📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 আল্লাহর রাস্তায় মৃত্যুবরণকারীর আমলনামা অব্যাহত থাকবে

📄 আল্লাহর রাস্তায় মৃত্যুবরণকারীর আমলনামা অব্যাহত থাকবে


১৮০. উকবা ইবনু আমীর রা. হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন, কুল্লু মাইয়্যিতিন ইয়ুখতামু আ’লা আমালিহি ইল্লাল্লাযী ইয়ামুতু ফী সাবীলিল্লাহি, ফাইন্নাহু ইয়াজরী আলাইহি আজরু আমালিহি হাত্তা ইউবআ’সা।

"প্রতিটি মৃত ব্যক্তিকেই তার আমলের ওপর মোহরাঙ্কিত করে দেয়া হয় (ব্যক্তিগত কোনো আমলের সুযোগ থাকে না)। তবে আল্লাহর রাস্তায় মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির বিষয়টি ভিন্ন। পুনরুত্থানের আগপর্যন্ত তার আমলনামা অব্যাহত থাকবে।”²³⁷

টিকাঃ
২৩৭. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসনাদু আহমাদ, ১৭৩৫৯।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 কিয়ামাতের দিন যে নিরাপদ থাকবে

📄 কিয়ামাতের দিন যে নিরাপদ থাকবে


১৮১. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রা. হতে বর্ণিত, ফীমান ইয়ামুতু মুরাবিতান: আন্নাহু ইয়ামানু মিনাল ফাযা’ইল আকবারি ইয়াওমাল ক্বিয়ামাতি।

"তিনি আল্লাহর রাস্তায় পাহারারত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী সম্পর্কে বলেন, 'সে কিয়ামাতের দিন চরম ভয়ভীতি হতে নিরাপদ থাকবে।”²³⁸

১৮২. আবু সালিহ হিমসী রা. বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, ইয়াবআ’সুলাহু আযযা ওয়া জাল্লা ইয়াওমাল ক্বিয়ামাতি আক্বওয়ামান ইয়ামুররূনা আ’লাল সিরোয়াতি কাহাইআতির রীহি, লাইসা আলাইহিম হিসাবুন ওয়ালা আ’যাবুন। ক্বলু: ওয়া মান হুম ইয়া রাসূলাল্লাহ? ক্বলা: আক্বওয়ামুন ইয়ুদরিকুহুম মাউতুহুম ফীর রিবাত্বি।

"কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাআলা একদল লোককে ওঠাবেন, যারা বাতাসের গতিতে পুলসিরাত পার হয়ে যাবে। তাদের কোনো হিসাব এবং শাস্তির ব্যাপার থাকবে না। সাহাবাগণ বললেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, তারা কারা?' রাসূল ﷺ বললেন, 'সীমান্তে পাহারারত অবস্থায় যাদের মৃত্যু হয়েছে।”²³⁹

টিকাঃ
২৩৮. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: ইমাম বুখারী, তারীখুল কাবীর, ৪/৩২৪।
২৩৯. সনদ দুর্বল। বর্ণনাকারী বাশশার ইবনু সাঈদ সম্পর্কে প্রয়জনীয় তথ্য পাওয়া যায় না।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারার ফজিলত

📄 ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারার ফজিলত


১৮৩. মাকহুল শামী রহ. বলেন, আন্না কা’বাবনা উজরোতা, কানা মুরাবিতান বিআর্ডহি ফারিছা, ফামাররা বিহি সালমানু, ফাক্বলা: মা লাকা হাহুনা? ক্বলা: ক্বাদিমনু মুরাবিতান। ক্বলা: আফালা উখবিরুকা বিশাইয়িন সামি’তুহু মির রাসূলিল্লাহি ﷺ ইয়াকুনু লাকা আওনান আ’লা রিবাত্বিকা? ক্বলা: কুলতু বালা রহিমাকাল্লাহু. ক্বলা: ক্বলা রাসূলুল্লাহি ﷺ: রিবাত্বু ইয়াওমিন ফী সাবীলিল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা খাইরুম মিন সোয়ামি শাহরিন ওয়া ক্বিয়ামিহি, ওয়া মান মাতা মুরাবিতান ফী সাবীলিল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা উজীরা মিন ফিতনাতিল ক্বাবরি, ওয়া যারা আলাইহি আমালুহুল্লাযী কানা ইয়া’মালু ইলা ইয়াওমিল ক্বিয়ামাতি।

"কা'আব ইবনু উযরাহ রা. পারস্যের ভূখণ্ডে (ইসলামী) সীমান্ত পাহারায় নিযুক্ত ছিলেন। সালমান ফারসী রা. তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তাকে বললেন, 'এখানে কী করছ?' কা'আব রা. বললেন, 'সীমান্ত পাহারা দিতে এসেছি।' সালমান রা. বললেন, 'আমি কি রাসূল ﷺ-এর একটি হাদীস শোনাব? যা তোমার সীমান্ত পাহারায় অনুপ্রেরণা জোগাবে?' কা'আব বললেন, 'আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। অবশ্যই শোনান।' সালমান রা. বললেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, এক দিন আল্লাহ তাআলার পথে সীমান্ত পাহারা দেওয়া একাধারে এক মাস রোযা রাখা এবং রাতে সালাত আদায় হতেও উত্তম। এই কাজে লিপ্ত থাকাবস্থায় যে ব্যক্তি মারা যাবে তাকে কবরের বিপর্যয়কর পরিস্থিতি হতে মুক্তি দেওয়া হবে এবং সে যেসব আমল করত কিয়ামত পর্যন্ত তার আমল চলমান থাকবে।"²⁴⁰

