্কে জানতে চাও, যার উপর আরোহণ করে তারা পরস্পরে সাক্ষাৎ করবে, তবে জেনে নাও, তা হবে অত্যন্ত উন্নত জাতের অশ্ব। সেগুলো তাদেরকে যেখানে তারা চাইবে, সেখানে নিয়ে যাবে।
যদি তাদের অলংকার সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, তাদের অলংকার হবে মুক্তাখচিত স্বর্ণের কংকণ আর তাদের মাথায় মুকুট থাকবে।
যদি তাদের সেবার জন্য নিয়োজিত সেবকদের সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, তাদের সেবক হবে বিক্ষিপ্ত মুক্তা সদৃশ চির কিশোর।
যদি তাদের স্ত্রী ও পত্নী সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে রাখ, তাদের স্ত্রী হবে উদভিন্ন যৌবনা সমবয়স্কা তরুণী। তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে যৌন রস ধাবমান থাকবে। তাদের গণ্ডদেশ হবে গোলাপ ও আপেলের ন্যায় সুদর্শনা। তাদের স্তন হবে আনারের ন্যায় উত্থিত। তাদের দাঁত হবে মুক্তার মালা সদৃশ উজ্জ্বল ও জ্বলজ্বলে। তাদের কোমর হবে সরু। তাদের মুখমণ্ডলের সৌন্দর্য এমন হবে, যেন সুর্য তাতে ঘূর্ণন করছে। তারা যখন হাসবে, তখন তাদের দাঁত হতে দীপ্তি ছড়িয়ে পড়বে। তারা যখন তাদের প্রিয়তমের নিকট আসবে, তখন দু'টি আলোর সম্মিলনে যে অবস্থা সৃষ্টি হবে, তা বর্ণনাতীত। তখন তাদের কথাবার্তার দৃশ্যটা কি কল্পনা করা যায়। সে ব্যক্তি তার সে স্ত্রীর গণ্ডদেশে স্বীয় মুখমণ্ডল ঠিক তেমনি দেখতে পাবে, যেমনিভাবে স্বচ্ছ আয়নাতে দেখতে পায়। সে তার পায়ের গোছার মজ্জা গোশতের ভিতর থাকাবস্থায়ই দেখতে পাবে। চর্ম, হাড় ও পোশাক কিছুই তাতে আড়াল সৃষ্টি করতে পারবে না। যদি সে রমণী দুনিয়ার দিকে উঁকি মেরে দেখত, তবে সকল পৃথিবী সুগন্ধিতে সুরভিত হয়ে যেত ও সমগ্র মাখলুক আল্লাহ তা'আলার তাসবীহ জপতে শুরু করত ও তার বড়ত্ব ও পবিত্রতা বর্ণনা করতে শুরু করত। পূর্ব-পশ্চিম সব কিছুই তার আলোতে আলোকিত হয়ে যেত ও সকল আঁখির দৃষ্টি একমাত্র তার প্রতি নিবদ্ধ থাকত এবং সূর্যের আলো তেমনিভাবে বিবর্ণ হয়ে যেত, যেমনিভাবে সূর্যের কারণে নক্ষত্রের আলো বিবর্ণ হয়ে যায়। আর ভূ-পৃষ্ঠের সকল মানুষ আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করে নিত। তার মাথায় অবস্থিত ওড়নী দুনিয়া ও তন্মধ্যকার সকল বস্তু অপেক্ষা উত্তম। জান্নাতী ব্যক্তির অন্যতম মধুরতম প্রত্যাশা হবে সে রমণীর মিলন। সময়ের বিবর্তন তার রূপ- লাবণ্যকে বাড়িয়ে তুলবে ও সময় যতই অতিক্রান্ত হবে, তাদের প্রেম- ভালবাসা আরো গভীর হবে। সে স্ত্রী গর্ভধারণ, সন্তান প্রজনন, ঋতুস্রাব, প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব নাকের শ্লেশ্মা, থুথু, মলমূত্র ও সকল প্রকার ময়লা হতে পবিত্র থাকবে। তার যৌবনের কখনো পরিসমাপ্তি ঘটবে না। তার পোশাক পুরাতন হবে না। রূপ-লাবণ্যও হ্রাস পাবে না। তার মিলন সুরভি কখনো বিরক্তিকর হবে না। তার দৃষ্টি সর্বদা একমাত্র তার স্বামীর প্রতিই সীমাবদ্ধ থাকবে। স্বীয় স্বামী ব্যতীত অন্য কারো প্রতি কখনো সে দৃষ্টিপাত করবে না। সে ব্যক্তির দৃষ্টি একমাত্র ঐ স্ত্রীর প্রতিই নিবদ্ধ থাকবে। কেননা, সে-ই হল তার চূড়ান্ত প্রত্যাশা। সে ব্যক্তি তার প্রতি তাকালে সে তাকে বিমুগ্ধ ও বিমোহিত করে তুলবে। ঐ মহিলা তার আনুগত্বের ও তার অনুপস্থিতিতে তার সম্মান রক্ষার ব্যাপারে নির্দেশিত থাকবে। সে রমণীকে ইতোপূর্বে কোন জিন বা মানুষ স্পর্শ করবে না। সে ব্যক্তি তার দিকে তাকালে তাকে আনন্দিত ও বিমুগ্ধ করে তুলবে। তার কথা সে ব্যক্তির কানে মুক্তার মালা ও বিক্ষিপ্ত মুক্তার ন্যায় বাজবে। (অর্থাৎ শব্দমালা মুক্তার মালা ও বিক্ষিপ্ত মুদ্রা সদৃশ হবে) সে আত্মপ্রকাশ করলে প্রাসাদও আলোকোজ্জ্বল হয়ে উঠবে।
যদি তার বয়স সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে রাখ, সে হবে মধ্য যৌবনা সমবয়সী তরুণী।
যদি তুমি তার সৌন্দর্য সম্পর্কে জানতে চাও, তবে কি তুমি চন্দ্র-সূর্য দেখোনি (অর্থাৎ চন্দ্র-সূর্যের ন্যায় সুন্দর সুদর্শনা হবে)
যদি তাদের চক্ষু সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে রাখ, তাদের চক্ষু হবে স্বচ্ছ শুভ্র ও সুন্দর কৃষ্ণ বর্ণের।
যদি তাদের অবয়ব সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, তাদের অবয়ব তথা শারীরিক কাঠামো হবে গাছ শাখার ন্যায় নমনীয়।
যদি তুমি তাদের স্তন সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, তারা হবে উদভিন্ন যৌবনা। তাদের স্তন পুষ্ট আনারের ন্যায় উত্থিত হবে।
যদি তাদের বর্ণ সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে রাখ, তাদের শরীরের বর্ণ হবে পদ্মরাগ মণি ও প্রবাল সদৃশ্য।
যদি তাদের উত্তম চরিত্র সম্পর্কে জানতে চাও, তবে জেনে নাও, তারা হবে সুশীলা সুন্দরী। যাদের মধ্যে বাহ্যিক ও আত্মিক সৌন্দর্যের চমৎকার সমন্বয় ঘটবে। সুতরাং তারা হবে হৃদয়ের তুষ্টি ও নয়নের শীতলতার কারণ।
যদি তাদের স্বামীদের সাথে সদ্ব্যবহার ও সেখানকার তৃপ্তি উপভোগ সম্পর্কে জানতে চাও, তাহলে জেনে নাও, তারা হবে দাম্পত্য জীবনে হাস্যোজ্জ্বল হৃদয় মোহিনী সোহাগিণী, কোমল আচরণকারিনী। হাস্যোজ্জ্বল সে রমণী সম্পর্কে কি কল্পনা করা যায়, যার হাসিতে জান্নাত আলোকিত হয়ে উঠবে। তারা যখন এক প্রাসাদ হতে অন্য প্রাসাদে স্থানান্তরিত হবে, তখন মনে হবে, এক রবি আকাশের কক্ষপথে স্থানান্তরিত হচ্ছে। তারা যখন স্বীয় স্বামীদের নিকট উপস্থিত হবে, সে দৃশ্য কত চমৎকার হবে। তারা স্বামীদের সাথে আলিঙ্গন করবে, তা কতই না চমৎকার ও উপভোগ্য হবে। কবির ভাষায়-
ان طال لم يملل وان هي حدثت زود المحدث انها لم توجز
তাদের দীর্ঘ কথা বিরক্তিকর হবে না, শ্রোতারা তাদের কথা সংক্ষিপ্ত না করার প্রত্যাশা করবে (বরং তাদের কথায় শ্রোতা তৃপ্তি ও স্বাদ উপভোগ করবে)।
