📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 যুদ্ধরত অবস্থায় ইশারায় এক রাকআত সালাত

📄 যুদ্ধরত অবস্থায় ইশারায় এক রাকআত সালাত


২৫৬. শত্রুসেনার বিরুদ্ধে যুদ্ধরত অবস্থায় সালাত আদায় সম্পর্কে হাসান বসরী রহ. বলেন, "ইশারায় এক রাকআত ও দুই সিজদা আদায় করবে।”

টিকাঃ
৩২৫. সনদ সহীহ। আতিয়্যাহ আওফী রহ., হতে সমার্থক বর্ণনা রয়েছে: তাফসীরু ইবনি আবি হাতিম, ২/৪৫০ [২৩৮৩]।

২৫৬. শত্রুসেনার বিরুদ্ধে যুদ্ধরত অবস্থায় সালাত আদায় সম্পর্কে হাসান বসরী রহ. বলেন, "ইশারায় এক রাকআত ও দুই সিজদা আদায় করবে।”

টিকাঃ
৩২৫. সনদ সহীহ। আতিয়্যাহ আওফী রহ., হতে সমার্থক বর্ণনা রয়েছে: তাফসীরু ইবনি আবি হাতিম, ২/৪৫০ [২৩৮৩]।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 যুদ্ধ চলাকালীন যেকোনো দিকে ফিরে সালাত আদায় করা যাবে

📄 যুদ্ধ চলাকালীন যেকোনো দিকে ফিরে সালাত আদায় করা যাবে


২৫৭. ফায্ল ইবনু দালহাম রহ. বলেন, عَنِ الْحَسَنِ فِي قَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ: {فَرِجَالًا} [البقرة: ২৩৯] ক্বলা: "আল্লাহ তাআলা বলেন, 'অতঃপর যদি তোমাদের কারও ব্যাপারে ভয় থাকে, তাহলে পদচারী অবস্থাতেই (সালাত) আদায় করে নাও অথবা সাওয়ারির ওপরে। তারপর যখন তোমরা নিরাপত্তা পাবে, তখন আল্লাহকে স্মরণ করো, যেভাবে তোমাদের শেখানো হয়েছে, যা তোমরা ইতিপূর্বে জানতে না।'³²⁶
এর ব্যাখ্যায় হাসান বসরী রহ. বলেন, 'তরবারি চালনার সময় সালাত আদায় করলে এক রাকআত করবে। রুকু এবং সিজদা এমনভাবে হবে যেন আপনি চলছেন আর ঘোড়াকে কিংবা উটকে পদাঘাত করছেন। সাওয়ারি কিংবা আপনার চেহারা যে-মুখী হোক না কেন।"³²⁷

২৫৮. ইমাম শু'বাহ রহ. বলেন, عنِ الحَكَمِ، وَحَمَادٍ، وَقَتَادَةَ سُئِلُوا عَنْ صَلَاةٍ عِنْدَ الْمُسَائِفَةِ ক্বলু: "ইমাম হাকাম, হাম্মাদ ইবনু সালামাহ এবং কাতাদা রহ.-কে লড়াই চলাকালীন সালাত আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলেন, 'তোমার চেহারা যেদিকে আছে সেদিকে ফিরেই এক রাকআত সালাত আদায় করবে।"³²⁸

২৫৯. ইবনু আবি নাজীহ রহ. বলেন, عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: عِنْدَ الْمُسَايَفَةِ تَجْرِي تَكْبِيرَةً ক্বলা সুফিয়ান: "মুজাহিদ রহ. বলেন, 'লড়াই চলাকালীন (সালাতের জন্য) এক তাকবীরই যথেষ্ট। সুফিয়ান রহ. বলেন, ইশারায় দুই রাকআত করে আদায় করবে। অথবা তিনি যুওয়াইবির রহ. এর সূত্রে ইমাম যাহহাক হতে বর্ণনা করেন, দুই তাকবীরে সালাত আদায় করবে।"³²⁹

টিকাঃ
৩২৬. সূরা বাকারা, ২:২৩৯
৩২৭. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: তাফসীরুত তাবারী, ৪/৩৮৮।
৩২৮. সনদ হাসান।
৩২৯. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: তাফসীরুত তাবারী, ৪/৩৮৬,৮৭।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 লড়াইকালীন কসর এক রাকআত

