📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 শহীদগণের আবাসস্থল

📄 শহীদগণের আবাসস্থল


৯৯. আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রা. বলেন, অহুদ যুদ্ধের শহীদগণ যখন (জান্নাতে) নিজেদের আবাসস্থলে পৌঁছলেন তখন নিজেদের সঙ্গী-সাথিদের মধ্যে এমন কিছু লোকজনের আবাস দেখতে পেলেন যারা তখনো শহীদ হননি। শাহাদাতের তামান্না লালন করতেন (বা ভবিষ্যতে শহীদ হবেন)। তখন তারা বললেন, 'আমরা আল্লাহ তাআলার নিকট যে উত্তম প্রতিদান পেয়েছি তা আমাদের সঙ্গীগণ কীভাবে জানবে?' তখন এই আয়াত নাযিল হয়,

(ওয়ালা তাহসাবান্নাল্লাযিনা কুতিলু ফি সাবিলিল্লাহি আমওয়াতান বাল আহইয়াউন ইনদা রব্বিহিম ইউরযাকুন)।

'আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের তোমরা কখনো মৃত মনে কোরো না; বরং তারা নিজেদের পালনকর্তার নিকট জীবিত ও জীবিকাপ্রাপ্ত।'¹³⁹

টিকাঃ
১৩৯. সূরা আ-লু ইমরান, ৩:১৬৯
১৪০. সনদ দুর্বল। অজ্ঞাত বর্ণনাকারী রয়েছেন। তবে সহীহ সনদে সমার্থক বর্ণনা রয়েছে: সুনানু আবি দাউদ, ২৫২০; মুসতাদরাকু হাকিম, ৩১৬৫।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 বদরী সাহাবীদের বিশেষ মর্যাদা

📄 বদরী সাহাবীদের বিশেষ মর্যাদা


১০০. হাসান বসরী রহ. বলেন, একবার উমার রা.-এর দরবারে কতিপয় লোক এলেন, যাদের মধ্যে সুহাইল ইবনু আমর রা., আবূ সুফইয়ান ইবনু হারব রা. ও কুরাইশের আরও অনেক বড় বড় নেতারা ছিলেন। সংবাদ পেয়ে উমার রা.-এর দারোয়ান এগিয়ে এল। সে সুহাইব রা., বিলাল রা. ও আম্মার রা. অর্থাৎ বদরী সাহাবায়ে কেরামকে ভেতরে আসার অনুমতি দিতে লাগল। আল্লাহর শপথ! উমার রা. নিজেও বদরী সাহাবী ছিলেন আর বদরী সাহাবায়ে কেরামকে অত্যধিক ভালোবাসতেন এবং তাদের প্রতি বিশেষ লক্ষ রাখার জন্য নিজ সঙ্গী-সাথিদের জোর দিতেন। এ অবস্থা দেখে আবূ সুফইয়ান রা. বললেন, আজকের মতো অবস্থা তো আর কখনো দেখিনি। এ দারোয়ান ওই গোলামদের অনুমতি দিচ্ছে আর আমরা বসে রয়েছি। সে আমাদের প্রতি তাকিয়েও দেখছে না।

(হাসান রহ. বলেন,) সুহাইল ইবনু আমর রা. কতই-না জ্ঞানী ও বিচক্ষণ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বললেন, লোকসকল, আল্লাহর শপথ! তোমাদের চেহারায় আমি অসন্তোষের ভাব দেখতে পাচ্ছি। তোমাদের যদি অসন্তুষ্ট হতেই হয় তবে নিজেদের ওপর অসন্তুষ্ট হও। এদেরও দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল এবং তোমাদেরও দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। তারা দ্রুত দাওয়াতকে গ্রহণ করেছে, আর তোমরা দেরি করেছ। মনোযোগ দিয়ে শোনো। আল্লাহর শপথ! তোমরা আমীরুল মুমিনীনের এই দরজায় ঢুকতে একে অন্যের চাইতে অধিক আগ্রহ পোষণ করছ। অথচ এ দরজা আজ তোমাদের জন্য খোলাও হয়নি। প্রকৃতপক্ষে তোমাদের জন্য অনেক বিরাট বিষয় হলো, সেই সম্মান হারানো, যা তারা (ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামী হয়ে) অর্জন করেছে। এই মর্যাদা অর্জন করার ফলেই তারা তোমাদের চাইতে অগ্রাধিকার লাভ করেছে যেমনটি তোমরা দেখতে পাচ্ছ। হে লোকসকল, তোমাদের চাইতে অগ্রগামী হয়ে তাঁরা যে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী হয়েছেন, এখন তোমরা তা কোনোভাবেই অর্জন করতে পারবে না। সুতরাং তোমরা এখন জিহাদের প্রতি মনোযোগী হও এবং এতেই লেগে থাকো। হয়তো আল্লাহ তাআলা তোমাদের জিহাদ ও শাহাদাতের মর্যাদা দেবেন। এরপর সুহাইল ইবনু আমর রা. কাপড় ঝেড়ে উঠে গেলেন এবং (জিহাদের উদ্দেশ্যে) সিরিয়ায় চলে গেলেন। হাসান রহ. বলেন, সুহাইল রা. সত্য বলেছেন, আল্লাহর শপথ! যে বান্দা আল্লাহ তাআলার দিকে দ্রুত অগ্রসর হয় তাকে আল্লাহ বিলম্বকারীদের মতো মর্যাদা দেন না।

