📘 জান্নাতের স্বপ্নীল ভুবন > 📄 জান্নাতের চাবির বর্ণনা

📄 জান্নাতের চাবির বর্ণনা


হাসান ইবনে আরাফা রা. স্ব-সনদে হযরত মু'আয বিন জাবাল রা. হতে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতের চাবি হল, شهادة أن لا إله إلا الله অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার একত্ববাদের সাক্ষ্য প্রদান করা। এ হাদীসটি ইমাম আহমদ রহ. তাঁর মুসনাদেও১২২ উল্লেখ করেছেন।

ইমাম বুখারী রহ. ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ রা. হতে বর্ণনা করেন,১২৩ তাকে বলা হল, لا إله إلا الله কি জান্নাতের চাবি নয়? তখন তিনি বললেন, হ্যাঁ, তবে চাবির তো দাঁতও থাকে। সুতরাং তুমি যদি এমন চাবি আন, যার দাঁতও ঠিক আছে, তাহলে তালা খুলবে। অন্যথায় খুলবে না।

আবূ নাঈম রহ. হযরত আনাস রা. হতে বর্ণনা করেন, এক গ্রাম্য ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহ রাসূল! জান্নাতের চাবি কি? তিনি উত্তরে বললেন, لا إله إلا الله |

আবূ শায়খ স্ব-সনদে ইয়াযিদ ইবনে সুখায়রা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, إن السيوف مفاتيح الجنة অর্থাৎ তরবারি হল জান্নাতের চাবি। মুসনাদে১২৪ হযরত মু'আয বিন জাবাল রা. হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি কি তোমাকে জান্নাতের দ্বারসমূহ হতে একটি দ্বারের কথা বলব না? আমি বললাম, অবশ্যই বলুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, لاحول ولاقوة إلا بالله এটি হল জান্নাতের দ্বারসমূহের একটি দ্বার। আল্লাহ তা'আলা প্রতিটি প্রার্থিত ইবাদতের জন্য একটি করে চাবি বানিয়ে রেখেছেন, যে চাবি দিয়ে সেই প্রার্থীত বিষয় খোলা যাবে। সে মতে নামাযের চাবি হল, পবিত্রতা। যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, مفتاح الصلوة الطهور অর্থ্যাৎ, পবিত্রতা হল নামাযের চাবি। হজের চাবি হল, ইহরাম। নেক কাজের চাবি হল, সত্য ভাষণ। আর ইলমের চাবি হল, উত্তমরূপে জানতে চাওয়া ও গভীর ভাবে মনোনিবেশ করা। সাহায্য ও সফলতার চাবি হল, ধৈর্য্য ধারণ করা। নি'আমত বৃদ্ধির চাবি হল, কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন। বন্ধুত্বের চাবি হল, ভালোবাসা ও যিক্র তথা স্মরণ। সফলতার চাবি হল, তাকওয়া তথা খোদাভীতি। তাওফীকের চাবি হল, আশা ও ভয়। ডাকে সাড়া দেওয়ার চাবি হল, দু'আ। আখিরাতের প্রতি প্রেরণা ও মোহ সৃষ্টির চাবি হল, পার্থিব বস্তু হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়া। ঈমানের চাবি হল, সে সকল বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করা, যে সকল বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করার জন্য আল্লাহ তা'আলা বান্দাকে আহ্বান করেছেন। আল্লাহ তা'আলার নিকটে প্রবেশের চাবি হল, নিঃশর্ত আনুগত্য এবং প্রেম ও ত্যাগ, গ্রহণ ও বর্জন একমাত্র আল্লাহর সন্ত ষ্টির জন্য করা। অন্তরের সজীবতার চাবি হল, কুরআন কারীমে গবেষণা করা ও সাহরীর সময় মিনতি করা ও পাপকার্য বর্জন করা।

আল্লাহ তা'আলার রহমত লাভের চাবি হল, পূর্ণ ধ্যানে তাঁর ইবাদত করা ও তাঁর বান্দাদের উপকার করার চেষ্টা করা। রিযিকের চাবি হল, ইসতিগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা করা ও তাকওয়া তথা খোদাভীতি অর্জনের চেষ্টা করা। ইয্যত ও সম্মান লাভের চাবি হল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আনুগত্য। আখিরাতের প্রস্তুতির চাবি হল পার্থিব আশা-আকাংখা ও লোভ-লালসা সংক্ষিপ্ত করা। যাবতীয় কল্যাণের চাবিকাঠি হল, আল্লাহ তা'আলা ও আখিরাতের প্রতি আগ্রহী হওয়া। যাবতীয় অকল্যাণ ও অমঙ্গলের চাবিকাঠি হল, দুনিয়াপ্রীতি ও বড় বড় আশা-আকাংখা করা।

ইলমের অধ্যায়সমূহের মাঝে এটা হল সর্বাপেক্ষা উপকারী অধ্যায়। যাবতীয় কল্যাণ ও অকল্যাণের চাবিকাঠি সম্পর্কে অবগতি লাভের অধ্যায়। এর পরিচিতি লাভ ও তার প্রতি সম্পূর্ণ লক্ষ্য রাখার তাওফীক একমাত্র সে ব্যক্তির হয়ে থাকে যে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান ও আল্লাহ তা'আলা যাকে এ মহান তাওফীক দান করেন।

সুতরাং আল্লাহ তা'আলা যাবতীয় কল্যাণ ও অকল্যাণের জন্য চাবিকাঠি ও দরযা নির্ধারণ করেছেন, যার দ্বারা ব্যক্তি তাতে প্রবেশ করতে পারে। যেমনিভাবে তিনি শিরক-অহংকার ও তাঁর রাসূলের প্রেরিত বিষয়সমূহ থেকে বিমুখতা এবং যিকর থেকে উদাসীনতাকে জাহান্নামের চাবিকাঠি নির্ধারণ করেছেন। মদকে তিনি সকল পাপকার্যের চাবিকাঠি নির্ধারণ করেছেন। ধনাঢ্যতা ব্যভিচারের চাবিকাঠি নির্ধারণ করেছেন। চেহারার উপর গভীর দৃষ্টিপাত করাকে অনুরাগ ও প্রেমের চাবিকাঠি বানিয়েছেন। অলসতা ও আরামপ্রিয়তাকে ব্যর্থতা ও বঞ্চিত হওয়ার চাবিকাঠি নির্ধারণ করেছেন। পাপাচারকে কুফরীর ও মিথ্যাকে কপটতার চাবিকাঠি নির্ধারণ করেছেন। সংকীর্ণ মন ও লোভ-লালসাকে কৃপণতা, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নতা ও অবৈধ পন্থায় সম্পদ উপার্জনের চাবিকাঠি নির্ধারণ করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত বিষয়াবলী হতে বিমুখতাকে প্রত্যেক বিদআত ও ভ্রান্ততার চাবিকাঠি নির্ধারণ করেছেন।

এগুলো এমন বিষয়, যার সত্যায়ন একমাত্র সঠিক দৃষ্টিসম্পন্ন ও এমন জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তি-ই করতে পারেন, যে তার মনে উঁকি মারা বিষয়গুলোকে এবং ভাল-মন্দ ও কল্যাণ-অকল্যাণকে স্ব-স্ব স্থানে বুঝতে সক্ষম হন।

সুতরাং আমাদের সকলেরই কর্তব্য হল, এই চাবিগুলো এবং চাবি সম্পর্কিত বিষয়গুলোর উপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা। আর প্রতিটি তাওফীকের নেপথ্যে একমাত্র আল্লাহই রয়েছেন। যার ন্যায়পরায়ণতাই তার জন্য রাজত্ব। সকল প্রশংসা তার জন্য। তার পক্ষ থেকেই নি'আমত ও অনুগ্রহ বর্ষিত হয়। যাকে তার কর্মকান্ডের জন্য জবাবদিহী করতে হয় না। অথচ তিনি প্রত্যেকের কাছ থেকে জবাবদিহী নিবেন।

