📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 নৌ অভিযানের ফযীলত

📄 নৌ অভিযানের ফযীলত


১৯৬. আলকামাহ ইবনু শিহাব কুশাইরী রহ. বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন,
"যে ব্যক্তি আমার সাথে যুদ্ধে শরীক হতে পারেনি সে যেন নৌ অভিযানে অংশগ্রহণ করে। কেননা, জলপথে একদিনের লড়াই স্থলে দুই দিন লড়াই করার সমতুল্য। নৌপথে একজন শহীদের সাওয়াব স্থলে দুজন শহীদের সমপরিমাণ। আল্লাহ তাআলার নিকট সবচেয়ে উত্তম শহীদ হলো 'আসহাবুল কাফ'। বলা হলো, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, 'আসহাবুল কাফ' কারা?' তিনি বললেন, 'যে সকল মুজাহিদের নৌযান তাদের নিয়ে উল্টে যায়।'

১৯৭. আব্দুর রহমান ইবনু হুযাইরাহ রহ. বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন,
"যে ব্যক্তি আমার সাথে যুদ্ধে শরীক হতে পারেনি সে যেন নৌ অভিযানে অংশগ্রহণ করে।"

১৯৮. উকবা ইবনু আমীর রা. হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন,
"পাঁচটি বিষয় এমন রয়েছে যেগুলোর যেকোনো একটিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি শহীদ বলে গণ্য হবে। (১) আল্লাহর রাস্তায় নিহত ব্যক্তি শহীদ (২) আল্লাহর রাস্তায় পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি শহীদ (৩) আল্লাহর রাস্তায় মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি শহীদ (৪) আল্লাহর রাস্তায় পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি শহীদ এবং (৫) আল্লাহর রাস্তায় প্রসবজনিত কারণে মৃত্যুবরণকারিণী শহীদ।"

১৯৯. আবুল আসওয়াদ রহ. বলেন,
"আমীরুল মুমিনীন মুআওয়িয়াহ রা.-এর শাসনকালে আমি নৌপথে যুদ্ধ করেছি। আমার সাথে তখন আবু আইয়্যুব আনসারী রা.-ও ছিলেন।
বর্ণনাকারী ইবনু লাহিয়াহ বলেন, আবু কাবীল রহ. বলেছেন, 'উসমান রা.-এর খিলাফতকালে মুআওয়িয়াহ রা. রুদুস নামক (রোমান দ্বীপ) এলাকায় ছিলেন। তার সাথে কা'আব আহবার রা. ছিলেন।"

টিকাঃ
২৫৪. সনদ মুরসাল এবং দুর্বল। বর্ণনাকারী সাঈদ ইবনু আব্দিল আযীয শেষ বয়সে এসে কিছু ভুল করেছেন। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবাহ, ১৯৪০৫।
২৫৫. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আগের বর্ণনায় সমার্থক বক্তব্য রয়েছে।
২৫৬. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: সুনানু নাসাঈ, ৩১৬৩।
২৫৭. সনদ গ্রহণযোগ্য। ইবনু লাহিয়া হাদীসের ক্ষেত্রে কিছুটা দুর্বল হলেও ঘটনা ও সিয়ারের ক্ষেত্রে তিনি মাকবুল।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 নৌ অভিযান সম্পর্কে রাসূল ﷺ-এর স্বপ্ন এবং উম্মু হারাম রা. এর জন্য দুআ

