📄 আসহাবুর রাসূলের বিশেষ চারটি গুণ
১২৮. মুহাম্মাদ ইবনু জিয়াদ রহ. আবু ইনাবাহ খাওলানী রা. সম্পর্কে বলেন,
আন্নাহু কানা ইয়াওমান ফী মাজলিসে খাওলানা ফিল মাসজিদি জালিসান, ফাখরাজা আব্দুল্লাহ ইবনু আবদিল মালিকি হারিবান মিনাত তাউনি, ফাসআলা আনহু, ফাক্বলু: খরাজা ইয়াতাযাহযাহু হারিবান মিনাত তাউনি, ফাক্বলা: ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মা কুনতু আরা আন আবকুয়া হাত্তা আসমাআ মিসলা হাযা। আফালা উখবিরুকুম আন খিলালিন কানাত আলাইহা ইখওয়ানুকুম? আউওয়ালুহা: লিকোয়াউল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা কানা আহাব্বা ইলাইহিম মিনাশ শাহদি, ওয়াস সানিয়্যাতু: লাম ইয়াকুনু ইয়াখাফুনা আদুউওয়ান, ক্বল্লু আও কাসুরু, ওয়াস সালিসাতু: লাম ইয়াকুনু ইয়াখাফুনা আওযান মিনাদ্দুনিয়া, কানূ ওয়াসিকীনা বিল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আন ইয়ারযুকোাহুম, ওয়ার রাবিআতু: ইন নাযালা বিহিমুত তাউন লাম ইয়াবরাহু হাত্তা ইয়াক্বদিয়াল্লাহু ফীহিম মা ক্বদা।
"একবার তিনি খাওলানের এক মসজিদে বসা ছিলেন। এমন সময় আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দিল মালিক মহামারি হতে আত্মরক্ষার্থে জনপদ ছেড়ে পালাচ্ছিলেন। খাওলানী রা. তার সম্পর্কে জানতে চাইলে বলা হলো, 'তিনি মহামারির ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন।' এ কথা শুনে তিনি বললেন, 'ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন। আমি বেঁচে থাকতে এই কথা শুনব বলে তো ধারণা করিনি। আমি তোমাদের আমার সঙ্গীগণ (সাহাবায়ে কেরাম) যে গুণাবলির অধিকারী ছিলেন তা জানিয়ে দেব? তাদের প্রথম গুণ ছিল, আল্লাহ তাআলার সাক্ষাৎ লাভ (শাহাদাত) তাদের নিকট মধুর চেয়ে মিষ্ট ছিল। দ্বিতীয় গুণ ছিল, তারা শত্রুকে কখনো ভয় পেতেন না। তারা সংখ্যায় কম হোক বা বেশি। তাদের তৃতীয় গুণ ছিল, তারা পার্থিব অভাব অনটনকে মোটেও ভয় পেতেন না। তাদের পূর্ণ আস্থা ছিল যে, আল্লাহ তাআলা তাদের রিযক দান করবেন। তাদের চতুর্থ গুণ ছিল, মহামারি দেখা দিলে তারা সেই স্থান ত্যাগ করতেন না। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য যা নির্ধারণ করতেন তা-ই হতো।”¹⁷⁶
টিকাঃ
১৭৬. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: ইবনুল আসাকির, তারীখু মাদীনাতি দিমাশক, ৬৭/১২৩।
📄 শহীদ কে?