টিকাঃ
১২২. খ. ৫, পৃ. ২৪২
১২৩. খ. ১, পৃ. ১৬৫
১২৪. খ. ৫, ২৪২

📘 জান্নাতের স্বপ্নীল ভুবন > 📄 জান্নাতের আরজি ও আমন্ত্রণপত্র

📄 জান্নাতের আরজি ও আমন্ত্রণপত্র


আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْأَبْرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ وَمَا أَدْرَاكَ مَا عِلِّيُّونَ ، كِتَابٌ مَّرْقُومٌ ، يَشْهَدُهُ الْمُقَرَّبُونَ .
'অবশ্যই পুণ্যবানদের আমলনামা ইল্লিয়‍্যীনে। (ইল্লিয়‍্যীন হল, সিজ্জীনের বিপরীত। মু'মিনদের রূহ ও আমলনামা যেখানে রক্ষিত হয় সেই স্থান।) ইল্লিয়্যীন সম্পর্কে তুমি কি জান? তা চিহ্নিত আমলনামা। যারা আল্লাহ তা'আলার সান্নিধ্যপ্রাপ্ত তারা তা দেখে'।১২৫

সুতরাং আল্লাহ তা'আলা বলে দিয়েছেন, তাদের আমলনামা রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ রয়েছে। এর দ্বারা বুঝা যায়, তা বাস্তবেই লিপিবদ্ধ রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা নেক লোকদের আমলকে লিখে রাখার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। সেগুলো তার নৈকট্যশীল অর্থাৎ ফিরিশতা, আম্বিয়ায়ে কিরাম ও কামিল মু'মিনদের উপস্থিতিতে তার উপর সীলমহর অংকন করে দিবেন। পক্ষান্তরে যখন তিনি পাপাচারীদের আমলনামার কথা উল্লেখ করেছেন, তখন এ সকল পুণ্যবান লোকের সাক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেননি, যেমনটি নেক লোকদের আমলনামার মর্যাদা প্রকাশের সময় করেছেন। তার জন্য আল্লাহ তা'আলা তাঁর মাখলুকের মধ্য হতে বিশিষ্ট বান্দাদেরকে সাক্ষ্য রূপে গ্রহণ করেছেন। এই নৈকট্যশীলদের সামনে আমলনামা প্রকাশ করা সেরূপ, যেরূপ বাদশাহ তার প্রজাদের মধ্য হতে বিশিষ্টদের নামে পত্র লিখেন। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তাদের মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি করা। এভাবে সৎ লোকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা আল্লাহ ও তার ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে বান্দার উপর সালাত প্রদর্শনের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ।

ইমাম আহমদ রহ. তাঁর মুসনাদে এবং ইবনে হিব্বান ও আবূ আওয়ানা আল ইসফারায়ী স্ব-স্ব সহীতে হযরত বারা ইবনে আযিব রা. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক জানাযায় শরীক হওয়ার জন্য হাযির হলাম। فجلس رسول الله صلى الله عليه وسلم على القبر، وجلسنا حوله، كأن على رؤسنا الطير، وهو يلحد له.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের পাশে বসলেন, আর আমরা তাঁর আশে-পাশে বসলাম। তখন এমন অবস্থা বিরাজ করছিল, যেন আমাদের মাথার উপর পাখি বসে আছে। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে মৃত ব্যক্তিকে কবরে নামাচ্ছিলেন। অতঃপর তিনি তিনবার বললেন, أعوذ بالله من عذاب القبر 'আমি আল্লাহর নিকট কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি'। অতঃপর বললেন,
إن المؤمن إذا كان في إقبال من الآخرة، وانقطاع من الدنيا نزلت إليه الملائكة كان على وجوههم الشمس مع كل واحد منهم حنوط وكفن فجلسوا منه مد بصره، ثم يجى ملك الموت حتى يجلس عند رأسه ، فيقول أيتها النفس الطيبة أخرجي إلى مغفرة من الله ورضوان، قال : فتخرج تسيل كما تسيل القطرة من في السقاء، فيأخذها، فإذا أخذها لم يدعوها في يده طرفة عين حتى يأخذوها، فيجعلوها في ذلك الكفن وذلك الحنوط ويخرج منها كأطيب نفحة مسك وجدت على وجه الأرض، قال فيصعدون بها، فلا يمرون بها يعني على ملأ من الملائكة إلا قالوا : ما هذا الروح الطيب؟ فيقولون : فلان بن فلان بأحسن أسمائه التي كانوا يسمونه بها في الدنيا، حتى ينتهوا بها إلى السماء الدنيا فيستفتحون له فيفتح لهم، ويشيعه من كل سماء مقربوها إلى السماء التي تليها حتى ينتهي بها إلى السماء التي فيها الله عز وجل، فيقول الله عز و جل : اكتبوا كتاب عبدي في عليين، وأعيدوه إلى الأرض، فأنى منها خلقتهم وفيها أعيدهم ومنها أخرجهم تارة أخرى. قال : فتعاد روحه في جسده، فيأتيه ملكان فيجلسانه، فيقولان له : من ربك؟ فيقول : ربي الله، فيقولان له : ما دينك؟ فيقول : ديني الإسلام، فيقولان له : ما هذا الرجل الذي بعث فيكم؟ فيقول : هو رسول الله، فيقولان له : وما علمك؟ فيقول : قرات كتاب الله فآمنت به وصدقت، قال : فينادي مناد من السماء : أن صدق عبدي، فافرشوه من الجنة ، والبسوه من الجنة، وافتحوا له بابا إلى الجنة. قال : فيأتيه من روحها وطيبها، ويفسخ له في قبره مد بصره. قال : ويأتيه رجل حسن الوجه حسن الثياب طيب الريح، فيقول : أبشر بالذي يسرك هذا يومك الذي كنت توعد، فيقول له : من أنت؟ فوجهك الوجه الذي يجيء بالخير فيقول أنا عملك الصالح

মু'মিন যখন আখিরাতের প্রথম মনযিলে অবতীর্ণ হয় ও দুনিয়া হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তখন তার নিকট রহমতের ফিরিশতার আগমন ঘটে। যাদের চেহারায় যেন সূর্যের কিরণ জ্বলজ্বল করতে থাকে। তাঁদের (ফিরিশতাদের) প্রত্যেকের নিকট সুগন্ধি ও কাফন থাকে। তারা দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বসে পড়ে।

অতঃপর মৃত্যুদূত উপস্থিত হয়ে তার মাথার নিকটে বসে পড়ে ও বলতে থাকে, হে পবিত্র আত্মা! আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টির সাথে বেরিয়ে পড়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অতঃপর মু'মিনের আত্মা তেমনিভাবে বের হয়, যেমনিভাবে মশক থেকে পানির ফোঁটা গড়িয়ে পড়ে। অতঃপর মৃত্যুদূত তা ধরে, আর যখন তিনি তা ধরেন, তখন তাকে আর সামান্যতম সময়ও রাখেন না। ফেরেশতারা সেই আত্মা গ্রহণ করে ঐ সুগন্ধিময় কফিনে সংরক্ষন করেন। তখন সেই কফিন থেকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সহজ লভ্য সুগন্ধি বের হয়ে চার পাশে ছড়িয়ে পড়ে। অতঃপর ফিরিশতারা সে রূহকে নিয়ে উর্ধ্বে গমন করেন। তখন তাঁরা ফিরিশতাদের যে দলের নিকট দিয়েই অতিক্রম করে, তারা বলতে থাকে এ পবিত্র আত্মা কার?

