📘 জান্নাতের স্বপ্নীল ভুবন > 📄 জান্নাতের দুয়ারে প্রথম কড়াঘাত

📄 জান্নাতের দুয়ারে প্রথম কড়াঘাত


ইতোপূর্বে হযরত আনাস রা. এর হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তাবারানী রহ. কিছু সংযোজিত অবস্থায় বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন। যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতের দ্বারে কড়াঘাত করবেন তখন জান্নাতের প্রহরী উঠে বলবে, 'আমি আপনার আগে কারো জন্য দরযা খুলব না এবং আপনার পরে কারো জন্য উঠে দাঁড়াবো না'। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষ মর্যাদা ও সম্মানের বহি:প্রকাশের জন্যই জান্নাতের প্রহরী তাঁর আগমন কালে উঠে দাঁড়াবে। জান্নাতের প্রহরী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্য কারো জন্য উঠে দাঁড়াবে না; বরং অন্য প্রহরীগণ তার সেবায় নিয়োজিত থাকবে। তাদের উপর সেই প্রহরীর অধিপতির মর্যাদা লাভ হবে। আল্লাহ তা'আলা তাকে শুধু হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতের জন্য দাঁড় করেছেন। সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্দেশ্যে হেঁটে আসবে এবং তাঁর জন্য দরযা খুলে দেবে।

হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত আছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি, যার জন্য জান্নাতের দ্বার উন্মুক্ত করা হবে। কিন্তু আমার পূর্বেও একজন মহিলা জান্নাতে প্রবেশ করতে চাইবে। আমি বলব, তুমি কে? সে বলবে, আমি সেই মহিলা, যে শুধুমাত্র অনাথ শিশুর জন্য পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়নি; বরং এ ভাবেই জীবন অতিবাহিত করেছে।২০৮

তিরমিযীতে২০৯ হযরত ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত আছে, কয়েকজন সাহাবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

তিনি বলেন, কিছুক্ষণ পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশরীফ আনলেন। তিনি যখন তাদের নিকট পৌঁছলেন, তখন তাদেরকে কোন একটি বিষয়ে আলোচনা করতে শুনলেন, তিনি তাদের আলোচনা শুনে ফেললেন। তাদের একজন বলছিলেন, কি আশ্চর্য বিষয়, স্বীয় মাখলুকের মধ্যেই আল্লাহর বন্ধু রয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা হযরত ইবরাহীম আ. কে বন্ধু নির্বাচন করেছেন। অন্য একজন বলল, আল্লাহ তা'আলার সাথে কথোপকথনকারী অপেক্ষা অধিক আশ্চর্যকর কি হতে পারে, আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা আ. এর সাথে কথা বলেছেন। অন্য একজন বলল, হযরত ঈসা আ. তো আল্লাহর কালিমা ও রূহ (বাণী ও আত্মা) ছিলেন। অন্য একজন বলল, আল্লাহ তা'আলা হযরত আদম আ. কে নিজের জন্য চয়ন করেছেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং সালাম দিয়ে বললেন, আমি তোমাদের সব কথাই শুনেছি। তোমরা হযরত ইবরাহীম আ. আল্লাহর বন্ধু হওয়ার ব্যাপারে আশ্চর্যবোধ করেছ। তা ঠিক। তিনি তা-ই ছিলেন এবং মূসা আ. আল্লাহ তা'আলার সাথে কথোপকথনকারী ছিলেন তাও ঠিক। হযরত ঈসা আ. আল্লাহর কালিমা ও তাঁর পক্ষ হতে রূহ বা আত্মা ছিলেন, তাও ঠিক। হযরত আদম আ. আল্লাহর মনোনীত হওয়াও ঠিক। তবে আমি হলাম, আল্লাহ তা'আলা অত্যন্ত প্রিয় বন্ধু। গর্ব বা অহংকারের বিষয় নয়, আমিই সর্বপ্রথম সুপারিশকারী এবং কিয়ামত দিবসে সর্বপ্রথম আমার সুপারিশই গ্রহণ করা হবে। এটা কোন গর্ব বা অহংকারের বিষয় নয়। আমিই কিয়ামত দিবসে সর্বপ্রথম আল্লাহ তা'আলার প্রশংসার ঝান্ডা উড্ডীন করব। এটাও কোন অহংকারের বিষয় নয়। আমিই কিয়ামত দিবসে সর্বপ্রথম জান্নাতের কড়া নাড়া দিব। তখন আমার জন্য তার দ্বার উন্মুক্ত করা হবে এবং আমি তাতে প্রবেশ করব। আমার সাথে দরিদ্র মু'মিনগণও থাকবে। এটা কোন অহংকারের বিষয় নয় যে, পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকলের মধ্যে আমিই সর্বাপেক্ষা মর্যাদাশীল হব।

