📘 জান্নাতের স্বপ্নীল ভুবন > 📄 জান্নাতের প্রাসাদ ও বিভিন্ন স্থাপনা

📄 জান্নাতের প্রাসাদ ও বিভিন্ন স্থাপনা


لَكِنِ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ لَهُمْ غُرَفٌ مِنْ فَوْقِهَا غُرَفٌ :আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, তবে যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, তাদের জন্য আছে বহু প্রাসাদ, যার উপর নির্মিত আরো প্রাসাদ, ২৪৫

আল্লাহ তাআলা বলেন, প্রাসাদের উপর আরো প্রাসাদ থাকবে, তার নির্মাণ সম্পন্ন হয়ে গেছে। যেন আত্মায় এ ধারণা সৃষ্টি না হয় যে, এগুলো শুধুই উপমা আর উদাহরণমাত্র। সেখানে এর কিছুই তৈরী করা হয়নি। সে প্রাসাদগুলি একটি অপরটি অপেক্ষা উঁচু হবে। সুতরাং আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্ট ভাবে বর্ণনা করে দিলেন, সেগুলোর নির্মাণ সম্পন্ন হয়ে গেছে। আল্লাহ তাআলা এমন বর্ণনাধারা অবলম্বন করলেন যেন শ্রোতাবর্গ চর্মচক্ষে তার সম্মুখে প্রত্যক্ষ করছে। مُشَيَّدَةٌ শব্দটি প্রথম ও দ্বিতীয় غُرَفٌ এর সিফাত অর্থাৎ তার ভবনগুলো হবে উঁচু উঁচু, সেগুলোর উপরে অপেক্ষাকৃত আরো উঁচু ভবনও থাকবে।

وَمَا أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ بِالَّتِي تُقَرِّبُكُمْ :আল্লাহ তাআলা আরো ইরশাদ করেন عِنْدَنَا زُلْفِي إِلَّا مَنْ آمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُولئِكَ لَهُمْ جَزَاءُ الضَّعْفِ بِمَا عَمِلُوا وَهُمْ فِي الْقُرْفَاتِ أَمَنُونَ তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি এমন কিছু নয়, যা তোমাদেরকে আমার নিকটবর্তী করে দিবে। তবে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারাই তাদের কর্মের জন্য পাবে বহুগুণ পুরস্কার; আর তারা প্রাসাদে নিরাপদে থাকবে।২৪৬

يغفر لكم ذنوبكم ويدخلكم جنات تجري من تحتها الأنهار ومساكن طيبة في جنات عدن আল্লাহ তোমাদের পাপ ক্ষমা করে দিবেন এবং তোমাদেরকে দাখিল করাবেন এমন জান্নাতে, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত রয়েছে এবং স্থায়ী জান্নাতের উত্তম বাসগৃহ।২৪৭

আল্লাহ তাআলা ফিরআওনের স্ত্রীর (আসিয়া) ব্যাপারে বলেন, সে বলল, رب ابن لي عندك بيتا في الجنة হে আমার প্রতিপালক! তোমার নিকট জান্নাতে আমার জন্য একটি বাসগৃহ নির্মাণ করো।২৪৮

ইমাম তিরমিযী রহ. স্বীয় জা'মেতে স্ব-সনদে হযরত আলী রা. হতে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতে এমন এমন প্রাসাদ রয়েছে যেগুলোর অভ্যন্তর বাইর থেকে এবং বহিরাংশ ভিতর থেকে দেখা যাবে। তখন এক গ্রাম্য ব্যক্তি দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কারা সে সকল প্রাসাদ লাভ করবে? জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে সকল লোকই এসকল প্রাসাদের অধিকারী হবে যারা সুভাষী এবং উত্তম বাক্যালাপ করবে এবং দুস্থ ও দরিদ্রের আহার দান করবে এবং অধিকহারে রোযা পালন করবে এবং রাতের সে অংশে নামাযরত থাকবে যখন মানুষ নিদ্রায় নিমগ্ন থাকে।

ইমাম তিরমিযী রহ. বলেন, উক্ত হাদীসটি গরীব পর্যায়ের। কেননা, এটি একমাত্র আব্দুর রহমান ইবনে ইসহাকের সনদেই বর্ণিত হয়েছে। ইমাম তাবারানী রহ. স্ব-সনদে হযরত আবূ মালিক আশআরী রা. হতে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতে এমন এমন প্রাসাদ রয়েছে যেগুলোর অভ্যন্তর বাইর থেকে এবং বহিরাংশ ভেতর থেকে দেখা যাবে। সে সকল প্রাসাদ আল্লাহ তাআলা এমন সব লোকদের জন্য তৈরী করেছেন যারা দুস্থ ও দরিদ্রের আহার দান করে, অধিকহারে রোযা পালন করে, রাতের সে অংশে নামাযরত থাকে যখন মানুষ নিদ্রায় নিমগ্ন থাকে।

ইবনে ওয়াহাব রহ. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. হতে বর্ণনা করেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতে এমন এমন প্রাসাদ রয়েছে যেগুলোর অভ্যন্তর বাইর থেকে এবং বহিরাংশ ভিতর থেকে দেখা যাবে। হযরত আবূ মালিক আশআরী রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে সকল প্রাসাদ কাদের জন্য তৈরী করা হয়েছে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে লোকদের জন্য, যারা সুভাষী ও উত্তম বাক্যালাপ করবে, দুস্থ ও দরিদ্রের আহার প্রদান করবে, নামায অবস্থায় রাত পার করবে যখন সকল মানুষ নিদ্রায় নিমগ্ন থাকে।

মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ রহ. বলেন, উক্ত হাদীসের সনদ আমার নিকট হাসান পর্যায়ের। এ সংক্রান্ত হযরত আবূ মালিক রহ.-এর হাদীস ইতোপূর্বেও আমার নিকট পৌঁছেছে, যা এর বিশুদ্ধতার নির্দেশক। ইতোপূর্বে হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রা.-এর হাদীসও উল্লিখিত হয়েছে যা মুহাদ্দিসীনে কিরামের সর্বসম্মতিক্রমে সহীহ। তাতে রয়েছে, জান্নাতীরা প্রাসাদবাসীকে তেমনি দেখতে পাবে যেমনি আকাশের দিগন্তে জ্বলজ্বলে নক্ষত্র তোমরা দেখতে পাও।

