📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 রণাঙ্গনে হিশাম ইবনুল আ'স রা.

📄 রণাঙ্গনে হিশাম ইবনুল আ'স রা.


১১৩. আলী ইবনু রাবাহ রহ. বলেন, অক্কবিলাতির রূমু ইয়াওমা আজনাদিনা ফি জাম’ইন কাসিরিন মিনার রূমি ওয়া নাসারাল আরাবি, আলাইহিম ইয়ানাকুল বিতারিকু ফাকোয়ালা বা’দুন নাসি লিবা’দিন: ইন্নাহু ক্বাদ হাদরাকুম জাম’উন আযিমুন, ফ ইন রায়াইতুম আন তাতাআখখরু ইলা নাওয়াজীরিশ শামি বিয়ারিনা ওয়া কিদ্দিসা, ওয়া তাকতুবু ইলা আবি বাকরিন ফাইয়ুমুদ্দাকুম, ফাকোয়ালা হিশামুবনুল আস: ইন কুনতুম তা’লামুনা ইন্নামান নাসরু মিন ইনদিল আযীযিল হাকীম, ফাকোয়াতিলুল ক্বাওমা, ওয়া ইন কুনতুম তানতাযিরুনা নাসরান মিন ইনদি আবি বাকরিন, রকিবিতু রাহালাতি হাত্তা আলহাকোয়া বিহি, ফাকোয়ালা বা’দুল ক্বাওমি: মা তারাকা লাকুম হিশামুবনুল আসি মাকোয়াালান, ফাকোয়াতালু ক্বিতালান শাদীদান, ফাকুাতিলা মিনাল মুসলিমিনা বাশারুন কাসিরুন, ওয়া কুাতিলা হিশামুবনুল আসি, ওয়া হাযামাল্লাহুর রূমা, ওয়া কুাতিলা ইয়ানাকুল বিতারিকু, ফামারা রাজুলুন বি হিশামিবনিল আসি ওয়া হুয়া ক্বাতিলুন, ফাকোয়ালা: রহিমাকাল্লাহু, হাযাল্লাজি কুনতা তাবতবাগি।

"(হিজরী ১৩ সনে) আজনাদাইনের যুদ্ধে রোমান বাহিনী রোমান ও আরব খ্রিষ্টানদের বিশাল সৈন্যবহর নিয়ে উপস্থিত হয়। তাদের সেনাপতি ছিল ইয়ান্নাক নামক জনৈক জেনারেল। এ সময় মুসলমানদের একজন আরেকজনকে বলতে লাগল, 'তোমাদের সামনে তো বিশাল বাহিনী এসে হাযির হয়েছে। তোমরা চাইলে (কৌশলগত কারণে) সিরিয়ার বিরীন ও কিদ্দিস পর্যন্ত পিছু হটে আবু বকর রা.- এর নিকট পত্র লিখতে পার। এতে তিনি (আরও সৈন্য পাঠিয়ে) তোমাদের সাহায্য করবেন।' তখন হিশাম ইবনুল আ'স রা. বললেন, 'তোমরা যদি মনে করো যে প্রকৃত সাহায্য মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাবান আল্লাহর পক্ষ থেকে এসে থাকে, তবে তোমরা এই জাতির বিরুদ্ধে লড়াই করো। আর যদি তোমরা আবু বকর রা.-এর সাহায্যের অপেক্ষায় থেকে থাকো তাহলে এই যে আমি ঘোড়ায় চড়লাম, তার সাথে সাক্ষাতের আগে আর নামছি না।' তখন মুসলিম বাহিনীর একজন বলে উঠলেন, 'হিশাম ইবনুল আ'স তো তোমাদের আর কিছু বলার সুযোগ রাখেননি।' এরপর মুসলিম বাহিনী শত্রুর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ল। প্রচণ্ড লড়াই হলো। অনেক মুসলমান হতাহত হলেন। হিশাম ইবনুল আ'স রা.-ও শহীদ হলেন। অবশেষে আল্লাহ তাআলা রোমানদের বিপর্যস্ত করলেন। রোমান জেনারেল ইয়ান্নাকও নিহত হলো। যুদ্ধশেষে একজন হিশাম ইবনুল আ'স রা.-এর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার লাশকে লক্ষ্য করে বললেন, 'আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। আপনি তো এটাই (শাহাদাত) কামনা করেছিলেন।”

