📄 জান্নাতের ফটকের বিশালতা
হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত আছে।১১৩ তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে এক পেয়ালা সরীদ (ঝোলে ভিজানো রুটির টুকরা) রাখলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বকরীর একটি বাহু নিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বকরীর এ অংশটা বেশি পসন্দ করতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দাঁত দ্বারা চিবিয়ে খেলেন। আর বললেন, اناسید الناس يوم القيامة আমি কিয়ামতের দিন সকল লোকের সরদার। অতঃপর অন্য বাহুটি চিবিয়ে খেলেন এবং আবারও বললেন, আমি কিয়ামতের দিন সকল লোকের সরদার। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দেখলেন, সাহাবায় কিরাম রা. তাঁর কাছে এ বিষয়ে বিশদবিবরণ জিজ্ঞাসা করছোনা, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কেন জিজ্ঞাসা করলে না এটা কিভাবে হবে? তখন সাহাবাগণ রা. বললেন, কিভাবে হবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, يقوم الناس لرب العالمين .فيسمعهم الداعي، وينفذ هم البصر লোক সকল আল্লাহ তা'আলার দরবারে দাঁড়িয়ে থাকবে। তখন একজন আহ্বানকারী উঁচু আওয়াযে তাদেরকে আহ্বান করতে থাকবে, যা সকলে শুনবে ও দেখবে। অতঃপর শাফা'আত সংক্রান্ত দীর্ঘ হাদীসটি ইরশাদ করেন। তার শেষাংশে রয়েছে, فانطلق، فأتى تحت العرش অতঃপর আমি হেঁটে আরশের নিচে আসব। ،فاقع ساجدا لربي এবং আমি আমার প্রতিপালকের সামনে লুটে পড়ব। فيقيمني رب العالمين مقاما لم يقمه أحد قبلي، ولن يقيمه أحد بعدي অতঃপর রাব্বুল আলামীন এ অবস্থা থেকে উঠাবেন এবং এমন স্থানে আমাকে অবস্থান করাবেন, যেখানে আমার পূর্বে কেউ অবস্থান করেনি আর আমার পরেও কেউ অবস্থান করবে না।
فأقول : يارب أمتي أمتي তখন আমি বলব, হে প্রভু! আমার উম্মত, আমার উম্মত। তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন: يا محمد ادخل من أمتك من لا حساب عليهم من الباب الأيمن، وهم شركاء الناس فيما سوى ذالك من الأواب، والذي نفس محمد بيده إن ما بين المصراعين من مصاريع الجنة لكما بين مكة وهجر، أو هجر ومكة .
হে মুহাম্মদ! আপনার উম্মতের মধ্য হতে যাদের কোন হিসাব-নিকাশ নেই, তাদেরকে বাবুল আয়মান দ্বারা জান্নাতে প্রবেশ করান এবং এরা অন্যান্য লোকদের সাথে অন্যান্য দরযা দিয়েও প্রবেশ করতে পারে।
শপথ সে সত্তার! যাঁর কুদরতী হাতে আমার জীবন। জান্নাতের দু' দরযার মাঝে দূরত্ব এ পরিমাণ, যে পরিমাণ দূরত্ব মক্কা ও হাজারের মধ্যে। অথবা বলেছেন, হাজার ও মক্কার মধ্যে যে পরিমাণ দূরত্ব।
অন্য এক বর্ণনায় আছে كما بين مكة وبصرى বসরা ও মক্কার মধ্যবর্তী দূরত্ব।১১৪ এ বর্ণনা সহীহ হওয়ার ব্যাপারে মুহাদ্দিসীন একমত। সনদের ভিত্তিতে সহীহ বহির্ভূত বর্ণনায় হাদীসের শব্দ এমন ان ما بين عضادتي الباب لكما بين مكة وهجر মক্কা ও হাজারের মাঝে যে পরিমাণ দূরত্ব, জান্নাতের দরযার কপাটের মাঝে সে পরিমাণ দূরত্ব।
খালিদ ইবনে উমায়র রা. হতে বর্ণিত আছে যে,১১৫ হযরত উতবা ইবনে গাযওয়ান রা. আমাদের সামনে খুতবা দিলেন। প্রথমে আল্লাহ তা'আলার হামদ ও সানা তথা গুণগান ও প্রশংসা করার পর বললেন,
فإن الدنيا قد أذنت بصرم، وولت حذاء ولم يبق منها إلا صبابة كصبابة الاناء، يصبها صاحبها، وانكم منقلبون منها إلى دار لازوال لها، فانقلبوا بخير ما بحضرتكم.
