📄 ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারার ফযীলত
১৭২. শুরাহবীল ইবনু সিমাত কিন্ন্দী রহ. বলেন,
"আমরা দীর্ঘদিন সীমান্ত এবং দুর্গের পাহারায় নিযুক্ত ছিলাম। আমার পরনের কাপড়টির কারণে আমার কিছুটা কষ্ট হচ্ছিল। এর বিহিত করার জন্য একদিন সৈন্যদল থেকে একটু দূরে গেলাম। পথিমধ্যে সালমান ফারসী রা. এর সাথে সাক্ষাৎ হলো। তিনি বললেন, 'আবুস সিমত, কী করছ?' আমি তাকে বিষয়টি জানালাম। তিনি বললেন, 'আমার মনে হয় তুমি উম্মুস সিমতের (স্ত্রীর) কাছে যেতে চাচ্ছ। যাতে সে তোমার এই (পোশাক ঠিক করার) কাজটি করে দেয়।' আমি বললাম, 'আল্লাহর শপথ! আমি এটাই চাই।' তিনি বললেন, 'এই কাজ কোরো না। কারণ, আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, '(আল্লাহর রাস্তায়) একদিন ও একরাতের সীমান্ত পাহারা বা এক দিনের পাহারা বা এক রাতের পাহারা এক মাস সিয়াম পালন ও রাতভর কিয়াম (সালাত আদায়ের) সমতুল্য। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় পাহারারত অবস্থায় মারা গেল তার সে আমল জারি থাকবে, যা সে করত আর সে সকল ফিতনা হতে রক্ষিত থাকবে, আর তার জন্য রিযিক বরাদ্দ করা হবে। তোমরা চাইলে এই আয়াত দুটি তিলাওয়াত করতে পার,
'যারা আল্লাহর পথে গৃহ ত্যাগ করেছে, এরপর নিহত হয়েছে অথবা মরে গেছে; আল্লাহ তাদের অবশ্যই উৎকৃষ্ট জীবিকা দান করবেন এবং আল্লাহ সর্বোৎকৃষ্ট রিযিকদাতা। তাদের অবশ্যই এমন এক স্থানে প্রবেশ করাবেন, যা তারা পছন্দ করবে এবং আল্লাহ জ্ঞানময়, সহনশীল।"
১৭৩. ফাযালাহ ইবনু উবাইদ রা. বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন,
"যে ব্যক্তি এ সকল অবস্থায় মারা যাবে সে কিয়ামাতের আল্লাহ তাআলার নিকট সে অবস্থাতেই পুনরুত্থিত হবে। বর্ণনাকারী হাইওয়াহ ইবনু শুরাইহ বলেন, 'মর্তবা বা অবস্থা বলতে সীমান্ত পাহারা ও হজ্জ ইত্যাদি আমলের কথা বোঝানো হয়েছে।"
১৭৪. ফাযালাহ ইবনু উবাইদ রা. বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন,
"প্রতিটি মৃত ব্যক্তিকেই তার আমলের ওপর মোহরাঙ্কিত করে দেয়া হয় (ব্যক্তিগত কোনো আমলের সুযোগ থাকে না)। তবে আল্লাহর রাস্তায় পাহারারত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির বিষয়টি ভিন্ন। কিয়ামাত পর্যন্ত তার আমলনামা বৃদ্ধি পেতে থাকে আর সে কবরের ফিতনা (পরীক্ষা ও শান্তি) হতে নিরাপদ থাকে।"
টিকাঃ
২২৬. সুনানু নাসাঈ, ৩১৬৭। সনদ সহীহ।
২২৭. সূরা হজ, ২২:৫৮,৫৯
২২৮. সনদে অজ্ঞাত বর্ণনাকারী রয়েছেন।
২২৯. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসনাদু আহমাদ, ২৩৯৫০।
