📘 জান্নাতের স্বপ্নীল ভুবন > 📄 জান্নাতীদের পারস্পরিক সাক্ষাৎ ও দুনিয়ার স্মৃতিচারণ

📄 জান্নাতীদের পারস্পরিক সাক্ষাৎ ও দুনিয়ার স্মৃতিচারণ


আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, فَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ 0 তারা একে অপরের সামনা সামনি হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। قَالَ قَائِلٌ مِنْهُمْ إِنِّي كان لي قرين তাদের কেউ বলবে, আমার ছিল এক সংগী। يَقُولُ أَئِنَّكَ لَمِنَ الْمُصَدِّقِينَ 0 সে বলত, তুমি কি এতে বিশ্বাসী أَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَنَّا لَمَدِينُونَ 0 আমরা যখন মৃত্যু বরণকরব এবং আমরা মাটি ও হাড্ডিতে পরিণত হব, তারপরও কি আমরা পুনরুত্থিত হবো? قَالَ هَلْ أَنْتُمْ مُطْلِعُونَ আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি তাকে দেখতে চাও? فَاطْلَعَ فَرَأَهُ فِي سَوَاءِ الْجَحِيمِ অতঃপর সে ঝুঁকে দেখবে এবং তাকে দেখতে পাবে জাহান্নামের মধ্যস্থলে, قَالَ تَاللَّهِ إِنْ كِدْتَ لَتُرْدِينِ সে বলবে, আল্লাহর শপথ! তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংসইকরেছিলে وَلَوْلَا نِعْمَةُ رَبِّي لَكُنْتُ مِنَ الْمُحْضَرِينَ 0 এবং আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ না থাকলে আমিও তো হাযিরকৃত ব্যক্তিদের মাঝে শামিল হতাম৩৮৭।

সুতরাং উল্লিখিত আয়াতসমূহে আল্লাহ তা'আলা জানালেন, এ জান্নাতীরা পরস্পর মুখোমুখি হয়ে কথাবার্তা বলবে। তারা একে অপরকে দুনিয়ার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। এভাবে তাদের আলাপচারিতা চলতে থাকবে। তখন একজন বলবে, আমার এক সংগী ছিল, যে পুনরুত্থান ও পরকালে অবিশ্বাসী ছিল। সে তখন ঐ কথাই বলবে, যে কথা আল্লাহ তা'আলা বর্ণনা করেছেন। সে বলত, তুমি কি এতে বিশ্বাসী, আমরা কখনো মৃত্যুবরণ করব? এবং আমরা মাটি ও হাড্ডিতে পরিণত হবো, তখন কি আমাদের কর্মের প্রতিফল প্রদান করা হবে? তখন জান্নাতী উপস্থিত সাথীদেরকে বলবে, قَالَ هَلْ أَنْتُمْ مُطْلِعُونَ তোমরা কি জাহান্নামে ঝুঁকে দেখবে, তার মিথ্যাচারের কী প্রতিদান তাকে দেওয়া হয়েছে? এ ব্যাপারে সকল মত অপেক্ষা এটিই অধিক স্পষ্ট যে, এখানে هَلْ أَنْتُمْ مُطَّلِعُونَ এর মন্তব্যকারী হচ্ছে ঐ জান্নাতী।

এ ব্যাপারে আরো দু'টি মত রয়েছে। একটি মত হল, জান্নাতে পরস্পরে আলোচনাকারীদেরকে ফিরিশতাগণ বলবেন, هَلْ أَنْتُمْ مُطْلِعُون তোমরা কি জাহান্নামে উঁকি মেরে দেখবে?

এ মতটি হযরত আতা রহ. হযরত ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণনা করেন।

অপর মতটি হল, জান্নাতীদের পারস্পরিক আলোচনা কালে আল্লাহ তাদেরকে লক্ষ করে বলবেন, هَلْ أَنْتُمْ مُطْلِعُونَ

তবে এ ব্যাপারে প্রথম মতটিই বিশুদ্ধতম, অর্থাৎ মু'মিন ব্যক্তি তার সাথীদের লক্ষ্য করে এ উক্তি করবে। আয়াতের পূর্বাপর আলোচনা ও তার সাথীদের অবস্থা সব কিছুই এ মতের প্রাধান্য দাবী করে।

হযরত কা'ব রা. বলেন, জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী স্থলে একটি জানালা থাকবে। সুতরাং যদি কোনো জান্নাতী এমন কোন ব্যক্তিকে দেখতে চায়, যে দুনিয়ায় তার শত্রু ছিল, তাহলে সে ঐ জানালা দিয়ে তাকে দেখতে পাবে। আল্লাহ তা'আলার বাণী فاطلع অর্থ হল فاشرف অর্থাৎ উঁকি মেরে দেখবে।

মুকাতিল রহ. বলেন, যখন জান্নাতী ব্যক্তি তার সাথীদেরকে বলবে هَلْ أَتُمْ مُطْلِعُونَ অর্থাৎ তোমরা কি উঁকি মেরে দেখবে? উত্তরে তারা বলবে, فاطلع انت তুমিই দেখ, কেননা তাকে আমাদের তুলনায় তুমিই ভাল চেন। তখন উঁকি মেরে তার সে সংগীকে জাহান্নামে দেখতে পাবে। আল্লাহ তা'আলা যদি তাকে না চেনাতেন, তবে সে কখনও তাকে চিনতে পারত না। কেননা, জাহান্নামের শাস্তি তার চেহারার বর্ণ ইত্যাদিকে ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করে ফেলেছে। তখন সে জান্নাতী ব্যক্তি বলবে, তুমি তো আমাকেও প্রায় এতে নিক্ষেপযোগ্য করে ফেলেছিলে। আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ না হলে আমিও শাস্তিতে নিপতিতদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম।

আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ তারা একে অপরের দিকে ফিরে জিজ্ঞাসা করবে قَالُوا إِنَّا كُنَّا قَبْلُ فِي أَهْلِنَا مُشْفِقِينَ তারা বলবে, পূর্বে আমরা পরিবার-পরিজনের মধ্যে শঙ্কিত ছিলাম। فَمَنَّ اللهُ عَلَيْنَا وَوَقَانَا عَذَابَ السَّمُومِ অতঃপর আল্লাহ তা'আলা আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি হতে রক্ষা করেছেন। إِنَّا كُنَّا مِنْ قَبْلُ نَدْعُوهُ إِنَّهُ هُوَ الْبَرُ الرَّحِيمُ আমরা পূর্বেও আল্লাহকে আহ্বান করতাম, তিনি তো দয়াময়, পরম দয়ালু৩৮৮।

তাবারানী রহ. স্ব-সনদে হযরত আবূ উমামাহ রা. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রশ্ন করা হল أيتزاور أهل الجنة : জান্নাতীরা কি পরস্পরের সাক্ষাৎ করবে? قال : يزور الأعلى الأسفل، ولا يزور الأسفل الأعلى বললেন, উঁচুস্তরের জান্নাতীরা নিচুস্তরের জান্নাতীদের সাক্ষাতে আসবে কিন্তু নিচু স্তরের জান্নাতীরা উচু স্তরের জান্নাতীদের সাথে সাক্ষাৎ করতে সক্ষম হবে না। إلا الذين يتحابون في الله عز وجل يأتون منها حيث شاؤوا কিন্তু যারা আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি কল্পে পরস্পরে ভালবাসত, তারা জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা সেখানে ঘুরে বেড়াবে। على النوق محتقبين الحشايا তারা আঁচল ঝোলানো অবস্থায় উষ্ট্রীর উপর আরোহী থাকবে।

