📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 মুসআব ইবনু উমায়ের রা. সম্পর্কে আব্দুর রহমান ইবনু আওফ রা.-এর মূল্যায়ন

📄 মুসআব ইবনু উমায়ের রা. সম্পর্কে আব্দুর রহমান ইবনু আওফ রা.-এর মূল্যায়ন


৯৬. সা'দ ইবনু ইবরাহীম রহ. তার পিতা ইবরাহীম ইবনু আব্দির রহমান ইবনি আওফ রা. হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবনু আওফ রা.-এর নিকট কিছু খানা আনা হলো। তিনি তখন সায়িম (রোজাদার) ছিলেন। তিনি বললেন, 'মুসআব ইবনু উমায়র রা. ছিলেন আমার চেয়েও উত্তম ব্যক্তি। তিনি শাহাদাত লাভ করেছেন। তাকে এমন একটি চাদরে কাফন দেয়া হয়েছিল যে, তা দিয়ে মাথা ঢাকলে পা বের হয়ে যেত, আর পা ঢাকলে মাথা বের হয়ে যেত। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় তিনি এ কথাও বলেছিলেন যে, হামযাহ রা.-ও আমার চেয়ে উত্তম ছিলেন। তিনি শাহাদাত লাভ করেছেন। এরপর দুনিয়াতে আমাদের অনেক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দেয়া হয়েছে অথবা বলেছেন যথেষ্ট পরিমাণে পার্থিব সম্পত্তি দান করা হয়েছে। আমার ভয় হচ্ছে, হয়তো আমাদের সাওয়াবের বিনিময় এখানেই দিয়ে দেয়া হচ্ছে। এরপর তিনি কাঁদতে লাগলেন, এমনকি খাদ্য পরিহার করলেন।

টিকাঃ
১৩৪. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: সহীহ বুখারী, ৪০৪৫।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 রাসূল ﷺ-এর জীবদ্দশায় শহীদ হওয়া সাহাবীগণের বিশেষ মূল্যায়ন

📄 রাসূল ﷺ-এর জীবদ্দশায় শহীদ হওয়া সাহাবীগণের বিশেষ মূল্যায়ন


৯৭. উমাই ইবনু রবীআহ আল-মুরাদী রহ. বলেন, একবার আবুল উবাইদাইন (মুআওয়িয়াহ ইবনু সাবরাহ ইবনি হুসাইন) রহ. আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রা.-কে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'হে মুহাম্মাদ ﷺ-এর সাহাবীগণ, আপনারা পরস্পর মতবিরোধে জড়াবেন না। এতে আমাদের কষ্ট হয়।' ইবনু মাসউদ রা. বললেন, 'আবু উবাইদাইন, আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন! মুহাম্মাদ ﷺ-এর প্রকৃত সাথি তো ছিল তারা, যারা তার সাথে (জীবদ্দশায়) নিজ পরিধেয় বস্ত্রে সমাহিত হয়েছেন।'¹³⁵

৯৮. জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ রা. বলেন, মুআওয়িয়াহ রা. যখন (অহুদ প্রান্তর ঘেঁষে) একটি কূপ খনন করার পরিকল্পনা করলেন তখন এই মর্মে ঘোষণা দেয়া হলো যে, 'এখানে যাদের স্বজনের মৃতদেহ (সমাহিত) রয়েছে তারা যেন নিজ নিজ স্বজনের কবরে উপস্থিত হয়। অর্থাৎ অহুদ যুদ্ধে সমাহিত শহীদগণের নিকট উপস্থিত হয়। বর্ণনাকারী বলেন, 'আমরা তাদের একেবারে সতেজ অবস্থায় বের করে আনলাম। এ সময় জনৈক শহীদের আঙুলে কোদালের আঘাত লাগলে ক্ষতস্থান হতে রক্ত বের হতে শুরু করে।' এই দৃশ্য দেখে আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন, এই দৃশ্য দেখার পর (শহীদগণের মর্যাদা বিষয়ে) কোনো অস্বীকারকারীই আর অস্বীকার করবে না।

টিকাঃ
১৩৫. ইবনু মাসউদ রা. বিনয়বশত রাসূল ﷺ-এর জীবদ্দশায় শহীদগণকে তার বিশেষ সাহাবী বলে উল্লেখ করেছেন। এ ব্যাপারে উলামাগণ একমত যে, ঈমানের সাথে রাসূল-কে দেখার পর যারা ঈমানের সাথে মৃত্যুবরণ করেছেন তারা সকলেই সাহাবী।-অনুবাদক।
১৩৬. সনদ সহীহ। গ্রন্থকার ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেননি।
১৩৭. অর্থাৎ খননকালে কারও লাশ বেরিয়ে পড়লে স্বজনের দায়িত্বে অন্যত্রে দাফন করা হবে।
১৩৮. সনদ হাসান। বর্ণনাকারী আবু যুবাইর মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম ইবনি তাদারুস সম্পর্কে তাদলীসের অভিযোগ রয়েছে। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু আব্দির রাযযাক, ৯৬০২।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 শহীদগণের আবাসস্থল

