📄 জান্নাতী রমণীদের প্রজনন
ইমাম তিরমিযী রহ. তাঁর জা'মে গ্রন্থে৩৮১ হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, المؤمن اذا اشتهى الولد في الجنة كان حمله ووضعه وسنه في ساعة كما يشتهي যদি মু'মিন জান্নাতে সন্তানের আকাংখা করে, তাহলে তার স্ত্রীর গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব ও সন্তানের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া মুহূর্তেই সম্পাদিত হবে।
এ ব্যাপারে উলামায়ে কিরামের মাঝে দ্বি-মত রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, জান্নাতে স্ত্রী-সহবাস হবে কিন্তু সন্তান জন্ম হবে না। হযরত তাউস রহ., মুজাহিদ রহ. ও ইবরাহীম নাখঈ রহ. প্রমুখ হতে এরূপ বর্ণিত আছে।
ইমাম বুখারী রহ. ইসহাক ইবনে ইবরাহীম এর সূত্রে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস উল্লেখ করেন, মু'মিন ব্যক্তি যদি জান্নাতে সন্তানের আকাংখা করে, তবে এ সবই মুহূর্তের মধ্যে সম্পাদিত হবে, কিন্তু মু'মিন ব্যক্তি এরূপ আকাংখা করবে না।
ইমাম বুখারী রহ. বলেন, আবূ যারর ইবনুল উকায়লী রহ. নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, ان أهل الجنة لا يكون لهم فيها ولد জান্নাতীদের জান্নাতে কোন সন্তান হবে না।
আবূ নাঈম রহ.স্ব-সনদে হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রশ্ন করা হল أيولد لأهل الجنة، فان الولد من تمام السرور জান্নাতীদের কি সন্তান জন্মগ্রহণ করবে? কেননা, সন্তান লাভ করা হল আনন্দ ও প্রফুল্লতার চূড়ান্ত রূপ। উত্তরে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, والذي نفسي بيده وما هو الا کقدر ما يتمنى أحدكم فيكون حمله ورضاعه وشبابه সে সত্তার শপথ! যার কুদরতী হাতে আমার জীবন, তার সন্তানের গর্ভধারণ, প্রসব, দুগ্ধপান ও তার যৌবনে উপনীত হতে সে পরিমাণ সময় লাগবে, যে পরিমাণ সময় লেগেছে তার অন্তরে এ সব কল্পনা উদিত হতে। (অর্থাৎ একদিকে সে এগুলো কল্পনা করবে আর অন্যদিকে এ সব কিছুই সম্পাদিত হয়ে যাবে।)
আবুল হাসান আলী ইবনে ইবরাহীম রহ. স্ব-সনদে হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণনা করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ان الرجل من أهل الجنة ليولد له كما يشتهى فيكون حمله وفصاله وشبابه في ساعة وأحدة কোন জান্নাতী সন্তানের আকাংখা করা মাত্রই তার সন্তান গর্ভধারণ করবে, তার সন্তানের প্রসব, দুগ্ধপান ও যৌবনে উপনীত হওয়া মুহূর্তের মধ্যেই সম্পাদিত হয়ে যাবে।
হাকিম রহ. স্ব-সনদে হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণনা করেন, জান্নাতীদের মধ্যে কেউ সন্তানের আকাংখা করলে মুহূর্তের মধ্যেই সন্তনের প্রসব, দুগ্ধপান ও যৌবনে উপনীত হওয়া সম্পাদিত হয়ে যাবে।
আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ রহ. তাঁর পিতা আহমদ রহ এর মুসনাদে৩৮২ সনদসহ আসিম ইবনে লাকীত রহ. হতে বর্ণনা করেন। লাকীত তার সঙ্গী নাহিক ইবনে আসিমের সাথে স্বীয় গোত্রের প্রতিনিধি হয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলেন।
হযরত লাকীত বলেন, আমি ও আমার সাথী এমন সময় নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হলাম, যখন তিনি ফজরের নামায শেষ করে জনসাধারণের সামনে দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। খুতবায় বললেন, সাবধান হে লোক সকল! আমি চার দিন যাবৎ নিশ্চুপ রয়েছি। সাবধান! আমি অবশ্যই তোমাদেরকে শুনাব। তোমাদের মাঝে এমন কোন ব্যক্তি আছে কি? যাকে তার সম্প্রদায় এ জন্য পাঠিয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেন, তা তুমি জেনে আমাদেরকে শুনাবে। সাবধান! হতে পারে, তাকে তার মনের-জল্পনা কল্পনা অথবা তার সাথীর কথা অথবা ভ্রষ্টতা তাকে উদাসীন করে রেখেছে। সাবধান! আমাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। তোমরা বল, আমি কি আল্লাহর বাণী পূর্ণাঙ্গভাবে পৌঁছিয়ে দিয়েছি? সাবধান! শুন এবং জীবন অতিবাহিত কর; সাবধান! বস, সাবধান! বস।
লাকীতর রহ. বলেন, সকল লোক বসে পড়ল, কিন্তু আমি আর আমার সাথী দাঁড়িয়ে থাকলাম, ততক্ষণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তরদৃষ্টি এবং বাহ্য দৃষ্টি আমাদের উপর নিবদ্ধ হল। তখন আমি বললাম, يارسول الله ما عندك من علم الغيب ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি অদৃশ্যের কতটুকু জানেন। فضحك রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা শুনে হেসে উঠলেন। لعمر الله وهز رأسه (লাকীত রা. বলেন) আল্লাহর শপথ! তিনি মাথা নাড়লেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝতে পারলেন, আমি সে রহস্য উদঘাটন করতে চাচ্ছি। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ضن ربك بمفاتيح خمس من الغيب لا يعلمهن الا الله তোমার প্রভুর পাঁচটি অদৃশ্য সম্পর্কে কাউকে অবহিত করেননি; বরং তা একমাত্র তিনিই জানেন। তিনি তাঁর হাত মুবারক দ্বারা ইঙ্গিত করলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, সে পাঁচটি বস্তু কি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, علم المنية قد علم متى منية أحدكم ولا تعلمونه মৃত্যুর খবর এক মাত্র তিনি জানেন, তোমরা কখন মৃত্যুবরণ করবে কিন্তু তোমরা তা জান না। وعلم ما في غد ما أنت طاعم غدا ولا تعلمه আগামীকাল তুমি যা ভক্ষণ করবে, তিনি তা জানেন, কিন্তু তোমরা তা জান না। وعلم الغيث يوم يشرف عليكم اذلين مشفقين তোমরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে বৃষ্টি প্রার্থনা করলে রহমতের বৃষ্টি কখন বর্ষণ করবেন, علم أن غيركم إلى قريب তিনি হাসতে থাকেন। কেননা তিনি জানেন, অন্যরা তা জানতে উদগ্রীব।
হযরত লাকীত রা. বলেন, لن نعدم من رب يضحك خيرا আমরা কখনো আমাদের প্রভুর কল্যাণকর হাসি হতে বঞ্চিত হব না। الساعة وعلم يوم এবং কিয়ামত তথা মহা প্রলয় সংঘটিত হওয়ার খবর আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কেউ জানে না। হযরত লাকীত রা. বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! علمنا ما تعلم الناس وما تعلم এবং লোকদেরকে যা শিক্ষা দেন, তা আমাদেরকে শিক্ষা দিন। কেননা, আমরা এমন গোত্রের সাথে সম্পর্ক রাখি, যারা আমাদের মত সত্যায়ন করে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ان تلبشون ما لبثتم ثم يتوفى نبيكم তোমরা তোমাদের নির্ধারিত সময় জীবন পাবে, এরপর তোমাদের নবী ইন্তিকাল করবেন। ثم تلبثون مالبثتم অতঃপর তোমরা তোমাদের সময় জীবন পাবে।
لعمر الهك لا تدع على اظهرها شيئا الا مات এক বিকট ধ্বনি ধ্বনিত হবে। তোমার প্রভুর শপথ! এ ভূ-পৃষ্টে কেউ-ই জীবিত থাকবে না; বরং সকলেই মৃত্যুবরণ করবে। والملائكة الذين مع ربك এবং তোমার প্রভুর নিকটতম ফিরিশতাও। فاصبح ربك يطوف في الأرض وخلت عليه البلاد অতঃপর তোমার প্রভু ভূ-পৃষ্ঠে ঘুরে বেড়াবেন (তাঁর শান মোতাবেক) এবং শহরের পর শহর শূণ্য থাকবে। فارسل ربك السماء تقضب من عند العرش এরপর তোমার প্রভু তাঁর আরশের নিকট হতে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। فلعمر الهك ما تدع على اظهرها من مصرع قتيل ولا مدفن ميت الا شقت القبر عنه حتى تجعله من عند رأسه فيستوى جالسا তোমার প্রভুর শপথ! এই ভূ-পৃষ্ঠে কোন নিহত ব্যক্তিকে রাখার বা কোন মৃতকে দাফন করার স্থান থাকবে না কবরের কারণে। অতঃপর মাথার দিক থেকে পুন:সৃষ্টি করা হবে এবং সে ব্যক্তি সোজা হয়ে বসবে। فيقول : ربك مهيم لماكان فيه অতঃপর যে অবস্থায় ছিল আল্লাহ তা'আলা তাকে সে অবস্থা সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন। يقول : يارب امتنى اليوم ولعهده بالحياة عشية يحسبه حديثا بأهله সে বলবে, হে প্রভু! আপনি তো আজই আমাকে মৃত্যু দান করেছেন। তাকে জীবিত করার সময় হবে শেষ বিকাল। সে ধারণা করবে, কিছুক্ষণ পূর্বে সে তার পরিবার-পরিজনের নিকট হতে এসেছে। فقلت : يارسول الله كيف يجمعنا بعد ما تمزقنا الرياح والبلى والسباع হযরত লাকীত রা. বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদেরকে ঝড়ঝঞ্জা, রোগ-ব্যাধি ও হিংস্র জীব-জন্তু চূড়ান্ত রূপে ধ্বংস করার পরও আল্লাহ আমাদের পূণর্জীবন দিয়ে একত্র করবেন? فقال انبنك রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি আল্লাহ তা'আলার নিআমতে তোমাকে তার উপমা পেশ করছি। الأرض مثل ذالك فيالاء الله فقلت لا تحيا أبدا اشرقت عليها وهي مدرة بالية বললাম, তা কখনো আবাদ করা যাবে না। ثم ارسل ربك عليها السماء অতঃপর তোমার প্রভু তাতে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন। تلبث عليك الا اياما حتى اشرقت عليها وهي شربة واحدة আমি বললাম, অতঃপর তা ফলেফুলে বাগানের রূপ ধারণ করে। তোমার প্রভুর শপথ! যমীনের বীযগুলো একত্রিত করার অপেক্ষা তোমাদেরকে পানি হতে একত্রিত করা তাঁর জন্য অধিক সহজ। মানুষ তাদের উজ্জ্বল কবর থেকে, নিহত হওয়ার স্থান থেকে উদিত হতে থাকবে। তখন তোমরা তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকবে, তিনিও তোমাদের দিকে তাকিয়ে থাকবেন। قال : قلت يارسول الله فكيف ونحن ملء الأرض وهو شخص وأحد ينظر الينا وننظر اليه
