📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 চার হাজার দিরহামের চেয়ে বেশি পছন্দনীয়

📄 চার হাজার দিরহামের চেয়ে বেশি পছন্দনীয়


১৩৬. ইমাম সুদ্দী রহ. বলেন,
"আমর ইবনু উতবাহ ইবনি ফারকাদ রহ. এক অভিযানে বেড়িয়ে চার হাজার দিরহাম ব্যয়ে একটি ঘোড়া ক্রয় করেন। লোকজন এই মূল্যটি বেশ চড়া হয়ে গেছে বলতে লাগলেন। তিনি বললেন, 'শত্রুর উদ্দেশ্যে এর প্রতিটি পদক্ষেপ আমার কাছে চার হাজার দিরহামের চেয়েও বেশি পছন্দনীয়।'"¹⁸⁶

টিকাঃ
১৮৬. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৪/১৫৬।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 মুজাহিদদের জন্য উত্তম পোশাক

📄 মুজাহিদদের জন্য উত্তম পোশাক


১৩৭. ইমাম সুদ্দী রহ. বলেন,
"আমর ইবনু উতবাহ ইবনি ফারকাদ রহ. এক অভিযানে বের হলেন। সেই অভিযানে তার পিতাও ছিলেন। সফরে তিনি কিহয় নামক বিশেষ সাদা কাপড়ের পোশাক পরিধান করেন। পোশাক পরিধান করে তিনি বলেন, 'এই দেহে এর চেয়ে সুন্দর পোশাক আর কী হতে পারে?' তখন মুতাররিফ রহ. বললেন, 'অমুক অমুক রেশম-মিশ্রিত পোশাক।' তিনি বললেন, 'আমার মতে আমার জন্য রক্তের চেয়ে উত্তম কোনো পোশাক হতে পারে না।”¹⁸⁷

টিকাঃ
১৮৭. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৪/১৫৫।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 আমর ইবনু উতবাহ ইবনি ফারকাদ রহ.-এর তিনটি কামনা

📄 আমর ইবনু উতবাহ ইবনি ফারকাদ রহ.-এর তিনটি কামনা


১৩৮. আমর ইবনু উতবাহ ইবনি ফারকাদ রহ. বলেন,
"আল্লাহ তাআলার নিকট আমি তিনটি বিষয় কামনা করেছি। তন্মধ্যে তিনি আমাকে দুটি দান করেছেন। আর তৃতীয়টির অপেক্ষায় আছি। আমি তার নিকট চেয়েছি, তিনি যেন আমাকে দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি দান করেন। অতএব দুনিয়ার কী আসল আর গেল তাতে আমার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। আমি চেয়েছিলাম, তিনি যেন আমাকে সালাত আদায়ের শক্তি-সামর্থ্য দান করেন। তিনি তা দান করেছেন। আর আমি তার কাছে শাহাদাতের আবেদন করেছি। এখন তার অপেক্ষায় আছি।”¹⁸⁸

টিকাঃ
১৮৮. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৪/১৫৫।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 আমর ইবনু উতবাহ ইবনি ফারকাদ রহ.-এর শাহাদাত