হযরত আনাস রা. হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যখন পুনরুত্থান হবে, তখন আমাকে সর্বাগ্রে উঠানো হবে। যখন তারা সকলে নিশ্চুপ থাকবে, তখন আমিই তাদের পক্ষে ভাষ্যকার হব। আর যখন তারা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়বে, তখন আমিই তাদের নেতা হব। যখন তারা প্রতিনিধি হয়ে আসবে তখন আমিই তাদের জন্য সুপারিশ করব। যখন তারা হতাশ হয়ে যাবে তখন আমিই তাদেরকে সুসংবাদ দেব। আমার হাতেই প্রশংসার ঝাণ্ডা শোভা পাবে। সেদিন জান্নাতের চাবি আমার নিকটই থাকবে। আমি আল্লাহ তা'আলার নিকট আদম সন্তানের মাঝে সর্বাপেক্ষা মর্যাদাবান হব। এটা কোন অহংকারের বিষয় নয়। আমার চতুর্পার্শ্বে এমন হাজারো সেবক ঘুরতে থাকবে যেন তারা অন্তর্নিহিত মুক্তামালা। এ হাদীসটি ইমাম তিরমিযী ও বায়হাকী রহ. বর্ণনা করেছেন।

সহীহ মুসলিমে২১০ হযরত আনাস রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামত দিবসে আমার অনুসারীই সর্বাপেক্ষা বেশি হবে। আমিই সর্বপ্রথম জান্নাতের দ্বারে করাঘাত করব।

টিকাঃ
২০৮. মুসনাদে আহমাদ, খ. ৬, পৃ. ২৯ এবং আবূ দাউদ ২য় খ: ৩৫৪ পৃষ্ঠায় রয়েছে যে, রাসূল সা. বলেন, যে মহিলা অনাথ সন্তানের উত্তম শিক্ষা-দীক্ষার জন্য অপর বিবাহ হতে বিরত থাকে, সে এবং আমি জান্নাতে এভাবে থাকব, অতঃপর রাসূল সা. শাহাদাত এবং মধ্যমা আঙ্গুলকে একত্রিত করে দেখালেন
২০৯. খ. ২ পৃ. ২০২
২১০. খ. ১ পৃ. ১১২

📘 জান্নাতের স্বপ্নীল ভুবন > 📄 সর্বপ্রথম কারা জান্নাতে প্রবেশ করবে?

📄 সর্বপ্রথম কারা জান্নাতে প্রবেশ করবে?


সহীহায়নে২১১ হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামত দিবসে আমরা সকল উম্মত অপেক্ষা সর্বাগ্রে থাকব। অথচ তারা আমাদের পূর্বে কিতাব পেয়েছে আর আমরা তাদের পরে কিতাব পেয়েছি। শুধু এতটুকুই তাদের শ্রেষ্ঠত্ব।

সহীহ মুসলিমে২১২ হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি দুনিয়ায় সর্বশেষে আগমন করেছি; কিন্তু কিয়ামত দিবসে সর্বাগ্রে থাকব। আর আমি জান্নাতে সর্বাগ্রে প্রবেশ করব। অথচ তারা আমাদের পূর্বে কিতাব পেয়েছে আর আমরা তাদের পরে কিতাব পেয়েছি। শুধু এতটুকুই তাদের শ্রেষ্ঠত্ব। তারা পরস্পরে মতবিরোধ করেছে। আর তাদের সত্য সম্পর্কে মতপার্থক্য করা বিষয়গুলোতে আল্লাহ তা'আলা আমাদের হিদায়েত দিয়েছেন। এটা তাঁর ইহসান।