📄 লড়াইকালীন কসর এক রাকআত


২৬০. ইয়াযিদ ইবনু সুহাইব ফাকির রহ. বলেন, সানি’তু জাবিরা বনা আবদিল্লাহ সুরিআ আ’নির রকা’তাইনি ফিস সাফারি আক্বসরহুমা? ক্বলা: "জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ রা.-কে সফরের দুই রাকআত কসর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, সফর এবং লড়াই উভয়ক্ষেত্রে কি কসর এই দুই রাকআত? তখন তাকে বলতে শুনি যে, লড়াই চলাকালে কসর হলো এক রাকআত। দুই রাকআত নয়।”³³⁰

২৬১. হাম্মাদ ইবনু সালামাহ রহ. বলেন, সায়ালতু ইবরাহীমা, আ’নির রাজুলি ইয়াতলুবু আউ ইয়ুতলাবু, ফাতুদরিকুহুস সালাতু, ক্বলা: "আমি ইবরাহীম নাখাঈ রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, এক ব্যক্তি শত্রুর সন্ধানে বেরিয়েছে কিংবা শত্রু তার সন্ধানে বেরিয়েছে এমতাবস্থায় সালাতের সময় হলে সে কী করবে?' তিনি বললেন, 'সে যেদিকে ফিরে আছে সেদিকে মুখ করেই ইশারায় সালাত আদায় করবে। রুকুর তুলনায় সিজদায় একটু বেশি ঝুঁকবে। তবে অযু এবং কিরাআত (সালাতে কুরআন পাঠ) ত্যাগ করবে না।”³³¹

২৬২. মা'মার রহ. বলেন, আ’নিয যুহরী ফি ক্বউলিহি আযযা ওয়া জাল্লা: {فَإِنْ خِفْتُمْ فَرِجَالًا أَوْ رُكْبَانًا} [البقرة: ২৩৯] ক্বলা: "আল্লাহ তাআলা বলেন, 'অতঃপর যদি তোমাদের কারও ব্যাপারে ভয় থাকে, তাহলে পদচারী অবস্থাতেই (সালাত) আদায় করে নাও অথবা সাওয়ারির ওপরে। তারপর যখন তোমরা নিরাপত্তা পাবে, তখন আল্লাহকে স্মরণ করো, যেভাবে তোমাদের শেখানো হয়েছে, যা তোমরা ইতিপূর্বে জানতে না।'³³²
এর ব্যাখ্যায় ইমাম যুহরী রহ. বলেন, যখন শত্রু ধাওয়া করে তখন যেদিকে চেহারা আছে সেদিকে ফিরেই সালাত আদায় করা জায়িয। পদাতিক কিংবা সাওয়ারি যে অবস্থাতেই থাকুক, ইশারায় দুই রাকআত সালাত আদায় করে নেবে। কাতাদাহ রহ. বলেন, 'এক রাকআতই যথেষ্ট হবে।"³³³

২৬৩. মাকহুল শামী রহ. বলেন, আন্না শুরাহবিলা বনা হাসানাতান, আগারা আ’লা শিমাসাতা, ওয়া যালিকা ফি ওয়াজহিস সুবহি, ক্বলা: "শুরাহবিল ইবনু হাসানাহ রা. খুব ভোরে শাম্মাসার ওপর আক্রমণ চালাতে বের হন। তখন তিনি তার সঙ্গীদের বলেন, 'তোমরা তোমাদের সাওয়ারির ওপর বসেই সালাত আদায় করে নাও।' অতঃপর তিনি এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলেন সে জমিনে নেমে সালাত আদায় করছে। তিনি বললেন, এটা কী? সে বিপরীত করেছে আল্লাহ তাআলাও তার সাথে বিপরীত আচরণ করবেন। দেখা গেল লোকটির নাম আশতার।"³³⁴