দাওরাকী রহ. স্ব-সনদে হামীদ ইবনে হিলাল হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, জান্নাতে উঁচু স্তরের জান্নাতীরা তো নিচু স্তরের জান্নাতীদের সাক্ষাতের জন্য আসবে কিন্তু নিচু স্তরের জান্নাতীরা উচু স্তরের জান্নাতীদের নিকট যেতে সক্ষম হবেন না।

তাবারানী রহ. স্ব-সনদে হযরত আবূ আয়্যব রা. হতে মারফু হাদীস বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ان أهل الجنة يتزاورون على النجائب জান্নাতীরা উন্নত মানের অর্থে আরোহণ করে পরস্পরের সাক্ষাৎ করবে।

পূর্বে এ আলোচনা অতিবাহিত হয়েছে। জান্নাতীরা পরস্পরে সাক্ষাৎ করবে। তারা সাক্ষাতের আশা ব্যক্ত করবে। এরপর তারা পূর্ণমাত্রার আনন্দ উপভোগ করবে।

এ জন্যই হযরত হারেছাহ রা. কে যখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, كَيفَ اَصْبَحْتَ يَا حَارِثَة হে হারেসাহ! তুমি কোন অবস্থায় প্রভাত করলে? তিনি বললেন, اَصْبَحْتُ مُؤْمِناً حَقًّا আমি সত্যিকার মুমিন রূপে প্রভাত করেছি। قال : إن لكل حق حقيقة فما حقيقة إيمانك নিশ্চয় প্রত্যেক বস্তুরই একটি তাৎপর্য রয়েছে তোমার ঈমানের তাৎপর্য কী? عرفت نفسی عن الدنيا তিনি বললেন, আমি নিজেকে পৃথিবী হতে বাঁচিয়ে রেখেছি। فاسهرت ليلى সুতরাং আমি রাতে জাগ্রত থাকি। واظمأت نهاری এবং দিনে তৃষ্ণার্ত থাকি (অর্থাৎ রোযা রাখি)। وكأني أنظر إلى عرش ربي بارزا যেন আমি আমার প্রভুর আরশকে সামনে দেখতে পাচ্ছি। وإلى أهل الجنة يتزاورون فيها وإلى أهل النار এবং জান্নাতীদেরকে দেখি, তারা পরস্পরে সাক্ষাৎ করছে আর জাহান্নামীদেরকে দেখি, তাদেরকে সেখানে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। فقال : عبد نوره الله قلبه তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এমন বান্দা আল্লাহ তা'আলা যার অন্তরকে নূরের জ্যোতিতে উদ্ভাসিত করেছেন।

ইবনে আবিদ দুনিয়া স্ব-সনদে হযরত আনাস রা. হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إذا دخل أهل الجنة الجنة فيشتاق الإخوان بعضهم إلى بعض যখন জান্নাতে জান্নাতীরা প্রবেশ করবে, তখন এক বন্ধু অপর বন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করার আশা ব্যক্ত করবে, قال فيسير سرير هذا إلى سرير هذا و سرير هذا إلى سرير هذا রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তখন এক জন নিজের পালঙ্ক থেকে বন্ধুর পালঙ্কে আসা-যাওয়া করবে। فيقول أحدهما لصاحبه : تعلم متى غفر الله لنا তখন এক বন্ধু অপর বন্ধুকে বলবে, তুমি কি বলতে পার? কবে আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন? قال صاحبه : يوم كنا في موضع كذا وكذا فدعون الله فغفر لنا তখন তার বন্ধু বলবে, অমুক দিন যখন আমরা অমুক স্থানে ছিলাম আর আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'আ করেছি, তখন আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

হামযাহ ইবনুল আব্বাস রহ. স্ব-সনদে হযরত শফী ইবনে মাতি' রা. হতে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ان من نعيم أهل الجنة انهم يتزاورون على المطايا والنجب জান্নাতীদের অর্জিত নিআমত সমূহে এও রয়েছে, তারা নানা বাহনে ও উন্নতমানের ঘোড়ায় আরোহণ করে পরস্পরে সাক্ষাতের জন্য যাবে।

وانهم يؤتون في الجنة بخيل مسرجة ملجمة لا تروث ولا تبول জান্নাতীদেরকে হাওদা ও লাগাম বিশিষ্ট এমন ঘোড়া প্রদান করা হবে যেগুলো মল-মূত্র ত্যাগ করবে না।

فيركبونها حتى ينتهوا حيث شاء الله عزّ وجلّ তারা তাতে আরোহণ করবে আর আল্লাহ তা'আলা যেখানে ইচ্ছা করেন ঘোড়া তাদেরকে সেখানে পৌছে দিবে।

فيأتيهم مثل السحابة فيها ما لا عين رأت ولا أذن سمعت তখন তারা এমন মেঘমালা দেখতে পাবে, যা কখনো কোন চক্ষু দেখেনি, কোন কান শ্রবণ করেনি।

فيقولون : أمطري علينا তারা সে মেঘমালাকে তাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করতে বলবে, فمايزال المطر عليهم حتى ينتهى ذالك فوق أمانيهم তখন মেঘমালা তাদের উপর মুষলধারায় বৃষ্টিবর্ষণ করবে, এমনকি তাদের আশাতীত বৃষ্টি বর্ষিত হবে।

ثم يبعث الله ريحا غير مؤذية فتنسف كثبانا من مسك عن أيمانهم وعن شمائلهم অতঃপর আল্লাহ তা'আলা এমন বায়ু প্রবাহিত করবেন, যাতে কষ্টদায়ক কিছু থাকবে না। সে বায়ু তাদের ডান ও বামে অবস্থিত টিলা হতে কস্তুরি উড়িয়ে আনবে।

فيأخذ ذالك المسك فينواصي خيولهم وفي مفارقهم وفي رؤوسهم সে কস্তুরি তাদের অশ্বের কপালে, তাদের কেশশূণ্য স্থানে ও মাথায় পড়বে।

ولكل رجل منهم جمة على ما اشتهت نفسه তাদের প্রত্যেকের প্রত্যাশা ও আকাংখা অনুযায়ী বাবরী চুল থাকবে। (জুম্মা কানের লতি পর্যন্ত চুলকে বলে)

فيتعلق ذالك المسك في تلك الجمام وفي الخيل وفيما سوى ذالك من الثياب অত:পর সে কস্তুরি তাদের চুল, ঘোড়া ও অন্যান্য বস্ত্রে মিশে যাবে, ثم يقبلون حتى ينتهوا إلى ماشاء الله তখন জান্নাতীরা সামনে অগ্রসর হবে। আল্লাহ তা'আলার মনযূরকৃত স্থানে ( فاذا المرأة تنادي بعض أولئك يا عبد الله اما لك فينا حاجة ) পৌঁছবে, তখন হঠাৎ এক রমণী উচ্চস্বরে ডেকে বলবে, হে আল্লাহর বান্দা! আমাদের প্রতি তোমাদের কি কোনই আগ্রহ নেই? فيقول : ما انت ومن انت ?সে ব্যক্তি বলবে, তুমি কি এবং তুমি কে? فتقول انا زوجتك وحبك সে বলবে, আমি তোমার স্ত্রী ও তোমার ভালবাসা। فيقول ماكنت علمت بمكانك । সে বলবে, আমি তো তোমার অবস্থান সম্পর্কে জানতামই না। فتقول المرأة : او ما تعلم ان الله قال : فلا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّا أُخْفِيَ لَهُم مِّن قُرَّةِ أَعْيُنِ جَزَاء بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ সে রমণী বলবে, তুমি কি জান না, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, কোন ব্যক্তি জানে না তার কর্মের প্রতিদান স্বরূপ তার চক্ষুর শীতলতার জন্য আল্লাহ তা'আলা তার জন্য কী কী গোপন নিআমত প্রস্তুত রেখেছেন। فيقول : بلى وربي সে বলবে, হ্যাঁ, আমার প্রভুর কসম, আল্লাহ তা'আলা তা বলেছেন।