📄 নৌ অভিযান সম্পর্কে রাসূল ﷺ-এর স্বপ্ন এবং উম্মু হারাম রা. এর জন্য দুআ


২০০. মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু হাব্বান রহ. বলেন,
"রাসূল ﷺ প্রায়ই উম্মু হারাম রা.-এর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। সেখানে তিনি কাইলুলাহ (যুহরের আগে খানা খেয়ে বিশ্রাম) করতেন। একদিন তিনি সেখানে ঘুমালেন। কিছুক্ষণ পরে তিনি হাসতে হাসতে সজাগ হলেন। উম্মু মিলহান রা. জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কী কারণে হাসছেন? তিনি বললেন, স্বপ্নে আমার উম্মাতের কিছু লোককে দেখে আমি আনন্দিত হয়েছি। আমার সামনে তাদের এমনভাবে দেখানো হয়েছে যে, তারা বাদশাহের মতো সিংহাসনে আসীন হয়ে এই সবুজ সমুদ্রের (পারস্য উপসাগরের) মাঝে আল্লাহর রাস্তায় অভিযানে বের হয়েছে। (উম্মু হারাম রা. বলেন,) তখন আমি বললাম, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনি দুআ করুন যেন আল্লাহ তাআলা আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন।' তিনি বললেন, 'তুমি প্রথম বাহিনীরই মধ্যে শামিল থাকবে। শেষোক্ত এই দলে নও।'

বর্ণনাকারী ইয়াহইয়া ইবনু হিব্বান রহ. বলেন, 'রাসূল ﷺ-এর পক্ষ হতে এই বর্ণনাটি আমার কাছে পৌঁছলেও উম্মু হারাম রা.-এর শেষ পরিণাম কী হয়েছিল তা আমার জানা ছিল না। অবশেষে একদিন আনাস ইবনু মালিক রা. আমাদের নিকট আসলেন। উম্মু হারাম রা. ছিলেন আনাস রা. এর আপন খালা। আমি মনে মনে বললাম, 'আমার জীবনের শপথ! আনাস ইবনু মালিক রা. এই বিষয়ে অবগত থাকবেন। এই ভেবে আমি তার নিকট উপস্থিত পুরো বিষয়টি জানতে চাইলাম যে, কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে?' আনাস রা. বললেন, 'তিনি তো জান্নাতে অবতরণ করেছেন। মূল কথা হলো, আমার খালা তার চাচাত ভাই উবাদা ইবনু সামিত রা. এর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। উবাদা রা. তাকে নিয়ে শামে চলে যান। মুআওয়িয়াহ রা. যখন নৌ-যুদ্ধে বের হন তখন তারাও তাতে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধ শেষে যখন তারা উপকূলে ফিরে আসেন তখন উম্মু হারাম রা.-এর জন্য একটি বাহনের ব্যবস্থা করা হলে তিনি তাতে চড়ে বসেন। কিছুদূর যাওয়ার পর তাকে বহনকারী সাওয়ারিটি তাকে ফেলে দেয়। এতে তিনি পড়ে যান এবং পরিবারের লোকজনের কাছে পৌঁছার আগে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।'

২০১. আনাস ইবনু মালিক রা. বলেন,
"রাসুলুল্লাহ ﷺ যখন কুবায় গমন করতেন, তখন তিনি উম্মু হারাম বিনতু মিলহান রা.-এর নিকট যেতেন। তিনি তাঁকে আহার করাতেন। আর উম্মু হারাম বিনতু মিলহান ছিলেন উবাদা ইবনু সামিতের স্ত্রী। একবার তিনি তাঁর বাড়িতে গেলে উম্মু হারাম তাঁকে আহার করালেন। এরপর তিনি বসে সালাত আদায় করছিলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ তখন নিদ্রামগ্ন হলেন। এরপর তিনি হাসতে হাসতে জাগ্রত হলেন। উম্মু হারাম বলেন, আমি তাঁকে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনার হাসার কারণ কী? তিনি বললেন, আমার উম্মতের কিছুসংখ্যক লোককে আমাকে দেখানো হলো, যারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার জন্য অথৈ সাগরে (নৌযানে) আরোহণ করবে, তারা সিংহাসনে উপবিষ্ট বাদশাহ। রাবী ইসহাক রহ. বলেন, অথবা তিনি বলেছেন, তারা সিংহাসনে উপবিষ্ট বাদশাহদের ন্যায়। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আল্লাহর নিকট দুআ করুন, তিনি যেন আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ তার জন্য দুআ করে আবার নিদ্রা গেলেন। হারিস রহ. বলেন, নিদ্রা যাওয়ার পর তিনি আবার হাসতে হাসতে জাগলেন, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনার হাসার কারণ কী? তিনি বললেন, আমার উম্মতের কিছু লোককে আমাকে দেখানো হলো, তারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেছে, যেমন সিংহাসনের ওপর বাদশাহ অথবা সিংহাসনে আসীন বাদশাহর মতো, যেভাবে প্রথমবার বলেছিলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আল্লাহর নিকট দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে এদের মধ্যে শামিল করেন। তিনি বললেন, না, তুমি প্রথম দলে থাকবে। উম্মু হারাম মুআওয়িয়াহ রা.-এর শাসনকালে (ইস্তাম্বুল অভিযানে) সাগরে (নৌযানে) আরোহণ করেছিলেন, এরপর সমুদ্র হতে ফিরে আসার পর তিনি তার সাওয়ারির ওপর হতে পড়ে গিয়ে শহীদ হন।"