অবশ্যই এ ধরা বিরহের বাণী গেয়ে যাচ্ছে। দ্রুত তার সময় অতিক্রান্ত হচ্ছে। পৃথিবীর শুধু মাত্র এ পরিমাণ সময় রয়েছে, যে পরিমাণ পানি অবশিষ্ট থাকে কোনো পাত্রের পানি নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার পর। দুনিয়াবাসী তা থেকে পান করে যাচ্ছে। অতঃপর তোমরা এমন আবাসস্থলের দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে, যা কখনো ধ্বংস হবে না। সুতরাং তোমাদের নিকট যা রয়েছে, তা ছেড়ে তারও চেয়ে উত্তম অবস্থার সে দিকে প্রত্যাবর্তন কর। তিনি আমাদের সামনে জান্নাতের দরযার বিশালতার বর্ণনা দিতে গিয়ে উল্লেখ করেন, ان مصرعين من مصاريع الجنة بينهما مسيرة أربعين سنة জান্নাতের দরযার এক কপাট থেকে অন্য কপাটের দূরত্ব চল্লিশ বছরের দূরত্ব পরিমাণ। দ্রুতগতিসম্পন্ন কোন অশ্ব চল্লিশ বৎসর দৌড়ালে যতটুকু পৌঁছতে পারে, জান্নাতের এক দরযা থেকে অন্য দরযার দূরত্ব ততটুকু। وليأتين عليه يوم وهو كظيظ من الزحام একদিন এমনও আসবে, যে দিন তা ভীড়ে কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে।
এ রিওয়ায়েত মাওকূফ আর পূর্বোল্লিখিত রেওয়ায়েত হল, মারফু'। সুতরাং যদি এর বর্ণনাকারীও স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হয়ে থাকেন, তবে হতে পারে, জান্নাতের এমন কোনো দরযা রয়েছে, যা সকল দরযা অপেক্ষা বিশাল (এ অবস্থায় উভয় বর্ণনার মাঝে কোন বিরোধ থাকে না) আর যদি স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা উল্লেখ না করেন, বরং অন্য কেউ বর্ণনা করেন, তবে তা হযরত আবূ হুরায়রা রা. এর বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদীস থেকে অগ্রগণ্য হবে না। কিন্তু ইমাম আহমদ রহ. তাঁর মুসনাদে সনদসহ উল্লেখ করেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের দ্বারা-ই উম্মতের সত্তরতম দলের পূর্ণতা লাভ করবে। আর তোমরা তাদের মধ্যে আল্লাহ তা'আলার নিকট সর্বাপেক্ষা মর্যাদাবান ও সম্মানী হবে। জান্নাতের দরযার কপাটের মধ্যে দূরত্ব হবে চল্লিশ বছরের দূরত্ব। অবশ্যই এমন একটা সময় আসবে, যখন তা ভীড়ে কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে।
হাকীম ইবনে মু'আবিয়া রা. তাঁর পিতা মু'আবিয়া রা. হতে মারফু' রূপে বর্ণনা করেছেন, যাতে এ শব্দাবলীও রয়েছে, ما بين مصر أعين من مصاريع الجنة مسيرة سبع سنين জান্নাতের দরযার দু'কপাটের মাঝে সাত বছরের দূরত্ব।
মুসনাদে আবদ ইবনে হুমায়দের মধ্যে সনদসহ বর্ণিত আছে, হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ان ما بين مصراعين في الجنة لمسيرة أربعين سنة ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
জান্নাতের দরযার দু'কপাটের মধ্যে চল্লিশ বছরের দূরত্ব রয়েছে। এ ব্যাপারে আবূ হুরায়রা রা. এর বর্ণনা-ই অধিকতর বিশুদ্ধ। কিন্তু গ্রন্থের এই অনুলিপিটি দুর্বল। والله أعلم
