📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 পর পর দুই বার একজনই দাঁড়ালেন

📄 পর পর দুই বার একজনই দাঁড়ালেন


১৫১. সুহাইল ইবনু আবি সালিহ রহ. বলেন, ‘রাসূল ﷺ যখন অহুদের উদ্দেশে বের হলেন তখন বললেন, ‘কে আছো যে আজ রাতে এই গিরিপথটি পাহারা দেওয়ার জন্য রাজি আছে?’ অথবা তিনি এ-জাতীয় কিছু বলেন। তখন বনু যুরাইক হতে আবুস সাবই যাকওয়ান ইবনু আব্দি কায়স নামক একজন আনসারী সাহাবী উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, ‘আমি রাজি আছি।’ রাসূল ﷺ বললেন, ‘তুমি কে?’ তিনি বললেন, ‘আমি ইবনু আব্দি কায়স।’ রাসূল ﷺ বললেন, ‘বসো।’ এরপর তিনি আবার আহ্বান জানালেন। তখন যাকওয়ান রা. আবার দাঁড়ালেন। রাসূল ﷺ বললেন, ‘তুমি কে?’ তিনি বললেন, ‘আমি আবুস সাবই।’ তখন রাসূল ﷺ (দুই বারে দুই জন দাঁড়িয়েছে ভেবে) বললেন, ‘তোমরা অমুক অমুক জায়গায় অবস্থান নেবে।’ তখন যাকওয়ান রা. বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ, লোক তো আমি এক জনই।’ আমরা এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারছিলাম না যে, সে কি মুশরিকদের গুপ্তচর কি না? ইতিমধ্যে রাসূল ﷺ বললেন, ‘কেউ যদি আগামীকাল জান্নাতের সবুজ উদ্যানে ঘুড়ে বেড়ানো মানুষ দেখতে চায়, সে যেন তাকে দেখে নেয়।’ তখন যাকওয়ান রা. বিদায় নিতে পরিবারের লোকজনের কাছে গেলেন। তার স্ত্রীগণ তার পোশাক টেনে ধরে বলতে লাগল ‘আবুস সাবই! তুমি আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছ!’ তিনি টেনে তাদের হাত থেকে পোশাক ছাড়িয়ে নিয়ে তাদের দিকে ফিরে বললেন, ‘কিয়ামাতের দিন তোমাদের সাথে দেখা হবে।’ এরপর তিনি শাহাদাতবরণ করেন।”

টিকাঃ
২০১. সনদ দুর্বল। একাধিক দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছেন। তবে ঘটনাটি ইমাম আবু নুআইম, ওয়াকিদী, ইবনু হাজার আসকালানীসহ অনেকেই বর্ণনা করেছেন। আবু নুআইম, মা'রিফাতুস সাহাবাহ, ২/২৭; আল ইসাবাহ, ২/৩৩৮।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 সিলাহ ইবনু আশইয়াম রহ. -এর অদ্ভুত স্বপ্ন

📄 সিলাহ ইবনু আশইয়াম রহ. -এর অদ্ভুত স্বপ্ন


১৫২. সিলাহ ইবনু আশইয়ান রহ. বলেন, ‘একবার আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি একদল লোকের মাঝে আছি আর আমাদের পেছনে খোলা তরবারি হাতে এক লোক দাঁড়িয়ে আছে। সে যার কাছে যাচ্ছে তার মাথায় আঘাত করছে। তবে কিছুক্ষণ পরই আঘাতপ্রাপ্ত লোকটির মাথা আবার আগের মতো হয়ে যাচ্ছে। আমি অপেক্ষা করছিলাম যে, লোকটি কখন আমার কাছে আসবে আর আমার সাথেও অন্যদের মতো আচরণ করবে। অবশেষে লোকটি আমার কাছে আসল এবং মাথায় আঘাত করল। মাথা কেটে পড়ে গেল। আমার চোখে এখনো সেই দৃশ্য ভাসছে যে, আমি আমার মাথা উঠিয়ে নিয়ে ঠোঁট হতে ধুলোবালি ঝেড়ে তা আগের জায়গায় স্থাপন করে নিলাম। আর মাথাও আগের মতো হয়ে গেল।”

