📄 আমি আপনার স্ত্রী
১৪৬. আব্দুর রহমান ইবনু ইয়াযিদ ইবনি জাবির রহ. বলেন, ‘একবার আবু যাকারিয়া রহ. আমাদের একটি ঘটনা বলেন। সেখানে তখন মাকহুল রহ.-ও উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাটি হল, বকর গোত্রের এক ব্যক্তি রোমান ভূমিতে সফর করছিলেন। একবার তিনি তার কৃতদাসকে ডেকে বললেন, ‘আমার পাত্রটি দাও। তোমাদের জন্য কিছু আঙুর নিয়ে আসি।’ তিনি যখন বাগানে প্রবেশ করলেন তখন অপরূপা সুন্দরী এক নারীকে সিংহাসনে সমাসীন দেখলেন। এমন সুন্দরী রমণী তিনি আগে কখনো দেখেননি। লোকটি তাকে দেখেই দৃষ্টি অবনত করল। তখন ওই নারী তাকে বলল, ‘আমার দিক হতে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আমি আপনার স্ত্রী। আপনি সামনে অগ্রসর হোন। আমার চেয়ে উত্তম রমণী দেখতে পাবেন। তিনি সামনে গিয়ে আরেকজন রমণীর সাক্ষাৎ পেলেন। সেও তাকে আগেরজনের মতো একই কথা বলল। বর্ণনাকারী বলেন, ‘আমার ধারণা, লোকটি ছিলেন মাহরামাহ রহ.।”
টিকাঃ
১৯৬. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: আবু বকর শাফিঈ, আল ফাওয়াইদুস শাহীর, ৯১৫।
📄 আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়ার আগে ওয়াসিয়্যতনামা লিখে যাওয়া
১৪৭. আতা ইবনু কুররাহ সাল্লী রহ. বলেন, ‘আমরা একদা আবু মাহযুরা রা.-এর সাথে বসা ছিলাম। তিনি আমাদের জন্য আঙুর নিয়ে আসলেন আর তা সামনে রাখলেন। অতঃপর কাগজ ও কালি চেয়ে নিলেন আর নিজের ওয়াসিয়্যাতনামা লিখলেন। তা দেখে আবু কারব রহ.-ও নিজের ওয়াসিয়্যাতনামা লিখলেন। অতঃপর মুকাতিল ইবনু হাইয়্যান নাবাতী রহ. দাঁড়ালেন এবং নিজের ওয়াসিয়্যাতনামা লিখলেন। এরপর আম্মার ইবনু আইয়্যুব রহ. উঠে গিয়ে নিজের ওয়াসিয়্যাতনামা লিখলেন। সবশেষে আওফ লাখমী রহ. উঠলেন এবং নিজের ওয়াসিয়্যাতনামা লিখলেন। অতঃপর আমরা রুহান নামক স্থানে শত্রুদলের মুখোমুখি হলাম। তাদের পাঁচ জনের সকলেই শহীদ হয়ে গেলেন। আমরা যারা ওয়াসিয়্যাতনামা লিখিনি তারা শহীদ হইনি।”
টিকাঃ
১৯৭. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: আবু বকর শাফিঈ, আল ফাওয়াইদুস শাহীর, ৯১৫।
📄 রাসূল ﷺ-এর সাথে একদল হুরে ঈনের সাক্ষাৎ
১৪৮. ইবনু আবি যাকারিয়া রহ. বলেন, ‘আমাদের এক ভাই বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ মি'রাজের আগে হুরে ঈন দেখেননি। মি'রাজের রাত্রে তিনি যখন কাবার চত্বরে হাঁটাহাঁটি করছিলেন তখন জিবরীল আ. এসে বললেন, ‘আপনি কি হুরে ঈন দেখতে চান?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’ হাজরে আসওয়াদের দিক দিয়ে চত্বরের দিকে আসুন। রাসূল ﷺ সেদিকে গিয়ে দেখলেন কয়েকজন নারী বসে আছেন। তিনি তাদের সালাম দিলেন। জবাবে তারা বলল, ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।’ রাসূল ﷺ বললেন, ‘আল্লাহ তাআলা আপনাদের প্রতি রহম করুন। আপনারা কারা?’ তারা বলল, ‘আমরা কল্যাণকামিনী রূপবতীর দল। সৎকর্মপরায়ণ লোকদের স্ত্রী। যারা মৃত্যুবরণ করেছে কিন্তু বার্ধক্যে উপনীত হয়নি। যৌবন লাভ করেছে। বার্ধক্য স্পর্শ করেনি। নিষ্কলুষ হয়েছে। কলুষতা ছুঁয়ে যায়নি।’
টিকাঃ
১৯৮. গ্রন্থকারের সনদ দুর্বল। তবে মুরসাল সনদে বর্ণনা করেছেন: ইবনু আবিদ দুনিয়া, সিফাতুল জান্নাহ, ২৮৭।