তাদের গীত-সংগীত কান ও চোখের জন্য কতই না তৃপ্তিদায়ক ও উপভোগ্য হবে। তাদের ভালবাসা বিনিময় ও স্বাদ উপভোগ কতই না তৃপ্তিদায়ক হবে। যখন সে চুম্বন করবে, তখন তাদের কাছে সে চুম্বন অপেক্ষা তৃপ্তিদায়ক ও উপভোগ্য আর কিছুই হবে না। তারা যখন স্পর্শ করবে, তখন তা অপেক্ষা অধিক উপভোগ্য ও তৃপ্তিদায়ক আর কিছুই হবে না।
যদি ইয়াউমুল মাযীদে আল্লাহর কাছে গমন ও তার বর্ণনাতীত ও চিত্রায়নাতীত চেহারা মুবারক সম্পর্কে জানতে চাও, তাহলে আকায়ে নামদার তাজদারে মাদীনা হতে হযরত জারীর, সুহায়ব, আনাস, আবূ হুরায়রা, আবূ মূসা ও আবূ সাঈদ খুদরী রা. দের উদ্ধৃতিতে অবিচ্ছিন্ন বর্ণনাধারার সূত্রে হাদীসের অসংখ্য গ্রন্থে বর্ণিত এ হাদীসটি শুনুন। হাদীসে রয়েছে, সেদিন ঘোষক ঘোষণা করবে, হে জান্নাতবাসীরা! তোমাদের প্রভু তোমাদেরকে দর্শন দিবেন, সুতরাং তোমরা তার দর্শন লাভে এসো। তারা বলবে, আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম। তারা ক্ষিপ্রগতিতে আল্লাহ তা'আলার দর্শন লাভের জন্য প্রস্তুত হবে। তারা তখন দেখতে পাবে, তাদের জন্য উন্নত জাতের অশ্ব প্রস্তুত। তারা যে ঘোড়ায় চড়ে বসবে, সে ঘোড়ার অত্যন্ত দ্রুতগতির চালক থাকবে। তারা অশ্বে আরোহণ করে তাদের জন্য নির্ধারিত স্থান আফীহ প্রান্তরে পৌঁছবে আর সেখানেই সকলে সমবেত হবে।
আল্লাহ তা'আলা তখন কুরসী রাখার নির্দেশ দিবেন। তা তখন সেখানে রাখা হবে। জান্নাতীদের জন্য সেখানে নূরের মুক্তার পোখরাজ ও স্বর্ণের মিম্বর স্থাপন করা হবে। তাদের কেউ কোন দুরবস্থার শিকার হবে না; বরং তাদের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের জান্নাতী ব্যক্তি কস্তুরীর টিলায় বসবে। সে মনে করবে না যে সিংহাসনে উপবেশনকারীরা তার থেকে অধিক নিআমত লাভকারী; বরং সকলে স্ব-স্ব আসনে বসার পর সেও স্বীয় আসনে অত্যন্ত স্বস্তি-শান্তির সাথে বসবে। তখন একজন ঘোষক বলবে, আল্লাহ তা'আলার প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তোমরা কি চাও, আল্লাহ তা'আলা তা পূর্ণ করবেন।
জান্নাতী বলবে, তা কেমন প্রতিশ্রুতি? তিনি তো আমাদের চেহারা সুউজ্জ্বল করেছেন। আমাদের নেকীর পাল্লা ভারী করেছেন। আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন ও দোযখ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। তারা সে অবস্থায় থাকাবস্থায়ই একটি নূর প্রলম্বিত হতে দেখবে। তখন তারা মাথা উঠিয়ে দেখবে, আল্লাহ তা'আলা উপর থেকে জান্নাতীদেরকে ঝুঁকে দেখছেন (তাঁর শান মোতাবেক)। এরপর বলবেন, হে জান্নাতীরা! তোমাদের প্রতি শান্তি।
জান্নাতীরাও এমন ভাষায় জবাব দেবে, যার চেয়ে সুন্দর আর জবাব হতে পারে না اللهم انت السلام ومنك السلام হে আল্লাহ! আপনিই শান্তি, শান্তি আপনার পক্ষ হতেই। تباركت ذو الجلال والاكرام হে মহৎ ও মহান! তোমার সত্তা কতইনা মহান। فيتجلى لهم الرب تبارك وتعالى ويضحك اليه আল্লাহ তা'আলা তাঁর বড়ত্বের পর্দা সরিয়ে তাদের সামনে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দৃশ্যমান হবেন। فيكون