সহীহায়নে২৪৯ হযরত আবূ মূসা আশআরী রা.-এর বর্ণিত হাদীসে রয়েছে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মু'মিনের জন্য জান্নাতে জোড়াবিহীন পুরো মুক্তার একটি ষাট মাইল দীর্ঘ শিবির থাকবে। মু'মিনগণ তার অধিবাসীদের নিকট ঘুরতে থাকবে। কিন্তু কেউ কাউকে সেখানে দেখতে পাবে না। বুখারী শরীফে দুটি বর্ণনা রয়েছে। এক বর্ণনা মতে উচ্চতা ত্রিশ মাইল, অন্য বর্ণনায় ষাট মাইল।

পূর্বে সহীহ হাদীসে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তষ্টিকল্পে মসজিদ করল, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ তৈরী করবেন।

হযরত আবূ মূসা আশআরী রা.-এর বর্ণিত হাদীসে রয়েছে,২৫০ কোন ব্যক্তির সন্তান মৃত্যুবরণ করলে যদি সে অবস্থায় সে ব্যক্তি إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ )ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) পড়ে ও আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগাণ করে, তাহলে আল্লাহ তাআলা ফিরিশতাদেরকে বলেন, আমার বান্দার জন্য জান্নাতে প্রাসাদ তৈরী কর। বায়তুল হামদ করে তার নাম করণ কর।

সহীহায়নে২৫১ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবূ আওফা রা. হযরত আবূ হুরায়রা রা. ও হযরত আয়শা সিদ্দীকা রা. হতে বর্ণিত আছে। জিবরীল আ. নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, আপনার স্ত্রী খাদিজা রা. কে আপনার প্রভুর পক্ষ হতে সালাম জানিয়ে দিন এবং আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে হীরা-মোতি-পান্নার এমন প্রাসাদের সুসংবাদ দেওয়ার জন্য আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে কোন প্রকার হৈ-হুল্লোড় হবে না ও কোন প্রকার ক্লান্তি স্পর্শ করবে না।

ইবনে আবিদ দুনিয়া স্ব-সনদে হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণনা করেন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতে মুক্তার এমন প্রাসাদ থাকবে যাতে কোন প্রকার ফাটল নেই এবং কোন প্রকার দুর্বলতা নেই। আল্লাহ তাআলা তাঁর বন্ধু হযরত ইবরাহীম আ.-এর জন্য সে প্রাসাদ তৈরী করেছেন।

সহীহায়নে২৫২ হযরত আনাস রা. হতে বর্ণিত আছে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি জান্নাতে প্রবেশ করে স্বর্ণের নির্মিত এক প্রাসাদের নিকট পৌঁছে জিজ্ঞাসা করলাম, এটি কার প্রাসাদ? ফিরিশতাগণ বললেন, এটি এক কুরায়শী যুবকের। আমি ভাবলাম আমিই সেই যুবক। আমি পুনরায় প্রশ্ন করলাম, কে সে যুবক? ফিরিশতাগণ বললেন, তিনি হলেন উমর ইবনুল খাত্তাব অর্থাৎ এটি উমর ইবনুল খাত্তাবের প্রাসাদ।

হযরত জাবির রা.-এর বর্ণিত হাদীসের ভাষ্য হল, আমি স্বর্ণ নির্মিত চতুর্ভুজ বিশিষ্ট উঁচু প্রাসাদের নিকট পৌছলাম। ইবনে আবিদ দুনিয়া স্ব-সনদে হযরত আনাস বিন মালিক রা. হতে একটি হাদীস বর্ণানা করেছেন। যেখানে রয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি জান্নাতে প্রবেশ করে একটি শ্বেতশুভ্র প্রাসাদের নিকটে পৌছলে হযরত জিবরীল আ. কে জিজ্ঞাসা করলাম, এটি কার প্রাসাদ? জবাবে বললেন, এক কুরায়শী ব্যক্তির। আমার আশা ছিল, আমিই সে ব্যক্তি। কেননা, আমি তো কুরায়শী। তখন জিবরীল আ. বললেন, এটি উমর ইবনুল খাত্তাবের প্রাসাদ। উক্ত হাদীসে শ্বেত ও শুভ্রতা দ্বারা উদ্দেশ্য হল তার ঔজ্জ্বল্যতা। আল্লাহ ভালো জানেন।

হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, স্বর্ণ নির্মিত প্রাসাদ কেবলমাত্র নবী, পরম সত্যবাদী, শহীদগণ ও ন্যায়পরায়ণ বাদশাগণই অর্জন করবেন। আ'মাশ স্ব-সনদে হযরত মাগীছ ইবনে সামী হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, জান্নাতে স্বর্ণ, রৌপ্য, মুক্তা, ইয়াকুত ও পান্নার প্রাসাদ থাকবে।

আ'মাশ রহ. হযরত উবাইদ ইবনে উমাইর রহ. হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, সর্বাপেক্ষা নিম্নস্তরের জান্নাতীর জন্য মুক্তা নির্মিত এমন ভবন থাকবে যাতে কক্ষ ও দরযা থাকবে।

ইমাম বায়হাকী রহ. স্ব-সনদে হযরত ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতে এমন প্রাসাদ রয়েছে, যাতে কেউ বসবাস করলে তার কাছে যেমন পেছনের বস্তু অজ্ঞাত থাকবে না। তেমনি পেছন দিকে বাস করলেও মাঝখানের বস্তু গোপন থাকবে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কারা এ প্রাসাদ লাভ করবে? উত্তর দিলেন, সে সকল লোক এসব প্রাসাদ লাভ করবে, যারা সুভাষী ও উত্তম বাক্যালাপ করে। অধিক হারে রোযা পালন করে ও দুস্থ-দরিদ্রকে আহার দান করে। সালামের বিস্তার ঘটায় এবং যখন মানুষ নিদ্রায় নিমগ্ন থাকে তখন তারা নামাযে রত থাকে। সাহাবী জিজ্ঞাসা করলেন, তাইয়্যেবুল কালাম তথা সুভাষণ দ্বারা উদ্দেশ্য কি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা হল সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার এ কালিমাগুলো কিয়ামত দিবসে সামনে ও পেছনে ফিরিশতাদের জামাত সহকারে উপস্থিত হবে। এরপর প্রশ্ন করা হল, وصال الصيام (বিসালুস সিয়াম) দ্বারা উদ্দেশ্য কি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি রমযানে পূর্ণ রোযা রাখে ও পরবর্তীতে সুযোগ পেয়ে রোযা রাখে, এটাই وصال الصيام এর উদ্দেশ্য।