সালিম তাঁর পিতা হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণনা করেন যে,১১৬ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে দরযা দিয়ে জান্নাতীগণ জান্নাতে প্রবেশ করবে, তার দু' কপাটের মাঝে দূরত্ব এ পরিমাণ, যে পরিমাণ দূরত্ব কোন দ্রুত অশ্বারোহী তিন দিনে অতিক্রম করতে পারে। ভীড়ের কারণে সংকীর্ণতা অনুভব করবে। ভীড়ের প্রচণ্ডতার কারণে মনে হবে, যেন তাদের স্কন্ধের হাড় আপন স্থান থেকে নড়ে যাচ্ছে।
এ অধ্যায়ে হাকীম ইবনে মু'আবিয়ার বর্ণনায় বর্ণনাকারীগণ ইযতিরাব করেছে। যেখানে হাম্মাদ ইবনে সালামা জারীরী রহ. হতে বর্ণনা করেন, জান্নাতের দরযার উভয় কপাটের মাঝে দূরত্ব হল, চল্লিশ বছরের। সেখানে তাঁর থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে খালিদ রা. সাত বছরের কথা উল্লেখ করেছেন।
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রা. এর মারফু রেওয়ায়েতেও চল্লিশ বছরের দূরত্বের কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু উক্ত বর্ণনার সনদের একজন বর্ণনাকারী অনুল্লেখ রয়ে গেছে। এ ব্যাপারে ইমাম আহমদ রহ. বলেন, এ জাতীয় হাদীস প্রত্যাখ্যাত। ইমাম হাতিম রাযী তাকে দুর্বল গণ্য করেছেন। ইমাম নাসাঈ রহ. ليس بالقوي শক্তিশালী নয় বলে এ ব্যাপারে মত পোষণ করেছেন।
কাজেই হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্নিত হাদীসটি সনদের বিচারে সহীহ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে সূত্র পরম্পরার বিচারে ধারাবাহিক এবং ইযতিরাব ও শায হওয়া ইত্যাদি ত্রুটি হতে মুক্ত। যার বিশুদ্ধতার ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণ ঐক্যমত পোষণকরেছেন। তা ছাড়া হযরত হাকীম ইবনে মু'আবিয়া রা. এর বর্ণনার দূরত্বের কথা মারফু' হিসাবে উল্লেখ নেই। বরং তাতে এ সম্ভাবনা রয়েছে, দূরত্বের কথা অন্য কোন বর্ণনাকারীর অন্তর্ভুক্তকৃত। এ অংশ মারফু' বর্ণনার নয়; বরং তা মুদরাজ। সুতরাং এ হাদীসও হযরত উতবাহ ইবনে গাযওয়ানের রা. হাদীসের অনুরূপ।
টিকাঃ
১১৩. বুখারী, খ. ২, পৃ. ৬৮৫
১১৪. মুসনাদে আহমদ, খ. ২, পৃ. ৪৩২, বুখারী, খ. ২, পৃ. ৬৮৫
১১৫. মুসলিম, খ. ২, পৃ. ৪০৯, মুসনাদে আহমদ, খ. ৪, পৃ. ১৭৪
১১৬. তিরমিযী, খ. ২, পৃ. ৮১
📄 কেমন হবে জান্নাতের ফটক
ওলীদ ইবনে মুসলিম খালীদের সূত্রে হযরত হাসান বসরী রহ. হতে مُفَتَحَةُ لَهُمُ الأبواب -এর তাফসীরে উল্লেখ করেন, ১১৭ দরযাগুলো এমন হবে যে, ভেতরের দৃশ্য দেখা যাবে।
খলীদ এর সূত্রে হযরত কাতাদাহ রহ. হতে একথাও বর্ণিত রয়েছে, তার দরযা এমন হবে, বাইর থেকে ভিতরে এবং ভিতর থেকে বাইরে পরিষ্কারভাবে দেখা যাবে। তার দরযা কথা বুঝবে এবং কথাও বলবে। সুতরাং যখন তাকে বলা হবে খুলে যাও, তখন খুলে যাবে। আর যখন বলা হবে বন্ধ হয়ে যাও, তখন তা বন্ধ হয়ে যাবে।
