📄 আহত অবস্থায় জান্নাতী হুরের দর্শন
১৪৫. আবু ইদরীস মাদানী রহ. বলেন, ‘কাদিম আলাইনা রাজুলুন মিন আহলিল মাদিনাতি ইয়ুক্বলু লাহু যিয়াদুন কোয়ালা: ফাগাযাওনা সিক্বিল্লিয়াতা মিন আরদির রূমি, ফাহসারনা মাদিনাতান কোয়ালা: ওয়া কুন্না সালাসাতুন মুতারাফিকিনা: আনা, ওয়া যিয়াদুন, ওয়া রাজুলুন আখারু মিন আহলিল মাদিনাতি। কোয়ালা: ফাইন্না লামুহাসিরুনা ইয়াওমান, ওয়া কোয়াদ ওয়াজজাহনা আহাদানাচ্ছালিসা; লিইয়াতিনাবি তাআ’মিন, ইয আকব্বালাত মানজানিক্বাতুন, ফাওয়াাকোয়া’ত ক্বরীবান মিন যিয়াদিন, ফাশাযিয়াত মিনহা শাযিয়াতুন, ফাআসাবাত রুকবাতা যিয়াদিন, ফাউগমিয়া আলাইহি, ফাজতাররতুহু, ওয়া আকব্বালা সাহিবী, ফানাদাইতুহু, ফাজাআনি ফাবারযনা বিহি হাইসু লা ইয়ানালুহুল ক্বিতালু ওয়াল মানজানিকু, ফামাকাসনা তাওয়ীলান মিন সদরি নাহারিনা লা ইয়াতাহাররাকু মিনহু শাইয়ুন, সুম্মা আফতারা দাহিকান হাত্তা তাবাইয়ানাত নাওয়াজিযুহু, সুম্মা খামাদা, সুম্মা বাকা হাত্তা সালাত দুমুউহু, সুম্মা খামাদা সুম্মা দাহিকা মাররাতান উখরা, সুম্মা মাকাসা সাআতান, ফাআফাকোয়া, ফাসতাওয়া জালিসান, ফাকোয়ালা: মা লী হাহুনা? ফাকুলনা: আমা আলিমতা মা আমরাুকা? কোয়ালা: লা. কোয়ালা: আমা তাযকুরুল মানজানিকোয়া হীনা ওয়াকোয়া’ ইলা জানবিকা? কোয়ালা: বালা ফাকুলনা: ফাইন্নাহু আসাবাকা মিনহা শাইয়ুন, ফাউগমিয়া আলাইকা, ওয়া রাআইনাকা সানা’তা কাযা ওয়া কাযা, কোয়ালা: না’আম, উখবিরুকুম আন্নাহু উফদিয়া বী ইলা গুরফাতিন মিন ইয়াকুয়তাতিন আউ যাবারজাতাতিন, ওয়া উক্বদিয়া বী ইলা ফুরুশিন মাউদূনাতিন বা’দুহা ইলা বা’দিন, ফাবাইনা ইয়াদাই যালিকা সিমাতানি মিন নামারিকা, ফালাম্মাস তাওয়াইতু ক্বাঈদান আলাল ফিরাশি, সামি’তু সালসালাতা হুলিন আন ইয়ামীনী, ফাখরাজাত ইমরাআতুন, ফালা আদরী আহিয়া আহসানুন, আউ সিয়াবুহা, আউ হুলিয়্যুহা? ফাআখাযাত ইলা তরাফিস সিমাতা, ফালাম্মাস তাক্ববালাতনি, রাহবাত, ওয়া সাহহালাত, ওয়া ক্বলাত: মারহাবান বিলহাফী, আল্লাযী লাম ইয়াকুন ইয়াসআলুনাল্লাহা আযযা ওয়া জাল্লা, ওয়ালাসনা কাফুলানাতা ইমরাআতিহি, ফালাম্মা যাকারাতহা বিমা যাকারাতহা বিহি দাহিকতু, ওয়া আক্ববালাত হাত্তা জালাসাত আন ইয়ামীনী, ফাকুলতু: মান আনতি? ক্বলাত: আনা খাওদু যাওজাতুকা, ফালাম্মা মাদাদতু ইয়াদী, ক্বলাত: আলা রিসলিকা, ইন্নাকা সাতাতিনা ইনদায যুহরি, ফাবাকাইতু, ফাহীনা ফারাগাত মিন কালামিহা, সামি’তু সালসালাতান আন ইয়াসারী, ফাইযা