হযরত লাকীত রা. বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তা কিভাবে হবে? আমরাতো পুরো ভূ-খণ্ড জুড়ে থাকব, আর তিনি হলেন একা। তাহলে তিনি কিভাবে আমাদের দিকে তাকাবেন, আর আমরাই বা তাঁর দিকে কিভাবে তাকাব? انبئك ذالك في آلاء الله। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি আল্লাহ তায়ালার নিআমত রাজীর মধ্য থেকে তোমাকে তার উপমা পেশ করছি। الشمس والقمر آية منه صغيرة ترونهما ويريانكم ساعة واحدة لا تضارون في رؤيتهما সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহ তা'আলার নিদর্শনাবলীর মধ্য হতে ক্ষুদ্রতম নিদর্শন। তোমরা উভয়টিকে দেখতে পাও। সেগুলো একই মুহূর্তে তোমাদেরকে দেখতে পায়। তোমাদের সেগুলোকে দেখতে কোন অসুবিধা হয় না। ولعمر الهك هو তোমার প্রভুর শপথ! هو اقدر على ان يراكم وترونه তিনি তোমাদেরকে দেখতে পাবেন আর তোমরাও তাঁকে দেখতে পাবে। فقلت : يارسول الله فما يفعل بناربنا اذا لقيناه লাকীত রা. বললেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা যখন আল্লাহ তা'আলার নিকট উপস্থিত হব, তিনি আমাদের সাথে কী আচরণ করবেন? قال : تعرضون عليه بادية له صفحاتكم ఆయన তোমাদের দরযা উন্মুক্ত অবস্থায় তাঁর সামনে উপস্থিত হবে। لا تخفي عليه منكم خافية তোমাদের কোন কিছুই তাঁর নিকট গোপন থাকবে না। فيأخذ ربك عز وجل بيده غرفة من الماء فينضح قبلكم بها আল্লাহ তখন তাঁর হাতে এক অঞ্জলি পানি নিবেন এবং তা তোমাদের সামনের লোকদের উপর ছিটিয়ে দিবেন। فلعمر الهك ما يخطئ وجه أحد منكم منها قطرة তোমার প্রভুর শপথ, তোমাদের প্রত্যেকের চেহারায় সে পানির ছিটা পড়তে কোন প্রকার ভুল করবে না।
فاما المسلم فتدع وجهه مثل الربطة البيضاء সুতরাং সে বারি বিন্দুর ছোঁয়ায় মুসলমানের মুখমণ্ডল শুভ্র ওজ্জ্বল্যময় চাঁদের ন্যায় হবে। واما الكافر فتخطم وجهه بمثل الحمم الأسود আর কাফিরের চেহারা সে বারি বিন্দুর দরুন কয়লার ন্যায় কালো হবে।الاثم ينصرف نبيكم অতঃপর তোমাদের নবী যাবেন। وينصرف على اثرها لصالحون অতঃপর তাঁর পেছনে সৎ লোকেরা যাবেন। فیسلكون جسرا من النار অতঃপর তারা আগুনের পুলের উপর দিয়ে যাবে।
فيطأ أحدكم الجمرة তখন তোমাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ অগ্নি অঙ্গার মাড়াবে। فيقول حسن তখন তার মুখ থেকে কষ্টের কারণে ক্ষীণ আওয়ায বের হবে। فيقول ربك اوانه তখন তোমার প্রভু বলবেন, তা দেখে চল।
فيطلعون على حوض الرسول صلى الله عليه وسلم على اظمأ والله نأهلة قط رأيتها তখন তারা তৃষ্ণায় কাতর হয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাউযে উঁকি দিবে। আল্লাহর শপথ, তুমি তাদেরকে দেখলে বুঝবে, তারা অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত।
فلعمر ربك ما يبسط أحد منكم يده الا وقع عليها قدح مطهرة من البول والقذر তোমার প্রভুর শপথ! তোমাদের যে কেউ তখন হাত প্রসারিত করবে তাতে এমন পানীয়ের পেয়ালা দেওয়া হবে, যাকে মলমূত্র ও সমস্ত নোংরা থেকে পবিত্র রাখা হয়েছে। وتحبس الشمس والقمر فلا ترون منهما وأحدا এবং সূর্য চন্দ্রের গতি বন্ধ করে দেওয়া হবে। ফলে তোমাদের কেউ সেগুলো দেখতে পাবে না।
قال : قلت : يارسول الله فيما نبصر লাকীত রা. বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহলে আমরা কিভাবে দেখব Rasul সल्लल्लाहु अलैहि वसल्लम बलेन, بمثل بصرك ساعتك هذه তুমি এ মুহূর্তে তোমার দৃষ্টিশক্তি দিয়ে যেমন দেখতে পাচ্ছ। ঠিক وذالك قبل طلوع الشمس في يوم أشرقته الأرض ثم واجهته الجبال তেমনিভাবে দেখতে পারবে।
সে অবস্থাটা এমন হবে যে, দিনে সূর্য উদিত হলে যেমনি চতুর্দিক আলোকিত হয়ে যায়, এরপর পর্বত সূর্যের মুখোমুখি হয়ে পড়ে (অর্থাৎ এ অবস্থায় চাঁদ-সূর্য কোনটি না থাকা অবস্থায়ও যেমনিভাবে আলোকিত হয়ে থাকে, সেখানেও তেমনি হবে।
قال : فقلت يارسول الله فيم نجزى من حسناتنا وسياتنا হযরত লাকীতর রা. বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহলে কিভাবে আমাদের পাপ ও পুণ্যের প্রতিদান প্রদান করা হবে?
قال : الحسنة بعشرة أمثالها والسيئة بمثلها তিনি বলেন, পুণ্যের দশগুণ প্রতিদান দেওয়া হবে। আর পাপের সমপরিমাণ প্রতিদান দেওয়া হবে। الا ان يعفو হ্যাঁ, যদি আল্লাহ তা'আলা ক্ষমা করে দেন।
قال : قلت : يارسول الله ما الجنة وما النار হযরত লাকীত রা. বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! জান্নাত ও দোযখ কি?
قال : لعمر الهك ان للنار سبعة أبواب ما منهن بابان الايسير الراكب بينهما سبعين عاما রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার প্রভুর শপথ! দোযখের সাতটি দরযা রয়েছে। তার দু'দরযার দূরত্ব এ পরিামণ যে, তার মাঝে দ্রুতগামী আরোহী সত্তর বছর ভ্রমণ করলেও তার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারবে না।
وان للجنة ثمانية أبواب ما منهن بابان الا يسير الراكب بينهما سبعين عاما এবং জান্নাতের আটটি দরযা রয়েছে। তার দু'টি দরযার মধ্যে দূরত্ব এ পরিমাণ যে, তার মাঝে দ্রুতগামী আরোহী সত্তর বছর ভ্রমণ করেও তার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারবে না।
قلت يارسول الله فعلى ما نطلع من الجنة হযরত লাকীত রা. বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা তাহলে জান্নাতের কোনো বস্তু সম্পর্কে কিভাবে জানব?
قال على أنهار من عسل مصفي রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, খাঁটি মধূর নহর সম্পর্কে, وأنهار من كأس ما بها من صداع ولا ندامة এবং এমন নদী সম্পর্কে, যার শরাব গ্লাস ভরে পান করলেও মাথা ঘুরবে না এবং লজ্জাও পেতে হবে না। وأنهار من لبن لم يتغير طعمه এবং এমন দুধের নহর সম্পর্কে, যার স্বাদ কখনো বিকৃত হবে না। وماء غير اسن এমন পানি; যা কখনো দুর্গন্ধময় হবে না। وبفاكهة ফল সম্পর্কে জানবে। لعمر لهك مما تعلمون وخير من مثله معه وأزواج مطهرة তোমার প্রভুর শপথ, তাতে সে সকল বস্তু থাকবে যা তোমরা জান, তার চেয়ে উত্তম বস্তুও থাকবে। আর থাকবে পুতঃপবিত্র রমনীকুল। قلت يارسول الله ولنافيهن أزواج أو منهن مصالحات আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেখানে আমাদের যে সকল স্ত্রী থাকবে, তাদের মধ্যে দুনিয়ার নেককার স্ত্রীরাও কি থাকবে? قال للصالحين الصالحات تلذون بمن مثل لذاتكم في الدنيا রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নেককার লোকদের জন্য নেককার স্ত্রীরা থাকবে। তাদের দ্বারা তোমরা তেমনি তৃপ্তি লাভ করবে, যেমনিভাবে দুনিয়াতে লাভ করতে। ويلذذن بكم غيران لا توالـــد এবং তারাও তোমাদের দ্বারা তৃপ্তি লাভ করবে।
তবে হ্যাঁ, এতটুকু যে, তাদের কোন সন্তান হবে না। قال لقيط: فقلت اقصى مانحن بالغون ومنتهون اليه লাকীত রা. বলেন, তাহলে সর্বশীর্ষ পর্যায় যেখানে আমরা পৌছতে পারব, তা কোনটি? فلم يجبه النبي صلى الله عليه وسلم রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন উত্তর দেননি।
فقلت: يارسول الله علام أبا يعك আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কোন বিষয়ে فبسط النبي صلى الله عليه وسلم يده وقال আপনার হাতে বায়াত গ্রহণ করব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, على إقام الصلوة وإيتاء الزكوة وأن لا تشرك بالله الها غيره নামায কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা ও একথার উপর যে, আল্লাহ তা'আলার সাথে অন্য কাউকে শরীক করবে না।
قال: قلت: وان لنا مابين المشرق والمغرب তিনি বলেন, আমি বললাম, পূর্ব- পশ্চিমে যা রয়েছে তাও কি আমাদের জন্য? فقبض النبي صلى الله عليه وسلم يده وبسط أصابعه তখন রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত মুবারক গুটিয়ে নিলেন এবং আঙ্গুল সম্প্রসারিত করলেন। وظن انى مشترط شيئا لا يعطه তিনি এ ধারণা করেছেন, আমি এমন বিষয়ের শর্ত করছি যা তাঁকে দেয়া হয়নি। قال: قلت: نحل منهماجيث شئنا ولا يجنى على امرء الا نفسه তিনি বলেন, আমি বললাম, আমি কি সেখান থেকে যেখানে ইচ্ছা ঘুরে বেড়াতে পারবো? আর প্রত্যেক ব্যক্তির অপরাধের শাস্তি কি সে-ই বহন করবে? فبسط يده তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাত প্রসারিত করলেন।