أول ما يسمعونه منه تعالى ويقول يا أهل الجنة তখন বলবেন, হে জান্নাতীরা! তারা সর্বপ্রথম তাঁর যে কথা শুনবে তা হবে أين عبادي الذين اطاعوني بالغيب ولم يرونى فهذا يوم المزيد কোথায় আমার বান্দারা, যারা আমাকে না দেখেই আমার আনুগত্য করেছে। আজ হল ইয়াওমুল মাযীদ (অতিরিক্ত প্রতিদান পাওয়ার দিন( فيجتمعون على كلمة وأحدة أن قد رضينا فأرض عنا তারা তখন সমবেত কণ্ঠে বলে উঠবে, হে প্রভু! আমরা আপনার প্রতি সন্তুষ্ট। আপনিও আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আমি যদি তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট না হতাম, তবে তোমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাতাম না। আজ হল ইয়াওমুল মাযীদ (অতিরিক্ত প্রতিদান প্রাপ্তির দিন) সুতরাং তোমরা যা চাওয়ার, চাও। তারা তখন সকলে সমবেত কণ্ঠে বলে উঠবে, হে আমাদের প্রভু! আপনি আমাদের দর্শন দিন, যেন আমরা আপনাকে দেখতে পাই। তখন আল্লাহ তা'আলা তাঁর বড়ত্বের পর্দা সরিয়ে তাদের সামনে দৃশ্যমান হবেন, তার নূর তাদেরকে আচ্ছন্ন করে রাখবে। যদি তাদেরকে ভস্মীভূত না করার আল্লাহ তায়ালার ফয়সালা না হত, তবে সকলে ভস্মীভূত হয়ে যেত। আল্লাহ তা'আলা বান্দাদের সামনে থাকাবস্থায় বলবেন, হে আমার অমুক বান্দা! তোমার কি ঐ সময়ের কথা স্মরণ আছে, যখন তুমি অমুক কাজটি করছিলে, তাকে দুনিয়ার কিছু প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন। তখন সে বান্দা বলবে, হে প্রভু! আপনি কি তা ক্ষমা করে দেননি? আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আমার ক্ষমার বদৌলতে তুমি এ স্থানে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছ।
হায়! সে কী শ্রুতিমধুর বাক্যালাপ ও মধুময় আলোচনা! মহান প্রভুর দীদার আর তাঁর সাথে কথোপকথনে তনু-মনে সে কী আলোড়ন সৃষ্টি হবে! আফসোস সে সকল লোকদের, লাঞ্ছনাময় ক্ষতিগ্রস্ততার সওদা নিয়ে প্রভু মহান প্রভুর দরবারে উপস্থিত হবে।
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ إلى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ সেদিন কিছু মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে, তারা তাদের প্রতিপালকের দিকে তাকিয়ে থাকবে। وَوُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ بَاسِرَةٌ تَظُنُّ أَنْ يُفْعَلَ بِهَا فَاقَرَةِ আর কিছু মুখমণ্ডল বিবর্ণ হয়ে পড়বে, আশংকা করবে যে, এক ধ্বংসকারী বিপর্যয় তাদের উপর আপতিত হবে।৩৯৮
فحيي على جنات عدن فإنها منازلك الأولى وفيها المخيم এসো তুমি চিরস্থায়ী উদ্যানে, এটাই তোমার উত্তম গন্তব্য, তাতে রয়েছে তাঁবুতে সুরক্ষিতা হূর।
ولكننا سبي العدو فهل ترى نعود إلى أوطاننا ونسلم কিন্তু আমরা তো হলাম শত্রুর বন্দিশালায় আবদ্ধ, তবে কি তুমি মনে কর, তুমি শয়তানের কারাগার হতে মুক্ত হয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে?
