📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 তারা আমার আমি তাদের

📄 তারা আমার আমি তাদের


১৮৬. ইয়াযিদ ইবনু উকাইলী রহ. বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, ইন্নাহু সাইয়াকুনু ফী উম্মাতি ক্বাওমুন ইউসাদ্দু বিহিমুস সুগূরু, তু’খাযু মিনহুমুল হুক্বুক্বু, ওয়ালা ইউ’তওনা হুক্বুক্বাহুম, উলাইকা মিন্নী ওয়া আনা মিনহুম, উলাইকা মিন্নী ওয়া আনা মিনহুম।

"অচিরেই আমার উম্মাতের মাঝে এমন একদল লোক তৈরি হবে, যাদের মাধ্যমে সীমান্তগুলো সংরক্ষিত থাকবে। তাদের দিয়ে দায়িত্ব পালন করানো হবে কিন্তু তাদের উপযুক্ত বিনিময় প্রদান করা হবে না। তারা আমার (আপন) আর আমি তাদের। তারা আমার (আপন) আর আমি তাদের।”²⁴³

টিকাঃ
২৪৩. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণ গ্রহণযোগ্য। তবে ইয়াযিদ উকাইলীর নাম এবং তিনি কার কাছে থেকে শুনেছেন তা নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে। আরও রয়েছে: উসুদুল গাবাহ, ৫/৪৬৭; আল ইসাবাহ, ২/৫১৭।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 আল্লাহর রাস্তায় এক রাতের পাহারা

📄 আল্লাহর রাস্তায় এক রাতের পাহারা


১৮৭. ইবনু মুহাইরিয রহ. বলেন, মান হারাসা লাইলাতান ফী সাবীলিল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা কানা লাহু মিন কুল্লি ইন্ছানিন ওয়া দাব্বাতিন ক্বীরাতুুন ক্বীরাতুুন।

"যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার রাস্তায় এক রাত পাহারা দেবে সে সমস্ত মানুষ এবং প্রাণীর সংখ্যা পরিমাণ কীরাতের²⁴⁴ সাওয়াব লাভ করবে।" ²⁴⁵

টিকাঃ
২৪৪. কীরাতের সর্বনিম্ন পরিমাণ অহুদ পাহাড় সমান। সুনানু তিরমিযী, ১০৪০।
২৪৫. সনদ দুর্বল। একজন অজ্ঞাত বর্ণনাকারী রয়েছেন। আরও রয়েছে: ইমাম আহমাদ, কিতাবুয যুহদ, ২৩০৪।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 এক শ উট সদকার চেয়েও অধিক পছন্দনীয় আমল

📄 এক শ উট সদকার চেয়েও অধিক পছন্দনীয় আমল


১৮৮. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রা. বলেন, লাআন আবীতা হারিসান ওয়া খাইফান ফী সাবীলিল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আহাব্বা ইলাইয়্যা মিন আন তাসোয়াদ্দাক্বা বিমিআতি রাহিলাতিন।

"ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় এক রাত আল্লাহর রাস্তায় পাহারা দেয়া আমার কাছে এক শ উট সদকা করা হতে বেশি পছন্দনীয়।" ²⁴⁶

টিকাঃ
২৪৬. সনদ গরীব। ইবনু লাহিয়া রয়েছেন।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 তিনটি চোখ কখনো (জাহান্নামের) আগুনে দগ্ধ হবে না

📄 তিনটি চোখ কখনো (জাহান্নামের) আগুনে দগ্ধ হবে না


১৮৯. আবু ইমরান আনসারী রা. হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন, সালাসাতু আ’ইউনিন লা তাহরিকুহুমুন নারু আবাদান: আই’নুন বকাত মিন খাশ ইয়াতিল্লাহি, ওয়া আই’নুন সাহিরাত বিকিতাবিল্লাহি, ওয়া আই’নুন হারাসাত ফী সাবীলিল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা।

"তিনটি চোখ কখনো (জাহান্নামের) আগুনে দগ্ধ হবে না। (১) যে চোখ আল্লাহর ভয়ে কাঁদে। (২) যে আল্লাহর কিতাব নিয়ে (কুরআন তিলাওয়াতে) জাগ্রত থাকে। (৩) আর যে চোখ আল্লাহর রাস্তায় পাহারা দেয়।”²⁴⁷

