📄 হুমামাহ ইবনু আবি হুমামাহ দাওসী রা.
১৪১. হুমাইদ ইবনু আব্দির রহমান রহ. বলেন,
"রাসূল ﷺ-এর একজন সাহাবীর নাম ছিল হুমামাহ ইবনু আবি হুমামাহ দাওসী রা.। উমর রা.-এর খিলাফাতকালে তিনি ইসপাহানের উদ্দেশ্যে অভিযানে বের হন। ইসপাহান উমর রা.-এর আমলেই বিজিত হয়। হুমামাহ রা. অভিযানে বেরিয়ে এই দুআ করেন,
اللَّهُمَّ إِنْ حُمَمَةَ يَزْعُمُ أَنَّهُ يُحِبُّ لِقَاءَكَ، فَإِنْ كَانَ حُمَمَةُ صَادِقًا، فَاعْزِمْ لَهُ عَلَيْهِ بِصِدْقِهِ، وَإِنْ كَانَ كَاذِبًا فَاعْزِمْ لَهُ عَلَيْهِ وَإِنْ كَرِهَ. اللَّهُمَّ لَا تَرُدَّ حُمَمَةَ مِنْ سَفَرِهِ هَذَا.
'হে আল্লাহ, হুমামাহ আপনার সাক্ষাৎলাভে উদগ্রীব। হুমামাহ যদি তার দাবিতে সত্যবাদী হয়ে থাকে, তাহলে তার সত্য দাবিকে আপনি বাস্তবে পরিণত করে দিন। আর যদি সে মিথ্যাবাদী হয়ে থাকে তবে অপছন্দ সত্ত্বেও আপনি তা (মৃত্যু) চাপিয়ে দিন। হে আল্লাহ, হুমামাহকে আপনি এই সফর হতে ফিরিয়ে নিয়েন না।'
বর্ণনাকারী বলেন, 'এরপর পরই তিনি পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হন এবং ইসপাহানেই ইনতিকাল করেন।' তার মৃত্যুর পর আবু মূসা আশআরী রা. দাঁড়িয়ে বলেন, 'হে লোকসকল!' আল্লাহর শপথ! আমরা রাসূল-এর নিকট হতে যা কিছু শুনেছি এবং জেনেছি, সে হিসেবে হুমামাহ শহীদ হয়েছেন।'"¹⁹¹
টিকাঃ
১৯১. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসনাদু আহমাদ, ১৯৬৫৯।
📄 এক মুজাহিদের প্রত্যয়
১৪২. আব্দুল্লাহ ইবনু কায়স রহ. বর্ণনা করেন,
"আমার মনে পড়ে একবার আমি এক অভিযানে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলাম। একদিন প্রচণ্ড ঝড় হচ্ছিল। তখন আমাদের সারিবদ্ধ হওয়ার নির্দেশ দেয়া হলো। লোকজন তড়িঘড়ি সারিবদ্ধ হতে লাগল। এক ব্যক্তি ঘোড়ায় চড়ে আমার সামনে এসে দাঁড়াল। আমার ঘোড়াটি তার ঘোড়ার পেছনেই ছিল। তিনি অবশ্য আমাকে লক্ষ্য করেননি। তখন তিনি নিজেকে লক্ষ্য করে বলছিলেন, 'হে আমার মন, আমি কি অমুক অমুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিনি? তখন তুমি আমাকে বলেছিলে, 'তোমার সন্তান ও পরিবার-পরিজনের কথা মাথায় রেখো।' তোমার কথা মেনে নিয়ে আমি ফিরে আসি। এরপর আমি কি অমুক অমুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিনি? তখন তুমি আমাকে বলেছিলে, 'তোমার পরিবার-পরিজনের কথা মাথায় রেখো।' তখনো তোমার কথা মেনে নিয়ে আমি ফিরে আসি। আল্লাহর শপথ! আজ আমি তোমাকে আল্লাহ তাআলার সামনে উপস্থাপন করব। তিনি তোমাকে গ্রহণ করবেন অথবা (এবারের মতো) ফিরিয়ে দেবেন।
বর্ণনাকারী বলেন, 'আমি লোকটির প্রতি লক্ষ রাখার সিদ্ধান্ত নিলাম। লোকজন সারিবদ্ধ হয়ে আক্রমণ হানল। তিনি ছিলেন একেবারে প্রথম সারিতে। কিছুক্ষণ পর শত্রুপক্ষ পালটা আক্রমণ চালালে লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ল। তিনি তখন তাদের ব্যতিব্যস্ত করে তুললেন। আল্লাহর শপথ! তিনি তার লড়াই চালিয়ে গেলেন (এবং শহীদ হলেন)। যুদ্ধশেষে আমি তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম তার এবং ঘোড়ার দেহে ষাট বা তারও অধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। "¹⁹²
টিকাঃ
১৯২. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: ইবনু আবিদ দুনিয়া, মুহাসাবতুন নাফস, ২১।