📄 আমর ইবনু উতবাহ ইবনি ফারকাদ রহ.-এর শাহাদাত


১৩৯. সুদ্দী রহ. বলেন,
"হাদদাসানি ইবনু আম্মা লি-আমর ইবনি উতবাহ ক্বলা: নাযালনা ফি মারজিন হাসানিন, ফাক্বলা আমর ইবনু উতবাহ: মা আহসানা হাযাল মারজা, ওয়া মা আহসানা হাযাল আনা লাউ আন্না মুনাদিয়ান নাদা: ইয়া খাইলাল্লাহি আরকাবি, ফাখরাজা রাজুলুন ফাকানা ফি আউওয়ালি মান লাক্বিয়া, ফাআসিবু, সুম্মা নুজজিয়া, ওয়া দুফিনা ফি হাযাল মারজি।
আমর ইবনু উতবাহ ইবনি ফারকাদ রহ.-এর এক চাচাত ভাই বলেন, 'একবার আমরা একটি চমৎকার চারণভূমি-জাতীয় জায়গায় অবতরণ করলাম। তখন আমর ইবনু উতবাহ বললেন, 'চারণভূমিটি কত সুন্দর!' এর চেয়ে উত্তম হতো যদি কোনো ঘোষক এই বলে ঘোষণা দিত যে, 'হে আল্লাহ তাআলার বাহিনী! ওঠো! আরোহণ করো।' আর সে ডাকে সাড়া দিয়ে এক ব্যক্তি বেরিয়ে গিয়ে যাকে সামনে পেত তার সাথেই লড়াই করত। অতঃপর সে আহত হতো আর তাকে সরিয়ে এনে এই চারণভূমিতে দাফন করা হতো।'
বর্ণনাকারী বলেন, 'ঠিক তখনই একজন ঘোষক এই বলে ঘোষণা দিল যে, 'হে আল্লাহর সেনাদল! ওঠো, আরোহণ করো। তখন সে একটি শহরের কথা উল্লেখ করল, যার অধিবাসীগণ ইতিপূর্বে সন্ধি করেছিল। কিন্তু তারা এখন সন্ধি ভঙ্গ করেছে।' এ কথা শুনেই আমর ইবনু উতবাহ ছুটে বেরিয়ে গেলেন। লোকজন দ্রুত তার পিতা উতবাহ ইবনু ফারকাদের কাছে ছুটে গিয়ে তাকে এই সংবাদ জানাল। তিনি বললেন, 'তাকে ফিরিয়ে আনো।' এই বলে তিনি তার খোঁজে লোকজনকে পাঠালেন। কিন্তু লোকজন তার কাছে যাওয়ার আগেই তিনি আহত হয়ে পড়েন।
বর্ণনাকারী বলেন, 'আমার ধারণা, তাকে তার সেই বর্শা গেড়ে রাখার স্থানেই (চারণভূমিতে) দাফন করা হয়।'
সুদ্দী রহ. ব্যতীত অন্য একজন বলেন,
তিনি আঘাত পেয়ে বলে ওঠেন, 'আল্লাহর শপথ! তুমি তো এখনো অল্পবয়স্ক। আর আল্লাহ তাআলা বয়সে নবীনদের মাঝে বরকত দান করে থাকেন।' এরপর লোকজনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'তোমরা আমাকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানেই থাকতে দাও। রাতে এসে যদি দেখো আমি বেঁচে আছি। তাহলে আমাকে উঠিয়ে নিয়ে যেয়ো।' অবশ্য তিনি সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।¹⁸⁹

১৪০. সাররী ইবনু ইয়াহইয়া রহ. বলেন,
“তারা ইয়াহইয়া রহ.-এর নেতৃত্বে এক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। সফরকালে আমর ইবনু উতবাহ রহ. বললেন, 'সাদা পোশাকের ওপর রক্তের লালিমা কত সুন্দর দেখাবে!' এই শুনে তার পিতা বললেন, 'আমি তোমাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি (সাওয়ারি হতে) নিচে নামো।' তখন তিনি নেমে সৈন্য সারি হতে আলাদা হয়ে সালাতে দাঁড়িয়ে দুআ করতে লাগলেন। উতবা রহ. তখন তার দিকে তাকিয়ে পাশের জনকে বললেন, 'এই যে আমরকে দেখো, সে তার রবের কাছে আমার বিরুদ্ধে ফরিয়াদ করছে। যাও বেটা! তুমি চাইলে তোমার সাওয়ারিতে চড়ে বসো।' এই কথা শুনে আমর সাওয়ারিতে আরোহণ করলেন এবং শহীদ হলেন। তার খুনিকে ধরে আনা হলো। উতবার রহ. একজনকে বললেন, 'যাও, তোমার ভাইয়ের খুনিকে হত্যা কর।
সাররী রহ. বলেন, 'সম্ভবত তিনি মাসরূক রহ.-কে কথাটি বলেছিলেন।”¹⁹⁰

টিকাঃ
১৮৯. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৪/১৫৬; আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ২০৬৩।
১৯০. সনদ গ্রহণযোগ্য। তবে অন্য কেউ তা বর্ণনা করেননি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px