وقال : ذلك لك وتحل حيث شئت ولا يجني عليك الا نفسك রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তেমনি হবে। তোমার যেখানে ইচ্ছা সেখানে ঘুরে বেড়াতে পারবে। আর তোমার অপরাধের জন্যই শুধু তোমাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে। قال : فانصرفنا হযরত লাকীত রা. বললেন, এরপর আমরা ফিরে গেলাম। قال : هاان ذين لعمر الهك ان حدثت الا الهما من اتقى الناس في الأولى والآخرةখবরদার! এরা দু'জন, খবরদার! এরা দু'জন, তোমার প্রভুর শপথ! আমাকে জানানো হয়েছে, এরা দু'জন দুনিয়া ও আখিরাতে অধিক খোদাভীরু ও নেককারদের অন্তর্ভুক্ত। তখন হযরত কা'ব ইবেন জুদারিয়া রা. জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারা কে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারা হল বনী মুনতাফিকের লোক। হযরত লাকীত রা. বলেন, পুনরায় আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে উপস্থিত হয়ে আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অতিক্রান্ত জাহেলী লোকদের কি কোন ঘটনা আছে? বললেন, কুরাইশ সরদারদের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল, আল্লাহর শপথ! তোমার পিতা মুনতাফিক জাহান্নামে। লাকীত রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সামনে আমার পিতা সম্পর্কে যে সংবাদ দিলেন, এতে যেন আমার ত্বক, আমার সবঙ্গে ভেঙ্গে খানখান হয়ে গেল। তখন আমার ইচ্ছা হল, আমিও বলব, আপনার পিতাও জাহান্নামে। কিন্তু এর চেয়ে উত্তম পন্থা মনে হল। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার পরিজনের অবস্থা কেমন? নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কোন মুশরিক আমেরী বা কোরাইশীর কবরে গিয়ে বল, আমাকে মুহাম্মদ পাঠিয়েছে। তার পক্ষ থেকে তোমাদেরকে এই তিক্ত দুঃসংবাদ দিচ্ছি, তুমি চেহারা ও পেট কুঞ্চিত অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।
লাকিত রা. বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারা তো তাদের এ কাজকেই ভাল মনে করত, তাহলে তাদের সাথে কেমন আচরণ করা হবে? তারা তো নিজেদেরকে সংশোধনকারী মনে করত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা বললেন একারণে যে, আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক সাত উম্মতের শেষে একজন নবী প্রেরণ করেন। সুতরাং যে আপন নবীর অবাধ্য হয়, সে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত আর যে আপন নবীর আনুগত্য করল, সে সৎপথপ্রাপ্ত। এটি অনেক দীর্ঘ এবং মাশহুর হাদীস।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী إِذَا اشْتَهَى হল শর্ত যুক্ত করার দ্বারা শর্তকৃত বিষয় ও যার সাথে শর্ত যুক্ত করা হয়েছে কোনটিই বাস্তবে প্রতিফলিত হওয়া আবশ্যক নয়।
১। যদিও বাস্তবে প্রতিফলিত বিষয়ের জন্য ব্যবহৃত হয় কিন্তু কখনো কখনো এর ব্যাপক ব্যবহারও হয়ে থাকে। উলামায়ে কিরাম কয়েকটি কারণে এখানে এ অর্থই নির্ধারণ করেছেন।
প্রথম কারণ, হযরত আবু রাযীন রা. এর হাদীস। যাতে সন্তান প্রজনন হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
দ্বিতীয় কারণ, আল্লাহ তাআলার বাণী وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ )তাদের জন্য সেখানে রয়েছে পুত:পবিত্র রমণীকুল) পুতঃপবিত্র তারাই, যারা ঋতুস্রাব, প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব এবং সকল প্রকার মালিন্য থেকে মুক্ত থাকে। সুফিয়ান রহ. ইবনে আবী নুজাহ-এর মাধ্যমে মুজাহিদের মত উল্লেখ করেন, সে (জান্নাতী) নারীরা ঋতুস্রাব, মল-মুত্র, শ্লেষ্মা, থুথু, বীর্য ও সন্তান প্রসব থেকে পবিত্র।
হযরত আবূ মুআবিয়া রহ. ইবনে জুরাইজের সূত্রে হযরত আতা রহ. এর উক্তি উল্লেখ করেন, সে জান্নাতী নারীরা ঋতুস্রাব, মল-মূত্র ও সন্তান প্রসব থেকে পবিত্র থাকবে।
তৃতীয় কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, জান্নাতীদের সহবাসে বীর্যস্খলন ঘটবে না, তাদের মৃত্যুও হবে না। সন্তানতো বীর্য দ্বারা সৃষ্টি হয়। সুতরাং সেখানে যেহেতু বীর্যস্খলিত হবে না, তাই সন্তান জন্মগ্রহণ করবে না।
চতুর্থ কারণ, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ হাদীস রয়েছে। যেখানে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতে কিছু স্থান অতিরিক্ত হবে। আল্লাহ তা'আলা সেগুলোর জন্য নতুন মানুষ সৃষ্টি করবেন এবং তাদেরকে সেখানকার নিবাসী করবেন। পক্ষান্তরে যদি জান্নাতীদের সন্তান জন্মগ্রহণ করত, তাহলে ঐ স্থানে তাদেরকেই রাখা হত। তারাই অন্যদের তুলনায় এর অধিক যোগ্য ছিল।
পঞ্চম কারণ, আল্লাহ তা'আলা সন্তান গর্ভ ধারণ ও প্রসবকে ঋতুস্রাব ও বীর্যের সাথে নির্ধারিত রেখেছেন। সুতরাং যদি জান্নাতী স্ত্রীরা গর্ভবতী হয়, তবে অবশ্যই তাদের ঋতুস্রাব ও বীর্যপাত হবে। (অথচ জান্নাতী নারীরা এর থেকে পবিত্র) কারণ হল, আল্লাহ তা'আলা মানব বংশধারাকে নির্ধারিত করেছেন আর মানুষের জন্য তিনি মৃত্যুও নির্ধারণ করেছেন। নির্দিষ্ট একটি সময়ের পর সকলকে এ নশ্বর ধরাকে বিদায় জানাতে হবে। সুতরাং যদি মানব বংশধারা অব্যাহত না রাখা হত, তবে একদিন মানবজাতি নিঃশেষ হয়ে যেত। ফিরিশতারা যেহেতু মানুষ ও জিনদের ন্যায় মৃত্যুবরণ করে না, সেহেতু তাদের বংশধারাও অব্যাহত নয়। কিন্তু কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তা'আলা সকল মানুষকে কবরদেশ থেকে উঠাবেন আর তাদের এ সৃষ্টি হবে চির স্থায়িত্বের জন্য, মৃত্যুর জন্য নয়। সুতরাং সেখানে মানব বংশধারা অব্যাহত রাখার প্রয়োজন পড়বে না; কেননা, সেখানে তো স্থায়িত্বের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। সুতরাং জান্নাতীদের বংশধারা যেমনি অব্যাহত রাখা হবে না। তেমনি জাহান্নামীদের বংশধারাও অব্যাহত রাখা হবে না।
সপ্তম কারণ, আল্লাহ তাআলার বাণী, وَالَّذِينَ آمَنُوا وَاتَّبَعَتْهُمْ ذُرِّيَّتُهُمْ بِإِيمَانِ أَلْحَقْنَابِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ যারা ঈমান আনে আর তাদের সন্তান-সন্ততি ঈমানে তাদের অনুগামী হয়, তাদের সাথে মিলিত করব তাদের সন্তান-সন্তুতিকে। সুতরাং আল্লাহ তাআলা জানিয়ে দিলেন, তাদের পার্থিব জগতের সন্তান-সন্ততিদেরকে পরজগতে তাদের সাথে মিলন ঘটিয়ে তাদেরকে সম্মানিত করবেন।
যদি তাদের জান্নাতে কোন সন্তান-সন্ততি জন্মগ্রহণ করত, তবে এদের ন্যায় তাদের কথাও আল্লাহ তা'আলা উল্লেখ করতেন। কেননা, পার্থিব সন্তান-সন্ততি যেমনিভাবে চোখেরশীতলতা তেমনিভাবে পরজগতের সন্তান-সন্তুতি হলে সেগুলো চোখের শীতলতা হবে।
অষ্টম কারণ, যদি জান্নাতে প্রজননধারা থাকে, তবে তাতে দু'টি সম্ভাবনা থাকবে, হয়ত এ প্রজনন ধারা অব্যাহতভাবে চলতে থাকবে অথবা এক পর্যায়ে তার সমাপ্তি ঘটবে। যদি অব্যাহতভাবে এ ধারা চলতে থাকে তাহলে অগণিত সংখ্যক লোকের একত্রিত হওয়া অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়বে আর যদি এক পর্যায়ে এ ধারার সমাপ্তি ঘটে তবে জান্নাতী আনন্দ উপভোগের এক পর্যায়ে সমাপ্তি ঘটা অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠবে, যা অসম্ভব (কেননা, জান্নাতের কোন নিআমতই কখনো শেষ হবে না) তৃতীয় একটি সম্ভাবনা এখানে পেশ করা যায়, জান্নাতীদের সন্তানদের প্রথমাংশের মৃত্যুর পর পুনরায় তারা সন্তান লাভ করবে যেন অগণিত মানুষ একত্রিত না হয়, কিন্তু এটাও সম্ভব নয়, কেননা, জান্নাতে কাউকে মৃত্যু স্পর্শ করবে না।
নবম কারণ, জান্নাতে মানুষের মাঝে বৃদ্ধি ঘটবে না যেমন দুনিয়াতে হয়ে থাকে। (প্রথমে শিশু, এরপর যুবক, এরপর বৃদ্ধ) সুতরাং জান্নাতের সে কিশোরদের মাঝেও বৃদ্ধি ঘটবে না; বরং তারা আপন অবস্থায় ছোটই থাকবে। আর জান্নাতীরা হবে ৩৩ বছর বয়সের। তাদের এ বয়স কখনো পরিবর্তন হবে না। কিন্তু জান্নাতে যদি সন্তান জন্মগ্রহণ করে তবে তারা ৩৩ বছর বয়সে উপনীত হতে হবে। (চাই সে পরিবর্তন এক মুহূর্তের মধ্যেই হোক না কেন)
দশম কারণ, আল্লাহ তা'আলা জান্নাতীদের সেভাবে সৃষ্টি করবেন, যেভাবে ফিরিশতাদের সৃষ্টি করে থাকেন অথবা তাদের চেয়েও অধিক হারে সৃষ্টি করবেন। তারা মল-মূত্র ত্যাগ করবে না। ঘুমাবে না। তাদের অন্তরে তাসবীহের ইলহাম পাঠানো হবে। দীর্ঘকাল অতিবাহিত হলেও তারা বৃদ্ধ হবে না। তাদের শারীরিক অবকাঠামোতে বৃদ্ধি ঘটবে না বরং যেভাবে তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেভাবেই থাকবে। والله اعلم
এ আলোচনা তো হল সম্ভাব্য মাসআলার ক্ষেত্রে। কিন্তু আল্লাহ তাআলার কুদরত তো এ সব কিছুই করতে সক্ষম। যদি কেউ উক্ত যুক্তি পেশ করেন এবং এযুক্তিও পেশ করেন, জান্নাত হচ্ছে আল্লাহর বিধান পালনের নির্দেশপ্রাপ্তদের অধিকার পূরণের স্থান। তাহলে এই যুক্তি সম্পর্কিত আলোচনা এখানে মূল্যহীন।
আমি বলব, যারা বলেন, জান্নাতে সন্তান-সন্ততি জন্মগ্রহণ করবে না, তারা বক্রতা হেতু বলেননি; বরং তারা হযরত রাযীনের হাদীসের আলোকে এ মত পোষণ করেন, যাতে রয়েছে غير ان لا توالد (জান্নাতীদের সন্তান হবে না।) পূর্বে আমি হযরত আতা রহ. এর মত উল্লেখ করেছি, জান্নাতী নারীরা ঋতুস্রাব ও সন্তান প্রসব থেকে পবিত্র থাকবে।
