📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 পূর্ববর্তী কিতাবের বর্ণনায় শহীদের প্রকারভেদ

📄 পূর্ববর্তী কিতাবের বর্ণনায় শহীদের প্রকারভেদ


১২৫. ইউসুফ ইবনু আবি মারইয়াম রহ. জুওয়াইরিয়াহ ইবনু কুদামা রহ. সম্পর্কে বর্ণনা করেন, আন্নাহুন তালাকোয়া হুয়া ওয়া কা’বুন, হাত্তা দাখালা আলা হাবরিন মিনাল আহবারি, ফাক্বলা লাহু কা’বুন: মা কুনতা মুফশিয়ান মিন হাদীসিকা, ফাআফশিহি ইলা হাযা। ফাক্বমা ইলা কিসওয়াতিন ফিল বাইতি, ফাআখরাজা কারাসাতান ফীহা সালাসাাতু আসতুরিন, ইযা আউওয়ালু সাতরিন: রাজুলুন গাযা ফী সাবীলিল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা লা ইউরীদু আন ইয়াক্বতুলা ওয়ালা ইয়ুক্বতালা, ফাআসাবাহু সাহমুন, ফাআউওয়ালু ক্বাতরাতিন মিনহু কাফফারাতুন লিকুল্লি যানবিন আযনাবাহু, ওয়া লাহু বিকুল্লি ক্বাতরাতিন দারাজাতুন ফিল জান্নাহ। ওয়া ইযাস সাতরুস সানী: রাজুলুন গাযা ইউরীদু আন ইয়াক্বতুলা ওয়ালা ইয়ুক্বতালা, ফাআসাবাহু সাহমুন, ফাআউওয়ালু ক্বাতরাতিন মিন দামিহি কাফফারাতান লিকুল্লি যানবিন আযনাবাহু, ওয়া লাহু বিকুল্লি ক্বাতরাতিন দারাজাতুন ফিল জান্নাহ হাত্তা ইউযাহিমু বিরুকবাতিহি ইবরাহীমা আলাইহিস সালামু। ওয়া ইযাস সাতরুস সালিসু: রাজুলুন গাযা ফী সাবীলিল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ইউরীদু আন ইয়াক্বতুলা, ওয়া ইউরীদু আন ইয়ুক্বতালা, ফাআসাবাহু সাহমুন, ফাআউওয়ালু ক্বাতরাতিন মিনহু কাফফারাতুন লিকুল্লি যানবিন আযনাবাহু, ওয়া লাহু বিকুল্লি ক্বাতরাতিন দারাজাতুন ফিল জান্নাহ, ওয়া ইয়াজীউ ইয়াওমাল ক্বিয়ামাতি শাহিরান সাইফাহু ইয়াশফাউ।

"একবার জুওয়াইরিয়াহ ইবনু কুদামা রহ. এবং কা'আব আহবার রহ. জনৈক ইয়াহুদি পণ্ডিতের কাছে গেলেন। কা'আব রহ. তাকে বললেন, 'আপনার নিকট গচ্ছিত ইলম হতে কিছু প্রকাশ করতে চাইলে তার কাছে তা বর্ণনা করুন।' পণ্ডিত উঠে ঘরের পর্দার আড়ালে চলে গেলেন এবং একটি খাতা নিয়ে আসলেন। সেখানে তিনটি লাইন লেখা ছিল:

প্রথম লাইনে লেখা ছিল, যে ব্যক্তি কোনোরকম হতাহতের ইচ্ছা ছাড়াই আল্লাহর রাস্তায় বের হলো, কিন্তু একটি তির এসে তাকে বিদ্ধ করল। তার রক্তের প্রথম ফোঁটা সমস্ত গুনাহের কাফফারা হয়ে তা মুছে দেবে। আর বাকি প্রতিটি ফোঁটার বিনিময়ে জান্নাতে একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।

দ্বিতীয় লাইনে লেখা ছিল, যে ব্যক্তি এই উদ্দেশ্যে আল্লাহর রাস্তায় বের হলো যে, সে হত্যা করবে কিন্তু নিজে নিহত হবে না। অতঃপর একটি তির এসে তাকে বিদ্ধ করল। তার রক্তের প্রথম ফোঁটা সমস্ত গুনাহের কাফফারা হয়ে তা মুছে দেবে। আর বাকি প্রতিটি ফোঁটার বিনিময়ে জান্নাতে একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। এমনকি সে ইবরাহীম আ.-এর হাঁটুর সাথে হাঁটু লাগিয়ে বসবে।

