📄 তিনটি চোখ কখনো (জাহান্নামের) আগুনে দগ্ধ হবে না
১৮৯. আবু ইমরান আনসারী রা. হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন, সালাসাতু আ’ইউনিন লা তাহরিকুহুমুন নারু আবাদান: আই’নুন বকাত মিন খাশ ইয়াতিল্লাহি, ওয়া আই’নুন সাহিরাত বিকিতাবিল্লাহি, ওয়া আই’নুন হারাসাত ফী সাবীলিল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা।
"তিনটি চোখ কখনো (জাহান্নামের) আগুনে দগ্ধ হবে না। (১) যে চোখ আল্লাহর ভয়ে কাঁদে। (২) যে আল্লাহর কিতাব নিয়ে (কুরআন তিলাওয়াতে) জাগ্রত থাকে। (৩) আর যে চোখ আল্লাহর রাস্তায় পাহারা দেয়।”²⁴⁷
১৯০. জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ রা. বলেন, খরাজনা মা’আ রাসূলিল্লাহি ﷺ ফী গাযওয়াতি যাতুর রিকা’ই, ফাআসোয়াা বা রাজুলুম মিনাল মুসলিমিনা ইমরাআতা রাজুলিম মিনাল মুশরিকীনা, ফালাম্মা আন রাআ রাসূলুল্লাহি ﷺ ক্বাফিলান, ওয়া জাআ যাওজুহা, ওয়া কানা গা-ইবান, ফাহালাফা আল্লা ইয়ান্তাহিয়া হাত্তা ইউহরীকা দামাম মিন আসোহাবি মুহাম্মাদিন ﷺ, ফাখরাজা ইয়াতবাউ’ আসোয়ারান নাবিয়্যি ﷺ, ফানাযাআল নাবিয়্যু ﷺ মানযিলান, ফাক্বলা: মান রাজুলুন ইয়াকলাউনা লাইলাতানা হাযিহি? ফান্তুদিবা রাজুলুম মিনাল মুহাজিরীনা, ওয়া রাজুলুম মিনাল আনসোয়ারি, ফাক্বলু: নাহনু ইয়া রাসূলাল্লাহ. ক্বলা: ফাকুনা বিফাম্মিশ শিবই’। ক্বলা: ফাকানূ নাযালু ইলা শিবই’ম মিনাল ওয়াদী, ফালাম্মা খরাজার রাজুলানি ইলা ফাম্মিশ শিবই’, ক্বলাল আনসোয়ারিয়্যু লিলমুহাজিরী: আইয়্যুল লাইলি আহাব্বা ইলাইকা আন আকফী কাহু, আউওয়ালাহু আও আ-খিরাহু? ক্বলা: আকফিনী আউওয়ালাহু. ক্বলা: ফাদ্বতোয়াজাউ’ল মুহাজিরিয়্যু, ফানামা, ওয়া ক্বামাল আনসোয়ারিয়্যু ইউসোয়াল্লী. ক্বলা: ওয়া আতর রাজুলু, ফালাম্মা রাআ শাখসোয়ার রাজুলি, আরাফা আন্নাহু রবীনাতুল ক্বাওমি, ফরামা-হু বিসাহমিন ফাওয়াদোয়াআ’হু ফীহি, ফান্তাযাআ’হু, ফাওয়াদোয়াআ’হু, ওয়া সাবাতা ক্বা-ইমান, সুম্মা রমা-হু বিসাহমিন আখারিন, ফাওয়াদোয়াআ’হু ফীহি, ফানাযাআ’হু, ফাওয়াদোয়াআ’হু, ওয়া সাবাতা ক্বা-ইমান, সুম্মা আ’দা লাহু বিসালিছিন, ফাওয়াদোয়াআ’হু ফীহি, ফান্তাযাআ’হু, ফাওয়াদোয়াআ’হু, সুম্মা রকাআ’ ওয়া সাজাদা, সুম্মা আহাব্বা সোয়াাহিবাহু, ফাক্বলা: ইজলিস, ফাক্বাদ আসবাতু. ফাওয়াাসোবা, ফালাম্মা রাআহুমান রাজুলু, আরাফা আন্নাহু ক্বাদ নাযারু বিহি ফাহারাবা, ফালাম্মা রাআল মুহাজিরিয়্যু মা বিল আনসোয়ারি মিনাদ দিমা-ই ক্বলা: সুবহানাল্লাহ, আল্লা আনবাহতানি আউওয়ালা মা রমাকা, ক্বলা কুনতু ফী সূরাতিন আক্বরাউহা, ফালম উহিব্ব আন আক্বতোয়াআ’হা হাত্তা উনফিযাহা, ফালাম্মা তবাআ আ’লার রমিয়্যা, রকা’তু, ফাআযান্তুকা ওয়াইমুল্লাহি, লাউলা আন্নী খাশীতু আন উদ্বোইয়া’ সাগরাম আমরণী রাসূলুল্লাহি ﷺ বিহফযিহি লাকুত্বিআ’ নাফসী ক্বাবলা আন আক্বতোয়াআ’হা আও উনফিযাহা।