হযরত আবূ উমামা রা. তার হাদীসে উল্লেখ করেছেন غير أن لا منى ولا منية অর্থাৎ জান্নাতীদের স্ত্রী সহবাসের দ্বারা বীর্যস্খলন ঘটবে না এবং তারা মৃত্যুবরণও করবে না। জান্নাততো বংশধারা অব্যাহত রাখার স্থান নয়; বরং তা হল চিরস্থায়ী নিবাস। যারা তাতে প্রবেশ করবে, তাদেরকে কখনো মৃত্যু স্পর্শ করবে না। অথচ বংশধারার প্রক্রিয়াটি হল এক জনের মৃত্যুর পর তার পরবর্তী প্রজন্ম এসে সে স্থান পূরণ করার স্বার্থে। সুতরাং তাদের স্থায়িত্বই তাদের বংশধারা অব্যাহত থাকার স্থলাভিষিক্ত। আর যদি জান্নাতে সন্তান গ্রহণের পক্ষে বিপক্ষের হাদীসগুলো সনদের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হয়, তাহলে বলব, সন্তান জন্মগ্রহণের পক্ষের বর্ণনাগুলো হাদীসে মুযতারাব। একেক বর্ণনার ভাষা অপরটি হতে ভিন্ন। পক্ষান্তরে সন্তান না হওয়ার বর্ণনারগুলোতে এধরনের ত্রুটি নেই।
উক্ত আলোচনা আমাদের সুদীর্ঘ পরিশ্রম ও গবেষণার ফসল। এভাবে এক সাথে এতগুলো বিষয়ের সংকলন অন্য কোনো গ্রন্থে পাওয়া যাবে না।
টিকাঃ
৩৮১. খ. ২ পৃ. ৮১
৩৮২. খ. ৪ পৃ. ১৪
📄 জান্নাতী অশরীরীদের বাদ্য-নৃত্য
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ يَوْمَئِذٍ يَتَفَرَّقُونَ যে দিন কিয়ামত হবে সে দিন মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে। فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فَهُمْ فِي رَوْضَةٍ يُحْبَرُونَ অতএব যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে তারা জান্নাতে থাকবে ৩৮৪।
মুহাম্মদ ইবনে জারীর রহ. স্ব-সনদে আমির ইবনে ইয়াসাফ রহ. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনে আবী কাসীর রহ.কে আল্লাহ তা'আলার বাণী, فَهُمْ فِي رَوْضَةٍ يُحْبَرُونَ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, حبر অর্থ হল স্বাদ-তৃপ্তি ও শ্রবণ করা। (এ হিসাবে আয়াতের অর্থ হল উদ্যানে তারা তৃপ্তি লাভ করবে ও তাদের সঙ্গীত শুনানো হবে।) আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল ফিরয়াবী রহ. স্ব-সনদে ইয়াহইয়া ইবনে আবী কাসীর রহ. হতে يُحْبَرُونَ এর ব্যাখ্যা উল্লেখ করেন, তাদেরকে জান্নাতে সঙ্গীত শুনানো হবে। হযরত ইবনে আব্বাস রা. يُحْبَرُونَ এর অর্থ বর্ণনা করেন يكرمون তার সাথে এ অর্থের কোন বিরোধ নেই। (কেননা, তাকে সঙ্গীত শুনানোও তার সম্মানার্থেই হবে) মুজাহিদ রহ. ও কাতাদাহ রহ. বলেন, يُحْبَرُونَ অর্থ হল, ينعمون অর্থাৎ তাদেরকে নিআমত প্রদান করা হবে। আর কানের নিআমত হল উত্তম সুর ও আনন্দ সংগীত শোনা। ইমাম তিরমিযী রহ.৩৮৫ স্ব-সনদে হযরত আলী রা. হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ان في الجنة لمجتمعا للحور العين يرفعن بأصوات لم تسمع الخلائق بمثلها জান্নাতে হুয়ে-নদের একটি সম্মিলিত কক্ষ থাকবে। তাতে তারা এমন সুমধুর ও সুমিষ্ট কণ্ঠে সঙ্গীত গাবে, যা পার্থিব জগতের কেউ কখনো শোনেনি।
يقلن نحن الخالدات فلانبيد তারা সুরের তানে তানে বলবে, আমরা চিরকাল থাকব, আমরা কখনো ধ্বংস হব না।
ونحن الناعمات فلا نبأس এবং আমরা সদা সর্বদা সুখ স্বাচ্ছন্দ্যে থাকব, আমাদের কখনো দুরবস্থা দেখা দিবে না।
ونحن الراضيات فلا نسخط আমরা সর্বদা সন্তুষ্ট থাকব, কখনো অসন্তুষ্ট হব না।
طوبى لمن كان لنا وكنا له সৌভাগ্যবান তারা, যারা আমাদের এবং আমরা যাদের।
ইমাম তিরমিযী রহ. বলেন, এ ব্যাপারে হযরত আবূ হুরায়রা রা. হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রা. ও হযরত আনাস রা. এর বর্ণনাও রয়েছে।
এছাড়াও এ ব্যাপারে হযরত ইবনে আবী আওফা রা., হযরত আবূ উমামাহ রা., হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর হাদীসও রয়েছে।
হযরত আবূ হুরায়রা রা. এর হাদীস
হযরত জা'ফর ফিরয়াবী রহ. স্ব-সনদে এভাবে বর্ণনা করেন, হযরত আবূ হুরায়রা রা. বলেন, ان في الجنة نهرا طول الجنة حافتاه العذارى قيام متقابلات জান্নাতে একটি দীর্ঘ নদী রয়েছে, যার উভয় পার্শ্বে কুমারী মেয়েরা দাঁড়িয়ে থাকবে।
يغنين بأصوات حتى يسمعها الخلائق ما يرون في الجنة لذة مثلها তারা সুরেলা কণ্ঠে গীত গাবে। মানুষ যখন শুনবে, তারা তখন তাতে এমন স্বাদ ও তৃপ্তি পাবে, যা তারা জান্নাতের অন্য কোন বস্তুতে পায়নি।
فقلنا يا اباهريرة وماذاك الغناء আমি বললাম, হে আবূ হুরায়রা! সে সংগীত কিরূপ হবে? قال ان شاء الله التسبيح والتحميد والتقديس وثناء على الرب عز وجل ? বললেন, ইনশাআল্লাহ তা হবে আল্লাহ তা'আলার গুণগাণের গীত। তার পবিত্রতা বর্ণনের গীত। তাঁর তাসবীহ পাঠের গীত।
এভাবে এ হাদীসটি মাওকূফ। কিন্তু আবূ নাঈম রহ. হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে উক্ত হাদীসটিই মারফু হিসাবে বর্ণনা করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ان في الجنة شجرة جذوعها من ذهب فروعها من زبرجد ولؤلؤ জান্নাতে একটি গাছ রয়েছে, যার কাণ্ড হল স্বর্ণের আর ডালপালা হল পোখরাজ ও মুক্তার।
فتهب لهاريح فيصطففن فما سمع السامعون بصوت شيئ قط ألذ منه তখন তার উপর বাতাস বয়ে যাবে। তখন ডালপালাগুলো থেকে সারেঙ্গীর সুরের ন্যায় সুর বের হবে। যা কোন শ্রবণকারী শ্রবণ করেনি এবং তা থেকে তৃপ্তিদায়ক সুর অন্যত্র কখনো শ্রবণ করেনি।
আবূ নাঈম রহ. হযরত আনাস রা.-এর হাদীস এভাবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ان الحور العين يغنين فى الجنة হরে-ঈন জান্নাতে গান গাবে। يقلن نحن الحور الحسان خلقن لأزواج کرامতারা বলবে, আমরা হলাম সুদর্শনা, কমনীয়া হূর। সম্মানিত স্বামীদের জন্য আমরা সৃজিত।
আবূ নাঈম রহ. আবী আওফার হাদীস স্ব-সনদে এভাবে বর্ণনা করেন, يزوج كل وأحد من أهل الجنة প্রত্যেক জান্নাতী চার হাজার কুমারী, أربعة آلاف بكر وثمانية آلاف أيم ومأة حوراء আট হাজার বিধবা ও এক শত হূরে-ঈন বিবাহ করবে। فيجتمعن فيكل سبعة أيام فيقلن بأصوات حسان لم تسمع الخلائق بمثلهن তারা প্রত্যেকে প্রতি সপ্তাহে একত্রিত হয়ে বসে এমন সুরেলা ও সুমধুর কন্ঠে সঙ্গীত গাবে যা কোন মাখলুক কখনো শোনেনি। نحن الخالدات فلا نبيد তারা বলবে, আমরা সর্বদা চিরস্থায়ী, কখনো ধ্বংস হব না। نحن الناعمات فلا نبأس আমরা স্বাচ্ছন্দে থাকবো, কখনো দুরবস্থার মুখামুখি হব না। ونحن الراضيات فلا نسخط আমরা সন্তুষ্ট থাকব, কখনো অসন্তুষ্ট হব না। ونحن المقيمات فلا نظعن আমরা সর্বদা এখানে অবস্থান করবো; কখনো অন্যত্র যাব না। طوبى لمن كان لنا وكان له সৌভাগ্য ঐ ব্যক্তি, যে আমাদের আর আমরা যার।
জা'ফর আল ফিরয়াবী রহ. স্ব-সনদে হযরত আবূ উমামার হাদীস বর্ণনা করেছেন। হযরত আবূ উমামাহ রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ما من عبد يدخل الجنة الا ويجلس عند رأسه وعند رجليه ثنتان من الحور العين যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে, তার মাথা ও পায়ের নিকট দু'জন হূরে-ঈন বসে থাকবে। يغنيانه بأحسن صوت سمعه الإنس والجن وليس بمزمار الشيطان মানব জাতি ও জিন জাতি যত সংগীত শুনেছে তার চেয়ে আরো সুরেলা ও সুমধুর কণ্ঠে ঐ দুই ডাগর চোখের হুর সংগীত পরিবেশন করবে। কিন্তু সে সংগীত শয়তানের বাঁশির সূরের ন্যায় হবে না।
তাবারানী রহ. স্ব-সনদে হযরত ইবনে উমর রা. এর হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় জান্নাতী স্ত্রীরা তাদের স্বামীদের এমন সুরেলা এবং সুমধুর কণ্ঠে গীত শুনাবে যা কোনো কান কখনো শ্রবণ করেনি। তাদের গানে থাকবে, আমরা হলাম উত্তম, সুদর্শনা ও কমনীয়া। এমন সম্মানিত লোকদের স্ত্রী, যারা শীতল নেত্রে তাকাবে। তাদের গীতে এও থাকবে, আমরা হলাম চিরস্থায়ী, আমরা কখনো মৃত্যুবরণ করব না। আমরা নিরাপদ, আমাদেরকে কেউ ভীতি প্রদর্শন করবে না। আমরা সর্বদা এখানে অবস্থান করবো, কখনো অন্যত্র যাবো না।
ইবনে ওয়াহাব রহ. বলেন, আমাকে সাঈদ ইবনে আবী আইয়ূব বর্ণনা করেন। কুরাইশের এক ব্যক্তি ইবনে শিহাব রহ. কে প্রশ্ন করল, জান্নাতে কি গান থাকবে? তার কাছে গান খুব প্রিয় ছিল। উত্তরে বললেন, সে সত্তার শপথ! যাঁর কুদরতী হাতে ইবনে শিহাবের জীবন, জান্নাতে একটি গাছ রয়েছে, যার উপরিভাগে মুক্তা ও পোখরাজ, আর নিচে থাকবে উদ্ভিন্ন গোল স্তন বিশিষ্ট কুমারী কন্যা। যারা বিভিন্ন প্রকার সংগীত গাবে। তারা বলতে থাকবে, আমরা প্রাচুর্যশালী, আমরা কখনো দুরবস্থায় পতিত হবো না। আমরা চিরস্থায়ি; আমরা কখনো মৃত্যুবরণ করবো না। গাছগুলো এই সংগীত শোনার পর সমস্বরে নিজেদের শাখা-প্রশাখাগুলো পাখির ডানার মত করে ঝাপটাবে। তখন তার থেকে বীণার মত সংগীত শ্রুত হবে। গাছগুলো এই সুরেলা সংগীতের মাধ্যমে হুরদের সংগীতের জবাব দিবে। আমি বুঝতে পারছি না, সে কুমারীদের সুর সুমিষ্ট নাকি সে গাছের সুর?
