📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 শামের (সিরিয়া অঞ্চলের) জন্য সুসংবাদ

📄 শামের (সিরিয়া অঞ্চলের) জন্য সুসংবাদ


১৯১. আবু ইদরীস মাদানী রহ. বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, ইন্নাকুম সাতাজান্নাদূনা আজনাদান: জুনদান বিশশামি, ওয়া জুনদান বিল ইরাকি, ওয়া জুনদান বিল ইয়ামানি। ফাক্বলাল ইবনুল খাওলানি: আখবিরনী ইয়া রাসূলাল্লাহ. ফাক্বলা: ওয়া আলাইকা বিশশামি, ফামান আবা ফালইয়ালহাকু বিয়ামানিহি, ওয়ালিয়াসতাক্বি বিগাদারহি, ফাইন্নাল্লাহা আযযা ওয়া জাল্লা তাকাফফালা লী বিশশামি ওয়া আহলিহা।

"অচিরেই তোমরা কয়েক দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে। একদল থাকবে শামে (সিরিয়া অঞ্চলে), একদল ইরাকে আরেক দল ইয়ামানে। আবু মুসলিম খাওলানী রা. বললেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, (কোথায় থাকলে ভালো হবে তা) আমাকে জানিয়ে দিন।' রাসূল ﷺ বললেন, 'তুমি শামে থেকো। আর যে শামে থাকতে পারবে না সে যেন ইয়ামানে থাকে এবং সেখানকার জলাধার হতে পানি পান করে। কেননা, আল্লাহ তাআলা আমার জন্য শাম ও ইয়ামানবাসীর ব্যাপারে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।”²⁴⁹

১৯২. সাফওয়ান ইবনু আব্দিল্লাহ ইবনি সাফওয়ান রহ. বলেন, আন্না রাজুলান ক্বলা ইয়াওমা সিফফীনা: আল্লাহুম্মাল আ’ন আহলাশ শামি। ফাক্বলা আ’লিইউন: লা তাসুব্বু আহলাশ শামি জাম্মান গাফীরান, ফাইন্নাহু ফীহিম ক্বাওমান কারিহুনা লিমা তারওনা, ওয়া ইন্না ফীহিমুল আবদালু।

"সিফফীনের লড়াইয়ের দিন এক ব্যক্তি বলল, 'হে আল্লাহ, আপনি শামবাসীর প্রতি লানত বর্ষণ করুন।' এ কথা শুনে আলী রা. বলেন, 'শামের বিশাল জনগোষ্ঠীকে গালমন্দ কোরো না। কারণ, তাদের মধ্যে এমন অনেক লোক রয়েছেন, যারা তোমরা (আজ) যা দেখতে পাচ্ছ তা পছন্দ করেন না। তাদের মধ্যে অনেক আবদাল (আল্লাহ তাআলার বিশেষ বান্দা) রয়েছেন।”²⁵⁰

১৯৩. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রা. বলেন, লাইয়াতিন্না আ’লান নাছি যামানুন লা ইয়াবকা মু’মিনুন ইল্লা লাহািক্বা বিশশামি।

"মানুষের সামনে এমন এক সময় অবশ্যই আসবে যখন মুমিন-মাত্রই শামে চলে যাবে।”²⁵¹

টিকাঃ
২৪৯. সনদ সহীহ, আরও রয়েছে: সহীহ ইবনু হিব্বান, ৭৩০৬।
২৫০. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: জামিউ মা'মার ইবনি রাশিদ, ২০৪৫।
২৫১. সনদ মাওকূফ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু ইবনি শাইবাহ, ১৯৪৪৫।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 হিজরতের ভূমিতে খরচের সাওয়াব সাত শ গুণ বেশি

📄 হিজরতের ভূমিতে খরচের সাওয়াব সাত শ গুণ বেশি


১৯৪. উসমান ইবনু আফফান রা. বলেন,
"হিজরতের ভূমিতে খরচের সাওয়াব সাত শ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। হে শামে হিজরতকারী মুহাজিরগণ, তোমাদের কেউ যদি এক দিরহাম পরিমাণ মূল্যের খাদ্য ক্রয় করে নিজে খায় বা পরিবারকে খাওয়ায় তাতে তার সাওয়াব সাত শ গুণ বেশি হবে।"

