📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 হজ ও জিহাদ—কখন কোনটি উত্তম?

📄 হজ ও জিহাদ—কখন কোনটি উত্তম?


২৩৪. আব্দুর রহমান ইবনু গানাম আশআরী রহ. বলেন, حَجَّةٌ قَبْلَ غَزْوَةٍ خَيْرٌ مِنْ عَشْرِ غَزَوَاتٍ، وَغَزْوَةٌ بَعْدَ حَجَّةٍ خَيْرٌ مِنْ ثَمَانِينَ حَجَّةً 'জিহাদের পূর্বে একটি (ফরজ) হজ দশটি যুদ্ধে অংশ নেয়ার চেয়ে উত্তম। আর (ফরজ) হজ আদায় করার পর একটি জিহাদ আশিটি হজ হতে উত্তম।'

টিকাঃ
২৯৫. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আরও রয়েছে: আল মারাসিলু লি আবি দাউদ, ৩০৩।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 জান্নাত তরবারির ছায়ায়

📄 জান্নাত তরবারির ছায়ায়


২৩৫. একবার শত্রুসেনার উপস্থিতিতে আব্দুল্লাহ ইবনু কায়স রা. বলেন, قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنْ أَبْوَابَ الْجَنَّةِ تَحْتَ ظِلَالِ السُّيُوفِ فَقামَ رَجُلٌ رَبُّ الْهَيْئَةِ فَقَالَ: يَا أَبَا مُوسَى، أَنْتَ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُهُ؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: فَجَاءَ إِلَى أَصْحَابِهِ، فَقَالَ: أَقْرَأُ عَلَيْكُمُ السَّلَامَ، ثُمَّ كَسَرَ جَفْنَ سَيْفِهِ، فَأَلْقَاهُ، ثُمَّ مَضَى بِسَيْفِهِ قُدُمًا يَضْرِبُ بِهِ حَتَّى قُتِلَ
"রাসূল ﷺ বলেছেন, 'জান্নাতের দরজাসমূহ তরবারির ছায়ায় ঘেরা।' এটা শুনে জীর্ণশীর্ণ এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, 'হে আবু মূসা, আপনি কি স্বয়ং রাসূল ﷺ-কে এরূপ বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর লোকটি উঠে স্বীয় সঙ্গীদের নিকট গিয়ে তাদের সালাম করলেন এবং নিজের তরবারির খাপ খুলে ভেঙে ফেলে দিয়ে উন্মুক্ত তরবারি নিয়ে শত্রুর মোকাবিলায় অগ্রসর হলেন এবং অবশেষে বহু শত্রু হত্যা করে নিজে শাহাদাত লাভ করলেন।"

২৩৬. আবু ইমরান জাওনী রহ. বলেন, بَيْنَا أَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِي مَصَافُ الْعَدُوِّ بِأَصْبَهَانَ، إِذْ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ أَبْوَابَ الْجَنَّةِ تَحْتَ ظِلَالِ السُّيُوفِ فَقَامَ شَابٌ قَدْ...، فَقَالَ: كَيْفَ قُلْتَ يَا أَبَا مُوسَى؟ فَأَعَادَ عَلَيْهِ الْحَدِيثَ، فَالْتَفَتَ الشَّابُ إِلَى أَصْحَابِهِ، فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ، ثُمَّ دَখَلَ تَحْتَهَا، أَيْ تَحْتَ السُّيُوفِ
“আবু মূসা আশআরী রা. ইসপাহানে শত্রুসেনার সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, 'আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, 'জান্নাতের দরজাসমূহ তরবারির ছায়ায় ঘেরা।' এ কথা শুনে এক যুবক দাঁড়িয়ে বলল, 'হে আবু মূসা, কথাটা কীভাবে বলেছেন (আবার বলুন)?' তিনি তখন হাদীসটি আবার বললেন। যুবকটি তখন নিজের সঙ্গীদের দিকে তাকিয়ে তাদের সালাম দিলেন অতঃপর তরবারির (আক্রমণের) ভেতর ঢুকে গেলেন।”

টিকাঃ
২৯৬. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: সহীহ মুসলিম, ১৯০২।
২৯৭. সনদ হাসান।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 আল্লাহর রাস্তা হতে পৃষ্ঠ প্রদর্শনের নিন্দা