"আমরা রাসূল ﷺ-এর সঙ্গে যাতুর রিক্কা' যুদ্ধাভিযানে বের হলাম। তখন এক ব্যক্তি মুশরিকদের এক লোকের স্ত্রীকে হত্যা করে। ফলে ওই মুশরিক এ বলে শপথ করে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত মুহাম্মাদের কোনো সাথির রক্তপাত না করব, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি ক্ষান্ত হব না। অতএব সে রাসূল ﷺ-এর সন্ধানে বেরিয়ে পড়ল। রাসূল ﷺ এক জায়গায় অবতরণ করে বললেন, এমন কে আছ, যে আমাদের পাহারা দেবে? তখন মুহাজিরদের থেকে একজন এবং আনসারদের থেকে একজন তৈরি হয়ে গেলেন। তিনি বললেন, তোমরা দুজন গিরিপথের চূড়ায় অবস্থান করো। তখন উভয়ে গিরিমুখে পৌঁছলে আনসারী সাহাবী মুহাজির সাহাবীকে বললেন, রাতের কোন অংশে আপনাকে আমি বিশ্রামের সুযোগ করে দেব তা বলুন? প্রথম অংশে নাকি শেষ অংশে? মুহাজির সাহাবী বললেন, আমাকে প্রথম অংশে সুযোগ দিন। এই বলে মুহাজির লোকটি ঘুমিয়ে পড়েন। আর আনসারী লোকটি দাঁড়িয়ে সালাত আদায়ে মশগুল হন।
এমন সময় ওই লোকটি এসে আনসারী লোকটিকে দেখেই চিনে ফেলল। সে বুঝতে পারল তিনি (প্রতিপক্ষের) নিরাপত্তা প্রহরী। অতএব সে তার প্রতি একটি তির নিক্ষেপ করল, যা তার দেহে বিঁধে গেল। তিনি তা টেনে বের করে নিলেন এবং আগের মতোই দাঁড়িয়ে রইলেন। সে আবার একটি তির নিক্ষেপ করল এবং তা সাহাবীর গায়ে বিদ্ধ হলো। এবারও তিনি তির টেনে খুলে নিলেন এবং সালাতে দাঁড়িয়ে রইলেন। এবার সে আরও একটি তির নিক্ষেপ করল। তিরটি এসে গায়ে বিঁধল। এবারও তিনি তির খুলে ফেলে দিলেন। আর রুকু-সিজদা আদায় করে (সালাত শেষ করে) সাথিকে জাগিয়ে বললেন, উঠে বসুন। আমি আর দাঁড়াতে পারছি না। মুহাজির সাহাবী উঠে বসলেন। মুশরিক লোকটি দুজনকে দেখতে পেয়ে ভাবল সাহাবীগণ সর্তক হয়ে গিয়েছেন, এটা টের পেয়ে সে পালিয়ে গেল। মুহাজির সাহাবী আনসার সাহাবীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে বললেন, সুবহানাল্লাহ! প্রথম তির নিক্ষেপের পরই আমাকে সর্তক করেননি কেন? তিনি বললেন, আমি (সালাতে) এমন একটি সূরা তিলাওয়াত করছিলাম, যা শেষ না করে সালাত শেষ করতে চাচ্ছিলাম না। কিন্তু লোকটি যখন একের পর এক তির নিক্ষেপ করে যাচ্ছিল তখন আমি রুকু-সিজদা করে (সালাত শেষে) আপনাকে জাগিয়ে তুলি। আল্লাহর শপথ! রাসূল ﷺ আমাকে পাহারার যে দায়িত্ব প্রদান করেছেন, তা ভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে হয়তো আমি সূরাটি শেষ করতাম অথবা এর আগেই সে আমাকে হত্যা করত।"
টিকাঃ
২৪৭. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: ইমাম দীনওয়ারী, আল মুজালাসাতু ওয়া জাওয়াহিরুল ইলম, ২৫১।
২৪৮. সনদ হাসান লিগাইরিহ। আরও রয়েছে: সুনানু আবি দাউদ, ১৯৮। কোনো কোনো বর্ণনামতে সাহাবী সূরা কাহফ তিলাওয়াত করছিলেন। ওয়াকিন্দী, কিতাবুল মাগাযী, ১/৩৯৭; বাইহাকী, দালাইলুন নবুওয়াহ, ৩/৩৭৯।
📄 শামের (সিরিয়া অঞ্চলের) জন্য সুসংবাদ
১৯১. আবু ইদরীস মাদানী রহ. বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, ইন্নাকুম সাতাজান্নাদূনা আজনাদান: জুনদান বিশশামি, ওয়া জুনদান বিল ইরাকি, ওয়া জুনদান বিল ইয়ামানি। ফাক্বলাল ইবনুল খাওলানি: আখবিরনী ইয়া রাসূলাল্লাহ. ফাক্বলা: ওয়া আলাইকা বিশশামি, ফামান আবা ফালইয়ালহাকু বিয়ামানিহি, ওয়ালিয়াসতাক্বি বিগাদারহি, ফাইন্নাল্লাহা আযযা ওয়া জাল্লা তাকাফফালা লী বিশশামি ওয়া আহলিহা।