তৃতীয় লাইনে লেখা ছিল, যে ব্যক্তি এই উদ্দেশ্যে আল্লাহর রাস্তায় বের হলো যে, সে হত্যা করবে এবং নিজে নিহত হবে। অতঃপর একটি তির এসে তাকে বিদ্ধ করল। তার রক্তের প্রথম ফোঁটা সমস্ত গুনাহের কাফফারা হয়ে তা মুছে দেব। আর বাকি প্রতিটি ফোঁটার বিনিময়ে জান্নাতে একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। কিয়ামাতের দিন সে খোলা তরবারি উঁচিয়ে আসবে এবং সুপারিশ করবে।"¹⁷²

টিকাঃ
১৭২. ইসরাঈলী রিওয়ায়াত। সনদ গরীব। একাধিক বর্ণনাকারী সম্পর্কে অস্পষ্টতা রয়েছে। তবে আগের বর্ণনায় সমার্থক বক্তব্য রয়েছে।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 শহীদের চারটি স্তর

📄 শহীদের চারটি স্তর


১২৬. উমার ইবনুল খাত্তাব রা. হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছেন,
"শহীদ চার প্রকারের:
এক. উত্তম ঈমানের অধিকারী মুমিন, যে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং আল্লাহ তাআলার প্রতিশ্রুতি সত্য বলে বিশ্বাস করে যুদ্ধ করে, অবশেষে মারা যায়। কিয়ামতের দিন লোকেরা তার প্রতি এভাবে ওপরে চোখ তুলে তাকাবে, এই বলে তিনি মাথা ওপরের দিকে তুলে (তাকিয়ে) দেখালেন, এমনকি তাঁর মাথার টুপি পড়ে গেল। রাবী বলেন, এখানে উমার রা.-এর টুপির কথা বলা হয়েছে না রাসূল ﷺ-এর টুপি বোঝানো হয়েছে তা আমার জানা নেই।

দুই. আরেক ব্যক্তিও উত্তম ঈমানের অধিকারী মু'মিন। সেও শত্রুর মোকাবিলায় অবতীর্ণ হয়, কিন্তু ভীরুতার কারণে তার দেহ এমনভাবে কম্পিত হতে থাকে যেন তাকে বাবলা গাছের কাঁটাযুক্ত ডাল দিয়ে মারা হয়েছে। একটি অদৃশ্য তির এসে তার শরীরে বিদ্ধ হলে তার আঘাতে সে মারা যায়। এ হলো দ্বিতীয় স্তরের শহীদ।

তিন. আরেক মুমিন ব্যক্তি তার ভালো কাজের সাথে কিছু খারাপ কাজও করে ফেলেছে। সে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে আল্লাহ তাআলার ওয়াদা সত্য বলে বিশ্বাস করে এবং যুদ্ধ করে অবশেষে মারা যায়। এ ব্যক্তি তৃতীয় স্তরের শহীদ।

চার. অপর মুমিন ব্যক্তি যে নিজের ওপর যুলুম করেছে। সেও শত্রুর মোকাবিলায় লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয় এবং আল্লাহ তাআলার ওয়াদা সত্য বলে বিশ্বাস করে যুদ্ধ করে, তারপর মারা যায়। এই ব্যক্তি চতুর্থ স্তরের শহীদ।"¹⁷³

টিকাঃ
১৭৩. সনদ দুর্বল। আরও রয়েছে: সুনানু তিরমিযী, ১৬৪৪। সনদ দুর্বল।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 অগ্রবর্তী কারা?

📄 অগ্রবর্তী কারা?