فلعله يشتغل عنها بعد ذلك الموقف أربعين خريفا لا يلتفت ولا يعود ما يشغله عنها الا ماهو فيه من النعيم والكرامة অতঃপর সে ব্যক্তিই ঐ রমণী হতে চল্লিশ বছর পর্যন্ত উদাসীন থাকবে, সে তার প্রতি ভ্রূক্ষেপও করবে না, তার নিকট যাবেও না। সে জান্নাতে প্রাপ্ত নিআমত ও সম্মানের কারণে তার থেকে গাফিল থাকবে।

হামযাহ রহ. স্ব-সনদে হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, ডোরাকাটা বর্ণের উষ্ট্রীর উপর আরোহণ করে জান্নাতবাসী একে অপরের সাক্ষাতে যাবে। সে উষ্ট্রীর উপর মেস বৃক্ষের হাওদা থাকবে। তার খুর মিশক ধূলি উড়াবে, সেগুলোর লাগাম দুনিয়া ও তন্মধ্যকার সকল বস্তু থেকে উত্তম।

ইবনে আবিদ দুনিয়া স্ব-সনদে হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণনা করেন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি হযরত জিবরীল আ. কে ونفخ في الصور فصعق من في السموات ومن في الأرض الا من شاء الله সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, الا من شاء الله দ্বারা কারা উদ্দেশ্য? উত্তর দিলেন, এর দ্বারা শহীদগণ উদ্দেশ্য। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে আরশের নীচে তরবারি ঝুলানো অবস্থায় পূনরুত্থিত করবেন। فاتاهم ملائكة من المحشر بنجائب তখন হাশরের ময়দানে ফিরিশতারা ইয়াকুতের উন্নতমানের অশ্ব নিয়ে উপস্থিত হবে, যে অশ্বের লাগাম হবে الدر الأبيض برجال الذهب من ياقوت ازمتها তার লাগাম হবে সাদা মুক্তার এবং পা হবে স্বর্ণের। اعنتها السندس والاستبرق তার গদি তার গলায় সূক্ষ্ম, পুরু রেশমের হার থাকবে। ونمارقها ألين من الحرير তার উপাধান রেশম অপেক্ষা অধিক কোমল হবে। مد خطاها مد أبصار الرجال তার পায়ের দৈর্ঘ্য দৃষ্টিসীমা পরিমাণ হবে। يسيرون في الجنة على خيول তারা অশ্বে আরোহণ করে জান্নাতে ঘুরে বেড়াবে।

يقول عند طول الترهة انطلقوا بنا ننظر كيف يقضى الله بين خلقه তারা দীর্ঘ সময় ভ্রমণের পর বলবে, আমাদেরকে কিভাবে তারা দীর্ঘ সময় ভ্রমণের পর বলবে, আমাদেরকে নিয়ে চল, আমরা দেখব, আল্লাহ তা'আলা তার মাখলুকের মাঝে কিভাবে বিচারকার্য করেন। يضحك الله إليهم তখন আল্লাহ তা'আলা তাদের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে মুচকি হাসবেন।

واذا ضحك الله إلى عبد في موطن فلا حساب عليه আল্লাহ তা'আলা যখন কোন বান্দার প্রতি কোন স্থানে হাসেন, তবে সে বান্দার আর হিসাব নিকাশের সম্মুখীন হতে হয় না।

ইবনে আবিদ দুনিয়া রহ. স্ব-সনদে হযরত আলী রা. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি ان في الجنة لشجرة يخرج من اعلاها حلل ومن أسفلها خيل من ذهب مسرجة ملجمة من در وياقوت জান্নাতে এমন একটি গাছ থাকবে, যার কাণ্ড হতে জোড়ায় জোড়ায় পোশাক-পরিচ্ছদ উৎপন্ন হবে। আর তার তলদেশ হতে স্বর্ণের এমন অশ্ব সৃষ্ট হবে, যার লাগাম ও গদি হবে মুক্তার ও ইয়াকূতের, সেগুলোর মল-মূত্র ত্যাগের প্রয়োজন পড়ে না।

لها أجنحة خطوها مد بصرها তার পাখা থাকবে এবং পায়ের দৈর্ঘ্য হবে দৃষ্টি সীমা পরিমাণ। فيركبها أهل الجنة فتطير بهم حيث شاءوا জান্নাতীরা তাতে আরোহণ করলে সেগুলো তাদেরকে নিয়ে যেখানে ইচ্ছা সেখানে উড়ে বেড়াবে।

فيقول الذين أسفل منهم درجة يارب بما بلغ عبادك هذه الكرامة নিম্নস্তরের জান্নাতীরা বলবে, হে প্রভু, আপনার এ বান্দারা এত উচ্চ মর্যাদা কিভাবে লাভ করল?

فيقال لهم : كانوا يصلون في الليل وكنتم تنامون তাদেরকে বলা হবে, তারা রাতে নামাযে রত থাকত আর তোমরা নিদ্রায় বিভোর থাকতে। وكانوا يصومون وکنتم تأكلون তারা সিয়াম সাধনা করত আর তোমরা পানাহারে লিপ্ত থাকতে | وكانوا ينفقون وکنتم تبخلون এবং তারা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করত আর তোমরা কৃপণতা করতে। وكانوا يقاتلون وکنتم تجينون এবং তারা আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করত আর তোমরা ভীরুতা প্রদর্শন করতে।

জান্নাতীদের স্বীয় প্রভুর দর্শন লাভ
জান্নাতীদের পারস্পরিক সাক্ষাৎ তো অবশ্যই আনন্দের বিষয়। কিন্তু এর চেয়েও মহানন্দ ও মহা উৎসবের বিষয় হল, আল্লাহ তা'আলার সাক্ষাৎ। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে তাঁর দর্শনে ধন্য করবেন এবং তাদেরকে নিজ কালাম শুনাবেন। তাদের প্রতি স্বীয় সন্তুষ্টি প্রকাশ করবেন।