২৩০. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসনাদু আহমাদ, ২৩৯৫১।
📄 প্রকৃত মুজাহিদ
১৭৫. ফাযালাহ ইবনু উবাইদ রা. বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন,
'যে ব্যক্তি নিজের প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ করে সে-ই আসল মুজাহিদ।'
টিকাঃ
২৩১. সনদ হাসান সহীহ। আরও রয়েছে: সুনানু তিরমিযী, ১৬২১। অনেকেই এই হাদীস দ্বারা ময়দানের জিহাদ এবং ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেন। যা মারাত্মক ভুল বিবেচনা এবং জিহাদের ফযীলত-সংক্রান্ত আয়াত ও হাদীসের অপব্যাখ্যার দ্বার খুলে দেয়। তাই এ ধরনের ভুলভ্রান্তি হতে বেঁচে থাকা জরুরি।
📄 প্রকৃত কল্যাণকামী বন্ধু
১৭৬. বাকর ইবনু আমর রহ. বলেন, আন্ মুআবিয়াতা ইবনা আবি সুফিয়ানা ইস্তামালা ফাদ্বালাতা ইবনা উবাইদিন, আ’লা বা’দ্বি আ’মালিহি, ফাকাতাবা মা’আহু রিজালান ইয়াস্তাইনু বিহিম, ফাআতাবাহু রাজুলুম মিম্মান কানা ইউসোয়াফিহিল ইখওয়া-আ ওয়াল মাহাব্বাতা, ফাযোয়ান্না আন্নাহু ক্বাদ কাতাবাহু ফী আউওয়ালি মান যাকারা মিন আসোহাবিহি, ফাকোয়ালা: আকুনতা কাতাবতানি মা’আকা? ক্বলা: লা. ক্বলা: আজাল ক্বলা: আজাল, ইন্নামা তারাকতু ইসমাকা লিল্লাযী হুয়া খাইরুল লাকা, সামি’তু রাসূলুল্লাহি ﷺ ইয়াক্বুলু লিরাজুলিম মিন আসোহাবিহি: আইয়্যুমা আবদিন মু’মিনিন মাতা ওয়া হুয়া আ’লা মারতাবাতিম মিন হাযিহিল আ’মালি, বাআ’সাহুল্লাহু আযযা ওয়া জাল্লা আলাইহা ইয়াওমাল ক্বিয়ামাতি ফাআহবাবতু আন ইয়াবআ’সাকাল্লাহু আযযা ওয়া জাল্লা মিম মারতাবাতিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি, ফানসোয়াারাফা ওয়া হুয়া মাসরুরুন।
"একবার আমীরুল মুমিনীন মুআওয়িয়াহ ইবনু আবি সুফিয়ান রা. ফাযালাহ ইবনু উবাইদ রা.-কে কিছু দায়িত্ব প্রদান করেন। তিনি তখন তার সাথে সহযোগিতার জন্য তার কয়েকজন সহযোগীর নাম লিখে নেন। এ খবর পেয়ে তার ভ্রাতৃপ্রতিম ও অন্তরঙ্গ একজন ব্যক্তি তার সাথে দেখা করতে আসেন। তার ধারণা ছিল ফাযালাহ রা. সহযোগীদের তালিকায় সর্বপ্রথম তার নামটিই লিখেছেন। লোকটি তাকে জিজ্ঞাসা করল, 'তোমার সাথে আমার নাম লিখেছ তো?' তিনি বললেন, 'না।' লোকটি বলল, 'আসলেই?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, আসলেই। আমি তোমার নাম এরচেয়ে উত্তম কাজের জন্য রেখে দিয়েছি। আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, তিনি তার এক সাহাবীকে বলেছেন, যে ব্যক্তি এ সকল অবস্থায় মারা যাবে সে কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাআলার নিকট সে অবস্থাতেই পুনরুত্থিত হবে (অর্থাৎ সীমান্ত পাহারা ও হজ্জ ইত্যাদি)।²³²