আবুশ শায়খ ফাযারী রহ. হতে সনদসহ বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, জান্নাতে প্রত্যেক মু'মিনের জন্য চারটি দরযা বরাদ্ধ থাকবে। এক দরযা দিয়ে ফিরিশতাগণ তাদের সাথে সাক্ষাতের জন্য আসবেন। অন্য এক দরযা দিয়ে তাদের স্ত্রী ও ডাগর ডাগর চক্ষু বিশিষ্ট হূরগণ প্রবেশ করবেন। অন্য একটি রুদ্ধ দ্বার থাকবে, তার ও জাহান্নামের মাঝে। সে যখন ইচ্ছা করবে, তখনি তা খুলে জাহান্নামীদেরকে দেখতে পারবে এবং তখন তার নিজের প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত নি'আমতরাজির কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবে। অন্য একটি দরযা থাকবে, তার ও দারুস সালামের মাঝে। তা দ্বারা সে স্বীয় প্রভুর নিকট যখন ইচ্ছা তখনি যেতে পারবে।
হযরত আনাস বিন মালিক রা. হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, أنا أول من يأخذ بحلقة باب الجنة، ولا فخر আমি-ই প্রথম ব্যক্তি, যে সর্বপ্রথম জান্নাতের দরযার শিকল স্পর্শ করবে, এ কোন গর্ব ও অহংকারের বিষয় নয়; বরং একমাত্র আল্লাহ তা'আলার দয়া ও অনুগ্রহ।
ইবনে উয়ায়নাহ শাফা'আতের ব্যাপারে হযরত আনাস রা. হতে দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেন। তাতে রয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, فأخذ بحلقة باب الجنة فاقعقها অতঃপর আমি জান্নাতের দরযার শিকল ধরে নাড়া দেব।
এ সকল বর্ণনা দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায়, জান্নাতের দরযায় সত্যিকার শিকল লাগানো থাকবে, যাকে নাড়া দেয়া যাবে এবং করাঘাত করা যাবে।
সুহাইল রহ. হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণনা করেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, أخذ بحلقة باب الجنة فيؤذن لي আমি জান্নাতের দরযার শিকল ধরলে আমাকে তাতে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করা হবে।
হযরত আলী রা. হতে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি প্রত্যহ একশত বার لا إله إلا الله الملك الحق المبين পড়বে, সে দারিদ্র্য ও কবর জগতের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পাবে। প্রাচুর্য তার দিকে দৌড়ে আসবে। আর এর মাধ্যমে জান্নাতের দরযায় করাঘাত করল।
জান্নাতের ফটক একটি অপরটি থেকে উঁচু হবে
যেহেতু জান্নাতের স্তর উঁচু-নিচু রয়েছে। সুতরাং জান্নাতের দরযাও একটি অপেক্ষা অন্যটি উঁচু। উপরের স্তরের জান্নাতের দরযা নিচু স্তরের জান্নাতের দরযা অপেক্ষা উঁচু। জান্নাতের স্তর যত-ই উঁচু হবে, ততই তার দরযা নিচু জান্নাত থেকে প্রশস্ত হতে থাকবে। প্রশস্ততা জান্নাতের প্রশস্ততা অনুপাতেই হবে। ইতোপূর্বে জান্নাতের দরযার উভয় কপাটের মধ্যবর্তী দূরত্ব সম্পর্কে যে বিভিন্ন উক্তি পরিলক্ষিত হয়েছে, যে কোনো বর্ণনা মতে উভয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব হল তিন দিনের, কোন বর্ণনায় চল্লিশ দিনের হতে পারে। এ মতভেদের কারণ জান্নাতের স্তরের বিভিন্নতাই। সুতরাং উঁচু স্তরের জান্নাতের দরযা নিচু স্তরের জান্নাতের দরযা অপেক্ষা প্রশস্ত হবে।