টিকাঃ
২০২. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবাহ, ৩০৫৩১। এই বর্ণনা দ্বারা সম্ভবত শহীদের কর্তিত অঙ্গ মৃত্যুর পর কবরজগতে বা অল্প সময় পরেই পুনঃস্থাপনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আল্লাহ ভালো জানেন।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 শাহাদাতের তিনটি পরওয়ানা লাভ

📄 শাহাদাতের তিনটি পরওয়ানা লাভ


১৫৩. হুমাইদ ইবনু হিলাল রহ. সিলাহ রহ. হতে বর্ণনা করেন, ‘একবার তিনি এক বাহিনীর সাথে অভিযানে বের হলেন। তার সাথে তার ছেলে এবং তার গোত্রের একজন গ্রাম্যলোক ছিল। গ্রাম্যলোকটি বলল, ‘আমি স্বপ্নে দেখলাম তুমি একটি ছায়ামেলা গাছের নিচে আসলে আর তিনটি শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করলে। সেখান থেকে দুটি নিজের জন্য রেখে একটি আমাকে দিয়ে দিলে। আমি মনে মনে ভাবলাম তুমি শাহাদাতের দ্বিতীয় মর্যাদাটি বিলিয়ে দিলে না কেন?’ এর কিছুক্ষণ পরই তারা শত্রুর মুখোমুখি হলেন। তখন সিলাহ রহ. তার ছেলেকে বললেন, ‘এগিয়ে যাও।’ অতঃপর তার ছেলে শহীদ হলো। তিনি নিজে শহীদ হলেন এবং গ্রাম্য লোকটিও শহীদ হন।

টিকাঃ
২০৩. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: ইবনু আবিদ দুনিয়া, আল মানামাত, ২৫৭।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান

📄 যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান


১৫৪. আলা ইবনু হিলাল বাহিলী রহ. বলেন, ‘সিলাহ রহ.-এর গোত্রের একলোক তাকে বলল, ‘আবুস সাহবাহ! আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমি একটি শাহাদাতের পরওয়ানা লাভ করেছি আর তুমি দুইটি লাভ করেছ। তিনি বললেন, ‘তুমি ভালো স্বপ্নে দেখেছ। তুমি নিজে শহীদ হবে আর আমি এবং ছেলে শহীদ হব।’ ইয়াযিদ ইবনু যিয়াদের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধে তুর্কী সৈন্যদল যেদিন সিজিস্তানে (সিসতানে) মুসলিম বাহিনীর ওপর হামলা চালায় তখন প্রথম দিকে মুসলমানদের যে বাহিনীটি পরাস্ত হয় এটা ছিল সেই দল। সেই লড়াইয়ে সিলাহ রহ. তার ছেলেকে ডেকে বলেন, ‘বেটা, তুমি তোমার মায়ের কাছে ফিরে যাও।’ ছেলে বলল, ‘আব্বাজান, আপনি নিজের জন্য কল্যাণ কামনা করছেন আর আমাকে ফিরে যেতে বলছেন? আল্লাহর শপথ! আমার মায়ের দেখাশোনা করার জন্য তো আমার চেয়ে আপনিই উত্তম ছিলেন।’ সিলাহ রহ. বললেন, ‘তাহলে এগিয়ে যাও।’ ছেলে এগিয়ে গিয়ে লড়াই করল এবং আহত হলো। তিনি তির ছুঁড়ে ছেলের আশপাশ থেকে শত্রুসেনা হটিয়ে দিলেন। তিনি ছিলেন দক্ষ তিরন্দাজ। অতঃপর তিনি এগিয়ে গিয়ে ছেলের পাশে দাঁড়িয়ে তার জন্য দুআ করলেন। এরপর নিজেও লড়াই করে শহীদ হলেন।”

টিকাঃ
২০৪. সনদ দুর্বল। আরও রয়েছে: বাইহাকী, শুআবুল ঈমান, ৪০১১।

ফন্ট সাইজ
15px
17px