📄 হুরে ঈন
১৪৯. ছাবিত বুনানী রহ. বর্ণনা করেন, ‘এক যুবক দীর্ঘদিন যাবৎ যুদ্ধ করছিল। সে শাহাদাতের জন্য উন্মুখ ছিল। কিন্তু কপালে তা জুটছিল না। একসময় সে নিজেকে উদ্দেশ্য করে বলল, ‘আল্লাহর শপথ! আমার মনে হয় পরিবারের কাছে ফিরে গিয়ে বিয়েশাদি করে নেয়াই ভালো হবে।’ এই ভাবতে ভাবতে সে তাঁবুতে গিয়ে কাইলুলাহ করতে লাগল। যুহরের সময় তার সাথের লোকজন তাকে সালাতের জন্য জাগিয়ে দিল। এতে সে কাঁদতে লাগল। লোকজন তার কোনো সমস্যা হয়েছে কি না ভেবে ভড়কে গেল। এই দেখে সে বলল, ‘আমার কিছু হয়নি। স্বপ্নে একজন লোক এসে আমাকে বলল, ‘চলো তোমাকে তোমার হুরে ঈন স্ত্রীদের কাছে নিয়ে যাই। আমি উঠে তার সাথে চললাম। সে আমাকে একটি শ্বেতশুভ্র ঝলমলে উদ্যানে নিয়ে গেল। এত সুন্দর উদ্যান আমি কখনো দেখিনি। সেখানে আমি দশ জন যুবতীকে দেখতে পেলাম। তাদের মতো কিংবা তাদের চেয়ে সুন্দর কোনো নারী আমি কখনো দেখিনি। আমি আশা করলাম, তাদেরই একজন যেন হুরে ঈন হয়। আমি বললাম, ‘তোমাদের মধ্যে কি হুরে ঈন রয়েছে?’ তারা বলল, ‘তিনি আরও সামনে রয়েছেন। আমরা তো তার দাসীমাত্র।’ এরপর আমি সঙ্গীর সাথে এগিয়ে চললাম। আমরা আরেকটি উদ্যানে এসে হাযির হলাম। যার সৌন্দর্যের সামনের আগের উদ্যানের সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যাবে। সেখানে বিশ জন যুবতীর দেখা পেলাম। যাদের সৌন্দর্যের সামনে আগের যুবতীদের সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যাবে। আমি আশা করলাম, তাদেরই একজন যেন হুরে ঈন হয়। আমি বললাম, ‘তোমাদের মধ্যে কি হুরে ঈন রয়েছে?’ তারা বলল, ‘তিনি আরও সামনে রয়েছেন। আমরা তো তার দাসীমাত্র।’ এভাবে আরও ত্রিশ জনের সাথে সাক্ষাৎ হলো। এরপর আমি একটি গম্বুজের কাছে এসে থামলাম। যা একটিমাত্র লাল বর্ণের ইয়াকৃত পাথর দ্বারা নির্মিত। এর ঔজ্জ্বল্যে চারপাশ ঝলমল করছিল। আমার সঙ্গী বলল, এতে প্রবেশ করো। আমি প্রবেশ করলাম। সেখানে আমি এক অনিন্দ্য রূপবতী যুবতীকে দেখতে পেলাম। যার সৌন্দর্যের সামনে গম্বুজের সৌন্দর্য কিছুই না। আমি তার পাশে বসলাম। তার সাথে কথা বললাম। সেও আমার সাথে কথা বলল। ইতিমধ্যে আমার সঙ্গী হাঁক ছেড়ে বলল, ‘বেরিয়ে আসো। যেতে হবে।’ আমার পক্ষে তার অবাধ্য হওয়া সম্ভব ছিল না। আমি ওঠে দাঁড়ালাম। মেয়েটি আমার চাদরের এক প্রান্ত ধরে বলল, ‘আজ রাতে আমাদের সাথে ইফতার করবেন।’ এমন সময় আপনারা আমাকে জাগিয়ে দেন আর আমিও বুঝতে পারি যে এটা স্বপ্ন ছিল। তাই আমি কাঁদতে শুরু করি।’ ইতিমধ্যে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠল। লোকজন সাওয়ারিতে চড়ে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে জড়িয়ে গেল। যুদ্ধের ডামাডোলে একসময় সূর্য অস্তমিত হলো। ইফতারের সময় হলো। সে সময় যুবকটি আহত হয়ে শহীদ হলো। সে সিয়াম পালন করছিল। বর্ণনাকারী বলেন, ‘আমার ধারণা সে আনসারী ছিল। সাবিত ইবনু কায়েস রা. তার বংশ-পরিচয় জানত।”
টিকাঃ
১৯৯. সনদ সহীহ। অনেকে এই বর্ণনাটিকে হাদীস বা অকাট্য দলিল মনে করে। বাস্তবে এটা এক মুজাহিদের স্বপ্ন। তবে সত্যিকারের হরে ঈন এরচেয়ে অনেক অনেক সুন্দর হবে। কারণ, জান্নাতের নিআমাত দুনিয়ার কারও পক্ষে কল্পনা করাও সম্ভব না।