আল্লাহ তা'আলার দীদার লাভ করা সম্পর্কিত আলোচনা সামনে উল্লেখ করা হবে।

টিকাঃ
৩৮৭. সূরা সাফ্ফাত, আয়াত: ৫০-৫৭

📘 জান্নাতের স্বপ্নীল ভুবন > 📄 জান্নাতীদের বাজার ও কেনাকাটা

📄 জান্নাতীদের বাজার ও কেনাকাটা


ইমাম মুসলিম রহ. তার সহীহ গ্রন্থে৩৮৯ স্ব-সনদে হযরত আনাস বিন মালিক রা. হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إن في الجنة لسوقا يأتونها كل جمعة জান্নাতে একটি বাজার রয়েছে, যেখানে তারা প্রত্যেক শুক্রবার একত্রিত হবে। فتهب ريح الشمال فتحثو في وجوههم وثيابهم فيزدادون حسنا وجمالا তখন উত্তর দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হবে, যা তাদের মুখমণ্ডল ও কাপড় আলোড়িত করবে। যার ফলে তাদের সৌন্দর্য ও রূপ-লাবণ্যে বৃদ্ধি ঘটবে। فيرجعون إلى أهليهم وقد ازدادوا حسنا وجمالا তারা রূপ-লাবণ্যে সমৃদ্ধাবস্থায় স্বজনদের নিকট ফিরবে, فيقولهم أهلوهم والله لقد ازددتم بعدنا حسنا وجمالا তখন তাদের স্ত্রীরা বলবে, আল্লাহর কসম, আমাদের থেকে পৃথক হওয়ার পর তোমাদের সৌন্দর্যে বৃদ্ধি ঘটেছে। فيقولون : والله وأنتم ازددتم بعدنا حسنا وجمالا উত্তরে তারা বলবে, আল্লাহর শপথ, আমাদের প্রস্থানের পর তোমাদের সৌন্দর্যেও বৃদ্ধি ঘটেছে।

ইমাম আহমদ রহ. তার মুসনাদে হযরত হাম্মাদ ইবনে সালামাহ রহ. হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, জান্নাতে কস্তুরির টিলা থাকবে, জান্নাতীরা সেদিকে গমন করলে তা হতে বায়ু প্রবাহিত হবে।

ইবনে আবী আসিম রহ. স্বীয় গ্রন্থ কিতাবুস্ সুন্নাহতে স্ব-সনদে হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব রহ. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, আমি হযরত আবূ হুরায়রা রা. এর সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি বললেন, আমি আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'আ করি, যেন আল্লাহ তা'আলা আমাকে এবং তোমাকে জান্নাতের বাজারে একত্রিত করেন। তখন হযরত সাঈদ রা. বললেন, জান্নাতে কি বাজার থাকবে? উত্তরে আবূ হুরায়রা রা. বললেন, হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, ان أهل الجنة إذا دخلوها نزلوها بفضل أعمالهم জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশের পর স্ব-স্ব আমল মোতাবেক সেখানে বাসস্থান পাবে। فيزورون الله تبارك وتعالى فيؤذن لهم فبمقدار يوم الجمعة من أيام الدنيا এরপর দুনিয়ার দিনের সীমা অনুপাতে এক সপ্তাহ পর ঘোষণা মাফিক তারা আল্লাহর দর্শন লাভ করবে| فيبرزهم عرشه ويتبدى لهم في روضة من رياض الجنة فيوضع لهم منابر من نوره منابر من لؤلؤ ومنابر من زبرجد ومنابر من ياقوت ومنابر من ذهب ومنابر من فضة তখন তাদের জন্য আরশ উদ্ভাসিত হবে। আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে কোন এক উদ্যানে তাঁর বড়ত্বের পর্দা উন্মোচন করবেন। তখন জান্নাতীগণ তাঁর দর্শন লাভ করবে। তাদের জন্য মুক্তামালা, পোখরাজ, পদ্মরাগ মণি, স্বর্ণ, রৌপ্য ইত্যাদির পৃথক পৃথক মিম্বর থাকবে। ويجلس أدناهم وما فيها دنى على كثبان المسك والكافور জান্নাতীদের মধ্যে সর্বনিম্ম স্তর লাভকারী কস্তুরি ও কাফুরের মিম্বরে বসবে, যদিও কোনো জান্নাতীই নিম্ন স্তরের নয়। ما يرون أن أصحاب الكراسي بأفضل منهم مجلسا তারা সিংহাসনে উপবেশনকারীদেরকে নিজেদের তুলনায় মর্যাদাবান মনে করবে না।

হযরত আবূ হুরায়রা রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলাম, هل نرى ربنا عز وجل আমরা কি আল্লাহ তা'আলার দর্শন লাভ করব? قال نعم قال : هل تمارون في رؤية الشمس والقمر ليلة البدر قلنا : لا তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দিনের বেলায় সূর্য দেখতে অথবা চৌদ্দ তারিখ রাতের চাঁদ দেখতে কি তোমাদের কোন সমস্যা হয়? আমরা বললাম, না| قال فكذالك لا تمارون في رؤية ربكم রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তেমনিভাবে তোমরা তোমাদের প্রভুকে দেখতে কোন সমস্যার সম্মুখীন হবে না। ولا يبقى في ذالك المجلس أحد إلا حاضره الله محاضرة সে মজলিসে উপস্থিত সকলেই আল্লাহ তা'আলাকে সরাসরি দেখবে। حتى يقول يا فلان ابن فلان أتذكر يوم فعلت كذا وكذا তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, হে অমুকের পুত্র অমুক! তোমার কি স্মরণ আছে, তুমি অমুক দিন কি কি করেছ? فيقول بلی افلم تغفر لي সে বলবে, হ্যাঁ, আপনি কি আমাকে ক্ষমা করেননি? فيقول بلی আল্লাহ তাআলা বলবেন, হ্যাঁ। فبمغفرتي بلغت منزلتك هذه আমার ক্ষমা শুনেই তুমি আজ এ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছ।

قال : فبينماهم على ذالك إذ غشيتهم سحابة من فوقه তিনি বলেন, সে অবস্থায়ই তাদেরকে এক খণ্ড মেঘমালা ঘিরে নেবে। فامطرت مطرا طيبا لم يجدوا مثل ريحه شيئا قط তখন তাদের উপর এমন সুগন্ধিময় বৃষ্টি বর্ষিত হবে, যেরূপ সুগন্ধি তারা অন্য কোন সময় অন্য কোন বস্তু হতে পায়নি।

ثم يقول ربنا تبارك وتعالى : قوموا إلى ما اعددت لكم من الكرامة فخذوا ما اشتهيتم রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলবেন, সব নিআমত তোমার সম্মানে তৈরী করেছি, সেগুলোর নিকট যাও এবং যথেচ্ছা গ্রহণ কর।

قال : فيأتون سوقا قد حفت بها الملائكة فيه তিনি বলেন : তখন তারা এমন বাজারে যাবে, যা ফেরেশতাদের দ্বারা পরিবেষ্টিত।

مالم تنظر العيون إلى مثله ولم تسمع الآذان ولم يخطر على القلوب নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অতঃপর তারা এমন বাজারে যাবে, যাকে ফিরিশতারা তাদের পাখা দ্বারা বেষ্টন করে রেখেছে। তাতে এমন সব বস্তু থাকবে, যা কোন কান শ্রবণ করেনি ও কোন চক্ষু কখনো অবলোকন করেনি এবং কোন অন্তরে তার কল্পনাও কখনো উদিত হয়নি।

قال : فيحمل لنا ما اشتهينا ليس يباع فيه ولا يشترى রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমরা সেখানে যা চাইব তাই পাব, সে বাজারে কোন ক্রয় বিক্রয় হবে না, وفيذلك السوق يلقى أهل الجنة بعضهم بعضاً সে বাজারেরই জান্নাতীরা পরস্পরে সাক্ষাৎ করবে।

