📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 অহুদ যুদ্ধে আবু উবাইদাহ রা.-এর কীর্তি

📄 অহুদ যুদ্ধে আবু উবাইদাহ রা.-এর কীর্তি


৯১. আম্মাজান আয়েশা রা. তার পিতা আবু বকর সিদ্দীক রা. হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, কুনতু ফি আউওয়ালি মান ফাআ ইয়াওমা উহুদিন, ফারাআইতু রাজুলান মাআ রাসূলিল্লাহি ﷺ ইউকোয়াতিলু দুনাহু আরাওহু কোয়ালা: ওয়া ইয়াহমিহি কুনতু: কুন তালহাতা, হাইসু ফাতানি মা ফাতানি, ওয়া বাইনি ওয়া বাইনাল মুশরিকিনা রাজুলুন, আনা আকরাবু ইলা রাসূলিল্লাহি ﷺ মিনহু, ওয়া হুয়া ইয়াখতাফুস সা’ইয়া তাখতাফুন লা আহফাযুহু হাত্তা দাফা’তু ইলান নাবিয়্যি ﷺ, ফাইযা হালকোয়াতানি মিনাল মিগফারি কোয়াদ নাশাবাতা ফি ওয়াজহিহি, ওয়া ইযা হুয়া আবু উবাইদাহ, ফাকোয়াালান নাবিয়্যু ﷺ: আলাইকুম সাহিবাকুম। ইউরিদু তালহাতা, ওয়া কয়াদ নাযাফা, ফালাম ইয়ানযুর ইলাইহি, ওয়া আকব্বলনা ইলান নাবিয়্যি ﷺ, ফাআরাদানি আবু উবাইদাহ আলা আন আতরুকাহু, ফালাম ইয়াযাল বি হাত্তা তারাকতুহু, ফাআকাব্বা আলা রাসূলিল্লাহি ﷺ, ফাআখাযা হালকোয়াতান কোয়াদ নাশাবাত ফি ওয়াজহি রাসূলিল্লাহি ﷺ, ফাকারিহা আন ইউযাযিআহা ফাইয়াশতাকিন নাবিয়্যু ﷺ, ফাআযামা আলাইহা বিতানিয়্যাতিহি, সুম্মা নাহাদা আলাইহা, ফানাদারাৎ তানিয়্যাতুহু, ওয়া নাযাআহা, ফাকুলতু: দা’নি, ফাআবা, ফাতলাবা ইলাইয়্যা, ফাআকাব্বা আলাল উখরা, ফাসানাআ বিহা মিসলা যালিকা, ফানাযাআহা, ওয়া নাদারাৎ তানিয়্যাতুহু, ফাকানা আবু উবাইদাহ আহতামাস সানাঈয়া।

"অহুদ যুদ্ধের দিন (ছত্রভঙ্গ হওয়ার পর) সবার আগে যারা ফিরে আসে আমি ছিলাম তাদেরই একজন। ততক্ষণে আমি যা হারানোর হারিয়েছি। এমন সময় দেখলাম রাসূল ﷺ-এর সাথে এক ব্যক্তি রয়েছেন। তিনি রাসূল ﷺ-কে পেছনে রেখে সামনে লড়ে যাচ্ছেন। বর্ণনাকারী বলেন, সম্ভবত তিনি বলেছেন, 'এবং লোকটি রাসূল ﷺ-কে রক্ষা করছেন।' (আবু বকর রা. বলেন,) আমি মনে মনে বললাম, তিনি তালহা রা.। আমার আর মুশরিকদের মাঝখানে এক ব্যক্তি ছিলেন। আমি রাসূল ﷺ-এর অধিক নিকটবর্তী ছিলাম। লোকটি খুব দ্রুত ছুটে আসছিলেন। আমিও বুঝতে পারছিলাম না যে, তিনি কে? ইতিমধ্যে আমি রাসূল ﷺ-এর নিকটে পৌঁছে গেলাম। তার শিরস্ত্রাণের দুটি আংটা চেহারা মুবারকে গেঁথে গিয়েছিল। এতক্ষণে আমি ছুটে আসা লোকটিকে চিনতে পারলাম। তিনি ছিলেন আবু উবাইদাহ রা.। তখন রাসূল ﷺ বললেন, 'তোমরা তোমাদের সাথির প্রতি খেয়াল রাখো। অর্থাৎ তালহা রা.- এর প্রতি। তার রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। কিন্তু তিনি নিজের খেয়াল করলেন না। তখন আমরা উভয়ে রাসূল ﷺ-এর প্রতি মনোযোগী হলাম। আবু উবাইদাহ চাচ্ছিলেন আমি যেন তাকে সুযোগ দিই। তিনি তার আবদারে অনড় রইলেন। অবশেষে আমি তাকে সুযোগ দিলাম। তিনি রাসূল ﷺ-এর দিকে ঝুঁকে একটি আংটা কামড়ে ধরলেন, যা রাসূল ﷺ-এর চেহারায় গেঁথে গিয়েছিল। কিন্তু আবু উবাইদাহ তা নাড়াচাড়া করে রাসূল ﷺ-কে কষ্ট দিতে চাইলেন না। তাই তিনি সামনের দাঁত দিয়ে চেপে ধরে সোজা বের করে আনলেন। এতে তার সামনের একটি দাঁত ভেঙে গেল। আমি বললাম, 'এবার আমাকে (আরেকটি আংটা) বের করতে দিন।' কিন্তু তিনি সেটারও আবদার করলেন এবং ঝুঁকে গিয়ে আগের মতো আরেকটি বের করে আনলেন। এতে তার সামনের আরও একটি দাঁত ভেঙে গেল। সেই থেকে আবু উবাইদার সামনের দুই দাঁত ভাঙা।”

