📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 মরণের দুয়ারে দাঁড়িয়ে পরোপকার

📄 মরণের দুয়ারে দাঁড়িয়ে পরোপকার


১১৬. আবুল জাহাম ইবনু হুযাইফাহ আদাওয়ী রহ. বলেন, ইনতালাকতু ইয়াওমাল ইয়ারমুকি আতলুবু ইবনা আতি, ওয়া মাআ’ই শান্নাতুন মিন মায়িন ওয়া ইনাউন, ফাকুলতু: ইন কানা বিহি রিমাঙ্কুন সাকোয়াইতুহু মিনাল মায়ি, ওয়া মাসাহতু বিহি ওয়াজহাহু, ফাইযা আনা বিহি ইয়ানশাআ, ফাকুলতু: আসক্বিকা? ফাআশারা আন না’আম। ফাইযা রাজুলুন ইয়াকুলু: আহ ফাআশারাবনু আতি আনিনতালিক ইলাইহি, ফাইযা হুয়া হিশামুবনুল আসি আখু আমরিবনিল আসি, ফআতাইতুহু, ফাকুলতু: আসক্বিকা? ফাসামিআ আখারা ইয়াকুলু: আহ ফাআশারা হিশামুন আনিনতালিক বিহি ইলাইহি, ফাজি’তুহু, ফাইযা হুয়া কোয়াদ মাতা, সুম্মা রাজা’তু ইলা হিশামিন, ফাইযা হুয়া কোয়াদ মাতা, সুম্মা আতাইতুবনা আতি ফাইযা হুয়া কোয়াদ মাতা।

"ইয়ারমুকের যুদ্ধে আমি চাচাত ভাইয়ের সন্ধানে বের হলাম। আমার সাথে তখন পানির মশক আর একটি পানপাত্র ছিল। আমার ইচ্ছা ছিল অন্তিম অবস্থায় পেলেও তাকে একটু পানি পান করিয়ে দেব এবং চেহারাটুকু মুছে দেব। হঠাৎ দেখি তিনি আমার কাছেই লুটিয়ে পড়ে আছেন। আমি বললাম, একটু পানি পান করিয়ে দেব? তিনি ইশারায় সম্মতি জানালেন। এমন সময় আরেক ব্যক্তি 'আহ' বলে কাতরে উঠলেন। চাচাত ভাই ইশারায় আমাকে সেই ব্যক্তির কাছে আগে যেতে বললেন। গিয়ে দেখি তিনি আমর ইবনুল আস রা.-এর ভাই হিশাম ইবনুল আস রা.। আমি তার পাশে গিয়ে বললাম, পানি দেব? তিনি ইশারায় 'হ্যাঁ' বললেন। এমন সময় আরেকজনের কাতরকণ্ঠে 'আহ' ধ্বনি ভেসে আসল। তখন হিশাম রা.-ও ইশারায় বললেন, 'তার কাছে যাও।' আমি তৃতীয় ব্যক্তির নিকট গিয়ে দেখি তিনি ইনতিকাল করেছেন। তখন হিশাম রা.-এর নিকট ফিরে আসি। ততক্ষণে তিনিও শহীদ হয়ে গিয়েছেন। অবশেষে চাচাত ভাইয়ের নিকট ফিরে এসে দেখি তিনিও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।"

টিকাঃ
১৬০. সনদ দুর্বল। বর্ণনাকারী ইবনু সাবিতের পরিচয় স্পষ্ট নয়। আরও রয়েছে: বাইহাকী, শুআবুল ঈমান, ৩২০৮।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 সিয়াম অবস্থায় শাহাদাতবরণ