আনা বি ইমরাআতিন মিসলিহা ফাওয়াসাফা নাহওয়া যালিকা ফাসানাআ’ত কামা সানাআ’ত সাহিবাতুহা, ফাদাহিকতু হীনা যাকারাতুল ইমরাআতা, ওয়া কোয়াআ’দাত আন ইয়াসারী, ফামাদাদতু ইয়াদাইয়্যা, ফাকোয়ালাত: আলা রিসলিকা, ইন্নাকা তাতীনা ইনদায যুহরি ফাবাকাইতু। ক্বলা: ফাকানা ক্বাঈদান মাআনা ইউহাদ্দিসুনা, ফালাম্মা আযযিনাল মুআযযিনু মালা, ফামাতা।
"আমরা রোমান সাম্রাজ্যের ছিকলিয়্যাহ নামক এলাকায় যুদ্ধরত ছিলাম। আমাদের সাথে যিয়াদ নামক এক মদীনাবাসী ছিলেন। সেখানে আমরা একটি শহর অবরোধ করেছিলাম। আমি, যিয়াদ আর মদীনার আরও একজনসহ আমরা তিন জন একসাথে ছিলাম। অবরোধ চলাকালে একদিন আমরা তৃতীয় ব্যক্তিটিকে খাবারের জন্য পাঠালাম। এমন সময় একটি মিনজানিকের গোলা এসে যিয়াদের কাছাকাছি স্থানে আঘাত হানল। গোলার একটি টুকরো এসে যিয়াদের হাঁটুতে আঘাত করে। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। আমি তাকে টেনে নিয়ে যেতে উদ্যত হলাম। এমন সময় আমাদের সঙ্গী এসে উপস্থিত হন। তিনি এগিয়ে আসলেন। আমরা ধরাধরি করে তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিলাম। যাতে মিনজানিকের গোলা এসে তাকে শেষ করে দিতে না পারে। দিনের মধ্যভাগ পর্যন্ত আমরা অনেক চেষ্টা করলেও তিনি কোনরকম নড়াচড়া করলেন না। এর পরে হঠাৎ তিনি হেসে উঠলেন। এতে তার মাড়ির দাঁত পর্যন্ত দেখা গেল। তারপর আবার চুপ হয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি কেঁদে উঠলেন। তার চোখের পানি গড়িয়ে পড়ল। এরপর আবার নিশ্চুপ হয়ে গেলেন। এরপর আবার হাসলেন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি সোজা হয়ে বসে গেলেন। বসেই বললেন, ‘আমি এখানে কেন?’ আমরা বললাম, ‘আপনি আপনার অবস্থা জানেন না?’ তিনি বললেন, ‘না।’ আমার সঙ্গী বলল, ‘আপনি কি মিনজানিকের আঘাতের কথা মনে করতে পারছেন?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ’। আমরা বললাম, ‘সেই আঘাতে আপনি জ্ঞান হারিয়েছিলেন। এরপর আপনাকে আমরা এই এই করতে দেখেছি’। তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, আমি আপনাদের বলছি শুনুন। আমাকে ইয়াকুত ও জবরজদ পাথরে নির্মিত একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সুন্দর করে বোনা একটি বিছানায় আমাকে বসানো হয়। যার দু-পাশে সারি সারি বালিশ রাখা ছিল। আমি যখন সেখানে সোজা হয়ে বসলাম। ডান প্রান্ত হতে মিষ্টি-মধুর রিমঝিম দ্যোতনার ঝংকার ভেসে আসল। এর পরপরই একজন রমণী