📄 পিতার কৃতিত্বে সন্তানকে সম্মাননা
৮৭. যায়িদ ইবনু আসলাম রা. বলেন, উমর ইবনু খাত্তাব রা. যখন মানুষের জন্য ভাতা নির্ধারণ করলেন তখন আব্দুল্লাহ ইবনু হানযালাহ রা.-এর জন্য দুই হাজার দিরহাম নির্ধারণ করলেন। তখন তালহা রা. তার ভ্রাতুষ্পুত্রকে নিয়ে উমর রা.-এর নিকট আসলেন। তিনি তার জন্য এর চেয়ে কম ভাতা নির্ধারণ করে দিলেন। তালহা রা. বললেন, ‘আমীরুল মুমিনীন, আপনি এই আনসারী লোকটিকে আমার ভ্রাতুষ্পুত্রের চেয়ে বেশি মর্যাদা দান করলেন?’ উমর রা. বললেন, ‘হ্যাঁ, কারণ আমি অহুদ যুদ্ধের দিন তার পিতাকে তরবারি হাতে এমন উদ্ধত ভঙ্গিতে ছুটে বেড়াতে দেখেছি যেভাবে উদ্ধত উট ছুটে বেড়ায়।”¹²⁴
টিকাঃ
১২৪. সনদ দুর্বল। আব্দুর রহমান ইবনু যায়িদ ইবনু আসলাম দুর্বল রাবী। আরও রয়েছে: মুসতাদরাকু হাকিম, ৪৯১৮।
📄 অহুদের ময়দানে জিয়াদ ইবনু সাকান রা.-এর কীর্তি
৮৮. ইয়াযিদ ইবনুস সাকান রা. বলেন, অহুদ যুদ্ধের দিন লড়াই তীব্র আকার ধারণ করল এবং রাসূল ﷺ-এর একেবারে কাছে পৌঁছে গেল। রাসূল ﷺ ভারী অস্ত্রে সজ্জিত ছিলেন। তিনি দুটো বর্ম পরিধান করেছিলেন। একসময় শত্রুপক্ষ তার একেবারে নিকটে পৌঁছে গেলে মুসআব ইবনু উমাইর এবং আবু দুজানাহ সিমাক ইবনু খারশাহ রা. তাদের প্রতিহত করতে লাগলেন। একপর্যায়ে মুসআব রা. নিহত হলেন এবং আবু দুজানা রা. আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হয়ে পড়লেন। স্বয়ং রাসূল ﷺ চেহারা মুবারকে আঘাত পেলেন। তার চোয়ালের দাঁত ভেঙে গেল, ঠোঁট কেটে গেল আর কপালে ক্ষত সৃষ্টি হলো। এ সময় তিনি বললেন, 'কে আছে আমার জন্য নিজের জীবন বিকিয়ে (উৎসর্গ করে) দেবে?' এ কথা শুনতেই পাঁচ জন আনসারী যুবক লাফিয়ে উঠল। তাদের মধ্যে জিয়াদ ইবনু সাকান রা.-ও ছিলেন। জিয়াদ ইবনু সাকান ব্যতীত তারা সবাই একে একে শহীদ হয়ে গেলেন। সর্বশেষ ব্যক্তি হিসেবে জিয়াদ ইবনু সাকান রা. নিথর নিস্তব্ধ হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেন। অতঃপর মুসলমানদের আরেকটি দল এগিয়ে আসল। তারা লড়াই করতে করতে একসময় রাসূল ﷺ-এর আশপাশ থেকে শত্রুসেনাদের হটিয়ে দিল। তখন রাসূল ﷺ জিয়াদ ইবনু সাকানকে বললেন, 'আমার কাছে আসো।' কিন্তু তিনি তখন আঘাতে আঘাতে একেবারে নিশ্চল হয়ে পড়েছিলেন। রাসূল ﷺ নিজের পা ছড়িয়ে দিলেন আর জিয়াদ ইবনু সাকান রা. তার ওপর মাথা রেখেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।¹²⁵
টিকাঃ
১২৫. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: ইমাম বুখারী তারীখুল কাবীর, ৮/৩১৪।
📄 নবীজীর জন্য আত্মোৎসর্গ
৮৯. আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক রহ. বলেন, সুফইয়ান ইবনু ওয়াইনাহ রহ. আমাদের বলেন, অহুদ যুদ্ধের দিন রাসূল ﷺ-এর সাথে থাকা প্রায় ত্রিশ জন সাহাবী আহত হন। প্রত্যেকেই রাসূল ﷺ-এর সামনে বসে কিংবা সামনে এসে বলতেন,
وَجْهِي لِوَجْهِكَ الْوِقَاءُ وَنَفْسِي لِنَفْسِكَ الْفِدَاءُ، وَعَلَيْكَ سَلَامُ اللَّهِ غَيْرُ مُوَدِّعٍ
আমার এ মুখ আপনার মুখের রক্ষাকবচ
আপনার বদলে আমার এ প্রাণ হোক কবজ।
শান্তিধারা নেমে আসুক আজ আপনার তরে
থামে না যেন এ ধারা কভু ক্ষণিকের তরে।
টিকাঃ
১২৬. সনদ হাসান গরীব। গ্রন্থকার পূর্ণ সনদ উল্লেখ করেননি। পূর্ণ সনদে ইবনু জুদআন রয়েছেন। তিনি দুর্বল। দেখুন, ইমাম বুখারী, আদাবুল মুফরাদ, ৮০২।
📄 জিহাদ শুধু দীনের জন্য
৯০. আব্দুল্লাহ ইবনু আবি নাজীহ রহ. তার পিতা ইয়াসার মাক্কী রহ. হতে বর্ণনা করেন, অহুদ যুদ্ধের দিন একজন সাহাবী জনৈক আনসারী সাহাবীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আনসারী সাহাবী তখন রক্তে রঞ্জিত ছিলেন। আগন্তুক বললেন, 'হে অমুক, তুমি কি জানো রাসূল ﷺ নিহত হয়েছেন!' আনসারী বললেন, 'মুহাম্মাদ ﷺ যদি নিহত হয়েও থাকেন তিনি তো (দীনের দায়িত্ব) পৌঁছে দিয়ে গেছেন। অতএব তোমরা নিজেদের দীনের পক্ষে লড়াই করো।'
টিকাঃ
১২৭. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: ইবনু আবিদ দুনিয়া, আল-মুহতাযিরুন, ৩৪৯