এ উম্মতের জন্য নির্দিষ্ট বিশেষ একটি দরযা থাকবে, যা দ্বারা শুধু মাত্র তারা-ই প্রবেশ করবে। যেমন মুসনাদে হযরত উমর রা. এর বর্ণনা যে এ হাদীসে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, باب أمتي يبخلون পর্যন্ত আমার উম্মতের জন্য যে বিশেষ দরযা من الجنة عرض مسيرة الراكب ثلاثا থাকবে, তার দু' কপাটের মধ্যবর্তী দূরত্ব হবে তিন দিনের দূরত্বের সমান। তারা শিকলের কারণে তাকে সংকীর্ণ মনে করবে। এমনকি ভীড়ের কারণে যেন তাদের স্কন্ধ বের হয়ে যাবে।
মুসনাদে হযরত আবূ হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত আছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, أتاني جبرئيل فأخذ بيدي فأراني باب الجنة الذي تدخل منه أمتي আমার নিকট জিবরীল আ. এলেন এবং আমার হাত ধরে আমাকে জান্নাতের সেই দরযাটি দেখালেন, যা দ্বারা আমার উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে। ইনশা আল্লাহ উক্ত হাদীসের বিস্তারিত আলোচনা সামনে করা হবে।
হযরত আলী রা. হতে বর্ণিত আছে, জান্নাতের দরযা এভাবে একটি অপরটি অপেক্ষা উঁচু-নিচু হবে। অতঃপর এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন, حَتَّى إِذَا جَاؤُوهَا وَفُتِحَتْ أبوابها যখন তারা জান্নাতের নিকট উপস্থিত হবে ও তার দ্বারসমূহ খুলে দেওয়া হবে, সে দ্বারসমূহের নিকট এমন একটি গাছ থাকবে, যার শিকড় থেকে দু'টি প্রস্রবণ প্রবাহিত হবে। তখন তারা সে প্রস্রবণদ্বয়ের একটি হতে পানি পান করবে। সে পানি তাদের পেটের মালিন্যকে বিদূরিত করে দিবে এবং অপর প্রস্রবণ থেকে তারা গোসল করবে। তখন তাদেরকে স্বাচ্ছন্দ্যের ও তৃপ্তির সজীবতা আচ্ছন্ন করে ফেলবে। এরপর আর তাদের মাথার কেশ এলোমেলো হবে না এবং তাদের ত্বক আর বিকৃত হবে না। (যেমনিভাবে পৃথিবীতে ঋতুর পরিবর্তনের ফলে ত্বকের মধ্যে পরিবর্তন সৃষ্টি হয়।)
অতঃপর তিনি (হযরত আলী রা.) আয়াতের এ অংশ পাঠ করলেন, فَادْخُلُوهَا خَالدين ‘তোমরা সুখী হও এবং জান্নাতে প্রবেশ কর স্থায়ীতাবে অবস্থিতির জন্য’। অতঃপর জান্নাতবাসীগণ জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা আপন অবস্থানস্থলকে চিনবে। ছোট ছোট ছেলেরা তাদের সাথে সাক্ষাত করবে। তারা সে জান্নাতীকে দেখে এমন আনন্দিত ও প্রফুল্ল হবে, যেমনিভাবে কোনো স্বজনের দীর্ঘ সময়ের অনুপস্থিতির পর আপন জনের মাঝে ফিরে আসার দ্বারা পরিবারস্থ লোকজন আনন্দিত হয়ে থাকে। অতঃপর সে ছোট ছেলে জান্নাতীদের স্ত্রী অর্থাৎ ডাগর ডাগর চক্ষু বিশিষ্ট হুরদের নিকট যাবে এবং তাদেরকে সংবাদ দিবে, তাদের স্বামী সেই জান্নাতীর আগমন ঘটেছে। তখন তারা আনন্দে আত্মহারা হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করবে, বাস্তবেই কি তুমি তাকে দেখেছ? অতঃপর সে জান্নাতী দরযায় দণ্ডায়মান হবে ও আপন নিবাসে প্রবেশ করবে এবং তার আসনের সাথে হেলান দিয়ে বসবে ও আপন নিবাসে খুঁটিগুলোর প্রতি তাকালে দেখতে পাবে, সেগুলো উন্নততর মুক্তামালা দ্বারা নির্মিত এবং সে লাল-সবুজ, হলুদ রং-বেরংয়ের মুক্তা দেখতে পাবে। অতঃপর সে তার ঘরের ছাদের প্রতি তাকাবে। যদি এ ঘর তার জন্য তৈরী করা না হত, তবে তার ঝলক ও উজ্জ্বলতা তার দৃষ্টিশক্তি বিনষ্ট করে দিত। তখন সে বলবে, الحمد لله الذي هدانا সকল প্রশংসা সেই মহান সত্তার জন্য, যিনি আমাকে এ অফুরন্ত নি'আমতরাজি লাভের তাওফীক প্রদান করেছেন। যদি তিনি তাওফীক প্রদান না করতেন, তবে এ পর্যন্ত পৌঁছা ও নি'আমতরাজি লাভ করা সম্ভব হত না।
