📄 লড়াইকালীন কসর এক রাকআত
২৬০. ইয়াযিদ ইবনু সুহাইব ফাকির রহ. বলেন, সানি’তু জাবিরা বনা আবদিল্লাহ সুরিআ আ’নির রকা’তাইনি ফিস সাফারি আক্বসরহুমা? ক্বলা: "জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ রা.-কে সফরের দুই রাকআত কসর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, সফর এবং লড়াই উভয়ক্ষেত্রে কি কসর এই দুই রাকআত? তখন তাকে বলতে শুনি যে, লড়াই চলাকালে কসর হলো এক রাকআত। দুই রাকআত নয়।”³³⁰
২৬১. হাম্মাদ ইবনু সালামাহ রহ. বলেন, সায়ালতু ইবরাহীমা, আ’নির রাজুলি ইয়াতলুবু আউ ইয়ুতলাবু, ফাতুদরিকুহুস সালাতু, ক্বলা: "আমি ইবরাহীম নাখাঈ রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, এক ব্যক্তি শত্রুর সন্ধানে বেরিয়েছে কিংবা শত্রু তার সন্ধানে বেরিয়েছে এমতাবস্থায় সালাতের সময় হলে সে কী করবে?' তিনি বললেন, 'সে যেদিকে ফিরে আছে সেদিকে মুখ করেই ইশারায় সালাত আদায় করবে। রুকুর তুলনায় সিজদায় একটু বেশি ঝুঁকবে। তবে অযু এবং কিরাআত (সালাতে কুরআন পাঠ) ত্যাগ করবে না।”³³¹
২৬২. মা'মার রহ. বলেন, আ’নিয যুহরী ফি ক্বউলিহি আযযা ওয়া জাল্লা: {فَإِنْ خِفْتُمْ فَرِجَالًا أَوْ رُكْبَانًا} [البقرة: ২৩৯] ক্বলা: "আল্লাহ তাআলা বলেন, 'অতঃপর যদি তোমাদের কারও ব্যাপারে ভয় থাকে, তাহলে পদচারী অবস্থাতেই (সালাত) আদায় করে নাও অথবা সাওয়ারির ওপরে। তারপর যখন তোমরা নিরাপত্তা পাবে, তখন আল্লাহকে স্মরণ করো, যেভাবে তোমাদের শেখানো হয়েছে, যা তোমরা ইতিপূর্বে জানতে না।'³³²
এর ব্যাখ্যায় ইমাম যুহরী রহ. বলেন, যখন শত্রু ধাওয়া করে তখন যেদিকে চেহারা আছে সেদিকে ফিরেই সালাত আদায় করা জায়িয। পদাতিক কিংবা সাওয়ারি যে অবস্থাতেই থাকুক, ইশারায় দুই রাকআত সালাত আদায় করে নেবে। কাতাদাহ রহ. বলেন, 'এক রাকআতই যথেষ্ট হবে।"³³³
২৬৩. মাকহুল শামী রহ. বলেন, আন্না শুরাহবিলা বনা হাসানাতান, আগারা আ’লা শিমাসাতা, ওয়া যালিকা ফি ওয়াজহিস সুবহি, ক্বলা: "শুরাহবিল ইবনু হাসানাহ রা. খুব ভোরে শাম্মাসার ওপর আক্রমণ চালাতে বের হন। তখন তিনি তার সঙ্গীদের বলেন, 'তোমরা তোমাদের সাওয়ারির ওপর বসেই সালাত আদায় করে নাও।' অতঃপর তিনি এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলেন সে জমিনে নেমে সালাত আদায় করছে। তিনি বললেন, এটা কী? সে বিপরীত করেছে আল্লাহ তাআলাও তার সাথে বিপরীত আচরণ করবেন। দেখা গেল লোকটির নাম আশতার।"³³⁴
