📄 এক মুসলমান ভাইয়ের জন্য অপর মুসলমানের দুআ কখন কবুল হয়?
২২০. আবু বকর সিদ্দীক রা. বলেন, إِنْ دَعْوَةَ الْأَخِ فِي اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ مُسْتَجَابَةٌ
"যে ব্যক্তি তার ভাইকে আল্লাহ তাআলার জন্য ভালোবাসে (অপর ভাইয়ের জন্য) তার দুআ কবুল হয়ে থাকে।”
টিকাঃ
২৭৯. সনদ হাসান।
📄 পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ বৈ কিছু নয়
২২১. উমর ইবনুল খাত্তাব রা. এর বিশিষ্ট খাদিম আসলাম রা. বলেন, বালিগা উমারা ইবনুল খাত্তবি রদিয়াল্লাহু আনহু আন্না আবা উবাইদাতা হুসিরা বিশশামি, ওয়া তাআল্লাবা আলাইহিল আদুউউওয়ু, ফাকাতাবা ইলাইহি উমারু: সালামুন। আম্মা বা’দু, ফাইন্নাহু মা নাযালা বিআবদিম মু’মিনিন মিন মানযিলাতি শিদ্দাতিন ইল্লা জাআলাল্লাহু বা’দাহা ফরাজান, ওয়া লাআন লা ইয়াগলিবু আসরুন ইউসরাইনি
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} [آل عمران: ২০০]
ক্বলা: ফাকাতাবা ইলাইহি আবু উবাইদাতা: সালামুন। আম্মা বা’দু, ফাইন্নাল্লাহা আযযা ওয়া জাল্লা ইয়াক্বুলু ফী কিতাবিহি {اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهُو...} [الحديد: ২০] ইলা {مَتَاعُ الْغُرُورِ} [الحديد: ২০] ক্বলা: ফাখরাজ উমারু বিকিতাবিহি মিন মাকানিহি, ফাক্বাআদা আ’লাল মিনবারি, ফাক্বারাআহু আ’লা আহলিল মদিনাতি, ফাক্বলা: ইয়া আহলাল মদিনাতি, ইন্নামা ইউআ’ররিদুন বিকুম আবু উবাইদাতা, আও আনিরগাবু ফিল জিহাদি।
“একবার উমর রা.-এর নিকট সংবাদ এল আবু উবাইদাহ রা. শামে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। আর শত্রুপক্ষ তাকে ঘিরে রেখেছে। তখন উমর রা. তাকে একটি পত্র লিখলেন। তাতে লেখা ছিল,
সালাম। পর সমাচার, মুমিন বান্দার ওপর যখন কঠিন অবস্থা নেমে আসে তার পরই আল্লাহ তাআলা তাকে প্রশস্ততা দান করেন। নিঃসন্দেহে দুটি সহজলভ্য সুখের (দুনিয়াতে প্রশস্ততা ও আখিরাতে জান্নাত লাভের) বিপরীতে একটি কষ্ট ভারী হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
'হে ঈমানদারগণ, ধৈর্যধারণ করো এবং (শত্রুর) মোকাবিলায় দৃঢ়তা অবলম্বন করো। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাকো যাতে তোমরা তোমাদের উদ্দেশ্য লাভে সমর্থ হতে পার।' (সূরা আ-লু ইমরান, ৩:২০০)
উত্তরে আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ রা. লেখেন,
সালাম। পরসমাচার, আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
"তোমরা জেনে রাখো, পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, সাজ-সজ্জা, পারস্পরিক অহমিকা এবং ধন ও জনের প্রাচুর্য ব্যতীত আর কিছু নয়, যেমন এক বৃষ্টির অবস্থা, যার সবুজ ফসল কৃষকদের চমৎকৃত করে, এরপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তাকে পীতবর্ণ দেখতে পাও, এরপর তা খড়কুটা হয়ে যায়। আর পরকালে আছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ বৈ কিছু নয়।” (সূরা হাদীদ, ৫৭:২০)
পত্র পেয়ে উমর রা. তা নিয়ে বের হলেন এবং মিম্বারে বসে মদীনাবাসীকে তা পড়ে শোনালেন এবং বললেন, 'হে মদীনাবাসী, তোমরা যেন জিহাদের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠো, তাই আবু উবাইদা তোমাদের একটু খোঁচা দিয়েছেন।"
টিকাঃ
২৮০. সূরা আ-লু ইমরান, ৩:২০০
২৮১. সূরা হাদীদ, ৫৭:২০
২৮২. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবাহ, ১৯৪৮৬।
📄 মূতার যুদ্ধে খালিদ ইবনু ওয়ালিদ রা.-এর কৃতিত্ব
২২২. খালিদ ইবনু ওয়ালিদ রা. তার বাহিনীকে রোম সাম্রাজ্যের হীরা শহর সম্পর্কে অবগত করে বলেন, লক্কাদ রাআইতুনি ইয়াওমা মু’তাতান দাতি বিইয়াদি তিসআ’তু আসইয়াফিন, ফাসাবারাত ফি ইয়াদি সোয়াফিহাতুন ইয়ামানিয়াতুন।
"মৃতার যুদ্ধে আমার হাতে নয়টি তরবারি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল। (শেষ পর্যন্ত) আমার হাতে আমার একটি প্রশস্ত ইয়ামানী তরবারিই টিকে ছিল। "
টিকাঃ
২৮৩. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: সহীহ বুখারী, ৪২৬৬।
📄 লক্ষ্যভেদ করা প্রতিটি তিরের বিনিময়ে একটি মর্যাদা
২২৩. আবু নাজীহ সুলামী রা. বলেন, হাসোরতু মা’আ রাসূলিল্লাহি ﷺ কাসরাত ত্বাইফি, ফাসামি’তু নাবিইয়াল্লাহি ﷺ ইয়াক্বুলু: মান রক্বা বিসাহমিন ফাবালাগাহু, ফালাহু দারাজাতুন ফিল জান্নাহ। ক্বলা রাজুলুন: ইয়া নাবিইয়াল্লাহি, ইন রমাতি ফাবালাগতু, ফালী দারাজাতুন? ক্বলা: না’আম। ক্বলা: ফরাক্বা, ফাবালাগা। ক্বলা: ফাবালাগতু ইয়াওমাইযিন সিত্তাতা আশারা সাহমান।
"আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে তায়েফ দুর্গ অবরোধে অংশগ্রহণ করি। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে তির নিক্ষেপ করে লক্ষ্যে বিদ্ধ করেছে, তার জন্য জান্নাতে একটি মর্যাদা রয়েছে। তখন এক ব্যক্তি বলল, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি যদি একটি তির নিক্ষেপ করে লক্ষ্যে বিদ্ধ করতে পারি তবে কি আমার জন্য একটি মর্যাদা রয়েছে?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ।' লোকটি বলল, 'আজ আমি ষোলোটি তির সঠিক নিশানায় নিক্ষেপ করেছি।”
টিকাঃ
২৮৪. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসনাদু আহমাদ, ১৯৪২৯।