বেরিয়ে আসল। আমি অনুমান করতে পারলাম না যে, সে, তার পোশাক এবং অলংকারের চেয়ে বেশি সুন্দর? সে আমার সামনে এসে সাদর সম্ভাষণ জানিয়ে বলল, ‘যে নগ্নপদ আল্লাহ তাআলার নিকট আমাদের কামনা করেনি তাকে স্বাগতম। আমরা অবশ্য তার অমুক অমুক স্ত্রীর ন্যায় নই। তার এসব কথা শুনে আমি হাস্যোজ্জ্বল হয়ে উঠি। অতঃপর সে সামনে এগিয়ে এসে আমার ডানে বসে। তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, ‘তুমি কে?’ সে বলল, ‘আমি আপনার স্ত্রীর দাসী।’ আমি তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলাম। সে বলল, ‘ধীরে-সুস্থে। আপনি যুহরের সময় আমাদের কাছে এসে পৌঁছাবেন।’ তার এই কথা শুনে আমি অশ্রুসজল হয়ে উঠি। তার কথা শেষ হতেই আমি আমার বাঁ দিক হতে রিনিঝিনি ছন্দ শুনতে পাই। তখন তার মতোই আরেকজন রমণীকে দেখতে পাই। সেও একই গুণে গুণান্বিতা ছিল। আর সেও আগেরজনের মতোই আচরণ করল, তাতে আমি হেসে উঠি। অতঃপর সে আমার বাঁ দিকে এসে বসল। সে বলল, ‘ধীরে-সুস্থে। আপনি যুহরের সময় আমাদের কাছে এসে পৌঁছাবেন।’ তার এই কথা শুনে আমি অশ্রুসজল হয়ে উঠি।
বর্ণনাকারী বলেন, ‘তিনি এভাবেই বসে বসে আমাদের সাথে এসব কথা বলছিলেন। এমন সময় মুআযযিন আযান দিল আর তিনি একদিকে কাত হয়ে মৃত্যুবরণ করলেন।”
বর্ণনাকারী আব্দুল করীম ইবনুল হারিস হাযরামী রহ. বলেন, ‘আবু ইদরীসের উদ্ধৃতি দিয়ে এক ব্যক্তি আমার কাছে এই ঘটনা বর্ণনা করেন। এর কিছুদিন পর আবু ইদরীস রহ. আগমন করেন। তখন লোকটি বলল, ‘আপনি কি আবু ইদরীসের মুখে ঘটনাটি শুনতে চান?’ তখন আমি তার কাছে গিয়ে ঘটনাটি আবার শুনি।
টিকাঃ
১৯৫. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: ইবনু আবিদ দুনিয়া, মান আশা বা'দাল মাওত, ৩৮।
📄 আমি আপনার স্ত্রী
১৪৬. আব্দুর রহমান ইবনু ইয়াযিদ ইবনি জাবির রহ. বলেন, ‘একবার আবু যাকারিয়া রহ. আমাদের একটি ঘটনা বলেন। সেখানে তখন মাকহুল রহ.-ও উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাটি হল, বকর গোত্রের এক ব্যক্তি রোমান ভূমিতে সফর করছিলেন। একবার তিনি তার কৃতদাসকে ডেকে বললেন, ‘আমার পাত্রটি দাও। তোমাদের জন্য কিছু আঙুর নিয়ে আসি।’ তিনি যখন বাগানে প্রবেশ করলেন তখন অপরূপা সুন্দরী এক নারীকে সিংহাসনে সমাসীন দেখলেন। এমন সুন্দরী রমণী তিনি আগে কখনো দেখেননি। লোকটি তাকে দেখেই দৃষ্টি অবনত করল। তখন ওই নারী তাকে বলল, ‘আমার দিক হতে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আমি আপনার স্ত্রী। আপনি সামনে অগ্রসর হোন। আমার চেয়ে উত্তম রমণী দেখতে পাবেন। তিনি সামনে গিয়ে আরেকজন রমণীর সাক্ষাৎ পেলেন। সেও তাকে আগেরজনের মতো একই কথা বলল। বর্ণনাকারী বলেন, ‘আমার ধারণা, লোকটি ছিলেন মাহরামাহ রহ.।”