ইবনে ওয়াহাব রহ. স্ব-সনদে মালিক ইবনে ওয়াহিদ রহ. হতে বর্ণনা করেন। হুরে-ঈন নিজ স্বামীদের সামনে সংগীত গাবে। সংগীতের সুরে তারা বলবে, আমরা উত্তম, সুদর্শনা ও কমনীয়া, সম্মানিত যুবকের স্ত্রী। আমরা চিরস্থায়ি, কখনো মৃত্যুবরণ করবো না। আমরা প্রাচুর্যশালী আমরা কখনো দূরবস্থায় পতিত হব না। আমরা সর্বদা এখানেই থাকবো, কখনো অন্যত্র যাব না। তাদের প্রত্যেকের বুকে লিখা থাকবে, أنت حبى وأنا حبك অর্থাৎ তুমি আমার প্রিয় আর আমি তোমার প্রেয়সী। انتهت نفسی عندك لم تر عيناي مثلك তোমাতে এসে আমার আত্মা নিঃশেষ হয়ে গেছে। পরিভ্রমণের সমাপ্তি তোমাতেই। আমার চক্ষু তোমার মতো সুদর্শন কখনো দেখেনি।
ইবনুল মুবারক রহ. স্ব-সনদে ইয়াহইয়া ইবনে কাসীর রহ. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, হুরে-ঈন জান্নাতের দরযায় নিজ স্বামীদের সাথে সাক্ষাৎ করে বলবে, বহুকাল তোমার প্রতীক্ষায় ছিলাম। কাজেই আমরা সর্বদা সন্তুষ্ট থাকবো, কখনো অসন্তুষ্ট হব না। আমরা সর্বদা এখানেই অবস্থান করব, কখনো অন্যত্র যাব না। আমরা চিরস্থায়ী, কখনো মৃত্যুবরণ করব না। তারা সুরেলা কণ্ঠে বলবে, তুমি আমার ভালবাসা, আমি তোমার ভালবাসা, তোমার সামনে কোন অন্যায় করব না। তোমার অনুপস্থিতিতেও কোন সীমালংঘন হবে না।
জান্নাতের সংগীত
ইবনে আবিদ দুনিয়া রহ. স্ব-সনদে ইমাম আওযায়ী রহ. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলার সৃষ্ট জীবের মধ্যে হযরত ইসরাফীল আ. থেকে সু-মধুর কণ্ঠস্বর আর কারো নেই। আল্লাহ তা'আলার নির্দেশে তিনি গীত শুরু করলে আকাশের সকল ফিরিশতার তাসবীহ পাঠ বন্ধ হয়ে যাবে। আল্লাহ তা'আলার পুন:নির্দেশ পর্যন্ত তিনি সে অবস্থাতেই থাকবেন। তখন আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করবেন, আমার মহত্ত্বের শপথ, যদি বান্দা আমার মহত্ত্ব ও বড়ত্ব সম্পর্কে অবগত হত, তবে আমি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করত না।
দাউদ ইবনে উমর আদ-দবী রহ. স্ব-সনদে মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির রহ. হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন একজন ঘোষক ঘোষণা করবে, কোথায় সে সকল লোক? যারা নিজেদেরকে খেলাধুলার আসর, শয়তানের বাঁশী অর্থাৎ গান-বাদ্য ইত্যাদি থেকে বিরত রেখেছে। কস্তুরির উদ্যানে বসবাস কর। এরপর ফিরিশতাদেরকে বলা হবে, তাদেরকে আমার বড়ত্ব ও আমার প্রশংসামূলক গীত শুনাও।
ইবনে আবিদ দুনিয়া রহ. স্ব-সনদে মালিক ইবনে দীনার রহ. হতে আল্লাহ তাআলার বাণী, وَإِنَّ لَهُ عِندَنَا لَزُلْفَى وَحُسْنَ ماب এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন, কিয়ামতের দিন জান্নাতে উঁচু মিনারা রাখার নির্দেশ দেয়া হবে। তখন ঘোষণা দেওয়া হবে, হে দাউদ! তোমার সুমধুর সুরেলা কণ্ঠে আমার বড়ত্ব ও মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যেমনিভাবে দুনিয়াতে করতে। মালিক ইবনে দীনার রহ. বলেন, তখন জান্নাতীদেরকে হযরত দাউদ আ. এর সুমিষ্ট কণ্ঠস্বর জান্নাতের অন্যান্য নিআমত থেকে বিমুখ করে তার সুরমূখী করে দিবে | وَإِنَّ لَهُ عِندَنَا لَزُلْفَى وَحُسْنَ مَآبِ এর মর্মার্থও তাই।
হাম্মাদ ইবনে সালামাহ রহ. স্ব-সনদে শাহর ইবনে হাওশাব রহ. থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা ফিরেশতাদের লক্ষ করে বলবেন, আমার বান্দা দুনিয়ায় মিষ্টি মধুর সুর পসন্দ করত। সুতরাং আমার পক্ষ থেকে তাদের আহ্বান কর ও তাদেরকে শুনাও। তখন মধুর কণ্ঠে এমন তাসবীহ, তাহলীল ও তাকবীর শুরু হবে। যা তারা ইতোপূর্বে কখনো শুনেনি।
ইমাম আহমদ রহ. এর পুত্র আবদুল্লাহ কিতাবুয যুহদে স্ব-সনদে স্বীয় পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি স্ব-সনদে হযরত মালিক ইবনে দীনার রহ. হতে আল্লাহ তা'আলার বাণী وَإِنَّ لَهُ عِندَنَا لَزُلْفَى وَحُسْنَ مَابِ এর ব্যাখ্যা বর্ণনা করেন, আল্লাহ তা'আলা হযরত দাউদ আ. কে আরশের পায়ার নিকট দাঁড় করিয়ে বলবেন, হে দাউদ! আজ তুমি তোমার সে সুরেলা ও সুমধুর কণ্ঠে আমার বড়ত্ব ও মহত্ত্ব বর্ণনা কর। তখন তিনি বলবেন, হে প্রভু আমার! কিভাবে আমি আপনার মহত্ত্ব ও বড়ত্ব বর্ণনা করব? সে সুর তো আপনি দুনিয়াতেই নিয়ে নিয়েছেন। তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আমি আজ পুনরায় সে সুর তোমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছি। তখন তার সে সুর ফিরিয়ে দেয়া হবে। তখন তিনি উচ্চকণ্ঠে গাইতে থাকবেন। তাঁর সুর লহরী জান্নাতীদেরকে সকল প্রকার নিআমত থেকে বিমূখ করে তার প্রতি আকৃষ্ট করে তুলবে।
ইবনে আবিদ দুনিয়া রহ. স্ব-সনদে আবাদা ইবনে আবি লুবাবাহ রহ. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, জান্নাতে একটি গাছ থাকবে, যার ফল হবে পদ্মরাগমণি, পোখরাজ ও মুক্তার। আল্লাহ তা'আলা তার উপর বাতাস প্রবাহিত করবেন, তখন গাছগুলোর ডাল গুলো পারস্পরিক সংঘর্ষে এমন সুর ধ্বনিত হবে, যা অপেক্ষা তৃপ্তিদায়ক ও উপভোগ্য সুর ইতোপূর্বে তারা আর শুনেনি।
আবূ বকর ইবনে ইয়াযিদ স্ব-সনদে হযরত ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, জান্নাতে এমন একটি গাছ থাকবে, যার ছায়া একশত বছর দ্রুতগামী আরোহী ভ্রমণ করেও তা অতিক্রম করতে পারবে না। জান্নাতীগণ তার ছায়ায় বসে গল্পগুজব করবে। তখন তারা দুনিয়ার বিভিন্ন বিনোদনের আলোচনা করবে এবং কারো মনে তার শখ জাগবে। তখন আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে বাতাস প্রবাহিত করবেন যা সে গাছকে আন্দোলিত করবে। যার ফলে উক্ত গাছ হতে সকল সুর ধ্বনিত হবে, যেমনিভাবে পার্থিব জগতের বিনোদনের মাঝে ধ্বনিত হত। (এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল সে সুর, যা আল্লাহ তা'আলার বান্দারা দুনিয়াতে শুনত, অশ্লীল গান উদ্দেশ্য নয়।)
ইবরাহীম ইবনে সাঈদ রহ. স্ব-সনদে সাঈদ ইবনে আবী সাঈদ আল হারেসী রহ. হতে বর্ণনা করেন। আমার নিকট এ হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে, জান্নাতে ঘনঘন বৃক্ষরাজি থাকবে। যার কাণ্ড হবে স্বর্ণের আর ফল হবে মুক্তার। যখন কোন জান্নাতী সুমিষ্ট সুর শোনার আগ্রহ করবে, তখন আল্লাহ তা'আলা বাতাস প্রবাহিত করবেন, যার ফলে তার পসন্দনীয় সুর ধ্বনিত হতে থাকবে।
জান্নাতীরা শুনবে প্রিয় প্রভুর সুমধুর বাণী
এ ছাড়াও জান্নাতীগণ সে কুমারীদের সুর, গাছ হতে ধ্বনিত সুর, ফিরিশতা ও হযরত দাউদ আ.-এর সুর অপেক্ষা উত্তম সুর শুনবে। যার সামনে সকল শ্রুতধ্বনি মর্যাদাহীন হয়ে যাবে। তা হবে যখন জান্নাতীরা আল্লাহ তা'আলার কথা শুনবে ও সালাম শুনবে।
আল্লাহ তা'আলা তাদের সামনে স্বীয় বাণী তিলাওয়াত করে শুনাবেন। তারা তা শুনে অনুভব করবে, ইতোপূর্বে তারা কুরআন যেন কখনো শ্রবণ করেনি। হে সুন্নাতের অনুসারীগণ! শীঘ্রই বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হাসান স্তরের এমন কিছু হাদীস পেশ করা হবে যে বর্ণনাগুলোতে এমন এক সংগীতের সুরম্য আলোচনা রয়েছে, যে সংগীত দুনিয়ায় পরিবেশিত যে কোনো সংগীতের চেয়ে অনেক বেশি শ্রুতি মধুর। তা কর্ণকুহরে সুমিষ্ট সুরের লহরী ঢেলে দিবে। সে সংগীতে আবিষ্ট চোখ এমন শীতলতা অনুভব করবে যা ইতোপূর্বে কোথাও কোনোভাবে লব্ধ হয়নি। আর তা হচ্ছে, আল্লাহ তাআলার কণ্ঠ। কেননা, কোনো জান্নাতী তার জান্নাতে আল্লাহর পবিত্র সত্তার মুখাবয়বের দর্শন লাভ ও তার কণ্ঠের শ্রবণের মহা নিআমতের চেয়েও আরো মধুর ও তৃপ্তিদায়ক কোনো নিআমত উপভোগ করবে না। এই নিআমতই হবে তার উপর বর্ষিত সকল নিআমতের উপর শ্রেষ্ঠতম নিআমত ও প্রিয়তম প্রাপ্তি।