সহীহায়নে হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি সবার পরে আগমন করেছি কিন্তু কিয়ামত দিবসে সর্বাগ্রে থাকব। আর জান্নাতে সর্বাগ্রে প্রবেশ করব। অথচ তারা আমাদের পূর্বে কিতাব পেয়েছে আর আমরা তাদের পরে কিতাব পেয়েছি। শুধু এতটুকুই তাদের শ্রেষ্ঠত্ব।

দারাকুতনী রহ. হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. থেকে বর্ণনা করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি জান্নাতে প্রবেশ করার পূর্ব পর্যন্ত অন্য নবীগণের জন্য জান্নাত হারাম করে দেওয়া হয়েছে। আমার উম্মত জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে অন্যান্য উম্মতের জন্য জান্নাত হারাম করে দেওয়া হয়েছে। দারেকুতনী রহ. বলেন, এ হাদীসটি গরীব পর্যায়ের। অন্য এক বর্ণনার শব্দ হল এরূপ, এ উম্মত সর্বাগ্রে কবর থেকে উত্থিত হবে এবং সর্বোচ্চতম অবস্থানের দিকে সর্বাগ্রে অগ্রগামী হবে ও আরশের ছায়ার দিকেও সর্বাগ্রে ধাবিত হবে। ফায়সালা ও পারস্পরিক দ্বন্দ্বের সমাধানের ক্ষেত্রেও অন্যান্য উম্মত অপেক্ষা অগ্রগামী হবে। আর পুলসিরাত পার হওয়া ও জান্নাতে প্রবেশের ক্ষেত্রে অন্য উম্মত অপেক্ষা অগ্রগামী হবে। সুতরাং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতে প্রবেশের পূর্ব পর্যন্ত অন্য নবীদের জন্য জান্নাত হারাম করা হয়েছে। এ উম্মত জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে অন্য উম্মতের জন্য জান্নাতে প্রবেশ হারাম করে দেয়া হয়েছে।

এ উম্মত সকল উম্মত অপেক্ষা আগে জান্নাতে প্রবেশ করার ব্যাপারে ইমাম আবূ দাউদ রহ. স্ব-সনদে তাঁর সুনানে হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে হাদীস বর্ণনা করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জিবরীল আ. আমার নিকট এসে আমার হাত ধরে আমাকে জান্নাতে সে দরযা দেখালেন, যে দরযা দ্বারা আমার উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে। হযরত আবূ বকর রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! হায়! যদি আপনার সঙ্গে থাকতাম, তবে আমিও তা দেখতে পেতাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অবশ্যই। আবূ বকর! তুমি আমার উম্মতের মধ্যে সর্বাগ্রে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

হযরত আবূ বকর রা. এর উক্তি "হায় যদি আমি আপনার সঙ্গে থাকতাম, তবে তা দেখতে পেতাম' তার অত্যধিক বিশ্বাস ও জান্নাত কামনারই বহিঃপ্রকাশ।

এখানে সংবাদটি প্রায় চোখে দেখার মত করে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়টি তেমনি, যেমনিভাবে হযরত ইবরাহীম আ. স্বীয় প্রভুর নিকট আরয করছিলেন, رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِي الْمَوْتَى যখন ইবরাহীম বলল, হে আমার প্রতিপালক! কিভাবে তুমি মৃতকে জীবিত কর, আমাকে দেখাও। আল্লাহ বললেন, তবে কি তুমি বিশ্বাস কর না? ইবরাহীম আ. বললেন, بَلَى وَلَكن لِّيَطْمَئِنَّ قَلْبِي কেন করব না, তবে কেবল আমার চিত্তের প্রশান্তির জন্য২১৩।

ইবনে মাজাহ-এ হযরত উবাই ইবনে কা'ব রা. হতে বর্ণনা রয়েছে, আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে সর্বপ্রথম মুসাফাহা করবেন হযরত ওমর রা. এবং সর্বপ্রথম তাঁকে সালাম করা হবে ও তার হাত ধরে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে।