টিকাঃ
১৯৬. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: আবু বকর শাফিঈ, আল ফাওয়াইদুস শাহীর, ৯১৫।
📄 আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়ার আগে ওয়াসিয়্যতনামা লিখে যাওয়া
১৪৭. আতা ইবনু কুররাহ সাল্লী রহ. বলেন, ‘আমরা একদা আবু মাহযুরা রা.-এর সাথে বসা ছিলাম। তিনি আমাদের জন্য আঙুর নিয়ে আসলেন আর তা সামনে রাখলেন। অতঃপর কাগজ ও কালি চেয়ে নিলেন আর নিজের ওয়াসিয়্যাতনামা লিখলেন। তা দেখে আবু কারব রহ.-ও নিজের ওয়াসিয়্যাতনামা লিখলেন। অতঃপর মুকাতিল ইবনু হাইয়্যান নাবাতী রহ. দাঁড়ালেন এবং নিজের ওয়াসিয়্যাতনামা লিখলেন। এরপর আম্মার ইবনু আইয়্যুব রহ. উঠে গিয়ে নিজের ওয়াসিয়্যাতনামা লিখলেন। সবশেষে আওফ লাখমী রহ. উঠলেন এবং নিজের ওয়াসিয়্যাতনামা লিখলেন। অতঃপর আমরা রুহান নামক স্থানে শত্রুদলের মুখোমুখি হলাম। তাদের পাঁচ জনের সকলেই শহীদ হয়ে গেলেন। আমরা যারা ওয়াসিয়্যাতনামা লিখিনি তারা শহীদ হইনি।”
টিকাঃ
১৯৭. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: আবু বকর শাফিঈ, আল ফাওয়াইদুস শাহীর, ৯১৫।
📄 রাসূল ﷺ-এর সাথে একদল হুরে ঈনের সাক্ষাৎ
১৪৮. ইবনু আবি যাকারিয়া রহ. বলেন, ‘আমাদের এক ভাই বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ মি'রাজের আগে হুরে ঈন দেখেননি। মি'রাজের রাত্রে তিনি যখন কাবার চত্বরে হাঁটাহাঁটি করছিলেন তখন জিবরীল আ. এসে বললেন, ‘আপনি কি হুরে ঈন দেখতে চান?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’ হাজরে আসওয়াদের দিক দিয়ে চত্বরের দিকে আসুন। রাসূল ﷺ সেদিকে গিয়ে দেখলেন কয়েকজন নারী বসে আছেন। তিনি তাদের সালাম দিলেন। জবাবে তারা বলল, ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।’ রাসূল ﷺ বললেন, ‘আল্লাহ তাআলা আপনাদের প্রতি রহম করুন। আপনারা কারা?’ তারা বলল, ‘আমরা কল্যাণকামিনী রূপবতীর দল। সৎকর্মপরায়ণ লোকদের স্ত্রী। যারা মৃত্যুবরণ করেছে কিন্তু বার্ধক্যে উপনীত হয়নি। যৌবন লাভ করেছে। বার্ধক্য স্পর্শ করেনি। নিষ্কলুষ হয়েছে। কলুষতা ছুঁয়ে যায়নি।’
টিকাঃ
১৯৮. গ্রন্থকারের সনদ দুর্বল। তবে মুরসাল সনদে বর্ণনা করেছেন: ইবনু আবিদ দুনিয়া, সিফাতুল জান্নাহ, ২৮৭।