قال : فيقبل ذو البزة المرتفعة فيلقي من هو دونه وما فيهم دني রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, উচ্চ স্তরের জান্নাতী ব্যক্তি তার চেয়ে নিম্ন স্তরের জান্নাতীর সাথে সাক্ষাৎ করবে, সেখানে কেউ হীন অবস্থায় থাকবে না। فيروعه ما يرى عليه من اللباس والهيئة فما ينقضى آخر حديثه حتى يتمثل عليه أحسن منه সে ব্যক্তির পোশাক ও অন্যান্য বস্তু দেখে অপর ব্যক্তি আশ্চর্য বোধ করবে। তখন সে তার কথা সম্পন্ন করতে না করতেই তার পোশাক ও অন্যান্য অবস্থা তদপেক্ষা সুন্দর ও সুশ্রী হবে। وذلك انه لا ينبغي لأحد ان يحزن فيها তা এ জন্য যে, সেখানে কেউ পেরেশান হওয়া সমীচীন হবে না।

قال : ثم تنصرف إلى منازلنا فيلقانا أزواجنا তিনি বলেন : যখন আমরা নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন করব, তখন আমাদের স্ত্রীগণ আমাদের অভ্যর্থনা জানাবেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: مرحبا وأهلا بحبنا অতঃপর আমরা স্ব স্ব ঠিকানায় ফিরে যাব। তখন আমাদের স্ত্রীরা আমাদেও দেখে এগিয়ে এসে অভ্যর্থনা জানিয়ে বলবে, স্বাগতম, সু-স্বাগতম হে আমার প্রিয়তম! لقد جئت وان بك من الجمال والطيب افضل مما فارقتنا عليه निश्चयই তোমরা আমাদের নিকট হতে প্রস্থান অবস্থার চেয়ে অধিক সুন্দর ও সুদর্শন হয়ে ফিরে এসেছ। فنقول : ان جالسنا اليوم ربنا الجبار তখন তুমি বলবে, আমরা আজ আল্লাহ তা'আলার মজলিসে উপস্থিত হয়েছি। وبحقنا ان ننقلب بمثل ما انقلبنا সুতরাং আমরা যে অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করেছি এ অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করাই আমাদের প্রাপ্য অধিকার।

ইমাম তিরমিযী রহ. স্ব-সনদে৩৯০ হযরত আলী রা. হতে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ان في الجنة لسوقا ما فيها بيع ولا شراء إلا الصور من الرجال والنساء জান্নাতে এমন একটি বাজার রয়েছে, যেখানে নারী পুরুষের প্রতিকৃতি ব্যতীত অন্য কিছু ক্রয়-বিক্রয় হবে না। فاذا اشتهى الرجل الصورة دخل فيها সুতরাং যদি কেউ কোন প্রতিকৃতি পসন্দ করে, তবে সে উক্ত প্রতিকৃতিতে রূপান্তরিত হবে।

আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. সুলাইমান তাইমী রহ. এর সূত্রে হযরত আনাস বিন মালিক রা. হতে বর্ণনা করেন। জান্নাতীরা কস্তুরির টিলা ধরে বাজারে যাবে। অতঃপর যখন তারা স্বীয় স্ত্রীদের নিকটে ফিরে আসবে তখন তারা বলবে, আমরা তোমার থেকে এমন সুগন্ধি-সুঘ্রাণ পাচ্ছি, যা ইতোপূর্বে পাইনি। স্ত্রীও বলবে, তুমিও এমন সুগন্ধি নিয়ে ফিরেছ যা আমার নিকট থেকে প্রস্থানের সময় ছিল না।

আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক হুমায়দ আত-তভীলের সূত্রে হযরত আনাস রা. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, জান্নাতে কস্তুরির টিলায় একটি বাজার রয়েছে। জান্নাতীরা সেখানে একত্রিত হলে আল্লাহ তা'আলা একটি বায়ু প্রবাহিত করবেন, যা তাদের ঘরে প্রবেশ করবে। অতঃপর তারা ঘরে স্ত্রীর নিকট ফিরে গেলে স্ত্রী বলবে, আমার নিকট হতে প্রস্থানের পর তোমার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তখন তারাও তাদের স্ত্রীদের লক্ষ্য করে বলবে, আমার প্রস্থানের পর তোমারও সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

হাফিয মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল হাযরামী রহ. স্ব-সনদে হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, خرج علينا রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমতাবস্থায় আমাদের নিকট এসে বললেন, আমরা একত্রে বসে ছিলাম رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن مجتمعون
فقال يا معشر المسلمين ان في الجنة لسوقا ما يبايع فيها ولا يشترى الا الصور من الرجال والنساء হে মুসলিম সম্প্রদায়! জান্নাতে এমন একটি বাজার রয়েছে, যাতে মানব প্রতিকৃতি ব্যতীত অন্য কোন বস্তু ক্রয়-বিক্রয় হবে না। من أحب صورة من رجل او امرأة دخل فيها সুতরাং কারো যদি সেখানে কোনো আকৃতি ভালো লাগে, তৎক্ষণাৎ তার চেহারায় সে আকৃতি প্রতিস্থাপিত হয়ে যাবে। والله اعلم

টিকাঃ
৩৮৯. খ. ২ পৃ. ৩৭৯
৩৯০. খ. ২, পৃ. ৮২

📘 জান্নাতের স্বপ্নীল ভুবন > 📄 কেমন হবে প্রিয় প্রভুর দর্শন?

📄 কেমন হবে প্রিয় প্রভুর দর্শন?


ইমাম শাফেঈ রহ. স্বীয় মুসনাদে স্ব-সনদে হযরত আনাস রা. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, হযরত জিবরীল আ. নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট রেখা টানা এক শুভ্র সীসা নিয়ে এলেন। قال النبي صلى الله عليه وسلم ما هذه قال الجمعة فضلت بها انت وأمتك؟ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, এটি কী? উত্তরে জিবারীল আ. বললেন, এ হল জুমার দিন। এর মাধ্যমে আপনাকে ও আপনার উম্মতকে অন্যদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করা হয়েছে। فالناس لكم فيها تبع اليهود والنصارى ইয়াহুদী ও খৃস্টানরা এতে তোমাদের অনুগামী। ولكم فيها خير এতে তোমাদের জন্য কল্যাণ ও মঙ্গল নিহিত রয়েছে। وهوفيها ساعة لا يوافقها مؤمن يدع الله بخير الا استجيب له সে দিনে এমন একটি বরকতময় ক্ষণ রয়েছে, সে মুহুর্তে কোন মু'মিন কোন দু'আ করলে আল্লাহ তা'আলা তা কবুল করে নেন।

ফিরিশতাদের কাছে এদিন হল ইয়াওমুল মাযীদ (অতিরিক্ত নিআমত লাভের দিবস)। قال النبي صلى الله عليه وسلم يا جبريل وما يوم المزيد রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে জিবরীল! ইয়াওমুল মাযীদ আবার কি? তিনি বললেন, আপনার প্রভু জান্নাতুল ফিরদাউসে একটি উপত্যকা তৈরী করেছেন, যেখানে মিশকের টিলা হতে মিশকের বাতাস প্রবাহিত করা হয় فاذا كان يوم الجمعة أنزل الله تبارك وتعالى ماشاء من الملائكة যখন জুম'আর দিন আসবে, তখন আল্লাহ তা'আলা যে পরিমাণ ইচ্ছা সে পরিমাণ ফিরিশতা প্রেরণ করবেন।

