📄 অহুদের ময়দানে তালহা রা.-এর অবস্থা
৯২. মুসা ইবনু তালহা রহ. বলেন, তালহা রা. যখন অহুদের ময়দান থেকে ফিরলেন তখন তার দেহে তরবারি, বর্শা ও তীরের পঁয়ত্রিশ বা পঁচাত্তরটি ক্ষতচিহ্ন ছিল। তার কপাল ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল। একটি ধমনি কাটা পড়েছিল। আর বৃদ্ধাঙুলির পাশের এই (তর্জনী) আঙুলটি অবশ হয়ে গিয়েছিল।
৯৩. যুবাইর ইবনুল আওয়াম রা. বলেন, অহুদ যুদ্ধের দিন আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘আওজাবা তালহাতু’ অর্থাৎ তালহা (জান্নাতকে) ওয়াজিব করে নিয়েছে।
টিকাঃ
১২৯. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসতাদরাকু হাকিম, ৪৩১৩।
১৩০. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: মুসনাদু আহমাদ, ১৪১৭।
📄 অন্তিম সময়ে সা'আদ ইবনু রবী' রা.-এর বার্তা
৯৪. আব্দুল্লাহ আব্দুর রহমান ইবনু আবি স'সআহ রহ. বলেন, রাসূল ﷺ বললেন, 'মোন ইয়ানযুরু লি মা ফাআলা সা’আদুবনু রবী’?' অর্থাৎ এমন কে আছে যে, সা'আদ ইবনু রবী'র অবস্থা সম্পর্কে আমাকে খবর এনে দেবে? তখন জনৈক আনসারী সাহাবী বললেন, 'আনা ইয়া রাসূলাল্লাহ' অর্থাৎ আমি পারব। বর্ণনাকারী বলেন, 'অতঃপর তিনি মৃতদের সারিতে সা'আদ রা.-কে অনুসন্ধান করতে করতে একসময় তাকে মারাত্মক আহত ও অন্তিম অবস্থায় দেখতে পেলেন।' তিনি বললেন, 'হে সা'আদ, রাসূল ﷺ আমাকে আদেশ করেছেন যে, আপনি জীবিতদের মধ্যে রয়েছেন নাকি মৃতদের মধ্যে তা খুঁজে দেখতে।' সা'আদ রা. বললেন, 'আমি মৃতদের সারিতে রয়েছি। আপনি আমার পক্ষ হতে রাসূল ﷺ-কে সালাম জানিয়ে বলবেন, 'সা'আদ আপনার উদ্দেশে বলেছেন, আল্লাহ তাআলা যেন আপনাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন, যা তিনি উম্মাতের পক্ষ হতে নবী-রাসূলগণকে দান করে থাকেন। আর আমার দলের লোকজনকেও আমার সালাম পৌঁছে দেবেন আর বলবেন, সা'আদ আপনাদের বলেছেন, আপনাদের মাঝে চোখের পলক ফেলার পরিমাণ শক্তি থাকা অবস্থাতেও যদি শত্রুপক্ষ রাসূল ﷺ-এর কাছে ঘেঁষতে পারে তবে আল্লাহ তাআলার দরবারে আপনাদের কোনো অজুহাতই গ্রহণ করা হবে না। (অতঃপর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।)
টিকাঃ
১৩১. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। ভিন্ন সনদে রয়েছে: মুসতাদরাকু হাকিম, ৪৯০৬। সনদ সহীহ।
📄 অহুদের শহীদগণের প্রতি সালামের নির্দেশ
৯৫. উবাইদ ইবনু উমাইর লাইসী রহ. বলেন, অহুদ যুদ্ধের দিন রাসূল ﷺ মুসআব ইবনু উমায়র রা.-এর শিয়রে এসে দাঁড়ালেন। তিনি অহুদের ময়দানে শাহাদাত বরণ করে উপুড় হয়ে পড়ে ছিলেন। তিনি সেদিন রাসূল ﷺ-এর পতাকাবাহী ছিলেন। এ সময় রাসূল ﷺ তিলাওয়াত করেন,
(মিনের মু’মিনিনা রিজালুন সাদাকু মা আহাদুল্লাহা আলাইহি ফামিনহুম মান কাদা নাহবাহু ওয়া মিনহুম মান ইয়ানতাযিরু ওয়ামা বাদ্দালু তাবদিলা)।
'মুমিনদের মধ্যে কিছু লোক আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে। তাদের কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে। তারা তাদের সংকল্প মোটেই পরিবর্তন করেনি।'¹³²
(এরপর তিনি বলেন,) নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল এই সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, কিয়ামাতের দিন তোমরা আল্লাহ তাআলার নিকট শহীদ বলে গণ্য হবে। এরপর তিনি লোকজনের দিকে ফিরে বললেন, 'হে লোকসকল, তোমরা তাদের কাছে এসে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে আর সালাম দেবে। সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! কিয়ামাত পর্যন্ত যে তাদের সালাম করবে তার উত্তর দেয়া হবে।'
টিকাঃ
১৩২. সূরা আহযাব, ৩৩:২৩
১৩৩. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আরও রয়েছে: তবাকাতুল কুবরা, ৩/১২১।
📄 মুসআব ইবনু উমায়ের রা. সম্পর্কে আব্দুর রহমান ইবনু আওফ রা.-এর মূল্যায়ন
৯৬. সা'দ ইবনু ইবরাহীম রহ. তার পিতা ইবরাহীম ইবনু আব্দির রহমান ইবনি আওফ রা. হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবনু আওফ রা.-এর নিকট কিছু খানা আনা হলো। তিনি তখন সায়িম (রোজাদার) ছিলেন। তিনি বললেন, 'মুসআব ইবনু উমায়র রা. ছিলেন আমার চেয়েও উত্তম ব্যক্তি। তিনি শাহাদাত লাভ করেছেন। তাকে এমন একটি চাদরে কাফন দেয়া হয়েছিল যে, তা দিয়ে মাথা ঢাকলে পা বের হয়ে যেত, আর পা ঢাকলে মাথা বের হয়ে যেত। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় তিনি এ কথাও বলেছিলেন যে, হামযাহ রা.-ও আমার চেয়ে উত্তম ছিলেন। তিনি শাহাদাত লাভ করেছেন। এরপর দুনিয়াতে আমাদের অনেক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দেয়া হয়েছে অথবা বলেছেন যথেষ্ট পরিমাণে পার্থিব সম্পত্তি দান করা হয়েছে। আমার ভয় হচ্ছে, হয়তো আমাদের সাওয়াবের বিনিময় এখানেই দিয়ে দেয়া হচ্ছে। এরপর তিনি কাঁদতে লাগলেন, এমনকি খাদ্য পরিহার করলেন।
টিকাঃ
১৩৪. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: সহীহ বুখারী, ৪০৪৫।