📄 অহুদের শহীদগণের প্রতি সালামের নির্দেশ
৯৫. উবাইদ ইবনু উমাইর লাইসী রহ. বলেন, অহুদ যুদ্ধের দিন রাসূল ﷺ মুসআব ইবনু উমায়র রা.-এর শিয়রে এসে দাঁড়ালেন। তিনি অহুদের ময়দানে শাহাদাত বরণ করে উপুড় হয়ে পড়ে ছিলেন। তিনি সেদিন রাসূল ﷺ-এর পতাকাবাহী ছিলেন। এ সময় রাসূল ﷺ তিলাওয়াত করেন,
(মিনের মু’মিনিনা রিজালুন সাদাকু মা আহাদুল্লাহা আলাইহি ফামিনহুম মান কাদা নাহবাহু ওয়া মিনহুম মান ইয়ানতাযিরু ওয়ামা বাদ্দালু তাবদিলা)।
'মুমিনদের মধ্যে কিছু লোক আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে। তাদের কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে। তারা তাদের সংকল্প মোটেই পরিবর্তন করেনি।'¹³²
(এরপর তিনি বলেন,) নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল এই সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, কিয়ামাতের দিন তোমরা আল্লাহ তাআলার নিকট শহীদ বলে গণ্য হবে। এরপর তিনি লোকজনের দিকে ফিরে বললেন, 'হে লোকসকল, তোমরা তাদের কাছে এসে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে আর সালাম দেবে। সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! কিয়ামাত পর্যন্ত যে তাদের সালাম করবে তার উত্তর দেয়া হবে।'
টিকাঃ
১৩২. সূরা আহযাব, ৩৩:২৩
১৩৩. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আরও রয়েছে: তবাকাতুল কুবরা, ৩/১২১।
📄 মুসআব ইবনু উমায়ের রা. সম্পর্কে আব্দুর রহমান ইবনু আওফ রা.-এর মূল্যায়ন
৯৬. সা'দ ইবনু ইবরাহীম রহ. তার পিতা ইবরাহীম ইবনু আব্দির রহমান ইবনি আওফ রা. হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবনু আওফ রা.-এর নিকট কিছু খানা আনা হলো। তিনি তখন সায়িম (রোজাদার) ছিলেন। তিনি বললেন, 'মুসআব ইবনু উমায়র রা. ছিলেন আমার চেয়েও উত্তম ব্যক্তি। তিনি শাহাদাত লাভ করেছেন। তাকে এমন একটি চাদরে কাফন দেয়া হয়েছিল যে, তা দিয়ে মাথা ঢাকলে পা বের হয়ে যেত, আর পা ঢাকলে মাথা বের হয়ে যেত। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় তিনি এ কথাও বলেছিলেন যে, হামযাহ রা.-ও আমার চেয়ে উত্তম ছিলেন। তিনি শাহাদাত লাভ করেছেন। এরপর দুনিয়াতে আমাদের অনেক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দেয়া হয়েছে অথবা বলেছেন যথেষ্ট পরিমাণে পার্থিব সম্পত্তি দান করা হয়েছে। আমার ভয় হচ্ছে, হয়তো আমাদের সাওয়াবের বিনিময় এখানেই দিয়ে দেয়া হচ্ছে। এরপর তিনি কাঁদতে লাগলেন, এমনকি খাদ্য পরিহার করলেন।
টিকাঃ
১৩৪. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: সহীহ বুখারী, ৪০৪৫।
📄 রাসূল ﷺ-এর জীবদ্দশায় শহীদ হওয়া সাহাবীগণের বিশেষ মূল্যায়ন