এটা অত্যন্ত منکر (প্রত্যাখ্যাত) পর্যায়ের হাদীস। ইমাম আহমাদ রহ. বলেন, এ হাদীসের একজন বর্ণনাকারী দাউদ ইবনে আতা অগ্রহণযোগ্য। এ বর্ণনাকারী প্রসঙ্গে ইমাম বুখারী রহ. বলেন, সে প্রত্যাখ্যাত বর্ণনাকারী।

টিকাঃ
২১১. বুখারী, খ. ১ পৃ. ১২০, মুসলিম, খ. ১ পৃ. ২৮২
২১২. খ. ১, পৃ. ২৮২
২১৩. সূরা বাকারা, আয়াত: ২৬০

📘 জান্নাতের স্বপ্নীল ভুবন > 📄 এ উম্মতের কোন দল সর্বপ্রথম জান্নাতে যাবে?

📄 এ উম্মতের কোন দল সর্বপ্রথম জান্নাতে যাবে?


সহীহায়নে২১৪ হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে দল সর্বাগ্রে জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের আকৃতি হবে পূর্ণিমা চাঁদের ন্যায়। সেখানে তাদের থুথু ফেলার প্রয়োজন হবে না, প্রস্রাব-পায়খানারও প্রয়োজন হবে না। শ্লেষ্মাও ঝরবে না। তার পাত্র ও চিরুনী হবে স্বর্ণ ও রৌপ্য নির্মিত। আংটিতে আগর বাতির ন্যায় খড়ি জ্বলতে থাকবে এবং তাদের ঘর্ম কস্তুরীর ন্যায় সুগন্ধিময় হবে। আর তাদের প্রত্যেকের সাথে এমন দু'জন স্ত্রী থাকবে যাদের সৌন্দর্য ও রূপ লাবণ্যের ফলে তাদের গোশত ভেদ করে পায়ের গোছার মজ্জা পর্যন্ত দেখা যাবে। জান্নাতীগণের পরস্পরে কোনো প্রকার ঝগড়া-বিবাদ এবং হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না। তারা হবে অভিন্ন আত্মার অধিকারী। (অর্থাৎ তাদের ইচ্ছা-আকাংখা সবই এক রকম হবে) সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর তাসবীহ পাঠে নিমগ্ন থাকবে।

সহীহায়নে২১৫ হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে এ বর্ণনাও রয়েছে, যে দল সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় জ্যোতির্ময় হবে। আর যারা তাদের পরে প্রবেশ করবে, তারা আকাশের দীপ্তিমান নক্ষত্রের ন্যায় আলোকিত হবে। তাদের প্রস্রাব-পায়খানার প্রয়োজন পড়বে না। থুথু ফেলবে না, নাকের শ্লেষ্মা ঝাড়তে হবে না। তাদের চিরুনী হবে স্বর্ণের এবং তাদের ঘর্ম কস্তুরীর মত সুগন্ধিময় হবে। আর তাদের আংটিতে আগরবাতির খড়ি জ্বলতে থাকবে এবং তাদের স্ত্রীরা হবে ডাগর ডাগর চক্ষু বিশিষ্টা নারী। সকলের আচার-আচরণ হবে এক। চরিত্রও এক ব্যক্তির আচরণের মত গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। তারা তাদের আদি পিতা হযরত আদম আ. এর মত ষাট হাত লম্বাকৃতির হবে।

হযরত ইবনে আব্বাস রা. হতে একটি বর্ণনা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সুখে-দুঃখে সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও গুণগান গায় তাকেই সর্বপ্রথম জান্নাতের প্রতি আহবান করা হবে। ইমাম আহমাদ রহ.২১৬ স্ব-সনদে হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার সামনে আমার উম্মতের সে তিন ব্যক্তিকে পেশ করা হয়েছে যারা সর্বাগ্রে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর সেই তিন ব্যক্তিকেও পেশ করা হয়েছে যারা সর্বাগ্রে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। জান্নাতে প্রবেশকারী তিন ব্যক্তির প্রথম ব্যক্তি হল শহীদ। দ্বিতীয় ব্যক্তি হল সেই কৃতদাস, যাকে পার্থিব জগতের দাসত্ব আল্লাহ তা'আলার আনুগত্য হতে বিরত রাখতে পারেনি। তৃতীয় হল সেই দরিদ্র ব্যক্তি, যে পরিজন ও সন্ত ান-সন্ততি থাকা সত্ত্বেও অন্যের নিকট ভিক্ষা করা থেকে বিরত ছিল।

