📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 ইয়ামামার যুদ্ধে সালিম রা.-এর আত্মত্যাগ

📄 ইয়ামামার যুদ্ধে সালিম রা.-এর আত্মত্যাগ


১১৮. ইবরাহীম ইবনু হানযালাহ রহ. তার পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, অ্যান্না সালিমান মাওলা আবি হুযাইফাতা ক্বীলা লাহু ইয়াওমায়িযিন ফিল লাওয়ায়ি: আই তাহাাফাযু বিহি? ফাকোয়ালা গাইরুহু: তাখশা মিন নাফসিকা শাইয়ান ফাতুওয়াল্লি আল-লাওয়ায়া গাইরাকা? ফাকোয়ালা: বি’সা হামিলুল কুরআনি আনা ইযান। ফাকুাতিআ’ত ইয়ামিনুহু, ফাআখাযাল লাওয়ায়া বিইয়াসারিহি, ফাকুাতিআ’ত ইয়াসারুহু, ফা’তাকনাকোয়াল লাওয়ায়া ওয়া হুয়া ইয়াকুলু: "ওয়ামা মুহাম্মাদুন ইল্লা রাসূলুন" [আল-ইমরান: ১৪৪], "ওয়া কাআয়্যিন মিন নাবিয়্যিন ক্বাতালা মাআহু রিব্বিয়্যুনা কাসির" [আল-ইমরান: ১৪৬] ফালাম্মা সুরিআ ক্বীলা লিআসহাবিহি: মা ফাআলা আবু হুযাইফাতা? ক্বীলা: কুাতিলা. কোয়ালা: ফামা ফাআলা ফুলানুন লিরাজুলিন কোয়াদ সাম্মাহু? ক্বীলা: কুাতিলা. কোয়ালা ফায়াদজিউ’নি বাইনাহুমা।

"ইয়ামামার যুদ্ধের দিন হুযাইফা রা.-এর মুক্তিপ্রাপ্ত দাস সালিম রা.-কে যুদ্ধের পতাকা সম্পর্কে বলা হলো অর্থাৎ বলা হলো যে, আপনি কি এটা সামলে রাখতে পারবেন? আরেকজন বলে উঠল, 'আপনি কি নিজের ব্যাপারে ভয় পাচ্ছেন? তাহলে এই দায়িত্ব আপনি ছাড়া অন্য কাউকে দেয়া হবে।' তিনি বললেন, 'তাহলে আমি নিকৃষ্ট কুরআন-বাহক বলে বিবেচিত হব! (এই বলে তিনি দায়িত্ব নিলেন। অতঃপর) তার ডান হাত কেটে দেয়া হলো। তিনি বাম হাতে পতাকা সামলে নিলেন। তার বাম হাতও কেটে দেয়া হলো। এবার তিনি বুক ও ঘাড় দিয়ে পতাকা চেপে ধরে বলতে লাগলেন,

ওয়ামা মুহাম্মাদুন ইল্লা রাসূলুন ক্বাদ খালাত মিন কাবলিহির রুসুলু আফাইন মাতা আউ কুতিলান কোয়লাবতুম আলা আ’কাবি কুম।

'আর মুহাম্মাদ একজন রাসূল বৈ তো নয়! তার পূর্বেও বহু রাসূল অতিবাহিত হয়ে গেছেন। তাহলে কি তিনি যদি মৃত্যুবরণ করেন অথবা নিহত হন, তবে তোমরা পশ্চাদপসরণ করবে? বস্তুত কেউ যদি পশ্চাদপসরণ করে, তবে তাতে আল্লাহর কিছুই ক্ষতি হবে না। আর যারা কৃতজ্ঞ, আল্লাহ তাদের সওয়াব দান করবেন। আর আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ মরতে পারে না-সে জন্য একটা সময় নির্ধারিত রয়েছে। বস্তুত যে লোক দুনিয়ায় বিনিময় কামনা করবে, আমি তাকে তা দুনিয়াতেই দান করব। পক্ষান্তরে যে লোক আখেরাতে বিনিময় কামনা করবে, তা থেকে আমি তাকে তা-ই দেব। আর যারা কৃতজ্ঞ তাদের আমি প্রতিদান দেব। আর বহু নবী ছিলেন, যাদের সঙ্গী-সাথিরা তাদের অনুবর্তী হয়ে জিহাদ করেছে; আল্লাহর পথে তাদের কিছু কষ্ট হয়েছে বটে, কিন্তু আল্লাহর রাস্তায় তারা হেরেও যায়নি, ক্লান্তও হয়নি এবং দমেও যায়নি। আর যারা ধৈর্যধারণ করে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন।'

