📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 আমর ইবনু উতবাহ ইবনি ফারকাদ রহ.-এর শাহাদাত

📄 আমর ইবনু উতবাহ ইবনি ফারকাদ রহ.-এর শাহাদাত


১৩৯. সুদ্দী রহ. বলেন,
"হাদদাসানি ইবনু আম্মা লি-আমর ইবনি উতবাহ ক্বলা: নাযালনা ফি মারজিন হাসানিন, ফাক্বলা আমর ইবনু উতবাহ: মা আহসানা হাযাল মারজা, ওয়া মা আহসানা হাযাল আনা লাউ আন্না মুনাদিয়ান নাদা: ইয়া খাইলাল্লাহি আরকাবি, ফাখরাজা রাজুলুন ফাকানা ফি আউওয়ালি মান লাক্বিয়া, ফাআসিবু, সুম্মা নুজজিয়া, ওয়া দুফিনা ফি হাযাল মারজি।
আমর ইবনু উতবাহ ইবনি ফারকাদ রহ.-এর এক চাচাত ভাই বলেন, 'একবার আমরা একটি চমৎকার চারণভূমি-জাতীয় জায়গায় অবতরণ করলাম। তখন আমর ইবনু উতবাহ বললেন, 'চারণভূমিটি কত সুন্দর!' এর চেয়ে উত্তম হতো যদি কোনো ঘোষক এই বলে ঘোষণা দিত যে, 'হে আল্লাহ তাআলার বাহিনী! ওঠো! আরোহণ করো।' আর সে ডাকে সাড়া দিয়ে এক ব্যক্তি বেরিয়ে গিয়ে যাকে সামনে পেত তার সাথেই লড়াই করত। অতঃপর সে আহত হতো আর তাকে সরিয়ে এনে এই চারণভূমিতে দাফন করা হতো।'
বর্ণনাকারী বলেন, 'ঠিক তখনই একজন ঘোষক এই বলে ঘোষণা দিল যে, 'হে আল্লাহর সেনাদল! ওঠো, আরোহণ করো। তখন সে একটি শহরের কথা উল্লেখ করল, যার অধিবাসীগণ ইতিপূর্বে সন্ধি করেছিল। কিন্তু তারা এখন সন্ধি ভঙ্গ করেছে।' এ কথা শুনেই আমর ইবনু উতবাহ ছুটে বেরিয়ে গেলেন। লোকজন দ্রুত তার পিতা উতবাহ ইবনু ফারকাদের কাছে ছুটে গিয়ে তাকে এই সংবাদ জানাল। তিনি বললেন, 'তাকে ফিরিয়ে আনো।' এই বলে তিনি তার খোঁজে লোকজনকে পাঠালেন। কিন্তু লোকজন তার কাছে যাওয়ার আগেই তিনি আহত হয়ে পড়েন।
বর্ণনাকারী বলেন, 'আমার ধারণা, তাকে তার সেই বর্শা গেড়ে রাখার স্থানেই (চারণভূমিতে) দাফন করা হয়।'
সুদ্দী রহ. ব্যতীত অন্য একজন বলেন,
তিনি আঘাত পেয়ে বলে ওঠেন, 'আল্লাহর শপথ! তুমি তো এখনো অল্পবয়স্ক। আর আল্লাহ তাআলা বয়সে নবীনদের মাঝে বরকত দান করে থাকেন।' এরপর লোকজনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'তোমরা আমাকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানেই থাকতে দাও। রাতে এসে যদি দেখো আমি বেঁচে আছি। তাহলে আমাকে উঠিয়ে নিয়ে যেয়ো।' অবশ্য তিনি সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।¹⁸⁹

১৪০. সাররী ইবনু ইয়াহইয়া রহ. বলেন,
“তারা ইয়াহইয়া রহ.-এর নেতৃত্বে এক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। সফরকালে আমর ইবনু উতবাহ রহ. বললেন, 'সাদা পোশাকের ওপর রক্তের লালিমা কত সুন্দর দেখাবে!' এই শুনে তার পিতা বললেন, 'আমি তোমাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি (সাওয়ারি হতে) নিচে নামো।' তখন তিনি নেমে সৈন্য সারি হতে আলাদা হয়ে সালাতে দাঁড়িয়ে দুআ করতে লাগলেন। উতবা রহ. তখন তার দিকে তাকিয়ে পাশের জনকে বললেন, 'এই যে আমরকে দেখো, সে তার রবের কাছে আমার বিরুদ্ধে ফরিয়াদ করছে। যাও বেটা! তুমি চাইলে তোমার সাওয়ারিতে চড়ে বসো।' এই কথা শুনে আমর সাওয়ারিতে আরোহণ করলেন এবং শহীদ হলেন। তার খুনিকে ধরে আনা হলো। উতবার রহ. একজনকে বললেন, 'যাও, তোমার ভাইয়ের খুনিকে হত্যা কর।
সাররী রহ. বলেন, 'সম্ভবত তিনি মাসরূক রহ.-কে কথাটি বলেছিলেন।”¹⁹⁰