২৬৪. সাবিক বারবারী রহ. বলেন, কাতাবা মাকহুল ইলা হাসনিল বাসরী, ফাজাআ কিতাবুহু ওয়া নাহনু বিদাবিক্কা ফির রাজুলি ইয়াতলুবু আদুউওয়াহু, ওয়া হুম মুনহাযিমুনা, ফাহাদোরাতিল সোলাতু, আইয়্যুসোয়াল্লি আ’লা যাহরি ফারাসিহি? ক্বলা: "মাকহুল রহ. হাসান বসরী রহ.-এর নিকট পত্র লিখে জানতে চান যে, এক ব্যক্তি পলায়নরত শত্রুর পশ্চাদ্ধাবন করছে এমতাবস্থায় সালাতের সময় হলে সে কি সাওয়ারির পিঠেই সালাত আদায় করে নেবে? আমরা যখন দাবিক নামক এলাকায় ছিলাম তখন হাসান রহ.-এর উত্তর লেখা পত্র এসে পৌঁছায়। তিনি বলেন, 'না; বরং সে ব্যক্তি জমিনে নেমে কিবলামুখী হয়ে সালাত আদায় করবে। তবে শত্রু যদি তাকে ধাওয়া করে তবে সে সাওয়ারির পিঠে বসে ইশারাতেই সালাত আদায় করে নেবে।"³³⁵
২৬৫. আতা ইবনু ইয়াসার রহ. বলেন, "তুমি যদি (শত্রুর) সন্ধানে থাকো তাহলে (সালাতের সময় হলে) সাওয়ারি হতে নেমে সালাত আদায় করে নাও। আর যদি (শত্রুর পক্ষ হতে) তোমাকে অনুসন্ধান করা হয় তাহলে তুমি (কোথাও না থেমে) ইশারায় সালাত আদায় করে নাও।”³³⁶
টিকাঃ
৩৩০. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: মুসনাদু আবি দাউদ তয়ালিসী, ১৮৯৮।
৩৩১. সনদ হাসান।
৩৩২. সূরা বাকারা, ২:২৩৯
৩৩৩. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: তাফসীরুত তাবারী, ৪/৩৮৮৷৷
৩৩৪. সনদ হাসান।
৩৩৫. সনদ হাসান। সাবিক বারবারী হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল হলেও সাধারণ ব্যাপারে গ্রহণযোগ্য।
৩৩৬. সনদ হাসান।
📄 জালিমের ভয়ে ইশারায় সালাত আদায় করা
২৬৬. মুহাম্মাদ ইবনু আবি ইসমাঈল রহ. বলেন, "আমি সাঈদ ইবনু যুবাইর এবং আতা ইবনু রাবাহ রহ.-কে ইমামের (ওয়ালিদ ইবনু মারওয়ানের দীর্ঘ) খুতবা প্রদানকালে (সময় শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বসে বসে) ইশারায় সালাত করতে দেখেছি।"³³⁷
২৬৭. আবু হাশিম ওয়াসিতী রহ. বর্ণনা করেন, "আবু ওয়াইল রহ. এর ব্যাপারে বর্ণিত আছে যে, হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ (দীর্ঘ সময় নিয়ে) খুতবা প্রদানকালে (সময় শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়) তিনি ইশারায় সালাত আদায় করে নিতেন।"³³⁸
২৬৮. আতা ইবনু ইয়াসার রহ. বলেন, আন্নাল ওয়ালিদা আজরাস সোলাতা বিল খইফি, ফাকুলতু লিআতা-ইন: ওয়া কাইফা সানা’তা? ক্বলা: আউমাতু। ক্বলা দাউদ: "খলিফা ওয়ালিদ ইবনু মারওয়ান খাইফ নামক স্থানে সালাত আদায়ে বেশ বিলম্ব করে বসেন। আমি আতা রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, 'আপনি তখন কী করেছেন?' তিনি বললেন, 'আমি ইশারায় সালাত আদায় করে নিয়েছি।'