📄 ডাগরনয়না হুরের (হুরে ঈনের) সাক্ষাৎলাভ
১৪৩. আব্দুর রহমান ইবনু ইয়াযিদ ইবনি মুআওয়িয়াহ রহ. হতে বর্ণিত আছে যে,
"একবার আমরা রোমান ভূমিতে এক অভিযানে সফর করছিলাম। তখন এক ব্যক্তি বলল, 'হে আবু হাযিম, আমাদের একজন সঙ্গীর সাথে আঙুর বাগানে যে ঘটনা ঘটেছে তা খুলে বলুন। লোকটি তখন আব্দুর রহমান রহ.-কে বলল, 'আপনিই বলুন।' ঘটনাটি আপনি যার কাছে শুনেছেন আমিও তার কাছেই শুনেছি।' তখন আব্দুর রহমান ইবনু ইয়াযিদ রহ. বললেন, 'একবার আমরা একটি আঙুর বাগানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন ঘটনার মূল ব্যক্তিকে আমরা বললাম, 'আপনি এই আঙুর বাগান হতে থলে ভরে আঙুর নিয়ে অমুক স্থানে এসে আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করুন।' লোকটি বাগানে প্রবেশ করতেই তার চোখ পড়ল একজন ডাগরনয়না হুরের প্রতি। তিনি তখন স্বর্ণখচিত সিংহাসনে সমাসীন। লোকটি তাকে দেখেই দৃষ্টি অবনত করল। অতঃপর আঙুরের দিকে তাকাতেই সেদিকেও এমন একজন হুর দেখতে পেল। এবারও সে তার দৃষ্টি অবনত করে নিল। তখন হুরটি তাকে বলল, 'আপনি আমাদের দিকে তাকান। আমাদের দিকে তাকানো আপনার জন্য জায়িয। আমি আপনার জন্য নির্ধারিত ডাগরনয়না জান্নাতী স্ত্রীদেরই একজন। আর আপনি আজই আমাদের কাছে আসছেন।' এই কথা শুনে লোকটি খালি হাতেই ফিরে আসল। আমরা তাকে বললাম, 'কী হলো তোমার! তুমি কি পাগল হয়ে গিয়েছ নাকি? আমরা তার মাঝে আগের তুলনায় কিছু পরিবর্তন দেখতে পেলাম। তার চেহারায় আলাদা নূর ও সৌন্দর্য ফুটে উঠছিল।' কিন্তু লোকটি নিরুত্তর রইল। অতঃপর আমরা তাকে কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে আঙুর বাগানে প্রবেশ ও তার পরের ঘটনা খুলে বলল। এরপরই অতিদ্রুত যুদ্ধের ডাক আসল আর লোকজন ছুটে চলল। তখন আমরা একজনকে লোকটির বাহন ধরে রাখতে বলে তাতে জিন ইত্যাদি লাগিয়ে দিলাম। অতঃপর সে তাতে চড়ে বসল। আমরা সাওয়ারিতে আরোহণ করলাম। সে শাহাদাতের আশায় ছুটল এবং আমাদের মাঝে অগ্রগামী হলো। আর সে ছিল সেদিনের প্রথম শহীদ।"¹⁹³
টিকাঃ
১৯৩. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: আবু বকর শাফিঈ, আল ফাওয়াইদুস শাহীর, ৯১৪।
📄 শহীদের কবর হতে সুঘ্রাণ
১৪৪. মুহাম্মাদ ইবনু মুতাররিফ রহ. বলেন, ‘আবুল আহদাল রহ. বলেন, ‘একবার আমি এক জনপদের লোকজনের নিকট উপস্থিত হলাম। তাদের মসজিদটি ছিল উপকূলীয় এলাকায়। আমাকে দেখে তারা মুখ উঁচিয়ে দেখতে লাগল আর বলল, ‘এ তো দেখছি একেবারে অমুকের মতো!’ আমি বললাম, ‘তোমরা যদি আমার সাথে কারও তুলনা করতে চাও তাহলে ভালো কারও তুলনা করো।’ তারা বলল, ‘আমাদের এখানে একজন লোক ছিল। সে আস্তাবলে দানাপানি জোগাড়ের কাজ করত। একবার লোকজন যুদ্ধে গেলে সেও তাতে অংশগ্রহণ করে আর লড়াই করে শহীদ হয়। তাকে তার অর্জিত অর্থসহই দাফন করা হয়। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় প্রশাসকের কাছে তার কবর খুঁড়ে নগদ অর্থ বের করে আনার অনুমতি চাওয়া হলে তিনি অনুমতি প্রদান করেন। অনুমতি পেয়ে আমরা তার কবরে যাই। কবরের মাটি সরানো শুরু করতেই মিশকের সুঘ্রাণ বেড়িয়ে আসে। অতঃপর খুঁড়তে খুঁড়তে আমরা তার কবর বের করি। কিন্তু সেখানে কিছুই খুঁজে পাইনি।”
টিকাঃ
১৯৪. সনদ সহীহ। তবে আর কেউ বর্ণনা করেননি।