وقد زعموا ان الغريب اذا نأى وشطت به أوطانه فهو في هلك তারা মনে করে, কোন মুসাফির যখন অনেক দূরে চলে যায়, তখন তার মাতৃভূমির খুব কম লোকই তার সাথে সাক্ষাত করতে আসে। সে চরম ধ্বংসের সম্মুখীন হয়।
وأي اغتراب فوق غربتنا التي لها أضحت الأعداء فينا تحكم শত্রুরা যখন আমাদেরকে শাসন করছে তাহলে আমাদের চেয়ে বড় অসহায় মুসাফির কে আছে আর?
وحي على سوق به يلتقي المحبون ذاك السوق للقوم معلوم এসো সে বিপণিবিতান ও বাণিজ্যকেন্দ্রে। যেখানে প্রেমাস্পদেরা পরস্পরে সাক্ষাত করবে, মিলিত হবে স্বজনদের সাথে।
فما شئت خذ منه بلا ثمن له فقد اسلف التجار فيه واسلموا এখান থেকে যা মনে চায় বিনামূল্যে নিয়ে নাও। এখানে কোন ক্রেতা-বিক্রেতা ক্ষতির সম্মুখীন হবে না। সবাই নিরাপদে ফিরবে।
وحي على يوم المزيد الذي به زيارة رب العرش فاليوم موسم এসো সেই ইয়াওমুল মাযীদে, যেদিন দর্শন মিলবে উভয় জাহানের মহান প্রভুর। এদিন তো বিশেষ দিন।
وحي على واد هنالك أفيح وتربته من اذفر المسك اعظم এসো সেই প্রান্তরে, যার থেকে কস্তুরির মৃদুমন্দ বায়ু প্রবাহিত হয়। যার ঘাসের ডগাগুলো কস্তুরির ঢিবি হতেও বড় মনে হবে।
منابر من نور هناك وفضة ومن خالص العقيان لا تتقصم সেখানে রয়েছে এমন নূরের মিম্বর, যা গঠন করা হচ্ছে নিখাদ রৌপ্য ও নিষ্কলুষ স্বর্ণের সংমিশ্রণে যা কখনো ভেঙ্গে পড়বে না।
وكثبان مسك قد جعلن مقاعدا لغادهم أدنى على الركب منهم আরো রয়েছে, কস্তুরির ঢিবি যা হবে মিম্বরের অধিকারী জান্নাতীদের হাতে নিম্নস্তরের জান্নাত লাভকারীর আসন।
فيا بائعا هذا ببخس معجل كانك لا تدري بلى سوف تعلم কাজেই নগদ তুচ্ছ ও ক্ষুদ্র মূল্যে এত বিশাল পণ্যের বিক্রয়কারী! তুমি কি এসব বৃত্তান্ত জানো না? জেনে রাখ, অচিরেই তুমি জানবে।
فان كنت لا تدري فتلك مصيبة وان كنت تدري فالمصيبة أعظم যদি তুমি না জেনে থাক, তাহলে তা বিপদই বটে। কিন্তু যদি জেনে থাক, তাহলে তা নির্ঘাত বিশাল মুসীবত ও মহা আপদ।
وَصَلَّى الله تعالى عَلى خَيْر خَلْقه محمد وعلى آله وأصحابه وأتباعه إلى يوم الدين .
টিকাঃ
৩৯৪. সূরা সাজদাহ, আয়াত : ১৭
৩৯৫. বুখারী, খ. ১, পৃ. ৪৬০. মুসলিম খ. ২, পৃ. ৩৭৮
৩৯৬. বুখারী, খ. ১ পৃ. ৪৬১
৩৯৭. ইবনে মাজাহ, পৃ. ৩২১
৩৯৮. সূরা কিয়ামাহ, আয়াত: ২২-২৫