📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 জিহাদের ময়দানে অন্ধ সাহাবী

📄 জিহাদের ময়দানে অন্ধ সাহাবী


১১০. আলী ইবনু যায়িদ রহ. বলেন, أَنْ عَطِيَّةَ بْنَ أَبِي عَطِيَّةَ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ رَأَى ابْنَ أُمِّ مَكْتُومٍ يَوْمًا مِنْ أَيَّامِ الْكُوفَةِ، عَلَيْهِ دِرْعُ سَابِغَةُ يَجُرُهَا فِي الصَّفِّ "আতিয়্যা ইবনু আবি আতিয়্যা রহ. বলেন, তিনি কুফায় যুদ্ধ চলাকালে একদিন (অন্ধ সাহাবী) আব্দুল্লাহ ইবনু উম্মি মাকতূম রা.-কে দেখেন, তিনি বর্ম পরিহিত অবস্থায় সৈন্যসারির মাঝে হাঁটছেন।"

টিকাঃ
১৫৪. সনদ দুর্বল। আতিয়্যাহ ইবনু আবি আতিয়্যাহ এবং আলী ইবনু জায়িদ উভয়ই দুর্বল রাবী। আরও রয়েছে: ইমাম বুখারী, তারীখুল কাবীর, ৭/১০।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 নিকৃষ্ট চরিত্রের লোক

📄 নিকৃষ্ট চরিত্রের লোক


১১১. আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন, শারির্ মা ফুর রাজুলি শুহহুন হালিউন, ওয়া জুবনুন খলিউন। "যে ব্যক্তির চরিত্রে চিত্ত অস্থিরকারী কৃপণতা, আর ভীতিকর কাপুরুষতা রয়েছে সে খুবই নিকৃষ্ট।"

টিকাঃ
১৫৫. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: সুনানু আবি দাউদ, ২৫১১।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 একজন গাযীর শেষ কথা

📄 একজন গাযীর শেষ কথা


১১২. হাইছাম ইবনু মালিক রহ. ইসলামী সৈন্যদলের জনৈক বৃদ্ধ সৈনিক সম্পর্কে বলেন, "তিনি ছিলেন একজন বীর পুরুষ। যখন তার অন্তিম সময় ঘনিয়ে এল তখন তিনি বলেন, 'কত সম্মুখসমরে অংশ নিলাম! কত রণক্ষেত্র দাপিয়ে বেড়ালাম! অথচ শাহাদাত লাভ হলো না! কাপুরুষদের চক্ষু হতে নিদ্রা উবে যাক!'"

টিকাঃ
১৫৬. ঘটনা হিসেবে সনদ গ্রহণযোগ্য। আরও রয়েছে: ইবনুল আসাকীর, তারীখু মাদীনাতি দিমাশক, ১৬/২৭৩।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 রণাঙ্গনে হিশাম ইবনুল আ'স রা.

📄 রণাঙ্গনে হিশাম ইবনুল আ'স রা.


১১৩. আলী ইবনু রাবাহ রহ. বলেন, অক্কবিলাতির রূমু ইয়াওমা আজনাদিনা ফি জাম’ইন কাসিরিন মিনার রূমি ওয়া নাসারাল আরাবি, আলাইহিম ইয়ানাকুল বিতারিকু ফাকোয়ালা বা’দুন নাসি লিবা’দিন: ইন্নাহু ক্বাদ হাদরাকুম জাম’উন আযিমুন, ফ ইন রায়াইতুম আন তাতাআখখরু ইলা নাওয়াজীরিশ শামি বিয়ারিনা ওয়া কিদ্দিসা, ওয়া তাকতুবু ইলা আবি বাকরিন ফাইয়ুমুদ্দাকুম, ফাকোয়ালা হিশামুবনুল আস: ইন কুনতুম তা’লামুনা ইন্নামান নাসরু মিন ইনদিল আযীযিল হাকীম, ফাকোয়াতিলুল ক্বাওমা, ওয়া ইন কুনতুম তানতাযিরুনা নাসরান মিন ইনদি আবি বাকরিন, রকিবিতু রাহালাতি হাত্তা আলহাকোয়া বিহি, ফাকোয়ালা বা’দুল ক্বাওমি: মা তারাকা লাকুম হিশামুবনুল আসি মাকোয়াালান, ফাকোয়াতালু ক্বিতালান শাদীদান, ফাকুাতিলা মিনাল মুসলিমিনা বাশারুন কাসিরুন, ওয়া কুাতিলা হিশামুবনুল আসি, ওয়া হাযামাল্লাহুর রূমা, ওয়া কুাতিলা ইয়ানাকুল বিতারিকু, ফামারা রাজুলুন বি হিশামিবনিল আসি ওয়া হুয়া ক্বাতিলুন, ফাকোয়ালা: রহিমাকাল্লাহু, হাযাল্লাজি কুনতা তাবতবাগি।

