📄 জালিমের ভয়ে ইশারায় সালাত আদায় করা
২৬৬. মুহাম্মাদ ইবনু আবি ইসমাঈল রহ. বলেন, "আমি সাঈদ ইবনু যুবাইর এবং আতা ইবনু রাবাহ রহ.-কে ইমামের (ওয়ালিদ ইবনু মারওয়ানের দীর্ঘ) খুতবা প্রদানকালে (সময় শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বসে বসে) ইশারায় সালাত করতে দেখেছি।"³³⁷
২৬৭. আবু হাশিম ওয়াসিতী রহ. বর্ণনা করেন, "আবু ওয়াইল রহ. এর ব্যাপারে বর্ণিত আছে যে, হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ (দীর্ঘ সময় নিয়ে) খুতবা প্রদানকালে (সময় শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়) তিনি ইশারায় সালাত আদায় করে নিতেন।"³³⁸
২৬৮. আতা ইবনু ইয়াসার রহ. বলেন, আন্নাল ওয়ালিদা আজরাস সোলাতা বিল খইফি, ফাকুলতু লিআতা-ইন: ওয়া কাইফা সানা’তা? ক্বলা: আউমাতু। ক্বলা দাউদ: "খলিফা ওয়ালিদ ইবনু মারওয়ান খাইফ নামক স্থানে সালাত আদায়ে বেশ বিলম্ব করে বসেন। আমি আতা রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, 'আপনি তখন কী করেছেন?' তিনি বললেন, 'আমি ইশারায় সালাত আদায় করে নিয়েছি।'
বর্ণনাকারী দাউদ রহ. বলেন, 'খলিফা ওয়ালিদ একবার ঈদুল আযহার পরদিন খুতবা দিচ্ছিলেন। বেলা গড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে এক ব্যক্তি পাহাড়ের চূড়ায় উঠে কাপড় নেড়ে তাকে ইশারা করেন যে, আপনি কি সূর্য দেখছেন না? উত্তরে খলিফা বলেন, 'তোমরা সালাতের মধ্যেই রয়েছ।"³³⁹
টিকাঃ
৩৩৭. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু আব্দির রাযযাক, ৩৭৯৬
৩৩৮. সনদ সহীহ।
৩৩৯. সনদ সহীহ।
📄 মুজাহিদ বাহিনীর আসল যোগ্যতা
২৬৯. আব্দুল্লাহ ইবনু হুওয়াইতিব রহ. বলেন, "একবার আমি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দিল মালিকের নিকট বসা ছিলাম। তখন সেখানে দুই যুবকের কাঁধে ভর দিয়ে শামের একজন বৃদ্ধ আগমন করেন। তার নাম ছিল আবু বাহরিয়্যাহ। তাকে দেখামাত্রই আব্দুল্লাহ বলে উঠলেন, 'স্বাগতম হে আবু বাহরিয়্যাহ!' এই বলে তিনি আমার আর তার মাঝে সেই বৃদ্ধের বসার ব্যবস্থা করলেন। অতঃপর বললেন, 'আবু বাহরিয়্যাহ, বলুন কী উদ্দেশ্যে এসেছেন? আপনি কি চান বর্তমান বাহিনী হতে আমি আপনার নাম বাদ দিয়ে দিই?' তিনি বললেন, 'আপনি আমাকে বাহিনী হতে অব্যাহতি দেবেন তা আমি চাই না। তবে আমার পরিবর্তে এই দুজনের যেকোনো একজনকে গ্রহণ করুন।' তারা তার পুত্র ছিল। এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, 'আপনার পাশে এই লোকটি কে?' আব্দুল্লাহ বললেন, 'সে নিজেই আপনাকে তার পরিচয় দিক।' তখন তিনি আমাকে বললেন, 'তুমি কে?' বললাম, 'আমি আবু বকর ইবনু আব্দিল্লাহ ইবনু হুওয়াইতিব।' তিনি বললেন, 'আরে ভাতিজা, সাবাশ! উমর রা.-এর খিলাফাতকালে রোমান ভূমিতে প্রবেশকারী প্রথম বাহিনীতে আমিও ছিলাম। আমাদের আমীর ছিলেন তোমার চাচাত ভাই আব্দুল্লাহ ইবনুস সা'আদী। আমাদের বাহ্যিক অবলম্বন বলতে শুধু বর্শার (অস্ত্রের) তীক্ষ্ণতাটুকুই ছিল। আমাদের আমীর সূরা কাফিরুন, ইখলাস, ফালাক ও নাস-সহ ছোট ছোট কিছু সূরা জানতেন। আমরা এমন কাউকে দেখিনি যে (প্রথম দেখায়) তাকে আমাদের আমীর মনে করত। তবে ভাতিজা, আমাদের মাঝে কোনোরূপ বিশ্বাসঘাতকতা, মিথ্যাচার, খিয়ানত কিংবা আত্মসাতের প্রবণতা ছিল না।"³⁴⁰
টিকাঃ
৩৪০. সনদ দুর্বল। একাধিক সমস্যাগ্রস্ত বর্ণনাকারী রয়েছেন। আরও রয়েছে: তারীখু মাদীনাতি দিমাশক, ৩২/১১৫।
📄 আমীর হবেন উম্মাহর আশ্রয়স্থল
২৭০. উমার ইবনু খাত্তাব রা. বলেন, আনা ফিয়্যাতু কুল্লি মুসলিমিন। "আমি প্রতিটি মুসলমানের ফিরে আসার আশ্রয়স্থল।"³⁴¹
টিকাঃ
৩৪১. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবাহ, ৩৩৬৮৮।