টিকাঃ
১৮৯. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৪/১৫৬; আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ২০৬৩।
১৯০. সনদ গ্রহণযোগ্য। তবে অন্য কেউ তা বর্ণনা করেননি।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 হুমামাহ ইবনু আবি হুমামাহ দাওসী রা.

📄 হুমামাহ ইবনু আবি হুমামাহ দাওসী রা.


১৪১. হুমাইদ ইবনু আব্দির রহমান রহ. বলেন,
"রাসূল ﷺ-এর একজন সাহাবীর নাম ছিল হুমামাহ ইবনু আবি হুমামাহ দাওসী রা.। উমর রা.-এর খিলাফাতকালে তিনি ইসপাহানের উদ্দেশ্যে অভিযানে বের হন। ইসপাহান উমর রা.-এর আমলেই বিজিত হয়। হুমামাহ রা. অভিযানে বেরিয়ে এই দুআ করেন,
اللَّهُمَّ إِنْ حُمَمَةَ يَزْعُمُ أَنَّهُ يُحِبُّ لِقَاءَكَ، فَإِنْ كَانَ حُمَمَةُ صَادِقًا، فَاعْزِمْ لَهُ عَلَيْهِ بِصِدْقِهِ، وَإِنْ كَانَ كَاذِبًا فَاعْزِمْ لَهُ عَلَيْهِ وَإِنْ كَرِهَ. اللَّهُمَّ لَا تَرُدَّ حُمَمَةَ مِنْ سَفَرِهِ هَذَا.
'হে আল্লাহ, হুমামাহ আপনার সাক্ষাৎলাভে উদগ্রীব। হুমামাহ যদি তার দাবিতে সত্যবাদী হয়ে থাকে, তাহলে তার সত্য দাবিকে আপনি বাস্তবে পরিণত করে দিন। আর যদি সে মিথ্যাবাদী হয়ে থাকে তবে অপছন্দ সত্ত্বেও আপনি তা (মৃত্যু) চাপিয়ে দিন। হে আল্লাহ, হুমামাহকে আপনি এই সফর হতে ফিরিয়ে নিয়েন না।'
বর্ণনাকারী বলেন, 'এরপর পরই তিনি পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হন এবং ইসপাহানেই ইনতিকাল করেন।' তার মৃত্যুর পর আবু মূসা আশআরী রা. দাঁড়িয়ে বলেন, 'হে লোকসকল!' আল্লাহর শপথ! আমরা রাসূল-এর নিকট হতে যা কিছু শুনেছি এবং জেনেছি, সে হিসেবে হুমামাহ শহীদ হয়েছেন।'"¹⁹¹

টিকাঃ
১৯১. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসনাদু আহমাদ, ১৯৬৫৯।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 এক মুজাহিদের প্রত্যয়

📄 এক মুজাহিদের প্রত্যয়


১৪২. আব্দুল্লাহ ইবনু কায়স রহ. বর্ণনা করেন,
"আমার মনে পড়ে একবার আমি এক অভিযানে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলাম। একদিন প্রচণ্ড ঝড় হচ্ছিল। তখন আমাদের সারিবদ্ধ হওয়ার নির্দেশ দেয়া হলো। লোকজন তড়িঘড়ি সারিবদ্ধ হতে লাগল। এক ব্যক্তি ঘোড়ায় চড়ে আমার সামনে এসে দাঁড়াল। আমার ঘোড়াটি তার ঘোড়ার পেছনেই ছিল। তিনি অবশ্য আমাকে লক্ষ্য করেননি। তখন তিনি নিজেকে লক্ষ্য করে বলছিলেন, 'হে আমার মন, আমি কি অমুক অমুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিনি? তখন তুমি আমাকে বলেছিলে, 'তোমার সন্তান ও পরিবার-পরিজনের কথা মাথায় রেখো।' তোমার কথা মেনে নিয়ে আমি ফিরে আসি। এরপর আমি কি অমুক অমুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিনি? তখন তুমি আমাকে বলেছিলে, 'তোমার পরিবার-পরিজনের কথা মাথায় রেখো।' তখনো তোমার কথা মেনে নিয়ে আমি ফিরে আসি। আল্লাহর শপথ! আজ আমি তোমাকে আল্লাহ তাআলার সামনে উপস্থাপন করব। তিনি তোমাকে গ্রহণ করবেন অথবা (এবারের মতো) ফিরিয়ে দেবেন।