وحولها منابر من نور عليها مقاعد النبيين তাঁর পার্শ্বে নূরের মিম্বর থাকবে, যার উপর নবীগণ উপবিষ্ট থাকবেন। وحف تلك المنابر بمنابر من ذهب مكللة بالياقوت والزبرجد সে মিম্বরগুলো পোখরাজ ও পদ্মরাগ মণির প্রলেপ বিশিষ্ট স্বর্ণের عليها الشهداء والصديقون মিম্বর দ্বারা বেষ্টিত থাকবে তার উপর শহীদগণ ও সত্যবাদীগণ থাকবেন। فجلسوا من ورائهم على تلك الكتب তাঁরা নবীগণের পেছনে টিলার উপরে বসবেন। فيقول الله تبارك وتعالى: أنا ربكم قد صدقتكم وعدي فسلوني أعطكم তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আমি তোমাদের প্রভু। তোমরা আমার সাথে কৃত ওয়াদা বাস্তবায়ন করেছ। সুতরাং তোমরা আমার নিকট প্রার্থনা কর, আমি তোমাদের দান করব। فيقولون ربنا نسئلك رضوانك তারা বলবে, হে প্রভু! আমরা আপনার সন্তুষ্টি প্রার্থনা করি। فيقول: قدرضيت عنكم ولكم على ما تمنيتم আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আমি তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট। অতিরিক্ত হিসাবে তোমরা যা চাবে তাই পাবে ولدي مزيد এবং আমার নিকট অতিরিক্ত আরো পাওয়া রয়েছে।। فهم يحبرون يوم الجمعة لما يعطيهم فيه ربهم من الخير একারণে তারা জুমআর দিনকে পছন্দ করবে। কেননা, সে দিনই আল্লাহ তা'আলা কল্যাণ প্রদান করেন। وهو اليوم الذي استوى فيه ربكم على العرش এই দিনই আল্লাহ তা'আলা আরশে উপবেশন করেছেন (তাঁর শান মোতাবেক)। وفيه خلق آدم علیه السلام এই দিনই হযরত আদম আ. কে সৃষ্টি করেছেন। وفيه تقوم الساعة এই দিনেই কিয়ামত তথা মহাপ্রলয় সংঘটিত হবে।

আবূ নাঈম স্ব-সনদে হযরত আবূ বারযাহ আসলামী রা. হতে বর্ণনা করেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ان أهل الجنة ليغدون في حلة ويروحون في الأخرى জান্নাতীরা সকালে এক জোড়া কাপড় পরিধান করবে আর সন্ধ্যায় এক জোড়া কাপড় পরিধান করবে। كغدو أحدكم ورواحه إلى ملوك من ملكوك الدنيا যেমনিভাবে তোমরা সকাল-সন্ধ্যায় দুনিয়ার বাদশাহদের নিকট গিয়ে থাক। كذالك يغدون ويروحون الى زيارة ربهم عز وجل তেমনিভাবে ফিরিশতারা সকাল-সন্ধ্যা তোমাদের প্রভুর দর্শনে যাবে। وذالك لهم بمقادير ومعالم يعلمون تلك الساعة التي يأتون فيها ربهم عز وجل وذلك لهم بمقادير ومعالم يعلمون تلك الساعة التي يأتون فيها ربهم عز وجল তারা নির্দিষ্ট সময়ের ভেতর বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্বীয় প্রভুর নিকট উপস্থিত হবে।

আবূ নাঈম স্ব-সনদে হযরত আলী রা. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, যখন জান্নাতীরা জান্নাতে বসবাস করবে তখন একজন ফিরিশতা এসে বলবে, আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তখন তারা একত্রিত হলে আল্লাহ তা'আলা হযরত দাউদ আ. কে সুউচ্চ কণ্ঠে তাসবীহ এবং তাহলীল পড়ার নির্দেশ দিবেন। অতঃপর মায়েদাতুল খুলদ বিছানো হবে। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মায়েদাতুল খুলদ কি? নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা হল জান্নাতের একটি প্রশস্ত আঙ্গিনা, যা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যবর্তী দূরত্ব পরিমাণ প্রশস্ত। সেখানে তারা পানাহার করবে ও পোশাক পরিধান করবে। তখন তারা বলবে, আল্লাহ তা'আলার দীদার ব্যতীত সকল নিআমতই অর্জিত হল। তখন আল্লাহ তা'আলা তাঁর বড়ত্বের পর্দা উঠিয়ে জান্নাতীদের সামনে আবির্ভূত হলে তারা সিজদায় লুটে পড়বে। তখন তাদেরকে বলা হবে, তোমরা ইবাদতের জগতে নও, পুরস্কারপ্রাপ্তির জগতে চলে এসেছ।

আবূ নাঈম স্ব-সনদে ইদরীস হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে ফাতিমা রা.-এর সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি আমাকে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতে তৃবা নামক একটি গাছ থাকবে। কোন উন্নত জাতের ঘোড়া একশত বছর তার ছায়ায় ভ্রমণ করলেও তার পরিধি অতিক্রম করতে সক্ষম হবে না। তার পাতা সবুজ কাপড়ের ন্যায় হবে। তার ফুল হবে হলুদ রং-এর সুষমাময় হবে। তার ফুলের আবরণ হবে সূক্ষ্ম ও পুরু রেশমের। তার ফল হবে কাপড়ের জোড়া। তা থেকে নির্গত আঠা হবে আদা ও মধু। তার পাথর কণা হবে লাল পদ্মরাগ মণি ও সবুজ পাথর। তার মাটি হবে কস্তুরির। আর ঘাস হবে যাফরানের। তার শিকড় হতে সালসাবীল ঝর্ণা ও খাঁটি শরাবের নহর প্রবাহিত হবে। তার ছায়া জান্নাতীদের মজলিসকে পূর্ণ বেষ্টন করে রাখবে। সেখানে তারা মিলে মিশে বসবে। সে অবস্থায়ই তারা একদিন গল্প করতে থাকবে তখন তাদের নিকট একজন ফিরিশতা আসবেন। তিনি ইয়াকৃত দ্বারা সৃষ্ট একটি অশ্ব নিয়ে আসবেন। তাতে তখন রূহ দেওয়া হবে। স্বর্ণের শিকলের লাগাম পরানো হবে। তার মুখমণ্ডল হবে প্রদীপসম উজ্জ্বল ও সুদর্শন। তার কেশ হবে লাল রেশমের। পশম হবে শুভ্র রেশমের। তা উভয় রং মিশ্রিত হবে, দর্শকরা তেমন আর দেখেনি। তার উপর হাওদা থাকবে। যার কাঠ হবে মুক্তা ও পদ্মরাগ মনির, যাতে মনি মুক্তা বসানো থাকবে এবং প্রবাল থাকবে। তার গদি হবে লাল স্বর্ণের ও উন্নত লাল কাপড়ের গদি থাকবে।

তখন সে ফিরিশতা সে উন্নত ঘোড়া জান্নাতীদের নিকট নিয়ে বসাবে এবং তাদেরকে বলবে, তোমাদের প্রভু সালাম দিচ্ছেন। অচিরেই তোমরা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে এবং তাঁর দর্শন লাভ করবে। তিনি তোমাদেরকে সালাম করবেন ও তোমরা তাঁর জবাব দিবে আর তাঁর সাথে কথা বলবে, তিনিও তোমাদের সাথে কথা বলবেন। তোমাদেরকে তাঁর উদারতা ও দয়াগুণে অতিরিক্ত প্রদান করবেন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত দয়ালু এবং অতি কৃপাময়।

