📄 আল্লাহর রাস্তায় সফরের জন্য বিলাল রা.-এর অনুমতি প্রার্থনা
১০২. সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব রহ. বলেন, আবু বকর রা.-এর খিলাফাতকাল শুরু হলে বিলাল রা. শাম (সিরিয়া) অভিমুখে সফরের প্রস্তুতি নিলেন। তখন আবু বকর রা. তাকে বললেন, 'বিলাল, তোমার ব্যাপারে তো আমরা এই ধারণা করিনি যে, তুমি আমাদের এই অবস্থায় রেখে চলে যাবে! তুমি যদি আমাদের সাথে থাকতে তবে তো আমাদের সহযোগিতা করতে পারতে।' বিলাল রা. বললেন, 'আপনি যদি আল্লাহর জন্য আমাকে (ক্রয় করে) মুক্ত করে থাকেন তাহলে আমাকে আল্লাহর রাস্তায় যেতে দিন। আর যদি নিজের (উপকারের) জন্য মুক্ত করে থাকেন তবে আপনার কাছেই রেখে দেন।' এ কথা শুনে আবু বকর রা. তাকে সফরের অনুমতি প্রদান করলেন। তিনি শামের উদ্দেশে বেরিয়ে গেলেন আর সেখানেই ইনতিকাল করেন।
টিকাঃ
১৪৩. গ্রন্থকারের সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া, ১/১৫০।
📄 অতিরিক্ত স্বাস্থ্য নিয়েও মিকদাদ রা.-এর জিহাদে যাওয়ার তামান্না
১০৩. যুবাইর ইবনু নুফাইর রহ. বলেন, একবার আমরা দামিশকে মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ রা.-এর নিকট বসা ছিলাম। তিনি একটি কাঠের সিন্দুকের ওপর বসে আমাদের হাদীস শোনাতেন। (স্বাস্থ্যবান হওয়ার দরুন) তিনি বসলে সেখানে আর (কারও বসার মতো) অতিরিক্ত জায়গা থাকত না। সেই বৈঠকে এক ব্যক্তি বললেন, '(এই স্বাস্থ্য নিয়ে) এ বছর যদি আপনি যুদ্ধে না যেতেন (তবে ভালো হতো)!' তিনি বললেন, ‘আবাতিল বুহুস’ অর্থাৎ সূরা তাওবা এই সুযোগকে প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, 'ইনফিরু খিফাফান ওয়া সিকোয়ালা' অর্থাৎ তোমরা হালকা ও ভারী উভয় অবস্থায় যুদ্ধে বের হও। বর্ণনাকারী আবু উসমান রহ. বলেন, 'সূরার এই নামকরণের কারণ হলো, এতে মুনাফিকদের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
১০৪. আনাস ইবনু মালিক রা. বলেন, একবার তালহা রা. এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন, 'ইনফিরু খিফাফান ওয়া সিকোয়ালা' অর্থাৎ তোমরা হালকা ও ভারী উভয় অবস্থায় যুদ্ধে বের হও। অতঃপর বললেন, 'আল্লাহ তাআলা আমাদের (তাঁর রাস্তায়) বের হতে আদেশ করেছেন এবং যৌবন ও বার্ধক্য উভয় অবস্থাতেই বের হতে বলেছেন। অতএব তোমরা আমাকে (যুদ্ধ সরঞ্জাম) প্রস্তুত করে দাও।' তার সন্তানগণ তাকে বললেন, 'আল্লাহ তাআলা আপনার প্রতি রহম করুন। আপনি রাসূল ﷺ, আবু বকর ও উমার রা.-এর যুগে যুদ্ধ করেছেন। এখন আপনার পক্ষ হতে আমরা যুদ্ধে যাব।' তারপরও তিনি সামুদ্রিক অভিযানে অংশগ্রহণ করেন এবং আল্লাহর রাস্তায় ইনতিকাল করেন। বাহিনীর লোকজন তাকে দাফন করার জন্য একটি দ্বীপ এলাকা অনুসন্ধান করছিলেন। এভাবে সাত দিন চলে গেলেও তার লাশে কোনো ধরনের পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়নি।
টিকাঃ
১৪৪. সূরা তাওবার অপর নাম হলো 'সুতাতুল বুহুস' (ভুলবশত বুহুছ বলা হয়েছে)। কারণ, এই সূরাতে মুনাফিকদের ব্যাপারে বহছ তথা আলোচনা করা হয়েছে। আল্লামা যমখশরী, আল ফাইকু ফি গরীবিল হাদীস, ২/৪০৭।
১৪৫. সূরা তাওবা (বারাআত), ৯:৪১
১৪৬. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসতাদরাকু হাকিম, ৩২৮২। সনদ সহীহ।
১৪৭. সূরা তাওবা (বারাআত), ৯:৪১
১৪৮. সনদ দুর্বল। বর্ণনাকারীদের মধ্যে আলী ইবনু জায়িদ ইবনি জুদআন রয়েছেন। আরও রয়েছে: মুসতাদরাকু হাকিম, ৫৫০৮।
📄 রাসূল ﷺ-এর রিজিক
১০৫. তাউস ইয়ামানী রহ. বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, আল্লাহ তাআলা কিয়ামাতের নিকটবর্তী সময়ে আমাকে তরবারি দিয়ে পাঠিয়েছেন। আর আমার রিজিক রেখেছেন আমার বর্শার ছায়াতলে। যারা আমার বিরোধিতা করবে তাদের জন্য অপমান আর লাঞ্ছনা রেখেছেন। আর যে ব্যক্তি যে জাতির সাথে সামঞ্জস্য রাখবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।
টিকাঃ
১৪৯. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবাহ, ১৯৪৩৭
📄 খালিদ ইবনু ওয়ালিদ রা.-এর আনন্দের দিন
১০৬. খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রা. বলেন, مَا أَدْرِي مِنْ أَيِّ يَوْمَيْنِ أَفِرُ ، يَوْمُ أَرَادَ اللهُ أَنْ يَهْدِيَ لِي فِيهِ شَهَادَةً، أَوْ مِنْ يَوْمٍ أَرَادَ أَنْ يَهْدِيَ لِي فِيهِ كَرَامَةٌ "আমার জানা নেই যে, কোন দিনটিতে আমি বেশি আনন্দ বোধ করব? যেদিন আল্লাহ তাআলা আমাকে শাহাদাতের সৌভাগ্য দান করার ইচ্ছা করবেন সেদিন নাকি যেদিন আল্লাহ তাআলা আমাকে (শাহাদাতের মর্যাদা দিয়ে) সম্মানিত করার ইচ্ছা করবেন সেদিন?"
টিকাঃ
১৫০. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: ইবনু আবিদ দুনিয়া, মাকারিমুল আখলাক, ১৭৪।