"অচিরেই তোমরা কয়েক দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে। একদল থাকবে শামে (সিরিয়া অঞ্চলে), একদল ইরাকে আরেক দল ইয়ামানে। আবু মুসলিম খাওলানী রা. বললেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, (কোথায় থাকলে ভালো হবে তা) আমাকে জানিয়ে দিন।' রাসূল ﷺ বললেন, 'তুমি শামে থেকো। আর যে শামে থাকতে পারবে না সে যেন ইয়ামানে থাকে এবং সেখানকার জলাধার হতে পানি পান করে। কেননা, আল্লাহ তাআলা আমার জন্য শাম ও ইয়ামানবাসীর ব্যাপারে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।”²⁴⁹
১৯২. সাফওয়ান ইবনু আব্দিল্লাহ ইবনি সাফওয়ান রহ. বলেন, আন্না রাজুলান ক্বলা ইয়াওমা সিফফীনা: আল্লাহুম্মাল আ’ন আহলাশ শামি। ফাক্বলা আ’লিইউন: লা তাসুব্বু আহলাশ শামি জাম্মান গাফীরান, ফাইন্নাহু ফীহিম ক্বাওমান কারিহুনা লিমা তারওনা, ওয়া ইন্না ফীহিমুল আবদালু।
"সিফফীনের লড়াইয়ের দিন এক ব্যক্তি বলল, 'হে আল্লাহ, আপনি শামবাসীর প্রতি লানত বর্ষণ করুন।' এ কথা শুনে আলী রা. বলেন, 'শামের বিশাল জনগোষ্ঠীকে গালমন্দ কোরো না। কারণ, তাদের মধ্যে এমন অনেক লোক রয়েছেন, যারা তোমরা (আজ) যা দেখতে পাচ্ছ তা পছন্দ করেন না। তাদের মধ্যে অনেক আবদাল (আল্লাহ তাআলার বিশেষ বান্দা) রয়েছেন।”²⁵⁰
১৯৩. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রা. বলেন, লাইয়াতিন্না আ’লান নাছি যামানুন লা ইয়াবকা মু’মিনুন ইল্লা লাহািক্বা বিশশামি।
"মানুষের সামনে এমন এক সময় অবশ্যই আসবে যখন মুমিন-মাত্রই শামে চলে যাবে।”²⁵¹
টিকাঃ
২৪৯. সনদ সহীহ, আরও রয়েছে: সহীহ ইবনু হিব্বান, ৭৩০৬।
২৫০. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: জামিউ মা'মার ইবনি রাশিদ, ২০৪৫।
২৫১. সনদ মাওকূফ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু ইবনি শাইবাহ, ১৯৪৪৫।
📄 হিজরতের ভূমিতে খরচের সাওয়াব সাত শ গুণ বেশি
১৯৪. উসমান ইবনু আফফান রা. বলেন,
"হিজরতের ভূমিতে খরচের সাওয়াব সাত শ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। হে শামে হিজরতকারী মুহাজিরগণ, তোমাদের কেউ যদি এক দিরহাম পরিমাণ মূল্যের খাদ্য ক্রয় করে নিজে খায় বা পরিবারকে খাওয়ায় তাতে তার সাওয়াব সাত শ গুণ বেশি হবে।"
টিকাঃ
২৫২. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: ইবনুল আসাকীর, তারীখু মাদীনাতি দিমাশক, ১/২৪৭।
📄 উম্মাতের বিশেষ সাত ব্যক্তি
১৯৫. আবু কিলাবাহ রহ. হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন,
"আমার উম্মাতের মধ্যে সব সময় এমন সাত জন ব্যক্তি থাকবেন, যারা কোনো বিষয়ে আল্লাহ তাআলার দরবারে দুআ করলে তা কবুল করা হয়। তাদের (আমল ও কবুলিয়্যাতের) কারণে তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে থাকো এবং বৃষ্টি পেয়ে থাকো। বর্ণনাকারী বলেন, 'আমার মনে হয় রাসূল ﷺ এ কথাও বলেছেন যে, 'তাদের কারণেই তোমাদের বিপদাপদ দূর করে দেয়া হয়।"
টিকাঃ
২৫৩. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আরও রয়েছে: আল মারাসিলু লি-আবি দাউদ, ৩০৯।