জাহান্নামে সর্বাগ্রে নিক্ষিপ্ত তিন ব্যক্তির মধ্যে প্রথম হল সেই শাসক, যে অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় আরোহণ করেছে। দ্বিতীয় ব্যক্তি হল সেই ধনাঢ্য ব্যক্তি, যে স্বীয় সম্পদ হতে আল্লাহর হক তথা যাকাত ফিতরা আদায় করেনি। তৃতীয় হল সেই দরিদ্র ব্যক্তি, যে দরিদ্র হওয়া সত্ত্বেও অহংকার করত। ইমাম আহমাদ রহ. তাঁর মুসনাদে২১৭ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা. থেকে বর্ণিত আছে এবং তাবারানী তাঁর মু'জামে হযরত ইবনে উমর রা. হতে বর্ণনা করেন। এখানে তাবারানীর শব্দ মতে উল্লেখ করা হচ্ছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা কি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে জান যে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে? সাহাবায়ে রা. বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সেই দরিদ্র মুহাজিরগণ; যাদেরকে বিপদ-আপদ দুর্বল করে ফেলেছে। তাদের কেউ যখন মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তখনো সে তার প্রয়োজনগুলো বুকের ভেতর পাথরচাপা দিয়ে রাখে, যে প্রয়োজন সে পূর্ণ করতে পারে না। (অর্থাৎ তারা স্বীয় প্রয়োজনের কথা কোন মানুষের নিকট প্রকাশ করে না) ফিরিশতাগণ বলেন, হে প্রভু! আমরা আপনার ফিরিশতা এবং আপনার পক্ষ হতে প্রহরী এবং আপনার আসমানের অধিপতি। সুতরাং আপনি সেই সকল লোককে আমাদের পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না। তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আমার এ বান্দারা আমার সাথে কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করেনি, দুঃখ-কষ্ট তাদেরকে দুর্বল করে দিয়েছে এবং তারা এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে যে, তাদের প্রয়োজন তাদের অন্তরেই ছিল, অথচ তারা তা মিটাতে অক্ষম ছিল। (অর্থাৎ তারা লোকদের নিকট স্বীয় প্রয়োজনের কথা ব্যক্ত করেনি) তখন ফিরিশতাগণ তাদের কাছে সকল দ্বার দিয়ে প্রবেশ করবে এবং বলবে, তোমাদের ধৈর্যের কারণে তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।

আল্লাহ তা'আলা যখন সমস্ত মানব সম্প্রদায়কে সৌভাগ্যবান ও হতভাগা এই দুই শ্রেণীতে ভাগ করেছেন, তখন সৌভাগ্যবানদেরও আবার দুই ভাগে ভাগ করেছেন। ১. সর্বাগ্রে জান্নাতগামী। ২. আল্লাহর ডান পাশের আসনে সমাসীন। আর তখন ইরশাদ করেছেন وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ প্রথমে জান্নাতে প্রবেশকারীরা তো প্রথমে জান্নাতে প্রবেশ করবেই।

وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ -এর ব্যাখ্যায় মুফাস্সিরগণ অনেক মত ব্যক্ত করেছেন। তন্মধ্যে একটি উক্তি হল, وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ হল تأكيد لفظي বা শাব্দিক তাকীদ। আর أولئك الْمُقَرَّبُونَ হল তার خبر। দ্বিতীয় মত হল- প্রথম السَّابِقُونَ হল مبتدأ আর দ্বিতীয় السَّابِقُونَ টি হল তার خبر। এটি ঠিক তেমনি যেমনিভাবে বলা হয়ে থাকে زيد زيد অর্থাৎ যার ব্যাপারে তুমি শুনেছ সে যায়দই। আর কবির এ কাব্যের ন্যায় زمان زمان اذا الناس ناس অর্থাৎ মানুষ তো মানুষই আর যুগ তো যুগ।