📄 সিয়াম অবস্থায় শাহাদাতবরণ


১১৭. আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রা. বলেন, তারাফাকতু আনা ওয়া আব্দুল্লাহিবনু মাখরামাতা, ওয়া সালিমু মাওলা আবি হুযাইফাতা আমাল ইয়ামামাতি, ফাকানর রা’ইউ আলা কুল্লি ইমরায়িন মিন্না ইয়াওমান, ফালাম্মা কানা ইয়াওমা তাওয়াকাউ, কানর রা’ইউ আলায়্যা, ফাআকবালতু, ফাওয়াজাদতু আব্দুল্লাহিবনা মাখরামাতা সরিআন, ফাওয়াাকা’তু আলাইহি, ফাকোয়ালা: হাল আফতারাস সায়িমু? ফাকুলতু: লা. কোয়ালা: ফাজ’আল লি ফি হাযাল মিজান্নি মা লাআল্লি উফতিরু। ফাফাআালতু সুম্মা রাজা’তু ইলাইহি ফাওয়াজাদতুহু কোয়াদ কাদা।

"আমি, আব্দুল্লাহ ইবনু মাখরামাহ এবং হুযাইফা রা. এর মুক্তিপ্রাপ্ত দাস সালিম রা., আমরা ইয়ামামার যুদ্ধে সহযোদ্ধা ছিলাম। আমাদের ওপর একদিন করে পাহারার দায়িত্ব ছিল। যেদিন যুদ্ধ শুরু হলো সেদিন ছিল আমার দায়িত্ব। দায়িত্ব পালনকালে আমি একটু এগিয়ে দেখি আব্দুল্লাহ ইবনু মাখরামাহ রা. উপুড় হয়ে পড়ে আছেন। আমি তার দিকে ঝুঁকলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, 'সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির জন্য কি ইফতারের সময় হয়েছে?' আমি বললাম, 'না।' তিনি বললেন, 'আমার জন্য এই ঢালটির ওপর (খাওয়ার মতো) কিছু রেখে দাও। যাতে আমি ইফতার করতে পারি।' আমি তা-ই করলাম। এর কিছুক্ষণ পর আমি আবার ফিরে এসে দেখি তিনি শহীদ হয়ে গিয়েছেন।"

টিকাঃ
১৬১. সনদ দুর্বল। ইবনু লাহিয়া রয়েছেন। একই সূত্রে আরও উল্লেখ করেছেন: ইবনুল আসির, উসুদুল গাবাহ, ৩/৩৭৭।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 ইয়ামামার যুদ্ধে সালিম রা.-এর আত্মত্যাগ

📄 ইয়ামামার যুদ্ধে সালিম রা.-এর আত্মত্যাগ


১১৮. ইবরাহীম ইবনু হানযালাহ রহ. তার পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, অ্যান্না সালিমান মাওলা আবি হুযাইফাতা ক্বীলা লাহু ইয়াওমায়িযিন ফিল লাওয়ায়ি: আই তাহাাফাযু বিহি? ফাকোয়ালা গাইরুহু: তাখশা মিন নাফসিকা শাইয়ান ফাতুওয়াল্লি আল-লাওয়ায়া গাইরাকা? ফাকোয়ালা: বি’সা হামিলুল কুরআনি আনা ইযান। ফাকুাতিআ’ত ইয়ামিনুহু, ফাআখাযাল লাওয়ায়া বিইয়াসারিহি, ফাকুাতিআ’ত ইয়াসারুহু, ফা’তাকনাকোয়াল লাওয়ায়া ওয়া হুয়া ইয়াকুলু: "ওয়ামা মুহাম্মাদুন ইল্লা রাসূলুন" [আল-ইমরান: ১৪৪], "ওয়া কাআয়্যিন মিন নাবিয়্যিন ক্বাতালা মাআহু রিব্বিয়্যুনা কাসির" [আল-ইমরান: ১৪৬] ফালাম্মা সুরিআ ক্বীলা লিআসহাবিহি: মা ফাআলা আবু হুযাইফাতা? ক্বীলা: কুাতিলা. কোয়ালা: ফামা ফাআলা ফুলানুন লিরাজুলিন কোয়াদ সাম্মাহু? ক্বীলা: কুাতিলা. কোয়ালা ফায়াদজিউ’নি বাইনাহুমা।