১১৪. আব্দুল্লাহ ইবনু উবাইদ ইবনি উমাইর রহ. বলেন, মারা আমরুবনুল আসি, ফাতাফা বিল বাইতি, ফারাআ হালকাতান মিন কুরাইশিন জুলূসান, ফালাম্মা রায়াউহু কোয়লু: আহিশামু কানা আফদালা ফি আনফুসিকুম আউ আমরুবনুল আসি? ফালাম্মা ফারাগা মিন তাওয়াফিহি, জাআ, ফাকোয়ামা আলাইহিম, ফাকোয়ালা: ইন্নি ক্বাদ আলিমতু আন্নাকুম ক্বাদ কুনতুম শাইয়ান হীনা রায়াইতুমুনি, ফামা কুলতুম? কোয়লু: যাকারনাকা ওয়া হিশামান, ফাকুলনা: আইয়্যুহুমা আফদালু? ফাকোয়ালা: সাউখবিরুকুম আন যালিকা, ইন্না শাহিদনাল ইয়ারমুকা, ফাবাতা ওয়া বিততু নাদউলাহা আন ইয়ারযুকোনাশ শাহাদাতা ফি সাবিলিল্লাহি, ওয়া আসয়ালুহু ইয়্যাহা, ফালাম্মা আসবাহনা রুযিকোহা ওয়া হুরিমতুহা, ফাফি যালিকা তাবাইয়ানা লাকুম ফাদলুহু আলাইয়্যা।

"একবার আমর ইবনুল আস রা. বাইতুল্লাহতে এসে কাবা তাওয়াফ করলেন। তখন তিনি কুরাইশের একটি ছোট দলকে সেখানে বসে থাকতে দেখলেন। তারা আমর ইবনুল আস রা.-কে দেখে বলতে লাগল, 'হিশাম আর আমরের মধ্যে কে উত্তম?' আমর ইবনুল আস রা. তাওয়াফ শেষ করে তাদের নিকট এসে দাঁড়ালেন। তিনি বললেন, 'তোমরা যে আমাকে দেখে কিছু একটা বলাবলি করেছ তা আমি বুঝতে পেরেছি। এবার বলো তোমরা কী বলছিলে?' তারা বলল, 'আমরা আপনার আর হিশামের কথা বলছিলাম যে, আপনাদের মধ্যে কে উত্তম?' তিনি বললেন, 'তাহলে এই বিষয়ে আমিই তোমাদের জানাচ্ছি, আমি আর সে আমরা দুজনই ইয়ারমুকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। রাতে আমরা আল্লাহ তাআলার নিকট শাহাদাত কামনা করে দুআ করি। দুআতে আমি শাহাদাত কামনা করেছিলাম। পরদিন সে শাহাদাত লাভ করল আর আমি বঞ্চিত রয়ে গেলাম। এ থেকেই তোমরা বুঝে নিতে পার যে সে আমার চেয়ে মর্যাদাবান।”

১১৫. মুহাম্মাদ ইবনুল আসওয়াদ ইবনি খালাফ ইবনি বায়াযাহ খুযাঈ রা. বলেন, ইন্না লাজুলুসুন ফিল হাজরি ওয়া নাসুন মিন কুরাইশিন, ইয ক্বীলা: ক্বাদিমালাইলাতা আমরুবনুল আসি মিন মিসরা, ফামা আকবারা বি আন দাখালা, ফাবতাদারনাহু বিআবসারিহি, ফালাম্মা তফা দাখালাল হাজরা, ওয়া সল্লা রকা’তাইনি, সুম্মা কোয়ালা: কাআন্নাকুম কোয়াদ ফারাযতুমুনি বিহানতিন, ফাকোয়লাল ক্বাওমু: লাম নাযকুর ইল্লা খাইরান, যাকারনাকা ওয়া হিশামান, ফাকোয়ালা বা’দুনা: হাযা আফদালু। ওয়া কোয়ালা বা’দুনা: হাযা আফদালু। ফাকোয়ালা আমরু: সাউখবিরুকুম আন যালিকা, ইন্না আসলামনা ফাআহবাবনা রাসূলুল্লাহি ﷺ, ওয়া নাসাহনাহু, ফাযাকারা ইয়াওমাল ইয়ারমুকা, ফাকোয়ালা: আখাযা বিআমুদিল ফুসতাতি হাত্তাগতাসলা ওয়া তাহান্নাতা, ওয়া তাক্কাফানা, সুম্মা আখাযা বিআমুদিল ফুসতাতি হাত্তাগতাসালতু, ওয়া তাহান্নাততু ওয়া তাক্কাফানতু, সুম্মা আ’তারাযনা আলাল্লাহি তাবারাকা ওয়া তা’লা, ফাক্বাবিলাহু, ফাহুয়া খাইরুন মিন্নি, ক্বাবিলাহু ফাহুয়া খাইরুন মিন্নি ক্বাবিলাহু, ফাহুয়া খাইরুন মিন্নি।