বর্ণনাকারী দাউদ রহ. বলেন, 'খলিফা ওয়ালিদ একবার ঈদুল আযহার পরদিন খুতবা দিচ্ছিলেন। বেলা গড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে এক ব্যক্তি পাহাড়ের চূড়ায় উঠে কাপড় নেড়ে তাকে ইশারা করেন যে, আপনি কি সূর্য দেখছেন না? উত্তরে খলিফা বলেন, 'তোমরা সালাতের মধ্যেই রয়েছ।"³³⁹
টিকাঃ
৩৩৭. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু আব্দির রাযযাক, ৩৭৯৬
৩৩৮. সনদ সহীহ।
৩৩৯. সনদ সহীহ।
📄 মুজাহিদ বাহিনীর আসল যোগ্যতা
২৬৯. আব্দুল্লাহ ইবনু হুওয়াইতিব রহ. বলেন, "একবার আমি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দিল মালিকের নিকট বসা ছিলাম। তখন সেখানে দুই যুবকের কাঁধে ভর দিয়ে শামের একজন বৃদ্ধ আগমন করেন। তার নাম ছিল আবু বাহরিয়্যাহ। তাকে দেখামাত্রই আব্দুল্লাহ বলে উঠলেন, 'স্বাগতম হে আবু বাহরিয়্যাহ!' এই বলে তিনি আমার আর তার মাঝে সেই বৃদ্ধের বসার ব্যবস্থা করলেন। অতঃপর বললেন, 'আবু বাহরিয়্যাহ, বলুন কী উদ্দেশ্যে এসেছেন? আপনি কি চান বর্তমান বাহিনী হতে আমি আপনার নাম বাদ দিয়ে দিই?' তিনি বললেন, 'আপনি আমাকে বাহিনী হতে অব্যাহতি দেবেন তা আমি চাই না। তবে আমার পরিবর্তে এই দুজনের যেকোনো একজনকে গ্রহণ করুন।' তারা তার পুত্র ছিল। এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, 'আপনার পাশে এই লোকটি কে?' আব্দুল্লাহ বললেন, 'সে নিজেই আপনাকে তার পরিচয় দিক।' তখন তিনি আমাকে বললেন, 'তুমি কে?' বললাম, 'আমি আবু বকর ইবনু আব্দিল্লাহ ইবনু হুওয়াইতিব।' তিনি বললেন, 'আরে ভাতিজা, সাবাশ! উমর রা.-এর খিলাফাতকালে রোমান ভূমিতে প্রবেশকারী প্রথম বাহিনীতে আমিও ছিলাম। আমাদের আমীর ছিলেন তোমার চাচাত ভাই আব্দুল্লাহ ইবনুস সা'আদী। আমাদের বাহ্যিক অবলম্বন বলতে শুধু বর্শার (অস্ত্রের) তীক্ষ্ণতাটুকুই ছিল। আমাদের আমীর সূরা কাফিরুন, ইখলাস, ফালাক ও নাস-সহ ছোট ছোট কিছু সূরা জানতেন। আমরা এমন কাউকে দেখিনি যে (প্রথম দেখায়) তাকে আমাদের আমীর মনে করত। তবে ভাতিজা, আমাদের মাঝে কোনোরূপ বিশ্বাসঘাতকতা, মিথ্যাচার, খিয়ানত কিংবা আত্মসাতের প্রবণতা ছিল না।"³⁴⁰
টিকাঃ
৩৪০. সনদ দুর্বল। একাধিক সমস্যাগ্রস্ত বর্ণনাকারী রয়েছেন। আরও রয়েছে: তারীখু মাদীনাতি দিমাশক, ৩২/১১৫।
📄 আমীর হবেন উম্মাহর আশ্রয়স্থল
২৭০. উমার ইবনু খাত্তাব রা. বলেন, আনা ফিয়্যাতু কুল্লি মুসলিমিন। "আমি প্রতিটি মুসলমানের ফিরে আসার আশ্রয়স্থল।"³⁴¹
টিকাঃ
৩৪১. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবাহ, ৩৩৬৮৮।