টিকাঃ
১১৭. তাফসীরুল হাসান বসরী, খ. ৪, পৃ. ৩৯০
📄 ফটকে ফটকে ব্যবধান
মু'জামে ত্বাবারানীতে সনদসহ হযরত লাকীত ইবনে আমির রা. হতে বর্ণিত আছে।১১৮ তিনি আপন গোত্রের প্রতিনিধিরূপে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলেন। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! জান্নাত ও দোযখ কি? উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, রাকেব
لعمر إلهك إن للنار سبعة أبواب، ما منهن بابان الا يسير الراكب بينهما سبعين عاما، وان للجنة ثمانية أبواب ما منهن بابان الا يسير الراكب بينهما سبعين عاما তোমার প্রভুর শপথ, জাহান্নামের সাতটি দরযা রয়েছে, তার প্রত্যেকটি দরযার মাঝে সত্তর বছরের দূরত্ব। জান্নাতের আটটি দরযা রয়েছে। তার প্রত্যেকটি দরযার মাঝে সত্তর বছরের দূরত্ব। এরপর হাদীসটি বিস্তারিত উল্লেখ করেন।
উক্ত হাদীস দ্বারা এ কথা প্রতীয়মান হয়, উল্লিখিত দূরত্ব হল, এক দরযা হতে অপর দরযার মাঝে। কেননা মক্কা ও বসরার মাঝেও তো সত্তর বছরের দূরত্ব নয়। এবং তা কোন নির্দিষ্ট দরযার ব্যাপারেও প্রযোজ্য নয়। বরং প্রত্যেক দরযার মাঝে এ পরিমাণ দূরত্ব বিরাজমান।
টিকাঃ
১১৮. উক্ত হাদীসটি মুসনাদে আহমদের খ. ৪, পৃ. ১৪ এর মধ্যেও বর্ণিত হয়েছে।
📄 জান্নাতের অবস্থান কোথায়?
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, وَلَقَدْ رَأَهُ نَزْلَةً أُخْرَى عِنْدَ سِدْرَةِ الْمُنْتَهَىٰ عِنْدَهَا جَنَّةُ الْمَأْوَىٰ নিশ্চয়ই সে তাকে আরেকবার দেখেছিল। প্রান্তবর্তী বদরী কুল বৃক্ষের নিকট যার নিকট অবস্থিত বাসোদ্যান।১১৯
এ কথা প্রমাণিত, সিদরাতুল মুনতাহা আকাশের উর্ধ্বে। তাকে সিদরাতুল মুনতাহা এ জন্য বলা হয়, আল্লাহ তা'আলার নিকট থেকে অবতীর্ণ বিষয়সমূহ এবং নিচ থেকে উপরে প্রেরিত বিষয়সমূহের সেখানে যাত্রা বিরতি ঘটে। আল্লাহ তা'আলা আরো ইরশাদ করেন, وَفِي السَّمَاءِ رِزْقُكُمْ وَمَا تُوعَدُونَ আকাশে রয়েছে তোমাদের রিযক ও প্রতিশ্রুত সকল কিছু।
মুজাহিদ রহ. বলেন, وَمَا تُوعَدُونَ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, জান্নাত। ইবনে মুনযির স্বীয় তাফসীরে মুজাহিদ রহ. হতে বর্ণনা করেন, وَمَا تُوعَدُونَ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, জান্নাত ও দোযখ। কিন্তু এ মতটি ব্যাখ্যা সাপেক্ষ। কেননা দোযখ হল আসফালাস সাফিন তথা সর্ব নিম্নাংশে, আকাশে নয়।