৯৭. উমাই ইবনু রবীআহ আল-মুরাদী রহ. বলেন, একবার আবুল উবাইদাইন (মুআওয়িয়াহ ইবনু সাবরাহ ইবনি হুসাইন) রহ. আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রা.-কে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'হে মুহাম্মাদ ﷺ-এর সাহাবীগণ, আপনারা পরস্পর মতবিরোধে জড়াবেন না। এতে আমাদের কষ্ট হয়।' ইবনু মাসউদ রা. বললেন, 'আবু উবাইদাইন, আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন! মুহাম্মাদ ﷺ-এর প্রকৃত সাথি তো ছিল তারা, যারা তার সাথে (জীবদ্দশায়) নিজ পরিধেয় বস্ত্রে সমাহিত হয়েছেন।'¹³⁵
৯৮. জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ রা. বলেন, মুআওয়িয়াহ রা. যখন (অহুদ প্রান্তর ঘেঁষে) একটি কূপ খনন করার পরিকল্পনা করলেন তখন এই মর্মে ঘোষণা দেয়া হলো যে, 'এখানে যাদের স্বজনের মৃতদেহ (সমাহিত) রয়েছে তারা যেন নিজ নিজ স্বজনের কবরে উপস্থিত হয়। অর্থাৎ অহুদ যুদ্ধে সমাহিত শহীদগণের নিকট উপস্থিত হয়। বর্ণনাকারী বলেন, 'আমরা তাদের একেবারে সতেজ অবস্থায় বের করে আনলাম। এ সময় জনৈক শহীদের আঙুলে কোদালের আঘাত লাগলে ক্ষতস্থান হতে রক্ত বের হতে শুরু করে।' এই দৃশ্য দেখে আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন, এই দৃশ্য দেখার পর (শহীদগণের মর্যাদা বিষয়ে) কোনো অস্বীকারকারীই আর অস্বীকার করবে না।
টিকাঃ
১৩৫. ইবনু মাসউদ রা. বিনয়বশত রাসূল ﷺ-এর জীবদ্দশায় শহীদগণকে তার বিশেষ সাহাবী বলে উল্লেখ করেছেন। এ ব্যাপারে উলামাগণ একমত যে, ঈমানের সাথে রাসূল-কে দেখার পর যারা ঈমানের সাথে মৃত্যুবরণ করেছেন তারা সকলেই সাহাবী।-অনুবাদক।
১৩৬. সনদ সহীহ। গ্রন্থকার ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেননি।
১৩৭. অর্থাৎ খননকালে কারও লাশ বেরিয়ে পড়লে স্বজনের দায়িত্বে অন্যত্রে দাফন করা হবে।
১৩৮. সনদ হাসান। বর্ণনাকারী আবু যুবাইর মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম ইবনি তাদারুস সম্পর্কে তাদলীসের অভিযোগ রয়েছে। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু আব্দির রাযযাক, ৯৬০২।
📄 শহীদগণের আবাসস্থল
৯৯. আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রা. বলেন, অহুদ যুদ্ধের শহীদগণ যখন (জান্নাতে) নিজেদের আবাসস্থলে পৌঁছলেন তখন নিজেদের সঙ্গী-সাথিদের মধ্যে এমন কিছু লোকজনের আবাস দেখতে পেলেন যারা তখনো শহীদ হননি। শাহাদাতের তামান্না লালন করতেন (বা ভবিষ্যতে শহীদ হবেন)। তখন তারা বললেন, 'আমরা আল্লাহ তাআলার নিকট যে উত্তম প্রতিদান পেয়েছি তা আমাদের সঙ্গীগণ কীভাবে জানবে?' তখন এই আয়াত নাযিল হয়,
(ওয়ালা তাহসাবান্নাল্লাযিনা কুতিলু ফি সাবিলিল্লাহি আমওয়াতান বাল আহইয়াউন ইনদা রব্বিহিম ইউরযাকুন)।
'আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের তোমরা কখনো মৃত মনে কোরো না; বরং তারা নিজেদের পালনকর্তার নিকট জীবিত ও জীবিকাপ্রাপ্ত।'¹³⁹
টিকাঃ
১৩৯. সূরা আ-লু ইমরান, ৩:১৬৯
১৪০. সনদ দুর্বল। অজ্ঞাত বর্ণনাকারী রয়েছেন। তবে সহীহ সনদে সমার্থক বর্ণনা রয়েছে: সুনানু আবি দাউদ, ২৫২০; মুসতাদরাকু হাকিম, ৩১৬৫।