তারা উত্তরে বলেন, অমুকের ছেলে অমুকের আত্মা এটা। দুনিয়ায় তার যে নামে ডাকা হত তন্মধ্যে সবচেয়ে শ্রুতিমধুর নামে তারা তাকে সম্বোধিত করে। এরপর তাকে নিয়ে দুনিয়ার আকাশে অর্থাৎ প্রথম আকাশে আরোহণ করে। অতঃপর তার জন্য সে আকাশের দরযা খোলার আবেদন করা হবে। তখন দরযা খুলে দেয়া হবে ও প্রতিটি আসমানের ফিরেশতা গণ তাকে পরবর্তী আসমান পর্যন্ত বিদায় জ্ঞাপনে যাবে। এমনিভাবে তাদেরকে সে আকাশে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে আল্লাহ তা'আলার আরশ রয়েছে।

এরপর আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আমার বান্দার আমলনামা ইল্লিয়‍্যীনে লিখ এবং তাকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে দাও। কেননা, আমি তাকে সে মাটি থেকেই সৃষ্টি করেছি এবং তাতেই তাকে ফিরিয়ে দেব ও পুনরায় তা থেকেই তার উত্থান ঘটাব।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অতঃপর তার শরীরে রূহ ফিরিয়ে দেয়া হবে ও তার নিকট দু'জন ফিরিশতা আসবেন। তাঁরা তাকে প্রশ্ন করবেন, তোমার রব তথা প্রভু কে? মু'মিন ব্যক্তি বলবে, আমার প্রভু হলেন, আল্লাহ তা'আলা। তাঁরা পুনরায় প্রশ্ন করবেন, তোমার ধর্ম কি? মু'মিন ব্যক্তি উত্তরে বলবেন, আমার ধর্ম হল ইসলাম। তাঁরা পুনরায় প্রশ্ন করবেন, যে ব্যক্তিকে তেমাদের মাঝে প্রেরণ করা হয়েছে, তাঁর সম্পর্কে তোমার ধারণা কি? মু'মিন ব্যক্তি উত্তরে বলবেন, তিনি হলেন, আল্লাহ তা'আলার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। ফিরিশতাগণ পুনরায় প্রশ্ন করবেন, তুমি কিভাবে জানলে? মু'মিন ব্যক্তি উত্তরে বলবেন, আমি আল্লাহ তা'আলার কিতাব পড়েছি ও তার প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাকে সত্যায়ন করেছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অতঃপর আকাশ হতে একজন ঘোষক ঘোষণা করবেন, অবশ্যই আমার বান্দা সঠিক বলেছে।

সুতরাং তোমরা তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও ও তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরযা খুলে দাও। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অতঃপর তার কবরে জান্নাতের সুবাতাস ও সুগন্ধি আসতে থাকবে। তার কবর দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেয়া হবে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এরপর তার নিকট সুদর্শন আকৃতির ও উত্তম পোশাক পরিহিত এবং অত্যন্ত সুগন্ধিময় একজন ব্যক্তি এসে তাকে বলবে, তুমি যে বিষয়ে খুশি হও, সে বিষয়ের সু-সংবাদ গ্রহণ কর। এটা সেই দিবস, যে দিবসের তোমাকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল।

তখন সে ব্যক্তি বলবে, আপনি কে? আপনার চেহারা থেকে তো শুধু কল্যাণ-ই বেয়ে পড়ছে। তখন সে বলবে, আমি হলাম তোমার নেক আমল। এরপর সে ব্যক্তি বলতে থাকবে, হে প্রভু! কিয়ামত ঘটান। হে প্রভু! কিয়ামত ঘটান। যেন আমি জান্নাতে আমার পরিজন ও সম্পদের নিকট পৌঁছতে পারি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন কাফির পৃথিবী ত্যাগ করে পরপারে যাত্রার নিকটবর্তী হয়, তখন আকাশ থেকে কালো কৃষ্ণ বর্ণের ফিরিশতাগণ অবতরণ করেন। তাদের নিকট চট থাকে। তারা তার দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বসে যায়। অতঃপর মৃত্যুদূত উপস্থিত হয়ে তার মাথার পাশে বসে বলবে, ايتها النفس الخبيثة হে পাপাত্মা! আল্লাহ তা'আলার ক্রোধ ও অসন্তুষ্টিতে বের হয়ে যাও। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তখন তার শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে এবং মৃত্যুদূত তা টানতে থাকবে, যেমনিভাবে কাবাব প্রস্তুতকারী ব্যক্তি ভিজা তুলা দ্বারা কাবাবের শিক টানতে থাকে। অতঃপর ফিরিশতা তা নিয়ে নেন। ফিরিশতা যখন তা নেন, তখন চোখের পলক ফিরানোর পরিমাণ সময়ও তাকে সুযোগ দেন না; বরং তাকে চটে মুড়িয়ে ফেলেন।

ويخرج منها كانتن ريح الجيفة وجدت على وجه الأرض এবং তা থেকে মৃত প্রাণীর লাশের ন্যায় দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকবে, যা পৃথিবীর নিকৃষ্টতম দুর্গন্ধ। অতঃপর ফিরিশতা তাকে নিয়ে উপরে উঠেন। তখন তা নিয়ে ফিরিশতাদের যে দলের নিকট দিয়ে-ই অতিক্রম করা হয়, তারা বলতে থাকবে, এ খারাপ আত্মা কার? তখন সে ফিরিশতা উত্তরে বলবে, অমুকের ছেলে অমুকের। পৃথিবীতে তাকে যে নামে ডাকা হত, তা হতে নিকৃষ্টতম নামে তারা তাকে সম্বোধন করবে। তাকে পৃথিবীর আকাশে তথা প্রথম আকাশে নিয়ে যাওয়া হবে ও তার জন্য আকাশের দ্বার খুলতে বলা হবে। কিন্তু তা খোলা হবে না।

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত আয়াত তিলাওয়াত করলেন, لا تفتّح لهم أبواب السّماء তাদের জন্য আকাশের দ্বার উন্মুক্ত করা হবে না।১২৬ তারা ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতেও প্রবেশ করতে পারবে না, যতক্ষণ না সূঁচের ছিদ্র পথে উষ্ট্র প্রবেশ করে। (এটি যেমন অসম্ভব। তেমনিভাবে তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাও অসম্ভব।) অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তার আমলনামা সিজ্জীনে লিখে দাও। যা সর্বাপেক্ষা নিম্নের যমীনেরও নিচে। তার আত্মাকে অত্যন্ত কঠোরতার সাথে নিক্ষেপ করা হবে।

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করলেন, ومن يشرك بالله فكأنما خرّ من السماء 'যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার সাথে শরীক করল, তথা অংশীদার সাব্যস্ত করল, সে যেন আকাশ থেকে নিচে পড়ে গেল। অতঃপর তা মৃত ভক্ষণকারী প্রাণী লুফে নেয় বা বাতাস তাকে দূর প্রান্তে নিক্ষেপ করে'।

অতঃপর আত্মা তার শরীরে ফিরিয়ে দেয়া হবে এবং তার নিকট দু'জন ফিরিশতা এসে তাকে বসিয়ে প্রশ্ন করবে, "তোমার প্রভু কে? উত্তরে সে বলবে, هاه هاه لا أدري অর্থাৎ হায় আফসোস! আমি জানি না। অতঃপর ফিরিশতাগণ তাকে প্রশ্ন করেন, তোমাদের মাঝে যে ব্যক্তিকে প্রেরণ করা হয়েছে, তার সম্পর্কে তোমার কী ধারণা? উত্তরে সে বলবে, হায় আফসোস! আমি জানি না। তখন আকাশ থেকে একজন ঘোষক ঘোষণা করবেন, নিশ্চয়-ই আমার এ বান্দা মিথ্যা বলেছে। সুতরাং তার জন্য জাহান্নামের বিছানা বিছিয়ে দাও। তার জন্য জাহান্নামের দরযা খুলে দাও। ফলে জাহান্নামের আগুনের তাপ তার শরীরে লাগতে থাকবে। ويضيق قبره حتى تختلف اضلاعه এবং তার কবর এ পরিমাণ সংকীর্ণ করে দেয়া হবে, তার পাঁজরের হাড় একটি অপরটির মাঝে ঢুকে পড়বে। এরপর তার নিকট কুৎসিত আকৃতির খারাপ পোশাক পরিহিত দুর্গন্ধযুক্ত এক ব্যক্তি আসবে ও তাকে বলবে, তোমার জন্য যে সকল অমঙ্গল ও অকল্যাণকর তার সুসংবাদ নাও। এ হল সে দিবস, যে দিবসের প্রতিশ্রুতি তোমাকে দেয়া হয়েছিল। তখন সে কবরস্থ ব্যক্তি তাকে বলবে, من أنت فوجهك الذي يجيئ بالشر তুমি কে? তোমার চেহারা থেকে তো শুধু খারাপ-ই বেয়ে পড়ছে। فيقول انا عملك الخبيث তখন সে বলবে, আমি হলাম তোমার সে খারাপ আমল। তখন সে বলবে, رب لا تقم الساعة হে প্রভু! কিয়ামত অনুষ্ঠিত করবেন না।