আবূ সালেহ রহ. হযরত ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণনা করেন, ভাল-মন্দ সব কিছুই আকাশ থেকে অবতারিত হয়। সে হিসাবে উক্ত মতের উদ্দেশ্য হবে এই, জান্নাত ও দোযখ উভয়টির উপকরণ আল্লাহর নিকট আসমানে। সনদসহ হারিস ইবনে আবূ উসামা রহ. বাশার ইবনে শাফ্ফাফ হতে বর্ণনা করেন, আমি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রা. কে বলতে শুনেছি, । আক্রম খলীফাতুল্লাহ আবূল কাসেম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জগতের মাঝে সর্বাপেক্ষা উত্তম ও সম্মানিত সৃষ্টি হলেন, আবুল কাসিম মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। নিশ্চয়ই জান্নাত আকাশে অবস্থিত।
আবূ নাঈম রহ. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রা. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মা'মার ইবনে রাশেদ উক্ত হাদীস মারফু' বর্ণনা করেছেন। সনদসহ মুহাম্মদ ইবনে ফযলের বর্ণনায় হযরত ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, জান্নাত সপ্তম আকাশের উর্ধ্বে অবস্থিত। কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তা'আলা তা যেখানে ইচ্ছা করেন, সেখানে রাখবেন। আর দোযখ হল সপ্তম যমীনের নিচে।
ইবনে মানদাহ রা. স্ব-সনদে হযরত আবদুল্লাহ রা. হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, জান্নাত চতুর্থ আকাশে অবস্থিত। কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তা'আলা তা যেখানে ইচ্ছা করেন সেখানে রাখবেন। আর দোযখ হল সপ্তম যমীনের নিচে। কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তা'আলা তা যেখানে ইচ্ছা সেখানে স্থাপন করবেন।
মুজাহিদ রহ. বলেন, আমি হযরত ইবনে আব্বাস রা. কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, জান্নাত কোথায় অবস্থিত? তিনি বললেন, সপ্তম আকাশের উদরে। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, দোযখ কোথায় অবস্থিত? তিনি বললেন, স্তর হিসাবে সাত সমুদ্রের নিচে।
ইবনে আবূ বকর আবূ শাইবা রহ. স্ব-সনদে আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, জান্নাত ভাজ করা অবস্থায় সূর্যের কিরণের সাথে আবদ্ধ। প্রত্যেক বৎসর একবার তা উন্মোচন করা হয়। মু'মিনদের আত্মা যারযূর১২০ পাখির রূপ ধারণ করে। একে অপরকে চিনে ও জান্নাতের ফল দ্বারা আহার গ্রহণ করে।
উক্ত হাদীসের প্রথম অংশ শেষাংশের সাথে বাহ্যত বিরোধপূর্ণ মনে হয়। (কেননা, প্রথমাংশে রয়েছে, জান্নাত ভাজ করা অবস্থায় সূর্যের কিরণের সাথে আবদ্ধ প্রতিবছর একবার তা উন্মোচন করা হয়। আর শেষাংশে রয়েছে, মু'মিনের আত্মা প্রতিনিয়ত জান্নাতে ঘুরাফেরা করে।) কিন্তু বাস্তবে উভয়াংশে কোন বিরোধ নেই। কেননা, জান্নাত ভাজ করা অবস্থায় সূর্যের কিরণের সাথে আবদ্ধ হওয়ার দ্বারা উদ্দেশ্য হল, আল্লাহ তা'আলা প্রতিবছর সূর্যের দ্বারা যে বিভিন্ন প্রকার ফলমূল ও শস্য উৎপন্ন করেন, তা জান্নাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। হাদীসের ভাষ্য এটাই নির্দেশ করে। যেমনিভাবে পার্থিব জগতের আগুন জাহান্নামের আগুনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
অন্যথায় عرضها السموات والأرض জান্নাতের দৈর্ঘ্য হল, নভোমণ্ডল ও ভূ-মণ্ডলসম। তাহলে তা সূর্যের পার্শ্বে কিভাবে ঝুলন্ত থাকতে পারে?