আমি চাই যে, আল্লাহ তাআলা তোমাকে আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদ হিসেবে পুনরুত্থিত করুন। এ কথা শুনে লোকটি আনন্দচিত্তে ফিরে গেলেন।"²³³
টিকাঃ
২৩২. ১৭৩ নং হাদীসে সমার্থক বর্ণনা রয়েছে। মুসনাদু আহমাদ, ২৩৯৫০। সনদ সহীহ।
২৩৩. সনদ সহীহ।
📄 রাসূল ﷺ-এর ভবিষ্যদ্বাণী
১৭৭. উরওয়াহ ইবনু রুওয়াইম রহ. বলেন, আতা নাবিয়্যা ﷺ রিজালুন, ফাক্বালু: ইয়া রাসূলাল্লাহ, ইন্না কুন্না হাদীসা আ’হদিম বিজাহিলিয়্যাতিন, ওয়া ইন্না কুন্না নুসিবু মিনাল আ-সামি ওয়ায যিনা, ওয়া ইন্না আরাদনা আন নাহবিসা আনফুসানা ফী বুইউতিন, না’বুদুল্লাহা আযযা ওয়া জাল্লা ফীহা হাত্তা নামূতা। ক্বলা: ফাতাহাল্লালা ওয়াজহু রাসূলিল্লাহি ﷺ, ওয়া ক্বলা: ইন্নাকুম সাতাজনুদূনা আজনাদান, ওয়া তাকুনু লাকুম যিম্মাতুন, ওয়া খারাজুন, ওয়া সাইয়াকুনু লাকুম আ’লা সাইফিল বাহরি মাদা-ইনু ওয়া কুসূরুন, ফামান আদরাকা যালিকা ফাস্তাতোয়া’আ আন ইয়াহবিসা নাফসাহু ফী মাদিনাতিম মিন তিলকাল মাদা-ইনি, আও কাসরিম মিন তিলকাল কুসূরি হাত্তা ইয়ামুতা ফালইয়াফ’আল।
"একবার কিছু লোক রাসূল ﷺ-এর দরবারে হাযির হয়ে বলল, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, ইতিপূর্বে আমরা জাহিলিয়াতের আঁধারে নিমজ্জিত ছিলাম। সে সময় আমরা ব্যভিচারসহ বিভিন্ন গুনাহের কাজে লিপ্ত ছিলাম। এখন আমরা নিয়্যাত করেছি যে, নিজেদের গৃহবন্দী করে আমৃত্যু আল্লাহ তাআলার ইবাদাতে মগ্ন রাখব।' তাদের কথায় রাসূল ﷺ-এর চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তিনি বললেন, 'অচিরেই তোমরা বহু সৈন্যদলে বিভক্ত হবে। তোমরা অন্যদের নিরাপত্তা প্রদান করবে এবং কর আদায় করবে। সমুদ্রের উপকূলে তোমাদের অধীনে অনেক শহর ও অট্টালিকা থাকবে। যে ব্যক্তি সে সময়ে উপনীত হবে সে যদি সেসব শহরের কোনো শহরে কিংবা অট্টালিকার কোনো অট্টালিকায় নিজেকে আমৃত্যু আবদ্ধ রাখতে চায়, সে যেন তা-ই করে।"²³⁴
টিকাঃ
২৩৪. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। তবে উরওয়াহ ইবনু রুওয়াইম রহ. সরাসরি সাহাবী সুলাইমান ইবনু আবি সুলাইমান শামী রা. হতে বর্ণনা করেননি। তিনি যার কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন তার পরিচয় অজ্ঞাত। ইবনুল আসির, উসুদুল গাবাহ, ২/৫৪৭; ইবনু মানদাহ, মা'রিফাতুস সাহাবাহ, ৭৩৬,৩৭; ইমাম বাগওয়ী, মু'জামুস সাহাবাহ, ৩/১৫৯।