“কুরাইশের কিছু লোকজনসহ আমরা হারামের হাতীমে বসা ছিলাম। এমন সময় বলা হলো, গতরাতে আমর ইবনুল আস রা. মিসর হতে আগমন করেছেন। এরই কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি সেখানে উপস্থিত হলেন। আমরা তার দিকে লক্ষ করলাম। তিনি তাওয়াফ শেষ করে হাতীমে এসে দু-রাকাত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, 'তোমরা মনে হয় আমার সমালোচনা করছিলে!' সবাই বলে উঠল, না, না, আমরা ভালো কথাই বলছিলাম। আমরা তো আপনার আর হিশামের আলোচনা করছিলাম। আমাদের কেউ একজনকে মর্যাদাবান বলছিল তো অন্যজন আরেকজনকে বেশি মর্যাদাবান বলছিল।' তখন আমর রা. বললেন, 'তাহলে আমিই তোমাদের আসল খবর জানাচ্ছি। আমরা উভয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছি, রাসূল ﷺ-কে ভালোবেসেছি আর তাঁর কল্যাণকামী হয়েছি।' এরপর তিনি ইয়ারমুক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, 'কাপড় দিয়ে খুঁটি দাঁড় করানো হলো। অতঃপর হিশাম গোসল সেরে নিল। সুগন্ধী মাখল আর কাফনের কাপড় জড়িয়ে নিল। এভাবেই কাপড় দিয়ে খুঁটি দাঁড় করানো হলো। তারপর আমি গোসল সেরে সুগন্ধী মেখে কাফনের কাপড় জড়িয়ে নিলাম। অতঃপর আমরা নিজেদের আল্লাহ তাআলার সামনে উপস্থাপন করলাম (জিহাদে শরীক হলাম) আর তিনি তাকে কবুল করে নিলেন (শাহাদাতের মর্যাদা দান করলেন)। সুতরাং হিশাম আমার চেয়ে উত্তম। সে আমার চেয়ে উত্তম। কারণ, আল্লাহ তাকে কবুল করে নিয়েছেন। এ কারণেই সে আমার চেয়ে উত্তম।

বর্ণনাকারী আবু উমার রহ. বলেন, 'তাবিঈ আমর ইবনু শুআইব রহ. বলেছেন, 'ইয়ারমুকের যুদ্ধের দিন আমর ইবনুল আস রা. তার কাপড়ের খুঁটিতে সত্তরটি তরবারি ঝুলিয়েছিলেন। এই তরবারিগুলো ছিল বনু সাহম গোত্রের নিহত লোকজনের।”

টিকাঃ
১৫৭. সনদ গরীব। তা ছাড়া আজনাদাইনের যুদ্ধে হিশাম ইবনুল আ'স রা. এর শাহাদাতের বিষয়টি প্রমাণিত নয়। বিশুদ্ধ ও শক্তিশালী বর্ণনা অনুযায়ী তিনি ১৫ হিজরীতে ইয়ারমুকের যুদ্ধে শাহাদাতবরণ করেন। পরের বর্ণনায় তা রয়েছে। এই বর্ণনাটি আরও রয়েছে: ইবনুল আসাকীর, তারীখু মাদীনাতি দিমাশক, ৭৪/১৯।
১৫৮. সনদ শক্তিশালী। আরও বর্ণনা করেছেন, ইবনু সা'আদ, তাবাকাতুল কুবরা, ৪/১৪৬।
১৫৯. সনদ দুর্বল। তবে আগের বর্ণনা দ্বারা মূল ঘটনা প্রমাণিত।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 মরণের দুয়ারে দাঁড়িয়ে পরোপকার

