📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 শত্রুর মোকাবিলায় প্রয়োজনে পিছু হটার অনুমতি

📄 শত্রুর মোকাবিলায় প্রয়োজনে পিছু হটার অনুমতি


২৪২. আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, 'ইন ইয়াকুন মিনকুম ইশরুনা সাবিরুনা [আনফাল: ৬৫]' ইলা আখিরিল আয়াতাইনি ক্বলা: ইন ফাররা রাজুলুম মিন সালাসাাতিন, লাম ইয়াফিররা, ওয়া ইন ফাররা মিনাছনাইন, ফাক্বাদ ফাররা।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
'হে নবী, আপনি মুসলমানগণকে জিহাদের জন্য উৎসাহিত করুন। তোমাদের মধ্যে যদি বিশ জন দৃঢ়পদ ব্যক্তি থাকে, তবে তারা দুশর মোকাবিলায় জয়ী হবে। আর যদি তোমাদের মধ্যে থাকে এক শ লোক, তবে জয়ী হবে হাজার কাফেরের ওপর, কারণ ওরা জ্ঞানহীন। এখন আল্লাহ তোমাদের ওপর বোঝা হালকা করে দিয়েছেন এবং তিনি জেনে নিয়েছেন যে, তোমাদের মধ্য দুর্বলতা রয়েছে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যদি দৃঢ়চিত্ত এক শ লোক বিদ্যমান থাকে, তবে তারা জয়ী হবে দু শর ওপর। আর যদি তোমরা এক হাজার হও তবে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী জয়ী হবে দুই হাজারের ওপর আর দৃঢ়চিত্ত লোকদের সাথে আল্লাহ রয়েছেন।' (সূরা আনফাল, ৮:৬৫, ৬৬)
এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, 'যদি কোনো মুজাহিদ তিন জন (তিনগুণ) শত্রুর মোকাবিলায় পালিয়ে আসে তবে তা পৃষ্ঠপ্রদর্শন বলে গণ্য হবে না। আর যদি কোনো মুজাহিদ দুজন (দ্বিগুণ) শত্রুর মোকাবিলায় পালিয়ে আসে তবে তা পৃষ্ঠপ্রদর্শন বলে গণ্য হবে।'

২৪৩. কায়স ইবনু সা'আদ রহ. বলেন, সায়ালতু আতাআ বনা আবি রবাইন, আন ক্বউলিহি আযযা ওয়া জাল্লা: 'ওয়া মান ইউওয়াল্লিহিম ইয়াওমায়িযিন দুবুরাহু' [আনফাল: ১৬] ক্বলা: হাযিহি মানসুখাতুন বিল আয়াতি ল্লাতি ফিল আনফাল: 'আলআনা খফফফাল্লাহু আনকুম ওয়া আ’লিমা আন্না ফীকুম দাওফান ফাইন ইয়াকুন মিনকুম মিআতু সাবিরতু ইয়ালিবু মিআতাইনি' ক্বলা: ফালাইসা লিক্বাওমিন আন ইয়াফিররু বিমিছলাইহিম, নাসাখত হাযিহিল আয়াতা হাযিহিল ইদ্দাতা।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
'আর যে লোক সেদিন তাদের থেকে পশ্চাদপসরণ করবে, অবশ্য যে লড়াইয়ের কৌশল পরিবর্তনকল্পে কিংবা যে নিজ সৈন্যদের নিকট আশ্রয় নিতে আসে সে ব্যতীত অন্যরা আল্লাহর গযব সাথে নিয়ে প্রত্যাবর্তন করবে। আর তার ঠিকানা হলো জাহান্নাম। বস্তুত সেটা হলো নিকৃষ্ট অবস্থান।' (সূরা আনফাল, ৮:১৬)
আমি আতা ইবনু আবি রাবাহ রহ.-কে এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, এই আয়াতটি সূরা আনফালের আরেকটি আয়াতের মাধ্যমে রহিত হয়ে গিয়েছে। আয়াতটি হলো,
'এখন আল্লাহ তোমাদের ওপর বোঝা হালকা করে দিয়েছেন এবং তিনি জেনে নিয়েছেন যে, তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যদি দৃঢ়চিত্ত এক শ লোক বিদ্যমান থাকে, তবে তারা জয়ী হবে দু শর ওপর। আর যদি তোমরা এক হাজার হও তবে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী জয়ী হবে দু-হাজারের ওপর আর দৃঢ়চিত্ত লোকদের সাথে আল্লাহ রয়েছেন।' (সূরা আনফাল, ৮:৬৬)
এখন আর কোনো দলের জন্য তাদের দ্বিগুণ-সংখ্যক শত্রুর মোকাবিলায় পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। পরের আয়াতটি আগের আয়াতে বর্ণিত সংখ্যাকে রহিত করে দিয়েছে।

