📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 ইসলাম ও জিহাদে অগ্রগামী হওয়ার মর্যাদা

📄 ইসলাম ও জিহাদে অগ্রগামী হওয়ার মর্যাদা


১০১. আবু নাওফাল ইবনু আবি আকরাব রহ. বলেন, হারিস ইবনু হিশাম রা. সিরিয়ার উদ্দেশে মক্কা হতে রওনা হওয়ার সময় সমস্ত মক্কাবাসী অত্যন্ত চিন্তিত ও বিচলিত হয়ে উঠল। দুধের শিশু ছাড়া ছোটবড় সবাই তাকে বিদায় জানানোর জন্য মক্কা শহর হতে বের হয়ে এল। 'বাতহা' নামক উঁচু স্থানে অথবা এর নিকটবর্তী স্থানে পৌঁছে তিনি দাঁড়িয়ে যান। সব লোকজন তার চারিপাশে জড়ো হয়ে দাঁড়ায়। তারা কাঁদতে থাকে। তিনি তাদের এমন ব্যাকুল অবস্থা দেখে বললেন, হে লোকসকল, আল্লাহর শপথ! আমি এ জন্য চলে যাচ্ছি না যে, আমার কাছে তোমাদের অপেক্ষা নিজের প্রাণ অধিক প্রিয় অথবা আমি তোমাদের এই মক্কা শহরের পরিবর্তে অন্য কোনো শহর পছন্দ করেছি; বরং এ জন্য যাচ্ছি যে, যখন (ইসলাম ও জিহাদের) ডাক এসেছিল, তখন এই ডাকে কুরাইশের এমন কিছু লোক অগ্রগামী হয়েছিল, যারা কুরাইশের বিশিষ্ট লোকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না আর কুরাইশ বংশের উচ্চ পরিবারভুক্তও ছিল না। এখন আমাদের অবস্থা এই দাঁড়িয়েছে যে, আল্লাহর শপথ! এখন যদি আমরা মক্কার পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণও আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করি তবুও আমরা তাদের একদিনের সাওয়াবও অর্জন করতে সক্ষম হব না। আল্লাহর শপথ! দুনিয়াতে তো তারা আমাদের চাইতে অগ্রসর হয়ে গেছে। এখন আমরা এতটুকু কামনা করি যে আখিরাতে যেন আমরা তাদের সমতুল্য হতে পারি। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে বের হয় তার আল্লাহকে ভয় করা উচিত। অবশেষে তিনি সিরিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়ে গেলেন এবং তার সঙ্গীগণও তার সাথে গেল। তিনি সেখানেই শাহাদাত লাভ করেন।

টিকাঃ
১৪২. গ্রন্থকারের সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসতাদরাকু হাকিম, ৫২১১। সনদ দুর্বল।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 আল্লাহর রাস্তায় সফরের জন্য বিলাল রা.-এর অনুমতি প্রার্থনা

📄 আল্লাহর রাস্তায় সফরের জন্য বিলাল রা.-এর অনুমতি প্রার্থনা


১০২. সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব রহ. বলেন, আবু বকর রা.-এর খিলাফাতকাল শুরু হলে বিলাল রা. শাম (সিরিয়া) অভিমুখে সফরের প্রস্তুতি নিলেন। তখন আবু বকর রা. তাকে বললেন, 'বিলাল, তোমার ব্যাপারে তো আমরা এই ধারণা করিনি যে, তুমি আমাদের এই অবস্থায় রেখে চলে যাবে! তুমি যদি আমাদের সাথে থাকতে তবে তো আমাদের সহযোগিতা করতে পারতে।' বিলাল রা. বললেন, 'আপনি যদি আল্লাহর জন্য আমাকে (ক্রয় করে) মুক্ত করে থাকেন তাহলে আমাকে আল্লাহর রাস্তায় যেতে দিন। আর যদি নিজের (উপকারের) জন্য মুক্ত করে থাকেন তবে আপনার কাছেই রেখে দেন।' এ কথা শুনে আবু বকর রা. তাকে সফরের অনুমতি প্রদান করলেন। তিনি শামের উদ্দেশে বেরিয়ে গেলেন আর সেখানেই ইনতিকাল করেন।

টিকাঃ
১৪৩. গ্রন্থকারের সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া, ১/১৫০।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 অতিরিক্ত স্বাস্থ্য নিয়েও মিকদাদ রা.-এর জিহাদে যাওয়ার তামান্না