টিকাঃ
২৫৮. রাসূল ﷺ সেখানে দু-বার এমন স্বপ্ন দেখেন। বর্ণনাকারী এখানে দ্বিতীয়বারের কথা উল্লেখ করেছেন। রাসূল ﷺ প্রথম বারই উম্মু হারাম রা.-এর জন্য দুআ করেন।
২৫৯. সনদ মুরসাল। তবে পরের বর্ণনায় সহীহ সনদে এই বর্ণনার সমর্থন পাওয়া যায়।
২৬০. সনদ সহীহ। একই সূত্রে আছে: সহীহ বুখারী, ৬২৮২। এখানে পূর্ণ উল্লেখ না করে শুধু ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাঠকের সুবিধার্থে পূর্ণ বর্ণনার অনুবাদ তুলে ধরা হয়েছে।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 সমুদ্রপথে আল্লাহর রাস্তায় সফরের গুরুত্ব

📄 সমুদ্রপথে আল্লাহর রাস্তায় সফরের গুরুত্ব


২০২. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রা. বলেন,
"সমুদ্রপথে একটি অভিযান আমার কাছে এক কিনতার (স্বর্ণ-রৌপ্যের স্তূপ) পরিমাণ (দানকৃত) সম্পদ কবুল হওয়া হতেও অধিক পছন্দনীয়।"

টিকাঃ
২৬১. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবাহ, ১৯৪০৪

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 সমুদ্রপথে সফর সম্পর্কে উমর রা.-এর সিদ্ধান্ত

📄 সমুদ্রপথে সফর সম্পর্কে উমর রা.-এর সিদ্ধান্ত


২০৩. ইবনু হুবাইরাহ রহ. বলেন,
"মুআওয়িয়াহ ইবনু আবি সুফিয়ান রা. উমর রা.-এর দরবারে নৌ অভিযানের অনুমতি চেয়ে পত্র পাঠান। তিনি তাতে আমীরুল মুমিনীন রা.-কে এই মর্মে অবহিত করেন যে, তার মাঝে আর কুবরুসের (সাইপ্রাস অঞ্চলের) মাঝে সমুদ্রপথে মাত্র দু-দিনের দূরত্ব। আমীরুল মুমিনীন চাইলে আমরা সেখানে অভিযান চালাব এবং আল্লাহ তাআলা আমার হাতে সেখানে বিজয় দান করবেন।'
পত্র পেয়ে উমর রা. জানতে চাইলেন, সমুদ্র সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানে কে? বলা হলো আমর ইবনুল আস রা. জানেন। তিনি একাধিকবার সমুদ্রপথে আবিসিনিয়া সফর করেছেন। উমর রা. তার নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বললেন, আমীরুল মুমিনীন, সমুদ্রপৃষ্ঠে মানুষের উদাহরণ হলো বিশাল বৃক্ষের দেহে সামান্য কীট-পতঙ্গের মতো। স্থির থাকলেও ডুবতে পারে। অস্থির হলেও ডুবে যেতে পারে।' এই কথা শুনে উমর রা. বললেন, 'আল্লাহর শপথ! আমি বেঁচে থাকতে কোনো মুসলমানকে সমুদ্রে (অভিযানে) বের হতে দেব না।"

টিকাঃ
২৬২. সনদ দুর্বল। তবে আমর ইবনুল আস রা. এর সাথে মতবিনিময় করে উমর রা. এর সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি প্রমাণিত। ইবনু সা'আদ, তবাকাতুল কুবরা, ৩/২৮৫।

ফন্ট সাইজ
15px
17px