২৪৪. আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রা. বলেন, নাযালাত: 'ইন ইয়াকুন মিনকুম ইশরুনা সাবিরুনা ইয়ালিবু মিআতাইনি' ফাশাক্ক্কা যালিকা আ’লাল মুসলিমিনা হীনা ফুরিদা আলাইহিম আল্লা ইয়াফিররা ওাহিদিম মিন আশারাতিন ক্বলা: সুম্মা ইন্নাহু জাআত তাখফীফু, ফাক্বলা: 'আলআনা খফফফাল্লাহু আনকুম ওয়া আ’লিমা আন্না ফীকুম দাওফান ফাইন ইয়াকুন মিনকুম মিআতু সাবিরতু ইয়ালিবু মিআতাইনি' ক্বলা: ফালাম্মা খফফফাল্লাহু আনহুম মিনাল ইদ্দাতা নাক্বাসা মিনাস সবরি বিক্বদরি মা খুফফিফা আনহুম।
প্রথমে এই আয়াত নাযিল হয়, 'হে নবী, আপনি মুসলমানগণকে জিহাদের জন্য উৎসাহিত করুন। তোমাদের মধ্যে যদি বিশ জন দৃঢ়পদ ব্যক্তি থাকে, তবে তারা দু শর মোকাবিলায় জয়ী হবে। আর যদি তোমাদের মধ্যে থাকে এক শ লোক, তবে জয়ী হবে হাজার কাফেরের ওপর, কারণ ওরা জ্ঞানহীন।' (সূরা আনফাল, ৮:৬৫)
তখন দশ জনের বিপরীতে এক জনের পলায়নও নিষিদ্ধ করা হলো, তখন এটা মুসলিমদের ওপর দুঃসাধ্য মনে হলো তারপর তা লাঘবের বিধান এল। নাযিল হলো,
'এখন আল্লাহ তোমাদের ওপর বোঝা হালকা করে দিয়েছেন এবং তিনি জেনে নিয়েছেন যে, তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যদি দৃঢ়চিত্ত এক শ লোক বিদ্যমান থাকে, তবে তারা জয়ী হবে দু শর ওপর। আর যদি তোমরা এক হাজার হও তবে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী জয়ী হবে দুই হাজারের ওপর আর দৃঢ়চিত্ত লোকদের সাথে আল্লাহ রয়েছেন।'
ইবনু 'আব্বাস রা. বলেন, আল্লাহ তাদের সংখ্যার দিক থেকে যখন হালকা করে দিলেন, সেই সংখ্যা হ্রাসের সমপরিমাণ তাদের ধৈর্যও হ্রাস পেল।

২৪৫. হাসান বসরী রহ. বলেন, আন্না রাজুলান কানা ফি শুরবিন আসোবা হাদ্দান, ফালাম ইয়ুক্বাম আলাইহি বাইনাহুম যালিকাল হাদ্দু, সুম্মা বাদা লাহু লিইয়ুক্বিমাহু আলাইহি, ফাম্তানাআ’ আলাইহি, ফাবাআ’সান নাবিয়্যু আল জুনুদা, ফাহুযিমাত জুনুদুহু, ফাক্বলা: ইয়া রব্বি, আবআ’ছুল জুনুদা ইলা রাজুলিম ম্্তানাআ’ মিন হাদ্দিন লিইয়ুক্বিমাহু আলাইহি, ফাতুহযামা জুনুদী, ফাক্বলা: ইন্নাকা আখখরতা, ওয়ালাকিনিবআ’সিল আনা, ফাছাতুনসোয়ারা আউ নাহওয়া হাযা।
"(পূর্ববর্তী কোনো নবীর আমলে) এক ব্যক্তি মদ্যপান করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করে। কিন্তু তৎক্ষণাৎ তার শাস্তি কার্যকর করা হয়নি। কিছুদিন পর শাস্তির বিধান কার্যকর করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে সে বিচারকার্যে বাধা সৃষ্টি করে। তখন সেই যুগের নবী তার বিরুদ্ধে একটি ছোট বাহিনী প্রেরণ করেন। কিন্তু তারা পরাজিত হয়। তখন নবী আ. বলেন, 'হে আমার রব, এক ব্যক্তি বিচারকার্যে বাধা দিয়েছে আর আমি তা বাস্তবায়নের জন্য সৈন্য পাঠালাম অথচ আমার বাহিনী কি না হেরে গেল?' আল্লাহ তাআলা বললেন, 'আপনি এতে দেরি করেছেন (তাই এমনটা হয়েছে)। এখন আবার বাহিনী পাঠান। সাহায্য লাভ করবে।' অথবা এমন কিছুই বলেছেন।"

টিকাঃ
৩০৫. সূরা আনফাল, ৮:৬৫, ৬৬
৩০৬. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: বাইহাকী, সুনানুল কুবরা, ১৮০৮১।
৩০৭. সূরা আনফাল, ৮:১৬
৩০৮. সূরা আনফাল, ৮: ৬৬
৩০৯. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: তাফসীরুত তাবারী, ১১/৮০।
৩১০. সূরা আনফাল, ৮:৬৫
৩১১. সূরা আনফাল, ৮: ৬৬
৩১২. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: সহীহ বুখারী, ৪৬৫৩।
৩১৩. সনদ দুর্বল। একাধিক মুদাল্লিস বর্ণনাকারী রয়েছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px