উক্ত হাদীস ইমাম আবূ দাউদ সবিস্তারে উল্লেখ করেছেন,১২৭ এটাই হল স্বাক্ষরদান ও প্রাথমিক পরিচয় পত্র।

উক্ত হাদীসের শেষাংশের দ্বারা বুঝা যায়, কাফির কবরের শাস্তিতে নিপতিত হওয়া সত্ত্বেও বলবে, হে প্রভু! কিয়ামত অনুষ্ঠিত করবেন না। কেননা, এখন তো জাহান্নামের দিকের দরযা খোলা। যা দ্বারা জাহান্নাম দেখা যায়। ফলে সে ভয়াবহ শাস্তির বিপরীতে কবরের আযাবকে সাধারণ ও শান্তি মনে করবে। এর দ্বারা সে সকল লোকের ঐ প্রশ্ন বিদূরিত হয়ে যায়, যে প্রশ্ন তারা সূরা ইয়াসীনের উক্ত আয়াত দ্বারা করে থাকে, قَالُوا يُوَيْلَنَا مَن بَعَثَنَا مِن مَّرْقَد نَا তারা বলবে, হায়! দুর্ভোগ আমাদের। কে আমাদিগকে আমাদের নিদ্রাস্থল হতে উঠাল।১২৮

জান্নাতের পরিচয় পর্বের সূচনা বিসমিল্লাহ দ্বারা আর দ্বিতীয় পরিচয়পর্বে থাকবে শাহী ফরমান
তাবারানী তাঁর মু'জামে স্ব-সনদে হযরত সালমান ফারসী রা. হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ أَحَدٌ إِلَّا بِجَوَازٍ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، هَذَا كِتَابُ مِنْ اللهِ، لِفُلَانِ بْنِ فُلَانٍ ادْخُلُوهُ جَنَّةً عَالِيَةً قُطُوفُهَا دَانِيَةٌ :
কেউ ঐ পরিচয়পত্র ব্যতীত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। যাতে বিসমিল্লাহ লিপিবদ্ধ থাকবে। আরো লিখিত থাকবে, এ হল অমুকের ছেলে অমুকের জন্য আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে অনুমতিপত্র। তাকে উঁচু স্তরের বেহেশতে প্রবেশ করাও, যার ফল-ফলাদিগুলো ঝুঁকে আছে।

অন্য এক সনদে হযরত সালমান ফারসী রা. হতে এ হাদীসও বর্ণিত আছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মু'মিনদেরকে পুলসিরাতে এ পরিচয়পত্র দেয়া হবে, যাতে লিপিবদ্ধ থাকবে, بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، هَذَا كِتَابُ مِنْ اللهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ لِفُلَانِ بْنِ فُلَانٍ.
এ হল পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাবান আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে অমুকের পুত্র অমুকের পরিচয়পত্র। তাকে উঁচু স্তরের বেহেশতে প্রবেশ করিয়ে দাও। যার ফল-ফলাদিগুলো ঝুঁকে আছে।

(লেখক বলেন) আমি বলব, যে দিন দুই মুষ্টি উত্তোলন করা হয়েছিল, সেদিন-ই মু'মিনগণ আসহাবুল ইয়ামিন তথা ডানদিকের দলের অন্তর্ভুক্ত। সে দিন-ই তাকে জান্নাতবাসী হিসাবে লিখে দেয়া হয়েছে, যে দিন তার মাঝে আত্মা প্রবিষ্ট করানো হয়েছে। অতঃপর মৃত্যুর দিন জান্নাতবাসীদের রেজিষ্ট্রি খাতায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করে দেয়া হয়েছে। অতঃপর তাকে এ পরিচয়পত্র কিয়ামতের দিন প্রদান করা হবে। الله المستعان একমাত্র আল্লাহ তা'আলা-ই সাহায্যকারী।

টিকাঃ
১২৫. সূরা মুতাফফিফীন, আয়াত: ১৮-১৯
১২৬. সূরা আ'রাফ, আয়াত: ৪০
১২৭. খ. ২, পৃ. ৩০৬
১২৮. সূরা ইয়াসিন, আয়াত: ৫২

📘 জান্নাতের স্বপ্নীল ভুবন > 📄 তাওহীদ-ই জান্নাতের একমাত্র পথ

📄 তাওহীদ-ই জান্নাতের একমাত্র পথ


এটি এমন একটি বিষয় যে সম্পর্কে শুরু থেকে নিয়ে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সকল নবী একমত। আর জাহান্নামের পথ তো অগণিত। সে জন্যই আল্লাহ তা'আলা জান্নাতের পথের বর্ণনায় একবচন ও জাহান্নামের পথের বর্ণনায় বহুবচন ব্যবহার করেছেন। যেমন আল্লাহ তা'আলার বাণী, وَأَنْ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَن سَبِيلِهِ এবং এই পথ-ই আমার সরল পথ। সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ কর এবং বিভিন্ন পথ অনুসরণ করো না, করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করবে।১২৯

আল্লাহ তা'আলা আরো ইরশাদ করেন, وَعَلَى اللَّهِ قَصْدُ السَّبِيلِ وَمِنْهَا جَائِرٌ সরলপথ আল্লাহর কাছে পৌঁছায়; কিন্তু পথগুলির মধ্যে বক্র পথও আছে।১৩০

অর্থাৎ সরল পথ থেকে বিচ্যুত পথও রয়েছে। আর তা হল, ভ্রষ্টতার পথ। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, هَذَا صِرَاطٌ عَلَيَّ مُسْتَقِيمٌ এটাই আমার নিকট পৌঁছার সরল পথ।১৩১

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, ১৩২ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে একটি সোজা রেখা টানলেন এবং বললেন, এটা হল আল্লাহ পর্যন্ত পৌছার পথ। অতঃপর সে রেখার ডানে-বাঁয়ে আরো অনেকগুলো রেখা টানলেন এবং বললেন, এ পথগুলোর প্রত্যেকটিতে শয়তান রয়েছে। যারা প্রত্যেকেই নিজেদের দিকে আহ্বান করতে থাকে।

وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ এবং এ পথই আমার সরল পথ। সুতরাং তোমরা এ পথের অনুসরণ কর।১৩৩ অন্য পথে চলো না। যদি এ আয়াত দ্বারা প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়, قَدْ جَاءَكُمْ مِّنَ اللهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُّبِينٌ، يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ الإِسْلَامِ আল্লাহর পক্ষ থেকে এক জ্যোতি ও স্পষ্ট কিতাব তোমাদের নিকট এসেছে। যারা আল্লাহ নিকট সন্তুষ্টি লাভ করতে চায়, এর দ্বারা তিনি তাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন।১৩৪