📄 অতিরিক্ত স্বাস্থ্য নিয়েও মিকদাদ রা.-এর জিহাদে যাওয়ার তামান্না


১০৩. যুবাইর ইবনু নুফাইর রহ. বলেন, একবার আমরা দামিশকে মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ রা.-এর নিকট বসা ছিলাম। তিনি একটি কাঠের সিন্দুকের ওপর বসে আমাদের হাদীস শোনাতেন। (স্বাস্থ্যবান হওয়ার দরুন) তিনি বসলে সেখানে আর (কারও বসার মতো) অতিরিক্ত জায়গা থাকত না। সেই বৈঠকে এক ব্যক্তি বললেন, '(এই স্বাস্থ্য নিয়ে) এ বছর যদি আপনি যুদ্ধে না যেতেন (তবে ভালো হতো)!' তিনি বললেন, ‘আবাতিল বুহুস’ অর্থাৎ সূরা তাওবা এই সুযোগকে প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, 'ইনফিরু খিফাফান ওয়া সিকোয়ালা' অর্থাৎ তোমরা হালকা ও ভারী উভয় অবস্থায় যুদ্ধে বের হও। বর্ণনাকারী আবু উসমান রহ. বলেন, 'সূরার এই নামকরণের কারণ হলো, এতে মুনাফিকদের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

১০৪. আনাস ইবনু মালিক রা. বলেন, একবার তালহা রা. এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন, 'ইনফিরু খিফাফান ওয়া সিকোয়ালা' অর্থাৎ তোমরা হালকা ও ভারী উভয় অবস্থায় যুদ্ধে বের হও। অতঃপর বললেন, 'আল্লাহ তাআলা আমাদের (তাঁর রাস্তায়) বের হতে আদেশ করেছেন এবং যৌবন ও বার্ধক্য উভয় অবস্থাতেই বের হতে বলেছেন। অতএব তোমরা আমাকে (যুদ্ধ সরঞ্জাম) প্রস্তুত করে দাও।' তার সন্তানগণ তাকে বললেন, 'আল্লাহ তাআলা আপনার প্রতি রহম করুন। আপনি রাসূল ﷺ, আবু বকর ও উমার রা.-এর যুগে যুদ্ধ করেছেন। এখন আপনার পক্ষ হতে আমরা যুদ্ধে যাব।' তারপরও তিনি সামুদ্রিক অভিযানে অংশগ্রহণ করেন এবং আল্লাহর রাস্তায় ইনতিকাল করেন। বাহিনীর লোকজন তাকে দাফন করার জন্য একটি দ্বীপ এলাকা অনুসন্ধান করছিলেন। এভাবে সাত দিন চলে গেলেও তার লাশে কোনো ধরনের পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়নি।

টিকাঃ
১৪৪. সূরা তাওবার অপর নাম হলো 'সুতাতুল বুহুস' (ভুলবশত বুহুছ বলা হয়েছে)। কারণ, এই সূরাতে মুনাফিকদের ব্যাপারে বহছ তথা আলোচনা করা হয়েছে। আল্লামা যমখশরী, আল ফাইকু ফি গরীবিল হাদীস, ২/৪০৭।
১৪৫. সূরা তাওবা (বারাআত), ৯:৪১
১৪৬. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসতাদরাকু হাকিম, ৩২৮২। সনদ সহীহ।
১৪৭. সূরা তাওবা (বারাআত), ৯:৪১
১৪৮. সনদ দুর্বল। বর্ণনাকারীদের মধ্যে আলী ইবনু জায়িদ ইবনি জুদআন রয়েছেন। আরও রয়েছে: মুসতাদরাকু হাকিম, ৫৫০৮।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 রাসূল ﷺ-এর রিজিক

📄 রাসূল ﷺ-এর রিজিক


১০৫. তাউস ইয়ামানী রহ. বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, আল্লাহ তাআলা কিয়ামাতের নিকটবর্তী সময়ে আমাকে তরবারি দিয়ে পাঠিয়েছেন। আর আমার রিজিক রেখেছেন আমার বর্শার ছায়াতলে। যারা আমার বিরোধিতা করবে তাদের জন্য অপমান আর লাঞ্ছনা রেখেছেন। আর যে ব্যক্তি যে জাতির সাথে সামঞ্জস্য রাখবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।

টিকাঃ
১৪৯. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবাহ, ১৯৪৩৭

ফন্ট সাইজ
15px
17px