২৬৪. সাবিক বারবারী রহ. বলেন, কাতাবা মাকহুল ইলা হাসনিল বাসরী, ফাজাআ কিতাবুহু ওয়া নাহনু বিদাবিক্কা ফির রাজুলি ইয়াতলুবু আদুউওয়াহু, ওয়া হুম মুনহাযিমুনা, ফাহাদোরাতিল সোলাতু, আইয়্যুসোয়াল্লি আ’লা যাহরি ফারাসিহি? ক্বলা: "মাকহুল রহ. হাসান বসরী রহ.-এর নিকট পত্র লিখে জানতে চান যে, এক ব্যক্তি পলায়নরত শত্রুর পশ্চাদ্ধাবন করছে এমতাবস্থায় সালাতের সময় হলে সে কি সাওয়ারির পিঠেই সালাত আদায় করে নেবে? আমরা যখন দাবিক নামক এলাকায় ছিলাম তখন হাসান রহ.-এর উত্তর লেখা পত্র এসে পৌঁছায়। তিনি বলেন, 'না; বরং সে ব্যক্তি জমিনে নেমে কিবলামুখী হয়ে সালাত আদায় করবে। তবে শত্রু যদি তাকে ধাওয়া করে তবে সে সাওয়ারির পিঠে বসে ইশারাতেই সালাত আদায় করে নেবে।"³³⁵

২৬৫. আতা ইবনু ইয়াসার রহ. বলেন, "তুমি যদি (শত্রুর) সন্ধানে থাকো তাহলে (সালাতের সময় হলে) সাওয়ারি হতে নেমে সালাত আদায় করে নাও। আর যদি (শত্রুর পক্ষ হতে) তোমাকে অনুসন্ধান করা হয় তাহলে তুমি (কোথাও না থেমে) ইশারায় সালাত আদায় করে নাও।”³³⁶

টিকাঃ
৩৩০. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: মুসনাদু আবি দাউদ তয়ালিসী, ১৮৯৮।
৩৩১. সনদ হাসান।
৩৩২. সূরা বাকারা, ২:২৩৯
৩৩৩. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: তাফসীরুত তাবারী, ৪/৩৮৮৷৷
৩৩৪. সনদ হাসান।
৩৩৫. সনদ হাসান। সাবিক বারবারী হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল হলেও সাধারণ ব্যাপারে গ্রহণযোগ্য।
৩৩৬. সনদ হাসান।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 জালিমের ভয়ে ইশারায় সালাত আদায় করা

📄 জালিমের ভয়ে ইশারায় সালাত আদায় করা


২৬৬. মুহাম্মাদ ইবনু আবি ইসমাঈল রহ. বলেন, "আমি সাঈদ ইবনু যুবাইর এবং আতা ইবনু রাবাহ রহ.-কে ইমামের (ওয়ালিদ ইবনু মারওয়ানের দীর্ঘ) খুতবা প্রদানকালে (সময় শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বসে বসে) ইশারায় সালাত করতে দেখেছি।"³³⁷

২৬৭. আবু হাশিম ওয়াসিতী রহ. বর্ণনা করেন, "আবু ওয়াইল রহ. এর ব্যাপারে বর্ণিত আছে যে, হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ (দীর্ঘ সময় নিয়ে) খুতবা প্রদানকালে (সময় শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়) তিনি ইশারায় সালাত আদায় করে নিতেন।"³³⁸

২৬৮. আতা ইবনু ইয়াসার রহ. বলেন, আন্নাল ওয়ালিদা আজরাস সোলাতা বিল খইফি, ফাকুলতু লিআতা-ইন: ওয়া কাইফা সানা’তা? ক্বলা: আউমাতু। ক্বলা দাউদ: "খলিফা ওয়ালিদ ইবনু মারওয়ান খাইফ নামক স্থানে সালাত আদায়ে বেশ বিলম্ব করে বসেন। আমি আতা রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, 'আপনি তখন কী করেছেন?' তিনি বললেন, 'আমি ইশারায় সালাত আদায় করে নিয়েছি।'
বর্ণনাকারী দাউদ রহ. বলেন, 'খলিফা ওয়ালিদ একবার ঈদুল আযহার পরদিন খুতবা দিচ্ছিলেন। বেলা গড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে এক ব্যক্তি পাহাড়ের চূড়ায় উঠে কাপড় নেড়ে তাকে ইশারা করেন যে, আপনি কি সূর্য দেখছেন না? উত্তরে খলিফা বলেন, 'তোমরা সালাতের মধ্যেই রয়েছ।"³³⁹

টিকাঃ
৩৩৭. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু আব্দির রাযযাক, ৩৭৯৬
৩৩৮. সনদ সহীহ।
৩৩৯. সনদ সহীহ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px