আবার জিজ্ঞাসা করা হল إطعام الطعام দ্বারা উদ্দেশ্য কি? তিনি বললেন اطعام الطعام দ্বারা উদ্দেশ্য হল, স্বীয় পরিবার-পরিজনের জন্য জীবিকা উপার্জন করা। অতঃপর প্রশ্ন করা হল, إفشاء السلام (সালামের বিস্তার ঘটানো) দ্বারা উদ্দেশ্য কি? বললেন, তোমার মুসলিম ভাইদের সাথে মোসাফাহা করা ও সালাম বিনিময় হল إفشاء السلام দ্বারা উদ্দেশ্য। এরপর জিজ্ঞাসা করা হল, الصلوة والناس نيام দ্বারা কোন নামায উদ্দেশ্য? উত্তর দিলেন, এর দ্বারা এশার নামায উদ্দেশ্য।

ইমাম বায়হাকী রহ. বলেন, উক্ত হাদীসে হাফস ইবনে উমর অজ্ঞাত পরিচয়। কেননা, আমার জানা মতে তার থেকে শুধু মাত্র আলী ইবনে হারই বর্ণনা করেছেন, অন্য কেউ বর্ণনা করেননি।

আমি (ইবনুল কাইয়্যিম) বলব, তার উপাধি ছিল কাফ্র। তার থেকে মুহাম্মদ ইবনে গালিব ও আলী ইবনে হারব উভয়েই বর্ণনা করেছেন। উভয় ছিকা তথা নির্ভরযোগ্য। পক্ষান্তরে ইবনে আদিও ইবনে হাব্বান তাকে দুর্বল স্তরের বর্ণনাকারী রূপে প্রতিপন্ন করেছেন। অন্যান্য বর্ণনায় এই হাদীসের অনুরূপ ভাষ্য পাওয়া যায়। والله اعلم

ফাওয়ায়েদে ইবনুস সামাকে সনদসহ হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত আছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতের প্রাসাদ সম্পর্কে জানাব? সাহাবায়ে কিরাম বললেন, আমাদের মাতা-পিতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক। অবশ্যই বলুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, জান্নাতে প্রত্যেক প্রকারের মণি-মাণিক্যে খচিত প্রাসাদ থাকবে। তার অভ্যন্তর বাইর থেকে এবং বহিরাংশ ভিতর থেকে দেখা যাবে। তাতে রয়েছে এমন স্বাদ ও নিআমত, যা কোন চক্ষু অবলোকন করেনি, কোন কর্ণ শ্রবণ করেনি, এমনকি কোন মানব হৃদয়ে যার কল্পনা পর্যন্ত অঙ্কিত হয়নি।

হযরত জাবির রা. বলেন, আমরা নিবেদন করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কারা এ সকল প্রাসাদ লাভ করবে? জবাব দিলেন, সে সকল লোক, যারা সালামের বিস্তার ঘটায়, দুস্থ ও দরিদ্রদের আহার দান করে, অধিক হারে রোযা রাখে, মানুষ যখন নিদ্রায় নিমগ্ন থাকে, তখন তারা নামাযরত থাকে।

জাবির রা. বলেন, আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কার দ্বারা তা সম্ভব? জবাব দিলেন, আমার উম্মতের জন্য তা সম্ভব। আমি তোমাদেরকে তাদের পরিচয় অবহিত করছি। যে ব্যক্তি অপর মুসলিম ভাই-এর সাথে সাক্ষাত হলে সালাম পেশ করল, সালামের জবাব দিল, সে সালামের বিস্তারের আমল করল। যে ব্যক্তি তার পরিবার-পরিজনের জন্য তৃপ্তি সহকারে খাবারের ব্যবস্থা করল, সে اطعام الطعام এর আমল করল। যে ব্যক্তি রমাযানের রোযাসহ প্রতি মাসে তিনটি করে রোযা রাখবে, সে অধিক হারে রোযা আদায়ের আমল সম্পন্ন করল। আর যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ইশার নামায আদায় করল সে صلى اليل والناس نيام এর আমল করল।

উক্ত হাদীসের সনদে যদিও দুর্বলতা রয়েছে। সাথে সাথে অন্যান্য বর্ণনার ভাষ্য তা সমর্থন করে।

টিকাঃ
২৪৫. সূরা যুমার, আয়াত: ২০
২৪৬. সূরা সাবা, আয়াত: ৩৭
২৪৭. সূরা সাফ, আয়াত: ১২
২৪৮. সূরা তাহরীম, আয়াত: ১১
২৪৯. বুখারী, খ. ১ পৃ. ৪৬০, মুসলিম, খ. ২, পৃ. ৩৮৬
২৫০. তিরমিযী, খ. ১ পৃ. ১৯৮
২৫১. বুখারী, খ. ১, পৃ. ৫৩৯ মুসলিম, খ. ২. পৃ. ২৮৪
২৫২. বুখারী, খ. ২ পৃ. ১০৪০ মুসলিম, খ. ২ পৃ. ২৭৫

📘 জান্নাতের স্বপ্নীল ভুবন > 📄 জান্নাতীরা আপন নিবাস দেখেই চিনে ফেলবেন

📄 জান্নাতীরা আপন নিবাস দেখেই চিনে ফেলবেন


আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
وَالَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَلَنْ يُضِلَّ أَعْمَالَهُمْ سَيَهْدِيهِمْ وَيُصْلِحُ بَالَهُمْ وَيُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ عَرَّفَهَا لَهُمْ
যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তিনি কখনও তাদের কর্ম বিনষ্ট হতে দেন না। তিনি তাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন এবং তাদের অবস্থা ভাল করে দেন। তিনি তাদেরকে দাখিল করেন জান্নাতে, যার কথা তিনি তাদেরকে জানিয়ে ছিলেন।২৫৩

উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় মুজাহিদ রহ. বলেন, জান্নাতীগণ স্ব-স্ব ভবন ও নিবাস এমনভাবে চিনে নিবে, তাতে কোন প্রকার ভুল-ত্রুটি হবে না। যেন সে আজন্ম সেখানেই বসবাস করেছে, এমনকি তারা কারো নিকট পথ-নির্দেশনাও চাবে না।

হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, জুম'আর নামায আদায় করে ফিরে গিয়ে মানুষ যেমনিভাবে স্ব-গৃহ চিনে নেয়, জান্নাতীগণ জান্নাতে প্রবেশ করে স্ব-স্ব নিবাস তদপেক্ষা ভালভাবে চিনে নিবে।

মুহাম্মদ ইবনে কা'ব বলেন, তোমরা জুম'আর নামায পড়ে ফিরে এসে যেমনিভাবে আপন গৃহ চিনে নাও জান্নাতীগণও ঠিক তেমনিভাবে স্ব-স্ব নিবাস চিনে নিবে। অধিকাংশ মুফাস্সিরের উক্তিও তাই। এসকল মতের সমষ্টি তা-ই, যা আবূ উবায়দা রহ. বলেছেন, عَرَّفَهَا لَهُمْ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, জান্নাতীগণ তাদের নিবাসকে কারো নিকট জিজ্ঞাসা করা ব্যতীতই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে চিনে নিবে।

হযরত মুকাতিল ইবনে হিব্বান রহ. বলেন, মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ফিরিশতা জান্নাতে আগে আগে হাঁটতে থাকবে আর লোকেরা তার পেছনে পেছনে চলতে থাকবেন। ফিরিশতা তার ভবনে প্রবেশ করে তাকে সকল বস্তুর সাথে পরিচয় করিয়ে দেবেন। মু'মিন ব্যক্তি নিজ নিবাসে প্রবেশ করে স্ত্রীর নিকট পৌঁছলে ফিরিশতা ফিরে আসবেন।

সালামাহ ইবনে কুহায়ল রহ. বলেন, عرفها لهم এর অর্থ طرفها هم অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য এমন পথ তৈরী করে রেখেছেন যে পথ ধরে তারা স্ব- স্ব- নিবাসে পৌছতে পারবে।

হাসান বসরী রহ. বলেন, পৃথিবীতে তো আল্লাহ তাআলা তাদেরকে জান্নাতের বৈশিষ্ট্য ও গুণাগুণ বর্ণনা করে শুনিয়েছেন। যখন তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন তারা সেই বর্ণনার আলোকে জান্নাত চিনে ফেলবে। এ মতানুযায়ী عَرَّفَهَا لَهُمْ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে তাদের নিকট জান্নাতের যে গুণাগুণ ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন, তাদেরকে সে জান্নাতেই দাখিল করাবেন। عَرَّفَهَا لَهُمْ এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে উল্লিখিত মতামতগুলো সেক্ষেত্রে, যখন عرف শব্দটির শব্দমূল تعریف অর্থাৎ পরিচয় জ্ঞাপন হবে। কতক ভাষাবিদের মতে তার শব্দমূল হল عرف। উত্তম ও উন্নত সুগন্ধি, তখন বাক্যটির অর্থ হল طيها همঅর্থাৎ আল্লাহ তাআলা মু'মিনদের জন্য জান্নাতকে সুগন্ধিময় করে সৃষ্টি করেছেন। এর থেকেই উৎকলিত طعام معرف অর্থাৎ সুগন্ধিময় খাবার। এটি যুজাজ রহ.-এর উক্তি।

কেউ বলেন, عرف শব্দটির অর্থ হল অনুগামী অর্থাৎ জান্নাতের সুগন্ধি ও স্বাদসমূহ জান্নাতীদের অনুগামী-অধীনস্থ হবে। তবে প্রথম উক্তিটি অধিক গ্রহণযোগ্য। আল্লাহ তাআলা সকলকেই স্ব-স্ব মনযিল ও গৃহ চিনিয়ে দিবেন, যেন অন্যদিকে অতিক্রম না করে।

সহীহ বুখারীতে২৫৪ হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণিত আছে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একদল মু'মিন যখন জাহান্নام থেকে মুক্তি পাবে তখন তাদেরকে জান্নাত ও দোযখের মধ্যবর্তী একটি সেতুতে বাধা দেয়া হবে। সেখানে তারা পরস্পরে দুনিয়াতে যে বাড়াবাড়ি ও সীমা লংঘন করেছে তার প্রতিশোধ নিবে। এরপর যখন সকল প্রকার বাড়াবাড়ি ও সীমা লংঘন থেকে মুক্ত হবে, তখন তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়া হবে। সেই সত্তার শপথ! যার কুদরতী হাতে আমার জীবন, তারা তখন জান্নাতে আপন নিবাসকে এত দ্রুত ও সহজে তেমনি করে চিনবে যতটা সহজে পৃথিবীতে আপন গৃহকেও চেনা সম্ভব হয় না।

হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যিনি আমাকে সত্য নবী বানিয়ে পাঠিয়েছেন, সেই সত্তার শপথ! তোমরা পৃথিবীতে তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতিকেও ততটা চিন না যতটা জান্নাতীগণ জান্নাতে প্রবেশের পর স্বীয় স্ত্রী ও নিবাসকে চিনবে।

টিকাঃ
২৫৩. সূরা মুহাম্মদ, আয়াত: ৪-৬
২৫৪. খ. ২, পৃ. ৯৭০

📘 জান্নাতের স্বপ্নীল ভুবন > 📄 জান্নাতে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আড়ম্বরপূর্ণ প্রবেশানুষ্ঠান

📄 জান্নাতে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আড়ম্বরপূর্ণ প্রবেশানুষ্ঠান


وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَرًا যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করত, তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।২৫৫

يَوْمَ نَحْشُرُ الْمُتَّقِينَ إِلى الرَّحْمَنِ وَفَدًا যেদিন দয়াময়ের নিকট মুত্তাকীদেরকে সম্মানিত মেহমান রূপে সমবেত করব।২৫৬