অবশেষে তিনি যখন লুটিয়ে পড়লেন তখন জিজ্ঞাসা করলেন, 'হুযাইফার খবর কী?' বলা হলো, 'তিনি নিহত হয়েছেন।' তারপর আরেকজনের নাম উল্লেখ করে তিনি জানতে চাইলেন, 'অমুকের খবর কী?' বলা হলো, 'তিনিও শহীদ হয়েছেন।' তিনি বললেন, 'আমাকে তাদের দুজনের মাঝে শুইয়ে দাও।'

১২০. আম্মাজান আয়িশা রা. বলেন, احْتَبَسَتْ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: مَا حَبَسَكِ ؟ فَقَالَتْ: سمِعْتُ قَارِنَا يَقْرَأُ فَذَكَرَتْ مِنْ حُسْنِ قِرَاءَتِهِ، فَأَخَذَ رِدَاءَهُ، فَخَرَجَ، فَإِذَا هُৱ سَالِمُ مَوْلَى أَبِي حُذَيْفَةَ، فَقَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ فِي أُمَّتِي مِثْلَكَ

"একবার আয়িশা রা. রাসূল ﷺ-এর নিকট আসতে দেরি করলেন। রাসূল ﷺ জিজ্ঞাসা করলেন, 'তোমার দেরি হলো কী কারণে?' তিনি বললেন, 'আমি একজন তিলাওয়াতকারীর তিলাওয়াত শুনছিলাম।' অতঃপর তিনি তার তিলাওয়াতের মাধুর্যের কথা উল্লেখ করলেন। এ কথা শুনে রাসূল ﷺ নিজের চাদর গায়ে জড়িয়ে বেরিয়ে গেলেন। গিয়ে দেখেন লোকটি হলো হুযাইফা রা.-এর মুক্তিপ্রাপ্ত দাস সালিম রা.। তাকে দেখে রাসূল ﷺ বললেন, 'সমস্ত প্রশংসা কেবলই আল্লাহ তাআলার (আলহামদুলিল্লাহ), যিনি আমার উম্মাতের মধ্যে তোমার মতো ব্যক্তিকে পাঠিয়েছেন।"

টিকাঃ
১৬৩. সনদ দুর্বল। ইবরাহীম ইবনু হানজালা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেই। আরও বর্ণনা করেছেন: ইমাম বগভী, মু'জামুস সাহাবাহ, ৩/১৪৪।
১৬৬. সনদ সহীহ। একই সনদে রয়েছে: ইবনু হাজার আসকালানী, আল ইসাবাহ, ৩/১৩।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 জিহাদের ময়দানে কারা ধৈর্যধারণ করে?

📄 জিহাদের ময়দানে কারা ধৈর্যধারণ করে?


১১৯. জা'ফর ইবনু হাইয়ান এবং আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক রহ. বর্ণনা করেন, عَنِ الْحَسَنِ فِي قَوْلِهِ: {وَكَأَيِّنْ مِنْ نَبِي قَاتَلَ مَعَهُ رِبِيُّونَ كَثِيرُ} [آل عمران: ১৪৬] قَالَ جَعْفَرُ: عُلَمَاءُ صَبْرٍ. وَقَالَ الْمُبَارَكُ: أَتْقِيَاءُ صَبْرٍ

আল্লাহ তাআলা বলেন,

ওয়া কাআইয়িন মিন নাবিয়্যিন কাতালা মাআহু রিব্বিউনা কাসিরুন ফামা ওয়াহানু লিমা আসাবাহুম ফি সাবিলিল্লাহি ওয়ামা দা’উফু ওয়ামাস তাকানু ওয়াল্লাহু ইউহিব্বুস সাবিরিন।

'আর বহু নবী ছিলেন, যাদের সঙ্গী-সাথিরা তাদের অনুবর্তী হয়ে জিহাদ করেছে; আল্লাহর পথে তাদের কিছু কষ্ট হয়েছে বটে, কিন্তু আল্লাহর রাস্তায় তারা হেরেও যায়নি, ক্লান্তও হয়নি এবং দমেও যায়নি। আর যারা ধৈর্যধারণ করে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন।'

এর ব্যাখ্যায় হাসান বসরী রহ. এর উদ্ধৃতি দিয়ে জা'ফর ইবনু হাইয়্যান রহ. বলেন, 'আয়াতে ধৈর্যশীল বলতে ধৈর্যশীল আলিমগণের কথা বলা হয়েছে।' আর আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক রহ. বলেন, 'ধৈর্যশীল আল্লাহভীরু বান্দাদের কথা বলা হয়েছে।”

টিকাঃ
১৬৪. সূরা আ-লু ইমরান, ৩:১৪৬
১৬৫. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: তাফসীরুত তাবারী, ৬/১১৫।

ফন্ট সাইজ
15px
17px