টিকাঃ
২৪০. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: সুনানু তিরমিযী, ১৬৬৫।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 উত্তম ব্যক্তি

📄 উত্তম ব্যক্তি


১৮৪. আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন, ইউশিকু আন ইয়াতীয়া আ’লান নাছি যামানুন, খাইরুন নাছি ফীহি মানযিলান রাজুলুন আখাযা বিআ’নানি ফারাসিহি ফী সাবীলিল্লাহি, কুল্লামা সামিআ’ হাইআ’তান, ইস্তাওয়া আ’লা ফারাসিহি, সুম্মা তলাবাল মাউতা মাযোয়ান্নাহু, ওয়া রাজুলুন ফী গুনাইমাতিন ফী শিবই’ম মিন হাযিহিশ শিআ’বি, ইয়ুক্বিমু সোয়ালাতা, ওয়া ইউ’তিয যাকাতা, ওয়া ইয়াতা’যিলুন নাছা ইল্লা মিন খাইরিন হাত্তা ইয়াতীয়াহুল মাউতু।

“অচিরেই মানুষের মাঝে এমন সময় আসবে যখন সবচেয়ে উত্তম হবে সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর রাস্তায় নিজের ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরে। কোনোরকম ভীতিসঞ্চারক আওয়াজ শুনতেই সে তার ঘোড়ার পিঠে সোজা হয়ে বসে আর সম্ভাব্য স্থানসমূহে মৃত্যুকে খুঁজে ফেরে। আর তার পর (উত্তম হলো) ওই ব্যক্তি যে কিছু ছাগল নিয়ে পাহাড়ি উপত্যকাসমূহের কোনো একটিতে অবস্থান করে। সালাত আদায় করে। যাকাত প্রদান করে। আর মৃত্যু পর্যন্ত কল্যাণ ব্যতীত অন্য সমস্ত বিষয়ে লোকজন হতে নির্জনতা অবলম্বন করে।”²⁴¹

১৮৫. আব্দুল্লাহ ইবনু হারিস ইবনি যাজ যুবাইদী রা. বলেন, দাখালা আলাইহি রাজুলানি, ফাক্বলা: মারহাবান বিকুমা। ফানাযাআ’ উইসাদাতান কানা মুত্তাকিয়ান আলাইহা, ফাআলকোয়াহা ইলাইহিমা, ফাক্বলু: লা নুরীদু হাযা, ইন্নামা জিনা লিনাসমাআ’ মিনকা শাইয়ান নানতাফিআ’ বিহি। ক্বলা: ইন্নাহু মান লাম ইয়ুকরিম দ্বাইফাহু, ফালাইসা মিন মুহাম্মাদিন ওয়ালা ইবরাহীমা, তুব্বা লিআবদিন আমসা মুতাআল্লিকান বিরা’সি ফারাসিহি ফী সাবীলিল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা, আফতোয়ারা আ’লা কিসরাতিন ওয়া মা-ইন বারিদিন, ওয়া ওয়াইলুল লিলওয়াসীনাল্লাযীনা ইয়ালুসিনা মিসলাল বাক্বরি, ইরফা’ ইয়া গুলামু, দ্বোয়া’ ইয়া গুলামু ওয়া ফী যালিকা লা ইয়াযকুরুনাল্লাহা আযযা ওয়া জাল্লা।

"একবার তার নিকট দুই জন ব্যক্তি আসল। তিনি বললেন, 'তোমাদের আগমন শুভ হোক। তিনি যে বালিশে হেলান দিয়ে বসে ছিলেন তা নিয়ে তাদের দুজনের দিকে এগিয়ে দিলেন। তারা বলল, 'আমরা এসব চাই না। আমরা আপনার কাছ থেকে এমন কিছু শুনতে চাই, যা শুনলে আমাদের উপকার হবে।' তিনি বললেন, 'যে ব্যক্তি তার মেহমানের আপ্যায়ন করে না সে মুহাম্মাদ ﷺ-এর সুন্নতভুক্ত নয় এবং ইবরাহীম আ.-এর সুন্নতভুক্তও নয়। সৌভাগ্য ওই ব্যক্তির জন্য, যে আল্লাহ তাআলার রাস্তায় ঘোড়ার মাথা জড়িয়ে ধরে সন্ধ্যা করে দেয় (সন্ধ্যা পর্যন্ত আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করে বা চলে) আর শুকনো রুটি আর ঠান্ডা পানি দিয়ে ইফতার করে। আর দুর্ভাগ্য ওই চর্বনকারীর জন্য যে গরুর মতো জাবর কাটতে থাকে আর বলে, 'এই ছোকরা, এটা নিয়ে যাও। ওটা নিয়ে আসো!' আর এসব ব্যস্ততার দরুন তারা আল্লাহকে স্মরণ করতে পারে না।”²⁴²

টিকাঃ
২৪১. সনদ হাসান। ১৬৬ নং বর্ণনায় মুরসাল সনদে সমার্থক বর্ণনা রয়েছে। আরও রয়েছে: সহীহ ইবনু হিব্বান, ৪৬০০।
২৪২. সনদ দুর্বল। অজ্ঞাত বর্ণনাকারী রয়েছেন। আরও রয়েছে: ইবনু আবিদ দুনিয়া, কিতাবুল য'ই, ২০২।

ফন্ট সাইজ
15px
17px