📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 অহুদের ময়দানে জিয়াদ ইবনু সাকান রা.-এর কীর্তি

📄 অহুদের ময়দানে জিয়াদ ইবনু সাকান রা.-এর কীর্তি


৮৮. ইয়াযিদ ইবনুস সাকান রা. বলেন, অহুদ যুদ্ধের দিন লড়াই তীব্র আকার ধারণ করল এবং রাসূল ﷺ-এর একেবারে কাছে পৌঁছে গেল। রাসূল ﷺ ভারী অস্ত্রে সজ্জিত ছিলেন। তিনি দুটো বর্ম পরিধান করেছিলেন। একসময় শত্রুপক্ষ তার একেবারে নিকটে পৌঁছে গেলে মুসআব ইবনু উমাইর এবং আবু দুজানাহ সিমাক ইবনু খারশাহ রা. তাদের প্রতিহত করতে লাগলেন। একপর্যায়ে মুসআব রা. নিহত হলেন এবং আবু দুজানা রা. আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হয়ে পড়লেন। স্বয়ং রাসূল ﷺ চেহারা মুবারকে আঘাত পেলেন। তার চোয়ালের দাঁত ভেঙে গেল, ঠোঁট কেটে গেল আর কপালে ক্ষত সৃষ্টি হলো। এ সময় তিনি বললেন, 'কে আছে আমার জন্য নিজের জীবন বিকিয়ে (উৎসর্গ করে) দেবে?' এ কথা শুনতেই পাঁচ জন আনসারী যুবক লাফিয়ে উঠল। তাদের মধ্যে জিয়াদ ইবনু সাকান রা.-ও ছিলেন। জিয়াদ ইবনু সাকান ব্যতীত তারা সবাই একে একে শহীদ হয়ে গেলেন। সর্বশেষ ব্যক্তি হিসেবে জিয়াদ ইবনু সাকান রা. নিথর নিস্তব্ধ হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেন। অতঃপর মুসলমানদের আরেকটি দল এগিয়ে আসল। তারা লড়াই করতে করতে একসময় রাসূল ﷺ-এর আশপাশ থেকে শত্রুসেনাদের হটিয়ে দিল। তখন রাসূল ﷺ জিয়াদ ইবনু সাকানকে বললেন, 'আমার কাছে আসো।' কিন্তু তিনি তখন আঘাতে আঘাতে একেবারে নিশ্চল হয়ে পড়েছিলেন। রাসূল ﷺ নিজের পা ছড়িয়ে দিলেন আর জিয়াদ ইবনু সাকান রা. তার ওপর মাথা রেখেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।¹²⁵

টিকাঃ
১২৫. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: ইমাম বুখারী তারীখুল কাবীর, ৮/৩১৪।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 নবীজীর জন্য আত্মোৎসর্গ

📄 নবীজীর জন্য আত্মোৎসর্গ


৮৯. আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক রহ. বলেন, সুফইয়ান ইবনু ওয়াইনাহ রহ. আমাদের বলেন, অহুদ যুদ্ধের দিন রাসূল ﷺ-এর সাথে থাকা প্রায় ত্রিশ জন সাহাবী আহত হন। প্রত্যেকেই রাসূল ﷺ-এর সামনে বসে কিংবা সামনে এসে বলতেন,

وَجْهِي لِوَجْهِكَ الْوِقَاءُ وَنَفْسِي لِنَفْسِكَ الْفِدَاءُ، وَعَلَيْكَ سَلَامُ اللَّهِ غَيْرُ مُوَدِّعٍ

আমার এ মুখ আপনার মুখের রক্ষাকবচ
আপনার বদলে আমার এ প্রাণ হোক কবজ।
শান্তিধারা নেমে আসুক আজ আপনার তরে
থামে না যেন এ ধারা কভু ক্ষণিকের তরে।

টিকাঃ
১২৬. সনদ হাসান গরীব। গ্রন্থকার পূর্ণ সনদ উল্লেখ করেননি। পূর্ণ সনদে ইবনু জুদআন রয়েছেন। তিনি দুর্বল। দেখুন, ইমাম বুখারী, আদাবুল মুফরাদ, ৮০২।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 জিহাদ শুধু দীনের জন্য

📄 জিহাদ শুধু দীনের জন্য


৯০. আব্দুল্লাহ ইবনু আবি নাজীহ রহ. তার পিতা ইয়াসার মাক্কী রহ. হতে বর্ণনা করেন, অহুদ যুদ্ধের দিন একজন সাহাবী জনৈক আনসারী সাহাবীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আনসারী সাহাবী তখন রক্তে রঞ্জিত ছিলেন। আগন্তুক বললেন, 'হে অমুক, তুমি কি জানো রাসূল ﷺ নিহত হয়েছেন!' আনসারী বললেন, 'মুহাম্মাদ ﷺ যদি নিহত হয়েও থাকেন তিনি তো (দীনের দায়িত্ব) পৌঁছে দিয়ে গেছেন। অতএব তোমরা নিজেদের দীনের পক্ষে লড়াই করো।'

টিকাঃ
১২৭. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: ইবনু আবিদ দুনিয়া, আল-মুহতাযিরুন, ৩৪৯

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 অহুদ যুদ্ধে আবু উবাইদাহ রা.-এর কীর্তি