ইবনে আবিদ দুনিয়া স্ব-সনদে হযরত আলী রা. থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে يَوْمَ نَحْشُرُ الْمُتَّقِينَ إِلى الرَّحْمَنِ وَفَدًا আয়াতটি প্রসঙ্গে তিনি জিজ্ঞাসা করেছেন। হযরত আলী রা. বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! وَفْدًا (ওফদ) তো আরোহী অবস্থাকেই বলে। (কিন্তু এখানে আরোহী অবস্থা কিভাবে হবে) নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে সত্তার শপথ! যার কুদরতী হাতে আমার জীবন, যখন তারা (জান্নাতীরা) কবর দেশ থেকে উত্থিত হবে, তখন তারা তাদের সামনে ডানা বিশিষ্ট শ্বেত-শুভ্র উষ্ট্রী দেখতে পাবে, যার হাওদা হবে স্বর্ণের। পায়ের ক্ষুরের ধারাগুলো পর্যন্ত ঔজ্জল্যমান ও স্বচ্ছ হবে। সে উষ্ট্রীগুলোর পদচিহ্নগুলোর ঔজ্জ্বল্য দৃষ্টি সীমা পর্যন্ত দেখা যাবে। যখন জান্নাতের দরযায় পৌঁছবে, তখন ফটকের পাতার উপর লাল ইয়াকুতের শৃঙ্খল থাকবে, যার চতুর্পার্শ্বে সোনালী কাঠ রয়েছে। জান্নাতের দ্বার সংলগ্ন একটি বৃক্ষ থাকবে। যার শেকড় হতে দুটি প্রস্রবণ প্রবাহিত হবে। যখন একটি হতে পানি পান করবে, তখন তার চেহারার প্রশান্তি ও সজীবতা প্রতিভাত হবে। আর অন্যটি হতে যখন ওযু করবে তখন তাদের কেশগুচ্ছ এতটাই ঝরঝরে হয়ে যাবে যে, আর কখনই এলোমেলো হবে না।

অতঃপর তারা শৃঙ্খল দ্বারা দরযায় আঘাত করলে সে আঘাতের শব্দ হুরদের কর্ণকুহরে ধ্বনিত হলে, তারা বুঝে ফেলবে যে তাদের স্বামীরা এসে গেছে। তখন তারা জান্নাতের তত্ত্বাবধায়ককে দ্বার উন্মোচন করতে বললে দরযা খুলে দেওয়া হবে। যদি সে ব্যক্তি আল্লাহর পরিচয় পূর্বে না পেত, তবে তত্ত্বাবধায়ক ব্যক্তির চেহারায় দীপ্তি ও ঔজ্জ্বল্য দেখে সিজদায় লুটে পড়ত। তখন সে বলবে, আমি তোমারই তত্ত্বাবধায়ক, তোমার তত্ত্বাবধানের জন্য আমাকে নিযুক্ত করা হয়েছে। তখন সে তার পেছনে পেছনে চলতে চলতে এক পর্যায়ে স্বীয় স্ত্রীর নিকট পৌঁছে যাবে।

সেই জান্নাতী স্ত্রী নি:শব্দ পদে তাঁবুর ভেতর থেকে বাইরে বের হবে এবং তাকে বুকে জড়িয়ে প্রণয় বিজড়িত কণ্ঠে বলবে, তুমিই আমার ভালবাসা আর আমি তোমার ভালবাসা। আমি সর্বদা সন্তুষ্ট থাকবো, কখনো অসন্তুষ্ট হব না। আমি সর্বদা হৃষ্টচিত্ত ও প্রফুল্ল থাকব, কখনো অস্থির ও পেরেশান হব না। এখানে আমি চিরদিন থাকব, কখনো অন্য কোথাও যাব না।

অতঃপর সে তার বাসভবনে প্রবেশ করবে। এই ভবনের ফ্লোর থেকে ছাদের দূরত্ব এক লক্ষ গজ। মুক্তার মালা ও ইয়াকুত পাথর দ্বারা তা নির্মিত। সেগুলোর মাঝে কিছু পাথর থাকবে হলুদ। পাথরগুলো একটির সাথে অপরটির কোন সামঞ্জস্য নেই। অতঃপর সে সজ্জিত খাটের নিকট পৌঁছবে। সে খাটে সত্তরটি বিছানা থাকবে। সে বিছানার উপর সত্তর জন স্ত্রী শোভা পাবে। প্রত্যেক স্ত্রীর পরনে সত্তর জোড়া কাপড় থাকা সত্ত্বেও পায়ের গোছার হারের মজ্জা পর্যন্ত দেখা যাবে। পূর্ণ এক রাত পরিমাণ সময় সে স্ত্রীদের সাথে কাম-প্রবৃত্তি পূর্ণ করবে। জান্নাতবাসীদের প্রাসাদের তলদেশে নদী প্রবাহিত হবে | أنهار مِنْ مَاءٍ غَيْرِ أَسِن وَأنهار مِنْ عَسَلٍ مُصَفي
একটি নদী থাকবে নির্মল পানির, তাতে বিন্দুমাত্র ময়লা থাকবে না। কিছু আছে পরিশোধিত মধুর নদী, যা মৌমাছির পেট থেকে নির্গত নয় | وأنهار من خمر لَذَّةُ لِلشَّارِبِينَ وَأَنْهَارِ مِنْ لَبَنٍ لَمْ يَتَغَيَّرْ طَعْمُه আরো থাকবে অতুলনীয় স্বাদ বিশিষ্ট সুরার নদী। আরো থাকবে কয়েকটি দুগ্ধ নদ, যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, যা গাভীর পেট হতে নির্গত নয়।২৫৭

যখন জান্নাতী ব্যক্তির আহারের ইচ্ছা জাগবে, তখন তার সামনে সাদা পাখী এসে উপস্থিত হবে। পাখীর গা থেকে পালক তুলে তা ভুনা হয়ে পরিবেশিত হবে। জান্নাতী তার পাঁজর হতে খেতে আরম্ভ করবে। সে যেই স্বাদে খেতে চাবে তেমন স্বাদই পাবে। অতঃপর সে পাখী পুনরায় উড়ে চলে যাবে। এছাড়াও জান্নাতে ফল ঝুলতে থাকবে। যখন জান্নাতী ফল খাওয়ার ইচ্ছা করবে, তখন গাছের ডালটি এমনিতেই তার প্রতি ঝুঁকে পড়বে আর সে হেলান দিয়ে তার ফল খেতে থাকবে। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন وَجَنَى الْجَنَّتَيْنِ دَانِ দুই উদ্যানের ফল নিকটবর্তী হবে এবং ফলগুলো ঝুলতে থাকবে। তার সামনে মুক্তার ন্যায় ঔজ্জ্বল্যমান সেবক থাকবে।