"(হিজরী ১৩ সনে) আজনাদাইনের যুদ্ধে রোমান বাহিনী রোমান ও আরব খ্রিষ্টানদের বিশাল সৈন্যবহর নিয়ে উপস্থিত হয়। তাদের সেনাপতি ছিল ইয়ান্নাক নামক জনৈক জেনারেল। এ সময় মুসলমানদের একজন আরেকজনকে বলতে লাগল, 'তোমাদের সামনে তো বিশাল বাহিনী এসে হাযির হয়েছে। তোমরা চাইলে (কৌশলগত কারণে) সিরিয়ার বিরীন ও কিদ্দিস পর্যন্ত পিছু হটে আবু বকর রা.- এর নিকট পত্র লিখতে পার। এতে তিনি (আরও সৈন্য পাঠিয়ে) তোমাদের সাহায্য করবেন।' তখন হিশাম ইবনুল আ'স রা. বললেন, 'তোমরা যদি মনে করো যে প্রকৃত সাহায্য মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাবান আল্লাহর পক্ষ থেকে এসে থাকে, তবে তোমরা এই জাতির বিরুদ্ধে লড়াই করো। আর যদি তোমরা আবু বকর রা.-এর সাহায্যের অপেক্ষায় থেকে থাকো তাহলে এই যে আমি ঘোড়ায় চড়লাম, তার সাথে সাক্ষাতের আগে আর নামছি না।' তখন মুসলিম বাহিনীর একজন বলে উঠলেন, 'হিশাম ইবনুল আ'স তো তোমাদের আর কিছু বলার সুযোগ রাখেননি।' এরপর মুসলিম বাহিনী শত্রুর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ল। প্রচণ্ড লড়াই হলো। অনেক মুসলমান হতাহত হলেন। হিশাম ইবনুল আ'স রা.-ও শহীদ হলেন। অবশেষে আল্লাহ তাআলা রোমানদের বিপর্যস্ত করলেন। রোমান জেনারেল ইয়ান্নাকও নিহত হলো। যুদ্ধশেষে একজন হিশাম ইবনুল আ'স রা.-এর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার লাশকে লক্ষ্য করে বললেন, 'আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। আপনি তো এটাই (শাহাদাত) কামনা করেছিলেন।”