১২৭. উসমান ইবনু আবি সাওদাহ রহ. বলেন,
বলাঘনা ফী হাযিহিল আয়াতি: ওয়াস সাবিকুনাস সাবিকুন [ওয়াকিয়া: ১০] ক্বলা: আউওয়ালুহু রাওয়াহান ইলাল মাসজিদি, ওয়া আউওয়ালুহুম খুরুজান ফী সাবীলিল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা।
"আল্লাহ তাআলা বলেন, 'ওয়াস সাবিকুনাস সাবিকুন' অগ্রবর্তীগণ তো অগ্রবর্তীই।¹⁷⁴
এই আয়াতের ব্যাপারে আমরা জানতে পারি যে, এখানে অগ্রগামী বলতে 'সবার আগে মসজিদে গমনকারী এবং সবার আগে আল্লাহর রাস্তায় গমনকারী।”¹⁷⁵

টিকাঃ
১৭৪. সূরা ওয়াকিয়াহ, ৫৬:১০
১৭৫. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: তাফসিরুত তাবারী, ২২/২৯০।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 আসহাবুর রাসূলের বিশেষ চারটি গুণ

📄 আসহাবুর রাসূলের বিশেষ চারটি গুণ


১২৮. মুহাম্মাদ ইবনু জিয়াদ রহ. আবু ইনাবাহ খাওলানী রা. সম্পর্কে বলেন,
আন্নাহু কানা ইয়াওমান ফী মাজলিসে খাওলানা ফিল মাসজিদি জালিসান, ফাখরাজা আব্দুল্লাহ ইবনু আবদিল মালিকি হারিবান মিনাত তাউনি, ফাসআলা আনহু, ফাক্বলু: খরাজা ইয়াতাযাহযাহু হারিবান মিনাত তাউনি, ফাক্বলা: ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মা কুনতু আরা আন আবকুয়া হাত্তা আসমাআ মিসলা হাযা। আফালা উখবিরুকুম আন খিলালিন কানাত আলাইহা ইখওয়ানুকুম? আউওয়ালুহা: লিকোয়াউল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা কানা আহাব্বা ইলাইহিম মিনাশ শাহদি, ওয়াস সানিয়্যাতু: লাম ইয়াকুনু ইয়াখাফুনা আদুউওয়ান, ক্বল্লু আও কাসুরু, ওয়াস সালিসাতু: লাম ইয়াকুনু ইয়াখাফুনা আওযান মিনাদ্দুনিয়া, কানূ ওয়াসিকীনা বিল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আন ইয়ারযুকোাহুম, ওয়ার রাবিআতু: ইন নাযালা বিহিমুত তাউন লাম ইয়াবরাহু হাত্তা ইয়াক্বদিয়াল্লাহু ফীহিম মা ক্বদা।

"একবার তিনি খাওলানের এক মসজিদে বসা ছিলেন। এমন সময় আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দিল মালিক মহামারি হতে আত্মরক্ষার্থে জনপদ ছেড়ে পালাচ্ছিলেন। খাওলানী রা. তার সম্পর্কে জানতে চাইলে বলা হলো, 'তিনি মহামারির ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন।' এ কথা শুনে তিনি বললেন, 'ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন। আমি বেঁচে থাকতে এই কথা শুনব বলে তো ধারণা করিনি। আমি তোমাদের আমার সঙ্গীগণ (সাহাবায়ে কেরাম) যে গুণাবলির অধিকারী ছিলেন তা জানিয়ে দেব? তাদের প্রথম গুণ ছিল, আল্লাহ তাআলার সাক্ষাৎ লাভ (শাহাদাত) তাদের নিকট মধুর চেয়ে মিষ্ট ছিল। দ্বিতীয় গুণ ছিল, তারা শত্রুকে কখনো ভয় পেতেন না। তারা সংখ্যায় কম হোক বা বেশি। তাদের তৃতীয় গুণ ছিল, তারা পার্থিব অভাব অনটনকে মোটেও ভয় পেতেন না। তাদের পূর্ণ আস্থা ছিল যে, আল্লাহ তাআলা তাদের রিযক দান করবেন। তাদের চতুর্থ গুণ ছিল, মহামারি দেখা দিলে তারা সেই স্থান ত্যাগ করতেন না। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য যা নির্ধারণ করতেন তা-ই হতো।”¹⁷⁶

টিকাঃ
১৭৬. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: ইবনুল আসাকির, তারীখু মাদীনাতি দিমাশক, ৬৭/১২৩।

ফন্ট সাইজ
15px
17px