ইবনে আবিদ দুনিয়া রহ. স্ব-সনদে হযরত নো'মান ইবনে সা'দ হতে يَوْمَ نَحْشُرُ الْمُتَّقِينَ إِلَى الرَّحْمَنِ وَفْدًا এ আয়াত প্রসঙ্গে বর্ণনা করে বলেন, আল্লাহর কসম! তারা পদব্রজে গমনকারীদের ন্যায় পদব্রজে একত্রিত হবে না বরং এমন উষ্ট্রীতে আরোহণ করে তারা একত্রিত হবে যা কখনো কোন মানব চক্ষু অবলোকন করেনি। সে উষ্ট্রীর পিঠে স্বর্ণের হাওদা থাকবে এবং তার বলগা হবে পোখরাজ পাথরের। জান্নাতী তাতে আরোহন করে জান্নাতের দ্বার পর্যন্ত পৌঁছবে।

আলী ইবনে জা'দ তার জা'দিয়াতে স্ব-সনদে হযরত আলী রা. হতে বর্ণনা করেন, যে সকল লোক তাদের স্বীয় প্রভুকে ভয় করে, তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। তারা জান্নাতের দরযায় পৌঁছলে একটি বৃক্ষ পাবে, যে বৃক্ষের মূল থেকে দুটি প্রস্রবণ প্রবাহিত হয়েছে। তখন একটি প্রস্রবণের দিকে এমনভাবে ছুটবে, যেন তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে প্রস্রবণ হতে তারা পানি পান করলে তাদের পেটে কোন ময়লা ও অপবিত্রতা থাকবে না। অতঃপর তারা অন্য প্রস্রবণের দিকে ছুটে। সেখান থেকে পবিত্রতা অর্জন করবে। তখন তাদের চেহারায় প্রশান্তি ও সজীবতার ছাপ দেখা যাবে। এরপর আর কখনো তাদের চেহারায় কোন পরিবর্তন হবে না। কখনো ধূলিমলিন হবে না। তাদের কেশগুচ্ছে কখনো বিক্ষিপ্ততার স্পর্শ লাগবে না; বরং এমন হবে, যেন তাতে তিল লাগানো হয়েছে। অতঃপর সে জান্নাতের প্রহরীদের নিকট পৌছে তাদের সালাম করলে প্রহরী তাকে বলবে, তোমার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক, তুমি পবিত্র। চিরদিনের জন্য তুমি এ জান্নাতে প্রবেশ কর।

হযরত আলী রা. বলেন, জান্নাতে প্রবেশ করার পর তার আশাপাশে বালক সেবকের দল তেমনিভাবে ঘুরঘুর করতে থাকবে, যেমনিভাবে কোন স্বজন অনেক দিন পর এলে শিশুরা তার পাশে ঘুরঘুর করতে থাকে। তারা তাকে বলবে, আপনি সে সকল নিআমতের সুসংবাদ গ্রহণ করুন, যেগুলো আল্লাহ তাআলা আপনার জন্য সৃষ্টি করে রেখেছেন। এরপর তাদের মধ্য হতে একজন সেবক তাকে নিয়ে ডাগর ডাগর চক্ষু বিশিষ্ট অনিন্দ্য রূপসী কোনো এক স্ত্রীর কাছে নিয়ে গিয়ে বলবে, অমুক এসে গেছে। দুনিয়াতে তার যে নাম ছিল, তাকে সে নামেই ডাকা হবে। সে বালক তাকে বলবে, তুমি কি তাকে দেখেছ? সে বলবে, হ্যাঁ, আমি তাকে দেখেছি। সে তো আমারই পেছনে পেছনে ছিল। সে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়বে। এমনি অবস্থায় সে তার বাসভবনের নিকট এসে উপস্থিত হবে। অতঃপর বাসভবনে প্রবেশ করে দেখতে পাবে, তার ভিত্তি তৈরী হয়েছে মুক্তা পাথর দ্বারা। তার উপরে লাল, সবুজ, নীল, প্রত্যেক রংয়ের সুউচ্চ অট্টালিকা ও প্রাসাদ রয়েছে। ছাদের দিকে তাকালে দেখতে পাবে যেন বিদ্যুৎ চমকের ন্যায় আলোকজ্জ্বল। যদি আল্লাহ তাআলা তা তার জন্য নির্ধারিত না করতেন, তবে তার আলো তার দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে দিত। যখন সে মাথা ঝুঁকিয়ে উঁকি দেবে, তখন সে তার স্ত্রীদের ও সেখানে রাখা পান পাত্রসমূহ এবং সারি সারি করে বিছিয়ে রাখা গালিচা ও মখমলের বালিশ দেখতে পাবে। সেখানে হেলান দিয়ে বসে বলবে الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ সকল প্রশংসা আল্লাহরই জন্য, যিনি আমাদেরকে এ পথ দেখিয়েছেন। আল্লাহ আমাদেরকে পথ না দেখালে আমরা কখনো এ পথ পেতাম না২৫৮।

তখন একজন ঘোষক ঘোষণা করবে, তোমরা সদা জীবিত থাকবে। কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। তোমরা সর্বদা এখানেই থাকবে, অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হবে না। সর্বদা সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. স্ব-সনদে হযরত হুমাইদ ইবনে বিলাল রা. হতে বর্ণনা করে বলেন, যখন কোন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন তাকে জান্নাতীদের আকৃতি প্রদান করা হবে। জান্নাতী পোশাক ও অলংকার পরিধান করানো হবে। সে ব্যক্তি তার স্ত্রী ও সেবকদের দেখতে পেয়ে এতটাই আনন্দে উদ্বেলিত হবে, যদি সেখানে মৃত্যু সম্ভব হত, তাহলে সে আনন্দের আতিশয্যে মৃত্যুবরণ করত। তাকে বলা হবে, তোমার এ আনন্দ সম্পর্কে তোমার অনুভূতি কি? তুমি কি জান, তোমার এ আনন্দ ক্ষণিকের নয়; বরং চিরস্থায়ী আনন্দ।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. আবূ আবদুর রহমান আল হাবালী রহ. হতে বর্ণনা করেন, জান্নাতী ব্যক্তি যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন তার সাথে এমন সত্তর হাজার সেবক সাক্ষাৎ করবে যারা হবে মুক্তার ন্যায়।

আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. হযরত আবূ আব্দুর রহমান আল মুআফিরী রহ. হতে বর্ণনা করেন, জান্নাতী ব্যক্তিদের জন্য দুসারি সেবক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে। যখন সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন তারা তার পেছনে পেছনে চলতে থাকবে।

আবূ নাঈম রহ. আবূ সালামাহ রহ. এর সূত্রে যাহ্হাক রহ. হতে বর্ণনা করে বলেন, যখন জান্নাতী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন তার আগে ফিরিশতা থাকবে, ফিরিশতা যখন তাকে তার গলিতে নিয়ে যাবে। তখন বলবে, তাকাও তো, কি দেখা যায়? সে বলবে, স্বর্ণ-রৌপ্যের অনেক প্রাসাদ ও অনেক সুহৃদ দেখতে পাচ্ছি। তখন ফিরিশতা বলবে, এ সবই তোমার। এমতাবস্থায় তারা পরিদৃষ্ট হবে এবং তারা তাকে অভ্যর্থনা জানাবে। সবদিক থেকে বলতে থাকবে, আমরা তোমারই জন্য। ফিরিশতা তাকে বলবে, হাঁটতে থাক এবং বলবে, তুমি কি দেখতে পাচ্ছ? সে বলবে, শিবিরে অনেক সৈন্য দেখতে পাচ্ছি এবং অনেক সুহৃদ দেখতে পাচ্ছি। ফিরিশতা বলবে, এসবই তোমার। যখন সে তাদের সম্মুখে উপস্থিত হবে, তখন তারা তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বলবে, আমরা তোমারই জন্য।

সহীহায়নে২৫৯ হযরত সাহল ইবনে সা'দ রা. হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অবশ্যই আমার উম্মতের সত্তর হাজার অথবা বলেছেন, ষাট হাজার লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। পরস্পরে মিলে মিলে একে অপরে হাত ধরাধরি করে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ না করা পর্যন্ত প্রথম প্রবেশকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না। পূর্ণিমা রাতের চাঁদের ঔজ্জ্বল্যময় হবে তাদের অবস্থা।

টিকাঃ
২৫৫. সূরা যুমার, আয়াত: ৭৩
২৫৬- সূরা মারয়াম, আয়াত, ৮৫
২৫৭. সূরা মুহাম্মদ, আয়াত: ১৫
২৫৮. সূরা আ'রাফ, আয়াত: ৪৩
২৫৯ বুখারী, খ. ২, পৃ. ৯৬৯, মুসলিম খ. ১ পৃ. ১১৬

📘 জান্নাতের স্বপ্নীল ভুবন > 📄 জান্নাতীদের দৈহিক সৌন্দর্য ও চরিত্র মাধুরিমা

📄 জান্নাতীদের দৈহিক সৌন্দর্য ও চরিত্র মাধুরিমা


২৬০ ইমাম আহমদ রহ. স্ব-সনদে হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা হযরত আদম আ. কে নিজ পসন্দনীয় আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর দৈর্ঘ্য হল ষাট হাত। তাঁকে সৃষ্টি করে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিলেন, ফিরিশতাদের ঐ দলকে সালাম কর এবং তারা কি উত্তর দেয় তা শুন। তারা যে জবাব দেবে তাই হবে তোমার ও তোমার সন্তানদের সালাম ও জবাব।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হযরত আদম আ. গিয়ে বললেন, আসসালামু আলাইকুম (السلام عليكم) জবাবে তারা বললেন ওয়া রাহমাতুল্লাহ (ورحمة الله) অর্থাৎ তারা শুধু রাহমাতুল্লাহ (رحمة الله) শব্দটি বৃদ্ধি করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তিই জান্নাতে পবেশ করবে, সে-ই হযরত আদম আ. এর আকৃতিতে প্রবেশ করবে। হযরত আদম আ. ছিলেন ষাট হাত লম্বা; কিন্তু মানুষের অবয়ব খাটো হতে হতে বর্তমান আকৃতিতে এসে দাঁড়িয়েছে।

২৬১ ইমাম আহমদ রহ. স্ব-সনদে হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতীগণ জান্নাতে লোমবিহীন (অবাঞ্ছিত লোম থেকে মুক্ত হয়ে) কুঞ্চিত কেশ বিশিষ্ট, কাজল কালো আঁখি বিশিষ্ট ও ৩৩ বছরের যুবক হবে। হযরত আদম আ.-এর ন্যায় ষাট হাত দৈর্ঘ এবং ষাট হাত প্রস্ত বিশিষ্ট হবে। কেউ কেউ বলেন, হাম্মাদ একাই এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

জামে'তিরমিযীতে২৬২ শাহর ইবনে হাওশাবের মাধ্যমে আব্দুর রহমান ইবনে গানাম রহ. হযরত মু'আয রা. হতে বর্ণনা করেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতীগণ জান্নাতে মাথা ছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশে লোমবিহীন, কাজল কালো চোখ বিশিষ্ট ৩৩ বছরের যুবক হবে।

আবূ বকর ইবনে দাউদ স্ব-সনদে হযরত আনাস বিন মালিক রা. হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতীগণ হযরত আদম আ.-এর আকৃতিতে হবে। তাদের বয়স ৩৩ বছরের কাছাকাছি হবে। মাথা ব্যতীত শরীরের অন্যান্য অংশে লোমবিহীন কাজল কালো চোখ বিশিষ্ট হবে। তাদেরকে জান্নাতের একটি বৃক্ষের নিকট পৌঁছে দেয়া হবে। তা থেকে তারা পোশাক পরিধান করবে, তাদের পোশাক কখনো পুরাতন হবে না, কখনো তাদের যৌবনের পরিসমাপ্তি ঘটবে না।

ইমাম তিরমিযী রহ. স্ব-সনদে হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাত লাভকারী পৃথিবীতে ছোট থেকে মারা যাক কিংবা বড় হয়ে মারা যাক, তাকে জান্নাতে ২৩ বছরের যুবকে পরিণত করা হবে, সে চিরকাল এ বয়সেই থাকবে। জাহান্নামীদের অবস্থাও এমনি হবে।