বর্ণনাকারী বলেন, 'আমি লোকটির প্রতি লক্ষ রাখার সিদ্ধান্ত নিলাম। লোকজন সারিবদ্ধ হয়ে আক্রমণ হানল। তিনি ছিলেন একেবারে প্রথম সারিতে। কিছুক্ষণ পর শত্রুপক্ষ পালটা আক্রমণ চালালে লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ল। তিনি তখন তাদের ব্যতিব্যস্ত করে তুললেন। আল্লাহর শপথ! তিনি তার লড়াই চালিয়ে গেলেন (এবং শহীদ হলেন)। যুদ্ধশেষে আমি তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম তার এবং ঘোড়ার দেহে ষাট বা তারও অধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। "¹⁹²

টিকাঃ
১৯২. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: ইবনু আবিদ দুনিয়া, মুহাসাবতুন নাফস, ২১।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 ডাগরনয়না হুরের (হুরে ঈনের) সাক্ষাৎলাভ

📄 ডাগরনয়না হুরের (হুরে ঈনের) সাক্ষাৎলাভ


১৪৩. আব্দুর রহমান ইবনু ইয়াযিদ ইবনি মুআওয়িয়াহ রহ. হতে বর্ণিত আছে যে,
"একবার আমরা রোমান ভূমিতে এক অভিযানে সফর করছিলাম। তখন এক ব্যক্তি বলল, 'হে আবু হাযিম, আমাদের একজন সঙ্গীর সাথে আঙুর বাগানে যে ঘটনা ঘটেছে তা খুলে বলুন। লোকটি তখন আব্দুর রহমান রহ.-কে বলল, 'আপনিই বলুন।' ঘটনাটি আপনি যার কাছে শুনেছেন আমিও তার কাছেই শুনেছি।' তখন আব্দুর রহমান ইবনু ইয়াযিদ রহ. বললেন, 'একবার আমরা একটি আঙুর বাগানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন ঘটনার মূল ব্যক্তিকে আমরা বললাম, 'আপনি এই আঙুর বাগান হতে থলে ভরে আঙুর নিয়ে অমুক স্থানে এসে আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করুন।' লোকটি বাগানে প্রবেশ করতেই তার চোখ পড়ল একজন ডাগরনয়না হুরের প্রতি। তিনি তখন স্বর্ণখচিত সিংহাসনে সমাসীন। লোকটি তাকে দেখেই দৃষ্টি অবনত করল। অতঃপর আঙুরের দিকে তাকাতেই সেদিকেও এমন একজন হুর দেখতে পেল। এবারও সে তার দৃষ্টি অবনত করে নিল। তখন হুরটি তাকে বলল, 'আপনি আমাদের দিকে তাকান। আমাদের দিকে তাকানো আপনার জন্য জায়িয। আমি আপনার জন্য নির্ধারিত ডাগরনয়না জান্নাতী স্ত্রীদেরই একজন। আর আপনি আজই আমাদের কাছে আসছেন।' এই কথা শুনে লোকটি খালি হাতেই ফিরে আসল। আমরা তাকে বললাম, 'কী হলো তোমার! তুমি কি পাগল হয়ে গিয়েছ নাকি? আমরা তার মাঝে আগের তুলনায় কিছু পরিবর্তন দেখতে পেলাম। তার চেহারায় আলাদা নূর ও সৌন্দর্য ফুটে উঠছিল।' কিন্তু লোকটি নিরুত্তর রইল। অতঃপর আমরা তাকে কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে আঙুর বাগানে প্রবেশ ও তার পরের ঘটনা খুলে বলল। এরপরই অতিদ্রুত যুদ্ধের ডাক আসল আর লোকজন ছুটে চলল। তখন আমরা একজনকে লোকটির বাহন ধরে রাখতে বলে তাতে জিন ইত্যাদি লাগিয়ে দিলাম। অতঃপর সে তাতে চড়ে বসল। আমরা সাওয়ারিতে আরোহণ করলাম। সে শাহাদাতের আশায় ছুটল এবং আমাদের মাঝে অগ্রগামী হলো। আর সে ছিল সেদিনের প্রথম শহীদ।"¹⁹³

টিকাঃ
১৯৩. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: আবু বকর শাফিঈ, আল ফাওয়াইদুস শাহীর, ৯১৪।

ফন্ট সাইজ
15px
17px