📄 সমুদ্রপথে সফর সম্পর্কে উমর রা.-এর সিদ্ধান্ত
২০৩. ইবনু হুবাইরাহ রহ. বলেন,
"মুআওয়িয়াহ ইবনু আবি সুফিয়ান রা. উমর রা.-এর দরবারে নৌ অভিযানের অনুমতি চেয়ে পত্র পাঠান। তিনি তাতে আমীরুল মুমিনীন রা.-কে এই মর্মে অবহিত করেন যে, তার মাঝে আর কুবরুসের (সাইপ্রাস অঞ্চলের) মাঝে সমুদ্রপথে মাত্র দু-দিনের দূরত্ব। আমীরুল মুমিনীন চাইলে আমরা সেখানে অভিযান চালাব এবং আল্লাহ তাআলা আমার হাতে সেখানে বিজয় দান করবেন।'
পত্র পেয়ে উমর রা. জানতে চাইলেন, সমুদ্র সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানে কে? বলা হলো আমর ইবনুল আস রা. জানেন। তিনি একাধিকবার সমুদ্রপথে আবিসিনিয়া সফর করেছেন। উমর রা. তার নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বললেন, আমীরুল মুমিনীন, সমুদ্রপৃষ্ঠে মানুষের উদাহরণ হলো বিশাল বৃক্ষের দেহে সামান্য কীট-পতঙ্গের মতো। স্থির থাকলেও ডুবতে পারে। অস্থির হলেও ডুবে যেতে পারে।' এই কথা শুনে উমর রা. বললেন, 'আল্লাহর শপথ! আমি বেঁচে থাকতে কোনো মুসলমানকে সমুদ্রে (অভিযানে) বের হতে দেব না।"
টিকাঃ
২৬২. সনদ দুর্বল। তবে আমর ইবনুল আস রা. এর সাথে মতবিনিময় করে উমর রা. এর সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি প্রমাণিত। ইবনু সা'আদ, তবাকাতুল কুবরা, ৩/২৮৫।
📄 ছয়টি আমলের বিনিময় আট জন হুরে ঈন
২০৪. মূসা ইবনু আইয়ুব গাফিকী রহ. বলেন, একলোক আমাকে বলেছেন,
"আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনিল আস রা.-এর একজন মুক্তিপ্রাপ্ত দাস তার নিকট এসে বললেন, 'আমি নৌ অভিযানে যেতে চাই। আপনি আমাকে কিছু উপদেশ দিন।' তিনি বললেন, 'তুমি বরং স্থল অভিযানেই অংশ নাও। তুমি কাউকে কষ্ট দিয়ো না। তোমাকেও কেউ কষ্ট দেবে না।' দাস বলল, 'কিন্তু আমি সমুদ্র অভিযানে বের হতে চাই।' আব্দুল্লাহ রা. বললেন, 'তুমি যদি ছয়টি কাজ ঠিকমতো করতে পার তবে এর বিনিময়ে তোমার জন্য আটটি হুরে ঈন ওয়াজিব হবে। (১) গনীমতের মাল আত্মসাৎ কোরো না (২) অন্য কেউ আত্মসাৎ করলে তা গোপন করবে না (৩) কোনো প্রতিবেশীকে কষ্ট দেবে না (৫) কোনো যিম্মিকে (চুক্তিবদ্ধ কাফিরকে) কষ্ট দেবে না (৬) কোনো ইমামকে গালমন্দ করবে না (৭) (রণক্ষেত্র ছেড়ে) পলায়ন করবে না এবং (৮) (আল্লাহ ও দ্বীনের ব্যাপারে) ভয় করবে।"
টিকাঃ
২৬৩. সনদ দুর্বল। অজ্ঞাত বর্ণনাকারী রয়েছেন।
📄 সমুদ্র অভিযানের চেয়ে পছন্দনীয় কাজ
২০৫. আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রা. বলেন,
"নিরীহ ও বাধ্য উটের পিঠে চড়ে যুদ্ধ করা আমার কাছে সমুদ্র অভিযানে বের হওয়ার চেয়ে অধিক পছন্দনীয়।"
টিকাঃ
২৬৪. সনদ সহীহ।
📄 আল্লাহর রাস্তায় সাথিদের খিদমাতের গুরুত্ব ও ফযীলত
২০৬. উলাই ইবনু রাবাহ রহ. তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
"রাসূল ﷺ যখন কোনো ব্যক্তিকে তার সঙ্গী-সাথিদের খিদমাত করতে দেখতেন তখন তার জন্য রহমতের দুআ করতেন।"
২০৭. যায়িদ ইবনু আসলাম রহ. বলেন,
"সফরের সময় জামাআতের আমীরই তাদের সেবক।"
২০৮. মুজাহিদ রহ. বলেন,
"আমি ইবনু উমর রা.-এর খিদমাত করার জন্য তার সান্নিধ্যে ছিলাম। অথচ তিনি নিজেই আমার খিদমাত করতেন।"
টিকাঃ
২৬৫. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আরও রয়েছে: হান্নাদ ইবনুস সাররি, কিতাবুয যুহদ, ২/৪০৭।
২৬৬. সনদ দুর্বল। আব্দুর রহমান ইবনু যায়িদ ইবনি আসলাম দুর্বল রাবী। আরও রয়েছে: বাইহাকী, শুআবুল ঈমান, ৮০৫০।
২৬৭. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: ইবনু আবিদ দুনিয়া, মাকারিমুল আখলাক, ৩১৮।