সহীহায়নে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে, الجنة مائة درجة ما بين كل درجتين كمابين السماء والأرض, অর্থাৎ জান্নাতের একশটি স্তর রয়েছে। এর প্রত্যেক দুই স্তরের মাঝে এ পরিমাণ দূরত্ব রয়েছে, যে পরিমাণ দূরত্ব আকাশ ও যমীনের মধ্যবর্তী স্থলে।১২১ উক্ত বর্ণনায় এ কথা-ই বুঝায়, জান্নাত অত্যন্ত উঁচু। والله أعلم
এ বিষয়ে বর্ণিত হাদীসে দু'ধরণের শব্দ পাওয়া যায়। তন্মধ্যে একটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। অপর বর্ণনায় রয়েছে" إن في الجنة مائة درجة، ما بين كل درجتين كما بين السماء والأرض، أعد الله للمجاهدين في سبيل الله জান্নাতে একশটি স্তর রয়েছে। তার প্রত্যেক দুই স্তরে আকাশ-যমীনসম দূরত্ব। আল্লাহ তা'আলা তা তাঁর পথে জিহাদকারীগণের জন্য তৈরী করেছেন।' আমার শায়খ (ইবনে তাইমিয়াহ) উক্ত বর্ণনাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এ বর্ণনা দ্বারা এ কথা নিষিদ্ধ হয় না, জান্নাতের কোনো কোনো স্তর এরও চেয়ে অধিক উঁচু।
এমনিভাবে সহীহ হাদীসে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে, ان الله تسعة وتسعين إسما، من أحصاها دخل الجنة. অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার নিরানব্বইটি নাম রয়েছে। যে ব্যক্তি এ নামগুলো মুখস্থ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। অর্থাৎ তাঁর নামগুলোর প্রভাব এই যে, সে সব মুখস্থকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে। এর দ্বারা বুঝা যায় না, আল্লাহ তা'আলার নাম এরও অধিক হতে পারে না। এই বর্ণনার বিশুদ্ধতার ব্যাপারে এ তথ্যও নির্দেশ করে, জান্নাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা এ সকল স্তর থেকে উর্ধ্বে হবে। তার উর্ধ্বে কোন জান্নাত থাকবে না।
জান্নাতের এ শত স্তর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের সদস্যগণ জিহাদের কল্যাণে অর্জন করবে। জান্নাত হল, গোলাকৃতির। তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা উঁচুস্তরের ও প্রশস্ততম হল, জান্নাতুল ফিরদাউস। তার ছাদ হল, আরশ। যেমন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহীহ হাদীসের মধ্যে ইরশাদ করেন,
إذا سألتم الله فاسئلوه الفردوس، فانه أوسط الجنة و أعلى الجنة তোমরা যখন আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রার্থনা করবে, তখন জান্নাতুল ফিরদাউস প্রার্থনা করবে। কেননা, তা অন্যান্য জান্নাতের ঠিক মাঝ বরাবর সর্বোচ্চ উচ্চতায় স্থাপিত। তার উপরে আল্লাহ তা'আলার আরশ অবস্থিত এবং তা হতেই প্রস্রবণ প্রবাহিত হয়।
যদি প্রশ্ন করা হয়, সমগ্র জান্নাত-ই তো আরশের নিচে। আরশ হল, তার ছাদ। আর কুরসী আকাশ-পৃথিবী অপেক্ষাও প্রশস্ত। আরশ তা অপেক্ষাও বৃহৎ আকারের। (তাহলে আরশ জান্নাতের ছাদ হয় কিভাবে?)
তার উত্তরে বলা হবে, জান্নাতের যে স্তরকে ফিরদাউস বলা হয়ে থাকে, তা আরশের নিকটে অবস্থিত। সে হিসাবে তা অপেক্ষা উপরে আর কোন জান্নাত নেই। সুতরাং আরশ মূলতঃ এটারই ছাদ। এটি অপেক্ষা নিম্নস্থ জান্নাতের উপরে আরশ নয়।
জান্নাত অত্যন্ত উঁচু ও প্রশস্ত হওয়ার কারণে তার নিচের অংশ থেকে উপরের অংশে উঠবে স্তরানুসারে পর্যায়ক্রমে। যেমন কুরআন তিলাওয়াতকারীকে বলা হবে, إقرأ وارتق، فإن منزلتك عند أخر آية تقرأها তিলাওয়াত করতে থাক ও বেহেশতে আরোহণ করতে থাক। যেখানে গিয়ে তুমি শেষ আয়াত তিলাওয়াত করবে, তা-ই হবে তোমার ঠিকানা তথা নিবাস।
উক্ত হাদীসে দু'টি সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত তার অবস্থান তার ধীশক্তির উপর নির্ভর করবে। অর্থাৎ ধীশক্তি যেই স্থানে শেষ হবে সেখানে তার অবস্থান হবে। দ্বিতীয়টি হল, তার অবস্থান তার তিলাওয়াতের উপর। والله
টিকাঃ
১১৯. সূরা নাজম, আয়াত: ১৩-১৫
১২০. যারযূর, চড়ুই পাখি অপেক্ষা ঈষৎ বড় এক প্রকার পাখি- মিসবাহুল লুগাত
১২১. বুখারী, খ. ১, পৃ. ৩৯১