১৯০. জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ রা. বলেন, খরাজনা মা’আ রাসূলিল্লাহি ﷺ ফী গাযওয়াতি যাতুর রিকা’ই, ফাআসোয়াা বা রাজুলুম মিনাল মুসলিমিনা ইমরাআতা রাজুলিম মিনাল মুশরিকীনা, ফালাম্মা আন রাআ রাসূলুল্লাহি ﷺ ক্বাফিলান, ওয়া জাআ যাওজুহা, ওয়া কানা গা-ইবান, ফাহালাফা আল্লা ইয়ান্তাহিয়া হাত্তা ইউহরীকা দামাম মিন আসোহাবি মুহাম্মাদিন ﷺ, ফাখরাজা ইয়াতবাউ’ আসোয়ারান নাবিয়্যি ﷺ, ফানাযাআল নাবিয়্যু ﷺ মানযিলান, ফাক্বলা: মান রাজুলুন ইয়াকলাউনা লাইলাতানা হাযিহি? ফান্তুদিবা রাজুলুম মিনাল মুহাজিরীনা, ওয়া রাজুলুম মিনাল আনসোয়ারি, ফাক্বলু: নাহনু ইয়া রাসূলাল্লাহ. ক্বলা: ফাকুনা বিফাম্মিশ শিবই’। ক্বলা: ফাকানূ নাযালু ইলা শিবই’ম মিনাল ওয়াদী, ফালাম্মা খরাজার রাজুলানি ইলা ফাম্মিশ শিবই’, ক্বলাল আনসোয়ারিয়্যু লিলমুহাজিরী: আইয়্যুল লাইলি আহাব্বা ইলাইকা আন আকফী কাহু, আউওয়ালাহু আও আ-খিরাহু? ক্বলা: আকফিনী আউওয়ালাহু. ক্বলা: ফাদ্বতোয়াজাউ’ল মুহাজিরিয়্যু, ফানামা, ওয়া ক্বামাল আনসোয়ারিয়্যু ইউসোয়াল্লী. ক্বলা: ওয়া আতর রাজুলু, ফালাম্মা রাআ শাখসোয়ার রাজুলি, আরাফা আন্নাহু রবীনাতুল ক্বাওমি, ফরামা-হু বিসাহমিন ফাওয়াদোয়াআ’হু ফীহি, ফান্তাযাআ’হু, ফাওয়াদোয়াআ’হু, ওয়া সাবাতা ক্বা-ইমান, সুম্মা রমা-হু বিসাহমিন আখারিন, ফাওয়াদোয়াআ’হু ফীহি, ফানাযাআ’হু, ফাওয়াদোয়াআ’হু, ওয়া সাবাতা ক্বা-ইমান, সুম্মা আ’দা লাহু বিসালিছিন, ফাওয়াদোয়াআ’হু ফীহি, ফান্তাযাআ’হু, ফাওয়াদোয়াআ’হু, সুম্মা রকাআ’ ওয়া সাজাদা, সুম্মা আহাব্বা সোয়াাহিবাহু, ফাক্বলা: ইজলিস, ফাক্বাদ আসবাতু. ফাওয়াাসোবা, ফালাম্মা রাআহুমান রাজুলু, আরাফা আন্নাহু ক্বাদ নাযারু বিহি ফাহারাবা, ফালাম্মা রাআল মুহাজিরিয়্যু মা বিল আনসোয়ারি মিনাদ দিমা-ই ক্বলা: সুবহানাল্লাহ, আল্লা আনবাহতানি আউওয়ালা মা রমাকা, ক্বলা কুনতু ফী সূরাতিন আক্বরাউহা, ফালম উহিব্ব আন আক্বতোয়াআ’হা হাত্তা উনফিযাহা, ফালাম্মা তবাআ আ’লার রমিয়্যা, রকা’তু, ফাআযান্তুকা ওয়াইমুল্লাহি, লাউলা আন্নী খাশীতু আন উদ্বোইয়া’ সাগরাম আমরণী রাসূলুল্লাহি ﷺ বিহফযিহি লাকুত্বিআ’ নাফসী ক্বাবলা আন আক্বতোয়াআ’হা আও উনফিযাহা।