তৃতীয় মতটি হল প্রথম السَّابِقُونَ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, একদল আর দ্বিতীয় السَّابِقُونَ দ্বারা উদ্দেশ্য হল অন্যদল। অর্থাৎ যে সকল লোক দুনিয়ায় সৎ কাজের প্রতি অগ্রগামী তারা পরকালে জান্নাতের দিকে অগ্রগামী হবে। যে ঈমানের দিকে অগ্রগামী, সে-ই জান্নাতের দিকে অগ্রগামী হবে। এ অর্থই এখানে অধিক উপযোগী। والله اعلم |

প্রশ্ন: যদি প্রশ্ন করা হয়, সে হাদীসের কি সমাধান, যে হাদীস ইমাম আহমাদ রহ.২১৮ ও ইমাম তিরমিযী রহ. বর্ণনা করে তাকে বিশুদ্ধ বলেছেন। হযরত বুরাইদা ইবনে হুসাইব রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামায আদায় করার পর হযরত বিলাল রা. কে ডেকে বললেন, হে বেলাল! তুমি কিভাবে জান্নাতে আমার চেয়েও অগ্রগামী হলে? আমি যখনই জান্নাতে প্রবেশ করেছি তখনি আমি তোমার পায়ের আওয়ায শুনেছি আমার আগে আগে। গত রাতেও আমি প্রবেশ করেছিলাম, তখনও আমি তোমার পায়ের আওয়ায আমার আগে আগে শুনতে পেয়েছি। এরপর আমি একটি সুন্দর প্রাসাদের নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলাম এ প্রাসাদটি কার? তারা বলল, এটি এক আরবী যুবকের।

আমি বললাম, আমিও এক আরবী, বল, প্রাসাদটি কার? বলল, এক কুরইশী ব্যক্তির। বললাম, আমিও কুরাইশী, বল, প্রাসাদটি কার? বলল, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন উম্মতের। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমিই মুহাম্মদ, আমাকে বল। তারা বলল, এটি হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. এর।

তখন হযরত বিলাল বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যখনই আযান দেই তখনই দুই রাকাআত নামায আদায় করি। আর যখনই আমার ওযু ছুটে যায় তৎক্ষনাৎ আমি ওযু করে নেই ও দুই রাকাত নামায আদায় করি। (তাহিয়্যাতুল মাসজিদ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার অগ্রগতির এটিই কারণ।

জবাব : এ প্রশ্নের সমাধান হল, আমরা এ হাদীসকে সত্যায়নও করি। কিন্তু এ হাদীস দ্বারা এ কথা বুঝা যায় না, কেউ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর হযরত বিলাল রা. যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ হওয়ার কথা উল্লেখ হয়েছে তা এ জন্য যে, তিনি আযানের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর প্রতি আহবান করতেন, তাঁর এ আযান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনেই হত। সুতরাং তাঁর জান্নাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ হওয়াটা খাদিম ও প্রহরী প্রবেশ করার ন্যায়ই।

অন্য এক হাদীসে রয়েছে, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যখন কিয়ামত দিবসে উঠানো হবে, তখন হযরত বিলাল রা. তাঁর সামনে আযান বলে যেতে থাকবেন। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে থেকে তাঁর গমন রাসূলের মর্যাদা ও সম্মানের বহি:প্রকাশ হিসাবেই হবে। হযরত বিলাল রা.-এর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অগ্রগণ্য হওয়ার কারণে নয়; বরং এ অগ্রগামীতা ঠিক তেমনি, যেমনিভাবে ওযু নামাযের পূর্বে হয়ে থাকে। আর মসজিদে প্রবেশ করা নামাযের পূর্বে হয়ে থাকে। والله اعلم ।