আবুশ শাইখ স্ব-সনদে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ রহ. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, জান্নাতীগণ প্রত্যহ দু'বার আল্লাহ তা'আলার নিকট যাবে। তখন আল্লাহ তা'আলা তাদের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করবেন। সেখানে প্রত্যেক ব্যক্তির আসন হবে মুক্তা, পদ্মরাগমণি, পঙ্খরাজ স্বর্ণ ও পান্না দ্বারা নির্মিত মিম্বর। তাদের পলকহীন দৃষ্টি একমাত্র তাঁর প্রতি নিবদ্ধ থাকবে এবং তারা তা অপেক্ষা অধিক মাহাত্ম পূর্ণ সুন্দর আর কিছু শ্রবণ করবে না। অতঃপর তারা এমন নিআমত লাভ করে ও চক্ষু শীতল করে স্বীয় গন্তব্যে ফিরে যাবে।
টিকাঃ
৩৮৪. সূরা রূম, আয়াত: ১৪-১৫
৩৮৫. খ. ২, পৃ. ৮৪
📄 জান্নাতীদের বাহন ও অশ্বের বর্ণনা
ইমাম তিরমিযী রহ. স্ব-সনদে হযরত বুরাইদা রা. হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করল هل في الجنة من خيل يارسول الله !জান্নাতে কি অশ্ব থাকবে? قال : إن أدخلك الله الجنة فلا تشاء أن تحمل فيها على فرس من ياقوتة حمراء يطير بك في الجنة حيث شئتনবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তা'আলা যদি তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান, তখন তুমি মনে মনে পদ্মরাগের লাল অশ্বে আরোহণ করার ইচ্ছা করা মাত্রই তা তোমাকে নিয়ে জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা সেখানে উড়ে যাবে। হযরত বুরাইদাহ রা. বলেন, অন্য এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল هل يارسول الله في الجنة من الإبل হ আল্লাহর রাসূল! জান্নাতে কি উট থাকবে? فلم يقل ما قال لصاحبه হযরত বুরাইদাহ রা. বললেন, তিনি পূর্বের ব্যক্তিকে যা বলেছিলেন, قال : إن أدخلك الله الجنة يكن لك فيها ما এ ব্যক্তিকে তা আর বললেন না। اشتهت نفسك ولذت عينك নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি আল্লাহ তা'আলা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান, তবে যে সকল বস্তু তোমার মন চায় এবং যে সকল বস্তু দ্বারা তোমার চক্ষু শীতল হবে, সে বস্তুই সেখানে পাবে। মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে সারাহ আল আহমাসী রহ. স্ব-সনদে হযরত আবূ আইয়ূব রা. হতে বর্ণনা করেন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এক গ্রাম্য ব্যক্তি এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি অশ্ব পসন্দ করি, জান্নাতে কি অশ্ব থাকবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন তুমি ইয়াকূতের এক ঘোড়ার নিকট আসবে, যার দু'টি পাখা থাকবে, তুমি তাতে আরোহণ করে যেখানে ইচ্ছা করবে, তা তোমাকে সেখানে উড়িয়ে নিয়ে যাবে।
উক্ত হাদীসটি আবূ নাঈম রহ. আলকামা রহ. সনদে এভাবে বর্ণনা করেন, অর্থাৎ আলকামাহ আবূ সালিহ হতে, তিনি হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণনা করেন। এক গ্রাম্য ব্যক্তি প্রশ্ন করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! জান্নাতে কি উষ্ট্রী থাকবে? নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে গ্রাম্য! যদি আল্লাহ তা'আলা তোমাকে জান্নাত দান করেন, তবে যে সকল বস্তু তোমার মন চায় ও যেগুলোর দ্বারা তোমার চক্ষু শীতল হবে সেখানে সে সব কিছুই পাবে।
আলকামা স্ব-সনদে এ হাদীসটিও বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতের আলাচনা কালে বললেন, ফিরদাউস হল জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর আর সকল স্তর অপেক্ষা অধিক প্রশস্ত। তা হতেই জান্নাতের নহর প্রবাহিত হয় এবং কিয়ামতের দিন আরশ তার উপরই স্থাপিত হবে। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো ঘোড়া পসন্দ করি, জান্নাতে কি ঘোড়া থাকবে? নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, সে সত্তার শপথ! যাঁর কুদরতী হাতে আমার জীবন, অবশ্যই জান্নাতে সরু কোমর বিশিষ্ট অশ্ব ও উষ্ট্রী রয়েছে। যেগুলো জান্নাতের পত্র-পল্লবে দ্রুতগতিতে দৌড়ে বেড়াতে সক্ষম। জান্নাতীরা যেখানে ইচ্ছা তার উপর আরোহণ করে পরস্পর সাক্ষাৎ করতে পারবে। অতঃপর অন্য এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো উট পসন্দ করি। হাদীসের পরবর্তী অংশ পূর্বোল্লিখিত হাদীসের ন্যায়।
আবূ দাউদ৩৮৬ রহ. এ প্রসঙ্গে একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন। তাতে রয়েছে اجنادا واجناد ستفتح عليكم الامصار وتجندون শীঘ্ৰই তোমরা শহরের পর শহর জয় করবে এবং দলে দলে তাতে প্রবেশ করবে।
ইবনে মাযাহ রহ. হযরত আবূ আইউব রা. হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, رأيت النبي صلى الله عليه وسلم توضأ فخلل لحيته আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ওযু করতে দেখেছি, তখন তিনি দাড়ি খেলাল করলেন।
জান্নাতের অশ্বের ব্যাপারে ইমাম তিরমিযী রহ. শুধু একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন।
আবু নাঈম রহ. হাদীসটি স্ব সনদে উল্লেখ করেছেন। জান্নাতীগণ উন্নত মানের পদ্মরাগ মণি সদৃশ ঘোড়ার উপর আরোহণ করে পরস্পর সাক্ষাৎ করবে। জান্নাতে ঘোড়া ও উট ব্যতীত অন্য কোন চতুষ্পদ জন্তু থাকবে না।
আবুশ শাইখ স্ব-সনদে হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ হতে বর্ণনা করেন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إذا دخل أهل الجنة الجنة جاء تهم خيول من ياقوت أحمر জান্নাতীগণ জান্নাতে প্রবেশ করার পর তাদের নিকট লাল ইয়াকূতের ঘোড়া আসবে। لها أجنحة لا تبول ولا تروث فقعدوا عليها তার পাখা থাকবে। যা মলমূত্র ত্যাগ করবে না। জান্নাতীগণ তাতে আরোহণ করবে। ثم طارت لهم في الجنة অতঃপর তাদেরকে নিয়ে তা জান্নাতে উঠে বেড়াবে। فيتجلى لهم الجبار فإذا رأوه خروا سجدا অতঃপর আল্লাহ তা'আলা নিজ পর্দা উঠিয়ে তাদের সামনে আবির্ভূত হবেন। তাঁকে দেখে তারা সিজদায় লুটে পড়বে। فيقول الجبار تعالى : ارفعوا رؤوسكم فإن هذا ليس يوم عمل তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তোমরা মাথা উঠাও। কেননা, আজ আমলের দিন নয়। نما هو يوم نعيم وكرامة আজ নিআমত ও সম্মান লাভের দিন। فيرفعون رؤوسهم فيمطر الله عليه طيبا অতঃপর তারা মাথা উত্তোলন করলে আল্লাহ তাদের উপর সুগন্ধির বারি বর্ষণ করবেন। فيمرون بكثبان المسك তখন তারা কস্তুরীর টিলা অতিক্রম করবে। فيبعث الله على تلك الكثبان ريحا অতঃপর আল্লাহ তা'আলা সে টিলায় বাতাস প্রবাহিত করবেন, টিলার উপর প্রবাহিত সে বাতাস জান্নাতীদের শরীরে লাগবে। حتى انهم ليرجعون إلى أهلهم وانهم لشعت غبر তখন তারা তাদের পরিজনের নিকট এ অবস্থায় পৌঁছবে যে, সে বায়ুর চিহ্ন তাদের কেশে এবং টিলার কস্তুরীর চিহ্ন তাদের শরীর ও কাপড়ে থাকবে।
আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. স্ব-সনদে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. হতে বর্ণনা করেন। জান্নাতে উন্নতমানের দ্রুতগামী অশ্ব থাকবে।
টিকাঃ
৩৮৬. খ. ১ প. ৩৪৯
📄 জান্নাতীদের পারস্পরিক সাক্ষাৎ ও দুনিয়ার স্মৃতিচারণ
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, فَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ 0 তারা একে অপরের সামনা সামনি হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। قَالَ قَائِلٌ مِنْهُمْ إِنِّي كان لي قرين তাদের কেউ বলবে, আমার ছিল এক সংগী। يَقُولُ أَئِنَّكَ لَمِنَ الْمُصَدِّقِينَ 0 সে বলত, তুমি কি এতে বিশ্বাসী أَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَنَّا لَمَدِينُونَ 0 আমরা যখন মৃত্যু বরণকরব এবং আমরা মাটি ও হাড্ডিতে পরিণত হব, তারপরও কি আমরা পুনরুত্থিত হবো? قَالَ هَلْ أَنْتُمْ مُطْلِعُونَ আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি তাকে দেখতে চাও? فَاطْلَعَ فَرَأَهُ فِي سَوَاءِ الْجَحِيمِ অতঃপর সে ঝুঁকে দেখবে এবং তাকে দেখতে পাবে জাহান্নামের মধ্যস্থলে, قَالَ تَاللَّهِ إِنْ كِدْتَ لَتُرْدِينِ সে বলবে, আল্লাহর শপথ! তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংসইকরেছিলে وَلَوْلَا نِعْمَةُ رَبِّي لَكُنْتُ مِنَ الْمُحْضَرِينَ 0 এবং আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ না থাকলে আমিও তো হাযিরকৃত ব্যক্তিদের মাঝে শামিল হতাম৩৮৭।
