📄 সফরসঙ্গীকে শর্ত প্রদান
২১৪. সালিম ইবনু আব্দিল্লাহ রা. বলেন, كَانَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ يَشْتَرِطُ عَلَى الرَّجُلِ إِذَا سَافَرَ مَعَهُ عَلَى أَنْ لَا يُسَافَرَ مَعَهُ بِجِلَالِهِ، وَلَا يُنَازِعُهُ فِي الْأَذَانِ، وَلَا النَّبِيحَةِ
"আব্দুল্লাহ ইবনু উমর রা.-এর সাথে কেউ সফরে বের হলে তিনি তাকে এই শর্ত দিতেন যে, (১) সাথে কোনো ধরনের নাপাক ভক্ষণকারী প্রাণী রাখা যাবে না (২) আযানের ব্যাপারে তার সাথে প্রতিযোগিতায় নামা যাবে না এবং (৩) জবাইর ব্যাপারেও প্রতিযোগিতায় নামা যাবে না।” অর্থাৎ আযান ও জবাইর খিদমাত তিনি নিজে করবেন।
২১৫. আবু কিলাবাহ রহ. বলেন, أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ كَانَ يُرَافِقُ أَصْحَابَهُ فِي السَّفَرِ رِفْقًا، فَجَعَلَتْ رُفْقَةٌ مِنْهُمْ يَهْرِفُونَ بِرَجُلٍ مِنْهُمْ قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا رَأَيْنَا مِثْلَهُ، إِنْ نَزَلَ فَصَلَاةٌ، وَإِنِ ارْتَحَلْنَا فَقِرَاءَةُ وَصِيَامُ لَا يُفْطِرُ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ كَانَ يَكْفِيهِ كَذَا ، قَالُوا: نَحْنُ. قَالَ: كُلُّكُمْ خَيْرٌ مِنْهُ
"রাসূল ﷺ সফরে তাঁর সঙ্গীদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে দিতেন। একবার এমন একটি দল এসে তাদের সাথে থাকা একজন সাথির (ব্যক্তিগত আমলের) খুব প্রশংসা করে বলল, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমরা তার মতো (আমলদার) লোক আর দেখিনি। কোথাও যাত্রাবিরতি দিলেই তার সালাত শুরু হয়ে যায়। যাত্রা শুরু করলে তার কণ্ঠে কিরাআতের ধ্বনি উচ্চারিত হয়। তা ছাড়া সে একাধারে সিয়াম পালন করে।' রাসূল ﷺ বললেন, 'তার এই এই কাজ কে করে দেয়?' তারা বলল, 'আমরা করে দিই।' তিনি বললেন, 'তোমরা প্রত্যেকেই তার চেয়ে উত্তম।"
টিকাঃ
২৭৩. সনদ সহীহ।
২৭৪. সনদ হাসান। কিছুটা ভিন্ন শব্দে রয়েছে: ইবনু সা'আদ, তবাকাতুল কুবরা, ৪/৬৮।
📄 সালমান ফারসী রা.-এর উপদেশ
২১৬. রজা ইবনু হাইওয়াহ রহ. বলেন, أَنْ سَلْمَانَ، قَالَ لَهُ أَصْحَابُهُ : أَوْصِنَا. قَالَ: مَنَ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَمُوتَ حَاجًا، أَوْ مُعْتَمِرًا، أَوْ غَازِيًا، أَوْ فِي نَقْلِ الْغَزَاةِ فَلْيَفْعَلْ، وَلَا يَمُوتَنَ تَاجِرًا، وَلَا جَابِيًا
"একবার সালমান ফারসী রা.-কে তার সঙ্গীগণ বললেন, 'আমাদের কিছু উপদেশ দিন।' তিনি বললেন, 'তোমাদের কেউ যদি হাজী, উমরাকারী, মুজাহিদ কিংবা আল্লাহর রাস্তার মুসাফিরদের মালামাল বহনকারী হিসেবে মৃত্যুবরণ করার সামর্থ্য লাভ করে তবে সে যেন তা-ই করে। কেউ যেন (শুধু) ব্যবসায়ী কিংবা কর আদায়কারী হিসেবে মৃত্যুবরণ না করে।"
টিকাঃ
২৭৫. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণ সকলেই নির্ভরযোগ্য। আরও রয়েছে: সুনানু সাঈদ ইবনু মানসুর, ২৯১৯।
📄 উত্তম সঙ্গী ও প্রতিবেশী
২১৭. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রা. হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন, خَيْرُ الْأَصْحَابِ عِنْدَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ خَيْرُهُمْ لِصَاحِبِهِ، وَخَيْرُ الْجِيرَانِ عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ خَيْرُهُمْ لِجَارِهِ
"আল্লাহ তাআলার নিকট উত্তম সঙ্গী হলো সেই ব্যক্তি, যে তার (সফর)-সঙ্গীদের নিকট উত্তম। এমনিভাবে আল্লাহ তাআলার নিকট উত্তম প্রতিবেশী হলো সেই ব্যক্তি, যে তার প্রতিবেশীদের নিকট উত্তম।”
টিকাঃ
২৭৬. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: ইবনু আবিদ দুনিয়া, মাকারিমুল আখলাক, ২৮১।
📄 আখিরাতের ভাবনা
২১৮. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রা. বলেন, لَخَيْرُ أَعْمَلُهُ الْيَوْমَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ مِثْلَيْهِ فِيمَا مَضَى، لَأَنَا كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ وَهِمَتُنَا الْآخِرَةُ، وَلَا تَهُمُنَا الدُّنْيَا، وَإِنَّا الْيَوْমَ قَدْ مَالَتْ بِنَا الدُّنْيَا
"আজকের দিনে একটি নেক আমল করা আমার নিকট বিগত সময়ের দ্বিগুণ আমলের চেয়ে অধিক পছন্দনীয়। রাসূল ﷺ-এর সময়ে আমাদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল আখিরাত। দুনিয়া আমাদের ভাবনাতে ছিল না। অথচ এখন আমরা দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে গিয়েছি।”
টিকাঃ
২৭৭. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: ইমাম তাবরানী, মু'জামুল কাবীর, ১৩/২৩ [৪৩]।