টিকাঃ
২১৪. বুখারী, খ. ২ পৃ. ৯৭০, মুসলিম, খ. ২, পৃ. ৩৭৯
২১৫. বুখারী, খ. ১, পৃ. ৪৬৮, মুসলিম, খ. ২, পৃ. ৩৭৯
২১৬. মুসনাদে আহমাদ, খ. ২, পৃ. ৪২৫
২১৭. মুসনাদে আহমাদ, খ. ২, পৃ. ১৬৮
২১৮. মুসানাদে আহমাদ, খ, ৫, পৃ. ৩৫৪

📘 জান্নাতের স্বপ্নীল ভুবন > 📄 ধনীদের পূর্বেই দরিদ্রদের জান্নাতে প্রবেশ

📄 ধনীদের পূর্বেই দরিদ্রদের জান্নাতে প্রবেশ


ইমাম আহমাদ রহ. স্ব-সনদে২১৯ হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণনা করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দরিদ্র মুসলমানগণ ধনাঢ্যদের অর্ধ দিন পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আখিরাতের অর্ধ দিবস হল, পাঁচশত বছর।

ইমাম তিরমিযী রহ. এ হাদীস বর্ণনা করে এ ব্যাপারে মন্তব্য করে বলেন, এটা হাসান এবং সহীহ পর্যায়ের হাদীস। এ হাদীসের বর্ণনাকারী থেকে ইমাম মুসলিম রহ.ও হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইমাম তিরমিযী রহ. হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. হতে বর্ণনা করেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমার উম্মতের দরিদ্ররা ধনাঢ্যদের তুলনায় চল্লিশ বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

সহীহ মুসলিমে২২০ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমার রা. হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমি রাসূলকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে শুনেছি, দরিদ্র মুহাজিরগণ ধনাঢ্যদের তুলনায় চল্লিশ বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

ইমাম আহমাদ রহ. স্ব-সনদে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণনা করেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুই মু'মিন জান্নাতে পরম্পর সাক্ষাত করবে। দরিদ্র মু'মিন ও ধনাঢ্য মু'মিন। অর্থাৎ দুনিয়াতে যারা দরিদ্র ও ধনাঢ্য ছিল। এরপর দরিদ্র ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। আর ধনাঢ্য ব্যক্তিকে আল্লাহ তা'আলা যতদিন ইচ্ছা করবেন জান্নাতে প্রবেশ করা হতে বিরত রাখবেন। এরপর তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালে সে দরিদ্র ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। তখন দরিদ্র ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে বলবে, ভাই! কিসে তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করা হতে বিরত রেখেছে। আল্লাহর কসম তোমাকে বিরত রাখার কারণে তোমার ব্যাপারে আমি শংকিত হয়ে পড়েছিলাম। (এ ব্যাপারে, তোমাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হল কি না) তখন সে বলবে, ভাই! তোমার পর আমাকে এমনভাবে বিরত রাখা হয়েছে যা অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও ভীতিকর। আমি তোমার নিকট পৌছুতে এ পরিমাণ ঘামে সিক্ত হয়েছি, যদি তিক্ত ঘাস আহারকারী শত উষ্ট্রী (যেগুলো তিক্ত ঘাস ভক্ষণের ফলে তৃষ্ণায় কাতর হয়ে পড়েছে) তা পান করে নিত, তবে সেগুলোর তৃষ্ণা নিবারণ হত এবং পরিতৃপ্ত হয়ে যেত।

ইমাম তাবারানী রহ. স্ব-সনদে হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, দরিদ্র মু'মিন ধনাঢ্য মু'মিন অপেক্ষা অর্ধ দিন পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আখিরাতের অর্ধ দিন হল পাঁচশত বছর। অতঃপর দীর্ঘ হাদীস উল্লেখ করেছেন।