এ আয়াতে سبل السلام বহুবচনে ব্যবহৃত হয়েছে। তাহলে কিভাবে বলা যায়, আল্লাহ তা'আলা তাঁর পথের বর্ণনায় একবচন ব্যবহার করেছেন? উক্ত প্রশ্নের জবাবে বলা যায়, এ আয়াতে এক পথকে বুঝাতে গিয়েই বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে। যেমনিভাবে جواد বহুবচন হওয়া সত্ত্বেও এক সত্তাকেই বুঝানোর জন্য তা ব্যবহৃত হয়। বড় পথের ক্ষেত্রে طرق বহুবচন ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

সুতরাং এগুলো হল ঈমানের শাখা-প্রশাখা। ঈমান এ সবগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। যেমনিভাবে বৃক্ষের কাণ্ড তার ডাল ও শাখাকে অন্তর্ভুক্ত করে। তেমনিভাবে পথ তো একটি-ই; কিন্তু তার শাখা অনেক। আর এ سبل দ্বারা উদ্দেশ্য হল আল্লাহ তা'আলার প্রতি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দেয়া ও তাঁর সংবাদকে সত্যায়ন করা ও তাঁর নির্দেশের আনুগত্য করা। প্রকৃত পক্ষে জান্নাতের পথ তো হল আল্লাহ তা'আলার প্রতি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দেয়া।

১৩৫ ইমাম বুখারী রহ. তার সহীহেতে হযরত জাবির রা. হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ফিরিশতাগণ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এলেন, তখন তাঁদের মধ্য হতে একজন বললেন, انه نائم তিনি তো ঘুমন্ত। অন্যজন বললেন, العين نائمة والقلب يقظان চক্ষু তো ঘুমন্ত; কিন্তু অন্তর জাগ্রত।

فقالوا ان لصاحبكم هذا مثلا فاضربوه তখন তাঁরা বললেন, তোমাদের সাথীর (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি উপমা আছে। সুতরাং তোমরা উপমা বর্ণনা কর।

فقالوا مثله رجل بنى دارا، وجعل فيها مأدبة، وبعث داعيا, فمن أجاب الداعي دخل الدار، وأكل من المأدبة. তাঁরা বললেন, তাঁর উপমা হল এমন, এক ব্যক্তি একটি ঘর তৈরী করল ও তাতে খাবারের আয়োজন করে একজন ঘোষককে পাঠিয়ে দিল, গিয়ে লোকদের ডেকে নিয়ে আস। সুতরাং যে ব্যক্তি সে ঘোষকের আহ্বানে সাড়া দিবে সে ঘরে প্রবেশ করতে পারবে ও আয়োজিত খাবার থেকে খেতে পারবে।

ومن لم يجب الداعي لم يدخل الدار، ولم يأكل من المأدبة আর যে ব্যক্তি সে ঘোষকের আহ্বানে সাড়া দিবে না, সে ঘরে প্রবেশও করতে পারবে না, খাবারও খেতে পারবে না। فقالوا : তখন তাঁরা বললেন, উক্ত উপমাটিকে এমন স্পষ্ট ভাবে أولوها له يفقهها ব্যাখ্যা কর, যাতে তিনি বুঝতে পারেন।

فقال بعضهم : ان العين نائمة، والقلب يقظان তাঁদের মধ্য হতে একজন বললেন, চক্ষু ঘুমন্ত; কিন্তু অন্তর জাগ্রত।

الدار الجنة، والداعي محمد ঘর দ্বারা উদ্দেশ্য হল জান্নাত, যা আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টি করেছেন। আর দস্তরখান দ্বারা উদ্দেশ্য হল, আল্লাহ তা'আলার নি'আমতরাজি। ঘোষক দ্বারা উদ্দেশ্য হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

فمن أطاع محمدا فقد أطاع الله، ومن عصى محمدا فقد عصى الله সুতরাং যে ব্যক্তি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আনুগত্য করল, সে আল্লাহরও আনুগত্য করল। আর যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অবাধ্য হল, সে আল্লাহরও অবাধ্য হল। ومحمد فرق بين الناس মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই হলেন, মানুষের মাঝে পার্থক্য রচনাকারী। (আনুগত্যকারীগণ ভিন্ন, অবাধ্যরা ভিন্ন)।

উক্ত হাদীসটি ইমাম তিরমিযীও বর্ণনা করেছেন,১৩৬ তাঁর শব্দ হল এরূপ, সাহাবী বলেন, একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট তাশরীফ আনলেন ও বললেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম, জিবরীল আ. আমার মাথার পাশে ও মীকাঈল আ. আমার পায়ের দিকে বসে আছেন। তাদের মধ্যে একজন তার সাথীকে বলল, তাঁর উপমা বর্ণনা কর। তখন ফিরিশতা বললেন, আপনি শুনুন, কেননা আপনার কর্ণ শ্রবণ করে, আপনি বুঝুন, কেননা আপনার অন্তর বুঝে। নিশ্চয়-ই আপনার ও আপনার كمثل ملك اتخذ دارا ثم بنى فيها بيتا، ثم جعل مائدة ثم بعث رسولا يدعوا الناس إلى طعامه উচ্চতের উদাহরণ হল এরূপ, এক বাদশাহ প্রাসাদ নির্মাণ করল এবং তাতে কক্ষ তৈরী করল, সেখানে খাবারের আয়োজন করে দস্ত রখান বিছাল ও লোকদের খাবারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে আহ্বান করার জন্য নিজ দূত পাঠাল। فمنهم من أجاب الرسول তাদের মধ্যে সুতরাং কতেক দূতের ডাকে সাড়া দিল। ومنهم من ترکه তাদের মাঝে কতেক দিল না। فالله هو الملك، والدار الإسلام، والبيت الجنة সুতরাং বাদশাহ হলেন, আল্লাহ তা'আলা। আর প্রাসাদ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, ইসলাম। কক্ষ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, জান্নাত। আল্লাহ তা'আলার পক্ষে আহ্বানকারী হলেন, আপনি হে মুহাম্মদ। فمن أجابك دخل الإسلام، ومن دخل الإسلام دخل الجنة، ومن دخل الجنة أكل ما فيها যে ব্যক্তি আপনার আহ্বানে সাড়া দিবে সে ইসলামের ছায়াতলে প্রবেশ করবে, আর যে ইসলামের ছায়াতলে প্রবেশ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে জান্নাতের নি'আমতরাজি হতে আহার করবে।

ইমাম তিরমিযী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. হতে একটি সহীহ হাদীস বর্ণনা করেছেন।১৩৭ হযরত ইবনে মাসউদ রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার নামায শেষে ফাخذ بيدي حتى خرج إلى بطحاء مكة، فاجلسني ثم خط علي خطا আমার হাত ধরে মক্কার দিকে গেলেন ও আমাকে বসালেন এবং আমার চতুর্পার্শ্বে রেখা টানলেন।

ثم قال : لا تبرحن خطك فانه سينتهى إليك رجال فلا تكلمهم، فإنهم لا يكلمونك অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, এরেখা থেকে কোন ক্রমেই বের হবে না। তোমার নিকট কিছু লোক আসবে, তুমি তাদের সাথে কথা বলবে না। তাহলে তারাও তোমার সাথে কথা বলবে না।

ثم مضى رسول الله صلى الله عليه وسلم حيث أراد অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানে গমন করার ইচ্ছা করেছিলেন, সেখানে গমন করলেন।

فبينا انا جالس في خطي، إذ أتاني رجال كأنهم الزط اشعارهم اجسامهم لاأرى عورة ولا أرى بشرا আমি সে রেখায় থাকাবস্থায়-ই আমার নিকট কিছু লোক এল, যেন তারা কৃষক। তাদের শরীর ও চুল এমন যে, তাদের নারীও মনে হয় না, পুরুষও মনে হয় না। وينتهون إلى لا يجاوزن الخط তারা আমার নিকট আসে; কিন্তু সে রেখার ভিতরে ঢুকতে পারে না।

