📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 ইবরাহীম নাখাঈ রহ. বর্ণিত পদ্ধতি

📄 ইবরাহীম নাখাঈ রহ. বর্ণিত পদ্ধতি


২৫১. ইবরাহীম নাখাঈ রহ. বলেন, "সালাতুল খাওফ আদায়কালে একটি দল শত্রুর মোকাবিলায় অবস্থান নেবে। তারা সালাতে শামিল হবে না। অপর দলটি ইমামের পেছনে দাঁড়াবে। ইমাম তাদের নিয়ে এক রাকআত আদায় করবেন। তখন প্রথম রাকাআত আদায়কারী দলটি শত্রুর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দলটির জায়গায় চলে যাবে। অতঃপর দ্বিতীয় দলটি এসে ইমামের সাথে এক রাকআত আদায় করবে এবং পাহারায় থাকা দলটির জায়গায় চলে যাবে। তখন প্রথম দলটি নিজেদের জায়গায় ফিরে আসবে এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ এক রাকআত আদায় করে নেবে।"

টিকাঃ
৩১৯. সনদ মাওকুফ সহীহ। সমার্থক বর্ণনা রয়েছে: মুসান্নাফু আব্দির রাযযাক, ৪২৪৬।

২৫১. ইবরাহীম নাখাঈ রহ. বলেন, "সালাতুল খাওফ আদায়কালে একটি দল শত্রুর মোকাবিলায় অবস্থান নেবে। তারা সালাতে শামিল হবে না। অপর দলটি ইমামের পেছনে দাঁড়াবে। ইমাম তাদের নিয়ে এক রাকআত আদায় করবেন। তখন প্রথম রাকাআত আদায়কারী দলটি শত্রুর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দলটির জায়গায় চলে যাবে। অতঃপর দ্বিতীয় দলটি এসে ইমামের সাথে এক রাকআত আদায় করবে এবং পাহারায় থাকা দলটির জায়গায় চলে যাবে। তখন প্রথম দলটি নিজেদের জায়গায় ফিরে আসবে এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ এক রাকআত আদায় করে নেবে।"

টিকাঃ
৩১৯. সনদ মাওকুফ সহীহ। সমার্থক বর্ণনা রয়েছে: মুসান্নাফু আব্দির রাযযাক, ৪২৪৬।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 বিশেষ ক্ষেত্রে পদাতিক, সওয়ারি অবস্থায় এবং ইশারায় সালাতের অনুমতি

📄 বিশেষ ক্ষেত্রে পদাতিক, সওয়ারি অবস্থায় এবং ইশারায় সালাতের অনুমতি


২৫২. আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক রহ. বলেন, عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ فِي قَوْلِهِ : {فَإِنْ خِفْتُمْ فَرِجَالًا أَوْ رُكْبَانًا} [البقرة: ২৩৯] ক্বলা: "আল্লাহ তাআলা বলেন, 'অতঃপর যদি তোমাদের কারও ব্যাপারে ভয় থাকে, তাহলে পদচারী অবস্থাতেই (সালাত) আদায় করে নাও অথবা সাওয়ারির ওপরে। তারপর যখন তোমরা নিরাপত্তা পাবে, তখন আল্লাহকে স্মরণ করো, যেভাবে তোমাদের শেখানো হয়েছে, যা তোমরা ইতিপূর্বে জানতে না।' এর ব্যাখ্যায় আব্দুল মালিক ইবনু আবি সুলাইমান রহ. বলেন, 'আয়াতে বর্ণিত অবস্থায় শুধু ফরয সালাত আদায় করবে। পদাতিক হোক বা সাওয়ারিতে থাকুক। সাওয়ারি যেদিকে ফিরেই চলুক।"