টিকাঃ
২৫২. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: ইবনুল আসাকীর, তারীখু মাদীনাতি দিমাশক, ১/২৪৭।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 উম্মাতের বিশেষ সাত ব্যক্তি

📄 উম্মাতের বিশেষ সাত ব্যক্তি


১৯৫. আবু কিলাবাহ রহ. হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন,
"আমার উম্মাতের মধ্যে সব সময় এমন সাত জন ব্যক্তি থাকবেন, যারা কোনো বিষয়ে আল্লাহ তাআলার দরবারে দুআ করলে তা কবুল করা হয়। তাদের (আমল ও কবুলিয়্যাতের) কারণে তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে থাকো এবং বৃষ্টি পেয়ে থাকো। বর্ণনাকারী বলেন, 'আমার মনে হয় রাসূল ﷺ এ কথাও বলেছেন যে, 'তাদের কারণেই তোমাদের বিপদাপদ দূর করে দেয়া হয়।"

টিকাঃ
২৫৩. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আরও রয়েছে: আল মারাসিলু লি-আবি দাউদ, ৩০৯।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 নৌ অভিযানের ফযীলত

📄 নৌ অভিযানের ফযীলত


১৯৬. আলকামাহ ইবনু শিহাব কুশাইরী রহ. বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন,
"যে ব্যক্তি আমার সাথে যুদ্ধে শরীক হতে পারেনি সে যেন নৌ অভিযানে অংশগ্রহণ করে। কেননা, জলপথে একদিনের লড়াই স্থলে দুই দিন লড়াই করার সমতুল্য। নৌপথে একজন শহীদের সাওয়াব স্থলে দুজন শহীদের সমপরিমাণ। আল্লাহ তাআলার নিকট সবচেয়ে উত্তম শহীদ হলো 'আসহাবুল কাফ'। বলা হলো, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, 'আসহাবুল কাফ' কারা?' তিনি বললেন, 'যে সকল মুজাহিদের নৌযান তাদের নিয়ে উল্টে যায়।'

১৯৭. আব্দুর রহমান ইবনু হুযাইরাহ রহ. বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন,
"যে ব্যক্তি আমার সাথে যুদ্ধে শরীক হতে পারেনি সে যেন নৌ অভিযানে অংশগ্রহণ করে।"

১৯৮. উকবা ইবনু আমীর রা. হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন,
"পাঁচটি বিষয় এমন রয়েছে যেগুলোর যেকোনো একটিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি শহীদ বলে গণ্য হবে। (১) আল্লাহর রাস্তায় নিহত ব্যক্তি শহীদ (২) আল্লাহর রাস্তায় পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি শহীদ (৩) আল্লাহর রাস্তায় মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি শহীদ (৪) আল্লাহর রাস্তায় পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি শহীদ এবং (৫) আল্লাহর রাস্তায় প্রসবজনিত কারণে মৃত্যুবরণকারিণী শহীদ।"

১৯৯. আবুল আসওয়াদ রহ. বলেন,
"আমীরুল মুমিনীন মুআওয়িয়াহ রা.-এর শাসনকালে আমি নৌপথে যুদ্ধ করেছি। আমার সাথে তখন আবু আইয়্যুব আনসারী রা.-ও ছিলেন।
বর্ণনাকারী ইবনু লাহিয়াহ বলেন, আবু কাবীল রহ. বলেছেন, 'উসমান রা.-এর খিলাফতকালে মুআওয়িয়াহ রা. রুদুস নামক (রোমান দ্বীপ) এলাকায় ছিলেন। তার সাথে কা'আব আহবার রা. ছিলেন।"

টিকাঃ
২৫৪. সনদ মুরসাল এবং দুর্বল। বর্ণনাকারী সাঈদ ইবনু আব্দিল আযীয শেষ বয়সে এসে কিছু ভুল করেছেন। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবাহ, ১৯৪০৫।
২৫৫. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আগের বর্ণনায় সমার্থক বক্তব্য রয়েছে।
২৫৬. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: সুনানু নাসাঈ, ৩১৬৩।
২৫৭. সনদ গ্রহণযোগ্য। ইবনু লাহিয়া হাদীসের ক্ষেত্রে কিছুটা দুর্বল হলেও ঘটনা ও সিয়ারের ক্ষেত্রে তিনি মাকবুল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px