টিকাঃ
১২৮. সনদ দুর্বল। বর্ণনাকারী ইসহাক ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু আবি তলহা সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের আপত্তি রয়েছে। তবে মূল ঘটনা অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। আরও রয়েছে: মুসতাদরাকু হাকিম, ৫১৫৯।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 অহুদের ময়দানে তালহা রা.-এর অবস্থা

📄 অহুদের ময়দানে তালহা রা.-এর অবস্থা


৯২. মুসা ইবনু তালহা রহ. বলেন, তালহা রা. যখন অহুদের ময়দান থেকে ফিরলেন তখন তার দেহে তরবারি, বর্শা ও তীরের পঁয়ত্রিশ বা পঁচাত্তরটি ক্ষতচিহ্ন ছিল। তার কপাল ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল। একটি ধমনি কাটা পড়েছিল। আর বৃদ্ধাঙুলির পাশের এই (তর্জনী) আঙুলটি অবশ হয়ে গিয়েছিল।

৯৩. যুবাইর ইবনুল আওয়াম রা. বলেন, অহুদ যুদ্ধের দিন আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘আওজাবা তালহাতু’ অর্থাৎ তালহা (জান্নাতকে) ওয়াজিব করে নিয়েছে।

টিকাঃ
১২৯. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসতাদরাকু হাকিম, ৪৩১৩।
১৩০. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: মুসনাদু আহমাদ, ১৪১৭।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 অন্তিম সময়ে সা'আদ ইবনু রবী' রা.-এর বার্তা

📄 অন্তিম সময়ে সা'আদ ইবনু রবী' রা.-এর বার্তা


৯৪. আব্দুল্লাহ আব্দুর রহমান ইবনু আবি স'সআহ রহ. বলেন, রাসূল ﷺ বললেন, 'মোন ইয়ানযুরু লি মা ফাআলা সা’আদুবনু রবী’?' অর্থাৎ এমন কে আছে যে, সা'আদ ইবনু রবী'র অবস্থা সম্পর্কে আমাকে খবর এনে দেবে? তখন জনৈক আনসারী সাহাবী বললেন, 'আনা ইয়া রাসূলাল্লাহ' অর্থাৎ আমি পারব। বর্ণনাকারী বলেন, 'অতঃপর তিনি মৃতদের সারিতে সা'আদ রা.-কে অনুসন্ধান করতে করতে একসময় তাকে মারাত্মক আহত ও অন্তিম অবস্থায় দেখতে পেলেন।' তিনি বললেন, 'হে সা'আদ, রাসূল ﷺ আমাকে আদেশ করেছেন যে, আপনি জীবিতদের মধ্যে রয়েছেন নাকি মৃতদের মধ্যে তা খুঁজে দেখতে।' সা'আদ রা. বললেন, 'আমি মৃতদের সারিতে রয়েছি। আপনি আমার পক্ষ হতে রাসূল ﷺ-কে সালাম জানিয়ে বলবেন, 'সা'আদ আপনার উদ্দেশে বলেছেন, আল্লাহ তাআলা যেন আপনাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন, যা তিনি উম্মাতের পক্ষ হতে নবী-রাসূলগণকে দান করে থাকেন। আর আমার দলের লোকজনকেও আমার সালাম পৌঁছে দেবেন আর বলবেন, সা'আদ আপনাদের বলেছেন, আপনাদের মাঝে চোখের পলক ফেলার পরিমাণ শক্তি থাকা অবস্থাতেও যদি শত্রুপক্ষ রাসূল ﷺ-এর কাছে ঘেঁষতে পারে তবে আল্লাহ তাআলার দরবারে আপনাদের কোনো অজুহাতই গ্রহণ করা হবে না। (অতঃপর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।)

টিকাঃ
১৩১. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। ভিন্ন সনদে রয়েছে: মুসতাদরাকু হাকিম, ৪৯০৬। সনদ সহীহ।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 অহুদের শহীদগণের প্রতি সালামের নির্দেশ

📄 অহুদের শহীদগণের প্রতি সালামের নির্দেশ


৯৫. উবাইদ ইবনু উমাইর লাইসী রহ. বলেন, অহুদ যুদ্ধের দিন রাসূল ﷺ মুসআব ইবনু উমায়র রা.-এর শিয়রে এসে দাঁড়ালেন। তিনি অহুদের ময়দানে শাহাদাত বরণ করে উপুড় হয়ে পড়ে ছিলেন। তিনি সেদিন রাসূল ﷺ-এর পতাকাবাহী ছিলেন। এ সময় রাসূল ﷺ তিলাওয়াত করেন,

(মিনের মু’মিনিনা রিজালুন সাদাকু মা আহাদুল্লাহা আলাইহি ফামিনহুম মান কাদা নাহবাহু ওয়া মিনহুম মান ইয়ানতাযিরু ওয়ামা বাদ্দালু তাবদিলা)।

'মুমিনদের মধ্যে কিছু লোক আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে। তাদের কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে। তারা তাদের সংকল্প মোটেই পরিবর্তন করেনি।'¹³²

(এরপর তিনি বলেন,) নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল এই সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, কিয়ামাতের দিন তোমরা আল্লাহ তাআলার নিকট শহীদ বলে গণ্য হবে। এরপর তিনি লোকজনের দিকে ফিরে বললেন, 'হে লোকসকল, তোমরা তাদের কাছে এসে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে আর সালাম দেবে। সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! কিয়ামাত পর্যন্ত যে তাদের সালাম করবে তার উত্তর দেয়া হবে।'

টিকাঃ
১৩২. সূরা আহযাব, ৩৩:২৩
১৩৩. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আরও রয়েছে: তবাকাতুল কুবরা, ৩/১২১।

ফন্ট সাইজ
15px
17px