উক্ত হাদীসের সাথে পূর্বোক্ত বর্ণনাগুলোর কোন বিরোধ নেই। (যদিও পূর্বোক্ত হাদীসে রয়েছে যে, ৩৩ বছরের যুবকে পরিণত করা হবে আর উক্ত হাদীসে রয়েছে ২৩ বছরের যুবকে পরিণত করা হবে, সুতরাং উভয়টার মাঝে বাহ্যত বিরোধ পরিলক্ষিত হয়) কারণ, আরবগণের অভ্যাস হল তারা দশকের পর কোন একক বৃদ্ধি পেলে কখনো তা উল্লেখ করে, কখনো তা উল্লেখ করে না। যারা একক উল্লেখ করেছেন, তারা ৩৩ বছর উল্লেখ করেছেন আর যারা একক উল্লেখ করেননি, তারা ২৩ বছর উল্লেখ করেছেন। এটি আরবদের ভাষায় প্রসিদ্ধ একটি রীতি।

ইবনে আবিদ দুনিয়া রহ. স্ব-সনদে হযরত আনাস বিন মালিক রা. হতে বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতীগণ জান্নাতে হযরত আদম আ.-এর আকৃতি সমান অর্থাৎ ষাট হাত লম্বাকৃতির হবে। সৌন্দর্যের দিক থেকে হযরত ইউসুফ আ.-এর ন্যায় হবে। আর হযরত ঈসা আ. এর ন্যায় বয়স হবে ৩৩ বছর। (হযরত ঈসা আ. কে এ বয়সে আকাশে তুলে নেওয়া হয়েছে।) বাক্যালাপে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ন্যায় সুমিষ্ট ভাষী হবে। শরীর হবে লোমহীন, চোখ হবে কাজল কালো।

ইবনে ওয়াহাব রহ. স্ব-সনদে হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতীগণ জান্নাতে হযরত আদম আ.-এর আকৃতির অর্থাৎ ষাট হাত লম্বা হবে। জান্নাতে তাদের জন্য সে হিসাবেই খাট তৈরী করা হয়েছে। পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে, যারা জান্নাতে সর্বপ্রথম প্রবেশ করবে তাদের আকৃতি হবে পূর্ণিমা রাতের চাঁদের ন্যায়। আর যারা তাদের নিকটবর্তী থাকবে তারা আকাশের জ্বলজ্বলে উজ্জ্বল নক্ষত্র অপেক্ষাও আলোকোজ্জ্বল থাকবে। আর তাদের স্বভাব চরিত্র সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِمْ مِنْ غِلْ إِخْوَانًا عَلَى سُرُرٍ مُتَقَابِلِينَ আমি তাদের অন্তর হতে বিদ্বেষ দূর করব; তারা ভ্রাতৃভাবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে আসনে অবস্থান করবে।২৬৩

সুতরাং আল্লাহ তাআলা জানালেন, তাদের পরস্পরে হৃদ্যতা থাকবে ও তারা পরস্পরে সামনা সামনি থাকবে।

সহীহায়নে২৬৪ বর্ণিত আছে, জান্নাতীদের অন্তর একাত্নর ন্যায় হবে (অর্থাৎ তাদের সকলের চাহিদা এক ধরনের হবে, কারো প্রতি কারো কোন প্রকার বিদ্বেষ থাকবে না) তারা তাদের পিতা আদম আ.-এর আকৃতিতে ষাট হাত লম্বা হবে। উক্ত বর্ণনায় خُلُق শব্দটির خاء এর মাঝে যবর হলে অর্থ হবে, বাহ্যিক আকৃতি আর خُلُق এর মাঝে যের হলে অর্থ হবে, চরিত্র। অর্থাৎ তারা দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ও বয়সের ক্ষেত্রে সমপর্যায়ের হবে। যদিও সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের হবে। তাদের স্বভাব চরিত্র ও অন্তরের ব্যাপারে বুখারীতে যে বর্ণনা এসেছে তাতে রয়েছে, জান্নাতীদের পরস্পরে কোন প্রকার বিরোধ থাকবে না। কারো প্রতি কারো কোন হিংসা বিদ্বেষ থাকবে না। তাদের অন্তর হবে একাত্মার ন্যায়, সকাল-সন্ধা তারা আল্লাহ তাআলার তাসবীহ পাঠ করবে। এমনিভাবে আল্লাহ তাআলা জান্নাতী মহিলাদের গুণাগুণ বর্ণনা করেছেন, তারা সমবয়সী হবে। কেউ বৃদ্ধা থাকবে না বরং সকলেই যুবতী থাকবে।

অবয়বের এ পরিমাণ দৈর্ঘ প্রস্থ ও একই পরিমাণ বয়স হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ হিকমত রয়েছে যা কারো কাছে অস্পষ্ট নয়। কেননা আত্মিক প্রশান্তি স্বাদ উপভোগের ক্ষেত্রে এ বয়স ও আকৃতিই সর্বাপেক্ষা অধিক উপযোগী ও পরিপূরক। এ দু'য়ের (বয়স ও অবয়ব) সমন্বয়ের ফলে এমন শক্তিশালী হবে, একদিনে একশত কুমারী রমণীর সাথে রতি ক্রিয়ায় মিলিত হতে পারবে।

দৈর্ঘ ও প্রস্থের ক্ষেত্রে এটিই অধিক উপযো। কেননা, এর চেয়ে কম বা বেশি হলে সমতা বিনষ্ট হবে। কেননা যদি দৈর্ঘ এ পরিমাণ হত কিন্তু প্রস্থ কম হত, তবে তাও অনুপযোগী ও কুশ্রী হত। সুতরাং দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের এটি সর্বাপেক্ষা উপযোগী।

টিকাঃ
২৬০. মুসনাদে আহমাদ খ.২ পৃ. ৩১৫
২৬১. মুসনাদে আহমদে খ. ২ পৃ. ২৯৫
২৬২. খ. ২, পৃ. ৮১
২৬৩ সূরা হিজর, আয়াত: ৪৭
২৬৪ বুখারী খ. ১ পৃ ৪২০, মুসলিম, খ. ২ প. ৩৭৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00