"ইয়ামামার যুদ্ধের দিন হুযাইফা রা.-এর মুক্তিপ্রাপ্ত দাস সালিম রা.-কে যুদ্ধের পতাকা সম্পর্কে বলা হলো অর্থাৎ বলা হলো যে, আপনি কি এটা সামলে রাখতে পারবেন? আরেকজন বলে উঠল, 'আপনি কি নিজের ব্যাপারে ভয় পাচ্ছেন? তাহলে এই দায়িত্ব আপনি ছাড়া অন্য কাউকে দেয়া হবে।' তিনি বললেন, 'তাহলে আমি নিকৃষ্ট কুরআন-বাহক বলে বিবেচিত হব! (এই বলে তিনি দায়িত্ব নিলেন। অতঃপর) তার ডান হাত কেটে দেয়া হলো। তিনি বাম হাতে পতাকা সামলে নিলেন। তার বাম হাতও কেটে দেয়া হলো। এবার তিনি বুক ও ঘাড় দিয়ে পতাকা চেপে ধরে বলতে লাগলেন,

ওয়ামা মুহাম্মাদুন ইল্লা রাসূলুন ক্বাদ খালাত মিন কাবলিহির রুসুলু আফাইন মাতা আউ কুতিলান কোয়লাবতুম আলা আ’কাবি কুম।

'আর মুহাম্মাদ একজন রাসূল বৈ তো নয়! তার পূর্বেও বহু রাসূল অতিবাহিত হয়ে গেছেন। তাহলে কি তিনি যদি মৃত্যুবরণ করেন অথবা নিহত হন, তবে তোমরা পশ্চাদপসরণ করবে? বস্তুত কেউ যদি পশ্চাদপসরণ করে, তবে তাতে আল্লাহর কিছুই ক্ষতি হবে না। আর যারা কৃতজ্ঞ, আল্লাহ তাদের সওয়াব দান করবেন। আর আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ মরতে পারে না-সে জন্য একটা সময় নির্ধারিত রয়েছে। বস্তুত যে লোক দুনিয়ায় বিনিময় কামনা করবে, আমি তাকে তা দুনিয়াতেই দান করব। পক্ষান্তরে যে লোক আখেরাতে বিনিময় কামনা করবে, তা থেকে আমি তাকে তা-ই দেব। আর যারা কৃতজ্ঞ তাদের আমি প্রতিদান দেব। আর বহু নবী ছিলেন, যাদের সঙ্গী-সাথিরা তাদের অনুবর্তী হয়ে জিহাদ করেছে; আল্লাহর পথে তাদের কিছু কষ্ট হয়েছে বটে, কিন্তু আল্লাহর রাস্তায় তারা হেরেও যায়নি, ক্লান্তও হয়নি এবং দমেও যায়নি। আর যারা ধৈর্যধারণ করে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন।'

অবশেষে তিনি যখন লুটিয়ে পড়লেন তখন জিজ্ঞাসা করলেন, 'হুযাইফার খবর কী?' বলা হলো, 'তিনি নিহত হয়েছেন।' তারপর আরেকজনের নাম উল্লেখ করে তিনি জানতে চাইলেন, 'অমুকের খবর কী?' বলা হলো, 'তিনিও শহীদ হয়েছেন।' তিনি বললেন, 'আমাকে তাদের দুজনের মাঝে শুইয়ে দাও।'

১২০. আম্মাজান আয়িশা রা. বলেন, احْتَبَسَتْ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: مَا حَبَسَكِ ؟ فَقَالَتْ: سمِعْتُ قَارِنَا يَقْرَأُ فَذَكَرَتْ مِنْ حُسْنِ قِرَاءَتِهِ، فَأَخَذَ رِدَاءَهُ، فَخَرَجَ، فَإِذَا هُৱ سَالِمُ مَوْلَى أَبِي حُذَيْفَةَ، فَقَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ فِي أُمَّتِي مِثْلَكَ