১১৪. আব্দুল্লাহ ইবনু উবাইদ ইবনি উমাইর রহ. বলেন, মারা আমরুবনুল আসি, ফাতাফা বিল বাইতি, ফারাআ হালকাতান মিন কুরাইশিন জুলূসান, ফালাম্মা রায়াউহু কোয়লু: আহিশামু কানা আফদালা ফি আনফুসিকুম আউ আমরুবনুল আসি? ফালাম্মা ফারাগা মিন তাওয়াফিহি, জাআ, ফাকোয়ামা আলাইহিম, ফাকোয়ালা: ইন্নি ক্বাদ আলিমতু আন্নাকুম ক্বাদ কুনতুম শাইয়ান হীনা রায়াইতুমুনি, ফামা কুলতুম? কোয়লু: যাকারনাকা ওয়া হিশামান, ফাকুলনা: আইয়্যুহুমা আফদালু? ফাকোয়ালা: সাউখবিরুকুম আন যালিকা, ইন্না শাহিদনাল ইয়ারমুকা, ফাবাতা ওয়া বিততু নাদউলাহা আন ইয়ারযুকোনাশ শাহাদাতা ফি সাবিলিল্লাহি, ওয়া আসয়ালুহু ইয়্যাহা, ফালাম্মা আসবাহনা রুযিকোহা ওয়া হুরিমতুহা, ফাফি যালিকা তাবাইয়ানা লাকুম ফাদলুহু আলাইয়্যা।

"একবার আমর ইবনুল আস রা. বাইতুল্লাহতে এসে কাবা তাওয়াফ করলেন। তখন তিনি কুরাইশের একটি ছোট দলকে সেখানে বসে থাকতে দেখলেন। তারা আমর ইবনুল আস রা.-কে দেখে বলতে লাগল, 'হিশাম আর আমরের মধ্যে কে উত্তম?' আমর ইবনুল আস রা. তাওয়াফ শেষ করে তাদের নিকট এসে দাঁড়ালেন। তিনি বললেন, 'তোমরা যে আমাকে দেখে কিছু একটা বলাবলি করেছ তা আমি বুঝতে পেরেছি। এবার বলো তোমরা কী বলছিলে?' তারা বলল, 'আমরা আপনার আর হিশামের কথা বলছিলাম যে, আপনাদের মধ্যে কে উত্তম?' তিনি বললেন, 'তাহলে এই বিষয়ে আমিই তোমাদের জানাচ্ছি, আমি আর সে আমরা দুজনই ইয়ারমুকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। রাতে আমরা আল্লাহ তাআলার নিকট শাহাদাত কামনা করে দুআ করি। দুআতে আমি শাহাদাত কামনা করেছিলাম। পরদিন সে শাহাদাত লাভ করল আর আমি বঞ্চিত রয়ে গেলাম। এ থেকেই তোমরা বুঝে নিতে পার যে সে আমার চেয়ে মর্যাদাবান।”

১১৫. মুহাম্মাদ ইবনুল আসওয়াদ ইবনি খালাফ ইবনি বায়াযাহ খুযাঈ রা. বলেন, ইন্না লাজুলুসুন ফিল হাজরি ওয়া নাসুন মিন কুরাইশিন, ইয ক্বীলা: ক্বাদিমালাইলাতা আমরুবনুল আসি মিন মিসরা, ফামা আকবারা বি আন দাখালা, ফাবতাদারনাহু বিআবসারিহি, ফালাম্মা তফা দাখালাল হাজরা, ওয়া সল্লা রকা’তাইনি, সুম্মা কোয়ালা: কাআন্নাকুম কোয়াদ ফারাযতুমুনি বিহানতিন, ফাকোয়লাল ক্বাওমু: লাম নাযকুর ইল্লা খাইরান, যাকারনাকা ওয়া হিশামান, ফাকোয়ালা বা’দুনা: হাযা আফদালু। ওয়া কোয়ালা বা’দুনা: হাযা আফদালু। ফাকোয়ালা আমরু: সাউখবিরুকুম আন যালিকা, ইন্না আসলামনা ফাআহবাবনা রাসূলুল্লাহি ﷺ, ওয়া নাসাহনাহু, ফাযাকারা ইয়াওমাল ইয়ারমুকা, ফাকোয়ালা: আখাযা বিআমুদিল ফুসতাতি হাত্তাগতাসলা ওয়া তাহান্নাতা, ওয়া তাক্কাফানা, সুম্মা আখাযা বিআমুদিল ফুসতাতি হাত্তাগতাসালতু, ওয়া তাহান্নাততু ওয়া তাক্কাফানতু, সুম্মা আ’তারাযনা আলাল্লাহি তাবারাকা ওয়া তা’লা, ফাক্বাবিলাহু, ফাহুয়া খাইরুন মিন্নি, ক্বাবিলাহু ফাহুয়া খাইরুন মিন্নি ক্বাবিলাহু, ফাহুয়া খাইরুন মিন্নি।