📄 অহুদ যুদ্ধে আবু উবাইদাহ রা.-এর কীর্তি


৯১. আম্মাজান আয়েশা রা. তার পিতা আবু বকর সিদ্দীক রা. হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, কুনতু ফি আউওয়ালি মান ফাআ ইয়াওমা উহুদিন, ফারাআইতু রাজুলান মাআ রাসূলিল্লাহি ﷺ ইউকোয়াতিলু দুনাহু আরাওহু কোয়ালা: ওয়া ইয়াহমিহি কুনতু: কুন তালহাতা, হাইসু ফাতানি মা ফাতানি, ওয়া বাইনি ওয়া বাইনাল মুশরিকিনা রাজুলুন, আনা আকরাবু ইলা রাসূলিল্লাহি ﷺ মিনহু, ওয়া হুয়া ইয়াখতাফুস সা’ইয়া তাখতাফুন লা আহফাযুহু হাত্তা দাফা’তু ইলান নাবিয়্যি ﷺ, ফাইযা হালকোয়াতানি মিনাল মিগফারি কোয়াদ নাশাবাতা ফি ওয়াজহিহি, ওয়া ইযা হুয়া আবু উবাইদাহ, ফাকোয়াালান নাবিয়্যু ﷺ: আলাইকুম সাহিবাকুম। ইউরিদু তালহাতা, ওয়া কয়াদ নাযাফা, ফালাম ইয়ানযুর ইলাইহি, ওয়া আকব্বলনা ইলান নাবিয়্যি ﷺ, ফাআরাদানি আবু উবাইদাহ আলা আন আতরুকাহু, ফালাম ইয়াযাল বি হাত্তা তারাকতুহু, ফাআকাব্বা আলা রাসূলিল্লাহি ﷺ, ফাআখাযা হালকোয়াতান কোয়াদ নাশাবাত ফি ওয়াজহি রাসূলিল্লাহি ﷺ, ফাকারিহা আন ইউযাযিআহা ফাইয়াশতাকিন নাবিয়্যু ﷺ, ফাআযামা আলাইহা বিতানিয়্যাতিহি, সুম্মা নাহাদা আলাইহা, ফানাদারাৎ তানিয়্যাতুহু, ওয়া নাযাআহা, ফাকুলতু: দা’নি, ফাআবা, ফাতলাবা ইলাইয়্যা, ফাআকাব্বা আলাল উখরা, ফাসানাআ বিহা মিসলা যালিকা, ফানাযাআহা, ওয়া নাদারাৎ তানিয়্যাতুহু, ফাকানা আবু উবাইদাহ আহতামাস সানাঈয়া।

"অহুদ যুদ্ধের দিন (ছত্রভঙ্গ হওয়ার পর) সবার আগে যারা ফিরে আসে আমি ছিলাম তাদেরই একজন। ততক্ষণে আমি যা হারানোর হারিয়েছি। এমন সময় দেখলাম রাসূল ﷺ-এর সাথে এক ব্যক্তি রয়েছেন। তিনি রাসূল ﷺ-কে পেছনে রেখে সামনে লড়ে যাচ্ছেন। বর্ণনাকারী বলেন, সম্ভবত তিনি বলেছেন, 'এবং লোকটি রাসূল ﷺ-কে রক্ষা করছেন।' (আবু বকর রা. বলেন,) আমি মনে মনে বললাম, তিনি তালহা রা.। আমার আর মুশরিকদের মাঝখানে এক ব্যক্তি ছিলেন। আমি রাসূল ﷺ-এর অধিক নিকটবর্তী ছিলাম। লোকটি খুব দ্রুত ছুটে আসছিলেন। আমিও বুঝতে পারছিলাম না যে, তিনি কে? ইতিমধ্যে আমি রাসূল ﷺ-এর নিকটে পৌঁছে গেলাম। তার শিরস্ত্রাণের দুটি আংটা চেহারা মুবারকে গেঁথে গিয়েছিল। এতক্ষণে আমি ছুটে আসা লোকটিকে চিনতে পারলাম। তিনি ছিলেন আবু উবাইদাহ রা.। তখন রাসূল ﷺ বললেন, 'তোমরা তোমাদের সাথির প্রতি খেয়াল রাখো। অর্থাৎ তালহা রা.- এর প্রতি। তার রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। কিন্তু তিনি নিজের খেয়াল করলেন না। তখন আমরা উভয়ে রাসূল ﷺ-এর প্রতি মনোযোগী হলাম। আবু উবাইদাহ চাচ্ছিলেন আমি যেন তাকে সুযোগ দিই। তিনি তার আবদারে অনড় রইলেন। অবশেষে আমি তাকে সুযোগ দিলাম। তিনি রাসূল ﷺ-এর দিকে ঝুঁকে একটি আংটা কামড়ে ধরলেন, যা রাসূল ﷺ-এর চেহারায় গেঁথে গিয়েছিল। কিন্তু আবু উবাইদাহ তা নাড়াচাড়া করে রাসূল ﷺ-কে কষ্ট দিতে চাইলেন না। তাই তিনি সামনের দাঁত দিয়ে চেপে ধরে সোজা বের করে আনলেন। এতে তার সামনের একটি দাঁত ভেঙে গেল। আমি বললাম, 'এবার আমাকে (আরেকটি আংটা) বের করতে দিন।' কিন্তু তিনি সেটারও আবদার করলেন এবং ঝুঁকে গিয়ে আগের মতো আরেকটি বের করে আনলেন। এতে তার সামনের আরও একটি দাঁত ভেঙে গেল। সেই থেকে আবু উবাইদার সামনের দুই দাঁত ভাঙা।”

টিকাঃ
১২৮. সনদ দুর্বল। বর্ণনাকারী ইসহাক ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু আবি তলহা সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের আপত্তি রয়েছে। তবে মূল ঘটনা অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। আরও রয়েছে: মুসতাদরাকু হাকিম, ৫১৫৯।

ফন্ট সাইজ
15px
17px