"একবার আয়িশা রা. রাসূল ﷺ-এর নিকট আসতে দেরি করলেন। রাসূল ﷺ জিজ্ঞাসা করলেন, 'তোমার দেরি হলো কী কারণে?' তিনি বললেন, 'আমি একজন তিলাওয়াতকারীর তিলাওয়াত শুনছিলাম।' অতঃপর তিনি তার তিলাওয়াতের মাধুর্যের কথা উল্লেখ করলেন। এ কথা শুনে রাসূল ﷺ নিজের চাদর গায়ে জড়িয়ে বেরিয়ে গেলেন। গিয়ে দেখেন লোকটি হলো হুযাইফা রা.-এর মুক্তিপ্রাপ্ত দাস সালিম রা.। তাকে দেখে রাসূল ﷺ বললেন, 'সমস্ত প্রশংসা কেবলই আল্লাহ তাআলার (আলহামদুলিল্লাহ), যিনি আমার উম্মাতের মধ্যে তোমার মতো ব্যক্তিকে পাঠিয়েছেন।"

টিকাঃ
১৬৩. সনদ দুর্বল। ইবরাহীম ইবনু হানজালা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেই। আরও বর্ণনা করেছেন: ইমাম বগভী, মু'জামুস সাহাবাহ, ৩/১৪৪।
১৬৬. সনদ সহীহ। একই সনদে রয়েছে: ইবনু হাজার আসকালানী, আল ইসাবাহ, ৩/১৩।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 জিহাদের ময়দানে কারা ধৈর্যধারণ করে?

📄 জিহাদের ময়দানে কারা ধৈর্যধারণ করে?


১১৯. জা'ফর ইবনু হাইয়ান এবং আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক রহ. বর্ণনা করেন, عَنِ الْحَسَنِ فِي قَوْلِهِ: {وَكَأَيِّنْ مِنْ نَبِي قَاتَلَ مَعَهُ رِبِيُّونَ كَثِيرُ} [آل عمران: ১৪৬] قَالَ جَعْفَرُ: عُلَمَاءُ صَبْرٍ. وَقَالَ الْمُبَارَكُ: أَتْقِيَاءُ صَبْرٍ

আল্লাহ তাআলা বলেন,

ওয়া কাআইয়িন মিন নাবিয়্যিন কাতালা মাআহু রিব্বিউনা কাসিরুন ফামা ওয়াহানু লিমা আসাবাহুম ফি সাবিলিল্লাহি ওয়ামা দা’উফু ওয়ামাস তাকানু ওয়াল্লাহু ইউহিব্বুস সাবিরিন।

'আর বহু নবী ছিলেন, যাদের সঙ্গী-সাথিরা তাদের অনুবর্তী হয়ে জিহাদ করেছে; আল্লাহর পথে তাদের কিছু কষ্ট হয়েছে বটে, কিন্তু আল্লাহর রাস্তায় তারা হেরেও যায়নি, ক্লান্তও হয়নি এবং দমেও যায়নি। আর যারা ধৈর্যধারণ করে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন।'

এর ব্যাখ্যায় হাসান বসরী রহ. এর উদ্ধৃতি দিয়ে জা'ফর ইবনু হাইয়্যান রহ. বলেন, 'আয়াতে ধৈর্যশীল বলতে ধৈর্যশীল আলিমগণের কথা বলা হয়েছে।' আর আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক রহ. বলেন, 'ধৈর্যশীল আল্লাহভীরু বান্দাদের কথা বলা হয়েছে।”

টিকাঃ
১৬৪. সূরা আ-লু ইমরান, ৩:১৪৬
১৬৫. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: তাফসীরুত তাবারী, ৬/১১৫।

ফন্ট সাইজ
15px
17px