২৫৩. রজা ইবনু হাইওয়াহ রহ. বলেন, "একবার তারা এক বাহিনীতে ছিলেন। তাদের আমীর ছিলেন সিমত ইবনু ছাবিত অথবা সাবিত ইবনু সিমত রহ.। সেই অভিযানে ভীতিকর পরিস্থিতি থাকায় তারা সাওয়ারিতে বসেই সালাত আদায় করেন। সালাতের পর আমীর লোকজনের দিকে তাকিয়ে দেখেন আশতার নামক এক ব্যক্তি সাওয়ারি হতে নেমে সালাত আদায় করছেন। তখন তিনি বললেন, 'সে কী কারণে নামল?' বলা হলো, 'সালাত আদায় করতে নেমেছে।' তিনি বললেন, 'সে (জামাআতের) বিপরীত কাজ করেছে, তার সাথেও বিপরীত কাজ করা হবে।"

২৫৪. যমরাহ ইবনু হাবীব এবং তার ভাই মুহাসির রহ. বলেন, "রাসূল ﷺ একবার এক অভিযানে বের হলেন। যখন সালাতের সময় হলো তখন তিনি সাওয়ারির পিঠেই ছিলেন। তিনি সাওয়ারিতে বসেই সালাত আদায় করে নেন। কিন্তু তার সাথে থাকা আব্দুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা রা. সাওয়ারি হতে নেমে জমিনে সালাত আদায় করেন। সালাত শেষে তিনি রাসূল ﷺ-এর নিকট আসেন। তখন রাসূল ﷺ তাকে বলেন, 'হে ইবনু রাওয়াহা, তুমি কি আমার (অনুগামী হয়ে) সালাত আদায় করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে নাকি?' তিনি বললেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমার বিষয়টি আপনার মতো নয়। আপনি খুব দ্রুত চলছিলেন। আমরা অবশ্য ধীরে চলছিলাম। এরপর রাসূল ﷺ তাকে এ জন্য আর কিছু বললেন না।"

২৫৫. বর্ণনাকারী আরও বলেন, "রাসূল ﷺ একবার এক অভিযানে বের হলেন। তার সঙ্গীগণ সাওয়ারির পিঠেই সালাত আদায় করেন। এক ব্যক্তি নিজেকে অযথা কষ্ট দিয়ে জমিনে সালাত আদায় করে। এই দেখে রাসূল ﷺ বলেন, 'সে বিপরীত কাজ করেছে আল্লাহ তাআলাও তার সাথে বিপরীত কাজ করবেন।' অবশেষে লোকটি ইসলাম ত্যাগ করে মৃত্যুবরণ করে।”

টিকাঃ
৩২০. সূরা বাকারা, ২:২৩৯
৩১১. সনদ মাওকূফ সহীহ। আরও রয়েছে: তাফসীরুত তাবারী, ৪/৩৯১।
৩২২. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবাহ, ৮২৭০।
৩২৩. সনদ মুরসাল এবং দুর্বল। আরও রয়েছে: ইবনুল আসাকীর, তারীখু মাদীনাতি দিমাশক ২৮/৮৬।
৩২৪. সনদ মুরসাল এবং দুর্বল। আরও রয়েছে: ইবনুল আসাকীর, তারীখু মাদীনাতি দিমাশক ২৮/৮৬।

২৫২. আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক রহ. বলেন, عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ فِي قَوْلِهِ : {فَإِنْ خِفْتُمْ فَرِجَالًا أَوْ رُكْبَانًا} [البقرة: ২৩৯] ক্বলা: "আল্লাহ তাআলা বলেন, 'অতঃপর যদি তোমাদের কারও ব্যাপারে ভয় থাকে, তাহলে পদচারী অবস্থাতেই (সালাত) আদায় করে নাও অথবা সাওয়ারির ওপরে। তারপর যখন তোমরা নিরাপত্তা পাবে, তখন আল্লাহকে স্মরণ করো, যেভাবে তোমাদের শেখানো হয়েছে, যা তোমরা ইতিপূর্বে জানতে না।' এর ব্যাখ্যায় আব্দুল মালিক ইবনু আবি সুলাইমান রহ. বলেন, 'আয়াতে বর্ণিত অবস্থায় শুধু ফরয সালাত আদায় করবে। পদাতিক হোক বা সাওয়ারিতে থাকুক। সাওয়ারি যেদিকে ফিরেই চলুক।"