সহীহ মুসলিমে যে বর্ণনা রয়েছে, দরিদ্র মু'মিন ব্যক্তি ধনাঢ্য ব্যক্তির তুলনায় চল্লিশ বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যদি হাদীসকে সে হাদীসের মোকাবেলায় রাখা হয়, তবে সহীহ মুসলিমের হাদীস মাহফুয বলে গণ্য হবে। এ-ও হতে পারে, উভয় হাদীসই মাহফুয। আর সময়ের ব্যবধান ধনী ও দরিদ্রের স্তরের ব্যবধানের কারণে হবে। (কেউ রয়েছে সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও অকৃত্রিম নিষ্ঠার অধিকারী, আর কেউ আছে এর চেয়ে কম দরিদ্র, তেমনি ধনাঢ্যদের মধ্যেও কেউ হল অতি ধনী আর কেউ আছে তার চেয়ে কম ধনী)। সুতরাং কোন কোন দরিদ্র কোন কোন ধনাঢ্য অপেক্ষা চল্লিশ বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর কোন কোন দরিদ্র কোন কোন ধনাঢ্য অপেক্ষা পাঁচশত বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যেমন পাপী মু'মিনদের জাহান্নামে অবস্থান তাদের অবস্থাভেদে হয়ে থাকে। (অর্থাৎ যে পরিমাণ সে পাপ করেছে সে পরিমাণ শান্তি ভোগের জন্যই তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হবে।)

তবে এখানে একটি বিষয়ে লক্ষণীয় হল, আগে জান্নাতে প্রবেশ হওয়ার দ্বারা এটা আবশ্যক নয় যে, পরবর্তীতে জান্নাতে প্রবেশকারীদের তুলনায় তাদের মর্যাদা এবং স্তর উঁচু হবে। বরং এমনও হয়ে থাকবে, উঁচু মর্যাদা লাভকারী পরে জান্নাতে প্রবেশ করবে আর নিম্ন মর্যাদা লাভকারী তার তুলনায় আগে প্রবেশ করবে। এটার দলীল হল, উম্মতের যে সকল সৌভাগ্যবান ব্যক্তি বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের সংখ্যা হল সত্তর হাজার। অথচ যারা হিসাব-নিকাশের পর জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের মাঝে এমন কতক লোক থাকবে যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশকারী কতিপয় লোক হতেও উচ্চ মর্যাদা লাভ করবে। ধনাঢ্য ব্যক্তি হতে যখন তার সম্পদের হিসাব-নিকাশ নেয়া হবে, তখন তার আমলনামায় এ বিষয়গুলো যখন পাওয়া যাবে, সে আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও গুণগান করেছে এবং তাঁর শুকরিয়া আদায় করেছে, সৎকাজ করেছে, যাকাত ও সদকা প্রদান করেছে এবং নেক ও কল্যাণকর কাজে স্বীয় সম্পদ ব্যয় করেছে, তখন তাকে তার পূর্বে জান্নাতে প্রবেশকারী সে দরিদ্র অপেক্ষা উঁচু মর্যাদার জান্নাত প্রদান করা হবে, যার এ সকল আমল ছিল না। বিশেষত: যখন ধনাঢ্য ব্যক্তি সে দরিদ্র ব্যক্তির ন্যায় আমল করে থাকে এবং উপরোক্ত আমলগুলো তদপেক্ষা বেশি করে। আল্লাহ তা'আলা তো সৎ কর্মকারীর প্রতিদান বিনষ্ট করবেন না। সুতরাং মর্যাদা দু'ধরনের, আগে প্রবেশ করা ও উঁচু মর্যাদা লাভ করা। কখনো উভয়টার সমাবেশ ঘটে, প্রবেশ করবে আগে এবং উঁচু মর্যাদাও লাভ করবে। আবার কখনো কখনো উভয়টা ভিন্ন ভিন্ন থাকবে, কারো আগে প্রবেশ করার সৌভাগ্য হবে কিন্তু উঁচু মর্যাদা লাভ করবে পরবর্তীতে প্রবেশকারী। এ বিষয়গুলো স্ব-স্ব দাবী ও নীতি মোতাবেকই হবে। (অর্থাৎ যার মধ্যে আগে প্রবেশ করা ও উঁচু মর্যাদা লাভ করা উভয়টি পাওয়া গেছে, সে উভয়টিই লাভ করবে। অন্যথায় যেমন কারণ পাওয়া যাবে তেমনি লাভ করবে)

টিকাঃ
২১৯. মুসনাদে আহমাদ, খ. ২, পৃ. ৩৪৩
২২০. খ. ২, পৃ. ৪১০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00