📄 শহীদগণের আবাসস্থল


৯৯. আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রা. বলেন, অহুদ যুদ্ধের শহীদগণ যখন (জান্নাতে) নিজেদের আবাসস্থলে পৌঁছলেন তখন নিজেদের সঙ্গী-সাথিদের মধ্যে এমন কিছু লোকজনের আবাস দেখতে পেলেন যারা তখনো শহীদ হননি। শাহাদাতের তামান্না লালন করতেন (বা ভবিষ্যতে শহীদ হবেন)। তখন তারা বললেন, 'আমরা আল্লাহ তাআলার নিকট যে উত্তম প্রতিদান পেয়েছি তা আমাদের সঙ্গীগণ কীভাবে জানবে?' তখন এই আয়াত নাযিল হয়,

(ওয়ালা তাহসাবান্নাল্লাযিনা কুতিলু ফি সাবিলিল্লাহি আমওয়াতান বাল আহইয়াউন ইনদা রব্বিহিম ইউরযাকুন)।

'আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের তোমরা কখনো মৃত মনে কোরো না; বরং তারা নিজেদের পালনকর্তার নিকট জীবিত ও জীবিকাপ্রাপ্ত।'¹³⁹

টিকাঃ
১৩৯. সূরা আ-লু ইমরান, ৩:১৬৯
১৪০. সনদ দুর্বল। অজ্ঞাত বর্ণনাকারী রয়েছেন। তবে সহীহ সনদে সমার্থক বর্ণনা রয়েছে: সুনানু আবি দাউদ, ২৫২০; মুসতাদরাকু হাকিম, ৩১৬৫।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 বদরী সাহাবীদের বিশেষ মর্যাদা

📄 বদরী সাহাবীদের বিশেষ মর্যাদা


১০০. হাসান বসরী রহ. বলেন, একবার উমার রা.-এর দরবারে কতিপয় লোক এলেন, যাদের মধ্যে সুহাইল ইবনু আমর রা., আবূ সুফইয়ান ইবনু হারব রা. ও কুরাইশের আরও অনেক বড় বড় নেতারা ছিলেন। সংবাদ পেয়ে উমার রা.-এর দারোয়ান এগিয়ে এল। সে সুহাইব রা., বিলাল রা. ও আম্মার রা. অর্থাৎ বদরী সাহাবায়ে কেরামকে ভেতরে আসার অনুমতি দিতে লাগল। আল্লাহর শপথ! উমার রা. নিজেও বদরী সাহাবী ছিলেন আর বদরী সাহাবায়ে কেরামকে অত্যধিক ভালোবাসতেন এবং তাদের প্রতি বিশেষ লক্ষ রাখার জন্য নিজ সঙ্গী-সাথিদের জোর দিতেন। এ অবস্থা দেখে আবূ সুফইয়ান রা. বললেন, আজকের মতো অবস্থা তো আর কখনো দেখিনি। এ দারোয়ান ওই গোলামদের অনুমতি দিচ্ছে আর আমরা বসে রয়েছি। সে আমাদের প্রতি তাকিয়েও দেখছে না।

(হাসান রহ. বলেন,) সুহাইল ইবনু আমর রা. কতই-না জ্ঞানী ও বিচক্ষণ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বললেন, লোকসকল, আল্লাহর শপথ! তোমাদের চেহারায় আমি অসন্তোষের ভাব দেখতে পাচ্ছি। তোমাদের যদি অসন্তুষ্ট হতেই হয় তবে নিজেদের ওপর অসন্তুষ্ট হও। এদেরও দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল এবং তোমাদেরও দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। তারা দ্রুত দাওয়াতকে গ্রহণ করেছে, আর তোমরা দেরি করেছ। মনোযোগ দিয়ে শোনো। আল্লাহর শপথ! তোমরা আমীরুল মুমিনীনের এই দরজায় ঢুকতে একে অন্যের চাইতে অধিক আগ্রহ পোষণ করছ। অথচ এ দরজা আজ তোমাদের জন্য খোলাও হয়নি। প্রকৃতপক্ষে তোমাদের জন্য অনেক বিরাট বিষয় হলো, সেই সম্মান হারানো, যা তারা (ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামী হয়ে) অর্জন করেছে। এই মর্যাদা অর্জন করার ফলেই তারা তোমাদের চাইতে অগ্রাধিকার লাভ করেছে যেমনটি তোমরা দেখতে পাচ্ছ। হে লোকসকল, তোমাদের চাইতে অগ্রগামী হয়ে তাঁরা যে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী হয়েছেন, এখন তোমরা তা কোনোভাবেই অর্জন করতে পারবে না। সুতরাং তোমরা এখন জিহাদের প্রতি মনোযোগী হও এবং এতেই লেগে থাকো। হয়তো আল্লাহ তাআলা তোমাদের জিহাদ ও শাহাদাতের মর্যাদা দেবেন। এরপর সুহাইল ইবনু আমর রা. কাপড় ঝেড়ে উঠে গেলেন এবং (জিহাদের উদ্দেশ্যে) সিরিয়ায় চলে গেলেন। হাসান রহ. বলেন, সুহাইল রা. সত্য বলেছেন, আল্লাহর শপথ! যে বান্দা আল্লাহ তাআলার দিকে দ্রুত অগ্রসর হয় তাকে আল্লাহ বিলম্বকারীদের মতো মর্যাদা দেন না।

টিকাঃ
১৪১. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আরও রয়েছে: মুসতাদরাকু হাকিম: ৫২২৭। ইমাম হাইসামী বলেন, হাসান রহ. উমার রা. থেকে শোনেননি। তবে এ হাদীসের রাবীরা সহীহ গ্রন্থের রাবী।

ফন্ট সাইজ
15px
17px