২৫৩. রজা ইবনু হাইওয়াহ রহ. বলেন, "একবার তারা এক বাহিনীতে ছিলেন। তাদের আমীর ছিলেন সিমত ইবনু ছাবিত অথবা সাবিত ইবনু সিমত রহ.। সেই অভিযানে ভীতিকর পরিস্থিতি থাকায় তারা সাওয়ারিতে বসেই সালাত আদায় করেন। সালাতের পর আমীর লোকজনের দিকে তাকিয়ে দেখেন আশতার নামক এক ব্যক্তি সাওয়ারি হতে নেমে সালাত আদায় করছেন। তখন তিনি বললেন, 'সে কী কারণে নামল?' বলা হলো, 'সালাত আদায় করতে নেমেছে।' তিনি বললেন, 'সে (জামাআতের) বিপরীত কাজ করেছে, তার সাথেও বিপরীত কাজ করা হবে।"

২৫৪. যমরাহ ইবনু হাবীব এবং তার ভাই মুহাসির রহ. বলেন, "রাসূল ﷺ একবার এক অভিযানে বের হলেন। যখন সালাতের সময় হলো তখন তিনি সাওয়ারির পিঠেই ছিলেন। তিনি সাওয়ারিতে বসেই সালাত আদায় করে নেন। কিন্তু তার সাথে থাকা আব্দুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা রা. সাওয়ারি হতে নেমে জমিনে সালাত আদায় করেন। সালাত শেষে তিনি রাসূল ﷺ-এর নিকট আসেন। তখন রাসূল ﷺ তাকে বলেন, 'হে ইবনু রাওয়াহা, তুমি কি আমার (অনুগামী হয়ে) সালাত আদায় করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে নাকি?' তিনি বললেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমার বিষয়টি আপনার মতো নয়। আপনি খুব দ্রুত চলছিলেন। আমরা অবশ্য ধীরে চলছিলাম। এরপর রাসূল ﷺ তাকে এ জন্য আর কিছু বললেন না।"

২৫৫. বর্ণনাকারী আরও বলেন, "রাসূল ﷺ একবার এক অভিযানে বের হলেন। তার সঙ্গীগণ সাওয়ারির পিঠেই সালাত আদায় করেন। এক ব্যক্তি নিজেকে অযথা কষ্ট দিয়ে জমিনে সালাত আদায় করে। এই দেখে রাসূল ﷺ বলেন, 'সে বিপরীত কাজ করেছে আল্লাহ তাআলাও তার সাথে বিপরীত কাজ করবেন।' অবশেষে লোকটি ইসলাম ত্যাগ করে মৃত্যুবরণ করে।”

টিকাঃ
৩২০. সূরা বাকারা, ২:২৩৯
৩১১. সনদ মাওকূফ সহীহ। আরও রয়েছে: তাফসীরুত তাবারী, ৪/৩৯১।
৩২২. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবাহ, ৮২৭০।
৩২৩. সনদ মুরসাল এবং দুর্বল। আরও রয়েছে: ইবনুল আসাকীর, তারীখু মাদীনাতি দিমাশক ২৮/৮৬।
৩২৪. সনদ মুরসাল এবং দুর্বল। আরও রয়েছে: ইবনুল আসাকীর, তারীখু মাদীনাতি দিমাশক ২৮/৮৬।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 যুদ্ধরত অবস্থায় ইশারায় এক রাকআত সালাত

📄 যুদ্ধরত অবস্থায় ইশারায় এক রাকআত সালাত


২৫৬. শত্রুসেনার বিরুদ্ধে যুদ্ধরত অবস্থায় সালাত আদায় সম্পর্কে হাসান বসরী রহ. বলেন, "ইশারায় এক রাকআত ও দুই সিজদা আদায় করবে।”