📄 মরণের দুয়ারে দাঁড়িয়ে পরোপকার


১১৬. আবুল জাহাম ইবনু হুযাইফাহ আদাওয়ী রহ. বলেন, ইনতালাকতু ইয়াওমাল ইয়ারমুকি আতলুবু ইবনা আতি, ওয়া মাআ’ই শান্নাতুন মিন মায়িন ওয়া ইনাউন, ফাকুলতু: ইন কানা বিহি রিমাঙ্কুন সাকোয়াইতুহু মিনাল মায়ি, ওয়া মাসাহতু বিহি ওয়াজহাহু, ফাইযা আনা বিহি ইয়ানশাআ, ফাকুলতু: আসক্বিকা? ফাআশারা আন না’আম। ফাইযা রাজুলুন ইয়াকুলু: আহ ফাআশারাবনু আতি আনিনতালিক ইলাইহি, ফাইযা হুয়া হিশামুবনুল আসি আখু আমরিবনিল আসি, ফআতাইতুহু, ফাকুলতু: আসক্বিকা? ফাসামিআ আখারা ইয়াকুলু: আহ ফাআশারা হিশামুন আনিনতালিক বিহি ইলাইহি, ফাজি’তুহু, ফাইযা হুয়া কোয়াদ মাতা, সুম্মা রাজা’তু ইলা হিশামিন, ফাইযা হুয়া কোয়াদ মাতা, সুম্মা আতাইতুবনা আতি ফাইযা হুয়া কোয়াদ মাতা।

"ইয়ারমুকের যুদ্ধে আমি চাচাত ভাইয়ের সন্ধানে বের হলাম। আমার সাথে তখন পানির মশক আর একটি পানপাত্র ছিল। আমার ইচ্ছা ছিল অন্তিম অবস্থায় পেলেও তাকে একটু পানি পান করিয়ে দেব এবং চেহারাটুকু মুছে দেব। হঠাৎ দেখি তিনি আমার কাছেই লুটিয়ে পড়ে আছেন। আমি বললাম, একটু পানি পান করিয়ে দেব? তিনি ইশারায় সম্মতি জানালেন। এমন সময় আরেক ব্যক্তি 'আহ' বলে কাতরে উঠলেন। চাচাত ভাই ইশারায় আমাকে সেই ব্যক্তির কাছে আগে যেতে বললেন। গিয়ে দেখি তিনি আমর ইবনুল আস রা.-এর ভাই হিশাম ইবনুল আস রা.। আমি তার পাশে গিয়ে বললাম, পানি দেব? তিনি ইশারায় 'হ্যাঁ' বললেন। এমন সময় আরেকজনের কাতরকণ্ঠে 'আহ' ধ্বনি ভেসে আসল। তখন হিশাম রা.-ও ইশারায় বললেন, 'তার কাছে যাও।' আমি তৃতীয় ব্যক্তির নিকট গিয়ে দেখি তিনি ইনতিকাল করেছেন। তখন হিশাম রা.-এর নিকট ফিরে আসি। ততক্ষণে তিনিও শহীদ হয়ে গিয়েছেন। অবশেষে চাচাত ভাইয়ের নিকট ফিরে এসে দেখি তিনিও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।"

টিকাঃ
১৬০. সনদ দুর্বল। বর্ণনাকারী ইবনু সাবিতের পরিচয় স্পষ্ট নয়। আরও রয়েছে: বাইহাকী, শুআবুল ঈমান, ৩২০৮।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 সিয়াম অবস্থায় শাহাদাতবরণ

📄 সিয়াম অবস্থায় শাহাদাতবরণ


১১৭. আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রা. বলেন, তারাফাকতু আনা ওয়া আব্দুল্লাহিবনু মাখরামাতা, ওয়া সালিমু মাওলা আবি হুযাইফাতা আমাল ইয়ামামাতি, ফাকানর রা’ইউ আলা কুল্লি ইমরায়িন মিন্না ইয়াওমান, ফালাম্মা কানা ইয়াওমা তাওয়াকাউ, কানর রা’ইউ আলায়্যা, ফাআকবালতু, ফাওয়াজাদতু আব্দুল্লাহিবনা মাখরামাতা সরিআন, ফাওয়াাকা’তু আলাইহি, ফাকোয়ালা: হাল আফতারাস সায়িমু? ফাকুলতু: লা. কোয়ালা: ফাজ’আল লি ফি হাযাল মিজান্নি মা লাআল্লি উফতিরু। ফাফাআালতু সুম্মা রাজা’তু ইলাইহি ফাওয়াজাদতুহু কোয়াদ কাদা।