অতঃপর তারা আরোহীতে আরোহণ করবে এবং সারিবদ্ধভাবে চলতে থাকবে। তাদের সব কিছুই সমান থাকবে। কোন কিছু উঁচু-নিচু হবে না। কোন উষ্ট্রীর কান অপর উষ্ট্রীর নিকটবর্তী হবে না। কোন উষ্ট্রী অপর উষ্ট্রীর নিকটে নিকটে চলবে না। তারা জান্নাতে যে কোন গাছের নিকট দিয়েই অতিক্রম করবে সে গাছ তাদেরকে তার ফল উপহার দিবে এবং তাদের পথ মুক্ত করে দিবে। যেন তাদের সারি ভঙ্গ না হয় বা কেউ তার সাথী হতে বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে। যখন তারা আল্লাহ তা'আলার সামনে উপস্থিত হবে, তখন তিনি স্বীয় পবিত্র সত্তার আত্ম প্রকাশ করবেন। তখন তারা বলবে, হে আমাদের প্রভু! আপনি শান্তির আধার। শান্তি আপনার পক্ষ হতেই অবতারিত হয়। বড়ত্ব ও মহত্ত্ব একমাত্র আপনারই জন্য। তখন আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে বলবেন, অবশ্যই আমি শান্তির আধার, শান্তি আমার পক্ষ হতেই অবতারিত হয়। বড়ত্ব ও মহত্বের অধিকারী একমাত্র আমিই। আমি আমার সে বান্দাদের স্বাগতম জানাচ্ছি, যারা আমার আদেশ যথাযথ মান্য করেছে এবং আমার সাথে কৃত অঙ্গীকার রক্ষণাবেক্ষণ করেছে ও না দেখেই আমাকে ভয় করেছে। আর সর্বাবস্থায়ই আমাকে ভয় করেছে। তখন তারা বলবে। আপনার ইযযত বুযুর্গী ও বড়ত্ব-মহত্ত্বের কসম, আমরা আপনার যথাযোগ্য মর্যাদা ও মূল্যায়ন করতে পারিনি। আপনার পূর্ণ হক আদায় করতে পারিনি। সুতরাং আপনি আমাদেরকে আপনার সামনে সিজদা করার অনুমতি দিন।

আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে বলবেন, আমি তোমাদের থেকে ইবাদতের কষ্ট লাঘব করে দিয়েছি। তোমাদের শরীরকে বিশ্রাম ও শান্তি দিয়েছি। দীর্ঘকাল তোমরা আমার সন্তুষ্টির নিমিত্তে তোমাদের শরীরকে ক্লান্ত-শ্রান্ত করেছ ও আমার সামনে মাথা অবনত করেছ। এখন তোমরা আমার সন্তুষ্টি, দয়া ও মহত্ত্বের স্থলে আছে। সুতরাং তোমরা আমার নিকট যা প্রার্থনা করার কর। যা আকংখা করার আকাংখা কর। তোমাদেরকে তোমাদের প্রত্যাশা ও আকাংখা অপেক্ষা অধিক দান করব।

আমি তোমাদেরকে তোমাদের আমল অনুযায়ী প্রতিদান প্রদান করব না; বরং আমার বড়ত্ব-মহত্ত্ব, ক্ষমতা-কুদরত ও মহান শান মোতাবেক প্রতিদান প্রদান করব।

তখন জান্নাতীরা ধারাবাহিকভাবে আশা আকাংখা ব্যক্ত করতে থাকবে। এমনকি সর্বাপেক্ষা কম আশা-আকাংখা ব্যক্তকারী এ জগৎ সৃষ্টির সূচনা লগ্ন হতে কিয়ামত পর্যন্ত সৃষ্ট সকল বস্তুর প্রত্যাশা করবে। আল্লাহ তা'আলা তাকে বলবেন, তুমিতো অত্যন্ত নগণ্য আকাংখা ব্যক্ত করলে, তুমি তোমার হক হতে স্বল্প পরিমাণেই সন্তুষ্ট হয়ে গেলে? সুতরাং তুমি যা প্রার্থনা করলে এবং যা প্রত্যাশা করেছ, তা আমি তোমাকে দান করলাম এবং তোমার সন্তানদের তোমার সাথে মিলন ঘটিয়ে দিলাম। আর তোমাদের আকাংখার স্বল্পতা দূর করে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলাম।

যাহহাক রহ. আল্লাহ তা'আলার বাণী, يَوْمَ نَحْشُرُ الْمُتَّقِينَ إِلَى الرَّحْمَنِ وَفْدًا (যেদিন দয়াময়ের নিকট সম্মানিত মুত্তাকীদের মেহমানরূপে সমবেত করব) এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন, তাদের হাওদা বিশিষ্ট উন্নত অশ্বের উপর আরোহণ করিয়ে সমবেত করা হবে।

📘 জান্নাতের স্বপ্নীল ভুবন > 📄 জান্নাতে বৃষ্টিপাত

📄 জান্নাতে বৃষ্টিপাত


জান্নাতে অবস্থিত বিপনিবিতান সংক্রান্ত হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে, আল্লাহ তা'আলার দীদারের দিন জান্নাতীদেরকে এক খণ্ড মেঘমালা বেষ্টন করে নিবে এবং তাদের উপর এমন সুগন্ধিময় বৃষ্টি বর্ষিত হবে, যে সুগন্ধি ইতোপূর্বে তারা লাভ করেনি।

বাকিয়াহ ইবনে ওয়ালীদ রহ. স্ব-সনদে কাসীর ইবনে মুররাহ রহ. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, জান্নাতীদের অতিরিক্ত প্রাপ্তিতে এও রয়েছে, জান্নাতীদের নিকট একটি মেঘ অতিক্রম কালে তাদেরকে বলবে, তোমরা আমার নিকট যে বস্তুর বর্ষণ কামনা করবে, আমি সে বস্তুই বর্ষণ করব। তখন তারা যে বস্তুর বর্ষণ কামনা করবে, সে বস্তুই তাদের উপর বর্ষিত হবে।

ইবনে আবিদ দুনিয়া স্ব-সনদে সফী আল ইয়ামেনি রহ. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, আবদুল আযীয ইবনে মারওয়ান হতে জান্নাতীদের প্রতিনিধি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, জান্নাতীরা প্রতি বৃহস্পতিবার আল্লাহ তা'আলার মেহমান হয়ে যাবে। তখন তাদের জন্য বিছানা বিছানো হবে। তারা প্রত্যেকে সে আসনকে স্বীয় আসন অপেক্ষা বেশি চিনবে। সকলে স্ব স্ব আসনে বসলে আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আপ্যায়ন করাও আমার বান্দাদেরকে, আমার আদরের সৃষ্টিকে, আমার প্রতিবেশীদেরকে, আমার কাছে আগত প্রতিনিধিদেরকে। তখন তারা আপ্যায়িত হবেন। আল্লাহ বলবেন, তাদেরকে পান করাও। তখন বিভিন্ন প্রকার মোহর আঁটা পাত্রে তাদের জন্য পানীয় আনা হবে। তারা তা হতে পান করবে। তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, হে আমার বান্দা! হে আমার মাখলুক, আমার প্রতিবেশী, আমার অতিথি, তোমরা পানাহার তো করলে এখন ফল খেয়ে নাও। তখন অবনত ফলবান বৃক্ষ তাদের নিকট এসে উপস্থিত হবে। তারা তা থেকে ইচ্ছানুযায়ী খাবে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে লক্ষ্য করে বলবেন, হে আমার মেহমান! তোমরা পানাহার করলে এবং ফল খেলে, এবার পোশাক পরে নাও। তখন তাদের সামনে লাল, সবুজ, হলুদ, বিভিন্ন রংয়ের ফল উপস্থিত হবে। সেগুলো হতে শুধু মাত্র জোড়া জোড়া কাপড় উৎপন্ন হবে, সেগুলো তাদের সামনে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