টিকাঃ
৩২৫. সনদ সহীহ। আতিয়্যাহ আওফী রহ., হতে সমার্থক বর্ণনা রয়েছে: তাফসীরু ইবনি আবি হাতিম, ২/৪৫০ [২৩৮৩]।

২৫৬. শত্রুসেনার বিরুদ্ধে যুদ্ধরত অবস্থায় সালাত আদায় সম্পর্কে হাসান বসরী রহ. বলেন, "ইশারায় এক রাকআত ও দুই সিজদা আদায় করবে।”

টিকাঃ
৩২৫. সনদ সহীহ। আতিয়্যাহ আওফী রহ., হতে সমার্থক বর্ণনা রয়েছে: তাফসীরু ইবনি আবি হাতিম, ২/৪৫০ [২৩৮৩]।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 যুদ্ধ চলাকালীন যেকোনো দিকে ফিরে সালাত আদায় করা যাবে

📄 যুদ্ধ চলাকালীন যেকোনো দিকে ফিরে সালাত আদায় করা যাবে


২৫৭. ফায্ল ইবনু দালহাম রহ. বলেন, عَنِ الْحَسَنِ فِي قَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ: {فَرِجَالًا} [البقرة: ২৩৯] ক্বলা: "আল্লাহ তাআলা বলেন, 'অতঃপর যদি তোমাদের কারও ব্যাপারে ভয় থাকে, তাহলে পদচারী অবস্থাতেই (সালাত) আদায় করে নাও অথবা সাওয়ারির ওপরে। তারপর যখন তোমরা নিরাপত্তা পাবে, তখন আল্লাহকে স্মরণ করো, যেভাবে তোমাদের শেখানো হয়েছে, যা তোমরা ইতিপূর্বে জানতে না।'³²⁶
এর ব্যাখ্যায় হাসান বসরী রহ. বলেন, 'তরবারি চালনার সময় সালাত আদায় করলে এক রাকআত করবে। রুকু এবং সিজদা এমনভাবে হবে যেন আপনি চলছেন আর ঘোড়াকে কিংবা উটকে পদাঘাত করছেন। সাওয়ারি কিংবা আপনার চেহারা যে-মুখী হোক না কেন।"³²⁷

২৫৮. ইমাম শু'বাহ রহ. বলেন, عنِ الحَكَمِ، وَحَمَادٍ، وَقَتَادَةَ سُئِلُوا عَنْ صَلَاةٍ عِنْدَ الْمُسَائِفَةِ ক্বলু: "ইমাম হাকাম, হাম্মাদ ইবনু সালামাহ এবং কাতাদা রহ.-কে লড়াই চলাকালীন সালাত আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলেন, 'তোমার চেহারা যেদিকে আছে সেদিকে ফিরেই এক রাকআত সালাত আদায় করবে।"³²⁸

২৫৯. ইবনু আবি নাজীহ রহ. বলেন, عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: عِنْدَ الْمُسَايَفَةِ تَجْرِي تَكْبِيرَةً ক্বলা সুফিয়ান: "মুজাহিদ রহ. বলেন, 'লড়াই চলাকালীন (সালাতের জন্য) এক তাকবীরই যথেষ্ট। সুফিয়ান রহ. বলেন, ইশারায় দুই রাকআত করে আদায় করবে। অথবা তিনি যুওয়াইবির রহ. এর সূত্রে ইমাম যাহহাক হতে বর্ণনা করেন, দুই তাকবীরে সালাত আদায় করবে।"³²⁹

টিকাঃ
৩২৬. সূরা বাকারা, ২:২৩৯
৩২৭. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: তাফসীরুত তাবারী, ৪/৩৮৮।
৩২৮. সনদ হাসান।
৩২৯. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: তাফসীরুত তাবারী, ৪/৩৮৬,৮৭।

ফন্ট সাইজ
15px
17px