"আমি, আব্দুল্লাহ ইবনু মাখরামাহ এবং হুযাইফা রা. এর মুক্তিপ্রাপ্ত দাস সালিম রা., আমরা ইয়ামামার যুদ্ধে সহযোদ্ধা ছিলাম। আমাদের ওপর একদিন করে পাহারার দায়িত্ব ছিল। যেদিন যুদ্ধ শুরু হলো সেদিন ছিল আমার দায়িত্ব। দায়িত্ব পালনকালে আমি একটু এগিয়ে দেখি আব্দুল্লাহ ইবনু মাখরামাহ রা. উপুড় হয়ে পড়ে আছেন। আমি তার দিকে ঝুঁকলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, 'সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির জন্য কি ইফতারের সময় হয়েছে?' আমি বললাম, 'না।' তিনি বললেন, 'আমার জন্য এই ঢালটির ওপর (খাওয়ার মতো) কিছু রেখে দাও। যাতে আমি ইফতার করতে পারি।' আমি তা-ই করলাম। এর কিছুক্ষণ পর আমি আবার ফিরে এসে দেখি তিনি শহীদ হয়ে গিয়েছেন।"

টিকাঃ
১৬১. সনদ দুর্বল। ইবনু লাহিয়া রয়েছেন। একই সূত্রে আরও উল্লেখ করেছেন: ইবনুল আসির, উসুদুল গাবাহ, ৩/৩৭৭।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 ইয়ামামার যুদ্ধে সালিম রা.-এর আত্মত্যাগ

📄 ইয়ামামার যুদ্ধে সালিম রা.-এর আত্মত্যাগ


১১৮. ইবরাহীম ইবনু হানযালাহ রহ. তার পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, অ্যান্না সালিমান মাওলা আবি হুযাইফাতা ক্বীলা লাহু ইয়াওমায়িযিন ফিল লাওয়ায়ি: আই তাহাাফাযু বিহি? ফাকোয়ালা গাইরুহু: তাখশা মিন নাফসিকা শাইয়ান ফাতুওয়াল্লি আল-লাওয়ায়া গাইরাকা? ফাকোয়ালা: বি’সা হামিলুল কুরআনি আনা ইযান। ফাকুাতিআ’ত ইয়ামিনুহু, ফাআখাযাল লাওয়ায়া বিইয়াসারিহি, ফাকুাতিআ’ত ইয়াসারুহু, ফা’তাকনাকোয়াল লাওয়ায়া ওয়া হুয়া ইয়াকুলু: "ওয়ামা মুহাম্মাদুন ইল্লা রাসূলুন" [আল-ইমরান: ১৪৪], "ওয়া কাআয়্যিন মিন নাবিয়্যিন ক্বাতালা মাআহু রিব্বিয়্যুনা কাসির" [আল-ইমরান: ১৪৬] ফালাম্মা সুরিআ ক্বীলা লিআসহাবিহি: মা ফাআলা আবু হুযাইফাতা? ক্বীলা: কুাতিলা. কোয়ালা: ফামা ফাআলা ফুলানুন লিরাজুলিন কোয়াদ সাম্মাহু? ক্বীলা: কুাতিলা. কোয়ালা ফায়াদজিউ’নি বাইনাহুমা।

"ইয়ামামার যুদ্ধের দিন হুযাইফা রা.-এর মুক্তিপ্রাপ্ত দাস সালিম রা.-কে যুদ্ধের পতাকা সম্পর্কে বলা হলো অর্থাৎ বলা হলো যে, আপনি কি এটা সামলে রাখতে পারবেন? আরেকজন বলে উঠল, 'আপনি কি নিজের ব্যাপারে ভয় পাচ্ছেন? তাহলে এই দায়িত্ব আপনি ছাড়া অন্য কাউকে দেয়া হবে।' তিনি বললেন, 'তাহলে আমি নিকৃষ্ট কুরআন-বাহক বলে বিবেচিত হব! (এই বলে তিনি দায়িত্ব নিলেন। অতঃপর) তার ডান হাত কেটে দেয়া হলো। তিনি বাম হাতে পতাকা সামলে নিলেন। তার বাম হাতও কেটে দেয়া হলো। এবার তিনি বুক ও ঘাড় দিয়ে পতাকা চেপে ধরে বলতে লাগলেন,