১২৯. মাসরূক রহ. বলেন,
কুলনা ইনদা উমারা ইবনিল খাত্তবি রদিয়াল্লাহু আনহু: হানিয়ান লিমান রাযাক্বোহুল্লাহু তাবারাকা ওয়া তাআলাশ শাহাদাতা। ফাক্বলা: ওয়ামা তাউদ্দুনাশ শাহাদাতা? ক্বলু: আল-গাযওয়া ফী সাবীলিল্লাহি। ক্বলা: ইন্না যালিকা লাকাসীরুন। ক্বলু: ফামানীশ শাহীদু? ক্বলা: আল্লাযী ইয়াহতাসিবু নাফসাহু।
"উমর ইবনুল খাত্তাব রা.-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে আমরা বললাম, 'আল্লাহ তাআলা যাকে শাহাদাতের রিজিক দানে ধন্য করেছেন তাকে অভিনন্দন!' উমর রা. বললেন, 'শাহাদাত বলতে তোমরা কী বোঝো?' সবাই বলল, 'আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করা (লড়াই করে যে শহীদ হয়)।' তিনি বললেন, 'এ তো অনেক বড় বিষয়।' সবাই বলল, 'তাহলে শহীদ কে?' তিনি বললেন, 'যে ব্যক্তি নিজের জীবনের বিনিময়ে সাওয়াবের আশা রাখে সে-ই শহীদ।"¹⁷⁷
টিকাঃ
১৭৭. বর্ণনাকারীগণ গ্রহণযোগ্য। তবে গ্রন্থকার ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেননি।
📄 পিতা-পুত্রের একসাথে জান্নাতে যাওয়ার কামনা
১৩০. আবু যুহাইফাহ রা. বলেন,
ইন্না লামুতাওয়াজ্জিহুনা ইলা মিহরানা, ওয়া মাআনা রাজুলুন মিনাল আযদি ইয়ুক্বলা লাহু: আবু আসাবাহ, ফাজায়ালা ইয়াবকী, ফাকুলনা: আজাযাউ হাযা? ক্বলা: লা, ওয়ালাকিন তারাকতু আসাবাতান ইয়া’নী আবাহু ফির রাহলি, ফাওয়াদ্দাতু আন্নাহু কানা মা’ঈ ফাদখালনাল জান্নাহ।
"আমরা মিহরান নামক স্থানের দিকে অভিযানের উদ্দেশ্যে সফর করছিলাম। আমাদের সাথে আযদ গোত্রের এক লোক ছিল। তার নাম আবু আছাবাহ। তিনি হঠাৎ কাঁদতে শুরু করলেন। আমরা বললাম, 'তিনি কি কোনো সমস্যায় পড়েছেন?' তিনি বললেন, 'না, আমি আমার পিতা আছাবাহ-কে তার বাহনে রেখে এসেছি। এখন মনে হচ্ছে তিনি সাথে থাকলে আমরা একসাথে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারতাম।”¹⁷⁸
টিকাঃ
১৭৮. সনদ দুর্বল। বর্ণনাকারী আবু ইবনু আমর ইবনি উতবাহ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায় না।
📄 আল্লাহর রাস্তায় এক-দুই বর্শা পরিমাণ এগিয়ে যাওয়ার অন্তিম ইচ্ছা
১৩১. মিসআর রহ. আওন ইবনু আব্দুল্লাহ রহ. সম্পর্কে বর্ণনা করেন,
আন্না রাজুলান মারা আলাইহি ইয়াওমাল ক্বদিসিয়্যাতি, ওয়া ক্বদিনতাসারা ক্বুসুবুহু, ফাক্বলা লিবা’দি মান মাররা আলাইহি: দুম্মাল্লাতী মিনহু; লাআল্লী আদনূ ফী সাবীলিল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ক্বীদা রুমহিন আও রুমহাইনি। ক্বলা: ফামাররা আলাইহি ওয়া ক্বাদ দানা ক্বীদা রুমহিন আও রুমহাইনি।
"কাদিসিয়্যার যুদ্ধের দিন তিনি এক (আহত) ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। লোকটির ভুঁড়ি বেরিয়ে গিয়েছিল। তিনি তার পাশ দিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তিকে বললেন, 'আমার এই ভুঁড়িটা একটু সামলে দাও, যাতে আমি আল্লাহু আযযা ওয়া জাল্লার রাস্তায় আরও এক-দুই বর্শা পরিমাণ চলতে পারি।' আওন ইবনু আব্দিল্লাহ কিছুক্ষণ পর তার পাশ দিয়ে আবার যাওয়ার সময় দেখলেন, তিনি এক বা দুই বর্শা পরিমাণ এগিয়ে ইনতিকাল করেছেন।"¹⁷⁹
টিকাঃ
১৭৯. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবাহ, ৩৩৭৬২।