📄 আমল কম বিনিময় বেশি
১৫০. আবু আব্দির রহমান মাসউদী রহ. বলেন, ‘আমরা ফাযালাহ ইবনু উবাইদ রা. এর সাথে রোমানদের বিরুদ্ধে স্থলযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। ফাযালাহ রহ. এই একটিমাত্র স্থলযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আমরা এগিয়ে যাচ্ছিলাম। ফাযালাহ দ্রুতগতিতে চলছিলেন। তিনি আমাদের আমীর ছিলেন। আর সে সময় আমীরগণ তার অধীনস্থদের কথায় কান দিতেন। কারণ, আল্লাহ তাআলাই এদের তার অধীনস্থ করেছেন। এক ব্যক্তি হাঁক ছেড়ে বলল, ‘হে আমীর, লোকজন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। আপনি একটু থামুন। যাতে সবাই আপনার কাছে পৌঁছতে পারে।’ এই কথা শুনে তিনি একটি চারণভূমি-জাতীয় খোলা জায়গায় থামলেন। সেখানে একটি দুর্গের প্রাচীর ছিল। আর প্রাচীরের বেষ্টনীতে একটি দুর্গ ছিল। আমাদের কেউ বাহন হতে নেমে দাঁড়িয়েছিল আর কেউও নামছিল। এমন সময় ফাযালা রহ. গোঁফওয়ালা একজন লাল চামড়ার (রোমান) লোককে নিয়ে হাযির হলো। আমরা বললাম, ‘এ তো দেখছি কোনোরকম চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ছাড়াই দুর্গ থেকে বেড়িয়ে চলে এসেছে!’ ফাযালাহ রহ. তাকে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। লোকটি বলল, ‘গতরাতে আমি শূকরের গোশত খেয়েছি, মদ্যপান করেছি অতঃপর স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছি। স্বপ্নে আমার কাছে দুজন লোক আসল। তারা আমার উদর ধুয়ে-মুছে সাফ করে আমাকে দুজন নারীর সাথে বিয়ে করিয়ে দিল, যারা একে অপরের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয় না। অতঃপর তারা আমাকে বলল, ‘তুমি ইসলাম গ্রহণ করো।’ অতএব আমি এখন একজন মুসলমান।’ তার কথা শেষ না হতেই আমাদের উদ্দেশ্যে একটি তির উড়ে আসল আর সবার চোখের সামনে লোকটির ঘাড়ে গিয়ে বিদ্ধ হলো। এই দৃশ্য দেখে ফাযালাহ রহ. বলে উঠলেন, ‘আল্লাহু আকবার! আমল কম অথচ বিনিময় কত বেশি! তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জানাযা আদায় করো।’ আমরা তার জানাযা পড়লাম এবং সেই অবস্থানের জায়গাতেই তাকে দাফন করলাম। বর্ণনাকারী কাসিম রহ. এই ঘটনা আলোচনা করে বলতেন, ‘ঘটনাটি আমি নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেছি।”
টিকাঃ
২০০. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবাহ, ৪০০৫
📄 পর পর দুই বার একজনই দাঁড়ালেন
১৫১. সুহাইল ইবনু আবি সালিহ রহ. বলেন, ‘রাসূল ﷺ যখন অহুদের উদ্দেশে বের হলেন তখন বললেন, ‘কে আছো যে আজ রাতে এই গিরিপথটি পাহারা দেওয়ার জন্য রাজি আছে?’ অথবা তিনি এ-জাতীয় কিছু বলেন। তখন বনু যুরাইক হতে আবুস সাবই যাকওয়ান ইবনু আব্দি কায়স নামক একজন আনসারী সাহাবী উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, ‘আমি রাজি আছি।’ রাসূল ﷺ বললেন, ‘তুমি কে?’ তিনি বললেন, ‘আমি ইবনু আব্দি কায়স।’ রাসূল ﷺ বললেন, ‘বসো।’ এরপর তিনি আবার আহ্বান জানালেন। তখন যাকওয়ান রা. আবার দাঁড়ালেন। রাসূল ﷺ বললেন, ‘তুমি কে?’ তিনি বললেন, ‘আমি আবুস সাবই।’ তখন রাসূল ﷺ (দুই বারে দুই জন দাঁড়িয়েছে ভেবে) বললেন, ‘তোমরা অমুক অমুক জায়গায় অবস্থান নেবে।’ তখন যাকওয়ান রা. বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ, লোক তো আমি এক জনই।’ আমরা এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারছিলাম না যে, সে কি মুশরিকদের গুপ্তচর কি না? ইতিমধ্যে রাসূল ﷺ বললেন, ‘কেউ যদি আগামীকাল জান্নাতের সবুজ উদ্যানে ঘুড়ে বেড়ানো মানুষ দেখতে চায়, সে যেন তাকে দেখে নেয়।’ তখন যাকওয়ান রা. বিদায় নিতে পরিবারের লোকজনের কাছে গেলেন। তার স্ত্রীগণ তার পোশাক টেনে ধরে বলতে লাগল ‘আবুস সাবই! তুমি আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছ!’ তিনি টেনে তাদের হাত থেকে পোশাক ছাড়িয়ে নিয়ে তাদের দিকে ফিরে বললেন, ‘কিয়ামাতের দিন তোমাদের সাথে দেখা হবে।’ এরপর তিনি শাহাদাতবরণ করেন।”
টিকাঃ
২০১. সনদ দুর্বল। একাধিক দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছেন। তবে ঘটনাটি ইমাম আবু নুআইম, ওয়াকিদী, ইবনু হাজার আসকালানীসহ অনেকেই বর্ণনা করেছেন। আবু নুআইম, মা'রিফাতুস সাহাবাহ, ২/২৭; আল ইসাবাহ, ২/৩৩৮।
📄 সিলাহ ইবনু আশইয়াম রহ. -এর অদ্ভুত স্বপ্ন
১৫২. সিলাহ ইবনু আশইয়ান রহ. বলেন, ‘একবার আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি একদল লোকের মাঝে আছি আর আমাদের পেছনে খোলা তরবারি হাতে এক লোক দাঁড়িয়ে আছে। সে যার কাছে যাচ্ছে তার মাথায় আঘাত করছে। তবে কিছুক্ষণ পরই আঘাতপ্রাপ্ত লোকটির মাথা আবার আগের মতো হয়ে যাচ্ছে। আমি অপেক্ষা করছিলাম যে, লোকটি কখন আমার কাছে আসবে আর আমার সাথেও অন্যদের মতো আচরণ করবে। অবশেষে লোকটি আমার কাছে আসল এবং মাথায় আঘাত করল। মাথা কেটে পড়ে গেল। আমার চোখে এখনো সেই দৃশ্য ভাসছে যে, আমি আমার মাথা উঠিয়ে নিয়ে ঠোঁট হতে ধুলোবালি ঝেড়ে তা আগের জায়গায় স্থাপন করে নিলাম। আর মাথাও আগের মতো হয়ে গেল।”
টিকাঃ
২০২. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবাহ, ৩০৫৩১। এই বর্ণনা দ্বারা সম্ভবত শহীদের কর্তিত অঙ্গ মৃত্যুর পর কবরজগতে বা অল্প সময় পরেই পুনঃস্থাপনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আল্লাহ ভালো জানেন।
📄 শাহাদাতের তিনটি পরওয়ানা লাভ
১৫৩. হুমাইদ ইবনু হিলাল রহ. সিলাহ রহ. হতে বর্ণনা করেন, ‘একবার তিনি এক বাহিনীর সাথে অভিযানে বের হলেন। তার সাথে তার ছেলে এবং তার গোত্রের একজন গ্রাম্যলোক ছিল। গ্রাম্যলোকটি বলল, ‘আমি স্বপ্নে দেখলাম তুমি একটি ছায়ামেলা গাছের নিচে আসলে আর তিনটি শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করলে। সেখান থেকে দুটি নিজের জন্য রেখে একটি আমাকে দিয়ে দিলে। আমি মনে মনে ভাবলাম তুমি শাহাদাতের দ্বিতীয় মর্যাদাটি বিলিয়ে দিলে না কেন?’ এর কিছুক্ষণ পরই তারা শত্রুর মুখোমুখি হলেন। তখন সিলাহ রহ. তার ছেলেকে বললেন, ‘এগিয়ে যাও।’ অতঃপর তার ছেলে শহীদ হলো। তিনি নিজে শহীদ হলেন এবং গ্রাম্য লোকটিও শহীদ হন।
টিকাঃ
২০৩. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: ইবনু আবিদ দুনিয়া, আল মানামাত, ২৫৭।