টিকাঃ
১৪১. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আরও রয়েছে: মুসতাদরাকু হাকিম: ৫২২৭। ইমাম হাইসামী বলেন, হাসান রহ. উমার রা. থেকে শোনেননি। তবে এ হাদীসের রাবীরা সহীহ গ্রন্থের রাবী।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 ইসলাম ও জিহাদে অগ্রগামী হওয়ার মর্যাদা

📄 ইসলাম ও জিহাদে অগ্রগামী হওয়ার মর্যাদা


১০১. আবু নাওফাল ইবনু আবি আকরাব রহ. বলেন, হারিস ইবনু হিশাম রা. সিরিয়ার উদ্দেশে মক্কা হতে রওনা হওয়ার সময় সমস্ত মক্কাবাসী অত্যন্ত চিন্তিত ও বিচলিত হয়ে উঠল। দুধের শিশু ছাড়া ছোটবড় সবাই তাকে বিদায় জানানোর জন্য মক্কা শহর হতে বের হয়ে এল। 'বাতহা' নামক উঁচু স্থানে অথবা এর নিকটবর্তী স্থানে পৌঁছে তিনি দাঁড়িয়ে যান। সব লোকজন তার চারিপাশে জড়ো হয়ে দাঁড়ায়। তারা কাঁদতে থাকে। তিনি তাদের এমন ব্যাকুল অবস্থা দেখে বললেন, হে লোকসকল, আল্লাহর শপথ! আমি এ জন্য চলে যাচ্ছি না যে, আমার কাছে তোমাদের অপেক্ষা নিজের প্রাণ অধিক প্রিয় অথবা আমি তোমাদের এই মক্কা শহরের পরিবর্তে অন্য কোনো শহর পছন্দ করেছি; বরং এ জন্য যাচ্ছি যে, যখন (ইসলাম ও জিহাদের) ডাক এসেছিল, তখন এই ডাকে কুরাইশের এমন কিছু লোক অগ্রগামী হয়েছিল, যারা কুরাইশের বিশিষ্ট লোকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না আর কুরাইশ বংশের উচ্চ পরিবারভুক্তও ছিল না। এখন আমাদের অবস্থা এই দাঁড়িয়েছে যে, আল্লাহর শপথ! এখন যদি আমরা মক্কার পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণও আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করি তবুও আমরা তাদের একদিনের সাওয়াবও অর্জন করতে সক্ষম হব না। আল্লাহর শপথ! দুনিয়াতে তো তারা আমাদের চাইতে অগ্রসর হয়ে গেছে। এখন আমরা এতটুকু কামনা করি যে আখিরাতে যেন আমরা তাদের সমতুল্য হতে পারি। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে বের হয় তার আল্লাহকে ভয় করা উচিত। অবশেষে তিনি সিরিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়ে গেলেন এবং তার সঙ্গীগণও তার সাথে গেল। তিনি সেখানেই শাহাদাত লাভ করেন।

টিকাঃ
১৪২. গ্রন্থকারের সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসতাদরাকু হাকিম, ৫২১১। সনদ দুর্বল।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 আল্লাহর রাস্তায় সফরের জন্য বিলাল রা.-এর অনুমতি প্রার্থনা

📄 আল্লাহর রাস্তায় সফরের জন্য বিলাল রা.-এর অনুমতি প্রার্থনা


১০২. সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব রহ. বলেন, আবু বকর রা.-এর খিলাফাতকাল শুরু হলে বিলাল রা. শাম (সিরিয়া) অভিমুখে সফরের প্রস্তুতি নিলেন। তখন আবু বকর রা. তাকে বললেন, 'বিলাল, তোমার ব্যাপারে তো আমরা এই ধারণা করিনি যে, তুমি আমাদের এই অবস্থায় রেখে চলে যাবে! তুমি যদি আমাদের সাথে থাকতে তবে তো আমাদের সহযোগিতা করতে পারতে।' বিলাল রা. বললেন, 'আপনি যদি আল্লাহর জন্য আমাকে (ক্রয় করে) মুক্ত করে থাকেন তাহলে আমাকে আল্লাহর রাস্তায় যেতে দিন। আর যদি নিজের (উপকারের) জন্য মুক্ত করে থাকেন তবে আপনার কাছেই রেখে দেন।' এ কথা শুনে আবু বকর রা. তাকে সফরের অনুমতি প্রদান করলেন। তিনি শামের উদ্দেশে বেরিয়ে গেলেন আর সেখানেই ইনতিকাল করেন।

টিকাঃ
১৪৩. গ্রন্থকারের সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া, ১/১৫০।

ফন্ট সাইজ
15px
17px