ثم يصدرون إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم অতঃপর তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফিরে গেল। حتى اذا كان آخر الليل، لكن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد جاءني وانا جالس রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের শেষভাগে তাশরীফ আনলেন, আর আমি তখন বসা-ই ছিলাম। فقال : لقد رأني منذ الليلة، ثم دخل علي في خطي، فتوسد فخذی فرقد অতঃপর তিনি বললেন, 'আজ রাতে সে আমাকে দেখেছে'। তারপর তিনি আমার নিকট রেখায় ঢুকে পড়লেন এবং আমার উরুকে বালিশ বানিয়ে ঘুমালেন। وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا ارقد نفخ | রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমালে নাক ডাকতেন। فبينما انا قاعد ورسول الله صلى الله عليه وسلم متوسد فخذي আমি সে অবস্থাতেই বসে ছিলাম আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার উরুতে মাথা রেখে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। إذا برجال عليهم ثياب بيض، والله أعلم ما بهم من الجمال فانتهوا إلى হঠাৎ সাদা শুভ্র বস্ত্র পরিহিত কিছু লোক দেখতে পেলাম। তাদের রূপ সৌন্দর্য সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলাই ভাল জানেন। তারা আমার নিকটে এল।

جلس طائفة منهم عند رأس رسول الله صلى الله عليه وسلم، وطائفة منهم عند رجليه. এবং তাদের মধ্যে একটি দল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাথার নিকট বসল ও অন্য দল পায়ের নিকট বসল।

ثم قالوا : ما رأينا عبدا قد مارأينا عبدا قط। فقال : মারায়না আবদান ক্বাদ। إن عينيـه تنامـان، وقلبـه يقظـان أوتى مثل ما أوتى هذا النبي। إن عينيه تنامان, وقلبه يقظان এ নবীকে সে সকল বিষয় প্রদান করা হয়েছে আমরা অন্য কোনো মানুষকে তা পেতে দেখিনি। তাঁর চক্ষু তো ঘুমায়; কিন্তু অন্তর জাগ্রত থাকে। اضربواله مثلا তোমরা তাঁর উপমা বর্ণনা কর।

مثل سيد بنى قصرا، ثم جعل مأدبة، فدعا الناس أكل من طعامه، وشرب من شرابه. তাঁর উদাহরণ হল, সে সরদারের মত, যে একটি প্রাসাদ তৈরী করে খাবার আয়োজন করেছে এবং লোকদেরকে সেখান থেকে পানাহারের প্রতি আহ্বান করছে। فمن أجابه أكل من طعامه، وشرب من شرابه যে তার ডাকে সাড়া দিল সে সেখান থেকে পানাহার গ্রহণ করতে পারবে। ومن لم يجبه عاقبه أو قل عذبه আর যে তাঁর ডাকে সাড়া দিল না, সে তাকে শাস্তি দিবে। ثم ارتفعوا واستيقظ رسول الله صلى الله عليه وسلم عند ذالك তারা উঠতে লাগলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগ্রত হয়ে গেলেন।

فقال : سمعت ماقال هؤلاء؟ অতঃপর তিনি বললেন, এরা যা বলল, তুমি কি তা শুনেছ? وهل تدري من هم؟ তুমি কি জান এরা কারা? قلت : الله ورسوله أعلم আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক অবগত। قال : هم الملائكة রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাঁরা হলেন, ফিরিশতা। فتدري ما المثل الذي ضربوه؟ তুমি কি জান, তাঁরা কী উপমা পেশ করেছেন?

قلت : الله ورسوله أعلم আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল-ই ভাল জানেন।

قال : الرحمن بنى الجنة، ودعا إليها عباده، فمن أجابه دخل الجنة. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তা'আলা জান্নাত সৃষ্টি করে তার প্রতি স্বীয় বান্দাকে আহ্বান করলেন। সুতরাং যে সে আহ্বানে সাড়া দিবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ومن لم يجبه عذبه আর যে সে আহ্বানে সাড়া দিবে না, তাকে তিনি শাস্তি প্রদান করবেন।

টিকাঃ
১২৯. সূরা আন'আম, আয়াত: ১৫৩
১৩০. সূরা নাহল, আয়াত: ৯
১৩১. সূরা হিজর, আয়াত: ৪১
১৩২. মুসনাদে আহমদ, খ. ১, পৃ. ৪৩৫
১৩৩. সূরা আন'আম, আয়াত: ১৫৩
১৩৪. সূরা মায়িদা, আয়াত: ১৫-১৬
১৩৫. বুখারী, খ. ২, পৃ. ১০৭৫
১৩৬. খ. ২, পৃ. ১১৩
১৩৭. খ. ২, পৃ. ১১৩

📘 জান্নাতের স্বপ্নীল ভুবন > 📄 জান্নাতের শ্রেণী বিন্যাস

📄 জান্নাতের শ্রেণী বিন্যাস


আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ، فَضَّلَ اللهُ الْمُجَاهِدِينَ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ عَلَى الْقَاعِدِينَ دَرَجَةً وَكُلًّا وَعَدَ اللهُ الْحُسْنَى وَفَضَّلَ اللَّهُ الْمُجَاهِدِينَ عَلَى الْقَاعِدِينَ أَجْرًا عَظِيمًا دَرَجَاتٍ مِّنْهُ وَمَغْفِرَةً وَرَحْمَةً وَكَانَ اللهُ غَفُورًا رَحِيمًا .
মু'মিনদের মধ্যে যারা অক্ষম নয়, অথচ ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে, তারা সমান নয়। যারা স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে, আল্লাহ তাদেরকে, যারা ঘরে বসে থাকে তাদের উপর মর্যাদা দিয়েছেন। আল্লাহ সকলকেই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যারা ঘরে বসে থাকে, তাদের উপর যারা জিহাদ করে তাদেরকে আল্লাহ মহা পুরষ্কারারের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। এ হল তাঁর নিকট হতে মর্যাদা, ক্ষমা ও দয়া। আর ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।১৩৮

ইবনে জারীর রহ. স্ব-সনদে মিহারীয রহ. হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা যারা ঘরে বসে থাকে তাদের উপর মুজাহিদদেরকে যে মর্যাদা প্রদান করেছেন, তা হল সত্তরটি স্তর। এর প্রত্যেক দু'স্তরের মাঝে সে পরিমাণ দূরত্ব, যে পরিমাণ দূরত্ব সত্তর বছরে অত্যন্ত দ্রুতগামী ও সতেজ ঘোড়া অতিক্রম করতে পারে।

ইবনুল মুবারক রহ. যাহ্হাক রহ. থেকে আল্লাহ তা'আলার বাণী, لَّهُمْ دَرَجَاتٌ عندَ رَبِّهِمْ এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন, মুমিনদের মাঝে একে অপরের উপর স্তর ভেদে উঁচু-নীচু হবেন কিন্তু উঁচু স্তর অর্জনকারী নিজেই তা প্রত্যক্ষ করবেন। নিচের স্তর অর্জনকারী তা প্রত্যক্ষ করবেন না, আমার উপর কাউকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

আল্লাহ তা'আলা لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ আয়াতে যারা ঘরে বসে থাকে, তাদের থেকে মুজাহিদের প্রথমে একগুণ বেশি মর্যাদার কথা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর কয়েকগুণ বেশি মর্যাদার কথা উল্লেখ করেছেন। বিষয়টি মনোযোগের দাবী রাখে।

কেউ কেউ এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, একগুণ বেশি সে সব লোকদের উপর, যারা ওযরের কারণে ঘরে বসে থাকে, আর কয়েক গুণ বেশি হল সে ব্যক্তিদের উপর, যারা বিনা ওযরে ঘরে বসে থাকে।

আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, أَفَمَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَ اللَّهِ كَمَن بَاءَ بِسَخَط مِّنَ اللَّهِ وَمَأْوَاهُ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ
আল্লাহ যাতে রাযী, যে তার-ই অনুসরণ করে। সেকি তার মত যে আল্লাহর ক্রোধের পাত্র হয়েছে এবং জাহান্নাম-ই যার আবাস? এবং তা কত নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল। هُمْ دَرَجَاتٌ عِندَ اللهِ واللَّهُ بَصِيرٌ بِمَا يَعْمَلُونَ
তারা বিভিন্ন স্তরের, তারা যা করে আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা।

আল্লাহ তা'আলা আরো ইরশাদ করেন, إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَاناً وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ ) الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ ، أُوْلَئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا لَّهُمْ دَرَجَاتٌ عِندَ رَبِّهِمْ وَمَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ .
মু'মিন তো তারাই, যাদের হৃদয় কম্পিত হয়, যখন আল্লাহকে স্মরণ করা হয়। আর যখন তাঁর আয়াত তাঁদের নিকট পাঠ করা হয়, তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তারা তাদের প্রতিপালকের উপর-ই নির্ভর করে।
যারা সালাত কায়েম করে এবং আমি যা দিয়েছি, তা ব্যয় করে। তারাই প্রকৃত মু'মিন। তাদের প্রতিপালকের নিকট তাদেরই জন্য রয়েছে মর্যাদা, ক্ষমা এবং সম্মানজনক জীবিকা।

সহীহায়নে১৩৯ হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
ان أهل الجنة ليتراءون أهل الغرف فوقهم، كما يتراؤن الكوكب الدري الغابر من آلافق من المشرق أو المغرب لتفاضل بين الناس، قالوا : يارسول الله تلك منازل الأنبياء لا يبلغها غيرهم.
জান্নাতবাসীগণ প্রাসাদবাসীদেরকে তেমনিভাবে দেখতে পাবে, যেমনিভাবে পশ্চিম বা পূর্বের দূর প্রান্তের জ্বলজ্বলমান নক্ষত্ররাজিকে দেখা যায়। এটা তাদের মধ্যে একজনের উপর অন্যজনের মর্যাদার পার্থক্য থাকার কারণে হবে।

সাহাবায় কিরাম রা. প্রশ্ন করলেন, এটা কি নবীগণের স্তর? যা পর্যন্ত তাঁরা ব্যতীত অন্য কেউ পৌঁছতে পারবে না।

قَالَ: بَلَى، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ رِجَالٌ آمَنوا بِاللَّهِ، وَصَدَّقُوا الْمُرْسَلِينَ.
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, শপথ সে সত্তার! যাঁর কুদরতী হাতে আমার জীবন এরা হল, আল্লাহর উপর ঈমান আনয়নকারী ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সত্যায়নকারী ব্যক্তিগণ।

মাথার উপরের নক্ষত্রের উপমা প্রদান না করে দু'প্রান্তের নক্ষত্রের উপমা আনয়নের দু'টি কারণ রয়েছে।

প্রথম কারণ হল, তা দৃষ্টিসীমা থেকে অনেক দূরে থাকবে। দ্বিতীয় কারণ হল, এর দ্বারা এ কথা বুঝানো উদ্দেশ্য, জান্নাতের স্তর একটি অপেক্ষা অপরটি উঁচু। উপর-নিচে হওয়ার দ্বারা উদ্দেশ্য এই নয়, বরাবর উপরে হবে। যেমনিভাবে পাহাড়ের চূড়া হতে নিয়ে তার পার্শ্ব অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকে।

সহীহায়নে১৪০ হযরত সাহল ইবনে সা'দ রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ان أهل الجنة ليتراؤن أهل الغرفة كما ترون الكوكب في افق السماء জান্নাতবাসীগণ প্রাসাদবাসীকে তেমনিভাবে দেখতে পাবে, যেমনিভাবে তোমরা আকাশের প্রান্তে নক্ষত্ররাজিকে দেখতে পাও।

ইমাম আহমদ রহ.১৪১ স্ব-সনদে হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতবাসীগণ জান্নাতে পরস্পরকে এমনিভাবে দেখতে পাবে যেমনিভাবে তোমরা দূর প্রান্তে উদিত জ্বলজ্বলে তারকাকে দেখতে পাও। এটা তাদের পরস্পরের মর্যাদায় ভিন্নতার দরুন হবে। সাহাবায় কিরাম রা. জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ উচ্চ মর্যাদাশীলগণ কি নবীরা হবেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, তাঁদের সাথে সে সকল লোকও থাকবেন, যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছেন ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সত্যায়ন করেছেন।

এই হাদীসের সনদের রাবী তথা বর্ণনাকারীগণ সহীহ বুখারী শরীফের রাবী।

হযরত আবূ হুরায়রা রা. এর বর্ণনায় الكوكب এর সিফাত এসেছে الغارب দ্বারা (যার অর্থ হল, উঁচ নক্ষত্র বা অস্তমান নক্ষত্র)। হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রা. এর বর্ণনায় রয়েছে الغابر। (যার অর্থ হল শেষাংশে উদীয়মান নক্ষত্র)। আর উক্ত বর্ণনায় الكوكب এর সিফাত আনা হয়েছে الطالع। সুতরাং উদিত হওয়ার হিসাবে طالع (উদীয়মান) দ্বারা আর অস্তমিত হওয়া হিসাবে غارب (অস্তমান) শব্দ দ্বারা গুণ বর্ণনা করা হয়েছে।

ইবনে মুবারক রহ. হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণনা করেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
ان أهل الجنة يترائون في الغرف كما يرى الكوكب الشرقى والكوكب الغربي في الافق في تفاضل الدرجات.
জান্নাতবাসীগণ প্রাসাদে একে অপরকে এমনিভাবে দেখতে পাবে, যেমনিভাবে পূর্বের নক্ষত্র বা পশ্চিমের নক্ষত্র আকাশের প্রান্তে দেখা যায়। এটা তাদের মর্যাদার স্তরের ভিন্নতার কারণেই হবে। সাহাবায় কিরাম জিজ্ঞাসা করলেন, এ উঁচু মর্যাদা সম্পন্নগণ কি শুধু আম্বিয়ায়ে কিরাম হবেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কসম সে সত্তার, যাঁর কুদরতী হাতে আমার জীবন, নবীগণ ব্যতীত সে স্তরে এমন কিছু লোকও থাকবে, যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সত্যায়ন করেছে। উক্ত বর্ণনা ইমাম বুখারী রহ. এর বর্ণনার শর্ত সমৃদ্ধ।

মুসনাদে১৪২ হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ان المتحابين لترى غرفهم في الجنة كالكوكب کالکوکب الشرقي أو الغربي একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পরস্পরকে মহব্বতকারীগণ এত উঁচু মর্যাদা সম্পন্ন জান্নাত লাভ করবে, অন্যান্য জান্নাতবাসীগণ তাদেরকে এমনিভাবে দেখবে, যেমনিভাবে পূর্বে বা পশ্চিমে উদিত فيقال : من هؤلاء؟ فيقال : هؤلاء المتحابين في الله عز وجل। நட்சத்திரকে দেখা যায়। তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, এরা কারা? উত্তরে বলা হবে, এরা হল আল্লাহ সন্তুষ্টির জন্য পরস্পরকে মহব্বতকারী।

মুসনাদে আহমাদে১৪৩ হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. হতে এ বর্ণনাও রয়েছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ان في الجنة مأة درجة، ولو ان العالمين اجتمعوا في أحداهن وسعتهم।
জান্নাতে একশটি স্তর রয়েছে। যদি সমগ্র পৃথিবীবাসীকে একটি মাত্র স্তরে একত্রিত করা হয়, তবে তাতে সংকুলান হবে।