আল্লাহ তা'আলা তখন তাদেরকে বলবেন, হে আমার বান্দা, হে আমার খাস মাখলুক, আমার প্রতিবেশী, আমার মেহমান, তোমরা পানাহার করলে, ফল খেলে এবং পোশাকও পরিধান করলে, এখন সুগন্ধি নাও। তখন তাদের উপর বারিরাশির ন্যায় সুগন্ধি ছড়ানো হবে।

আল্লাহ তা'আলা তখন তাদেরকে লক্ষ্য করে বলবেন, হে আমার বান্দা, হে আমার খাস মাখলুক, হে আমার প্রতিবেশী, আমার মেহমান, তোমরা পানাহার করলে, ফল খেলে এবং সুগন্ধিও নিলে, এখন আমি আমার বড়ত্বের পর্দা দূর করে তোমাদের সামনে দৃশ্যমান হব। তোমরা আমার দর্শন লাভ করবে।

আল্লাহ তা'আলা দৃশ্যমান হলে তারা আল্লাহ তা'আলার প্রতি দৃষ্টিপাত করলে তাদের মুখমণ্ডল সজীব হয়ে উঠবে। তখন তাদেরকে বলা হবে, তোমরা সকলে স্বীয় গন্তব্যে ফিরে যাও। তারা সেখান থেকে ফিরে গেলে তাদের স্ত্রীরা তাদেরকে বলবে, আমাদের নিকট হতে প্রস্থানের কালে তোমাদের চেহারা এক প্রকৃতির ছিল; কিন্তু প্রত্যাবর্তনের পর অন্য প্রকৃতির মনে হচ্ছে। তখন তারা বলবে, আল্লাহ তা'আলা আমাদের সামনে দৃশ্যমান হওয়ায় আমরা তাঁর দর্শন লাভ করার ফলে আমাদের চেহারা সজীব হয়ে উঠেছে।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. স্ব-সনদে শুফাই ইবনে মাতি'আসহাবী রা. হতে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
ان من نعيم أهل الجنة انهم يتزاوَرُون على المطايا والنجب জান্নাতীদের লাভকৃত নিআমতসমূহে এও রয়েছে, তারা উন্নত জাতের ঘোড়া ও সাওয়ারীর উপর আরোহণ করে পরস্পর সাক্ষাৎ করবে। واهم يؤتون في الجنة بخيل مسرجة ملجمة لا تروث ولا تبول তাদেরকে জান্নাতে হাওদা ও লাগাম বিশিষ্ট এমন ঘোড়া প্রদান করা হবে, যা মলমূত্র ত্যাগ করবে না। يركبونها حتى ينتهوا حيث شاء الله তারা তাতে আরোহণ করে আল্লাহ তা'আলা যেখানে ইচ্ছা করেন, সেখানে যাবে। : فيأتيهم مثل السحابة فيها ما لا عين رأت ولا أذن سمعت তখন তাদের নিকট এমন এক মেঘখণ্ড আসবে, যাতে এমন বস্তু রয়েছে, যা কোন চোখ দেখেনি, কোনো কান কখনো শুনেনি। তারা সে মেঘমালাকে বৃষ্টি বর্ষণ করতে বলবে, তখন সে মেঘমালা হতে মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষিত হবে। যা প্রত্যাশা অপেক্ষা অধিক হবে।

অতঃপর আল্লাহ তা'আলা এমন এক বায়ু প্রবাহিত করবেন, যাতে কোন প্রকার কষ্টদায়ক বস্তু থাকবে না। সে বায়ু কস্তুরির টিলা হতে কস্তুরি কণা উড়িয়ে এনে তাদের ডানে-বামে ছড়িয়ে দিবে। তারা সে কস্তুরি কণা তাদের ঘোড়ার কপালে সিথিতে ও তাদের মাথায় মেখে নিবে। তাদের প্রত্যেকের মাথায়, কাঁধে ঢেউ তোলা অনিন্দ্য সুন্দর বাবরী চুল শোভা পাবে। সে কস্তুরি তাদের চুলগুলো ঘোড়ার সর্বাঙ্গে ও তাদের দেহের বিভিন্ন অঙ্গের উপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সুগন্ধি বিলাবে। অতঃপর তারা সম্মুখে অগ্রসর হবে এবং আল্লাহ তা'আলা যেখানে ইচ্ছা সে পর্যন্ত যাবে। তখন তাদের মধ্য হতে প্রত্যেককে একেকজন রমণী এসে ডেকে বলবে, হে আল্লাহর বান্দা! আমাদের প্রতি তোমার কি কোন আগ্রহ নেই? সে ব্যক্তি বলবে, কে তুমি? কে তুমি? উত্তরে সে বলবে, আমি তোমার স্ত্রী, তোমার প্রেয়সী। সে ব্যক্তি বলবে, আমারতো তোমার ঠিকানা জানাই ছিল না। সে মহিলা তখন বলবে, কেন? তোমার কি জানা নেই, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أعين جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ কোনো ব্যক্তি জানে না, তাদের নয়ন প্রীতিকর কী লুকায়িত রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ৩৯১।

জান্নাতীদের উপর সুগন্ধ বৃষ্টি
আল্লাহ তা'আলা মেঘমালা ও বৃষ্টিকে এই পৃথিবীতে তাঁর রহমতের মাধ্যম ও জীবন ধারণের উপকরণ হিসাবে নির্ধারিত করেছেন। সেই বৃষ্টিকে पुनरुत्थানের পর মানব জাতির পুন:জীবনের মাধ্যম নির্ধারণ করেছেন। আরশের তলদেশ হতে চল্লিশ দিন যাবৎ মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ার পর মানুষ কবরদেশ থেকে তেমনিভাবে উঠতে থাকবে, যেমনিভাবে উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়। কিয়ামত দিবসে তারা উঠতে থাকবে, এমতাবস্থায় তাদের উপর হালকা বৃষ্টি বর্ষিত হতে থাকবে, তা যেন মুষলধারে বৃষ্টির শেষাংশ।

জান্নাতে তাদের জন্য একখণ্ড মেঘ থাকবে, যা তাদের আকাংখা মোতাবেক সুগন্ধি ও অন্যান্য বস্তুর বারি বর্ষণ করবে। এমনিভাবে জাহান্নামীদের উপর আযাবের বারিবর্ষণের জন্য একখণ্ড মেঘ থাকবে। যেমনিভাবে আ'দ জাতি এবং শুআয়ব আ.-এর কওমের উপর বর্ষণ করেছিলেন। যা তাদেরকে ধ্বংস করে ফেলেছে। সুতরাং রহমত এবং আযাব উভয় ক্ষেত্রেই এই মেঘমালার অবদান সে সত্তার বরকতময় সৃষ্টি।

টিকাঃ
৩৯১. সূরা সাজদা, আয়াত: ১৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00