📄 আল্লাহর রাস্তা হতে পৃষ্ঠ প্রদর্শনের নিন্দা


২৩৭. আব্দুল্লাহ ইবনু আওন রহ. বলেন, ﴿كَتَبْتُ إِلَى نَافِعٍ أَسْأَلُهُ عَنْ قَوْلِهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: ﴿وَمَنْ يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ دُبُرَهُ) [الأنفال: ১৬] قَالَ: ذَلِكَ يَوْمُ بَدْرٍ
"আমি নাফি' রহ. এর নিকট নিম্নোক্ত আয়াতের প্রেক্ষাপট জানতে চেয়ে পত্র লিখি। আয়াতটি হলো,
'আর যে লোক সেদিন তাদের থেকে পশ্চাদপসরণ করবে, অবশ্য যে লড়াইয়ের কৌশল পরিবর্তনকল্পে কিংবা যে নিজ সৈন্যদের নিকট আশ্রয় নিতে আসে সে ব্যতীত অন্যরা আল্লাহর গযব সাথে নিয়ে প্রত্যাবর্তন করবে। আর তার ঠিকানা হলো জাহান্নাম। বস্তুত সেটা হলো নিকৃষ্ট অবস্থান।' (সূরা আনফাল, ৮:১৬)
উত্তরে নাফি' রহ. বলেন, 'সে দিনটি হলো বদর যুদ্ধের দিন।"

টিকাঃ
২৯৮. সূরা আনফাল, ৮:১৬
২৯৯. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: তাফসিরুত তাবারী, ১১/৭৮।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 বিশেষ উদ্দেশ্যে আল্লাহর রাস্তা হতে ফিরে আসার অনুমতি

📄 বিশেষ উদ্দেশ্যে আল্লাহর রাস্তা হতে ফিরে আসার অনুমতি


২৩৮. হাসান বসরী রহ. বর্ণিত, ﴿وَمَنْ يُوَلِّهِمْ يَوْমَئِذٍ دُبُرَهُ} [الأنفال: ১৬] قَالَ: ذَلِكَ يَوْمُ بَدْرٍ، فَأَمَّا الْيَوْمُ فَيَنْحَازُ إِلَى فِئَةٍ، أَوْ مِصْرٍ
আল্লাহ তাআলা বলেন,
'আর যে লোক সেদিন তাদের থেকে পশ্চাদপসরণ করবে, অবশ্য যে লড়াইয়ের কৌশল পরিবর্তনকল্পে কিংবা যে নিজ সৈন্যদের নিকট আশ্রয় নিতে আসে সে ব্যতীত অন্যরা আল্লাহর গযব সাথে নিয়ে প্রত্যাবর্তন করবে। আর তার ঠিকানা হলো জাহান্নাম। বস্তুত সেটা হলো নিকৃষ্ট অবস্থান।' (সূরা আনফাল, ৮:১৬)
এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, 'এই আয়াতটি বিশেষভাবে বদর যুদ্ধের সাথে সংশ্লিষ্ট। বর্তমানে (মুজাহিদগণের) কোনো দলে যোগদানের জন্য কিংবা আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে (রণক্ষেত্র হতে) কোনো শহরে ফিরে আসা যেতে পারে।'

২৩৯. মুহাম্মাদ ইবনু সিরীন রহ. বলেন, লমা বালিগা উমারা বনা খাত্তবি রদিয়াল্লাহু আনহু খবারু আবি উবাইদা, ক্বলা: ইন কুনতু লাহু লাফিয়্যাতান, লাউইন্হাযা ইলাইয়্যা।
"উমর রা. এর নিকট আবু উবাইদাহ রা. এর (ইনতিকালের) খবর পৌঁছলে তিনি বললেন, 'তিনি যদি আমার নিকট ফিরে আসতেন তবে আমি তার জন্য আশ্রয়স্থল হতাম।"

২৪০. আবু উসমান রহ. বলেন, লমা ক্বুতিলা আবু উবাইদা ক্বলা: জাআল খবারু উমারা, ফাক্বলা: ইয়া আইয়্যুহান নাছু, আনা ফিয়্যাতুকুম।
"আবু উবাইদাহ রা. ইনতিকাল করলে উমর রা.-এর নিকট এর সংবাদ পৌঁছে। তখন তিনি বলেন, 'হে লোকসকল, আমি তোমাদের (যুদ্ধক্ষেত্র হতে) ফিরে আসার আশ্রয়স্থল।'”

২৪১. ইবরাহীম নাখাঈ রহ. বলেন, আন্না উনাছান সবরু হাত্তা ক্বুতিলু। ফাক্বলা উমারু, রদিয়াল্লাহু আনহু: রহমাতুল্লাহি আলাইহিম লাউ ফাউ ইলাইয়্যা লাকুনতু লাহুম ফিয়্যাতান।
"(উমর রা.-এর আমলে আজারবাইজানে) কিছু মুজাহিদ আল্লাহর রাস্তায় দৃঢ়পদ থেকে শহীদ হন। এ খবর শুনে উমর রা. বলেন, 'তাদের ওপর আল্লাহর রহমত নাযিল হোক তারা যদি (আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে) আমার নিকট ফিরে আসতেন তবে আমি তাদের জন্য আশ্রয়স্থল হতাম।"

টিকাঃ
৩০০. সূরা আনফাল, ৮:১৬
৩০১. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: তাফসিরুত তাবারী, ১১/৭৯।
৩০২. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবাহ, ৩৩৬৮৭।
৩০৩. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবাহ, ৩৩৭৩৯।
৩০৪. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবাহ, ৩৩৬৮৯।

ফন্ট সাইজ
15px
17px