ওয়ামা মুহাম্মাদুন ইল্লা রাসূলুন ক্বাদ খালাত মিন কাবলিহির রুসুলু আফাইন মাতা আউ কুতিলান কোয়লাবতুম আলা আ’কাবি কুম।

'আর মুহাম্মাদ একজন রাসূল বৈ তো নয়! তার পূর্বেও বহু রাসূল অতিবাহিত হয়ে গেছেন। তাহলে কি তিনি যদি মৃত্যুবরণ করেন অথবা নিহত হন, তবে তোমরা পশ্চাদপসরণ করবে? বস্তুত কেউ যদি পশ্চাদপসরণ করে, তবে তাতে আল্লাহর কিছুই ক্ষতি হবে না। আর যারা কৃতজ্ঞ, আল্লাহ তাদের সওয়াব দান করবেন। আর আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ মরতে পারে না-সে জন্য একটা সময় নির্ধারিত রয়েছে। বস্তুত যে লোক দুনিয়ায় বিনিময় কামনা করবে, আমি তাকে তা দুনিয়াতেই দান করব। পক্ষান্তরে যে লোক আখেরাতে বিনিময় কামনা করবে, তা থেকে আমি তাকে তা-ই দেব। আর যারা কৃতজ্ঞ তাদের আমি প্রতিদান দেব। আর বহু নবী ছিলেন, যাদের সঙ্গী-সাথিরা তাদের অনুবর্তী হয়ে জিহাদ করেছে; আল্লাহর পথে তাদের কিছু কষ্ট হয়েছে বটে, কিন্তু আল্লাহর রাস্তায় তারা হেরেও যায়নি, ক্লান্তও হয়নি এবং দমেও যায়নি। আর যারা ধৈর্যধারণ করে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন।'

অবশেষে তিনি যখন লুটিয়ে পড়লেন তখন জিজ্ঞাসা করলেন, 'হুযাইফার খবর কী?' বলা হলো, 'তিনি নিহত হয়েছেন।' তারপর আরেকজনের নাম উল্লেখ করে তিনি জানতে চাইলেন, 'অমুকের খবর কী?' বলা হলো, 'তিনিও শহীদ হয়েছেন।' তিনি বললেন, 'আমাকে তাদের দুজনের মাঝে শুইয়ে দাও।'

১২০. আম্মাজান আয়িশা রা. বলেন, احْتَبَسَتْ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: مَا حَبَسَكِ ؟ فَقَالَتْ: سمِعْتُ قَارِنَا يَقْرَأُ فَذَكَرَتْ مِنْ حُسْنِ قِرَاءَتِهِ، فَأَخَذَ رِدَاءَهُ، فَخَرَجَ، فَإِذَا هُৱ سَالِمُ مَوْلَى أَبِي حُذَيْفَةَ، فَقَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ فِي أُمَّتِي مِثْلَكَ

"একবার আয়িশা রা. রাসূল ﷺ-এর নিকট আসতে দেরি করলেন। রাসূল ﷺ জিজ্ঞাসা করলেন, 'তোমার দেরি হলো কী কারণে?' তিনি বললেন, 'আমি একজন তিলাওয়াতকারীর তিলাওয়াত শুনছিলাম।' অতঃপর তিনি তার তিলাওয়াতের মাধুর্যের কথা উল্লেখ করলেন। এ কথা শুনে রাসূল ﷺ নিজের চাদর গায়ে জড়িয়ে বেরিয়ে গেলেন। গিয়ে দেখেন লোকটি হলো হুযাইফা রা.-এর মুক্তিপ্রাপ্ত দাস সালিম রা.। তাকে দেখে রাসূল ﷺ বললেন, 'সমস্ত প্রশংসা কেবলই আল্লাহ তাআলার (আলহামদুলিল্লাহ), যিনি আমার উম্মাতের মধ্যে তোমার মতো ব্যক্তিকে পাঠিয়েছেন।"

টিকাঃ
১৬৩. সনদ দুর্বল। ইবরাহীম ইবনু হানজালা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেই। আরও বর্ণনা করেছেন: ইমাম বগভী, মু'জামুস সাহাবাহ, ৩/১৪৪।
১৬৬. সনদ সহীহ। একই সনদে রয়েছে: ইবনু হাজার আসকালানী, আল ইসাবাহ, ৩/১৩।

ফন্ট সাইজ
15px
17px