সুতরাং উল্লিখিত আয়াতসমূহে আল্লাহ তা'আলা জানালেন, এ জান্নাতীরা পরস্পর মুখোমুখি হয়ে কথাবার্তা বলবে। তারা একে অপরকে দুনিয়ার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। এভাবে তাদের আলাপচারিতা চলতে থাকবে। তখন একজন বলবে, আমার এক সংগী ছিল, যে পুনরুত্থান ও পরকালে অবিশ্বাসী ছিল। সে তখন ঐ কথাই বলবে, যে কথা আল্লাহ তা'আলা বর্ণনা করেছেন। সে বলত, তুমি কি এতে বিশ্বাসী, আমরা কখনো মৃত্যুবরণ করব? এবং আমরা মাটি ও হাড্ডিতে পরিণত হবো, তখন কি আমাদের কর্মের প্রতিফল প্রদান করা হবে? তখন জান্নাতী উপস্থিত সাথীদেরকে বলবে, قَالَ هَلْ أَنْتُمْ مُطْلِعُونَ তোমরা কি জাহান্নামে ঝুঁকে দেখবে, তার মিথ্যাচারের কী প্রতিদান তাকে দেওয়া হয়েছে? এ ব্যাপারে সকল মত অপেক্ষা এটিই অধিক স্পষ্ট যে, এখানে هَلْ أَنْتُمْ مُطَّلِعُونَ এর মন্তব্যকারী হচ্ছে ঐ জান্নাতী।
এ ব্যাপারে আরো দু'টি মত রয়েছে। একটি মত হল, জান্নাতে পরস্পরে আলোচনাকারীদেরকে ফিরিশতাগণ বলবেন, هَلْ أَنْتُمْ مُطْلِعُون তোমরা কি জাহান্নামে উঁকি মেরে দেখবে?
এ মতটি হযরত আতা রহ. হযরত ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণনা করেন।
অপর মতটি হল, জান্নাতীদের পারস্পরিক আলোচনা কালে আল্লাহ তাদেরকে লক্ষ করে বলবেন, هَلْ أَنْتُمْ مُطْلِعُونَ
তবে এ ব্যাপারে প্রথম মতটিই বিশুদ্ধতম, অর্থাৎ মু'মিন ব্যক্তি তার সাথীদের লক্ষ্য করে এ উক্তি করবে। আয়াতের পূর্বাপর আলোচনা ও তার সাথীদের অবস্থা সব কিছুই এ মতের প্রাধান্য দাবী করে।
হযরত কা'ব রা. বলেন, জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী স্থলে একটি জানালা থাকবে। সুতরাং যদি কোনো জান্নাতী এমন কোন ব্যক্তিকে দেখতে চায়, যে দুনিয়ায় তার শত্রু ছিল, তাহলে সে ঐ জানালা দিয়ে তাকে দেখতে পাবে। আল্লাহ তা'আলার বাণী فاطلع অর্থ হল فاشرف অর্থাৎ উঁকি মেরে দেখবে।
মুকাতিল রহ. বলেন, যখন জান্নাতী ব্যক্তি তার সাথীদেরকে বলবে هَلْ أَتُمْ مُطْلِعُونَ অর্থাৎ তোমরা কি উঁকি মেরে দেখবে? উত্তরে তারা বলবে, فاطلع انت তুমিই দেখ, কেননা তাকে আমাদের তুলনায় তুমিই ভাল চেন। তখন উঁকি মেরে তার সে সংগীকে জাহান্নামে দেখতে পাবে। আল্লাহ তা'আলা যদি তাকে না চেনাতেন, তবে সে কখনও তাকে চিনতে পারত না। কেননা, জাহান্নামের শাস্তি তার চেহারার বর্ণ ইত্যাদিকে ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করে ফেলেছে। তখন সে জান্নাতী ব্যক্তি বলবে, তুমি তো আমাকেও প্রায় এতে নিক্ষেপযোগ্য করে ফেলেছিলে। আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ না হলে আমিও শাস্তিতে নিপতিতদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম।
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ তারা একে অপরের দিকে ফিরে জিজ্ঞাসা করবে قَالُوا إِنَّا كُنَّا قَبْلُ فِي أَهْلِنَا مُشْفِقِينَ তারা বলবে, পূর্বে আমরা পরিবার-পরিজনের মধ্যে শঙ্কিত ছিলাম। فَمَنَّ اللهُ عَلَيْنَا وَوَقَانَا عَذَابَ السَّمُومِ অতঃপর আল্লাহ তা'আলা আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি হতে রক্ষা করেছেন। إِنَّا كُنَّا مِنْ قَبْلُ نَدْعُوهُ إِنَّهُ هُوَ الْبَرُ الرَّحِيمُ আমরা পূর্বেও আল্লাহকে আহ্বান করতাম, তিনি তো দয়াময়, পরম দয়ালু৩৮৮।
তাবারানী রহ. স্ব-সনদে হযরত আবূ উমামাহ রা. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রশ্ন করা হল أيتزاور أهل الجنة : জান্নাতীরা কি পরস্পরের সাক্ষাৎ করবে? قال : يزور الأعلى الأسفل، ولا يزور الأسفل الأعلى বললেন, উঁচুস্তরের জান্নাতীরা নিচুস্তরের জান্নাতীদের সাক্ষাতে আসবে কিন্তু নিচু স্তরের জান্নাতীরা উচু স্তরের জান্নাতীদের সাথে সাক্ষাৎ করতে সক্ষম হবে না। إلا الذين يتحابون في الله عز وجل يأتون منها حيث شاؤوا কিন্তু যারা আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি কল্পে পরস্পরে ভালবাসত, তারা জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা সেখানে ঘুরে বেড়াবে। على النوق محتقبين الحشايا তারা আঁচল ঝোলানো অবস্থায় উষ্ট্রীর উপর আরোহী থাকবে।
দাওরাকী রহ. স্ব-সনদে হামীদ ইবনে হিলাল হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, জান্নাতে উঁচু স্তরের জান্নাতীরা তো নিচু স্তরের জান্নাতীদের সাক্ষাতের জন্য আসবে কিন্তু নিচু স্তরের জান্নাতীরা উচু স্তরের জান্নাতীদের নিকট যেতে সক্ষম হবেন না।
তাবারানী রহ. স্ব-সনদে হযরত আবূ আয়্যব রা. হতে মারফু হাদীস বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ان أهل الجنة يتزاورون على النجائب জান্নাতীরা উন্নত মানের অর্থে আরোহণ করে পরস্পরের সাক্ষাৎ করবে।
পূর্বে এ আলোচনা অতিবাহিত হয়েছে। জান্নাতীরা পরস্পরে সাক্ষাৎ করবে। তারা সাক্ষাতের আশা ব্যক্ত করবে। এরপর তারা পূর্ণমাত্রার আনন্দ উপভোগ করবে।
এ জন্যই হযরত হারেছাহ রা. কে যখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, كَيفَ اَصْبَحْتَ يَا حَارِثَة হে হারেসাহ! তুমি কোন অবস্থায় প্রভাত করলে? তিনি বললেন, اَصْبَحْتُ مُؤْمِناً حَقًّا আমি সত্যিকার মুমিন রূপে প্রভাত করেছি। قال : إن لكل حق حقيقة فما حقيقة إيمانك নিশ্চয় প্রত্যেক বস্তুরই একটি তাৎপর্য রয়েছে তোমার ঈমানের তাৎপর্য কী? عرفت نفسی عن الدنيا তিনি বললেন, আমি নিজেকে পৃথিবী হতে বাঁচিয়ে রেখেছি। فاسهرت ليلى সুতরাং আমি রাতে জাগ্রত থাকি। واظمأت نهاری এবং দিনে তৃষ্ণার্ত থাকি (অর্থাৎ রোযা রাখি)। وكأني أنظر إلى عرش ربي بارزا যেন আমি আমার প্রভুর আরশকে সামনে দেখতে পাচ্ছি। وإلى أهل الجنة يتزاورون فيها وإلى أهل النار এবং জান্নাতীদেরকে দেখি, তারা পরস্পরে সাক্ষাৎ করছে আর জাহান্নামীদেরকে দেখি, তাদেরকে সেখানে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। فقال : عبد نوره الله قلبه তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এমন বান্দা আল্লাহ তা'আলা যার অন্তরকে নূরের জ্যোতিতে উদ্ভাসিত করেছেন।
ইবনে আবিদ দুনিয়া স্ব-সনদে হযরত আনাস রা. হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إذا دخل أهل الجنة الجنة فيشتاق الإخوان بعضهم إلى بعض যখন জান্নাতে জান্নাতীরা প্রবেশ করবে, তখন এক বন্ধু অপর বন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করার আশা ব্যক্ত করবে, قال فيسير سرير هذا إلى سرير هذا و سرير هذا إلى سرير هذا রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তখন এক জন নিজের পালঙ্ক থেকে বন্ধুর পালঙ্কে আসা-যাওয়া করবে। فيقول أحدهما لصاحبه : تعلم متى غفر الله لنا তখন এক বন্ধু অপর বন্ধুকে বলবে, তুমি কি বলতে পার? কবে আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন? قال صاحبه : يوم كنا في موضع كذا وكذا فدعون الله فغفر لنا তখন তার বন্ধু বলবে, অমুক দিন যখন আমরা অমুক স্থানে ছিলাম আর আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'আ করেছি, তখন আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