"আমরা রাসূল ﷺ-এর সঙ্গে যাতুর রিক্কা' যুদ্ধাভিযানে বের হলাম। তখন এক ব্যক্তি মুশরিকদের এক লোকের স্ত্রীকে হত্যা করে। ফলে ওই মুশরিক এ বলে শপথ করে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত মুহাম্মাদের কোনো সাথির রক্তপাত না করব, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি ক্ষান্ত হব না। অতএব সে রাসূল ﷺ-এর সন্ধানে বেরিয়ে পড়ল। রাসূল ﷺ এক জায়গায় অবতরণ করে বললেন, এমন কে আছ, যে আমাদের পাহারা দেবে? তখন মুহাজিরদের থেকে একজন এবং আনসারদের থেকে একজন তৈরি হয়ে গেলেন। তিনি বললেন, তোমরা দুজন গিরিপথের চূড়ায় অবস্থান করো। তখন উভয়ে গিরিমুখে পৌঁছলে আনসারী সাহাবী মুহাজির সাহাবীকে বললেন, রাতের কোন অংশে আপনাকে আমি বিশ্রামের সুযোগ করে দেব তা বলুন? প্রথম অংশে নাকি শেষ অংশে? মুহাজির সাহাবী বললেন, আমাকে প্রথম অংশে সুযোগ দিন। এই বলে মুহাজির লোকটি ঘুমিয়ে পড়েন। আর আনসারী লোকটি দাঁড়িয়ে সালাত আদায়ে মশগুল হন।

এমন সময় ওই লোকটি এসে আনসারী লোকটিকে দেখেই চিনে ফেলল। সে বুঝতে পারল তিনি (প্রতিপক্ষের) নিরাপত্তা প্রহরী। অতএব সে তার প্রতি একটি তির নিক্ষেপ করল, যা তার দেহে বিঁধে গেল। তিনি তা টেনে বের করে নিলেন এবং আগের মতোই দাঁড়িয়ে রইলেন। সে আবার একটি তির নিক্ষেপ করল এবং তা সাহাবীর গায়ে বিদ্ধ হলো। এবারও তিনি তির টেনে খুলে নিলেন এবং সালাতে দাঁড়িয়ে রইলেন। এবার সে আরও একটি তির নিক্ষেপ করল। তিরটি এসে গায়ে বিঁধল। এবারও তিনি তির খুলে ফেলে দিলেন। আর রুকু-সিজদা আদায় করে (সালাত শেষ করে) সাথিকে জাগিয়ে বললেন, উঠে বসুন। আমি আর দাঁড়াতে পারছি না। মুহাজির সাহাবী উঠে বসলেন। মুশরিক লোকটি দুজনকে দেখতে পেয়ে ভাবল সাহাবীগণ সর্তক হয়ে গিয়েছেন, এটা টের পেয়ে সে পালিয়ে গেল। মুহাজির সাহাবী আনসার সাহাবীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে বললেন, সুবহানাল্লাহ! প্রথম তির নিক্ষেপের পরই আমাকে সর্তক করেননি কেন? তিনি বললেন, আমি (সালাতে) এমন একটি সূরা তিলাওয়াত করছিলাম, যা শেষ না করে সালাত শেষ করতে চাচ্ছিলাম না। কিন্তু লোকটি যখন একের পর এক তির নিক্ষেপ করে যাচ্ছিল তখন আমি রুকু-সিজদা করে (সালাত শেষে) আপনাকে জাগিয়ে তুলি। আল্লাহর শপথ! রাসূল ﷺ আমাকে পাহারার যে দায়িত্ব প্রদান করেছেন, তা ভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে হয়তো আমি সূরাটি শেষ করতাম অথবা এর আগেই সে আমাকে হত্যা করত।"

টিকাঃ
২৪৭. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: ইমাম দীনওয়ারী, আল মুজালাসাতু ওয়া জাওয়াহিরুল ইলম, ২৫১।
২৪৮. সনদ হাসান লিগাইরিহ। আরও রয়েছে: সুনানু আবি দাউদ, ১৯৮। কোনো কোনো বর্ণনামতে সাহাবী সূরা কাহফ তিলাওয়াত করছিলেন। ওয়াকিন্দী, কিতাবুল মাগাযী, ১/৩৯৭; বাইহাকী, দালাইলুন নবুওয়াহ, ৩/৩৭৯।

ফন্ট সাইজ
15px
17px