“কুরাইশের কিছু লোকজনসহ আমরা হারামের হাতীমে বসা ছিলাম। এমন সময় বলা হলো, গতরাতে আমর ইবনুল আস রা. মিসর হতে আগমন করেছেন। এরই কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি সেখানে উপস্থিত হলেন। আমরা তার দিকে লক্ষ করলাম। তিনি তাওয়াফ শেষ করে হাতীমে এসে দু-রাকাত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, 'তোমরা মনে হয় আমার সমালোচনা করছিলে!' সবাই বলে উঠল, না, না, আমরা ভালো কথাই বলছিলাম। আমরা তো আপনার আর হিশামের আলোচনা করছিলাম। আমাদের কেউ একজনকে মর্যাদাবান বলছিল তো অন্যজন আরেকজনকে বেশি মর্যাদাবান বলছিল।' তখন আমর রা. বললেন, 'তাহলে আমিই তোমাদের আসল খবর জানাচ্ছি। আমরা উভয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছি, রাসূল ﷺ-কে ভালোবেসেছি আর তাঁর কল্যাণকামী হয়েছি।' এরপর তিনি ইয়ারমুক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, 'কাপড় দিয়ে খুঁটি দাঁড় করানো হলো। অতঃপর হিশাম গোসল সেরে নিল। সুগন্ধী মাখল আর কাফনের কাপড় জড়িয়ে নিল। এভাবেই কাপড় দিয়ে খুঁটি দাঁড় করানো হলো। তারপর আমি গোসল সেরে সুগন্ধী মেখে কাফনের কাপড় জড়িয়ে নিলাম। অতঃপর আমরা নিজেদের আল্লাহ তাআলার সামনে উপস্থাপন করলাম (জিহাদে শরীক হলাম) আর তিনি তাকে কবুল করে নিলেন (শাহাদাতের মর্যাদা দান করলেন)। সুতরাং হিশাম আমার চেয়ে উত্তম। সে আমার চেয়ে উত্তম। কারণ, আল্লাহ তাকে কবুল করে নিয়েছেন। এ কারণেই সে আমার চেয়ে উত্তম।

বর্ণনাকারী আবু উমার রহ. বলেন, 'তাবিঈ আমর ইবনু শুআইব রহ. বলেছেন, 'ইয়ারমুকের যুদ্ধের দিন আমর ইবনুল আস রা. তার কাপড়ের খুঁটিতে সত্তরটি তরবারি ঝুলিয়েছিলেন। এই তরবারিগুলো ছিল বনু সাহম গোত্রের নিহত লোকজনের।”

টিকাঃ
১৫৭. সনদ গরীব। তা ছাড়া আজনাদাইনের যুদ্ধে হিশাম ইবনুল আ'স রা. এর শাহাদাতের বিষয়টি প্রমাণিত নয়। বিশুদ্ধ ও শক্তিশালী বর্ণনা অনুযায়ী তিনি ১৫ হিজরীতে ইয়ারমুকের যুদ্ধে শাহাদাতবরণ করেন। পরের বর্ণনায় তা রয়েছে। এই বর্ণনাটি আরও রয়েছে: ইবনুল আসাকীর, তারীখু মাদীনাতি দিমাশক, ৭৪/১৯।
১৫৮. সনদ শক্তিশালী। আরও বর্ণনা করেছেন, ইবনু সা'আদ, তাবাকাতুল কুবরা, ৪/১৪৬।
১৫৯. সনদ দুর্বল। তবে আগের বর্ণনা দ্বারা মূল ঘটনা প্রমাণিত।

ফন্ট সাইজ
15px
17px