হামযাহ ইবনুল আব্বাস রহ. স্ব-সনদে হযরত শফী ইবনে মাতি' রা. হতে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ان من نعيم أهل الجنة انهم يتزاورون على المطايا والنجب জান্নাতীদের অর্জিত নিআমত সমূহে এও রয়েছে, তারা নানা বাহনে ও উন্নতমানের ঘোড়ায় আরোহণ করে পরস্পরে সাক্ষাতের জন্য যাবে।
وانهم يؤتون في الجنة بخيل مسرجة ملجمة لا تروث ولا تبول জান্নাতীদেরকে হাওদা ও লাগাম বিশিষ্ট এমন ঘোড়া প্রদান করা হবে যেগুলো মল-মূত্র ত্যাগ করবে না।
فيركبونها حتى ينتهوا حيث شاء الله عزّ وجلّ তারা তাতে আরোহণ করবে আর আল্লাহ তা'আলা যেখানে ইচ্ছা করেন ঘোড়া তাদেরকে সেখানে পৌছে দিবে।
فيأتيهم مثل السحابة فيها ما لا عين رأت ولا أذن سمعت তখন তারা এমন মেঘমালা দেখতে পাবে, যা কখনো কোন চক্ষু দেখেনি, কোন কান শ্রবণ করেনি।
فيقولون : أمطري علينا তারা সে মেঘমালাকে তাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করতে বলবে, فمايزال المطر عليهم حتى ينتهى ذالك فوق أمانيهم তখন মেঘমালা তাদের উপর মুষলধারায় বৃষ্টিবর্ষণ করবে, এমনকি তাদের আশাতীত বৃষ্টি বর্ষিত হবে।
ثم يبعث الله ريحا غير مؤذية فتنسف كثبانا من مسك عن أيمانهم وعن شمائلهم অতঃপর আল্লাহ তা'আলা এমন বায়ু প্রবাহিত করবেন, যাতে কষ্টদায়ক কিছু থাকবে না। সে বায়ু তাদের ডান ও বামে অবস্থিত টিলা হতে কস্তুরি উড়িয়ে আনবে।
فيأخذ ذالك المسك فينواصي خيولهم وفي مفارقهم وفي رؤوسهم সে কস্তুরি তাদের অশ্বের কপালে, তাদের কেশশূণ্য স্থানে ও মাথায় পড়বে।
ولكل رجل منهم جمة على ما اشتهت نفسه তাদের প্রত্যেকের প্রত্যাশা ও আকাংখা অনুযায়ী বাবরী চুল থাকবে। (জুম্মা কানের লতি পর্যন্ত চুলকে বলে)
فيتعلق ذالك المسك في تلك الجمام وفي الخيل وفيما سوى ذالك من الثياب অত:পর সে কস্তুরি তাদের চুল, ঘোড়া ও অন্যান্য বস্ত্রে মিশে যাবে, ثم يقبلون حتى ينتهوا إلى ماشاء الله তখন জান্নাতীরা সামনে অগ্রসর হবে। আল্লাহ তা'আলার মনযূরকৃত স্থানে ( فاذا المرأة تنادي بعض أولئك يا عبد الله اما لك فينا حاجة ) পৌঁছবে, তখন হঠাৎ এক রমণী উচ্চস্বরে ডেকে বলবে, হে আল্লাহর বান্দা! আমাদের প্রতি তোমাদের কি কোনই আগ্রহ নেই? فيقول : ما انت ومن انت ?সে ব্যক্তি বলবে, তুমি কি এবং তুমি কে? فتقول انا زوجتك وحبك সে বলবে, আমি তোমার স্ত্রী ও তোমার ভালবাসা। فيقول ماكنت علمت بمكانك । সে বলবে, আমি তো তোমার অবস্থান সম্পর্কে জানতামই না। فتقول المرأة : او ما تعلم ان الله قال : فلا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّا أُخْفِيَ لَهُم مِّن قُرَّةِ أَعْيُنِ جَزَاء بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ সে রমণী বলবে, তুমি কি জান না, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, কোন ব্যক্তি জানে না তার কর্মের প্রতিদান স্বরূপ তার চক্ষুর শীতলতার জন্য আল্লাহ তা'আলা তার জন্য কী কী গোপন নিআমত প্রস্তুত রেখেছেন। فيقول : بلى وربي সে বলবে, হ্যাঁ, আমার প্রভুর কসম, আল্লাহ তা'আলা তা বলেছেন।
فلعله يشتغل عنها بعد ذلك الموقف أربعين خريفا لا يلتفت ولا يعود ما يشغله عنها الا ماهو فيه من النعيم والكرامة অতঃপর সে ব্যক্তিই ঐ রমণী হতে চল্লিশ বছর পর্যন্ত উদাসীন থাকবে, সে তার প্রতি ভ্রূক্ষেপও করবে না, তার নিকট যাবেও না। সে জান্নাতে প্রাপ্ত নিআমত ও সম্মানের কারণে তার থেকে গাফিল থাকবে।
হামযাহ রহ. স্ব-সনদে হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, ডোরাকাটা বর্ণের উষ্ট্রীর উপর আরোহণ করে জান্নাতবাসী একে অপরের সাক্ষাতে যাবে। সে উষ্ট্রীর উপর মেস বৃক্ষের হাওদা থাকবে। তার খুর মিশক ধূলি উড়াবে, সেগুলোর লাগাম দুনিয়া ও তন্মধ্যকার সকল বস্তু থেকে উত্তম।
ইবনে আবিদ দুনিয়া স্ব-সনদে হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণনা করেন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি হযরত জিবরীল আ. কে ونفخ في الصور فصعق من في السموات ومن في الأرض الا من شاء الله সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, الا من شاء الله দ্বারা কারা উদ্দেশ্য? উত্তর দিলেন, এর দ্বারা শহীদগণ উদ্দেশ্য। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে আরশের নীচে তরবারি ঝুলানো অবস্থায় পূনরুত্থিত করবেন। فاتاهم ملائكة من المحشر بنجائب তখন হাশরের ময়দানে ফিরিশতারা ইয়াকুতের উন্নতমানের অশ্ব নিয়ে উপস্থিত হবে, যে অশ্বের লাগাম হবে الدر الأبيض برجال الذهب من ياقوت ازمتها তার লাগাম হবে সাদা মুক্তার এবং পা হবে স্বর্ণের। اعنتها السندس والاستبرق তার গদি তার গলায় সূক্ষ্ম, পুরু রেশমের হার থাকবে। ونمارقها ألين من الحرير তার উপাধান রেশম অপেক্ষা অধিক কোমল হবে। مد خطاها مد أبصار الرجال তার পায়ের দৈর্ঘ্য দৃষ্টিসীমা পরিমাণ হবে। يسيرون في الجنة على خيول তারা অশ্বে আরোহণ করে জান্নাতে ঘুরে বেড়াবে।
يقول عند طول الترهة انطلقوا بنا ننظر كيف يقضى الله بين خلقه তারা দীর্ঘ সময় ভ্রমণের পর বলবে, আমাদেরকে কিভাবে তারা দীর্ঘ সময় ভ্রমণের পর বলবে, আমাদেরকে নিয়ে চল, আমরা দেখব, আল্লাহ তা'আলা তার মাখলুকের মাঝে কিভাবে বিচারকার্য করেন। يضحك الله إليهم তখন আল্লাহ তা'আলা তাদের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে মুচকি হাসবেন।
واذا ضحك الله إلى عبد في موطن فلا حساب عليه আল্লাহ তা'আলা যখন কোন বান্দার প্রতি কোন স্থানে হাসেন, তবে সে বান্দার আর হিসাব নিকাশের সম্মুখীন হতে হয় না।
ইবনে আবিদ দুনিয়া রহ. স্ব-সনদে হযরত আলী রা. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি ان في الجنة لشجرة يخرج من اعلاها حلل ومن أسفلها خيل من ذهب مسرجة ملجمة من در وياقوت জান্নাতে এমন একটি গাছ থাকবে, যার কাণ্ড হতে জোড়ায় জোড়ায় পোশাক-পরিচ্ছদ উৎপন্ন হবে। আর তার তলদেশ হতে স্বর্ণের এমন অশ্ব সৃষ্ট হবে, যার লাগাম ও গদি হবে মুক্তার ও ইয়াকূতের, সেগুলোর মল-মূত্র ত্যাগের প্রয়োজন পড়ে না।
لها أجنحة خطوها مد بصرها তার পাখা থাকবে এবং পায়ের দৈর্ঘ্য হবে দৃষ্টি সীমা পরিমাণ। فيركبها أهل الجنة فتطير بهم حيث شاءوا জান্নাতীরা তাতে আরোহণ করলে সেগুলো তাদেরকে নিয়ে যেখানে ইচ্ছা সেখানে উড়ে বেড়াবে।
فيقول الذين أسفل منهم درجة يارب بما بلغ عبادك هذه الكرامة নিম্নস্তরের জান্নাতীরা বলবে, হে প্রভু, আপনার এ বান্দারা এত উচ্চ মর্যাদা কিভাবে লাভ করল?
فيقال لهم : كانوا يصلون في الليل وكنتم تنامون তাদেরকে বলা হবে, তারা রাতে নামাযে রত থাকত আর তোমরা নিদ্রায় বিভোর থাকতে। وكانوا يصومون وکنتم تأكلون তারা সিয়াম সাধনা করত আর তোমরা পানাহারে লিপ্ত থাকতে | وكانوا ينفقون وکنتم تبخلون এবং তারা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করত আর তোমরা কৃপণতা করতে। وكانوا يقاتلون وکنتم تجينون এবং তারা আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করত আর তোমরা ভীরুতা প্রদর্শন করতে।
জান্নাতীদের স্বীয় প্রভুর দর্শন লাভ
জান্নাতীদের পারস্পরিক সাক্ষাৎ তো অবশ্যই আনন্দের বিষয়। কিন্তু এর চেয়েও মহানন্দ ও মহা উৎসবের বিষয় হল, আল্লাহ তা'আলার সাক্ষাৎ। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে তাঁর দর্শনে ধন্য করবেন এবং তাদেরকে নিজ কালাম শুনাবেন। তাদের প্রতি স্বীয় সন্তুষ্টি প্রকাশ করবেন।
আল্লাহ তা'আলার দীদার লাভ করা সম্পর্কিত আলোচনা সামনে উল্লেখ করা হবে।
টিকাঃ
৩৮৭. সূরা সাফ্ফাত, আয়াত: ৫০-৫৭