মুসনাদে আহমাদে১৪৪ হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রা. হতে এ বর্ণনা রয়েছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, يقال : لصاحب القرآن إذا دخل الجنة إقرأ واصعد، فيقرأ ويصعد بكل أية درجة حتى يقرأ آخر شيئ معه। কুরআনের হাফিয অর্থাৎ কুরআনের হাফিয ও তদনুযায়ী আমলকারী যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন তাকে বলা হবে, পড়তে থাক ও জান্নাতের স্তর অতিক্রম করতে থাক। সে পাঠ করতে থাকবে ও প্রত্যেক আয়াত দ্বারা এক একটি করে স্তর অতিক্রম করতে থাকবে। এভাবে তার মুখস্থ শেষ আয়াতটি পর্যন্ত পাঠ করবে। আর উপরে উঠতে থাকবে।

উক্ত হাদীসে তো এ কথাটি অতি স্পষ্ট, জান্নাতের স্তর একশটিরও বেশি। ইমাম বুখারী রহ. হযরত আবূ হুরায়রা রা. এর যে বর্ণনা তাঁর সহীহে উল্লেখ করেছেন। তাতে রয়েছে, জান্নাতের একশটি স্তর রয়েছে। সেগুলো আল্লাহ তা'আলা তাঁর পথে জিহাদকারীগণের জন্য বিশেষভাবে তৈরী করেছেন। এর প্রত্যেক স্তরে সে পরিমাণ দূরত্ব, যে পরিমাণ দূরত্ব আকাশ ও যমীনের। সুতরাং যখন আল্লাহর কাছে জান্নাত চাও, তখন জান্নাতুল ফিরদাউস চাও। কেননা, তা জান্নাতের মাঝেও সর্বোচ্চস্তরের জান্নাত। তার উপর রয়েছে আল্লাহ তা'আলার আরশ। তা থেকেই জান্নাতের প্রস্রবণ প্রবাহিত হবে।

সুতরাং এ হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য হল, উল্লিখিত স্তরগুলো এ সকল স্তরের-ই অন্তর্ভুক্ত। অথবা উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যা হল, মোট স্তর সংখ্যা একশ-ই হবে, তবে প্রত্যেক স্তরের অধীনে আরো অনেকগুলো উপস্তর থাকবে।

যদি এর দ্বারা উদ্দেশ্য নেয়া হয়, মোট স্তর থেকে একশটি স্তর নির্ধারিত থাকবে মুজাহিদের জন্য, তবে তার সমর্থন মিলে হযরত মু'আয বিন জাবাল রা. এর বর্ণনা দ্বারা। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, مَن صَلَّى هؤلاء الصلوات الخمس যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামায পড়বে, وَصَامَ شَهْرَ رَمَضَانَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللهِ أَنْ يَغْفِرَ لَهُ هَاجَرَ لَهُ اَوْ قَعَدَ حَيْثُ وُلِدَتْ أُمُّهُ এবং রমাযান মাসের রোযা রাখবে, তাকে আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই ক্ষমা করে দিবেন, চাই সে হিজরত করুক বা তার জন্মস্থানে পড়ে থাকুক।

হযরত মু'আয রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি বাইরে গিয়ে লোকদেরকে এ বিষয় সম্পর্কে অবহিত করব? তিন বললেন, না। লোকদেরকে এভাবেই আমল করতে দাও। জান্নাতের একশটি স্তর রয়েছে। প্রত্যেক দু'স্তরের মাঝে আকাশ ও যমীন পরিমাণ দূরত্ব। তার মধ্যে সর্বোত্তম হল জান্নাতুল ফিরদাউস। তার উপরে আল্লাহর আরশ এবং তা জান্নাতে অবস্থিত। তা থেকেই জান্নাতের প্রস্রবণ প্রবাহিত হবে। সুতরাং তোমরা যখন আল্লাহর কাছে জান্নাত চাও, তখন জান্নাতুল ফিরদাউস চাও।

১৪৫ ইমাম তিরমিযী রহ. এ শব্দেই বর্ণনা করেছেন।

১৪৬ হযরত উবাদাহ ইবনুস সামিত রা. থেকেও একটি বর্ণনা রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতে একশটি স্তর রয়েছে। হযরত মু'আয রা. এর বর্ণনার মত সেখানেও এরূপ বর্ণনা রয়েছে।

এ বিষয়ে হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতেও বর্ণনা রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, في الجنة مائة درجة ما بين كل درجتين مائة عام জান্নাতে একশটি স্তর রয়েছে। প্রত্যেক স্তর হতে অপর স্তরের মাঝে একশত বছরের দূরত্ব। ইমাম তিরমিযী বলেন, উক্ত হাদীসের সনদ গরীব পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।

তিরমিযীতে হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রা. থেকে মারফু হাদীসও বর্ণিত হয়েছে, জান্নাতে একশটি স্তর রয়েছে। যদি সমগ্র পৃথিবীবাসী তন্মধ্যে একটি স্তরে একত্রিত হয়, তবে তা-ই তাদের জন্য যথেষ্ট হবে।

ইমাম আহমদ রহ. ও উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। সেখানে الجنة مائة درجة এর শুরুতে في শব্দটি নেই। কিন্তু আমি অন্যান্য গ্রন্থের সূত্রে في সহ ও في ছাড়া উভয় ভাবে সনদ সহ বর্ণনা করলাম।

যদি বাস্তবেই মূল বর্ণনায় এ শব্দটি সংরক্ষিত থাকে তাহলে তার দ্বারা উদ্দেশ্য হল, জান্নাতের স্তরগুলোর মাঝে একশটি স্তর হল এমন।

আর যদি প্রকৃতই মূল বর্ণনায় في না থেকে থাকে তাহলে তার দ্বারা উদ্দেশ্য হল, জান্নাতের বড় বড় স্তর হল একশটি। প্রত্যেকটির অধীনে ছোট ছোট স্তরও রয়েছে। والله أعلم।

যে সকল বর্ণনায় একশত বছরের দূরত্বের কথা উল্লিখিত হয়েছে, আর যে সকল বর্ণনায় পাঁচশত বছরের দূরত্বের কথা উল্লিখিত হয়েছে, তাতে কোন বিরোধ নেই। কেননা, তা নির্ভর করে দ্রুত চলন আর ধীরে চলনের উপর।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দূরত্ব বা ব্যবধান বুঝানোর জন্যই এরূপ উল্লেখ করেছেন। হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রা. এর অত্র হাদীস দ্বারা এটাই বুঝা যায়, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, مائة درجة في الجنة ما بين الدرجتين ما بين السماء والأرض، أو بعد ما بين السماء والأرض জান্নাতে একশটি স্তর রয়েছে। প্রত্যেক স্তরের মাঝে আকাশ ও যমীনসম দূরত। অথবা বলেছেন, আকাশ ও যমীনের মধ্যে যে পরিমাণ দূরত্ব দু' স্তরের মাঝে সে পরিমাণ দূরত্ব।

হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রা. বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ সকল স্তর কাদের জন্য ? قال للمجاهدين في سبيل الله উত্তরে বললেন, আল্লাহর পথে মুজাহিদদের জন্য।

টিকাঃ
১৩৮. সূরা নিসা, আয়াত: ৯৫-৯৬
১৩৯. বুখারী, খ. ১, পৃ. ৪৬১, মুসলিম, খ. ২, পৃ. ৩৭৮
১৪০. বুখারী, খ. ২, পৃ. ৯৭০, মুসলিম, খ. ২, পৃ. ৩৭৮
১৪১. মুসনাদে আহমদ, খ. ২, পৃ. ৩৩৫
১৪২. মুসনাদে আহমদ, খ. ৩, পৃ. ৮৭
১৪৩. খ. ৩, পৃ. ২৯, তিরমিযী, খ. ২, পৃ. ৭৯
১৪৪. খ. ৩, পৃ. ৪০
১৪৫. খ. ২ পৃ. ৭৯, মুসনাদে আহমদ খ. ৫, পৃ. ২৪০
১৪৬. তিরমিযী, পৃ. ৭৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00